Category: রাজণীতি

  • খোদেজা রশীদীর মৃত্যুতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর শোক

    খোদেজা রশীদীর মৃত্যুতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর শোক

    জাতীয় সংসদের সাবেক হুইফ এস এম মোস্তাফা রশীদী সুজার স্ত্রী খোদেজা রশীদী সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেদ হাসপাতালে গতকাল শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি—-রজেউন) ।

    মৃত্যু কালে তার বয়স হয়ে ছিলো ৬৫ বছর, এস এম মোস্তাফা রশীদী সুজার স্ত্রী খোদেজা রশীদীর মৃত্যুতে এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবার কে সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়ার সদস্য বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী ) আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

  • ইমাম বুখারীর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

    ইমাম বুখারীর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ সমরকন্দে বিখ্যাত হাদিসবেত্তা আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রা.) (ইমাম বুখারী) এর মাজার জিয়ারত করেছেন। খবর বাসসের।

    পারস্যের ইসলামিক চিন্তাবিদ ও হাদিসের সংকলক ইমাম বুখারী ৮৭০ খ্রী. এর ১ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের বুখারায় ইন্তেকাল করেন।

    মো. আবদুল হামিদ তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে তাঁর সাত দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে হজরত খাজা খিজির (আ.) কমপ্লেক্সে উজবেকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভের কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমরকন্দের গভর্নর এবং মাজার মসজিদের পেশ ইমাম ইরকিনজন তুরদিমভ রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। পরে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

    রাষ্ট্রপতি সমরকন্দের গভর্নরের আমন্ত্রনে উজবেকিস্তানের প্রয়াত প্রথম প্রেসিডেন্টের সাবেক বাসভবনে মধ্যহ্ন ভোজে যোগ দেন।

    এছাড়া রাষ্ট্রপতি হামিদ ইমাম বুখারী (রা.) আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। আবদুল হামিদ আমির তৈমুরের জাদুঘর এবং উজবেকিস্তানের জাতীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিদর্শন ঐতিহাসিক কিছু স্থান পরিদর্শন করেন।

    এরপর রাষ্ট্রপতি তাঁর পত্নী রাশীদা খানম ও পুত্র রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক (এমপি)কে নিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০ টা ৩ মিনিটে বুলেট ট্রেন ‘আফ্রোসিয়োব’ এ সমরকন্দ ত্যাগ করেন।

    এ সময় উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল করিমভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ুদ মান্নান, রাষ্ট্রপতির সচিব সম্পদ বড়–য়া, প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন, দূতাবাসের দ্বিপাক্ষিক সচিব ও কনসুলার কামরুল আহসান অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতি গত ১৩ জুন পঞ্চম সিআইসিএ সম্মেলনে যোগ দিতে তাজিক রাজধানী দুশানবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং ১৬ জুন উজবেকিস্তান সফরে যান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস্রে একটি বিশেষ বিমানে আবদুল হামিদ আগামীকাল সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ

    কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ

    নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। নির্বাচনবিমুখতা জাতিকে গভীর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ। এ অবস্থা কখনও কাম্য হতে পারে না।

    গতকাল মঙ্গলবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম বা শেষ ধাপের ভোট। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এ নির্বাচন কমিশনার।

    উপজেলা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়েও কথা বলেন মাহবুব তালুকদার। উপজেলা ও জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য হচ্ছে, ‘এসব (উপজেলা) নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমি পূর্বে যা বলেছিলাম এখনও তাই বলব। আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করলে এর উত্তর পেয়ে যাবেন।’

    পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট হয় ১০ মার্চ। এরপর দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপের ২৪ মার্চ এবং চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ হয় ৩১ মার্চ। গতকাল ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটাভুটি। এ পঞ্চম ধাপে বড় একটা অংশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

    এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য, ‘বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা।’

    তিনি আরও বলেন, একতরফা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের কোনো অভিব্যক্তি প্রতিফলিত হয় না বলে এর কোনো ঔজ্জ্বল্য থাকে না। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত।’

