Category: রাজণীতি

  • মুজিব বর্ষে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট করবে হকি ফেডারেশন

    মুজিব বর্ষে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট করবে হকি ফেডারেশন

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে একটি আমন্ত্রণমূলক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

    শনিবার সকালে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

    প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সভায় ফেডারেশনের ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনাসহ, জাতীয় দল ও ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইব্রাহিম সাবের, মোহাম্মদ মহসীনসহ প্রয়াত সাবেক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের স্মরণে সভার শুরুতে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

    সভায় আগস্টের শেষ সপ্তাহে ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইনডোর এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফেডারেশনের সদস্য জামিল আবদুল নাসেরকে। অন্য সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-

    আম্পায়ার্স কোর্সের ফলাফল অনুমোদন। যেখানে একজন নারী আম্পায়ারও আছেন। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ইনডোর কোচেস কোর্স আয়োজন, কমিশনের ভিত্তিতে সাবকমিটি গঠন, বিকেএসপির ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন জেলায় প্রতিভা অন্বেষণ ও অ্যাস্ট্রো টার্ফ স্থাপন এবং স্কুল হকি টুর্ণামেন্ট দ্রুত আয়োজন।

  • ৩১০৭ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল

    ৩১০৭ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল

    এখন পর্যন্ত তিন হাজার ১০৭ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। শনিবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের (ভোলা-৩) সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য বলেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এটি উপস্থাপিত হয়।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, এখন পর্যন্ত তিন হাজার ১০৭ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেট ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, বাদ পড়া তালিকা থেকে চার হাজার ১৮৮ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

    এছাড়া তাদের মধ্যে নারী মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা), মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী, মেডিকেল টিমের সদস্য, শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বেসামরিক মানুষ রয়েছেন বলেও সংসদকে জানান এই মন্ত্রী।

    তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আমাদের প্রত্যাশা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১৫ হাজার করা, সেটা বারো হাজার করা হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে হয়তো হবে। এরই মধ্যে উৎসব ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর দাফনের টাকাও দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে দাফনের পূর্বে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সকল মুক্তিযোদ্ধাদের একই ডিজাইনে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেন মানুষ কবর দেখলেই বুঝতে পারেন এটা মুক্তিযোদ্ধার কবর। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। যার নামে বাড়ি বরাদ্দ হবে তিনিই হবেন প্রকৃত মালিক। এ ছাড়া জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ মিনিটের বক্তব্য রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সকল জায়গায় সম্মুখযুদ্ধ হয়েছে সেগুলো একই নকশায় সংরক্ষণ করা হবে।

    আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে আত্মস্বীকৃতি খুনিদের পদায়ন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল।

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে বি. চৌধুরীর খোলা চিঠি

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে বি. চৌধুরীর খোলা চিঠি

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি
    [বাজেটে জ্যেষ্ঠ, অতি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের স্বপক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী]

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
    আস সালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
    আশা করি কুশলে আছেন। আপনার সঙ্গে মুখোমুখি কথা হয়নি বলেই এই খোলা চিঠি।
    কথাগুলো কয়েক দিন আগেও বলেছি। দুঃখের বিষয় না মুদ্রণে, না টিভি চ্যানেলে এটা প্রাধান্য পায়। অথচ সামাজিক সচেতন দৃষ্টিকোণ থেকে কথাগুলো খুব জরুরি ছিল।

    ভারতে এক সমীক্ষায় তারা বলেছেন, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে তাদের জনসংখ্যা শতকরা ১৯ ভাগ। যেহেতু ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কিছু বেশি সেহেতু বাংলাদেশের ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যা ২০ ভাগ হওয়া স্বাভাবিক। অর্থাৎ আমাদের দেশের ৫ ভাগের ১ ভাগ মানুষ জ্যেষ্ঠ নাগরিক। সমাজ এবং সরকারকে এদের জন্য ভাবতেই হবে।

