Category: রাজণীতি

  • দৈনিক দুধের চাহিদা ২৫০, মানুষ পান করছে ১৫৮ মি.লি.

    দৈনিক দুধের চাহিদা ২৫০, মানুষ পান করছে ১৫৮ মি.লি.

    বর্তমানে দেশে মাথাপিছু দৈনিক দুধের চাহিদা ২৫০ মিলিলিটারের বিপরীতে মানুষ মাত্র ১৫৮ মিলিলিটার দুধ পান করছে।

    বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাফেলো ডেভেলপমেন্ট ফর দ্য প্রোডাকশন অব সেফ ফুড অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ তথ্য জানান।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু।

    সেমিনারে বক্তারা জানান, বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক দুগ্ধ উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশ ভারতের ৫৬ শতাংশ, নেপালের ৭০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ৬৩ শতাংশ দুধ আসে মহিষ থেকে। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত দুধের ৪ শতাংশ আসে মহিষ থেকে।

    মেসিনারে জানানো হয়, গরুর দুধের চেয়ে মহিষের দুধ ও মাংস যেমন সুস্বাদু তেমনই এতে কোলেস্টেরলও অনেক কম। তাই ব্যাপকভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মহিষের উৎপাদন করে দেশ-জাতির আমিষের চাহিদা পূরণ করছে সেসব দেশ। অথচ আমাদের দেশে একসময় মহিষের সংখ্যা ৪২ লাখের মতো থাকলেও এখন তা মাত্র ৬ লাখে ঠেকেছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মহিষের জাত উন্নয়ন, ব্যাপক উৎপাদন ও পরিচর্যার ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয় সেমিনারে।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল ব্রিদিং অ্যান্ড জেনেটিক বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) জিএম শরীফ আহমেদ চৌধুরী ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বেলাল হোসেন।

    মহিষের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বিনা চিকিৎসায় এদের ব্যাপক মড়কের ব্যাপারে ভেটেরিয়ানদের সক্রিয় হওয়া এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ বেসরকারি খামারি ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি জানান, মহিষের দুধ ও মাংস খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের রুচির ক্ষেত্রে যেমন মানসিকতার পরিবর্তন দরকার তেমনই বাজারে মহিষের  মাংসকে গরুর বলে চালানোর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক হীরেশ রঞ্জন ভৌমিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম মণ্ডল, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসি উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নাথুরাম সরকার ও মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

  • সামাজিক বনায়নে সচ্ছল জীবন-যাপন করছে লাখ লাখ মানুষ : প্রধানমন্ত্রী

    সামাজিক বনায়নে সচ্ছল জীবন-যাপন করছে লাখ লাখ মানুষ : প্রধানমন্ত্রী

    সামাজিক বনায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর আমরা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করি। এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা পেয়ে মানুষ এখন সচ্ছল জীবন-যাপন করছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক বনায়নের সঙ্গে জড়িত ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৪ জনের মাঝে ৩৫৬ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার ৫২২ টাকার চেক দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান। এবার ৫ জুন ঈদুল ফিতর ছিল। তাই আজ বাংলাদেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে।

    বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় ‘বায়ু দূষণ’।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও বনের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

    বক্তব্য শেষে পরিবেশ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বৃক্ষ মেলার বিভিন্ন অংশ তিনি ঘুরে দেখেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বহু আগে থেকেই ছিল। ১৯৯৬ সালের আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা সামাজিক বনায়নের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে খেয়ে ফেলেছে। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বনের পাশে বসবাসকারী পরিবারদের আমরা বনের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করি। তাদের গাছের চারা দেই। গাছ লাগিয়ে তারা লালন-পালন করে। যারা গাছ লাগিয়ে লালন-পালন করে বড় করে, তাদের গাছ বিক্রি থেকে ১০-২০ ভাগ লভ্যাংশ দেয়া হতো। ফলে তারা বনের রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হতে পারেননি।

    তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পরে সামাজিক বনায়নে অংশীদারদের ৭৫ ভাগ লভ্যাংশের টাকা দিয়েছি। ফলে তারা নিজেরা লাভবান হচ্ছে, নিজেরা সচ্ছল হচ্ছে এবং বন রক্ষায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অংশীদারদের ৭৫ ভাগ দেয়ার পরে বাকি ২৫ ভাগ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা থাকে, যা দিয়ে আবার গাছের চারা উৎপাদন হয় এবং তা আবার অংশীদারদের বিলি করা হয়। সম্প্রতি ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৪ জন অংশীদারের মধ্যে ৩৫৬ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৫২২ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, যারা সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী, তাদের জন্য তহবিল গঠন করা হয়েছে। সে তহবিল থেকে তাদের আরও অর্থ দেয়া হয়, বনায়ন টিকিয়ে রাখার জন্য।

    ‘গাজীপুরের বন রক্ষা করার জন্যই আমরা সাফারি পার্ক প্রকল্প গ্রহণ করেছি। কারণ যে হারে ভূমি খেকোরা জমিগুলো দখল করে নিচ্ছিল তাতে এই বন আর থাকতো না। তখন আমরা চিন্তা করলাম, এখানে যদি ভালো একটি সাফারি পার্ক করে দেই, তা আমাদের দেশের মানুষের চিত্তবিনোদনের কাজে লাগবে। কারণ, আমাদের দেশে মানুষের চিত্তবিনোদনের জায়গা কম। প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার জন্য আমাদের ছেলেমেয়েদের সুবিধা হয়। সেটা মাথায় রেখেই এই সাফারি পার্ক তৈরি করা হয়।’

    ‘প্রথম যখন আমরা সরকারে আসি, তখন সিলেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে ইকোপার্ক নির্মাণ করি। এগুলো করার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য বন রক্ষায় বনায়ন বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে পরিবেশকে সুরক্ষিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

    তিনি বলেন, আমরা জানি যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একটা ধাক্কা আমাদের দেশে আসবে। আমরা কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেরাই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষতির জন্য আমরা দায়ী না, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এজন্য দায়ী। তাদের কারণে পৃথিবীর ছোট ছোট দেশগুলো ভুক্তভোগী হচ্ছে। সেজন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে নিজস্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার ব্যবস্থা নিয়েছি। নদী খনন কাজ চলছে, নদীর ধারে, সমুদ্র তীরে বনায়ন করা হচ্ছে।

  • পরিবেশ নষ্ট করে উন্নয়ন নয়: প্রধানমন্ত্রী

    পরিবেশ নষ্ট করে উন্নয়ন নয়: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আপামোর জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। দেশের উন্নয়ন করতে হবে। কিন্তু সেটা পরিবেশ নষ্ট করে নয়। পরিবেশ ঠিক রেখে সকল উন্নয়ন কাজ করতে হবে।

    তিনি স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, বাসস্থানে গাছ লাগিয়ে এবং জলাধার রক্ষার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান।

    বৃহস্পতিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

    রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও বনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

    পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এতে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

    বক্তব্য শেষে পরিবেশ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃক্ষমেলার বিভিন্ন অংশ তিনি ঘুরে দেখেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে, আমরা আরও আধুনিক হচ্ছি। এর সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। আমরা যত বেশি যন্ত্রের ব্যবহার করছি তত বেশি পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। রান্নার ধোঁয়া, ডিটারজেন্ট, সাবান, শ্যাম্পু, মনুষ্য বর্জ্য, ইটভাটা, বিভিন্ন কেমিক্যাল পরিবেশ দূষণ করছে। এসবের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের সবাইকে গাছ লাগাতে হবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মোট ভূমির ২০ ভাগ বনায়ন করতে হবে। এছাড়া যে বনগুলো আছে তা রক্ষা করতে হবে। নদী ড্রেজিং, নদী প্রবাহমান রাখতে হবে। বিভিন্ন দ্বীপে প্রচুর বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বড় বড় বিল্ডিং বা হাউজিং করতে হলে জলাধার রাখতে হবে। সারাদেশে আমরা ১০০ শিল্পাঞ্চল করছি। সেখানেও জলাধার করা হচ্ছে এবং বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা থাকছে।

  • সামাজিক বনায়নে সচ্ছল হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ: প্রধানমন্ত্রী

    সামাজিক বনায়নে সচ্ছল হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ: প্রধানমন্ত্রী

    সামাজিক বনায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর আমরা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করি। এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা পেয়ে মানুষ এখন সচ্ছল জীবন-যাপন করছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক বনায়নের সঙ্গে জড়িত ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৪ জনের মাঝে ৩৫৬ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার ৫২২ টাকার চেক দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান। এবার ৫ জুন ঈদুল ফিতর ছিল। তাই আজ বাংলাদেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে।

    বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় ‘বায়ু দূষণ’।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও বনের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

    বক্তব্য শেষে পরিবেশ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বৃক্ষ মেলার বিভিন্ন অংশ তিনি ঘুরে দেখেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বহু আগে থেকেই ছিল। ১৯৯৬ সালের আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা সামাজিক বনায়নের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে খেয়ে ফেলেছে। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বনের পাশে বসবাসকারী পরিবারদের আমরা বনের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করি। তাদের গাছের চারা দেই। গাছ লাগিয়ে তারা লালন-পালন করে। যারা গাছ লাগিয়ে লালন-পালন করে বড় করে, তাদের গাছ বিক্রি থেকে ১০-২০ ভাগ লভ্যাংশ দেয়া হতো। ফলে তারা বনের রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হতে পারেননি।

    তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পরে সামাজিক বনায়নে অংশীদারদের ৭৫ ভাগ লভ্যাংশের টাকা দিয়েছি। ফলে তারা নিজেরা লাভবান হচ্ছে, নিজেরা সচ্ছল হচ্ছে এবং বন রক্ষায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অংশীদারদের ৭৫ ভাগ দেয়ার পরে বাকি ২৫ ভাগ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা থাকে, যা দিয়ে আবার গাছের চারা উৎপাদন হয় এবং তা আবার অংশীদারদের বিলি করা হয়। সম্প্রতি ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৪ জন অংশীদারের মধ্যে ৩৫৬ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৫২২ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, যারা সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী, তাদের জন্য তহবিল গঠন করা হয়েছে। সে তহবিল থেকে তাদের আরও অর্থ দেয়া হয়, বনায়ন টিকিয়ে রাখার জন্য।

    ‘গাজীপুরের বন রক্ষা করার জন্যই আমরা সাফারি পার্ক প্রকল্প গ্রহণ করেছি। কারণ যে হারে ভূমি খেকোরা জমিগুলো দখল করে নিচ্ছিল তাতে এই বন আর থাকতো না। তখন আমরা চিন্তা করলাম, এখানে যদি ভালো একটি সাফারি পার্ক করে দেই, তা আমাদের দেশের মানুষের চিত্তবিনোদনের কাজে লাগবে। কারণ, আমাদের দেশে মানুষের চিত্তবিনোদনের জায়গা কম। প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার জন্য আমাদের ছেলেমেয়েদের সুবিধা হয়। সেটা মাথায় রেখেই এই সাফারি পার্ক তৈরি করা হয়।’

    ‘প্রথম যখন আমরা সরকারে আসি, তখন সিলেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে ইকোপার্ক নির্মাণ করি। এগুলো করার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য বন রক্ষায় বনায়ন বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে পরিবেশকে সুরক্ষিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

    তিনি বলেন, আমরা জানি যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একটা ধাক্কা আমাদের দেশে আসবে। আমরা কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেরাই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষতির জন্য আমরা দায়ী না, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এজন্য দায়ী। তাদের কারণে পৃথিবীর ছোট ছোট দেশগুলো ভুক্তভোগী হচ্ছে। সেজন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে নিজস্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার ব্যবস্থা নিয়েছি। নদী খনন কাজ চলছে, নদীর ধারে, সমুদ্র তীরে বনায়ন করা হচ্ছে।

  • শনিবার থেকে সচল হবে বুয়েট: আশা শিক্ষামন্ত্রীর

    শনিবার থেকে সচল হবে বুয়েট: আশা শিক্ষামন্ত্রীর

    আগামী শনিবার থেকে আবারও সচল হবে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবেন এবং তাদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে টানা চার ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