    কারও আজ্ঞাবহ হয়ে দায়িত্ব পালন করলে এবং উপজেলা পরিষদের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য বিসর্জিত হলে উপজেলা পরিষদ জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন এ নির্বাচন কমিশনার।

    মাহবুব তালুকদার জানান, কোনো কোনো সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বা সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন সাংসদদের আওতামুক্ত না হলে তা কখনও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের উপদেষ্টার ভূমিকা উপজেলা পরিষদের কৌলিন্য বিনষ্ট করেছে।’

    অনেক সাংসদ কেন আচরবিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বসাতে চান, কখনও বা নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেন, এ প্রশ্নের সমাধান না পেলে উপজেলা নির্বাচন তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের কবলে পড়বেই বলেও মনে করেন মাহবুব তালুদকার।

  • ৩০ লাখ শহীদকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি

    ৩০ লাখ শহীদকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি

    ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশের ৩০ লাখ গণশহীদকে চিহ্নিত করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সরকার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশের ৩০ লাখ বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সংগ্রহ করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে চলছে।

    জাতীয় সংসদে বুধবার অসীম কুমার উকিলের (নেত্রকোনা-৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ হাসিনা জানান, সরকার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধার তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ প্রস্তুতের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

    এ ছাড়া কেউ যদি বাদ পড়েন তার জন্য আবারও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। ওই কার্যক্রম সমাপ্ত হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। তালিকার অংশ হিসেবে বর্তমানে মোট ৫ হাজার ৭৯৫ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম, ঠিকানা সংবলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    এর মধ্যে গেজেটভুক্ত সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ১ হাজার ৬২৮ জন, গেজেটভুক্ত বিজিবি শহীদ ৮৩২ জন এবং গেজেটভুক্ত শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন,১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় সহযোগীদের দ্বারা নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীন মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত গণকবর সংরক্ষণের চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

    তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি জেলার ৬৫টি স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় ৩৪২টি স্মৃতিস্তম্ভ মেরামত ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান, মুক্তিযুদ্ধকালীন মিত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে নৃশংসভাবে হত্যার পর দেশে চলতে থাকে অপশাসন এবং দেশ পরিচালিত হয় স্বাধীনতাবিরোধীদের দ্বারা। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

    তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে নতুন পাঠ্যসূচি প্রণয়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মুনতাসির মামুন, লেখক ও অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবির, লেখিকা সেলিনা হোসেনসহ প্রতিথযশা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

  • খালেদার জামিনই প্রমাণ করে বিচার বিভাগ স্বাধীন : ওবায়দুল কাদের

    খালেদার জামিনই প্রমাণ করে বিচার বিভাগ স্বাধীন : ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিচার বিভাগ যে স্বাধীন তা মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনই প্রমাণ করে।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

    এর আগে মানহানির দুই মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয় বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

    প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত মামলা দুটি বিচারাধীন।

    এর আগে সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালত খালেদা জিয়ার জামিন দিতে চাইলে সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করবে না। এটি সম্পূর্ণ আদালতের ব্যাপার। আদালত যে কাউকে জামিন দিতে পারে।

  • আ.লীগের সম্মেলন : সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

    আ.লীগের সম্মেলন : সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

    দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন আর কয়েক মাস পর। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরেই হবে ক্ষমতাসীন দলটির জাতীয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে, সম্মেলনকে ঘিরে দলের মধ্যে এরইমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। আগামী জাতীয় সম্মেলনে কারা দলের নেতৃত্বে আসবেন আর কারা বাদ পড়বেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অপরদিকে আগামী সম্মেলনে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব আনতে কাজ শুরু করেছে দলটি। সারা দেশে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক সফর, সভা ও জেলা সফর শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলা পর্যায়ের সম্মেলনগুলোও শুরু হয়েছে।

    দলের জাতীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত শনিবার (১৫ জুন) দলের এক সভায় বলেন, আমাদের জাতীয় সম্মেলন করতে হবে। আমাদের নেত্রী এবং আমারও ইচ্ছা যথাযথ সময়ে সম্মেলনের কাজ সমাপ্ত করা। আওয়ামী লীগ কোনো বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কখনও সম্মেলন করতে গিয়ে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করেনি। আমরা এখন জাতীয় সম্মেলনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। উল্লেখ্য, প্রায় ৩ বছর পূর্বে আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে সভাপতি হন শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

