Category: রাজণীতি

  • আইসিটি’র ফেসবুক-ইউটিউব বন্ধ, পাসওয়ার্ড জানেন শুধু পলক

    আইসিটি’র ফেসবুক-ইউটিউব বন্ধ, পাসওয়ার্ড জানেন শুধু পলক

    আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল। বিভাগের ওয়েবসাইটে তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকে ক্লিক করলে কিছু পাওয়া যায় না।

    খবর নিয়ে জানা গেছে, আইসিটির ফেসবুক পেজ ও চ্যানেলের পাসওয়ার্ড জানেন কেবল সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

    আইসিটি বিভাগ সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতো ঢাকা লাইভ নামের একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল মার্কেটিং টিম। পাশাপাশি আইসিটি বিভাগের নানা আয়োজন সামাজিকমাধ্যমে প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের। আর এই সব কিছু এককভাবে তদারকি করতেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর কাওরান বাজারে ঢাকা লাইভের প্রধান কার্যালয়টি বন্ধ। তাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজও বন্ধ রয়েছে।

    আইসিটি বিভাগের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন। এগুলোর পাসওয়ার্ড তার জানা। তবে এসব পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে সক্রিয় এবং অনুসারীর দিক দিয়ে শীর্ষে ছিলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ। ফেসবুকে তার নিজের নামেও ভেরিফায়েড পেজ ছিল। সেটাও এখন বন্ধ।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল রাষ্ট্রীয় অংশ। এটির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় সঠিক বিধি তৈরি হওয়া উচিত। কোনও ব্যক্তির পরিবর্তন হবে, কিন্তু পেজ ও চ্যানেল সচল থাকবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আইসিটি বিভাগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের কাছে না দিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনা করতেন। তিনি শেষ সময়ে পেজগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পুনরায় চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলটির নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ গ্রেফতারও হয়েছেন। গত ৬ আগস্ট দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে আটক হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকও। এরপর ১৪ আগস্ট হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে।

  • অন্তর্বর্তী সরকারে ফের দফতর পুনর্বন্টন

    অন্তর্বর্তী সরকারে ফের দফতর পুনর্বন্টন

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব পুনর্বন্টন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহামদ ইউনুস পেয়েছেন ছয়টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব।

    এগুলো হলো– ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ; ২. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; ৩. সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ; ৪. খাদ্য মন্ত্রণালয়; ৫. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; ৬. বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন– অর্থ মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা হাসান আরিফ পেয়েছেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; ভূমি মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন– বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

    উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ পেয়েছেন- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

  • হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার

    হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার

    রাজধানীর উত্তরা থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার কাজী জিয়া উদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ইনুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। যে কোনও একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

    হাসানুল হক ইনুর দল জাসদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া-২ আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েও তিনি হেরে যান।

    এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

  • বরিশালে ৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    বরিশালে ৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদকসহ ৯৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আদালতের নালিশী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক নালিশী অভিযোগ আমলে নিয়ে বানারীপাড়া থানায় এজাহারভুক্ত করার জন্য ওসিকে নিদের্শ দিয়েছেন।

    সোমবার দুপুরে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ রেজাউল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বানারীপাড়া পৌরসভার এক নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আনিচ মৃধা বাদি হয়ে রোববার শেষ কার্যদিবসে আদালতে নালিশী অভিযোগটি দায়ের করেছেন।

    মামলার অন্যতম আসামির হলেন, সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক, সদ্য সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শুভ্র কুন্ডু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফোরকান হাওলাদার, চাখার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুল হক টুকুসহ ৫৫ জন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    মামলায় বাদি বিবাদীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২ মে বাদির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাইপসহ ড্রেজার মেশিন ও বাড়ি ঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের অভিযোগ এনেছেন। একইসাথে হামলার সময় বাড়ির নারীদের শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেছেন।

  • ‘শেখ হাসিনা শপথ ভঙ্গ করেছিলেন : রিমান্ডে আনিসুল হক

    ‘শেখ হাসিনা শপথ ভঙ্গ করেছিলেন : রিমান্ডে আনিসুল হক

    রিমান্ডে থাকা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ডিবিকে জানিয়েছেন, রাগ-অনুরাগের বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন সময়ে একগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত নিয়ে শেখ হাসিনা তার শপথ ভঙ্গ করেছেন।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রিমান্ডে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা এই উপলব্ধি ব্যক্ত করেছেন বলে ডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ডিবির জেরার মুখে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা ওই সময় রাগ করে কোটা বাতিল করে দেন। এর মাধ্যমে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, কোনো ধরনের রাগ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না। শেখ হাসিনা সরকারের একজন মন্ত্রী হিসাবে তিনি নিজেও এর দায় এড়াতে পারেন না বলে আনিসুল হক ডিবিকে জানিয়েছেন।

    গ্রেফতারকৃত আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি জানায়, শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার কারণেই আজ দেশের এই অবস্থা হয়েছে। তিনি কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা-নেতাদের কথা শুনতে চাইতেন না। যেভাবেই হোক তাকে ক্ষামতায় থাকতে হবে-এই মানসিকতা ছিল শেষ পর্যন্ত। পদত্যাগের আগের দিন ৪ জুলাই এক প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, ‘আপনি শিক্ষার্থীদের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে আমাকে বলি দিন। ছাত্রদের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করুন।’ প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তবের পর তাকে গণভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এই মুহূর্তে যারা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক এমপি সাদেক খান, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহায়েল, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।

  • বিদেশ ভ্রমণে উদার পলক, পিছিয়ে ছিলেন না আমলারাও

    বিদেশ ভ্রমণে উদার পলক, পিছিয়ে ছিলেন না আমলারাও

    বিদেশযাত্রায় সর্বশেষ বিমানবন্দরে গিয়ে ফিরে এলেও ভ্রমণে উদারপন্থি ছিলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

    তৃতীয় মেয়াদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে প্রথম কর্মদিবসেই বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেন তিনি। তবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিজেই তা রক্ষা করেননি। বরং বিদেশ ভ্রমণে এতটাই উদার ছিলেন, নিজের একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকেও (পিও) বিদেশ সফর করিয়েছেন তিনি।

    পলকের এমন নজিরে পিছিয়ে ছিলেন না আমলারাও। মন্ত্রণালয়, অধীনস্থ দপ্তর, সংস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা যে যেভাবে পেরেছেন, করেছেন বিদেশ সফর।

    বিদেশ সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে সাত মাসের দায়িত্বকালেই নিজেসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেছেন। দ্বাদশ সংসদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শুরুর প্রথম কার্যদিবসেই বছরের প্রথম ছয় মাস আইসিটি বিভাগের সব বিদেশ সফর বন্ধ থাকবে বলে নিষেধাজ্ঞা দেন।
    এমনকি উল্লেখিত সময়ে তিনি নিজে এবং আইসিটি বিভাগের সচিবও বিদেশ সফর করবেন না বলে ঘোষণা ছিল তার। কিন্তু ঘোষণার সাড়ে তিন মাসেই প্রতিমন্ত্রীসহ ২৩ জন বিদেশ সফর করেছেন।

    গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় পলক বলেছিলেন, আমাদের রপ্তানি উপার্জন বাড়াতে হবে, রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম পদক্ষেপ যেটি আমার হাতে আছে, আগামী ছয় মাস (জানুয়ারি-জুন) আমি বিদেশে যাব না, সচিব যাবেন না। আইসিটি বিভাগের কেউ বিদেশ সফরে যাবে না। কোনো প্রশিক্ষণে না, কোনো শিক্ষা সফরে না। আমরা আগামী ছয় মাসের জন্য সম্পূর্ণভাবে বিদেশ সফর বন্ধ করে দিলাম।

    তবে মুখে বলা এসব কথার প্রয়োগ বাস্তবে দেখা যায়নি। বিদেশ সফরে এতটাই উদার, সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। গত এপ্রিলে তিনি থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন। এরপর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেন তিনি। তার এ ভ্রমণের খরচ বহন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) একটি প্রকল্প। এ ছাড়াও গত জুনে ফ্রান্সে যান পলক।

    শুধু নিজে ভ্রমণ করেছেন এমনটি নয়। পলকের আশীর্বাদে মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পর্যায়ের আমলারাও বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়েছেন। ২৬ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস-২০২৪’-এ অংশ নিতে স্পেনের বার্সালোনা সফর করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান এবং যুগ্ম সচিব তৈয়বুর রহমান।

    একই অনুষ্ঠানের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত স্পেন সফর করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ। তার সফরসঙ্গী ছিলেন বিটিআরসির আরও দুই কর্মকর্তা।

    গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত সফরসংক্রান্ত এক আদেশে দেখা যায়, ফ্রান্স সফর করেন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ও সিমিউই ৬ প্রকল্পের পরিচালক মির্জা কামাল আহমেদ। তার সফরসঙ্গী ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পলকের ব্যক্তিগত সচিব মুশফিকুর রহমান। তবে সেই আদেশে সফরকালের তারিখ উল্লেখ নেই।

    ২৯ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন পোস্টমাস্টার জেনারেল কার্যালয়ের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল (স্টাফ) নাইমুর রহমান। তিনি সেখানে ‘ব্যবসা উন্নয়ন এবং বিপণন কোর্স’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কশপে অংশ নেন। ওই প্রশিক্ষণের খরচ আয়োজক প্রতিষ্ঠান বহন করবেন বলা হলেও ১ জানুয়ারি জারি করা সরকারি আদেশে ‘আয়োজক’ কে বা কারা, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যের উল্লেখ ছিল না।

    ডাক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাদিয়া আফরিন বৃষ্টির নামে বিদেশে সফরের অনুমতি দিয়ে আদেশ জারি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন উল্লেখ করে ওই আদেশে বলা হয়, তার সফরের ব্যয় বহন করবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক।

    ২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি ওয়ার্কশপে অংশ নিতে মালদ্বীপ সফর করেন আইসিটি বিভাগের তৎকালীন যুগ্ম সচিব এটিএম জিয়াউল ইসলাম।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তারাও পিছিয়ে নেই বিদেশ সফরে। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি দুবাই সফর করেন কমিশনের উপপরিচালক (এসএস) এসএম তাইফুর রহমান। বিদেশ সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সেখানে ‘আইএসএস ওয়ার্ল্ড (ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট সিস্টেমস ফর ইলেক্ট্রনিক সার্ভেল্যান্স, সোশ্যাল মিডিয়া/ডার্ক ওয়েব অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তার এ সফর। এ সফরের খরচ বহন করবে ‘স্পাইডার ডিজিটাল ইনোভেশন এফজেড এলএলসি’।

    সিঙ্গাপুরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কেন্দ্র সফরের অনুমতি পান বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস (এসএস) বিভাগের চার কর্মকর্তা। জিও অনুযায়ী, ৫ থেকে ৮ মার্চ তারা সেখানে অবস্থান করবেন।

    এ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন – পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম রেজাউর রহমান, জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক তৌসিফ শাহরিয়ার, উপসহকারী পরিচালক কামাল সিদ্দিকী এবং মাসুম খান।

    থাইল্যান্ডের পাতায়াতে ‘এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ’-এর ৩২তম সভায় অংশ নিতে অনুমতি পায় কমিশনের আরেক উপপরিচালক (এসএম) মাহফুজুল আলম। ৪ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত এ সফরের খরচ বহন করবে এশিয়া প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি।

    এছাড়া আইকান কমিউনিটি ফোরামে অংশ নিতে ২ থেকে ৭ মার্চ পুয়ের্টো রিকোতে যান বিটিআরসির উপপরিচালক ড. শামছুজ্জোহা।

    প্রতিমন্ত্রীর বিদেশ সফরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিদেশ সফর করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারাও। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ইনফরমেটিক্স পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসির) নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার এবং পরিচালক (ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) গোলাম সারওয়ার।

    ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ড সফর করেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘বিডিসেট’ প্রকল্পের পরিচালক আমিরুল ইসলাম। এ সফরের খরচ বহন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এজেড টেকনোলজি’।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন বিটিসিলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) নওরিন তানিয়া, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মেসবাহ সালাউদ্দিন সজিব, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) আবদুল্লাহ আল মামুন, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) শামীম ফকির, সহকারী প্রকল্প পরিচালক আসিফ আহামেদ এবং ব্যবস্থাপক (কারিগরি) জামরুল ইসলাম।

    ১৯ থেকে ২৫ মার্চ চীন ভ্রমণ করেন পলকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকার, টেলিটকের মহাব্যবস্থাপক সালেহ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আলাওল কবির, টেলিটকের সিনিয়র ম্যানেজার সঞ্জয় কুমার সরকার।

    ১৮ থেকে ২২ মার্চ থাইল্যান্ড ভ্রমণের অনুমতি পান ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পোস্ট সেবা) এসএম শাহাব উদ্দিন এবং সেকশন অফিসার হাসানুজ্জামান।

    এ ছাড়াও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ চীন যান বিটিসিলের ডিজিএম মোহাম্মদ মাসুদ রানা, ডিজিএম রওনক তাহমিনা, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) জয়িতা সেন রিমপি, ব্যবস্থাপক (কারিগরি) মিহির রয় এবং নিশা আবদুল্লাহ।

    সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের এ তালিকা দীর্ঘ। পলকের সর্বশেষ দায়িত্বকালের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেছেন।

    অভিযোগ আছে, ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠাতে বেশ উদার ছিলেন তিনি। উল্লেখিত সময়ে বিদেশ সফর করেননি আইসিটি বিভাগের এমন এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, এমন কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করেছেন, যাদের চাকরির সঙ্গে ওই সফরের কোনো সামঞ্জস্যতা ছিল না।

    অবশ্য তিনি শুধু নিজে বা নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ করিয়েছেন তেমনটি নয়, সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, এমন ব্যক্তিদেরও বিদেশ সফরে পাঠিয়েছিলেন বিদেশ ভ্রমণে উদারপন্থি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

  • ধৈর্য ধরুন, অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন: জামায়াতের আমির

    ধৈর্য ধরুন, অন্তর্বর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন: জামায়াতের আমির

    সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরও কিছুটা সময় ধৈর্যধারণ করুন। অন্তবর্তী সরকারকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে কাজ করবে কীভাবে?

    সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে এমনটি বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার অনুরোধে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাদের কাজ করার সুযোগ দিন।

    আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে দেখে ফেরার সময় সাংবাদিকদের জামায়াতের আমির এ কথা বলেন।

    গতকাল রোববার রাতে সচিবালয় এলাকায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ গুরুতর আহত হন।

    জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তন হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে আন্দোলনের নামে কিছু উচ্ছৃঙ্খল আনসার সদস্য গায়ের জোরে ঢুকে পড়েছিলেন। যাঁরা জীবন দিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে বুলেটের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকারকে পলায়ন করতে বাধ্য করেছিলেন, সেই ছাত্ররা এসেছিলেন তাঁদের কথা শোনার জন্য, শান্ত করার জন্য। কিন্তু তাঁরা সবকিছুর সীমা ছাড়িয়ে ছাত্রদের আঘাত করেন। বাধ্য হয়ে ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহসহ অনেকে আহত হন।

    জামায়াতের আমির আরও বলেন, মাত্রই তো তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এত দিন আপনারা কোথায় ছিলেন? এত দিন দাবি জানাননি কেন? সাড়ে ১৫ বছর যেহেতু ধৈর্য ধরেছেন, আরও কিছুটা সময় ধৈর্যধারণ করুন। তাদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। তাদের এভাবে ব্যতিব্যস্ত রাখলে কাজ করবে কীভাবে?’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের দুঃসাহস আবারও দেখালে জনগণ ক্ষমা করবে না।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হেলাল উদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, কামাল হোসেন প্রমুখ।

  • আমাকে ছেড়ে দিন, আমি দেশ ঠিক করে দেব

    আমাকে ছেড়ে দিন, আমি দেশ ঠিক করে দেব

    ডিএমপি নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হকার শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় গত ১৩ আগস্ট গ্রেফতার করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে। তিনি এখন রিমান্ডে রয়েছেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে রিমান্ড চলছে তার।

    ডিবির জিজ্ঞাসায় সালমান এফ রহমান বলেন, আমাকে আটকে রাখলে, আমার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮০ হাজার লোক বেতন পাবে না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে সেই ঋণের কিস্তি দিতে পারব না। এতে দেশেরই ক্ষতি হবে। তাই আমাকে ছেড়ে দিন। আমি দেশ ঠিক করে দেব। এ সময় ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি ঠিক করলে এখানেই করুন। কোর্টে গিয়ে কথা বলুন। কিন্তু আপনাকে ছাড়া হবে না। একের পর এক মামলায় কমপক্ষে এক বছর আপনাকে রিমান্ডে থাকতে হবে।’ সালমান এফ রহমানের কাছে ডিবির জিজ্ঞাসা-‘গত নির্বাচনের আগেই তো আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার কথা ছিল। তখন হয়নি কেন?’ উত্তরে সালমান বলেন, আমরা ভারতের মাধ্যমে আমেরিকাকে ঝুঝাতে পেরেছিলাম যে, আমরা আমেরিকার পক্ষেই আছি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তখন আমাদের এবং ভারতের কথায় আমেরিকা কনভিন্স হয়েছিল। না হলে তখনই আমাদের পতন হয়ে যেত।’

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এর পর থেকে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এই মুহূর্তে যারা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে আছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক এমপি সাদেক খান, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ সোহায়েল, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।

  • সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আহতদের দেখতে ঢামেকে ৩ উপদেষ্টা

    সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আহতদের দেখতে ঢামেকে ৩ উপদেষ্টা

    বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় গতকাল রোববার রাতে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা।

    সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আহতদের দেখতে উপদেষ্টারা ঢাকা মেডিকেলে যান। এ সময় তারা কেবিনে থাকা সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

    আহতদের দেখে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘কালকের ঘটনায় আমরা খুবই ব্যথিত। আহত সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ আগের চেয়ে ভালো আছে।’

    আইন উপদেষ্টা বলেন, যারা আনসারের ছদ্মবেশে এসেছিল, তাদের দাবি আদায়ের এজেন্ডা ছিল না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। লাঠি তাদের স্টকে ছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে তারা ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। যেসব ছাত্র স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, যারা আমাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ, তাদের রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মেরেছে। আনসারদের দাবি ছিল রাত ১০টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন করে চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে। অসম্ভব ও অবাস্তব দাবি তুলেছিল অনসাররা।

    এই জাগ্রত ছাত্রসমাজ, ‘যারা আন্দোলন করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, তারা আবারও তাদের অপরিসীম ত্যাগের ভূমিকা রাখে। পুরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে তারা। যারা ষড়যন্ত্র করবে, তারা সফল হবে না। প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা সঠিক পথে দাবি আদায়ের আন্দোলন করছেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ, বিবেচনা করে দেখবেন ১৭ বছরের বৈষম্য ও শোষণ ১৭ দিনে কি সমাধান করা যায়?’

    তিনি বলেন, ‘ধৈর্য ধরেন, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দাবি জানান। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে এসেছি, কোনো দলের প্রতিনিধি না। সবার স্বার্থ নিশ্চিত হয় এমনভাবে কাজ করব। তবে সেটা সময় লাগবে। আহত হাসনাতের অবস্থা মোটামুটি ভালো। দুজন পথচারীও আহত আছে।’

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘মনে হচ্ছে দাবি আদায়ের মৌসুম শুরু হয়েছে, ধান কাটার মৌসুমের মতো। প্রতিটা দাবির সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে। যেখানে সরকারের ব্যয় বাড়বে। সরকারের রাজস্ব তো হঠাৎ করে রাতারাতি বেড়ে যাবে না। কীভাবে দাবি মেটাব, টাকা ছাপতে পারি, তবে টাকা ছাপলে মূল্যস্ফিতি বেড়ে যাবে। তখন সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবকিছু হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই সরকার বানের জলে ভেসে আসে নাই। ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে এই সরকারকে এনেছে। এটা জনপ্রত্যাশার সরকার। আমরা গত সরকারের সবকিছু জানি। তবে আমাদের সময় দিতে হবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ অনেকে।

  • নির্বাচন কখন হবে সেটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের নয়

    নির্বাচন কখন হবে সেটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের নয়

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের সংকটকালে ছাত্রদের আহ্বানে আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। কখন নির্বাচন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়।

    আজ (রোববার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেন, একটা বিষয়ে সবাই জানতে আগ্রহী, কখন আমাদের সরকার বিদায় নেবে। এটার জবাব আপনাদের হাতে, কখন আপনারা আমাদেরকে বিদায় দেবেন। আমরা কেউ দেশ শাসনের মানুষ নই। আমাদের নিজ নিজ পেশায় আমরা আনন্দ পাই।  আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীও এই লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলে একটা টিম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, কখন নির্বাচন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। দেশবাসীকে ঠিক করতে হবে আপনারা কখন আমাদের ছেড়ে দেবেন। আমরা ছাত্রদের আহ্বানে এসেছি। তারা আমাদের প্রাথমিক নিয়োগকর্তা। দেশের আপামর জনসাধারণ আমাদের নিয়োগ সমর্থন করেছে। আমরা ক্রমাগতভাবে সবাইকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে যাবো যাতে হঠাৎ করে এই প্রশ্ন উত্থাপিত না হয়— আমরা কখন যাব। তারা যখন বলবে আমরা চলে যাব।

    ড. ইউনূস বলেন, আমরা সংস্কারের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকেও সংস্কার করব। কমিশনকে যে কোনো সময় আদর্শ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাখব।

    ড. ইউনূস আরও বলেন, একটা বিশেষ ব্যাপারে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিদিন সচিবালয়ে, আমার অফিসের আশপাশে, শহরের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের অনেক দুঃখ- কষ্ট আপনাদের জমা আছে। সেটা আমরা বুঝি। আমাদের যদি কাজ করতে না দেন তাহলে এই দুঃখ ঘোচানোর সব পথ বন্ধ হয়ে থাকবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাদের কাজ করতে দিন। আপনাদের যা চাওয়া তা লিখিতভাবে আমাদের দিয়ে যান। আমরা আপনাদের বিপক্ষ দল নই। আইনসংগতভাবে যা কিছু করার আছে আমরা অবশ্যই তা করব।

    তিনি বলেন, আমাদের ঘেরাও করে আমাদের কাজে বাধা দেবেন না। সবাই মিলে তাদের বোঝান তারা যেন এ সময়ে তাদের অভিযোগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমাদের দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা না দেন।