    তাদের অবদান
    প্রবীণদের অবদান সমাজ ও রাষ্ট্রে কতটা তা আমাদের সিরিয়াসলি ভাবতে হবে। আসলে না রাষ্ট্র না সমাজ এ ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে। পেছন ফিরে তাকালে দেখবেন এরা একটি পরিবার গড়েছেন অন্তত ২০ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত, যখন তাদের বয়স ছিল, ভালো স্বাস্থ্য ছিল, তাদের চোখে স্বপ্ন ছিল, সন্তান-সন্ততি গড়ে তুলেছেন, প্রাণপণ পরিশ্রম করেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন।

    তাদের সমস্যা
    মানুষ যেকোনো সময় রোগাক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু ৬০ পার হলেই তাদের কতগুলো মারাত্মক ব্যাধি আক্রমণ করতে পারে। যেমন- ডায়াবেটিসের বিভিন্ন জটিলতা, হৃদরোগ, মস্তিষ্ক, কিডনি ও লিভারের জটিলতা, নার্ভের সমস্যা, উচ্চরক্তচাপ, অর্ধাঙ্গ রোগ। এগুলো বয়স্কদের মধ্যে কম বয়সের তুলনায় ১৫-২০ গুণ বেশি। অথচ তাদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য। একদিকে ওষুধের দাম অন্যদিকে পথ্যের দুর্মূল্য এবং মাঝে মাঝে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং বারবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ার খরচ, সব মিলে বৃদ্ধদের চরম দুরবস্থা।

    মানসিক সমস্যা
    বৃদ্ধদের প্রায়ই একাকিত্বের অভিশাপে ভুগতে হয়। প্রায়ই জীবনসঙ্গী একজন আগেই চলে যান এবং ছেলেমেয়ে তাদের ভবিষ্যতের অনুসন্ধানে দেশে বা বিদেশে কাজ করতে বাধ্য হয়। একাকিত্বের সঙ্গে যুক্ত হয় বিষণ্নতা, যার জন্য চিকিৎসা দরকার। এই সমস্যাগুলোর সমাধান মোটেই সহজ নয়। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে সমাজ ও রাষ্ট্র এই দায়িত্ব নেয়। আমরা তো উন্নত দেশের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি, তা হলে আমরা এ দায়িত্ব নেব না কেন?

    ব্যক্তিগত আয়করের ব্যাপারে ভারতের ভাবনা

    ভারতে ব্যক্তিগত আয়করের ব্যাপারে ৩টি শ্রেণি বিভাগ করা হয়েছে
    এক. উপার্জনশীল তরুণ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত। তাদের একধরনের কর দিতে হয়, যেটা রাষ্ট্র নির্ধারণ করে। এরা প্রায়ই রোগমুক্ত, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তাদের কর্মক্ষমতা এবং উপার্জন সবচেয়ে বেশি। সুতরাং তাদের কর বেশি দিতে হবে।

    দুই. যাদের বয়স ৬০ থেকে ৮০, এদের বলা হয় সিনিয়র সিটিজেন বা জ্যেষ্ঠ নাগরিক। তাদের কর্মক্ষমতা কমে যায়। প্রায়ই একাকী, নিসঙ্গ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, দুর্বল অথচ তারাই সমাজে সব থেকে বেশি অবদান রেখেছেন কিছুদিন আগে পর্যন্ত। তখন তাদের বাড়তি খরচ, ওষুধ, পথ্য, ডাক্তারের ভিজিট এবং হাসপাতালে ভর্তি হলে তার জন্য বিরাট খরচ। এসব বাস্তবতা বিবেচনা করে ভারত সরকার তাদের অনেক কর মওকুফ করেছেন।

    তিন. যারা ৮০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে তাদের তৃতীয় গ্রুপে ধরা হয়েছে। যাদের বলা হয় সুপার সিনিয়র সিটিজেন বা অতি জ্যেষ্ঠ নাগরিক। এদের সমস্যা আরও বেশি, এরা আরো রুগণ, আরও বিষণ্ন। অথচ তাদের অনেককেই জীবন সংগ্রামের জন্য কাজ করতে হয়। এই বিবেচনায় ভারত সরকার তাদের সবচেয়ে বেশি কর অবকাশ দিয়েছেন।

    আমরা কী করতে পারি?
    অন্য দেশের যা কিছু ভালো তা অনুসরণ করতে কোনো লজ্জা নেই। ভালো জিনিসকেই তো অনুসরণ করতে হয়। জ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং অতি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের করারোপের ব্যাপারে সামাজিক সুবিধা দেয়ার ব্যাপারে ভারত সরকার যে সহানুভূতিশীল এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিয়েছে, আমাদের বাজেটে যদি তার প্রতিফলন ঘটানো যায়, তা হলে সেটা হবে সত্যিকারের সমাজবান্ধব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয়। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ ও অতি জ্যেষ্ঠ পেশাদার নাগরিকদের কথা আমাদের স্মরণ রাখা উচিত। এই ক্যাটাগরির শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজ্ঞ, শিল্পী, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীদের কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে। যৌবনে এবং পরবর্তী পর্যায়ে দিনের পর দিন সমাজ ও রাষ্ট্রকে তারা যা দিয়েছেন জীবন হেমন্তে তার প্রতিদান কি তারা আশা করতে পারেন না? জীবনের পড়ন্ত বেলায় সরকার তাদের বাকি জীবনটাকে সহজ ও সুন্দর করার জন্য জাতীয় বাজেটে শতকরা ২০ জন মানুষের স্বপক্ষে একটা নতুন ধরনের অবস্থান নিতে পারেন না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী?

    [অতি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের পক্ষে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের নিত্য শুভার্থী নাগরিক-]
    স্বাক্ষরিত

    অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
    সাবেক রাষ্ট্রপতি, চেয়ারম্যান যুক্তফ্রন্ট এবং প্রেসিডেন্ট বিকল্পধারা বাংলাদেশ।

  • জিয়ার কবর সরানোর অনুরোধ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর

    জিয়ার কবর সরানোর অনুরোধ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর

    জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এছাড়া সংসদ এলাকায় ‘মূল নকশার বাইরে’ যেসব স্থাপনা রয়েছে তা অপসারণের জন্য বলেছেন তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদ চত্বরে মূল নকশার বাইরে জিয়ার কবরসহ যেসব স্থাপনা হয়েছে, এখানে আরও কিছু কবর দেয়া হয়েছে, সেগুলো অপসারণের অনুরোধ করছি।

    জাতীয় সংসদে শনিবার ২০১৯-১০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    ‘শোষিতদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) গঠন করেছিলেন’ উল্লেখ করে বাজেট আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জিয়া ও তার তাবেদাররা সবাই মিলে যে বাকশালকে গালিতে পরিণত করেছিল। বস্তুত বাকশালের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে জাতীয় দল গঠন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগেকেও তখন স্থগিত করা হয়ছিল। বাঙালির মুক্তি ও শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল বাংলার মানুষের মুক্তি আসতে পারে না। তা বিগত দিনে প্রমাণিত হয়েছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী সেই অর্থনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

    মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন ও অভিজ্ঞতা ১০ থেকে ২০ মিনিট রেকর্ড করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো আমরা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করব।

  • আগামীতে সব নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

    আগামীতে সব নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। দলীয় সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী দিনে সবপর্যায়ের নির্বাচনেই অংশ নেবে দেশের ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট এই দলটি।

    দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি। বিএনপির নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ রেখে রাতের আঁধারে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। চরম অনিয়মের ওই নির্বাচনের পর সারা দেশের জনগণের মতো ক্ষুব্ধ বিএনপিও আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা সব নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচকভাবেই ভাবছে। মাঠ পুরোপুরি ছেড়ে না দিয়ে গণতন্ত্রের ন্যূনতম স্পেস কাজে লাগানো, নির্বাচন ঘিরে সরকারি দলের ‘দখলদারি’ আচরণের ধারাবাহিকতা উন্মোচন ও নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে আমরা সিটি নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা করছি।

    আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সম্প্রতি শেষ হওয়া ৩ শতাধিক উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তাদেরও বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু অবস্থান পরিবর্তন করে দলীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ীরা এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার পর, বিএনপি সবকিছুই নতুন করে ভাবছে। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে দলটি অংশ নিয়ে জিতেছে। এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে।

    বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, নেকাকর্মীদের উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল না। কারণ গণহারে বহিষ্কারের পরেও অনেক তৃণমূল নেতাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনা যায়নি। যেহেতু সংগঠনকে শক্তিশালী করে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ে আন্দোলনে যেতে হবে, সেহেতু নির্বাচন বর্জন করে সংগঠনকে দুর্বল করার সিদ্ধান্ত আর বিএনপি নিতে চায় না।

  • শারীরিক উন্নতির দিকে এরশাদ : জিএম কাদের

    শারীরিক উন্নতির দিকে এরশাদ : জিএম কাদের

    হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে আরো উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। শনিবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) ডাক্তারদের বরাত দিয়ে তিনি এই্ তথ্য জানান।

    সিএমএইচ’র চিকিত্সায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা কিছু পরীক্ষা করছেন এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে।

    জিএম কাদের বলেন, “ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। উন্নতির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    এরশাদের রোগমুক্তি ও সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জিএম কাদের।

  • আর ঋণ নেব না, দেব ইনশআল্লাহ: অর্থমন্ত্রী

    আর ঋণ নেব না, দেব ইনশআল্লাহ: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরা বেশি ঋণ করি কি না? আমাদের ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশ।মালয়েশিয়ার এর চেয়ে বেশি। ঋণের পরিমাণ হিসাব করা হয় জিডিপি দিয়ে। আমরা ঋণ নেই চায়নার কাছ থেকে। চায়নার ঋণের পরিমাণ জিডিপির ২৮৪ শতাংশ। ওরা আমাদের ঋণ দেয়। আমাদের ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৩৪ শতাংশ। ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা আর ঋণ নেব না। আমরা ঋণ দেব ইনশআল্লাহ। সারা বিশ্বের মানুষকে ঋণ দেব আমরা।

    শনিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের সুফল ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাওয়া যাবে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বাজেটটি শুধু একটি বছরের জন্য নয়। এ বাজেটের ফাউন্ডেশন এ বছর। কিন্তু এ বাজেট থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্জন করতে পারব। সেভাবে আমরা বাজেটটি প্রণয়ন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, ২০২৪ সালে আমরা ডাবল ডিজিট গ্রোথে পা রাখব। ২০২৪ সাল থেকে শুরু করে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ বাজেটের ফলাফল পাব।

    তিনি বলেন, একটা দেশ এবং জাতির সঙ্গে অনেক মিল আছে। মানুষের জীবনে যেমনিভাবে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, ঠিক তেমনিভাবে দেশের ক্ষেত্রেও সেটা সম্ভব হয়। দেশের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় বলেই আমরা আমাদের এ বাজেটে টাইটেল রেখেছি- ‘সময় এবার আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’- এটা ইচ্ছাকৃতভাবে লেখা হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন,আমরা কী দেখতে পাই? আমরা যদি মালয়েশিয়ার দিকে তাকাই? ৩০ বছরের মধ্যে মালয়েশিয়া চলে গেছে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে, কাঙ্ক্ষিত জায়গায়। চায়নার অবস্থা কি ছিল? চায়না সবচেয়ে দরিদ্র দেশ ছিল। চায়নায় কোনো খাবার ছিল না। চায়না আজকে পৃথিবীর এক নম্বর দেশ।

    তিনি বলেন, যদি চায়না পারে, মালয়েশিয়া পারে, সাউথ কোরিয়া পারে তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই পারবে। আমরা গত ১০ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিরলস পরিশ্রম করে সবাই মিলে বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে এসেছি। ট্রেন একবার যখন ট্র্যাকের উপর উঠে যায় তখন আর ট্রেন পেছনের দিকে যায় না। কোনো জাতি নেই আমাদের এখান থেকে গতিচ্যুত করতে পারবে। আমরা এগোবই, এগোবই ইনশাআল্লাহ।

  • বাজেটে পরিবর্তন আনতে নানা সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর

    বাজেটে পরিবর্তন আনতে নানা সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর

    আসন্ন অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবর্তন আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুঁজিবাজারের স্টক লভ্যাংশ এবং রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত করারোপসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বাজেটে যে প্রস্তাব আনা হয়েছিল, তা পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন তিনি।

    শনিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব প্রস্তাব দেন তিনি।

    প্রসঙ্গত, বাজেট পাসের আগে রাজস্ব অংশের আলোচিত-সমালোচিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে পরিবর্তন প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী তা সংশোধন করতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। পরে অর্থমন্ত্রী তা সংশোধন করে নিলে অর্থবিল সংসদে পাস হয়।

    প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় কোম্পানিগুলোকে ক্যাশ ডিভিডেন্ডে উৎসাহিত করার জন্য স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমাজের কেউ কেউ আপত্তি জানিয়েছেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলো নগদ লভ্যাংশ দিতে পারে না।

    তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের এ রূপ মন্তব্যের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আমাদের ভাবতে হবে। কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীও নগদ লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে।

    তাই নতুন প্রস্তাবে স্টক ডিভিডেন্ডের সঙ্গে সমান হারে নগদ লভ্যাংশও দেয়ার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমি প্রস্তাব করছি যে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি যে পরিমাণ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, কমপক্ষে তার সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে। যদি কোম্পানির ঘোষিত স্টক লভ্যাংশের পরিমাণ নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে স্টক লভ্যাংশে ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রস্তাব করতে হবে।

    সংসদ নেতা বলেন, নগদ লভ্যাংশ উৎসাহিত করায় আমরা আরও প্রস্তাব করেছিলাম যে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি রিটেইন আর্নিং, রিজার্ভ থাকলে অতিরিক্ত রিটেইন আর্নিং, রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ হারে করারোপ করা হবে। এ বিষয়েও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা কেউ কেউ আপত্তি করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধারাটির আংশিক সংশোধনপূর্বক আমি প্রস্তাব করছি যে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কোনো অর্থবছরে কর-পরবর্তী নিট লাভের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ রিটেইন আর্নিং, ফান্ড, রিজার্ভে স্থানান্তর করতে পারবে। অর্থাৎ কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো কোম্পানি এ-রূপ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে প্রতি বছর রিটেইন আর্নিং, ফান্ড, রিজার্ভের মোট অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে করারোপ করা হবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, উপরোক্ত বিষয়গুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত আয়কর আইনের প্রস্তাবিত ধারাগুলো আমরা বিবেচনা করব।

    ভ্যাটের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক মূসক হার প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৫ শতাংশের নিম্নহারের উপকরণ কর রেয়াত দেয়ার সুযোগ না থাকায় ব্যবসায়ীরা হ্রাসকৃত হারের পরিবর্তে উপকরণ কর গ্রহণ করে ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য দাবি করেছে।

    তিনি বলেন, হ্রাসকৃত হারের পাশাপাশি কেউ চাইলে যেন ১৫ শতাংশ কর দিয়ে রেয়াত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে আইনে সেই বিধান আনার প্রস্তাব করছি।

    তিনি আরও বলেন, দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ, প্রণোদনা প্রদানে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে শুল্কহার হ্রাস-বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে এর ফলে দেশীয় কাগজ ও গ্যাস উৎপাদনকারী শিল্পসহ অন্যান্য শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দেশীয় মুদ্রণশিল্পের প্রণোদনা প্রদান ও বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধকল্পে দেশে উৎপন্ন হয় না এমন পেপারগুলোর শুল্কহার যৌক্তিক করা হবে।

    এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে কিছু ক্ষেত্রে শুল্কহার পুনর্নিধারণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • ১ জুলাই থেকে আ. লীগে আসবে নতুন সদস্য

    ১ জুলাই থেকে আ. লীগে আসবে নতুন সদস্য

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহের অভিযান কর্মসূচি শুরু করবে আওয়ামী লীগ। এবার সদস্য নবায়নের চেয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জেলা, উপজেলা শাখা নিয়মাবলি মেনে সদস্য সংগ্রহের বই করবে এবং সদস্য সংগ্রহ করবে সেই নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।  শুক্রবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেক নবীন এবার নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে। এর মধ্যে ক্লিন চরিত্রের যারা আছে, আমরা তাদের নতুন সদস্য করব। অন্য দল থেকে আগত কাউকে সদস্য করার ব্যাপারে দলের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সাধারণত রক্তের সম্পর্কের ব্যাপারটা—বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের ছেলেমেয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখব। যাকে সদস্য করা হবে তার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা, ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে কি না, কোনো সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়গুলো দেখা হবে।’

    ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে চলমান সংকট প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের যে চার সহকর্মী দায়িত্বে আছেন তাঁরা জবাব দিতে পারবেন। ছাত্রলীগের ব্যাপারে আমাদের চারজন সহকর্মীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব দিয়েছেন। কাজেই এ সম্পর্কে আপনারা কিছু জানতে চাইলে তাঁরা জবাব দেবেন।’

    যদি এই চার নেতা ব্যর্থ হন তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁরা সফল কী ব্যর্থ তার বিচার প্রধানমন্ত্রী করবেন। আমি নিজেও এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু একটা জানি না। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ভালো বলতে পারবেন।’

    ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার নেতা হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল। গত ১৩ মে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার আন্দোলন করছেন।

  • নিজের ভয়ানক অসুস্থতার কথা সংসদে বর্ণনা করলেন অর্থমন্ত্রী

    নিজের ভয়ানক অসুস্থতার কথা সংসদে বর্ণনা করলেন অর্থমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:

    ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের সময় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিজের ভয়ানক অসুস্থতার কথা সংসদে বর্ণনা করলেন ।

    নিজের সুস্থ হওয়ার গতি অনেক শ্লথ জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দিন সংসদ শুরুর আগে যখন সংসদে প্রবেশ করি তখন থেকে পরবর্তী ৭ থেকে ৮ মিনিট আমি সম্পূর্ণভাব ব্ল্যাঙ্ক ছিল। আমার কোনো কিছুই মনে পড়ে না।

    শনিবার ২০১৯-২০ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

    এ সময় তার কণ্ঠস্বর দুর্বল ছিল। বক্তব্য শুরুর পরই স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে অনুমতি চান বসে বক্তব্য দেয়ার জন্য। স্পিকারের অনুমতি দিলে বসে বক্তব্য শুরু করেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৩ জুন প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করি। কিন্তু সেই দিনটি ছিল আমার জীবনের চরম কষ্টের দিন। কারণ এর তিনদিন আগে অর্থাৎ ১০ জুন ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং হাসপাতালে ভর্তি হই। এই অসুস্থতা নিয়েই আমি গত ১৩ তারিখে সংসদে আসি। আমার বিশ্বাস ছিল- আমি প্রস্তাবিত বাজেটটি উত্থাপন করতে পারব। কিন্তু আমি যা ভেবেছিলাম বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংসদ শুরুর আগে যখন সংসদে প্রবেশ করি তখন থেকে পরবর্তী ৭ থেকে ৮ মিনিট আমি সম্পূর্ণভাবে ব্ল্যাঙ্ক ছিল।

    তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর আস্তে আস্তে আমি স্বাভাবিক হই। মনে হল আমার আর সমস্যা হবে না। আমি তখনই ২৫ থকে ৩০ মিনিটের মত প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু অংশ পড়লাম। তখন আরেকটি নতুন সমস্যা দেখা দিল। সেই সমস্যাটি হল আমার হাতে কোনো শক্তি নেই। আঙুলে কোনো শক্তি নেই। বাজেটের পাতাগুলো উল্টাতে পারছিলাম না। তখন সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী এগিয়ে আসলেন। তিনি আমার বাজেটের প্রতিটি পাতা উল্টে দিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ সেটাও রইল না। একটু পরই আমি চোখে কিছু দেখি না। তখন আর সময় না নিয়ে আমি স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও অসুস্থ ছিলেন। তারপরও আন্তরিকভাবে বাজেটটি পড়লেন।

    প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৩ তারিখ থেকে অসুস্থতার কারণে আমার আদৌ বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।

    এমনকি সংসদেও আসতে পারিনি। আমি এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নই। আস্তে আস্তে সুস্থ হচ্ছি। তবে সংসদে আমি না থাকলেও আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংসদে থেকে এমপিদের কথা নোট নিয়েছেন ও প্রতিদিন আমাকে অবহিত করেছেন।