    জানা গেছে, দলের জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একযোগে ৮ বিভাগে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে দলটি। ওই ৮টি সাংগঠনিক টিম সারা দেশে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন করবে। সারা দেশে সাংগঠনিক সফর ও জেলা পর্যায়ের সম্মেলন শেষে জাতীয় সম্মেলনের দিকে ধাবিত হবে আওয়ামী লীগ। দলীয় হাইকমান্ড চায়, জাতীয় সম্মেলনের আগেই সব জেলার সম্মেলন শেষ করতে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আগামী ওই সম্মেলনে দলের যারা ক্লিন ইমেজের পরীক্ষিত নেতা রয়েছেন তারা নেতৃত্বে জায়গা করে নেবেন বলে দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করে। দলীয় হাইকমান্ডের সুনজরে রয়েছেন তৃণমূলের একঝাঁক পরীক্ষিত নেতা।

    আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, এবার দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় যেমন ক্লিন ইমেজ নেতৃত্বে আনতে চায় তেমনি নেতৃত্ব চয়নের বিষয়েও বেশ তৎপর থাকবে দলটি। জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে যারা কাউন্সিলর তাদের নির্ধারণেও এবার বেশ সচেতন হবে আওয়ামী লীগ। দলে যারা বিতর্কিত তাদের এড়িয়ে ও অনুপ্রবেশকারী নিশ্চিত করার পরই কাউন্সিল নিশ্চিত করতে চায় দলটি। কাউন্সিলর নির্বাচনের শর্তের মধ্যে থাকছে, ২০০৮ সাল বা এর আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে হবে। বিএনপি এবং জামায়াত থেকে বিএনপিতে আসা কেউ ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা বা অন্য কোনো জনপ্রতিনিধি হলেও কাউন্সিলর হতে পারবেন না। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত কেউ কাউন্সিলর হতে পারবেন না। জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত কাউকে কাউন্সিলর করা যাবে না। মাদক ব্যবসায়ে জড়িত তালিকাভুক্ত কেউ কাউন্সিলর হতে পারবেন না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, নারী নির্যাতন বা যৌন হয়রানিতে অভিযুক্ত, দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারী, নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন- এমন কেউ কাউন্সিলর হতে পারবেন না। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নেতাদের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের কাউন্সিলর করা যাবে না। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পিএস, এপিএস বা ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা কাউন্সিলর হতে পারবেন না। এ নির্দেশনা মেনে জেলা ও মহানগরীগুলোতেও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    দলীয় সূত্রগুলো মনে করে, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বেশ কিছু চমক থাকতে পারে। তবে শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী পদে বয়সের ভারে ন্যুব্জ কেউ ছাড়া কারও বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।

    সূত্রগুলো বলছে, দলের আগামী সম্মেলনে প্রত্যাশিত পদ পেতে এরইমধ্যে সক্রিয় হয়েছে আওয়ামী লীগের অন্তত এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতা। গত রোজার আগে থেকেই দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরই থাকছেন, না কি অন্য কেউ আসছেন এ বিষয়টি নিয়ে বেশ জোরের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, ওবাদুল কাদের সিঙ্গাপুর থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর যেভাবে ফের দলের হাল ধরেছেন তাতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি আবারও আসতে পারেন। দলের সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ওবায়দুল কাদেরকেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওবায়দুল কাদের অসুস্থতা কাটিয়ে উঠলেও আগামী সম্মেলনে তিনি আর থাকছেন না বলেও মনে করেন দলের কেউ কেউ।

    জানা গেছে, আগামী সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের এমন বার্তা জানান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। তাদের নিজ নিজ এলাকাতেও এ নিয়ে আলোচনার দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ওই সূত্রগুলো বলছে, দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আগামী সম্মেলনে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন- দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, দলের যুগ্ম-সাধারণ ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

