Category: রাজণীতি

  • বরগুনায় সাগরপথে আসছে ইয়াবা, পেছনে এমপি শম্ভুর ছেলে সুনামের গ্রুপ

    বরগুনায় সাগরপথে আসছে ইয়াবা, পেছনে এমপি শম্ভুর ছেলে সুনামের গ্রুপ

    অনলাইন ডেস্ক :

    দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বরগুনা ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট চোরাচালানের নতুন রুটে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার ঢোকার পর সাগরপথে এখানে চলে আসে। বরগুনা শহর ও গ্রামের সবখানে পাওয়া যায় ইয়াবা। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে।

    সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্তত সাতজন ইয়াবা কারবারে জড়িত বলে জানা গেছে। এই খুনের নেপথ্যে যেসব কারণ রয়েছে, তার মধ্যে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধও অন্যতম। বরগুনা শহরের মাদকের এ গ্যাং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের দুই সহযোগী মঞ্জুরুল আলম জন ও শাওন তালুকদার। জন পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রাইসুল আলম রিপনের ছেলে এবং শাওন সুনাম দেবনাথের স্ত্রীর চাচাতো ভাই।

    তরুণ আইনজীবী, ছাত্রলীগ নেতাসহ কিছু প্রভাবশালী তরুণও মাদকে আসক্ত। তারা মাদক বিক্রিতেও সহায়তা করে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটার মাছপট্টি, তালতলীর শুভসন্ধ্যা ও টেংরাগিরিচর হয়ে ইয়াবার বড় চালান ঢুকছে বরগুনায়। এসব চালান হাতবদল হয়ে সড়ক ও নৌপথে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাচ্ছে। আর একটি অংশ বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চল ও শহরে বিক্রি হচ্ছে।

    রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর ইয়াবার আগ্রাসন এবং প্রভাবশালীদের মদদের বিষয়টি সামনে চলে আসায় বিব্রত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

    নতুন রুটে সহজলভ্য ইয়াবা, পেছনে প্রভাবশালী
    চলতি বছরের ২ এপ্রিল ঢাকায় সপ্তবর্ণা-১ নামের একটি লঞ্চ থেকে আট লাখ ৪৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ তুহিন হোসেন, সবুজ ও শাহজাহান নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। লঞ্চটি বরগুনা-ঢাকা রুটে চলাচল করে। তারা র‌্যাবকে জানায়, ছয়-সাত মাস পর পর পাঁচ-সাত লাখ ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসে তারা। মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবার চালান মাছ ধরা ট্রলারে কক্সবাজার থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালী ও বরগুনায় আসে। এরপর সেখান থেকে লঞ্চে করে বাহক দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

    ইয়াবা পাচার ও পরিবহনের সঙ্গে বরগুনার ট্রলার মালিকদের একটি অংশও জড়িত বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় এক মাদকসেবী ও এক ইয়াবা বিক্রেতা জানায়, মাছ ধরার ট্রলারে করে পাথরঘাটার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইয়াবার চালান আসছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করেন বরগুনা পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঘাটের নিয়ন্ত্রক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। একটিমাত্র মাদকের মামলা থাকলেও এ ইয়াবা গডফাদারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন অভিযোগের আঙুলই তোলে না। সোহেলের গুদামে যেতে তিন-চারটি গেট পার হতে হয়। আছে সিসিটিভিও। তবে কাউন্সিলর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নাম বলা হচ্ছে।’

    বরগুনার মাদক কারবারিদের মধ্যে অন্যতম বেতাগীর আলাউদ্দিন আকাশ। অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও এখন জামিনে আছে সে। আরেক শীর্ষ কারবারি শহরের খেজুরতলার হাসান। টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে বিক্রি করার কারণে স্থানীয়রা তাকে ডাকে টেকনাফ হাসান নামে। মাইক্রোবাস চালানোর আড়ালে তার প্রধান কারবার ইয়াবা বিক্রি।

    বরগুনা সদর উপজেলা শাখা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদুজ্জামান টিপন আগে শহরের এই মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন তিনি কিছুটা কোণঠাসা। মাদক কারবারিদের মধ্যে আরো কয়েকজনের নাম জানা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলাও আছে।

    পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি বুড়িরচর ইউনিয়নের লবণগোলা গ্রামে (নিহত রিফাতের বাড়ির কাছে) আরিফ নামের এক ইয়াবা কারবারিকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মারা যায় আরিফ। ঘটনার পর মাস না পেরোতেই পুলিশ ফের অভিযান চালিয়ে শতাধিক পিস ইয়াবাসহ আরিফের মা ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করে। শহরের বাইরেও এমন বেশ কিছু ইয়াবা কারবারি পরিবার তৈরি হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

    পেছনে সুনামের সিন্ডিকেট
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরগুনা শহরের কলেজ রোড, ধানসিঁড়ি রোড, উকিলপট্টির একটি কার্যালয়ের পাশে মাদক সহজেই মেলে। বরগুনা সরকারি কলেজের ভেতরে ও পাশে রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড চক্র ইয়াবা বিক্রি করত। শহরের সদর রোডের উকিলপট্টির দুজন প্রভাবশালী তরুণ উকিল ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হায়দারও আসক্ত বলে জানায় স্থানীয় লোকজন। তানভীরের ফেনসিডিল সেবনের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ কাছে এসেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, সুনামের সহযোগীদের প্রত্যক্ষ মদদ থাকায় উঠতি ইয়াবা কারবারিদের কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না। তাদের বক্তব্যের প্রমাণ দিয়ে এক তরুণ জানায়, নয়নের বাঁ হাতে কবজির নিচে ট্যাটু আঁকা ছিল। অন্য আসামি রিফাত ফরাজী ও সাগরের হাতে একই ট্যাটু দেখা গেছে। একই ট্যাটু আছে শাওনের হাতে। গ্যাং গ্রুপের সঙ্গে সুনাম, জন ও শাওনের বেশ কিছু ছবিও এসেছে  হাতে।

    জেলা আওয়ামী লীগের নেতা সুবল তালুকদারের ছেলে ও এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের শ্যালক শাওন তালুকদার সুনামের ডান হাত বলে পরিচিত। একটি মাদকের মামলাও নেই তাঁর বিরুদ্ধে। করেন না মাদক সেবনও। তবে কলকাঠির নিয়ন্ত্রক তিনিই। শহরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন শাওন। কিছুদিন পর পর বিদেশ ভ্রমণ করেন। তাঁর আয়ের উৎস মাদক ও জুয়ার আসরের টাকা। শাওন জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক। দুস্থ খেলোয়াড়দের কল্যাণের নামে সপ্তাহে তিন দিন হাউজি খেলা চালু করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। শাওনের চাচাতো ভাই অভিজিৎ তালুকদার ওরফে অভি। তিনি শাওন ও সুনামের সহযোগিতায় কলেজ রোড এলাকার মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন। কখনো গ্রেপ্তার না হলেও তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলা আছে। শাওনের ফুফাতো ভাই তুষারের বিরুদ্ধেও আছে মামলা। সম্প্রতি তিনি জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

    কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রাইসুল আলম রিপনের ছেলে জনের বিরুদ্ধে মাদকের কোনো মামলা নেই। পৌর মার্কেটের তৃতীয় তলায় বসে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। সুনাম দেবনাথের বাঁ হাত বলে পরিচিত এই জন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর অফিস বন্ধ করে গাঢাকা দিয়ে চলছেন।

    সুনাম ও শাওন সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ সদস্য টাক রাসেলের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা আছে। তাঁদের ঘনিষ্ঠ আরেকজন ব্রাঞ্চ রোডের মাওলা মীরের ছেলে অয়ন মীর প্রায় দুই বছর ধরে এলাকাছাড়া। আমতলীতে দেড় হাজার বোতলের একটি ফেনসিডিল চালান ধরা পড়লে অয়নের নাম উঠে আসে।

