Category: রাজণীতি

  • আদালত চত্বরে কাঁদলেন মির্জা আব্বাস

    আদালত চত্বরে কাঁদলেন মির্জা আব্বাস

    ১৭ বছরে আমার জীবনে সমস্ত কিছু এই আওয়ামী সরকার কেড়ে নিয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি না শুধু, আমার মতো বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মীর জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার পরিবারটা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কেঁদে কেঁদে এসব কথা বলছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

    দুর্নীতি দমন কমিশনের করা পৃথক দুই মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন মির্জা আব্বাস।

    এদিন ঢাকার পৃথক দুইটি বিশেষ জজ আদালতের বিচারক তাকে খালাস প্রদান করেন। দুই মামলায় খালাস পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে কাঁদতে দেখা গেছে বিএনপির এই নেতাকে।

    এদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

    মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে এই সরকারের কাছে আবেদন করব, এই ধরনের নিপীড়নমূলক ভ্যানগুলো যেন প্রত্যাহার করা হয়। এই ভ্যানে করে আমাদেরকে আনা-নেওয়া করা হয়েছে। অনেক কষ্ট হয়েছে। তারপরও বলব, ১৭ বছরে একটা মানুষের জীবনে যে প্রাইম টাইম আজকে আমার বয়স ৭৪ বছর। এই ১৭ বছরে আমার জীবনে সমস্ত কিছু এই আওয়ামী সরকার কেড়ে নিয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি না শুধু, আমার মতো বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মীর জীবন শেষ করে দিয়েছে।’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই ১৭ বছরে আমাদের বহু কর্মী নিহত হয়েছে। জেলখানায় মারা গেছে। বিনা চিকিৎসায় জেলখানায় মারা গেছে। এই ১৭ বছরে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। একইভাবে আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করি, নামাজ পড়ি, দোয়া করি আল্লাহ আমার বিক্ষিপ্ত পরিবারকে এক করে দাও। আমার পরিবারটা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমার বিক্ষিপ্ত পরিবারটাকে একত্র করে দাও। এটা আর হলো না।

    মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর যে রহমত, আল্লাহর যে বিচার, এই বিচার থেকে কোনো মানুষ কেউ রেহাই পাবে না। আল্লাহর যে রহমত আমাদের ওপর বর্ষিত হয়েছে, তেমনি আল্লাহর বিচারও তাদের ওপর বর্ষিত হবে। ওরা যে যেখানে আছে, ওখানে শাস্তি পাবে। আপনারা সর্বশেষ দেখেছেন বিচারপতি মানিকের, কোরআনে আছে, আল্লাহ তায়ালা যাকে বেইজ্জতি করেন, কীভাবে করেন, উনি দেখিয়ে দেন। আমি চাই, আল্লাহ-তায়ালার কাছে সেই বিচারটা।’

    মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ। আমি ভাই মহৎ ব্যক্তি না। আমার জীবনের বিনিময়ে কাউকে ক্ষমা করতে পারছি না। এই বিচার আমি আল্লাহর কাছে চাই।’

  • ‘খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থার জন্য দায়ী দুই আইনজীবী’

    ‘খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থার জন্য দায়ী দুই আইনজীবী’

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই আইনজীবীকে দায়ী করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনতিবিলম্বে ওই দুজনকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

    তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আজকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থার জন্য দায়ী পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল ও দুদকের আওয়ামী লীগের দালাল প্রধান আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। এই সাবেক ছাত্রলীগের ক্যাডার ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে দেশনেত্রীকে বছর পর বছর কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার প্রকোষ্টে বিনা চিকিৎসায় আবদ্ধ রেখেছিলেন।

    রিজভী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের ধারাবাহিক এক্সটেনসন অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার নির্দেশনা মতো খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাদের নামে বহু কাল্পনিক মামলা আবিস্কার করে তাতে গনভবনের রায় পাঠ করে সাজা দেয়া হয়েছে। কাজল এবং খুরশিদরা বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যাঙ্গারু আদালতে প্রকাশ্যে অপমানজনক কথা বলত, হুমকি দিত। দেশনায়ক তারেক রহমান সম্পর্কে কটূক্তি করেছে।

    রিজভী অভিযোগ করে বলেন, কাজল-খুরশিদ দুর্বৃত্ত চক্র তারেক রহমানকেও মিথ্যা মামলায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফরমায়েশি সাজা দিয়েছে। এই দুর্বৃত্ত চক্র বিএনপিসহ বিরোধী দল মতের বহু মানুষের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। দুদকের মত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হাসিনা কাজল-খুরশিদ গংয়ের মতো ছাত্রলীগের ক্যাডার দিয়ে সম্পূর্ণভাবে লীগের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। মোশাররফ হোসেন কাজল ছিলেন ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

    তিনি বলেন, দুদককে দায়িত্বই দেওয়া হয়েছিল বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশনায়ক তারেক রহমান, উনার সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে খড়গ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। ওয়ান ইলেভেন থেকে এই দুদকে বিএনপির ওপর নির্দয় নিপীড়নের যন্ত্র হিসাবে সরকারি কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল, খুরশিদ আলম খানসহ আইনাঙ্গনের মাফিয়াদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই মাফিয়ারা এখনও আদালত প্রাঙ্গনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র, উন্নয়ন সমৃদ্ধির ধারক ও বাহক জিয়া পরিবারকে কারারুদ্ধ করা, হেয় প্রতিপন্ন ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় প্রতিহিংসামূলক ফরমায়েশী সাজার কারিগর দুদকের এই কাজল, খুরশিদ গং।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।

  • সাবেক আট মন্ত্রী ও ছয় সংসদ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    সাবেক আট মন্ত্রী ও ছয় সংসদ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    আওয়ামী লীগ সরকারের আট মন্ত্রী ও ছয় সংসদ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া মন্ত্রীরা হলেন- স্বাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

    দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সংসদ সদস্যরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য সলিম উদ্দিন, মামুনুর রশিদ কিরণ, কুজেন্দ্র লালা ত্রিপুরা, কাজীম উদ্দিন, নুর ই আলম চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, কী আলোচনা হলো?

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক, কী আলোচনা হলো?

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

    বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

    বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। আর বিএনপির প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিরা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ভাবনা, নির্বাচন নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

    বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেছেন, এই সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ব্যাপারে তাদের পূর্ণ সমর্থন আছে।ভবিষ্যতেও এই সমর্থন থাকবে।

    বৈঠকে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংস্কার এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ব্যাপক ভিত্তিক সংলাপ শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয় সে ব্যাপারে অনুরোধ করেন বিএনপি নেতারা। তারা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানতে চান এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা ও সম্ভাবনা আছে সে ব্যাপারেও একমত পোষণ করেন বিএনপি নেতারা।

    বৈঠকে বিএনপি নেতারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে বর্তমান সরকার সংস্কার ও নির্বাচন সম্পর্কিত এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেবে সেটা নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন ও তারা সেটার একটি সমন্বিত অংশীদার হবেন।

    এর আগে গত ১২ আগস্ট বিকালে যমুনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। দলটির পক্ষ থেকে বারবারই একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে।

  • উপদেষ্টাদের দেশ-বিদেশ সফরকালে নতুন রাষ্ট্রাচার

    উপদেষ্টাদের দেশ-বিদেশ সফরকালে নতুন রাষ্ট্রাচার

    রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশে ও দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদায় সংবর্ধনা ও স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে নীতি-নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলী জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার এ রাষ্ট্রাচার জারি করা হয়।

    বিদেশ সফর

    বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে উপদেষ্টাদের গমন ও প্রত্যাবর্তনকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অথবা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

    দেশের অভ্যন্তরে সফর

    ১. দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে উপদেষ্টাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী তাদের ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনস্থলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের উপদেষ্টার একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।

    ২. জেলা সদরে যথাসম্ভব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা উপদেষ্টাকে আগমন ও বিদায়ের স্থানে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন।

    ৩. জেলা সদরে উপস্থিত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক অথবা পুলিশ সুপারের নিজের সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এরূপ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। তবে জেলা প্রশাসক আগেই নিজের সফরসূচি জারি করে থাকলে উপদেষ্টার সফরসূচি পাওয়ার পরই উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হবেন যে, জেলা প্রশাসকের সদরে থাকা আবশ্যক কিনা। উপদেষ্টা এরূপ ইচ্ছা প্রকাশ করলে সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক তার সফরসূচি বাতিল করবেন।

    ৪. উপজেলা সদর অথবা উপজেলার অন্য কোনো স্থানে উপদেষ্টার সফরকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।

    ৫. উপদেষ্টার আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে জেলা প্রশাসক ঢাকা বা চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারের উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। পুলিশ সুপার কক্সবাজার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

    ৬. কোনো জেলা বা উপজেলায় উপদেষ্টার আগমন বা প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে ট্রানজিট স্থানে জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

    ৭. উপদেষ্টাদের আগমন ও প্রস্থানের সময় বিভাগীয় কমিশনার অথবা সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের (ডিআইজি) উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। বিভাগীয় কমিশনার সদর দপ্তরে উপস্থিত থাকলে উপদেষ্টার আগমনের পর তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন।

    ৮. উপদেষ্টাদের সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

    ৯. দেশের অভ্যন্তরে উপদেষ্টার রেলযোগে ভ্রমণকালে রেলওয়ে পুলিশ নিচের নির্দেশাবলী অনুসরণ করবে-

    ক. উপদেষ্টার সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সব পুলিশ স্টেশন বা ফাঁড়িকে অবহিত করবেন।

    খ. যে স্টেশনে উপদেষ্টা ট্রেন থেকে অবতরণ ও ট্রেনে পুনরায় আরোহণ করবেন অথবা কোনো জংশনে যে স্থানে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে, সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক বা উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন।

    গ. রেলযোগে চট্টগ্রামে গমন ও প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

    সাধারণ নির্দেশাবলী

    ১. উপদেষ্টাদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে। সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তাও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে হবে।

    ২. সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ব্যতীত নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্র অবস্থানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলী প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

    ৩. সফরসূচি প্রণয়নের সময় সফরটি সরকারি না ব্যক্তিগত, তা উপদেষ্টাদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে। সরকারি সফরের সময় উপদেষ্টাদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যক্তিগত সফরের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে এ সংক্রান্ত সেবার মূল্য পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    ৪. উপদেষ্টার একান্ত সচিব বা সহকারী একান্ত সচিবেরা উপদেষ্টার ইচ্ছা অনুযায়ী এতৎসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    ৫. মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশে গমন ও দেশে প্রত্যাগমনের সময় বিমানবন্দরে এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল)–সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৮ এপ্রিল ২০১৮ তারিখের ০৪.০০.০০০০.৪২৩.২২.০০১.১৪.৬২ নম্বর স্মারকে জারিকৃত নির্দেশাবলী এতদ্বারা বাতিল করা হলো।

  • প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে ঋণ আত্মসাতের হিসাব হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে ঋণ আত্মসাতের হিসাব হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নামে-বেনামে কত টাকা ঋণ আত্মসাৎ করেছে, তার হিসাব করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং তা বিদেশে পাচার করেছেন, যার সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলমান।

    এ আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ লক্ষাধিক কোটি টাকার ওপরে মর্মে ধারণা করা যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    প্রভাবশালীদের নাম উল্লেখ না করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে ইতোমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত এসব অর্থের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের প্রতি সরকারের কঠোর মনোভাবের ইঙ্গিত করে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়, ব্যাংকসমূহের নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইউই, সিআইডি ও দুদকের সহায়তা নিয়ে আত্মসাৎকারীদের স্থানীয় সম্পদ অধিগ্রহণ ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে। অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা চেয়ে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার।

    শীঘ্রই ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়, কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যাংকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করবে এবং ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ছয়মাসের মধ্যে একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের লক্ষ্য হলো সকল আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড পরিপালনে সক্ষম একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত গড়ে তোলা। তবে এই উদ্দেশ্যে সফল করতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময়, আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা ও অর্থের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার অর্থ আত্মসাৎকারীদের দেশি-বিদেশি সম্পদ অধিগ্রহণ এবং বিদেশ হতে ফেরত এনে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে।

    ব্যাংকগুলোর এই পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত সংস্কার সময় সাপেক্ষ ব্যপার। তবে সরকার বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ব্যপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। -বাসস

  • ঢাবির নতুন ভিসিকে নিয়ে মন্তব্য, রনির তীব্র সমালোচনা

    ঢাবির নতুন ভিসিকে নিয়ে মন্তব্য, রনির তীব্র সমালোচনা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩০তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। গতকাল সোমবার ভিসি হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর তাকে নিয়ে অফলাইন ও অনলাইনে চলছে নানা আলোচনা। বেশিরভাগ মানুষই তার যোগ্যতার কারণে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। 

    সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেকেই স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একজন যোগ্য ভিসি পেল। কেউ কেউ বলছেন, ঢাবি সুযোগ্য স্বৈরাচারমুক্ত ভিসি পেল।

    আবার কেউ কেউ তিনি ঢাবির শিক্ষার্থী নন, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নেই, সাম্প্রতিক আন্দোলনে ভূমিকা নেই- ইত্যাদি বলে এ নিয়োগের সমালোচনা করছেন। 

    মঙ্গলবার পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনিও নতুন ভিসিকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, অগ্নিগর্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের ঐতিহ্য পদদলিত করে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোভিসি হিসেবে কর্মরত শিক্ষককে ধরে এনে যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আমি সেই নিয়োগ মানি না। আমি প্রতিবাদ করছি এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি সেই অপচেষ্টাকে যারা রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার ছায়াঘেরা আমার প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থির করার চেষ্টা করছেন।

    রনির এমন স্ট্যাটাসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটিজেনরা। কমেন্টবক্সে তারা রনির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। অনেকেই তাকে স্বৈরাচারের দোসর বলে অভিযুক্ত করেন। কেউ কেউ বলেন, রনি লীগের সাবেক এমপি, মানুষ সেটা ভালো করে জানে। তিনি আসলে দলত্যাগ করলেও আদর্শ ত্যাগ করতে পারেননি। অনেকেই বলেছেন, রনি আওয়ামী লীগই রয়ে গেলেন। মানুষ হতে পারেনি। অনেকেই আবার রনিকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ড. ফয়জুল হক নামে এক ব্যক্তি বলেন, নতুন ভিসিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই প্রথম একজন যোগ্য মানুষ সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়ায় বাংলার সব ছাত্র-জনতা আনন্দিত। দেশ ও মানবতা এগিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশা করছি। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ও সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বর্তমান এই সরকারই দেশবাসীর সরকার।

    মেহেদি হাসান লিখেছেন- পরিবর্তন যদি ভালোর জন্য হয়, তবে সেই পরিবর্তনকে আমরা স্বাগতম জানাই। 

    রাকিবুল আহসান মিনার বলেছেন, অক্সফোর্ডসহ বিশ্ববিখ্যাত সব ইউনির্ভাসিটি ও ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষা লাভকারী ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানকারী মানুষটা অযোগ্য, আর দলীয় চাটুকারদের নিয়োগ দেওয়া ছিল যোগ্যতার পরিচয়? আপনার এ মায়াকান্নার অদৃশ্য পানিতে আপনার মুখোশই ধুয়ে যাচ্ছে! আপনার মানসিক সেই আওয়ামী নগ্নতা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে।

    জাকির হোসাইন বলেছেন, একজন ভালো মানুষ যে কোনো জায়গা থেকে আনা যায়।

    মোহাম্মদ শফিকুল্লাহ বলেছেন, আগের চা-সমুচা আর সিঙ্গারা বিক্রেতা যারা ভিসি ছিল তাদের নিয়ে কোনো মুখ খুলেননি! আজকে স্বাধীনভাবে মুখ খুলছেন।

    জাহিদুল ইসলাম বলেন, আপনার রাগ অভিমানের জন্য অতীতেও কারো ক্ষতি হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

    আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের লিখেছেন, ঢাবির ইতিহাসে সেরা ভিসি পেতে যাচ্ছে দেশবাসী, ইনশাআল্লাহ।

    আতিকুল্লাহ হিল আশরাফি বলেছেন, ঢাকা ভার্সিটিতে গণহত্যায় এরকম হম্বিতম্বি করে কথা বলার তো দুঃসাহস দেখি নাই ভাই আপনার। 

    সোহেল রানা বলেছেন, উনাকে অ্যানালাইসিস করে দেখছি উনি নেতা হতে চান। বৃষ্টির দিকে ছাতা সর্বদাই প্রস্তুত রাখেন তিনি। তিনি প্রতি মুহূর্তে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন।

    মোহাম্মদ জিয়াউর রাহমান লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে নিয়ে সরকারের কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সবাই গণভবনে যাত্রা করতেন। তখন আপনার ঐতিহ্য কোথায় ছিল।

    সোলায়মান হোসাইন লিখেছেন, এই মুখোশ পরা লীগটাকে বিএনপি থেকে আলাদা করা দরকার।

    মিজানুর রহমান লিখেছেন, ভাই আদা পচলে ঝাল থাকে, ব্যক্তিত্ব নষ্ট হলে কিছুই থাকে না।

    নাজিম উদ্দিন লিখেছেন, দীর্ঘদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একজন যোগ্য উপাচার্য পেয়েছে। অভিনন্দন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস সোয়ানসি, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ ও গবেষণা করা অধ্যাপক খান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে একাডেমিক ও কার্যকরী ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্টের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।

    তারেক আহমেদ খান লিখেছেন, দলীয় প্রভাবমুক্ত ভিসি ছাত্র-জনতার পছন্দ। 

    মমিনুর রশিদ লিখেছেন, যতকিছুই হোক, রনি ভাই কিন্তু আওয়ামী লীগকে মিস করেন। কারণ তিনি কট্টর আওয়ামীপন্থি।

    এএম জোবায়ের লিখেছেন, আপনার এই আবেদনটা আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম। আমার মনে হয় সর্বকালের সেরা ভিসি পেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অভিনন্দন নতুন ভিসি স্যারকে। 

    মো. হেলাল উদ্দিন লিখেছেন, যদি যোগ্য হয় তাহলে সমস্যা কোথায়?

    শাকিব উদ্দিন লিখেছেন, যোগ্য লোকদের নিয়োগ দিলে এত জ্বলে কেন?

    রনিকে ট্যাগ করে মুফতি আলাউদ্দিন বলেছেন, একটা কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি, এ দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন আপনারা। কঠিন হাশর ময়দানে এর জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।

    নুরুদ্দিন রিয়াজ বলেছেন, দেশ স্বাধীন করেছেন ছাত্র-জনতা, তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কে ভিসি পদে থাকবে আর কে নিয়োগ পাবে। আপনি মানার কে? আর না মানারই বা কে? আপনি আওয়ামী লীগই রয়ে গেলেন। মানুষ আর হতে পারলেন না।

    ইমাম হোসাইন হৃদয় লিখেছেন, শাহবাগ খোলা আছে, আন্দোলন করুন। হাসিনার সময় তো নামেন নাই, এখন নামুন, পোলাপান উত্তম-মাধ্যম দিয়ে দেবে।

    আবু তাহের তালুকদার লিখেছেন, আপনে যে লীগের সাবেক এমপি, সেটা মানুষ ভালা করি জানে। 

    ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব বলেছেন, আপনি কিন্তু এক সময়ের স্বৈরাচারের দোসর।

    হেলাল শাহাদাত লিখেছেন, আপনার কু-চেহারা, ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী প্রেতাত্মা হিসেবে আপনার পরিচয় আবার প্রকাশ হলো শান্তিপ্রিয় জাতির সামনে।

    রেদওয়ান চৌধুরী লিখেছেন, আপনে পল্টি মারবেন, সেটা জানি; কিন্তু এত তাড়াতাড়ি পল্টি মারবেন, সেটা তো জানতাম না।

    গাজী ইকবাল হোসাইন লিখেছেন, আপনার কথায় সবাই হাসি রিয়্যাক্ট দেয়, আপনার রক্তে তো আওয়ামী মিশে আছে। আপনার শরীর থেকে আওয়ামী গন্ধ আসে।

    মাকসুদ হোসাইন লিখেছেন, আপনার জন্য আওয়ামী লীগ ঠিক আছে, সেখানেই ফিরে যান আপনি।

    এসকে মাসুদ রানা লিখেছেন, সম্ভবত আপনার স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে।

    নতুন ভিসিকে নিয়ে মাহবুব বিন মালেক লিখেছেন, উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, এখনো আছেন। লিয়েন বা ছুটি নিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছিলেন। এখানে কিসের সমস্যা? এভাবে তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই বিভিন্ন জায়গায় পড়ান। এর কারণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না, এমন বিবেচনা আপনি করলেন কী করে? আপনার কাছ থেকে এটা আশা করিনি। আর আপনাদের যদি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক টাইপ, যে কিনা ঢাকা কলেজ থেকে অনার্স করে পরে ঢাবির প্রাইভেট প্রোগ্রাম থেকে মাস্টার্স করে ঢাবির ভিসি হয়েছিলেন, সেই ভিসি বেশি ভালো লাগে, তাহলে আপনাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।

    আরিফ আল মামুন লিখেছেন, আপনি যেহেতু বিরোধিতা করছেন সুতরাং ভিসি নিয়োগ সঠিক হয়েছে।

    মো. কামাল উদ্দিন বলেছেন, আপনার বক্তব্যে অনেকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজতো, তাদের সঙ্গে সব সময় আপনার পক্ষ হয়ে প্রতিবাদ করতাম, আজকের পর বুঝলাম আসলেই আপনি ষড়যন্ত্রকারী। আপনি ঢাকা কলেজের বিএ পাশ লোককে মানবেন, যদি আপনার দিদি নিয়োগ দেয়; কিন্ত এই সরকার অক্সফোর্ডের সেরা এনে নিয়োগ দিলেও আপনার ভালো লাগবে না। এটার কারণ আপনি বুবুর লোক। উনি বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সেরা সাবজেক্ট উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই তথ্য না দিয়ে তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা দুরভিসন্ধিমূলক। আমরা আপনার এ জঘন্য অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই পোস্ট প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

    মাকসুদুর রহমান বলেছেন, আপনি আসলে দলত্যাগ করলেও আদর্শ ত্যাগ করতে পারেননি।

    মো. বিপ্লব বলেছেন, চাটাচাটি করা যাবে না। এজনই কি ভিসি হিসেবে উনাকে মানতে পারছেন না?

  • প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন মহাপরিচালক আবু সাঈদ

    প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন মহাপরিচালক আবু সাঈদ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবু সাঈদকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নাফিউল হাসানকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে বদলি করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

  • আদালত চত্বরে ইনুকে জুতা-ডিম নিক্ষেপ

    আদালত চত্বরে ইনুকে জুতা-ডিম নিক্ষেপ

    রাজধানীর নিউমার্কেটে দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

    এ সময় ইনুকে উদ্দেশ্য করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টের নিচে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। একাধিক ডিম ইনুর শরীরে পড়েছে।

    মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে সিএমএম কোর্টের নিচে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবীরা ইনুর গায়ের চামড়া, তুলে নেবো আমরা; ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি ইনুর ফাঁসি চাই বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    এর আগে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ইনুকে সিএমএম কোর্টে আনে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাকে বহনকারী গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের তিনটি প্রটেকশন গাড়ি ছিল।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দারের আদালতে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সোমবার বিকালে উত্তরার একটি বাসা থেকে ইনুকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শাহজাহান আলীকে হত্যার অভিযোগে তার মা আয়শা বেগম (৪৫) নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞানামা। এই মামলায় ইনুকে গ্রেফতার করা হয়।

  • মেনন ৬ দিন ও ইনুর ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুর

    মেনন ৬ দিন ও ইনুর ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুর

    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর থানার মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার দেখানোসহ ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আদাবর থানার পরিদর্শক মিন্টু চন্দ্র বণিক ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬ দিনের মঞ্জুর করেছে আদালত।

    এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    এর আগে ২৩ আগস্ট রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    গত ২২ আগস্ট পোশাকশ্রমিক রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট রুবেল আদাবরের রিংরোডে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নেন। এ সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ, প্ররোচনা, সাহায্য, সহযোগিতা ও প্রত্যক্ষ মদদে মিছিলে গুলি ছুড়া হয়। এতে বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন রুবেল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট মারা যান তিনি।

    মামলায় আসামির তালিকায় দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ যুবলীগ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ তাঁতী লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বাংলাদেশ মৎসজীবী লীগের নামও রয়েছে।