Category: রাজণীতি

  • আ.লীগ সরকার পতনের একমাস, যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    আ.লীগ সরকার পতনের একমাস, যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ ৫ সেপ্টেম্বর, গত আগস্টের এই দিনেই ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে পতন হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। সেই গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তিতে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেছেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহিদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।

    গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম- শদিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন, সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না।

    যুগান্তর পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ইউনূসের বার্তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

    আসসালামু আলাইকুম,

    আজ আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।

    তারা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে যার নেতৃত্বে নৃশংস একটি গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র এবং একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। আমাদের বাংলাদেশকে এর পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমাদের।

    আজ আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা জঘন্য হত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

    আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।

    গত মাসে, আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সমস্ত জানা এবং অজানা শহিদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সকল সীমাবদ্ধতা সত্তেও এই দায়িত্ব গ্রহণ কেরছি।

    আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহিদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।

    আমার প্রিয় তরুণেরা,

    তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

    বিপ্লবের সময়, তোমরা পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাঁদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারা দেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।

    মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা স্বত্তেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এর কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাঁরা এদেশে এসেছেন এবং তাঁদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

    এছাড়া আমি জুলাই এবং আগস্ট মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল তৈরি করার প্রয়াসে শীর্ষ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সাথেও কথা বলেছি। আমরা খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং স্বৈরাচারের সময় দুর্নীতিবা ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও আমলারা যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ শুরু করেছি।

    আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাঁদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূরদূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলিতে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহিদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। যাদের শাহাদাতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আমরা তাঁদের কখনোই ভুলবো না।

    সম্প্রতি আমরা বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন সনদে স্বাক্ষর করেছি। ফলে স্বৈরাচার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘গুম সংস্কৃতি’ এর সমাপ্তি ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি। আলাদাভাবে, আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে বলপূর্বক গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করছি। যেসব পরিবার তাদের নিখোঁজ পিতা, স্বামী, পুত্র এবং ভাইদের পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে যন্ত্রণার সাথে অপেক্ষা করছেন, আমরা আপনাদের বেদনায় সমব্যাথী।

    আয়নাঘরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা বলপূর্বক গুমের শিকার ভাইবোনদের কষ্ট ও যন্ত্রণা সম্পর্কে জানতে পারবো।

    গত মাসের শেষের দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া আমার ভাষণে আমাদের সরকার এ পর্যন্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গ্রহণ করেছে আমরা তার একটা প্রতিবেদন তুলে ধরেছি। আমরা রাজনৈতিক দল, সম্পাদক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের নেতা এবং কূটনীতিকদের সাথে ক্রমাগতভাবে বৈঠক করে যাচ্ছি। তারা আমাদের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। আমরা আমাদের বিদেশী বন্ধুদের কাছ থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়ে অভিভূত হয়েছি। আমাদের সাহসী এবং দেশপ্রেমিক প্রবাসীরাও জাতি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন। আমি তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    আজ এই স্মৃতিময় বিষাদ দিনে আমি শহিদদের প্রতিটি পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি জানাই অসীম কৃতজ্ঞতা। আমি সকল শহিদ পরিবারের সদস্যদের রাজধানীতে আমন্ত্রণ জানাবো, কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করব। আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা কখনই শহিদদের স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।

    আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুঃশাসন ও স্বৈরাচার দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত পূরণ করা। এজন্য আমাদের প্রয়োজন একতা ও সমন্বয়।

    আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরী করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে আবারো প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই।

    মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।

    প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

  • গণভবনকে জাদুঘর করা হবে: উপদেষ্টা আসিফ

    গণভবনকে জাদুঘর করা হবে: উপদেষ্টা আসিফ

    গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্প‌তিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের (কেবিনেট) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

    উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শে‌ষে সন্ধ‌্যায় রাজধানীর ফ‌রেন সা‌র্ভিস একা‌ডে‌মি‌তে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ তথ‌্য জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

    তিনি ব‌লেন, গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবন যেমন ছিল তেমন রেখে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    আসিফ মাহমুদ ব‌লেন, সাউথ কোরিয়ায় এমন স্মৃতি মেমোরিয়াল করা হয়েছিল। আরও অন‌্য দেশেও হয়েছে। তাদের থেকে জেনে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে।

  • শান্তকে ফোন করে অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

    শান্তকে ফোন করে অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

    পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ধবলধোলাই করে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফোন করে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে এসব তথ্য।

    ড. ইউনূস শান্তকে বলেন, সরকার ও আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। বাংলাদেশ দল দেশে ফেরার পর সংবর্ধনার কথাও বলেন তিনি।

    পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দুটোতেই দাপুটে ও গৌরবময় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের ২৪ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ এবং সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো টিম-টাইগার্স।

  • বুধবার রাত ১২টা থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    বুধবার রাত ১২টা থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহের জন্য বুধবার রাত ১২টা থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজকের সভা ছিল আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভা। এ সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা হয়েছে। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা যায়, সেসব নিয়ে কথা হয়েছে। এ নিয়ে আমরা কিছু কিছু পদক্ষেপও নেব।

    জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজই সব বৈধ এবং অবৈধ অস্ত্র জমাদানের শেষ দিন। আগামীকাল (বুধবার) রাত ১২টা থেকে আমাদের যৌথ বাহিনীর অপারেশন শুরু হবে হাতিয়ার কালেকশনের জন্য, আমরা যেন অবৈধ অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করতে পারি। আমি এ নিয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি।

    উপদেষ্টা বলেন, মাদক আমাদের বড় সমস্যা। মাদক আমরা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আমাদের জন্য খুবই জরুরি। এ নিয়ে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। মাদকের গডফাদারদের আমরা আইনের আওতায় আনার জন্যও কাজ করছি।

    তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। পূজা যেন ঠিকভাবে হতে পারে, সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা আশা করছি, পূজাটা খুব ভালোভাবে শেষ হবে। কোথাও কোনো সমস্যা হবে না। মিয়ানমার সীমান্ত নিয়ে যে সমস্যা, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছি, তা অনগ্রাউন্ড দেখতে পাবেন।

  • নামে-বেনামে শত কোটি টাকার মালিক হাছান, সম্পদ লুকাতে স্ত্রীকে বানিয়েছেন ব্যবসায়ী

    নামে-বেনামে শত কোটি টাকার মালিক হাছান, সম্পদ লুকাতে স্ত্রীকে বানিয়েছেন ব্যবসায়ী

    আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ১৫ বছরে হাসিনা সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রী হিসাবে দলে যেমন তার প্রভাব ছিল, তেমনই দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে দখল-বেদখল, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়েছেন শত শত কোটি টাকা।

    নির্বাচনি হলফনামায় আয়-ব্যয় বা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দেখে যে কেউ ভাববে তার চেয়ে সৎ, গরিব কোনো মন্ত্রী-এমপি বাংলাদেশে নেই। কিন্তু বাস্তবে নামে-বেনামে তার রয়েছে সম্পদের পাহাড়।

    বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নিজে দখল করেছেন শত শত একর বনভূমি। যেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন পর্যটনকেন্দ্রসহ নানা বিলাসী প্রকল্প। দখল করেছেন জাহাজ নির্মাণকারী ডকইয়ার্ড। দখলের ক্ষেত্রে তিনি ব্যবহার করেছেন নিজের ভাইদের। স্ত্রীর নামে নিয়েছেন শিপ হ্যান্ডলিং লাইসেন্স। হয়েছেন ফিশিং ট্রলারের মালিক। এরই মধ্যে এক ডকইয়ার্ড মালিক তার কাছে ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। করেছেন সংবাদ সম্মেলন। রাঙ্গুনিয়ায় অভিযান চালিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় উদ্ধার করেছে তার দখলে থাকা ২০০ একরেরও বেশি বনভূমি।

    তার নির্বাচনি এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত তো দূরের কথা, দলীয় লোকজন যারা তার মতের বাইরে ছিলেন, তারাও হয়েছেন নির্যাতিত। ১৫ বছরে সর্বক্ষেত্রে ত্রাসের রাজত্ব থাকলেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের কেউ মুখ খোলার সাহস করেননি। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এখন সরকারি সংস্থাগুলো যেমন সরব হয়েছে; তেমনই নানা ব্যক্তি-কোম্পানি যারা তার কারণে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তারাও প্রকাশ্যে এসেছে।

    সরকার পতনের পরদিন হাছান মাহমুদ বিদেশে পালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল। তবে তিনি এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেলজিয়াম চলে গেছেন বলেও খবর চাউর হয়েছে। বেলজিয়ামে পালানোর পর রোববার সরকারের পক্ষ থেকে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

    হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত চার মেয়াদে রাঙ্গুনিয়া থেকে এমপি নির্বাচিত হন। প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তৃতীয় মেয়াদে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং চতুর্থ মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনে তাকে দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলে এবং মন্ত্রণালয়ে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।

    ২১২ একর বনবভূমি দখল : নির্বাচনি এলাকা রাঙ্গুনিয়ার খুরুশিয়া রেঞ্জে হাছান মাহমুদের ছোট ভাই এরশাদ মাহমুদ বন বিভাগের প্রায় ২১২ একর জমি দখল করেন। ২০০৯ সাল থেকে দখল করা এসব বনভূমিতে তিনি গড়ে তোলেন মহিষের খামার, পুকুর, বাগান, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সরকার পতনের পর কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে বন বিভাগ এসব জমি উদ্ধার করে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বন বিভাগের বেদখল হওয়া জমি হাছান মাহমুদের পরিবারের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। যদিও এরশাদ মাহমুদ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছেন, সরকার থেকে লিজ নিয়েই বনের জমিতে তারা খামার গড়ে তুলেছিলেন।

    ডকইয়ার্ড দখল, ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ : ২০২১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে এফএমসি নামে একটি ডকইয়ার্ড দখলের অভিযোগ উঠে হাছান মাহমুদের বিরুদ্ধে। তার পক্ষে ভাই খালেদ মাহমুদ সরাসরি গিয়ে সিকিউরিটিকে মারধর করে এই ডকইয়ার্ড দখল করে নেন। সিকিউরিটিকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। হাছান মাহমুদের স্ত্রী নুরান ফাতেমার নামে সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এফএমসির চুক্তি, ফিশিং ট্রলার নির্মাণের চুক্তিসহ বিভিন্ন দলিল সৃষ্টি করা হয়। ব্যাংক ঋণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় এফএমসির নামে।

    হাছান মাহমুদ মন্ত্রী থাকার কারণে তার অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিতে হয়েছে বলে দাবি করেন এফএমসি ডকইয়ার্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী। সরকার পতনের পর রোববার সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে তার ডকইয়ার্ড দখলের বিষয়টি সামনে আনেন। একই সঙ্গে ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রীর নামে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান ইয়াছিন চৌধুরী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা প্রশাসনিক হয়রানিসহ নানাভাবে এফএমসি ডকইয়ার্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও তার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করেছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

    জানা যায়, সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের বহির্নোঙরে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগের জন্য ২৩টি লাইসেন্স প্রদান করে। কোনো ধরনের নিয়মনীতি ও আদালতের আদেশ-নিষেধের তোয়াক্কা না করে মন্ত্রী, এমপি, আওয়ামী লীগ নেতাদের এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়া হয় হাছান মাহমুদের স্ত্রী নুরান ফাতেমার নামে।

    চাপ দিয়ে নেওয়া হয়েছিল ৪১ কোটি টাকার প্রকল্প : হাছান মাহমুদের সুপারিশ ও চাপে নিজ নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ‘সাইট অ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে এ প্রকল্পের জন্য হাছান মাহমুদ ডিও লেটার দেন। তবে এটি বাস্তবায়নে আপত্তি করেছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর। রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালীতে প্রকল্প এলাকার ৭০ শতাংশ পাহাড় এবং ৩০ শতাংশ জলাধার থাকায় বিভিন্ন সংস্থার আপত্তিতে প্রকল্পটি বাতিল করা হলেও ২০২০ সালের মার্চে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। মন্ত্রী অনেকটা চাপ দিয়েই এ প্রকল্প অনুমোদন করান বলে অভিযোগ আছে।

    ১৬ দশমিক ১৯ একর জমি ধরা হলেও ১৪ দশমিক ১৯ একরে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪১ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয় ভূমি অধিগ্রহণে। তবে অযৌক্তিক ও টাকা হাতানোর এ প্রকল্পের পরিবেশ ছাড়পত্র অবশেষে বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রকল্প কর্মকর্তা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নেজামুল হক মজুমদার বলেন, প্রকল্পটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকায় বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। এ প্রকল্পে তাদের মতামত ছিল না। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এ প্রকল্প নেওয়া হয়। এখন প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।