    ‘ক্লিন ইমেজের’ আরেক মাদক কারবারি সাথিক রুবেল। সুনামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই সাথিকের বিরুদ্ধেও মাদক মামলা নেই। তিনি নিজে মাদক সেবনও করেন না। সাথিকের বাবা একজন মাছ বিক্রেতা হলেও তাঁর জীবনযাপন বিলাসী। শহরের মাদক কারবারিদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ছবি আছে।

    অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কয়েকবার ফোন করলেও শাওন তালুকদার ও মঞ্জুরুল আলম জন ফোন ধরেননি। সুনাম দেবনাথও গতকাল ফোন কেটে দেন। তবে তিনি আগে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের বদনাম করতে মাদকে সংশ্লিষ্টতার কথা ছড়াচ্ছে।

    রিফাত শরীফ খুনের পেছনে যেভাবে ইয়াবা

    বরগুনা থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, নয়নের নামে আটটি ও রিফাত ফরাজীর নামে চারটি মামলা রয়েছে। এর বেশির ভাগই মাদকের মামলা। রিফাত শরীফের নামেও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে। একটিতে তাঁর সঙ্গে রিফাত ফরাজীও আসামি।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন বলেন, নয়ন, রিফাত ফরাজী ছাড়াও তাঁদের খাতায় মুসার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা আছে।

    রিফাত শরীফ ও নয়নের ঘনিষ্ঠ ইয়াবাসেবী এক তরুণ বলে, ‘আগে নয়ন খুচরা বিক্রেতা ছিল। তাদের নিয়ন্ত্রণ করত জনসহ সুনামের ঘনিষ্ঠরা। একপর্যায়ে নয়ন বড় ইয়াবার গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ে। এক বছর ধরে সে আলাদাভাবে ইয়াবা বিক্রি করে। ওই সময়ই তাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়।’ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক কারবার নিয়ে বিরোধ সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিচয় প্রকাশ না করে ওই তরুণ বলে, ‘রিফাত শরীফসহ অন্যরা খুচরা ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করত। তারা সেবনও করত। গ্রুপ ও পারসোনাল বিরোধের কারণে রিফাত নয়নের থেকে আলাদা হয়ে যায়। তবে জনের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ থাকে রিফাত। নয়ন দূরে সরে যায়। রিফাতকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে দেয় নয়ন। রিফাত জেল থেকে বের হয়ে নয়ন ও রিফাত ফরাজীকে হুমকি দেয়। এরপর সে জন ও শাওনের সহায়তা নিয়ে দাদার (সুনাম) সুপারিশে পুলিশ দিয়ে নয়নকে ধরিয়ে দিতে চায়। নয়ন না থাকলে মার্কেটটা (ইয়াবার বাজার) ওদের দখলে চলে যাবে। এটাই টার্গেট ছিল। বুঝতে পেরে নয়ন ও তার সহযোগীরা রিফাত শরীফকে টার্গেট করে। ওই সময় দুই সহোদর রিফাত ও রিশান ফরাজীর সঙ্গে এবং হেলালের মোবাইল নিয়ে রিফাত শরীফের সঙ্গে ঝগড়ার সুযোগ পায় নয়ন।’ ওই তরুণের ভাষ্য মতে, নয়ন, নিহত রিফাত শরীফ, মুসা, রিফাত ফরাজী, রাব্বী আকন, অলি ও চন্দন ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এরা ছাড়া কয়েকজন আসামিও ইয়াবায় আসক্ত।

  • এমপি শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে রিফাত হত্যাকারী চক্রকে আশ্রয়ের অভিযোগ

    এমপি শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে রিফাত হত্যাকারী চক্রকে আশ্রয়ের অভিযোগ

    অনলাইন ডেস্ক :

    বরগুনায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কোন্দলে প্রভাব বিস্তার করতে বরগুনা-১ এর সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই রিফাত শরীফের হত্যাকারী চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাধারণ মানুষের।

    সুনাম দেবনাথ এ নিয়ে কথা না বললেও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল বেশ পুরোনো। তবে ২০০১ এর জাতীয় নির্বাচনের সময় তা তীব্র হয়ে ওঠে। সে সময় আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিপক্ষে বর্তমানে বরগুনার জেলা প্রশাসনের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