    দীপু মনি বলেন, ‘আন্দোলন স্থগিতে সম্মতি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী শনিবার থেকে তারা আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে ফিরবেন।’

    ‘বুয়েটের সাত হলের তিনজন করে প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের সব দাবিই যৌক্তিক। কিছু দাবি একাডেমিক কাউন্সিল (বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন) বাস্তবায়ন করতে পারবে। আবার কিছু দাবি মন্ত্রণালয়ের অধীন। সেগুলো দ্রুত আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকে ১৬ দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে তারা নেমে আসেন রাস্তায়। ভিসি ও প্রশাসনবিরোধী স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস।

    dipu

    গতকাল বুধবার বেলা ১টায় পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সমাবেত হন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

    চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া শুনতে বৃহস্পতিবার বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এজন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে জড়ো হয়ে মন্ত্রীর অপেক্ষায় থাকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে আসার কথা থাকলেও বেলা ১টা পর্যন্ত তিনি আসেননি। শিক্ষামন্ত্রীর আসা নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি হলেও বিকাল সাড়ে ৩টায় উপস্থিত হন তিনি।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি একাডেমিক কাউন্সিল বাস্তবায়ন করতে পারবে, সেগুলো আমরা লিখিতভাবে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা ভিসি মহোদয়কে অনুরোধ করব, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে। যেসব দাবি মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থাৎ খেলার মাঠ, ভবন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ- সেগুলো আমরা দ্রুতগতিতে করে দেয়ার চেষ্টা করব।

    ‘পাশাপাশি ফলাফল, র‌্যাংকিং, বৃক্ষ রোপণ- যেগুলো বুয়েট প্রশাসনের অধীন সেগুলোও দ্রুত মেনে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। ভিসি মহোদয় আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন হবে।

    dipu

    দীপু মনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের তাদের সব দাবি লিখিতভাবে দিতে বলেছি। তারা আগামীকাল (শুক্রবার) সেগুলো লিখিতভাবে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’

    শিক্ষার্থীরা এ সময় তাদের দাবিগুলো বুয়েটের নোটিশ বোর্ডে টাঙানোর দাবি জানান। আমরা তাদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। সেগুলো নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেয়া হবে।

    তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লিখিত দাবিগুলো পাওয়ার পর কাল (শুক্রবার) থেকে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

    ‘বুয়েট আমাদের সকলের গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান। যেহেতু সব দাবি মেনে নিয়েছি সেহেতু আমরা আশা করি শিক্ষার্থীরা শনিবার থেকে আবারও ক্লাসে ফিরবেন এবং সচল হবে বুয়েটের স্বাভাবিক পরিবেশ’- আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

    এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় শিক্ষামন্ত্রী বুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বুয়েট আমাদের গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করি। যারা এখানে পড়াশোনা করেন তাদের অভিভাবকরাও সন্তানদের জন্য গর্ববোধ করেন।

    dipu

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি তার সবগুলোই যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়। তবে উপাচার্য চাইলেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তার সমাধান করতে পারতেন।

    দীপু মনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের সঙ্গে একধরনের ফারাক তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করব।

    মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা পজেটিভ।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হামজালা, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের শ্রেষ্ঠ মেয়র বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

    দেশের শ্রেষ্ঠ মেয়র বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ

    ঢাকা অবসার্ভারের জড়িপে ২০১৮-২০১৯ সালের শ্রেষ্ঠ মেয়র নির্বাচিত হলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসনার আব্দুল্লাহর জ্যেষ্ঠ পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ।

    এছাড়াও ২য় স্থানে রয়েছে চট্রগাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন ।

    ৩য় স্থানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ।

    ঢাকা অবসার্ভারেরে এই জড়িপ মেয়রদের উপর জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অবস্থান ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মকান্ডের উপর করা হয় ।

  • পিরোজপুরের প্রাক্তন সাংসদ আউয়ালকে ফের দুদকে তলব

    পিরোজপুরের প্রাক্তন সাংসদ আউয়ালকে ফের দুদকে তলব

    আওয়ামী লীগের পিরোজপুর-১ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারো তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তলবি নোটিশে তাকে আগামী ২৭ জুন দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আহমেদ রাসেল এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচালক প্রনব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আউয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তলব করা হলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজির হননি। তাই এবার আবার তলব করা হয়েছে।

    তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, নিয়োগ-বাণিজ্য, অবৈধভাবে সেতু-ফেরিঘাট ইজারা দেওয়াসহ টেন্ডার-বাণিজ্যের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তার যৌক্তির ব্যাখ্যা দিতেই দুদকে হাজির হতে হবে।

    পিরোজপুর-১ আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুবার আওয়ামী লীগের টিকিটে সাংসদ হন আউয়াল। তবে দ্বিতীয় দফা নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন, দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এ কারণে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি আউয়াল।

  • ‘আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি’ : মাহবুব তালুকদার

    ‘আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি’ : মাহবুব তালুকদার

    জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত।

    নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে তিনি এ কথা বলেন। ‘উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে আমার কথা’ শীর্ষক বক্তব্যে তিনি ছয়টি দফা তুলে ধরেন।

    মাহবুব তালুকদারের ৬ দফা হলো-
    ১. গতকাল ৫টি ধাপে এবারের উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচন সম্পর্কে সাংবাদিকরা আমার অভিমত জানতে চেয়েছেন। এসব নির্বাচন কতটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সে বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমি পূর্বে যা বলেছিলাম, এখনও তা-ই বলবো, আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করলে এর উত্তর পেয়ে যাবেন। প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছেই এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।

    ২. উপজেলা নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত ছিল, সে সম্পর্কে আমার কিছু বলার আছে। সংবিধানে ‘স্থানীয় শাসন’ শিরোনামে একটি সম্পূর্ণ পৃথক অনুচ্ছেদের ৫৯(১) ধারায় বলা হয়েছে−“আইনঅনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।” এতে প্রতীয়মান হয় স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যবর্গ প্রশাসনিক ও অন্যবিধ দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সরকারে কোনো বহিরাগতের হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই। অন্য কারো হস্তক্ষেপ হলে উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও শুদ্ধ হবে না। এমতাবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন বা উপজেলা নির্বাচন সংবিধানসম্মতভাবে হয়েছে কিনা, এ প্রশ্ন থেকে যায়।

    ৩. উপজেলা নির্বাচন সংসদ সদস্যদের আওতামুক্ত না হলে তা কখনো অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের উপদেষ্টার ভূমিকা উপজেলা পরিষদের কৌলিন্য বিনষ্ট করেছে। অনেক সংসদ সদস্য কেন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বসাতে চান, কখনোবা নিজদলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেন, এ প্রশ্নের সমাধান না পেলে উপজেলা নির্বাচন তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের কবলে পড়বেই। কোনো কোনো সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বা সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে হয়েছে।

    ৪. বিরোধীদলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা। একতরফা নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত এবং তা বহুত্ববাদের ভেতর থেকে উৎসারিত হতে হয়। একতরফা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের কোন অভিব্যক্তি প্রতিফলিত হয় না বলে এর কোনো ঔজ্জ্বল্য থাকে না। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত।

    ৫. এবারের উপজেলা নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। একটি গণতান্ত্রিক দেশ ও জাতির জন্য নির্বাচনবিমুখতা অশনিসংকেত। যথোপযুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। আমি আগেও বলেছি আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় শামিল হতে চাই না। নির্বাচন বিমুখতা জাতিকে গভীর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ। এই অবস্থা কখনো কাম্য হতে পারে না।

