Category: রাজণীতি

  • ভোলা-বরিশাল সেতু অবশ্যই নির্মাণ করব: তোফায়েল

    ভোলা-বরিশাল সেতু অবশ্যই নির্মাণ করব: তোফায়েল

    নিউজ ডেস্ক :

    নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর ভোলা-১ আসনে বিজয়ী বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ভোলার মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাদের জন্য কাজ করে ঋণের বোঝা কিছুটা লাঘব করব। ভোলাবাসীর স্বপ্ন ভোলা-বরিশাল সেতু অবশ্যই নির্মাণ করব।

    রোববার সকালে ভোলার নিজ বাসভবনে প্রেসক্লাব থেকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানান তোফায়েল আহমেদ। এ সময় মদনমোহন মন্দির কমিটির পক্ষ থেকেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ফুলের শুভেচ্ছা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, এ বিজয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিজয়। এ বিজয় শেখ হাসিনার উন্নয়নের বিজয়। এ বিজয় বিএনপির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনতার বিজয়। এ বিজয়ের ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

    এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ওদের ক্ষমতার আমলে যে অত্যাচার নির্যাতন করেছে, সেসব দিনগুলোর কথা মানুষ ভুলতে পারেনি। মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছে। নীতিহীন আদর্শহীন ড. কামাল হোসেনকে ওরা নেতা বানিয়েছেন। এটাও মানুষ মেনে নেয়নি।

    এবারের নির্বাচনে জনতার উৎসব হয়েছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পর এমন ভোট উৎসব আর দেখা যায়নি। শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোট দেন। বিকাল নগাদ ভোটারের লাইন ছিল। বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    সব দলের অংশগ্রহণের এ নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও বিএনপির কেউ কেউ এর বিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। যারা ১০ বছর এলাকায় আসেননি। এরা মানুষের কাছেও গিয়ে ভোট চাইতে যাননি। তারা ভোটের আশা কীভাবে করেন। মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এবার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ৭০ এর মতোই হয়েছে। আগের রাতে তার বাড়ির সামনে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বেসরকারি ফলাফল নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা এলে তা মাইকে জানানো হয়। সবশেষ ফলাফল ঘোষণার পর ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশবাসী ও ভোলাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

    এদিকে সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি দোস্তমাহামুদ, উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন, পৌর মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, জেলা অঅওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জরুল ইসলাম নকিব, জেলা অওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক আরজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর দুরাল চন্দ্র ঘোষ, মদনমোহন মন্দির কমিটির সম্পাদক বিপ্লবপাল কানাইসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

  • বাবা-মা গর্ব করে এমন ছাত্রলীগ চাই : গোলাম রাব্বানী

    বাবা-মা গর্ব করে এমন ছাত্রলীগ চাই : গোলাম রাব্বানী

    অনলাইন ডেস্ক :

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের ইতিহাস বিজয়ের ইতিহাস। ছাত্রলীগই বাংলাদেশকে জন্ম দিয়েছে।

    শনিবার (২০ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে সম্মেলন বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

    গোলাম রাব্বানী বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একসময় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হাতে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই সংগঠন। তিনিই সংগঠনে আশার আলো জুগিয়েছেন এবং ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন।

    গোলাম রাব্বানী আরও বলেন, আমরা সেই ছাত্রলীগ চাই, যেন বাবা-মা তার সন্তানকে নিয়ে গর্ব করে। আমরা সেই ছাত্রলীগ চাই, যেন মুরব্বিরা দেখ আশীর্বাদ করে।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে। যোগ্য নেতৃত্ব দেয়া হবে, যারা কর্মে ও সবার মন জয় করতে পারবে। আমরা জবি ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের সঙ্গে বসে কমিটি ঠিক করব।

    জবি শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজুওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আশরাফল ইসলাম টিটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাযনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী নজীবুল্লাহ হিরু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

  • এবার ঈদের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি!

    এবার ঈদের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি!

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হঠাৎ রাজপথে সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন নেতাকর্মীরা। তাদের আশা, ঈদুল আজহার আগেই বিএনপিপ্রধান মুক্তি পাবেন। ঈদুল ফিতরের আগেও তার মুক্তির বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত ছিলেন দলীয় সমর্থকরা। যদিও বাস্তবে সেটা হয়নি।

    সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা সরকারের এক প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। বেশ কিছুদিন আগে থেকে এ আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আলোচনাও বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

    ‘খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকারের বাধা হওয়ার কারণ নেই’- সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা তারই ইঙ্গিত। তবে পর্দার আড়ালের এসব বিষয় সামনে আনতে নারাজ বিএনপি। তাই রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রাখতে বিভাগীয় সমাবেশ এবং পর্যায়ক্রমে আরও কর্মসূচির দিকে ধাবিত হচ্ছে দলটি।

    শুধু কর্মসূচিই নয়, খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীদের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা ছিল সেটাও দূর করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে নিয়মিত বিএনপির সিনিয়র নেতারা আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর লবিং চালাচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি মানবাধিকার প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ না হলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি অনুকূলে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

    খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি সরকারের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে- এমন প্রশ্নে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আউয়াল খান বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত তৈরি হবে, দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হবে। সরকার বাধা না দিলে তিনি শিগগিরই মুক্তি পাবেন।

    ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আন্দোলন শুরু হয়েছে। নেত্রী ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে আমরা ঘরে ফিরব

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ঈদের আগেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। তার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টিতে জামিন পেয়েছেন। আর দুটি মামলায় জামিন হলে তিনি মুক্তি পাবেন।

    ‘বর্তমানে মামলার বেঞ্চ পরিবর্তন করায় তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক ছুটিতে থাকায় এ বিলম্ব।’

    খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। এটা আমরা সবার কাছে তুলে ধরেছি। তার অসুস্থতা নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরকারের বাধা না থাকলে তিনি দ্রুত মুক্তি পাবেন।’

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে আইনগত লড়াই এবং রাজপথের আন্দোলনসহ যা কিছু করা প্রয়োজন, সবই করব।’

    ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে ওই মামলায় সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

    গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের দণ্ডাদেশ পান তিনি। এরপর চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • নিজের পিস্তলে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা

    নিজের পিস্তলে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা

    অনলাইন ডেস্ক :

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার দা সূর্যসেন হলে ছাত্রলীগের এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত নেতা মেশকাত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক।

    শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে সূর্যসেন হলে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে হল গেটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত। হঠাৎ করে এক বিকট শব্দ শোনা যায়। সাথে সাথে তার ডান পায়ের হাঁটুর ওপর থেকে রক্ত বের হতে দেখা যায়। তখন মেশকাত তার পকেটে থাকা পিস্তল বের করে আবার পকেটেই রেখে দেন । মেশকাত সব সময় তার নিজের সাথে অস্ত্র বহন করে থাকেন। তার লোড করা পিস্তল আনলক করা ছিল না। অসাবধানবশত চাপ লেগে পকেট থেকে গুলি বের হয়ে নিজের পায়ে লাগে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হল সংসদের সহ-সভাপতি মারিয়ান জামান খান জানায়, হলে প্রবেশের সময় গেটের সামনে দেখি মেশকাতের পা থেকে রক্ত ঝরছে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

  • পটুয়াখালীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে আ’লীগের ৯ নেতা বহিষ্কার

    পটুয়াখালীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে আ’লীগের ৯ নেতা বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করায় পটুয়াখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই জন সভাপতি, পৌর মেয়র ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ মোট ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ্ব কাজী আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বহিষ্কৃতরা হলেন, পটুয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (কালাম মৃধা), দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সিকদার, পৌর আওয়ামী লীগ সদস্য ও কৃষক লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও দশমিনা উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান এ্যড. সাখাওয়াত হোসেন শওকত, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাউফল উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মজিবর রহমান। এছাড়াও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আরিফ বিন ইসলাম, দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল বাশার ডাবলু ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদ হাজী আবু বকর।

    কাজী আলমগীর বলেন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় গত ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি তালিকা তৈরী করে বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে দলের সকল পদ থেকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। ওই তালিকার একটি চিঠি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পৌঁছালে এ বিষয়ে শনিবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ একটি সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবরে সিদ্ধান্তের বিষয়টি লিখিত আকারে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নির্বাচনে দলের নেতারা যারা কাজ করেছেন তাদের তালিকাও প্রস্তুতের কাজ চলছে। উপযুক্ত প্রমাণাদি সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

    প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রিয়া সাহার পুরো বক্তব্যই ‌মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    শনিবার (২০ জুলাই) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রিয়া সাহার মন্তব্যের আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘প্রিয়া সাহার এই মিথ্যা ও কল্পিত গল্পের পেছনে বাংলাদেশের ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্য ছিল।

    এতে বলা হয়, ‘উল্লেখিত সাক্ষাতকার পর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রিয়া সাহা যে সকল বানোয়াট মিথ্যাচার উপস্থাপন করেছেন তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ় প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। প্রিয়া সাহার এসকল বানোয়াট মন্তব্য একেবারেই ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক মিথ্যাচার ভিন্ন অন্য কিছুই নয়। তার এ ধরণের মিথ্যাচারের আড়ালে সুনিশ্চিতভাবেই কোন ঘৃণ্য স্বার্থ চরিতার্থ করবার অপপ্রয়াস লুক্কায়িত বলেই ধারণা করা যায়। এসকল মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে সাহা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই বাংলাদেশের মানক্ষুণ্ণ করবার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।’

    সাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতার ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনির্বান আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতীয়মান। যেখানে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধবে আবদ্ধ হয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। শুধু তাই নয়, এরইমধ্যে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ নিপীড়িত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারকে মানবিক মনোভাব ও উদারতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে,‘বাংলাদেশ সরকার আশা করবে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাবেন, যারা প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্যবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।’

    প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে কথা বলেন। এতে বাংলাদেশি পরিচয়ে প্রিয়া সাহা উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের ইস্যুত বিভ্রান্তকর মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেন। যার বিরুদ্ধে পুরো দেশের মানুষ তীব্র প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে।

  • এরশাদের আসন রাখতে পারবে জাপা?

    এরশাদের আসন রাখতে পারবে জাপা?

    একাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন আওয়ামী লীগের ৯ জন প্রার্থী। কিন্তু মহাজোট প্রার্থী এরশাদের কারণে তাঁরা আর নির্বাচন করেননি। তবে এরশাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বিভিন্ন দলের সাতজন প্রার্থী। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় উপনির্বাচনকে ঘিরে আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের সেই ১৬ প্রার্থী।

    এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর আসনে ২৮ বছরের রাজত্বের আপাত অবসান ঘটেছে জাতীয় পার্টির। দলীয়ভাবে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও ঘুরেফিরে জাপার তিনজনের নাম বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত এরশাদ পরিবারের বাইরে কাউকে প্রার্থী করে আসন হারানোর ঝুঁকি নিতে চায় না সদ্য অভিভাবক হারানো দলটি। এ মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুজনের নাম আলোচনায় আসছে। তাঁরা হলেন এরশাদের ভাই হুসেইন মুহম্মদ মোর্শেদ এবং এরশাদের ছেলে রাহগীর আলমাদি সাদ এরশাদ। এ ছাড়া এরশাদের ভাতিজা (দল থেকে বহিষ্কৃত) সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের নামও আলোচনায় রয়েছে। পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সে তালিকায় প্রথমে রয়েছেন জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর।

    জেলা জাপা নেতা আসাদুুজ্জামান, মমিনুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন বলেন, রংপুর সদর আসন হচ্ছে এরশাদ বা জাপার মূল ঘাঁটি। এখানে কোনো দলই সুবিধা করতে পারবে না। দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যেই প্রেসিডিয়াম বৈঠকে রংপুর-৩ আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    অন্যদিকে এরশাদের অবর্তমানে রংপুর সদর আসনে জাপাকে আর ছাড় দিতে চাইছে না আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সাল থেকে রংপুর সদরের মানুষ এরশাদকে বিজয়ী করে আসছে। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে এরশাদের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। তবে জোটগত নির্বাচনের কারণে গত তিনটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। ফলে প্রতিবারই এরশাদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু গত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ভরাডুবি এবং এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি এই আসনটি আসলেই ধরে রাখতে পারবে কি না—এই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠছে এখন।

    একাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসন থেকে জাপা পেয়েছে মাত্র দুটি। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনেও দলটি চেয়ারম্যান পেয়েছে মাত্র একজন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ১৯৯১ সালে রংপুর সদর-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সদর আসনটি তাঁর দখলে ছিল। ১৯৯৬ সালে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতেই জয় পায় জাপা। এর পর থেকে দলটির আসনসংখ্যা শুধু কমেছে। শুধু সংসদ এবং উপজেলা নির্বাচনই নয়, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রংপুরের ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটিতে মাত্র জাপার প্রার্থী জিতেছেন।

    গত নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৯ জন। তাঁরা হলেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ, সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক রোজি রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক লতিফা শওকত, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা জামান ববি, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হোসনে আলা লুত্ফা ডালিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম মিলন ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল। এরশাদের শূন্য হওয়া আসনে তাঁদের অনেকেই এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    এ ছাড়া বিগত সংসদ নির্বাচনে এরশাদ ছাড়াও পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রিটা রহমান (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষ), আমিরুজ্জামান পিয়াল (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), সাব্বির আহম্মেদ (পিডিপি-বাঘ), আনোয়ার হোসেন বাবলু (বাসদ-কোদাল), আলমগীর হোসেন আলম (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), তৌহিদুর রহমান মণ্ডল (খেলাফত মজলিস-দেওয়াল ঘড়ি) ও ছামসুল হক (এনপিপি-আম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁরাও এবার এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমি তিনবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু জোটগত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। আশা করি, এবার এই আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী দেওয়া হবে।’

    রংপুর-৩ আসন রংপুর মেট্রোপলিটন সিটি ছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৪২ হাজার ১৪৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার দুই লাখ ২০ হাজার ৭১৫ জন এবং পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২১ হাজার ৪৩৪ জন।

  • দেশদ্রোহী হিসেবে প্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

    দেশদ্রোহী হিসেবে প্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

    সংখ্যালঘুদের নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য, মিথ্য ও বানোয়াট। এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যে উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করে। এ ছাড়া তার এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহী। দেশদ্রোহী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে আয়োজিত যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্য প্রসঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার এ কথার সঙ্গে কেউ একমত নন। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিতে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে।’

    তিনি বলেন, ‘দেশদ্রোহী হিসেবে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসেস শুরু হয়ে গেছে।’

    আরেক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে অনেক মানুষ চলাচল করে। সবাইকে তো চেনা সম্ভব না। কেউ যদি ভিড়ের মধ্যে কোনো নেতার সঙ্গে ছবি তোলে তাহলে কি আওয়ামী লীগ নেতার দোষ? এটা একান্তই তার নিজস্ব বিষয়।’

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দলের উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

    প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

    বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

    প্রিয়া সাহার এ বক্তব্য নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

  • হবিগঞ্জে নদীর বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, দিলেন প্রতিশ্রুতি

    হবিগঞ্জে নদীর বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, দিলেন প্রতিশ্রুতি

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা দুর্গত এলাকাসহ কুশিয়ারা নদীর বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম এমপি।

    শনিবার (২০ জুলাই) উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকার পাহাড়পুর ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ও নদী ভাঙন পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম বলেন, কুশিয়ারা নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদী খননের বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। অচিরেই প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একনেকে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পটি অনুমোদন করলেই কাজ শুরু করতে পারবেন তারা।

    বেড়িবাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি আরও বলেন, কুশিয়ারা নদীর বেড়িবাঁধ সংস্কার ও খনন করলে নবীগঞ্জবাসী প্রতি বছর বন্যার জন্য যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তা থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে বিবিয়ানা নদীও খনন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী উত্তর-পুর্বাঞ্চল নিজামুল হক, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ প্রমুখ।

  • জন-আতঙ্কে ভুগছে আওয়ামী সরকার : মির্জা ফখরুল

    জন-আতঙ্কে ভুগছে আওয়ামী সরকার : মির্জা ফখরুল

    জনসমাগম দেখলেই জনবিস্ফোরণের আশঙ্কায় শিউরে উঠছে। অথচ গণধিকৃত আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই বিএনপির শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশগুলোকে প- করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আসছে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শনিবার (২০ জুলাই) দেয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব বলেন। এসময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে যোগদানের প্রস্তুতি গ্রহণকালে দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানান তিনি।

    গত শুক্রবার ফেনী জেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক, জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মামুন, দাগণভূঁইয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহাদাৎ, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শরীফুল ইসলাম এবং ফেনী পৌর যুবদল নেতা কাজী সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৮ জুলাই ২০১৯ বরিশালে বিএনপি’র উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু সেখানে সরকার নানাভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র বিভাগীয় সমাবেশকে বানচাল করার সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত রাখতে গ্রেপ্তারসহ নানামুখী হয়রানি করছে।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণ নয় বরং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন যন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। দেশব্যাপী জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টির জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণসহ নারী-শিশুদের উপর নির্যাতনের মতো ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটনের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে নিয়ে যাতে বর্তমান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে না পারে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কারাগারে বন্দী করে রাখার মতো অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ভোটারবিহীন সরকার।