    পরে আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের মধ্যেও কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৮’র জাতীয় নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সবচেয়ে বেশি ফরম বিক্রি হয়েছিল।

    বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরসহ বরগুনার কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বর্তমান সংসদ সদস্যের ছেলে এলাকার বখাটে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

    জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু এবং জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিকসহ অন্যান্য নেতাদের মতে, বরগুনায় ত্রাস সৃষ্টি করে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতেই এমপি পুত্র সুনাম দেবনাথ রিফাত শরীফের হত্যাকারীদের মতো আরো অনেক সন্ত্রাসীকেই সাথে রাখতেন।রিফাত হত্যা-মামলা-হত্যার আসামি

    কিন্তু সংসদ সদস্য এবং তার ছেলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বরগুনার অফিসে গেলে তার কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরা। সুনাম দেবনাথ কথা না বললেও পরে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য।

    স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাধারণ মানুষের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন শম্ভু। দাবি করেন, এগুলো সবই বানানো কথা।

    শুধু রিফাত শরীফের হত্যাকারীদেরই নয়, বরগুনায় অপরাধের সাথে জড়িত এবং তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া সবার কঠোর বিচারের দাবি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক ‘লড়াই’ চান কাদের

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক ‘লড়াই’ চান কাদের

    অনলাইন ডেস্ক :

    ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশাকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই মশার কামড়ের ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। সে কারণে বিষয়টিকে সহজভাবে দেখার কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, এ নিয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে এডিস মশা প্রতিরোধে সামাজিকভাবে লড়াই গড়ে তুলতে হবে।

    ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের ডেঙ্গু নিয়ে সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা না বলারও আহ্বান জানান।

    মন্ত্রী কাদের বলেন, এডিস মশা দল দেখে কাউকে কামড় দেবে না। কাজেই সবাইকে এ বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে হবে, সতর্ক হতে হবে। নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। নিজের দলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই লড়াইয়ে অংশ হিসেবে সচেতনতামূলক এবং সতর্কতামূলক সভা–সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ।

    সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ডেঙ্গু এখন কেবল বাংলাদেশে হচ্ছে, তা নয়। এটা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়েছে। ফলে এটি এখন আর দেশীয় রোগ নয়। আন্তর্জাতিক ভাবেও এর প্রকোপ বাড়ছে। চীন, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগে আছে, আতঙ্কে আছে। এ কারণে বিষয়টি উপেক্ষা করার কারণ নেই।

    সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে ডেঙ্গু রোগ ও এডিস মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য সরকারের সব পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কাদের বলেন, গুজব ও গণপিটুনি রোধে সারা দেশে আওয়ামী লীগ সচেতনতামূলক সভা–সমাবেশ করবে। তিনি বলেন, গণপিটুনি এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘নারায়ণ সাহা’র মৃত্যুতে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর শোক

    ‘নারায়ণ সাহা’র মৃত্যুতে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর শোক

    উদীচী ও বরিশাল নাটকের সাবেক সভাপতি, ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, ‘নারায়ণ সাহা’র প্রয়ানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
    শুক্রবার এক শোক বার্তায় তিনি প্রয়াতের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
  • ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র

    ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র

    নগরীর সদর রোডস্থ অনামি লেন সড়কে গত ১২ জুলাই সংঘটিত অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছন বরিশাল সিটি কর্পোরশেনর মেয়র সেরিনয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    আজ বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে কল্পনা রানী, অশোক দাস ও স্বপন কর্মকার মেয়রের সাথে সাক্ষাত করেন।

    এসময় মেয়র তাদের দূর্দশার কথা শুনে সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন অগ্নিকান্ডে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছন তাদের সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌছে দেয়া হবে।

  • সাঈদীসহ ১০৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    সাঈদীসহ ১০৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ১০৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে এ অভিযোগ গঠন করা হয়।

    শুনানি শেষে আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ জারি করেন। আর এর মধ্য দিয়ে ঘটনার দীর্ঘ নয় বছর পর আদালতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচারকার্য শুরু হলো।

    অভিযোগ গঠনকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতে হাজির করার জন্য কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে গত সপ্তাহে সাঈদীকে রাজশাহী কারাগারে নেওয়া হয়েছিল। এর পর তাকে আদালতে হাজির করা জন্য বুধবার (২৫ জুলাই) থেকে আদালত চত্বরের ভেতর নিরাপত্তা বাড়ানোয় বিষয়টি জানাজানি হয়।

    একটি প্রিজনভ্যানে করে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাকে রাজশাহীর আদালত চত্বরে নেওয়া হয়। পরে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তল্লাশি ছাড়া কাউকে আদালত চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

    রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা ও জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শিরাজি শওকত সালেহীন সাংবাদিকদের জানান, ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় সাঈদীসহ সর্বমোট ১০৪ জন আসামি রয়েছেন।

    তিনি আরও জানান, মামলায় সাঈদীসহ আরও ৬০ জন আসামি জামিনে আছেন। বাকিরা পলাতক। অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের হাজির থাকতে হয়। তাই অন্য আসামিদের মত সাঈদীকেও রাজশাহী কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

    ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সশস্ত্র তাণ্ডব চালায়। রাতভর চিৎকার ও গুলির শব্দে গোটা ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এ নৃশংসতায় ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক নিহত হন।

    পর দিন সকালে মহানগরের মতিহার থানা পুলিশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি ম্যানহোল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ফারুক রাবির গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি জয়পুরহাট জেলার খোর্দ্দ সবুনা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।

    চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে মহানগরের মতিহার থানায় মামলা করেন। পরে ২০১২ সালের ৩০ জুলাই রাবি শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রাজশাহীর সিএমএম আদালতে রাজপাড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার আদালতে এর শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হয়।

  • ইতিহাস সংরক্ষণ: মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হবে

    ইতিহাস সংরক্ষণ: মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হবে

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য রেকর্ড করে তা সংরক্ষণ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘১৯৭১ ঝিনাইদহে মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘ঝিনেদার কথা’ নামে দু’টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী আরও বলেন, পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের কথা যেমন লেখা থাকবে, তেমনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের কথাও লেখা থাকবে। যেন ভবিষ্যত প্রজন্ম বিচার করতে পারে- কে ভালো কাজ করেছে, আর কে খারাপ কাজ।

    অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, সংরক্ষিত ঝিনাইদহ আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন সরোজ কুমার নাথ, ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামানসহ মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

    মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে শৈলকুপায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

  • বরিশালে ১৫ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

    বরিশালে ১৫ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

    “শিক্ষায় বন প্রতিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বরিশালে ১৫ দিন ব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকাল ৬টায় নগরীর বান্দ রোডস্থ বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক) এ মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি।

    এর আগে বৃক্ষ মেলা উপলক্ষ্যে বিকালে একটি র‌্যালী বের করা হয়। নগরীর সার্কিট হাউস চত্ত্বর থেকে বের হওয়া র‌্যালিটি বঙ্গবন্ধু উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি।

    পরে মেলা প্রাঙ্গনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস, রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল কোস্টাল অঞ্চলের বন সংরক্ষক গোবিন্দ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সাইনুর আজম খান।

    এছাড়া বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সামাজিক বন বিভাগ এর বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম।

    আলোচনা সভা পরবর্তী প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে এবং বেলুন ফেস্টুন উদিয়ে ১৫ দিন ব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

    উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা প্রশাসন এর সহযোগিতায় ও সামাজিক বন বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং উপকূলীয় অঞ্চল আয়োজিত পক্ষকাল ব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষ মেলা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শুরু হওয়া এই মেলায় এবার ২৪টি স্টল রয়েছে। যার মধ্যে ৫টি সরকারি ও বাকি ১৯টি বেসরকারি।

    মেলায় বন বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের প্রদর্শনী রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় রয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত চলবে মেলার কার্যক্রম। কোন দর্শনী ছাড়াই দর্শকরা মেলায় প্রবেশ এবং পছন্দের বৃক্ষ কিনতে পারবেন।

  • ‘শহর রাখবো পরিস্কার, গড়বো পরিচ্ছন্ন বরিশাল’ : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    ‘শহর রাখবো পরিস্কার, গড়বো পরিচ্ছন্ন বরিশাল’ : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উপলক্ষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে এক যোগে সচেতনতামুলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে এই র‌্যালি বের করা হয়।

    এর মধ্যে নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বের হওয়া র‌্যালির নেতৃত্ব দেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সরকারি বরিশাল কলেজের সামনে থেকে বের হওয়া র‌্যালীটি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    র‌্যালির উদ্বোধন পূর্বক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন- ডেঙ্গু নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে বরং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নগরবাসিকে আরো সচেতন হতে হবে। পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিত করতে সকলকে এক যোাগে কাজ করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।

    মেয়র বলেন, ‘শহর রাখবো পরিস্কার, গড়বো পরিচ্ছন্ন বরিশাল’ এই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করলে আমাদের সকলের জন্য তা হবে মঙ্কলজনক। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন, বিসিসি’র প্যানেল মেয়র ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ সহ সরকারি বরিশাল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, শুরু হওয়া মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ চলবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা ও দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    এছাড়া ফগার মেশিন সহকারে একটি টিম ও অপর একটি জরুরী টিম দ্বারা নগরীর কলোনী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সমূহে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত করা হবে।ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উপলক্ষে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে এক যোগে সচেতনতামুলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে এই র‌্যালি বের করা হয়।

    এর মধ্যে নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বের হওয়া র‌্যালির নেতৃত্ব দেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সরকারি বরিশাল কলেজের সামনে থেকে বের হওয়া র‌্যালীটি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    র‌্যালির উদ্বোধন পূর্বক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন- ডেঙ্গু নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে বরং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নগরবাসিকে আরো সচেতন হতে হবে। পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিত করতে সকলকে এক যোাগে কাজ করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।

    মেয়র বলেন, ‘শহর রাখবো পরিস্কার, গড়বো পরিচ্ছন্ন বরিশাল’ এই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করলে আমাদের সকলের জন্য তা হবে মঙ্কলজনক। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন, বিসিসি’র প্যানেল মেয়র ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ সহ সরকারি বরিশাল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, শুরু হওয়া মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ চলবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা ও দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    এছাড়া ফগার মেশিন সহকারে একটি টিম ও অপর একটি জরুরী টিম দ্বারা নগরীর কলোনী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সমূহে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত করা হবে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশালবাসীকে সচেতন হতে মেয়র সাদিকের পরামর্শ

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশালবাসীকে সচেতন হতে মেয়র সাদিকের পরামর্শ

    ডেঙ্গু রোধে মানুষকে সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, র‌্যালি করে মশার বংশ বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়, ডেঙ্গু রোধে চাই জনসচেতনা। আর শুধু নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেই ডেঙ্গু বা মশা নিধন সম্ভব নয়, এ মশার উৎপত্তি ঘরেও হতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।

    বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনে দেশব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মেয়র এসব কথা বলেন।

    মেয়র আরও বলেন, আমরা বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করতে পারবো। বাড়ির ভেতরের বাগান কিংবা ফুলের টবে জমে থাকা পানিতে মশা বংশবিস্তার করে। তাই মশার বংশবিস্তার রোধে প্রত্যেকের নিজ নিজ বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধে আগে থেকে ব্যবস্থা নিতে চাই আমরা। এটা করা সম্ভব হলে, মশাবাহিত ডেঙ্গুসহ কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

    মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উপলক্ষে ২৫ জুলাই থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রণ সেল খুলেছে। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিসিসি’র মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাহিদ হাসানকে।

    এছাড়া ৩০ টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১ জন করে মোট ৩০ জন ট্যাগ অফিসার ও ১ জন করে তাদের সহযোগী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিকভাবে পরিচালনার জন্য ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রবিউল ইসলামসহ ৬ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল শহীদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌলশী আব্দুল লতিফ, প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, রফিকুল ইসলাম খোকনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা।