Category: রাজণীতি

  • শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ সৃষ্টিতে জোর দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ সৃষ্টিতে জোর দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মূল্যবোধ সৃষ্টিতে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ভাষা, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া, যে শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা নিবে না তারও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। শনিবার (৬ জুলাই) সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থী যে পর্যায়ে গিয়েই শিক্ষা বন্ধ করতে বাধ্য হন কিংবা সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আর উচ্চ শিক্ষা নেবেন না, তারও যেন কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে, শিক্ষা পদ্ধতিতে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে যেমনি দক্ষতা অর্জন করবে তেমনি মানবিকতা দেশপ্রেম মূলবোধও শিখবে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ সৃষ্টিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

    এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান খান, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান প্রমূখ।

    এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নিজের তহবিল থেকে গরিব অসহায়দের মাঝে চেক বিতরণ করেন। এ ছাড়া মন্ত্রী নিজ বাসভবনে তার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

  • কর্নাটকে কঠিন চ্যালেঞ্জে কংগ্রেস-জেডিএস সরকার

    কর্নাটকে কঠিন চ্যালেঞ্জে কংগ্রেস-জেডিএস সরকার

    কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কর্নাটকের কংগ্রেস-জনতা দল জোট সরকার। এমন সময়ে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে যখন রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই জোটের অন্তত ১১ বিধায়ক স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আরও দুজন তাদের পদত্যাগপত্র দেয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। পদত্যাগী বিধায়কদের ৮ জন কংগ্রেস ও তিনজন জেডিএস এর।

    পদত্যাগের পর ১৩ জন বিধায়ক একসঙ্গে রাজ্যপল বাজুভাই আর বালার সঙ্গে দেখা করবেন। রাজ্যপালকে তারা জানাবেন, জোট সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তাই নতুন করে কুমারস্বামী সরকারের বিরুদ্ধে আস্থা ভোটের জন্য বিধান সভার অধিবেশন ডাকা হোক।

    দল বেঁধে কংগ্রেস বিধায়কদের ইস্তফা দেওয়ার ঘটনায় রীতিমতো অবাক প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেঙ্গালুরু ছুটে গিয়েছেন কর্নাটকের পানিসম্পদ মন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুন্ডুরাও রয়েছেন এখন বিদেশে। তাই কার্যকরি সভাপতি ঈশ্বর খান্দ্রে ছুটে গিয়েছেন বেঙ্গালুরুতে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রামলিঙ্গ রেড্ডির বাড়িতে।

    এ দিন যে কংগ্রেস বিধায়করা ইস্তফা দিয়েছেন, রামলিঙ্গ তাদের অন্যতম।

    কর্নাটকে জোট সরকার গঠনের আগেই এক ধরনের জটিলতায় তৈরি হয়েছিল। চলতি বছর নির্বাচনে ২২৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১০৫ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তবে সরকার গঠনে তা পর্যাপ্ত ছিল না।

    পরবর্তীতে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল কংগ্রেস (৭৭ আসন) ও জনতা দল-সেক্যুলার (৩৭ আসন) ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করে। সরকারের মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন জেডি-এস এর সাবেক সভাপতি এইচডি কুমারস্বামী।

  • চীনা বীরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    চীনা বীরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    তিয়েন আনমেন স্কয়ারে চীনা বিপ্লবের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী এই পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। খবর বাসসের।

    পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর চীনের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের প্রতি সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী এখানে পৌঁছালে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

    পরে প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব পিপলে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) চেয়ারম্যান লি ঝাং শুর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।

    প্রসঙ্গত, চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর চীনে শেখ হাসিনার এটিই প্রথম সফর।

    চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং ওই দিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) পৌঁছাবেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন সোমবার

    প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন সোমবার

    পাঁচ দিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    এদিকে চীন সফর নিয়ে আগামী সোমবার (৮ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সোমবার বিকেল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।

    গত ১ জুলাই চীন সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং সহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি।

    রোহিঙ্গারা যাতে শিগগিরই তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারেন সেজন্য এ সংকটের দ্রুত সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে চীন।

    চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) জানিয়েছে, আপসে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য তারা মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করবে।

    প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ঢাকা এবং বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত ৯টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য এলওসি (লেটার অব এক্সচেঞ্জ) এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, সংস্কৃতি এবং পর্যটন সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক । এছাড়া চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সাথে দুটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

    চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা এবং চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া শেখ হাসিনা তিয়েনআনমেন স্কয়ারে হিরোস মেমোরিয়ালে চীনা বিপ্লবের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • খালেদার মুক্তি হলে গণতন্ত্রের মুক্তি হবে: ফখরুল

    খালেদার মুক্তি হলে গণতন্ত্রের মুক্তি হবে: ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এমুহূর্তে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসা মানে খালেদা জিয়ার মুক্তি।

    তার মুক্তি হলে সেটি হবে গণতন্ত্রের মুক্তি, গণমাধ্যমের মুক্তি।

    শুক্রবার সকাল ৯ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে প্রতীকী অনশনে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রতীকী অনশনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।

    মির্জা ফখরুল বলেন,সেই মুক্তির জন্য শুধু আইনি লড়াইয়ের উপর নির্ভর করলে আমাদের চলবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএসপিপি’র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বিএসপিপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিএনপিপন্থি অংশের সভাপতি কাদের গণী চৌধুরী, মহাসচিব শহিদুল ইসলামসহ সাংবাদিক, ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা।

  • উচ্চশিক্ষা না নিলেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

    উচ্চশিক্ষা না নিলেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক :

    শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থী যে পর্যায়ে গিয়েই শিক্ষা বন্ধ করতে বাধ্য হন কিংবা সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আর উচ্চশিক্ষা নেবেন না, তারও যেন কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে শিক্ষা পদ্ধতিতে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    শনিবার দুপুরে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা ভাষা, গণিত, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ে যেমনি দক্ষতা অর্জন করবে তেমনি মনবিকতা দেশপ্রেম মূলবোধও শিখবে।

    এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতাউর রহমান পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    পরে মন্ত্রী চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নিজ তহবিল থেকে গরিব-অসহায়দের মধ্যে চেক বিতরণ করেন।

  • নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখছে প্রগতি: শিল্পমন্ত্রী

    নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখছে প্রগতি: শিল্পমন্ত্রী

    শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ বিরাট ভূমিকা রাখছে।’ শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অহংকার ছিল প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়ে। যদি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তাকে হত্যা করা না হতো তাহলে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ আজ জাপানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতো। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের আবার গাড়ির কাজ পুরোদমে চালু হচ্ছে।

    প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম ও বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রগতির কোম্পানি বোর্ডের পরিচালক জসিম উদ্দিন রাজিব, উপ প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) কায়কোবাদ আল মামুন, সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

    এর আগে, শিল্পমন্ত্রী আজ সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেড ও কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনাস্থ কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম) পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

  • প্রধান সড়কে রিকশা না চালানোর আহ্বান ডিএনসিসি মেয়রের

    প্রধান সড়কে রিকশা না চালানোর আহ্বান ডিএনসিসি মেয়রের

    সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

    আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, রিকশা মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভা শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

    ডিএনসিসির মেয়র বলেন, আমাদের এই শহর এতদিন ম্যানুয়াল ছিল। এখন দেশ উন্নত হচ্ছে। উন্নত হচ্ছে শহর। বাড়ছে জনসংখ্যার পরিমাণ। তাই আমাদের এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মেকানিক্যাল সিস্টেমে যেতে হবে। একটি সড়কে ম্যানুয়াল এবং মেকানিক্যাল সিস্টেম একইসঙ্গে চলতে পারে না। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেসব সড়কে যান্ত্রিক পরিবহন চলে সেসব সড়কে রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। রিকশার কারণে যে শুধু যানজট হচ্ছে তা নয়, দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকে।

    তিনি বলেন, আমরা শহর থেকে রিকশা তুলে দিচ্ছি তা কিন্তু নয়। আমরা বলছি শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যেন রিকশা না চলে। এতে কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে যে শহর থেকেই রিকশা তুলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেটি করা হচ্ছে না। এ ছাড়া আমরা অবৈধ রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছি। আর বৈধ রিকশাগুলো ডিএনসিসির প্রধান সড়কের সংযুক্ত ৭৪ নেটওয়ার্কিং রোডে চলবে।

    ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএনসিসি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, রবিবার থেকে ডিএনসিসির সব এলাকায় যেখানেই ফুটপাত দখল থাকবে সেখানে হাজির হবেন আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। কাল থেকে কোথাও যদি ফুটপাত দখল দেখা যায় সে যেই হউক শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

  • টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই : পরিকল্পনামন্ত্রী

    টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই : পরিকল্পনামন্ত্রী

    পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান শিক্ষক, গবেষক ও অর্থনীতিবিদদের প্রতি আরো গবেষণার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে দেশ, জাতি ও সমাজের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা সম্ভব।

    আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ ফর সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

    ঢাবির অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো এবং অর্থনীতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

    পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সকলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ সময় ঢাবি উপাচার্য বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    সম্মেলনে আগত দেশ-বিদেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশ ও জাতির টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

    দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষকগণ ৩০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

    অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিক-উজ-জামান, অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং ব্যুরোর পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজমা বেগম এতে বক্তব্য রাখেন।

  • রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানে একমত চীন

    রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানে একমত চীন

    রোহিঙ্গা সমস্যাকে আর ফেলে না রেখে এর দ্রুত সমাধান করার বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘একমত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। শুক্রবার বিকালে বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    তিনি বলে, দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, এটার দ্রুত সমাধান করতে হবে। এটাকে আর ফেলে রাখা যাবে না। দুই বছর হয়ে গেছে (প্রত্যাবাসন) চুক্তি হয়েছে। ওই ব্যাপারে কোনও দ্বিমত নেই এবং সমাধান কীভাবে হবে সে ব্যাপারেও দ্বিমত নেই যে এদেরকে (রোহিঙ্গা) তাদের দেশে (মিয়ানমারে) ফিরে যেতে হবে।

    নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তার বাস্তবায়ন করেনি।

    এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বয়ে চলা বাংলাদেশের সরকার মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন আগেই জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ প্রাধান্য পাবে।

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষামতাধারী চীন বরাবরই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।

    তবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে চীনের উদ্যোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরতে পারার মতো পরিবেশ তৈরিতে চীন মিয়ানমারকে রাজি করানোর পদক্ষেপ নেবে বলে লি খ্য ছিয়াং বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেন।

    এরপর শুক্রবার দুপুরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কিত মিনিস্টার সান তাও তাদের দলের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিকালে বেইজিংয়ের দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাইজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা। দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। পরে শি চিনপিংয়ের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেন শেখ হাসিনা।

    আলোচনার বিষয়ে জানাতে গিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ এখন ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এটা যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে পরিবেশ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, এটা প্রধানমন্ত্রী চীনা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সেজন্য চায়নিজ সরকার ও প্রেসিডেন্টের গুডউইল আশা করছি আমরা। চীনের প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, চায়না আগেও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে কাজ করে যাচ্ছিল এবং এখনো কাজ করে যাবে। উনাদেরও উদ্দ্যেশ্য- যাতে রোহিঙ্গারা দ্রুত তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারের যে মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বিষয়টি দেখেন, তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করতে পারেন বলে চীন সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, হয়তো আরেকটা সম্ভাবনা দেখা দেবে। শি চিং পিংয়ের কিছু প্রশ্ন ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুন্দরভাবে সমস্যাটার বিভিন্ন অবয়ব তুলে ধরেছেন। তারা একমত হয়েছেন যে, দ্রুত এটার সমাধান করতে হবে।

    শহীদুল হক বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ এখন একত্রে কাজ করবে এবং তারাও মিয়ানমারের ওপরে তাদের গুডউইল ব্যবহার করবে। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি আছে যে, মিয়ানমারে ফিরে গেলে আবার তাদের ওপর অত্যাচার হতে পারে। সে কারণেই তারা ফিরতে আগ্রহী হচ্ছে না। এ বিষয়ে চীন যেন তাদের ‘গুডউইল’ ব্যবহার করে, সেই অনুরোধ তিনি শি চিন পিংকে করেন।

    জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরের মধ্যে আছে। ফলে ওই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার ‘সম্ভাবনা খুবই কম’ বলে তিনি মনে করেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের পক্ষে যতটুকু সম্ভব সেই চেষ্টা তারা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। উনারা বলেছেন, চায়নার কাছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুজনেই বন্ধু। কেউ কম কেউ বেশি না, দুজনেই সমান বন্ধু। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চায়না দুজনের স্বার্থই দেখবে- এটা তিনি নিশ্চিত করেছেন।। শেখ হাসিনার সঙ্গে শি চিন পিংয়ের ‘সত্যিকারের বন্ধুত্ব’ অব্যাহত থাকবে বলেও বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

    শহীদুল হক বলেন, শি চিন পিং যখন নৈশভোজ শেষে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন উনি বলেছেন, পরস্পরের প্রতি আমরা সত্যিকারে বন্ধু হয়েই থাকব। এটা থেকে ওভারঅল দুই নেতৃত্বের মধ্যে যে সম্পর্ক, সেটা প্রকাশ পায়।

    বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ২০১৪ থেকে মোট তিন দফা এ দুই নেতার বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছেন।

    এবারের বৈঠকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, একটা ডিফরেন্ট ইক্যুয়েশন এবং কেমিস্ট্রি প্রকাশ পেয়েছে। সেটা বিশেষ করে ডিনারের সময়, একটা ইনফরমাল সিটিংয়ে অত্যন্ত হৃদ্যতার সাথে আলোচনা হয়েছে। একইসাথে আমরা দেখেছি, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব ম্যাচিউরড ন্যারেটিভ এসেছে। যেমন শি চিন পিং বলেছেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। আমরা দুই প্রতিবেশীই উন্নয়নের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেইজে আছি।

    শি চিন পিং বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশেরও চায়নার থেকে শেখার আছে। চায়নারও বাংরাদেশ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে এই উন্নয়নের। দুই নেতাই বারবার গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল জনগণের উন্নয়ন। শি চিন পিং বারবার বলেছেন, আমাদের কিছু অভিন্ন বোঝাপড়া আছে, এটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লেভেলে। আমরা একে অন্যের প্রাধান্য, চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে পারি। পররাষ্ট্র সচিবের ভাষায়, এটাই একটি সম্পর্কের পরিপক্কতার অভিব্যক্তি। চায়না বলেছে যে, বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে চায়না সবসময় আছে এবং সবসময় থাকবে। দিনের পর দিন এটা আরো গভীর ও শক্তিশালী হবে। দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সম্পর্ক যেন আরো উচ্চতায় যায় সেজন্য উনারা চেষ্টা করবেন।

    চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ ছাড়াও চারটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশে চীনাদের আরও বিনিয়োগ করা উচিৎ বলে বৈঠকে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। চাইনিজ প্রেসিডেন্ট খুবই সেনসেটিভভাবে এই জিনিসটা গ্রহণ করেছেন এবং উনি বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে অবগত। আমরা সব ধরনের চেষ্টা করব, যাতে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসে।

    ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপন এবং তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা চান শেখ হাসিনা। জবাবে শি চিন পিং বিষয়গুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

    চীনের জন্য বাংলাদেশে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হয়েছে জানিয়ে অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলেও চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য চীনের বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছেন।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ২০১৬ সালে শি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় যে ২৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল সেগুলোর বাস্তবায়ন তরান্বিত করা এবং ঋণের শর্তগুলো ‘একটু সহজ’ করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতাই জাতিসংঘে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। বিসিআইএম করিডোরের ওপর খুব গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেছেন, ইন্ডিয়ার সাথে যৌথভাবে কাজ করে বিসিআইএম করিডোরটা জীবন্ত করতে হবে। তাতে বাংলাদেশ, চায়না, ইন্ডিয়া ও মিয়ানমারের জন্য নতুন একটা বাজার উন্মোচিত হবে।

    বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের পর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরাও বৈঠক করেন। সেখানেও রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।