    ৬. আমরা সংবিধান অনুযায়ী মুক্ত স্বাধীন উপজেলা পরিষদের কার্যকারিতা দেখতে চাই। কারও আজ্ঞাবহ হয়ে দায়িত্বপালন করলে এবং উপজেলা পরিষদের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য বিসর্জিত হলে উপজেলা পরিষদ জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ প্রশ্ন নির্বাচনের ভালো-মন্দ নিয়ে নয়, নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হলে আদৌ নিয়মরক্ষার নির্বাচনের প্রয়োজন আছে কি? এই নেতিবাচক প্রশ্নের উত্তর থেকে আমরা ইতিবাচক পথের সন্ধান পেতে চাই।

    পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গত ১০ মার্চ শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ এবং পঞ্চম ধাপে ১৮ জুন ভোটগ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন।

    এর মধ্যে চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ছয়টি উপজেলায় এবং ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে চারটি ও শেষ ধাপে চারটি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করে ইসি।

  • টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিসিসির সাবেক কাউন্সিলর সহিদের বিরুদ্ধে মামলা

    টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিসিসির সাবেক কাউন্সিলর সহিদের বিরুদ্ধে মামলা

    প্রতারণার মাধ্যমে ৯ লাখ ৫২ হাজার ৬শ ৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিসিসির ২৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কাজি মনিরুল ইসলাম সহিদেও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১৮ জুন মঙ্গলবার বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একই ওয়ার্ডেও ইছাকাঠি এলাকার মৃত কাশেম আলী ফকিরের ছেলে আনিসুর রহমান ফকির মামলাটি দায়ের করেন।

    আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদীর পিতা ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর আগে বাদীকে নমিনি করে অগ্রণী ব্যাংক কাশিপুর শাখায় ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬শ ৯৪ টাকা রাখেন। মৃত্যুর পরে কাউন্সিলর সহিদ ওই টাকা বাদীর বোনের অধিকার আছে বলে দুইটি চেকের মাধ্যমে ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬শ ৯৪ টাকা আত্মসাত করেন।

    ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাদী ও তার বোনকে সাথে নিয়ে কাউন্সিলর সহিদের বাড়ি গিয়ে টাকার কথা জানতে চাউলে বাদীকে গালি গালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে বাদী বিমান বন্দর থানায় সিআর ৯৩/১৮ মামলা দায়ের করেন। টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রস্তাব দেন কাউন্সিলর সহিদ।

    পরে একই বছর ১৪ নভেম্বর ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেয় কাউন্সিলর সহিদ। বাকী ৯ লাখ ৫২ হাজার ৬শ ৯৪ টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে ঘুরাইতে থাকে। এ ব্যাপারে ২০১৯ সালের ১২ মে কাউন্সিলর কাজী মনিরুল ইসলাম সহিদের বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ প্রেরণ করেন। এরপর গত ১৪ জুন বাদীকে খুন জখমের হুমকি দেয় কাউন্সিলর সহিদ। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করেন আনিসুর রহমান।

  • মঠবাড়িয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র ৩ প্রার্থী বিজয়ী

    মঠবাড়িয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র ৩ প্রার্থী বিজয়ী

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচনে নৌকার মার্কা ও সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন । অন্য দু’টি পদেও বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

    চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের রিয়াজ উদ্দিন ৭ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম নৌকার মার্কার প্রার্থী হোসাইন মোশারফ সাকু পেয়েছেন ২১ হাজার ৩৯৮ ভোট। রিয়াজউদ্দিন মঠবাড়িয়া উপজেলার সদ্য সাবেক আওয়ামীলীগ দলীয় চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের আপন ভাই।

    এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিয়া পাখি প্রতীকের আরিফুর রহমান সিফাত ৪০,০৯০ ভোট ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাসরিন জাহান কলস প্রতীকে ৪২,০৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
    প্রসঙ্গত, উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষ নির্বাচনী দাঙ্গা হাঙ্গামায় জড়িয়ে পড়ে। দু’পক্ষের এ বিরোধে একজন নিহত ও একাধিক আহত হয়েছিল। ফলে নির্বাচন কমিশন পঞ্চম ধাপের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করে নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।

    পঞ্চম ধাপের স্থগিত হওয়া এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার। তবে অনুষ্ঠিত হওয়া এ নির্বাচন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বচ্চ তৎপরতায় শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিল।