Category: রাজণীতি

  • খাল-জলাশয়কে আগের অবস্থায় ফেরাবো : প্রধানমন্ত্রী

    খাল-জলাশয়কে আগের অবস্থায় ফেরাবো : প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক :

    দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণে জলাশয়গুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেছেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- আমাদের যত জলাশয়, পুকুর, খাল, বিল রয়েছে সেগুলোকে আমরা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনবো। যাতে আমাদের মৎস্য উৎপাদন বাড়তে পারে।’

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯ এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বাড়ির আশপাশের ডোবা, পুকুর ও জলাশয়কে ফেলে না রেখে মাছ চাষ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেছি। এখন দৃষ্টি পুষ্টির দিকে। বিল, ঝিল, হাওর, বাওড়, নদী নালায় পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করতে হবে। মাছের চাইতে এত নিরাপদ আমিষ আর নেই।’

    সরকারের শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদী মাতৃক বাংলাদেশে আমরা নদীগুলোকে ড্রেজিং করছি যাতে এর প্রবাহ এবং নাব্যতা বৃদ্ধি পায়। আর পানির প্রবাহ বাড়লে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যেকোনো দুর্যোগের মোকাবেলা আরো সহজ হবে।’

    অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষ, রেণু উৎপাদনসহ মৎস্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় মৎস্য পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

    পুরস্কার হিসেবে ৮ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ পদক ও ৫০ হাজার টাকার করে চেক এবং ৯ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে রৌপ্য পদক ও ৩০ হাজার টাকার করে চেক প্রদান করা হয়।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইসুল আলম মন্ডল।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মোহম্মদ রাশিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

  • শিবিরকে চাঁদা দিতেন মাসে ১০০০, এখন আওয়ামী ফোরামের সেক্রেটারি

    শিবিরকে চাঁদা দিতেন মাসে ১০০০, এখন আওয়ামী ফোরামের সেক্রেটারি

    অনলাইন ডেস্ক :

    স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরকে মাসে ইয়ানত (চাঁদা) দিতেন ১ হাজার টাকা। জামায়াতের সক্রিয় সদস্যও ছিলেন। একসময় বিএনপির রাজনীতিও করেছেন। অথচ তিনিই এখন আওয়ামীপন্থী প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক।

    দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নেতৃত্বে আসার পর থেকেই অধ্যাপক ড. এস এম হারুন-উর-রশিদ ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এক ভিসি এবং বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের এ নেতা প্রশাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    হাবিপ্রবির প্রশাসনের এক কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নানা কারণেই গত এক দশকে এ ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। নিজেদের মধ্যকার সংঘর্ষে ছাত্রলীগের দু’জন কর্মী খুন হয়েছেন এখানে। মাসের পর মাস ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এখানকার শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ১১ হাজার দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীর মাঝে গবেষণা কার্যক্রম নিয়েও হতাশা দেখা দিয়েছিল। সরকার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গতি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। প্রশাসনের শত চেষ্টায় ক্যাম্পাস এখন শান্ত। অথচ একটি মহল ফের ষড়যন্ত্র করছে, যার নেতৃত্বে আছেন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাবেক জামায়াত নেতা হারুন-অর-রশিদ।’

    সূত্র জানায়, হাবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য রুহুল আমিনের আশীর্বাদপুষ্ট ড. এসএম হারুন-উর-রশিদ গত ২৭ জুন কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। আওয়ামীপন্থী এ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ার পরই অধ্যাপক হারুনের পূর্বের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসতে থাকে। তিনি মনোনীত হওয়ায় অবাক হন ক্যাম্পাসের আওয়ামীপন্থী অন্য শিক্ষকরাও।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের নন্দীরাই গ্রামে। ছাত্রজীবনে তিনি শিবিরের রাজনীতি করতেন। পারিবারিকভাবেও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি।

    ২০০৭ সালে ১৭ মে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসোসিয়েট সদস্য ফোরামে তার নাম-ঠিকানা সবই রয়েছে। ওই ফরমে যে মোবাইল নম্বরটি উল্লেখ করেন তা এখনও অধ্যাপক হারুন ব্যবহার করছেন।

    বর্তমানে আওয়ামীপন্থী এ শিক্ষক নেতা একসময় ছাত্রশিবিরকে মাসিক ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মশিউর রহমান রাজু স্বাক্ষরিত এমনই একটি চাঁদার রশিদ পাওয়া গেছে, যার ক্রমিক নম্বর ৩৬৭৩৭৭।

    আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের রাজনীতি করলেও অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ এক সময় বিএনপি থেকেও সুবিধা নিয়েছেন। ২০০৫ সালের ২০ জুন বিএনপির চিরিরবন্দর উপজেলা সভাপতি মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যায়নপত্রে বলা হয়, ‘এ মর্মে প্রত্যায়ন করা যাইতেছে যে, জনাব বাছেদ মুহুরি (অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের বাবা) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এবং দলের একজন বিশ্বস্ত কর্মী। তিনি ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার ছিলেন। তার পুত্র মোত্তালেব এবং হারুন-উর-রশিদ জাতীয়তাবাদী দলের দক্ষ কর্মী।’

    হাবিপ্রবির প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন দলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বদ্ধপরিকর, তখন দিনাজপুরের এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জামায়াত-বিএনপির নেতাদের দলে ঠাঁই দিচ্ছেন। এতে আওয়ামী লীগের মধ্যকার সাংগঠনিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাব আমরা হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসেও প্রত্যক্ষ করছি।’

    হাবিপ্রবির প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় তার মন্তব্য জানতে। তবে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মন্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

  • মশা নিয়ে এখনও আতঙ্কে অর্থমন্ত্রী!

    মশা নিয়ে এখনও আতঙ্কে অর্থমন্ত্রী!

    চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরে ভোগার পর রীতিমত মশা নিয়ে আতঙ্কে আছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সচিবালয়ে তার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

    এ সময় শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। এটা সংসদে নিজেই ঘোষণা দিয়েছি। সে অসুখ এখন আর নেই। এখন আর সমস্যা নেই। চোখে যে সমস্যা ছিল সেটাও চলে গেছে। এখন চশমা ব্যবহার করি। যদিও লাগে না; তবুও ডাক্তার ব্যবহার করতে বলেছেন।’

    এখন থেকে সচিবালয়ে অফিস করবেন কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অফিস দুই জায়গায় করবো (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে)। কিন্তু ওখানে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়) বেশি মশা। এ পর্যন্ত দুবার কামড় দিয়েছে একবার চিকুনগুনিয়া ও আবার ডেঙ্গু…এটা কী কথা হলো নাকি! আমি এ জন্য ভয়ে ওখানে যাচ্ছি না। আজকে সচিবালয়ে আসতে এক ঘণ্টা দুই মিনিট লেগেছে।’

    জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশের আগে মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের ঠিক দুদিন আগে গত ১১ জুন তাকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৩ জুন তিনি বাজেট পেশ শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাল ধরেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের বাহবা পেলেও বিএনপির এমপিরা সমালোচনা করেন।

    এরপর ভয়াবহ অসুস্থতার কথা গত ২৯ জুন সংসদে বর্ণনা করেন অর্থমন্ত্রী। নিজের সুস্থ হওয়ার গতি অনেক শ্লথ জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সেদিন (১৩ জুন) সংসদ শুরুর আগে যখন সংসদে প্রবেশ করি তখন থেকে পরবর্তী ৭-৮ মিনিট আমি সম্পূর্ণভাবে ব্ল্যাঙ্ক ছিলাম। আমার কোনো কিছুই মনে পড়ে না।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৩ জুন প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করি। কিন্তু সেদিনটি ছিল আমার জীবনের চরম কষ্টের দিন। কারণ এর তিনদিন আগে অর্থাৎ ১০ জুন ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং হাসপাতালে ভর্তি হই। এ অসুস্থতা নিয়েই আমি গত ১৩ জুন সংসদে আসি। আমার বিশ্বাস ছিল, আমি প্রস্তাবিত বাজেটটি উত্থাপন করতে পারব। কিন্তু আমি যা ভেবেছিলাম বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিবেশন শুরুর আগে যখন সংসদে প্রবেশ করি তখন থেকে পরবর্তী ৭-৮ মিনিট আমি সম্পূর্ণভাবে ব্ল্যাঙ্ক ছিলাম।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো কিছুই মনে পড়ে না। আমি কোনো রকমে গিয়ে আমার আসনে বসলাম। তখন আমার কেবল মনে হচ্ছিল প্রবল এক ভূমিকম্প পৃথিবীতে আঘাত হেনেছে। সেই ভূমিকম্পের কারণেই যেন ক্ষণে ক্ষণে আমার কম্পন হচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল আমি সিট থেকে পড়ে যাচ্ছি। আমি তখন মনে মনে দোয়া পড়তে শুরু করলাম। মানুষ মানুষের জন্য, মানুষ সৃষ্টির জন্য। আমি ভাবতে শুরু করলাম আমার আশপাশের বন্ধুবান্ধব কেউ না কেউ ধরবেন, যেন আমি ছিটকে পড়ে আহত না হই। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমার বন্ধুবান্ধব সব ছুটে আসলেন।’

    তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে আমি স্বাভাবিক হই। মনে হলো আমার আর সমস্যা হবে না। আমি তখনই ২৫-৩০ মিনিটের মতো প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু অংশ পড়লাম। তখন আরেকটি নতুন সমস্যা দেখা দিল। সেই সমস্যাটি হলো আমার হাতে কোনো শক্তি ছিল না। আঙুলে কোনো শক্তি ছিল না। বাজেটের পাতাগুলো উল্টাতে পারছিলাম না। তখন সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী এগিয়ে এলেন। তিনি আমার বাজেটের প্রতিটি পাতা উল্টে দিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ সেটাও রইল না। একটু পরই আমি চোখে কিছু দেখছিলাম না। তখন আর সময় না নিয়ে আমি স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও অসুস্থ ছিলেন। তারপরও আন্তরিকভাবে ও সুন্দরভাবে বাজেটটি পড়লেন।’

    উল্লেখ্য, সাধারণত অর্থমন্ত্রী অধিকাংশ সময়ই সচিবালয়ে অফিস করেন। কিন্তু আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর অধিকাংশ সময়ই আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেন। এ জন্যই মূলত তিনি কোথায় অফিস করবেন তা জানতে চান সাংবাদিকরা।চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরে ভোগার পর রীতিমত মশা নিয়ে আতঙ্কে আছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সচিবালয়ে তার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

    এ সময় শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। এটা সংসদে নিজেই ঘোষণা দিয়েছি। সে অসুখ এখন আর নেই। এখন আর সমস্যা নেই। চোখে যে সমস্যা ছিল সেটাও চলে গেছে। এখন চশমা ব্যবহার করি। যদিও লাগে না; তবুও ডাক্তার ব্যবহার করতে বলেছেন।’

    এখন থেকে সচিবালয়ে অফিস করবেন কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অফিস দুই জায়গায় করবো (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে)। কিন্তু ওখানে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়) বেশি মশা। এ পর্যন্ত দুবার কামড় দিয়েছে একবার চিকুনগুনিয়া ও আবার ডেঙ্গু…এটা কী কথা হলো নাকি! আমি এ জন্য ভয়ে ওখানে যাচ্ছি না। আজকে সচিবালয়ে আসতে এক ঘণ্টা দুই মিনিট লেগেছে।’

    জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশের আগে মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের ঠিক দুদিন আগে গত ১১ জুন তাকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৩ জুন তিনি বাজেট পেশ শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাল ধরেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের বাহবা পেলেও বিএনপির এমপিরা সমালোচনা করেন।

    এরপর ভয়াবহ অসুস্থতার কথা গত ২৯ জুন সংসদে বর্ণনা করেন অর্থমন্ত্রী। নিজের সুস্থ হওয়ার গতি অনেক শ্লথ জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সেদিন (১৩ জুন) সংসদ শুরুর আগে যখন সংসদে প্রবেশ করি তখন থেকে পরবর্তী ৭-৮ মিনিট আমি সম্পূর্ণভাবে ব্ল্যাঙ্ক ছিলাম। আমার কোনো কিছুই মনে পড়ে না।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৩ জুন প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করি। কিন্তু সেদিনটি ছিল আমার জীবনের চরম কষ্টের দিন। কারণ এর তিনদিন আগে অর্থাৎ ১০ জুন ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং হাসপাতালে ভর্তি হই। এ অসুস্থতা নিয়েই আমি গত ১৩ জুন সংসদে আসি। আমার বিশ্বাস ছিল, আমি প্রস্তাবিত বাজেটটি উত্থাপন করতে পারব। কিন্তু আমি যা ভেবেছিলাম বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিবেশন শুরুর আগে যখন সংসদে প্রবেশ করি তখন থেকে পরবর্তী ৭-৮ মিনিট আমি সম্পূর্ণভাবে ব্ল্যাঙ্ক ছিলাম।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো কিছুই মনে পড়ে না। আমি কোনো রকমে গিয়ে আমার আসনে বসলাম। তখন আমার কেবল মনে হচ্ছিল প্রবল এক ভূমিকম্প পৃথিবীতে আঘাত হেনেছে। সেই ভূমিকম্পের কারণেই যেন ক্ষণে ক্ষণে আমার কম্পন হচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল আমি সিট থেকে পড়ে যাচ্ছি। আমি তখন মনে মনে দোয়া পড়তে শুরু করলাম। মানুষ মানুষের জন্য, মানুষ সৃষ্টির জন্য। আমি ভাবতে শুরু করলাম আমার আশপাশের বন্ধুবান্ধব কেউ না কেউ ধরবেন, যেন আমি ছিটকে পড়ে আহত না হই। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমার বন্ধুবান্ধব সব ছুটে আসলেন।’

    তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে আমি স্বাভাবিক হই। মনে হলো আমার আর সমস্যা হবে না। আমি তখনই ২৫-৩০ মিনিটের মতো প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু অংশ পড়লাম। তখন আরেকটি নতুন সমস্যা দেখা দিল। সেই সমস্যাটি হলো আমার হাতে কোনো শক্তি ছিল না। আঙুলে কোনো শক্তি ছিল না। বাজেটের পাতাগুলো উল্টাতে পারছিলাম না। তখন সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী এগিয়ে এলেন। তিনি আমার বাজেটের প্রতিটি পাতা উল্টে দিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ সেটাও রইল না। একটু পরই আমি চোখে কিছু দেখছিলাম না। তখন আর সময় না নিয়ে আমি স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও অসুস্থ ছিলেন। তারপরও আন্তরিকভাবে ও সুন্দরভাবে বাজেটটি পড়লেন।’

    উল্লেখ্য, সাধারণত অর্থমন্ত্রী অধিকাংশ সময়ই সচিবালয়ে অফিস করেন। কিন্তু আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর অধিকাংশ সময়ই আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেন। এ জন্যই মূলত তিনি কোথায় অফিস করবেন তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

  • খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন শুরু

    খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন শুরু

    দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এ সমাবেশ শুরু হয়।

    কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    উপস্থিত আছেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়লান আবেদিন, মেজর(অবঃ) হাফিজ উদ্দিন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন সহ বরিশাল বিভাগের নেতৃবৃন্দ।

  • ১২ দেশসেরা শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী

    ১২ দেশসেরা শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশব্যাপী ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৯’ এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের ১২ জন সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার সকালে গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেকের হাতে সনদপত্র, মেডেল, ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সেরা মেধাবীদের হাতে সেরা পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি। এটা আসলেই একটা আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আমরা একটি শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। যে নীতিমালায় সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষা হচ্ছে এক ধরনের আলো। এ আলো থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হয় সে জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটাও কিন্তু হয়েছে গবেষণার ফসল হিসেবে। আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা গণিতে ভয় পায়, বিজ্ঞানে ভয় পায়, এ কারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। তাছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগারকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে এক সময় অনেক অপপ্রচার হয়েছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি। বিশ্ব দরবারে সব সময় মাথা উঁচু করে চলবো। এখন বাংলাদেশ মানে বিশ্বের বিস্ময়। আজ তোমরা যারা পুরস্কার পেলে তোমাদেরকেই এ দেশকে আরও উন্নত এবং সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। এ দায়িত্ব তোমাদের ওপর।

    শিক্ষা সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) মোঃ সোহরাব হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন আর্শিয়া নওয়ার। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানসহ সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ।

    প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি বলেন, এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অসাধারণ মেধা সম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের খুঁজে বের করা। তাদেরকে ভবিষ্যতে জাতীয় মেধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

    প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন: ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে প্রথম হয়েছেন মানিকগঞ্জের এস কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইশরাত জাহান জয়নব (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় হয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের অর্নব দাস (৯ম শ্রেণি) ও তৃতীয় হয়েছেন খুলনা পাবলিক স্কুলের খুলনা আসিফ আদনান অমি (একাদশ শ্রেণি)।

    দৈনন্দিন বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের দিদারুল ইসলাম সিফাত (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় মতিঝিল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের মো: সানজাদ হোসেন (১০ম শ্রেণি)ও তৃতীয় হয়েছেন সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রামের আগাস্ট দীপ নিলয় (একাদশ শ্রেণি)।

    গণিত ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রথম হয়েছেন ডক্টর খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তাজরীয়ান তাহরীর (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় খুলনা জেলা স্কুলের প্রান্তিক কুমাড় মন্ডল (১০ শ্রেণি) ও তৃতীয় হয়েছেন ঢাকার নটরডেম কলেজের অনিকা সাহা (একাদশ শ্রেণি)।

    বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে প্রথম হয়েছেন সিলেটের ব্লু বার্ড স্কুল এণ্ড কলেজের আরশিয়া নাওয়ার (৮ম শ্রেণি), দ্বিতীয় সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলের প্রতীক তীর্থ (১০ম শ্রেণি) ও তৃতীয় হয়েছেন চট্টগ্রাম কলেজের জিনান (একাদশ শ্রেণি)।

    প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। সারা দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। প্রতিবছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তিনটি গ্রুপ ও চারটি বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা ১২ জন জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রতিটি জেলা থেকে তিনটি গ্রুপ ও চারটি বিষয়ে নির্বাচিত সেরা ১২ জন বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি বিভাগ থেকে একই ভাবে ১২ জন করে ও ঢাকা মহানগর সহ মোট ১০৮ জন প্রতিযোগি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

  • ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    বাঁশি বাজিয়ে এবং পতাকা নেড়ে বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে আন্তঃনগর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা।

    বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন এবং বর্ধিত এই ট্রেন সার্ভিস উদ্বোধন করেন তিনি।

    এছাড়া ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    বাসস জানায়, দ্রুতগতির বিরতিহীন আধুনিক ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন সার্ভিসের ফলে বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের নিরাপদ আসা-যাওয়া সহজতর, দ্রুততর ও আরামদায়ক হবে।

    সংগৃহীত কোচসমূহের অন্যতম নতুন বৈশিষ্ট্য হলো- বায়ো-টয়লেট সংযোজন। ট্রেনটিতে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের হুইল চেয়ারসহ চলাচলের সুবিধার্থে থাকছে প্রশস্ত দরজা (মেইন ও টয়লেট দরজা) এবং নির্ধারিত আসনের সুবিধা।

    প্রতিটি কোচ স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং অত্যাধুনিক যাত্রী সুবিধা সম্বলিত। প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে আধুনিক ও উন্নতমানের রুফ মাউন্টেড এয়ার কন্ডিশনার ইউনিট এবং এয়ার কার্টেইনের ব্যবস্থা রয়েছে।

    যাত্রী সাধারণের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত চেয়ার, বার্থ, স্টেয়ার, পার্সেল রেক, টিভি মনিটর হ্যাঙ্গার, ওয়াই-ফাই রাউটার হ্যাঙ্গার, মোবাইল চার্জার এর ব্যবস্থা রয়েছে।

    ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ১২টি কোচ দ্বারা চলবে। ট্রেনটিতে এসি সিট, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণীর সর্বমোট ৮৯৬টি (৭৯৫ নং ট্রেনের ক্ষেত্রে) এবং এসি বার্থ, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণীর সর্বমোট ৮৭১টি (৭৯৬ নং ট্রেনের ক্ষেত্রে) আসনের ব্যবস্থা থাকবে।

    বেনাপোল ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (৭৯৫) বুধবার ও (৭৯৬) বৃহস্পতিবার। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে দুপুর ১টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে রাত ৯টায় এবং ঢাকা থেকে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে বেনাপোল পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে।

    বেনাপোল-ঢাকা পর্যন্ত উভয় দিকে যাত্রী ভাড়া- শোভন চেয়ার ৫৩৪ টাকা, এসি চেয়ার ১০১৩ টাকা (ভ্যাটসহ), এসি সিট-১২১৩ টাকা (ভ্যাটসহ), এসি বার্থ ১৮৬৯ টাকা (ভ্যাট+বেডিং চার্জসহ)।

  • এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উর্ত্তীনদের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অভিনন্দন

    এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উর্ত্তীনদের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অভিনন্দন

    সদ্য ঘোষিত এইচ.এস.সি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে উর্ত্তীন সকল শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি উর্ত্তীন সকল শিক্ষার্থীর উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন। পাশাপাশি যারা উর্ত্তীন হতে পারেনি তাদের হতাশ না হয়ে আগামী পরীক্ষার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আহবান জানান মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।

  • বাঁধ রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় থাকতে বললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক

    বাঁধ রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় থাকতে বললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক

    বাঁধ রক্ষা ও সংস্কারে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি বলেন, অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এর সংস্কার সম্ভব নয়। তবে ফেনীতে পানি কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের তৃতীয় কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

    জাহিদ ফারুক বলেন, বর্ষা প্রাকৃতিক। পৃথিবীর আবহাওয়াতে একটা পরিবর্তন এসেছে চায়না-আমেরিকায় নদী ডুবে গেছে। এটা আবহাওয়াজনিত কারণ। এখানে কিছু করা যাবে না। তবে যতখানি সম্ভব আমাদের এটি ঠেকাতে হবে। ড্রেজিং করে নদীতে নাব্যতা আনলে এটা কমে আসবে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

  • রেজবি বললেন, এজলাসে বিচারকও নিরাপদ নন

    রেজবি বললেন, এজলাসে বিচারকও নিরাপদ নন

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কবোধ করেন! দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, নারী-শিশুদের পাশবিক নির্যাতন, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে হত্যাসহ দেশ ভরে উঠেছে অনাচার-অবিচারের মহামারিতে। আর অবৈধ সরকার ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় কী ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটা লক্ষ্য করেছেন। আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সামনে এক আসামি আরেক আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের শিকার আমিও হতাম, কিংবা আমার কোনো সহযোগী বা আইনজীবীও হতে পারতেন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?

    তিনি বলেন, সরকারের নিষ্ঠুরতার কোপানলে পড়ে খালেদা জিয়া এখন কারাগারে, তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই বরিশাল, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের নামে অতীতের মতো কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। তার উদ্দেশে বলতে চাই, আপনি যে বিশৃঙ্খলার কথা বলছেন, সেটিই তো উস্কানিমূলক, অশুভ উদ্দেশ্য নিয়েই এ ধরনের বক্তব্য রাখছেন।

    শেয়ারবাজার দৈন্য-দশাগ্রস্ত দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা মানে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, লুটপাটের মহোৎসব। আওয়ামী সরকার আর শেয়ারবাজার একসঙ্গে চলতে পারে না। ১৯৯৬ সালের পর ২০১০ সালে শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকার বাজার মূলধন লুট হয়। এ টাকা ইউরোপ, আমেরিকা, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে।

    রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের রথী-মহারথীরা এ লুটপাটের নায়ক। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সাত বছর পরও লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। উল্টো শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান সারিতে রয়েছেন দেশের তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তারা শাস্তির বদলে আরও প্রতাপশালী হয়েছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, কবির মুরাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনীর হোসেন, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

  • শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ

    শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ

    আজ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথিত র্নীতিবিরোধী অভিযানকালে গ্রেফতার হন শেখ হাসিনা। বেশ কয়েকটিুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ ১১ মাস সংস ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে বন্দি রাখা হয় তাকে। পরে জরুরি অবস্থার মধ্যেই দেশজুড়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি ৮ সপ্তাহের জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়েই চিকিৎসার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যান শেখ হাসিনা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তার অস্থায়ী জামিনের মেয়াদ কয়েকদফা বাড়ানো হয়।

    ২০০৬ সালের ৬ নভেম্বর দেশে ফিরলে স্থায়ী জামিন দেওয়া হয় তাকে। পরে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।