Category: রাজণীতি

  • শম্ভু বাবুর ছেলেকে বাঁচাতে আমার মেয়েকে বলি দেয়া হচ্ছে

    শম্ভু বাবুর ছেলেকে বাঁচাতে আমার মেয়েকে বলি দেয়া হচ্ছে

    নিউজ ডেস্ক :

    বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তি জবানবন্দি নেয়াকে একটি মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

    এছাড়াও তার দাবি, ‘নির্যাতন ও জোরজবরদস্তি করে তার মেয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।’

    গতকাল দুপুরে ৫ দিনের রিমান্ড পূর্ণ না করেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় মিন্নিকে।

    এসময় আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের পাশাপাশি উৎসুক জনতাও ভিড় জমান। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেনও।

    ওইদিন সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণে মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার মেয়ের কাছ থেকে সাজানো জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি কোনোভাবেই জড়িত নয়।’

    আপ্লুত কণ্ঠে মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, ‘মেয়ে আমার জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই কি তার অপরাধ?’

    এর পর তিনি অভিযোগের তীর ছোড়েন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর দিকে।

    তিনি বলেন, ‘এসব কিছুই শম্ভু বাবুর খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে বাঁচানোর জন আমার মেয়েকে বলি দেয়া হচ্ছে।’

    এদিকে জবানবন্দির পর আদালত থেকে বের করে ছোট পিকআপে তোলার সময় মিন্নি কিছু একটা বলার জন্য উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু পাশে থাকা নারী পুলিশ সদস্য এ সময় তার মুখ চেপে ধরেন।

    এসময় তিনি বলেন, ‘মিন্নি মা, মিডিয়ার সাথে কথা বল, তোকে নির্যাতন করা হয়েছে, আপনারা ওরে কথা বলতে দেন। আমার মেয়েকে জোর করে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। আমার মেয়ে অসুস্থ, প্লিজ ওকে নির্যাতন করবেন না।’

    তিনি চিৎকার করে আরও অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়ে অসুস্থ। গতকাল রাতে একজন পুলিশ সদস্য বাসায় এসে মিন্নির চিকিৎসাপত্র নিয়ে গেছেন। আর আজ আচমকা তাকে আদালতে হাজির করা হলো! আমার মেয়েকে জোর জবরদস্তি ও নির্যাতন করেই এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আইনজীবীরা আসবে শুনে পুলিশ নির্যাতন করে তড়িঘড়ি আমার মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার মেয়েকে গ্রেফতার করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন আবার তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করানো হলো। এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।

    মিন্নির বাবা আরও বলেন, আমি আইনি লড়াই করে সত্যটা বের করব ইনশাল্লাহ।

    এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার ছেলের ওপর মিন্নির বাবার এমন গুরুতর অভিযোগ বিষয়ে শম্ভু দেবনাথের ছেলে সুনার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিন্নির বাবা কী বলছে, আমি সেটা জানি না। তবে এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও অমূলক। এ বিষয়ে আমি কিংবা আমার পরিবারকে পেঁচিয়ে মন্তব্য করা মূর্খ লোকের কাজ। তবে আমার যেটা মনে হচ্ছে, আমাদের বিরোধী চক্র দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

    গত মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

    মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় পুলিশ তাকে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

    এর আগে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। সেদিন তিনি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

    তিনি বলেন, ‘আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আগে নয়ন বন্ডকে বিয়ে করেছিল। ওই বিয়ে গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করে সে। বিষয়টি আমাদের জানায়নি মিন্নি এবং তার পরিবার। কাজেই রিফাত শরীফ হত্যার পেছনে মিন্নির মদদ রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

    দুলাল শরীফ আরও বলেন, ‘নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয়টি মিন্নি ও তার পরিবার সুকৌশলে গোপন করেছে। নয়ন বন্ডের স্ত্রী থাকাবস্থায় আমার ছেলে রিফাতকে বিয়ে করেছে মিন্নি। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও মিন্নি নয়নের বাসায় যাওয়া-আসা করত। নিয়মিতভাবে নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করত সে।’

    গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে হত্যার সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি সারাদেশে আলোচনায় উঠে আসে।

    পরদিন শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয় মিন্নিকেই।

  • জিএম কাদেরকে ভাবির আশীর্বাদ

    জিএম কাদেরকে ভাবির আশীর্বাদ

    অনলাইন ডেস্ক :

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে আশীর্বাদ করেছেন তার ভাবি ও দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ। শনিবার দুপুরে বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের গুলশানের বাসভবনে যান জিএম কাদের।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক নেতা জানান, বেলা ২টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন জিএম কাদের। তারা দুপুরের খাবারও একসাথে খেয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়।

    এ বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, ভাবি (রওশন এরশাদ) আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। তিনি বলেন, ভাবি আমার মাতৃতুল্য। তিনি জাতীয় পার্টিরও অভিভাবক। ওনার পরামর্শেই পার্টি এগিয়ে নিয়ে যাব। তিনি সংসদ ও পার্টিতে সম্মানের জায়গায় থাকবেন।

  • বানারীপাড়ায় অসুস্থ নারীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক তুলে দিলেন এমপি মীরা

    বানারীপাড়ায় অসুস্থ নারীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক তুলে দিলেন এমপি মীরা

    বানারীপাড়ায় সলিয়াবাকপুর গ্রামের হতদরিদ্র পক্ষাঘাতগস্থ এক নারীর হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদানের অর্ধ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন বরিশালের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা।

    শনিবার দুপুরে তিনি উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রী আ. মালেকের বাড়িতে গিয়ে তার পক্ষাঘাতগ্রস্থ স্ত্রী হেলেনা বেগমের হাতে এ অনুদানের চেক তুলে দেন।

    এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ,উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান,আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম মানিক,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান মিলন,উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার,উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক বিধান কবিরাজ,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মৃধা,উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুলহাস,বানারীপাড়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক চানু দাস,যুবলীগ নেতা রুবেল সরদার,চাখার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ,সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও তানভীর আহম্মেদ রনি,যুগ্ম সম্পাদক আবিদ আল হাসান রাজু,ছাত্রলীগ নেতা বাবু আকন,আবু হুরায়রা,আসাদ,সজিব প্রমুখ।

    এদিকে সকালে সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ,ওয়াজেদ মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চালিতাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।

    এসময় তিনি কালিরবাজার এলাকায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শণ করে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।বিকালে তিনি বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের মাছরং জম্বদ্বীপ ও আলতা গ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

  • প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

    প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

    অনলাইন ডেস্ক :

    কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ জন খুন হওয়ার ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক অনলাইন প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

    গত বুধবার উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে যে ১০ জন নিহত হন তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ শুক্রবার সেখানে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝপথে তাকে আটক করা হয়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।

    সোনভদ্রা যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হলে মির্জাপুর নামক এলাকার রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তার সঙ্গে থাকা অন্য কংগ্রেস কর্মীরাও তার পাশেই বসে পড়েন। তাদের ঘিরে থাকেন প্রিয়াঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীরা। প্রিয়াঙ্কা সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এসময় বলেন, ‘যাদেরকে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে আমি শুধু তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার ছেলের বয়সী একটি ছেলেকেও গুলি করা হয়েছে এবং সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমাকে বলুন, কোন আইনে আমাকে এভাবে আটকে দেয়া হল।

    প্রিয়াঙ্কা ওই এলাকায় পৌঁছানোর আগেই জানা যায়, সোনভদ্রায় যেকোনো ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, তাকে বলা হয়েছে তিনি গাড়ি করে বারানসি থেকে সোনভদ্রা যেতে পারবেন না। সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমি জানি না তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনো জায়গায় যেতে রাজি।’

    শুক্রবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা আসন বারানসিতে পৌঁছান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেখান থেকে তিনি সোনভদ্রা কাণ্ডে আহতদের দেখতে স্থানীয় হাসপাতালে যান। গত বুধবার উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ১০ জন নিহত হন। এ ছাড়া আরও ২৪ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • দুর্নীতির প্রশ্নে সরল বিশ্বাস কী, পরিষ্কার করুন: দুদক চেয়ারম্যানকে কাদের

    দুর্নীতির প্রশ্নে সরল বিশ্বাস কী, পরিষ্কার করুন: দুদক চেয়ারম্যানকে কাদের

    অনলাইন ডেস্ক :

    সরকারি কর্মচারীদের সরল বিশ্বাসে বড় ভুলও অপরাধ নয়- দুদক চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান দুর্নীতি প্রশ্নে সরল বিশ্বাস বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার হতে হবে। তবে এটিকে অন্যভাবে দেখার উপায় নেই।

    শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, করাপশন ইজ করাপশন (দুর্নীতি মানে দুর্নীতি)। এর দ্বিতীয় কোনো ব্যাখ্যা নেই। দুর্নীতির আলাদা কোনো সংজ্ঞা নেই।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দুনিয়ায় দুর্নীতি হচ্ছে। তবে কোথাও বেশি কোথাও কম। কিছু দুর্নীতি হচ্ছে পলিটিক্যালি মোটিভিটেড (রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত) হচ্ছে। কোনো নেতাকে যদি কেউ দেখতে না পারে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ছাপটা লাগিয়ে দেয়।

    প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, পেনাল কোড (সিআরপিসি) অনুযায়ী- সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম অপরাধ নয়। কিন্তু এখানে শর্ত আছে- আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে, কাজটি সরল বিশ্বাসেই করা হয়েছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, স্বাভাবিকভাবে প্রতিটির ক্ষেত্রে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। আমরা সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আজ দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

    মেগাপ্রকল্পের নামে লুটপাট করছে সরকার- বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা তো কোনো দিন উন্নয়ন করেনি। উন্নয়নের রোল মডেলের কী বুঝবেন ফখরুল সাহেবরা? উনারা তো কালো চশমা পরেন। এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেন না।

    সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও উপদফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে মিন্নির পরিবার!

    প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে মিন্নির পরিবার!

    নিউজ ডেস্ক :

    বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রধান সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে। তাকে বুধবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। রিমান্ডের বিরোধিতা করা তো দূরের কথা মিন্নি পক্ষে কোনো আইনজীবীই দাঁড়াননি আদালতে। আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

    মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের ভয়ে আইনজীবীরা মিন্নির পক্ষে দাঁড়াননি। প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে রয়েছে তার পরিবার। তাদের ভয়ে কেউ মিন্নির পক্ষে মুখ খুলছেন না।

    মিন্নির পক্ষে আদালতে আইনজীবী না থাকার বিষয়ে তার বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি তিন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাদের দাঁড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু আমার মনে হয় প্রতিপক্ষের ভয়ে তারা আমার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াননি।’

    মিন্নির বাবা আরও বলেন, আমার মেয়েকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতে আমার মেয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার নাসির ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদেরের দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু কী কারণে তারা দাঁড়াননি আমি বলতে পারব না। তবে ধারণা করছি, প্রতিপক্ষের ভয়ে হয়তো কোনো আইনজীবীরা দাঁড়াননি।’

    কোন প্রতিপক্ষের কারণে আইনজীবী দাঁড়াননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোন প্রতিপক্ষ সেটি আপনারাই বুঝে নিন। আমি বলতে গেলে বরগুনা থাকতে পারব না। এ ছাড়া খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সে কারণেই হয়তো সব কাগজপত্র প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।’

    এ বিষয়ে আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জানান, মিন্নির বাবা তার কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছেন, তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারেননি। তাই তিনি আদালতে দাঁড়াতে পারেননি। তবে তার কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেননি। মিন্নির বাবার দাবি, কী ধরনের কাগজপত্র লাগবে, তা তিনি জানেন না। তারা তাকে পরামর্শ দিলে সেভাবে কাজ করতেন।

    মোজাম্মেল হোসেনের অভিযোগ নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছে তার পরিবার। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে মিন্নির ছোট দুই ভাইবোনের। মিন্নিকে গ্রেফতারের আগে তাদের বাড়িতে পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছিল।

    মিন্নির বাবা অভিযোগ করে আসছেন যে, মেয়ের জামাইকে হত্যার পর তার বাড়ির আশপাশে ঘুরছে কিছু অপরিচিত মানুষ। পাশের বাড়িতে ঢুকে খোঁজখবর নিচ্ছে। ভয়ে তার দুই ছেলে ও মেয়েকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। রাতের আঁধারে কে বা কারা আমাকে কখন মেরে ফেলে সেই ভয়ে আছেন তিনি। মোজাম্মেলের দাবি, প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানিতে তার পাশে কেউ নেই।

    প্রসঙ্গত বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, চারজন রিমান্ডে আছে।

  • ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরেছেন

    ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরেছেন

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ফলোআপ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। বুধবার রাত পৌনে ১১টায় সেতুমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    রাতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপপ্রধান তথ্য অফিসার আবু নাছের গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত রবিবার সিঙ্গাপুরে যান ওবায়দুল কাদের।

    এর আগে সিঙ্গাপুরে টানা দুই মাস চিকিৎসার শেষে গত ১৫ মে দেশে ফেরেন ওবায়দুল কাদের। গত ৩ মার্চ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হন। এ সময় তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। ৪ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

  • জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে (জিএম কাদের) দলের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ কথা জানান। জিএম কাদের জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই।

    গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যান। গত ১ জানুয়ারি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে দলের উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করে যান।

    চিঠিতে এরশাদ বলেন, ‘আমি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসাবে পার্টির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখছি যে, আমার অবর্তমানে পার্টির বর্তমান কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

  • এরশাদের মতই বর্তমান সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে: মির্জা ফখরুল

    এরশাদের মতই বর্তমান সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার রক্ষায় আজ আপনাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

    তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ বিগত দিনে সকল দাবি আদায় করেছে ঐক্যদ্ধভাবে। বাঙ্গালি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতার সংগ্রাম, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকেও হঠিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছিল। বর্তমানে দেশে আইনের শাসন নেই, ন্যায় বিচার নেই, মানবাধিকার নেই। দেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। কোথাও কারো নিরাপত্তা নেই। এ সরকারের আমলে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। মানুষের অধিকার বলে কিছু নেই। তাই অধিকার আদায়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আরো বলেন, এই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে দিয়ে একদলীয় সরকার নির্মাণ করেছে। প্রশাসন এখন তাদের পকেটে থাকে। যেখানে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না, সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর অন্যদিকে এই সরকার উন্নয়নের কথা বলে নিজেদের ঢোল নিজেরাই পেটাচ্ছে।

    এরশাদের মতই বর্তমান সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে বরিশাল নগরীর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (অব.) শাহজাহান ওমর-বীর উত্তম, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-বীরবিক্রম, এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ভাইচ চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন প্রমুখ। এর আগে দুপুর তিনটা থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল এসে জড় হয় ঈদগাহ ময়দানে।

  • সমুদ্র সম্পদ আহরণে দেশকে আরও সম্পদশালী করতে পারব : প্রধানমন্ত্রী

    সমুদ্র সম্পদ আহরণে দেশকে আরও সম্পদশালী করতে পারব : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা মিঠাপানি ছাড়াও বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। এখন এ সমুদ্র সম্পদ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা ব্লু ইকোনমি নীতিমালা করেছি। সমুদ্রে প্রায় ৪৩০ প্রকার সম্পদ রয়েছে। গভীর সাগরে টোনা ফিশসহ মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। সমুদ্র থেকে এসব সম্পদ আহরণ করে আমরা দেশকে আরও সম্পদশালী করতে পারব।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় গণভবনের লেকে পোনা অবমুক্ত করে এ সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। ‘মৎস্য চাষে গড়বো দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৯ পালন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই মৎস্য চাষের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইসুল আলম মণ্ডল। মৎস্য চাষ, রেণু উৎপাদনসহ মৎস্য-সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য আট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে স্বর্ণপদক এবং ৯ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে রৌপ্যপদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষ একসময় দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। অনেক সময় দু’বেলা খেতে পারত না। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও স্বচ্ছতার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। পরাধীনতার হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছিলেন। আমরা বাঙালি, আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। কবির ভাষায় বলতে চাই, ‘মৎস্য ধরিব খাইব সুখে’। বাংলাদেশে যাতে আরও বেশি মাছ উৎপাদন হয় সেজন্য জাতির পিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করে গেছেন।

    তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে মৎস্য উৎপাদন করতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা যাবে। স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হতে পারত। আমাদের দুর্ভাগ্য, যে স্বপ্ন যে আদর্শ এবং যে চেতনা নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন তা তিনি করে যেতে পারেননি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরপর একুশ বছর বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে গেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। ২০০৯ সালের পর গত ১০ বছরে দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে কমিয়ে ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এর আগে একজন দিনমজুর সারাদিনে যে পয়সা রোজগার করত তাতে তার চাল কিনতে ফুরিয়ে যেত। এখন সে অবস্থা নেই। চাল কেনার সাথে সাথে সে মাছ ক্রয় করতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যে মাছ রফতানি করি সে রফতানির ক্ষেত্রে মানটা ধরে রাখা প্রয়োজন। আমাদের ভালো কোনো ল্যাবরেটরি ছিল না। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি ল্যাবরেটরি করেছি। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ল্যাবরেটরিগুলো করা হয়েছে। মান ঠিক রাখতে না পারলে মাছ রফতানি কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে।

    বিএনপির সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় মাছ রফতানিতে বিশেষ করে চিংড়ি মাছ রফতানিতে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এ জন্য চিংড়ি রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা দেনদরবার করে আবার মাছ রফতানি শুরু করেছি। যারা চিংড়ি উৎপাদন করে তাদের লোন দেওয়া হয়েছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে সমুদ্রসীমা আইন করেন। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা এ আইনের দিকে ফিরেও তাকায়নি। কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সমুদ্রসীমা অধিকার কীভাবে অর্জন করা যায় তা নিয়ে আমরা ভাবতে থাকি। অবশ্য এর আগে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে জাতির পিতা একটি সমাধান করে যান। আমরা ভারতের সাথে সে সমস্যার সমাধান করেছি। ফলে আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করি। এখন সমুদ্র সম্পদ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ব্লু ইকোনমি নীতিমালা করেছি। সমুদ্র সম্পদ আহরণে মাছ ছাড়াও সমুদ্রে আরও যে যে সম্পদ আছে সেগুলো কীভাবে কাজে লাগাতে পারি সেদিকে ইতোমধ্যে দৃষ্টি দিয়েছি। গবেষণার জন্য একটি জাহাজ কিনেছি এবং আরেকটি জাহাজ ভাড়া করার চিন্তাভাবনা করছি। যে জাহাজে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান করা যাবে। এছাড়া গভীর সাগরে মাছ আহরণের জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

    তিনি আরও বলেন, গভীর সাগরে টোনা ফিশসহ মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। গভীর সমুদ্রে প্রায় ৪৩০ প্রকার সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ আহরণ করে আমরা দেশকে আরও সম্পদশালী করতে পারব। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য বেশ কয়েকজন লাইসেন্স চেয়েছে। সেগুলো আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি, কীভাবে তাদের অনুমতি দেওয়া যায়। সমুদ্রে শুধু মাছ নয়, মাছের সাথে অন্যান্য যেসব প্রাণী পাওয়া যায় যেমন- কাঁকড়া, শামুক, এগুলো খুব দামি।

    কোরবানির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। দেখা যায় যত্রতত্র কোরবানি দেওয়া হয়। তাতে আমরা অনেক মূল্যবান সম্পদ হারাই। কোরবানি দেওয়ার জন্য যেন নির্দিষ্ট একটা জায়গা থাকে। কোরবানি পশুর চামড়া যখন সংগ্রহ করা হবে তা যেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়। আগামী কোরবানিতে নির্দিষ্ট জায়গায় যার যার পশু নিয়ে যাবেন, কোরবানি করবেন এবং মাংস নিয়ে যাবেন। আর যে সব বর্জ্য হবে সেগুলো এক জায়গায় যেন সংরক্ষণ করা হয়।

    তিনি বলেন, বনাঞ্চল থেকে শুরু করে পানিসম্পদ, সেটা রক্ষা করতে হবে। গ্রামের বাড়িতে অনেকেরই অনেক জলা ডোবা পাগার গর্ত পড়ে থাকে। এগুলো যেন পড়ে না থাকে। সেগুলোর যেন যথাযথ ব্যবহার হয়। এ জন্য আমি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প করেছি। নিজেরা মাছ চাষ করে যদি পুকুর থেকে তাজা মাছ তুলে খাওয়া যায়, তার স্বাদই আলাদা। তাতে কিছু আর্থিক সচ্ছলতাও আসে।

    শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের মানুষ সুন্দরভাবে বসবাস করবে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। গত ১০ বছরে দেশে বহু পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ একসময় বিশ্বের উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। এর মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।