    হলফনামায় গরিব, বাস্তবে বিপুল বিত্তের মালিক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে হলফনামা জমা দেন হাছান মাহমুদ। এতে তার ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রী হিসাবে প্রাপ্ত ভাতা বাদে কৃষি খাতসহ বিভিন্ন খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ২০ লক্ষাধিক টাকার অস্থায়ী সম্পদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১২ লাখ টাকা জমা দেখানো হয়। ভাইদের কাছ থেকেও ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন। বিয়ের সময় পাওয়া নিজ নামে ৫ ভরি ও স্ত্রীর নামে ৫০ তোলা স্বর্ণ রয়েছে। তবে তার চেয়েও তার স্ত্রী একজন ব্যবসায়ী এবং আর্থিকভাবে ধনী বলে উল্লেখ করা হয়।

    হলফনামায় নুরান ফাতেমার স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পদ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ড. হাছান মাহমুদ নগরীর সিরাজউদদৌলা রোডে আকাশচুম্বী একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। চৌধুরী টাওয়ার নামে পরিচিত এটি। এই একটি ভবনেই তার বিনিয়োগ শতকোটি টাকা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এ ভবনটি তার শ্বশুরপক্ষের বলে দাবি করা হয়। চট্টগ্রামের অনন্যা আবাসিক এলাকা, দেওয়ান বাজার মৌসুমি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে কোটি কোটি টাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি। বিদেশেও তার সম্পদ রয়েছে বলে চাউর আছে। সরকার পতনের দিন সিরাজউদদৌলা রোড ও মৌসুমি মোড়ের ভবন দুটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

    সূত্র জানায়, বিএনপিসহ বিরোধী দলের কার্যক্রম নিয়ে সব সময় ব্যাঙ্গাত্মক ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করতেন ড. হাছান মাহমুদ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যাচাই-বাছাই না করে তিনি অগণিত অনলাইন পোর্টাল ও আন্ডারগ্রাউন্ড টিভি, প্রিন্ট মিডিয়ার অনুমোদন দেন। ভুঁইফোঁড়, অনলাইন, ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কখনোই নেননি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন লিখিত ও মৌখিকভাবে তাকে এ বিষয়ে দাবি জানালেও তিনি ছিলেন নীরব। উলটো গাধা-ঘোড়া এক করতে তিনি অপসাংবাদিকতাকে নানাভাবে উসকে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

  • আ.লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    আ.লীগকে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    গত ১৬ বছরে জামায়াতের উপর আওয়ামী লীগ সরকার যে নির্যাতন করেছে তা দল হিসেবে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরণির একটি রেস্টুরেন্টে মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দলটির আমিরের সঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

    কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নেয়া হবে না আশ্বস্ত করে জামায়াতের আমির বলেছেন, ‘যদি ভিকটিম হিসেবে কেউ যদি বিচার প্রত্যাশী হয় তবে তাকে স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিতে সহায়তা করবেন তারা। ’

    তিনি বলেন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ করুণা নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়তে বিশাল মনের মানুষ দরকার।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের মুখে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের কলমকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনভাবে লিখতে পারেনি। কিন্তু এখন সবাই জাগ্রত হয়েছে। আগামী দিনে আপনাদের সহযোগিতায় আমরা কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

    মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী উত্তরে ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

  • ইতিহাস গড়া ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

    ইতিহাস গড়া ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

    পাকিস্তানের মাটিতে বাবর আজমদের ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। এ জয় গৌরবের, বহুল আকাঙিক্ষত ও প্রেরণার। বিজয়ী দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    রাওয়ালপিন্ডিতে ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপর টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরার পর ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার।

    টেস্ট ফরম্যাটে কখনো হারাতে না পারা পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ জিতেছে লাল-সবুজের দল। টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের ২৪ বছর পর এই সিরিজেই এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়।

    প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের বিশাল জয়ের পর এবার দ্বিতীয় টেস্টেও এলো অসামান্য এক জয়।

    জয়ের পরপরই টাইগার কাপ্তান শান্তকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন,জয়ের পর তিনি মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তকে ফোন করে এ অভিনন্দন জানান। তিনি শান্ত ও গোটা দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    অভিনন্দন বার্তায় ড. ইউনূস বলেন, সরকার ও আমার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন। তোমাদের কারণে আজ গোটা জাতি গর্বিত।

    জয়ের পরপর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফোনে করে তাকে এবং দলকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  • বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    বরিশালের ৫৩ চেয়ারম্যান পলাতক, সেবা ব্যাহত

    অনলাইন ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বরিশালের ৫৩ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সেই সাথে বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও মামলার শিকার হয়েছেন ১৩ জন চেয়ারম্যান।

    আবার কোথাও কোথাও চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আত্মগোপনে থাকা অনেক ইউপি চেয়ারম্যানরা গোপনে অফিসে গিয়ে স্বাক্ষর করে আসছেন, কেউ বা সচিবের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাইল নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করছেন।

    আবার কেউ কেউ গোপনে অফিসে এসে ছবি তুলে গোপনেই চলে যাচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবী হামলা মামলার ভয়ে তারা প্রকাশ্যে আসছেন না। সেক্ষেত্রে জেলার ৮৮ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে মাত্র ২৯ জন স্বশরীরে পরিষদে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ১০ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও নারী ইউপি সদস্য মিলে সহস্রাধিক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে জেলার বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

    কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন সুবিধামত স্থানে। নিজ কার্যালয়ে আসছেন না অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি। এতে জন্মসনদ, মৃত্যুনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ কোনা প্রকার সেবা পাচ্ছে না নাগরিকরা।

    আলী আশরাফ নামে কলসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জন্মনিবন্ধনের কাজে পরিষদে আসলেও চেয়ারম্যান-মেম্বার কাউকে পাইনি।

    জরুরি প্রয়োজন থাকলেও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য ভোগান্তিতে পড়েছি। বিষয়গুলো বিবেচনা করে সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দ্রুত একটি নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

    আবুল কালাম নামে আরেক সেবাপ্রার্থী বলেন, জানিনা কতদিন আমাদের এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হবে। সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে দ্রুত কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি করছি। এদিকে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে সচিব ও উদ্যোক্তাদের দেখা গেছে।

    জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বাপ্পি অফিসে আসেন না, রয়েছেন আত্মগোপনে।

    একই অবস্থা আন্দারমানিক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খোকন, বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহে আলম মীর, চাঁনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাহাউদ্দিন ঢালী, গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান বেল্লাল মোল্লা, চরএককরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মকিম তালুকদার, চরগোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল বারী (মনির), জাংগালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফরাজী, মেহেন্দিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেঃ হারুন-অর-রশীদ ও জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনির হাওলাদারের।

    এছাড়া উপজেলার লতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু রাশেদ মনি’র বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মামলা নিয়ে পালাতক অবস্থায় রয়েছেন উলানিয়া (দক্ষিণ) ইউপি চেয়ারম্যান মিলন চৌধুরী ও উলানিয়া (উত্তর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম জামাল মোল্লা।

    এছাড়া এই উপজেলার ভাসানচর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম চুন্ন অসুস্থ থাকায় তিনি পরিষদে আসতে পারছেন না। উপজেলার দড়িচরখাজুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা রাড়ি গত এক সপ্তাহ আগে স্টক করে ইন্তেকাল করেছেন।

    উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইফসুফ হাওলাদারের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    সাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার সম্প্রতি মাছের ঘের নিয়ে দ্বন্দের জেরে ঘটে যাওয়া ডাবল হত্যা মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

    এ ছাড়া আত্মগোপনে রয়েছেন বরাকোটা ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট মো: সহিদুল ইসলাম মৃধা, গুঠিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: আওরাঙ্গজেব, হারতা ইউপি চেয়ারম্যান অমল মল্লিক, জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান বেবী রাণী দাস, ওটরা ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ. খালেক ও শোলক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল হালিম। তবে উপজেলার শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল মাঝি অসুস্থ থাকায় তিনিও পরিষদে যেতে পারছেন না।

    বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরে আলমের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ছাড়া উপজেলার মাধবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান বরিশাল জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় পালাতক অবস্থায় রয়েছেন।

    স্বশরীরে পরিষদে আসছেন না জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান, চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান।

    তবে নিয়মিত অফিস করছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আক্তার-উজ-জামান মিলন। তার দাবী, সব সহ্য করে তিনি পরিষদ পরিচালনা করছেন।

    বানারীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ জলিল ঘরামী হামলা ভাংচুরের শিকার হয়েছেন। মামলা খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চাখার ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুজিবুল ইসলাম টুকু।

    এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন বিশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম শান্ত, ইলুহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম। তবে উদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাহাদ আহম্মেদ ননি আমেরিকার সিটিজেন হওয়ায় প্রায় সব সময়ই তিনি দেশের বাহিরে থাকেন।

    এই উপজেলায় পরিষদ চালাচ্ছেন বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান শ্যামল চক্রবর্ত্তী, সলিয়াবাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: সিদ্দিকুর রহমান ও সৈয়দকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আনোয়ার হোসেন মৃধা।

    গৌরনদী উপজেলার বার্থী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আঃ রব হাওলাদার ও নলচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা আত্মগোপনে রয়েছেন। নানা কৌশলে অফিস করছেন মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু অফিস, চাঁদশী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলম সেরনিয়াবাত ও শরিকল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লা। হিজলা উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা পরিষদে আসলেও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসছেন না। তারা হচ্ছেন ধুলখোলা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল ঢালী, হরিনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৌফিকর রহমান, বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত হোসেন হাওলাদার, গুয়াবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান তালুকদার, হিজলা গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মিলন ও মেমানিয়া মোঃ নাসির উদ্দিন।

    মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: জসিম উদ্দিন হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানরা নানা কৌশল করে পরিষদে আসছেন। এরা হচ্ছেন বাটামারা ইউপি চেয়ারম্যান মো: সালাহ উদ্দিন, চরকালেখা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, কাজিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মন্টু বিশ্বাস, মুলাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবু মুসা।

    আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস ও রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদার আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে অফিস করছেন বাগধা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল হোসেন ও রত্নপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার। জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আশ্রাফুজ্জামান খান থোকন অফিসে আসেন না। একই ভাবে অফিসে আসছেন না চরামদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাহাব উদ্দিন খোকন, কলসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না। চরাদী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ৫ আগষ্টের অনেক আগেই দেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে গেছেন। এছাড়া অন্যান্য ইউপির চেয়ারম্যানরা বিশেষ কাজ ছাড়া অফিসে আসছেন না। যেমন দাড়িয়াল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সহিদুল ইসলাম হাওলাদার, দুর্গাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো: হানিফ তালুকদার, ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম শফিকুর রহমান, গারুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম কাইয়ুম খান, কবাই ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল হক তালুকদার, নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম ফিরোজ আলম খান, পাদ্রিশিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল হাসান, রঙ্গশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন। এছাড়া নিয়মিত অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়ামতি ইউপি চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবির ও দুধল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোর্শেদ খান।

    বরিশাল সদর উপজেলার কাশীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন মোল্লার বাড়িতে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। একই অবস্থা রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু এলাকায়।

    সেখানে ইতোমধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যানও গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপণে রয়েছেন চাঁদপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদ হোসেন, চরবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাহতাব হোসেন সুরুজ, শায়েস্তাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুজ্জামান মুন্না ও টুংগীবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাদিয়া রহমান।

    অফিস করছেন চন্দ্রমোহন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক, চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো: জিয়াউল করিম ও জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়াতুল্লাহ খান। যে সব জায়গায় চেয়ারম্যানরা অনুপস্থিত রয়েছেন সেখানে কাজ চালিয়ে নিতে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালন করতে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এমন অবস্থায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বরিশালের বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাবুগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমি এলাকায় আছি, পরিষদেও যাই। যদি সরকার চায় পদে থাকবো, না চাইলে সরে যাবো”।

    বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, গত ৫ তারিখ থেকে অনেক ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের পরিষদ আসার জন্য বলা হয়েছে। অনেকেই সমন্বয় কমিটির মিটিং আসেছেন।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ বলেন, কর্মস্থলে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছিল। পরে আমরা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছি। যে সব ইউপিতে চেয়ারম্যানরা কোন ভাবেই আসতে পারছে না সেখানে নিবন্ধক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

  • বেক্সিমকো পাচার করেছে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার: সিআইডি

    বেক্সিমকো পাচার করেছে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার: সিআইডি

    বেক্সিমকো গ্রুপ ১৮টি কোম্পানির মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি করে সেই রপ্তানি মূল্য ফেরত না এনে অন্তত ১৩৫ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    ডিআইজি-অর্গানাইজড ক্রাইম (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) কুসুম দেওয়ান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিট বেক্সিমকোর এই অসঙ্গতিগুলোকে ‘বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

    সিআইডির ডেটাবেজ অনুসারে, অ্যাপোলো অ্যাপারেলসের মাধ্যমে প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার, বেক্সটেক্স গার্মেন্টসের মাধ্যমে ২৪ মিলিয়ন ডলার, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপারেলসের মাধ্যমে ২৫ দশমিক দুই মিলিয়ন ডলার এবং এসেস ফ্যাশনের মাধ্যমে ২৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।

    এর সবই বেক্সিমকো গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান, যার ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা।

    সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রুপটি পণ্য রপ্তানির জন্য ক্রেডিট লেটার খুলে ৮০ শতাংশ মূল্যের বিপরীতে স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়েছে। এরপর আর রপ্তানির অর্থ ফেরত আনেনি এবং ঋণগুলোও পরিশোধ করেনি। তিনি বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ এভাবে অর্থপাচার করেছে।

    সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আরেক কর্মকর্তা জানান, তারা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন যে সালমান এফ রহমান পচারের অর্থ দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করেছেন।

    সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান সৌদি আরবে একটি বড় ওষুধ কোম্পানি খুলেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তা। সৌদি আরবের ওই কোম্পানির বেশিরভাগ অর্থ বাংলাদেশ থেকে গেছে বলেও জানান তিনি।

    কুসুম দেওয়ান বলেন, প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা হবে।

    প্রাথমিক তদন্তে সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিট জানতে পেরেছে, বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে সাতটি ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ঋণের মধ্যে ৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে, যার চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান নিজেই।

    তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক সিআইডি কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়িক গ্রুপটি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে অন্তত ২১ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

    সিআইডির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ২৯৫ কোটি টাকা; সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী থেকে ৫ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংক থেকে ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

    আর্থিক অপরাধ ইউনিট তাদের ডেটাবেজ সংগ্রহের জন্য সাতটি ব্যাংকে টিম পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ বসির উদ্দিন।

    সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিদেশে ঋণের অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে মার্কেট থেকে দৃশ্যমানভাবে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

    একটি দোকান কর্মচারীকে হত্যার মামলায় গত ১৩ আগস্ট থেকে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন সালমান এফ রহমান।

  • সালাহউদ্দিন ও খোকনকে শোকজ করল বিএনপি

    সালাহউদ্দিন ও খোকনকে শোকজ করল বিএনপি

    দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে শোকজ করেছে বিএনপি। 

    সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।   

    সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের গ্রুপের গাড়ি ব্যবহারের জন্য সালাউদ্দিন আহমেদকে এবং বিতর্কিত ডায়মন্ড ব্যবসায়ী দিলিপ কুমার আগারওয়ালার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগে খোকনকে শোকজ করা হয়েছে।

    এদিকে অনিচ্ছাকৃত ভুলে এস আলমের গাড়ি ব্যবহার করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    সোমবার দুপুরে গুলশানের নিজ বাসভবনে এই দু:খ প্রকাশ করেন তিনি।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর আমার নিজ নির্বাচনী জেলায় সংবর্ধনা অংশ নিয়েছিলাম। আমি বিমানবন্দর থেকে নেমে কোনো গাড়িতে করে যাবো, সেটা তো আমি ঠিক করতে পারি নাই। যারা সংবর্ধনা আয়োজন করেছিল চকরিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঠিক করে দিয়েছে।

    তিনি বলেন,  বিমানবন্দরে নামার পর আমাদের নেতাকর্মীরা বলছে-এই গাড়িতে উঠেন। এখন সেই গাড়িটি কার তা খোঁজ নেওয়ার চিন্তা-ভাবনার মধ্যে ছিলাম না। ১০ বছর পর নিজ জেলায় যাচ্ছি, তাই আবেগপ্লুত ছিলাম। মনের মধ্যে বাসনা ছিল কখন মা-বাবার কবর জিয়ারত করব।

    সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, পরে জানতে পারি এই গাড়িটি আমার এক ছোটভাইয়ের। যিনি এস আলম গ্রুপে চাকরি করেন। তিনি কোম্পানির বিভিন্ন জমির বিষয়গুলো দেখে থাকেন। এই জন্য তাকে গাড়ি চলাচলের জন্য দিয়েছে।