    তবে দলের বিভিন্ন সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বয়সের কথা বলে বেশ কয়েকবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা বলেছেন। দলটির ২১তম জাতীয় সম্মেলনে একই কথা উঠে এলেও পুনরায় তিনিই সভাপতি থাকছেন। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা এমনটাই মনে করেন।

    উল্লেখ্য, ২০টি কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ ৬ জনকে সভাপতি পদে আর সাধারণ সম্পাদক পদে পেয়েছে ৯ জনকে। বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ সভাপতি আর ওবায়দুল কাদের দলটির নবম সাধারণ সম্পাদক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে ও জাতীয় চার নেতা নিহত হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে মহিউদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হন। এর পরের বছর ১৯৭৭ সালে দলের ১১তম কাউন্সিলে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করা হয়।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিরা :
    আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল (সিআরআই) সূত্রে জানা গেছে, দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত। ওই বছর ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে দশম কাউন্সিলে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি। এরপর ১৯৭৮ সালে কাউন্সিলে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম কাউন্সিলে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

    ৯ জন হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক :
    সিআরআই সূত্রে আরো জানা গেছে, আওয়ামী লীগ গঠনের পর ১৯৪৯ সালে দলের প্রথম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। এরপর ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দলের দ্বিতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রাজ্জাক। ১৯৮৭ সালে সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ছিলেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। এরপর জিল্লুর রহমান আবারও দুই মেয়াদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ সালের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল জলিল, ছিলেন ২০০৯ সাল পর্যন্ত। ওই বছর দলের ১৮তম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত। সর্বশেষ কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে নবম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের।

  • জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক প্রমাণ দিতে পারলে পদত্যাগ করব: আব্দুল মান্নান এমপি

    জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক প্রমাণ দিতে পারলে পদত্যাগ করব: আব্দুল মান্নান এমপি

    বিএনপির সংসদ সদস্যের কঠোর সমালোচনা করে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেছেন, এবারের সংসদে আর একটি বিরোধী দল যুক্ত হয়েছে। বিএনপির ৬ জন সংসদ সদস্য আছেন। উনারা সবাই বক্তৃতা শুরুটাই করেছেন স্বাধীনতার ঘোষক একজন ব্যক্তির নাম নিয়ে। তিনি হচ্ছে জিয়াউর রহমান। কিন্তু জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় কোন দিন এই বাংলাদেশে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এ কথা বলেননি, এ দাবি করা হয়নি। এরকম কোন প্রমাণ যদি ওই সদস্যরা এই সংসদে হাজির করতে পারেন তাহলে আমি এই  সংসদ থেকে পদত্যাগ করব। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এবং ঘোষণায় স্বাধীন হয়েছে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    উল্লেখ্য, এর আগে দুইদিন সংসদে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে তাদের বক্তৃতা শুরু করেন।

    বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আব্দুল মান্নার বলেন, উনারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। মুক্তি চাইতেই পারেন। কি কারণে জেলে গেছেন? সেকথা দেশের সবাই জানেন। এই নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি হবে না। এই নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি টিকে থাকবে না। এগুলো বদলান। যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোন মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, যাদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে সেরকম কাউকে দিয়ে যদি দল পুনঃগঠন করার চেষ্টা করেন আগামীতে তাহলে দল টিকে থাকার পথ খুঁজে পাবে।

    তিনি আরও বলেন, জিয়া যুদ্ধ করলেন। ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিল। দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারালেন।  স্বামী যুদ্ধ করছে মাঠে, আর তার স্ত্রী কোথায়? যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি উনি সেই ক্যান্টমেন্টে ৯ মাস কিভাবে থাকলেন? তার ব্যাখা দিলেন না, কিভাবে ছিলেন? জিয়া তাকে আনতে লোক পাঠালেন, উনি বললেন ভাল আছেন। এই দেশে যুদ্ধে যে সকল মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদের বীরাঙ্গনা বলা হয়, দুর্ভাগ্যবশত খালেদা জিয়াকে কি নামে ডাকবে সেটা দেশের মানুষ আজ পর্যন্ত জানল না। বুঝতে পারছে না। ভাল থাকলে কিভাবে থাকলেন, সেটা জানা দরকার। কষ্টে থাকলে সেটাও বলেন। আমরা দুঃখের ভাগিদার হতে পারি।

    এদিন সরকারি দলের আরেক সদস্য হাবিবে মিল্লাত বলেন, বিএনপি-জামায়াত নিয়ে কিছু বলতে চাইনি। তবে বিএনপির কয়েকজন এমপি সংসদে যেভাবে কথা বলছেন, তা অসংসদীয় বলে বারবার এক্সপাঞ্জ করতে হচ্ছে। যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল। তিনি বিএনপি এমপিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

  • বিএনপির ষড়যন্ত্র থেমে নেই: নাসিম

    বিএনপির ষড়যন্ত্র থেমে নেই: নাসিম

    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, বিএনপি চুপচাপ থাকলেও মূলত তারা চুপচাপ নেই। ভিতরে ভিতরে ষড়যন্ত্র করছে।

    তিনি বলেন, বড় দল যখন চুপচাপ থাকে তখন মনে রাখতে হবে তারা ঘাপটি মেরে বসে থেকে ভিতরে ভিতরে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। তবে ষড়যন্ত্র করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হলে তা রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

    মঙ্গলবার দুপুরে কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    আওয়ামীলীগসহ সহযোগী সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার উপর তাগিদ দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, তরুণ ও প্রবীণের সমম্বয়ে দলকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে। দল সংগঠিত না থাকলে অপশক্তি মাথা চারা দিয়ে উঠবে। তাদের চক্রান্তে হেরে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপশক্তির কোন চক্রান্তে হেরে গেলে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

    উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজীসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল ও পৌর মেয়র হাজী নিজাম উদ্দিনসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাষ্ট্রের উপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে গেছে: মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রের উপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে গেছে: মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্র, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মানুষের আস্থা রাষ্ট্রের উপর থেকে চলে গেছে, প্রশাসনের উপর থেকে চলে গেছে, বিচার ব্যবস্থার উপর থেকে চলে গেছে।

    মঙ্গলবার বিকালে মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত কর্মী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    এবারের সংসদ জনগণের নির্বাচিত নয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এরই প্রতিবাদ করতে এবং দলকে সুসংগঠিত করতেই অবৈধ সংসদে অংশগ্রহণ করিনি। দ্রুত জনগণকে সম্পৃক্ত করে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

    সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আনোয়ার হোসেন লালের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. আব্দুল হালিম প্রমুখ।

  • রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার নির্বাচন স্থগিত চাইলেন আ.লীগের প্রার্থী

    রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার নির্বাচন স্থগিত চাইলেন আ.লীগের প্রার্থী

    রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাচন স্থগিত চেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী সাইফুল ইসলাম। ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া, রাতে ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি, হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ এনে নির্বাচন স্থগিত চান তিনি।

    মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট স্থগিত করার দাবি জানান তিনি।

    কালুখালীতে চেয়ারম্যান পদে কাজী সাইফুল ইসলামের নৌকা প্রতীকের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দকী হক মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটো আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    নির্বাচন বিষয়ে কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ নির্বাচন হচ্ছে তবুও নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক সন্ত্রাসী স্বশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করছে। রাতে আমার সমর্থক ও এজেন্টদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হামলা করা হয়েছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা হয়েছে। কেন্দ্রে কেউ ভোট দিতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা-মামলা ও ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে একটি কুচক্রী মহল। তার প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীকে মারধর ও কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত রবিবার তার প্রধান সমর্থক মদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মৃধাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। এসব বিষয়ে পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয়।

    এদিকে কাজী সাইফুল ইসলাম অভিযোগের কোনো প্রতিকার না পেয়ে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আজ সকাল ৮টায় নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানায়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করা না হলে ভোট বর্জনের ঘোষণার পর মামলা করার কথা জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ও শেষ ধাপে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ৪৬টি ভোটকেন্দ্রে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।