Category: রাজণীতি

  • বরিশালে বিজয় দিবসে বিএনপির সমাবেশ ও র‌্যালী

    বরিশালে বিজয় দিবসে বিএনপির সমাবেশ ও র‌্যালী

    অনলাইন ডেক্স:

    আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির উৎসবের দিন, আনন্দের দিন। বাঙালি জাতির হাজার বছরের বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। একই সঙ্গে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের দিন।

    নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বরিশালে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সূর্যদয়ের সাথে সাথে শনিবার পুলিশ লাইন্সে ৩১ বার তোপধ্বনীর মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বরিশালে র‌্যালী ও সমাবেশ করেছে বিএনপি।

  • কামাল হোসেনকে দেখে নিতে আমি একাই যথেষ্ট: মতিয়া চৌধুরী

    কামাল হোসেনকে দেখে নিতে আমি একাই যথেষ্ট: মতিয়া চৌধুরী

    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শেরপুর-২ আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ড. কামাল হোসেন মাকাল ফল। যার বাইরে এক রকম আর ভিতরে অন্য রকম।

    শনিবার দুপুরে নকলা উপজেলার মুক্তিরবাজারে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ কথা বলেন তিনি।

    কামাল হোসেনের সাংবাদিককে ‘খামোশ’ বলে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, কামাল হোসেনকে দেখে নিতে আমি একাই যথেষ্ট। কামাল সাহেব তো আইনের লোক, আইনে তাকে দেখার মত সুযোগ রয়েছে।

    এদিন তিনি টালকী ও গোড়দার ইউনিয়নে বেশ ক’টি পথ সভায় বক্তব্য দেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ঐক্যফ্রন্টকে ভয় পেয়েছেন শেখ হাসিনা: রব

    ঐক্যফ্রন্টকে ভয় পেয়েছেন শেখ হাসিনা: রব

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে শেখ হাসিনা ভয় পেয়েছেন। নির্বাচন থেকে কিভাবে পালিয়ে যাওয়া যায় সেই পথ খুঁজছেন তিনি।

    ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের রোডমার্চের সময় শনিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সালাহ উদ্দিন সরকারের বাড়ি প্রাঙ্গণে এক পথসভায় তিনি একথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে আ স ম আবদুর রব বলেন, আপনি যদি চলে যেতে চান, তাও দেবো, আমরা বিজয়ী হলে কারো প্রতি নির্যাতন করবো না। ধানের শীষ শুধু বিএনপির প্রতীক নয়, এটা দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতীক।

    গাজীপুর-২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন সরকারের সমর্থনে এ পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকার।

    আ স ম আবদুর রব বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর উল্লাস করেছে, শেখ হাসিনা তাদের হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন।

    এ সময় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বাক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গাজীপুর ২ আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন সরকার প্রমুখ।

  • সরকার যতই চেষ্টা করুক নির্বাচনের মাঠ ছাড়ছি না: মির্জা ফখরুল

    সরকার যতই চেষ্টা করুক নির্বাচনের মাঠ ছাড়ছি না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নির্বাচনের মাঠে আছি, থাকবো, থাকা চেষ্টা করবো। সরকার যত চেষ্টাই করুক, নির্যাতন করুক আমরা মাঠ ছেড়ে যাবো না।

    বগুড়ায় দুই দিনের নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের উডবার্ণ মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে তাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশনও ঠুটোঁ জগন্নাথের মতো কাজ করছে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সাথে নির্বাচনের আগে সংলাপে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার একটাও বাস্তবায়ন করছে না। সরকার বলেছিল লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করবে। তা করছে না। ড. কামাল হোসেন ও আ স ম রবের মতো নেতাও ছাড় পাচ্ছে না।

    সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বগুড়া জেলা বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই। আমাকে বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী করার কারণ এটা দলের সিদ্ধান্ত। বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি এখানে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করতে পাঠিয়েছেন।

  • নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন ড. কামাল

    নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন ড. কামাল

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, জিয়া-খালেদার পর ড. কামাল এখন যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্র ও সমাজে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন। আর এই অপরাধবোধ থেকেই সম্ভবত তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে খেপে গিয়েছিলেন।

    মেনন বলেন, তবে তাঁর মনে রাখা উচিত এক মুখ ধমক দিয়ে বন্ধ করা যায়। কিন্তু কোটি মানুষের দেশবাসীর মুখ বন্ধ রাখা যায় না।

    আজ শনিবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মেনন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এ সভার আয়োজন করে।

    বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করে ড. কামাল বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যাওয়ার কেবল নৈতিক অধিকারই হারাননি, বুদ্ধিজীবী হত্যা, স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কথা বলার সব অধিকার তিনি হারিয়েছেন। তাই, সাংবাদিকেরা নয়, দেশবাসীর কাছে তারই ক্ষমা চাইতে হবে।’

    সাংবাদিকদের টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করা প্রসঙ্গে মেনন বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে প্রশ্ন করায় ড. কামাল যদি একজন সাংবাদিককে হুমকি দিতে পারেন। কত টাকা নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করছে বলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তাহলে আমরাও তাঁকে একই প্রশ্ন করতে পারি, তিনি কত টাকার বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসাতে মাঠে নেমেছেন। ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে ড. কামালরা ধরাকে সরা মনে করছে। তারা পাকিস্তানের আইএসের সঙ্গে আঁতাত করে রাজাকার–আলবদরের দোসরদের এখন ক্ষমতায় নিতে চায়।’

    যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে মেনন আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা যেমন আমাদের স্বাধীনতাকে কখনোই মেনে নিতে পারেনি, ঠিক তেমনি তাদের বংশধরেরাও আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব মানে না। অথচ ড. কামাল হোসেনদের মতো কিছু তথাকথিত স্বাধীনতার সপক্ষের লোক আজ স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে কেবল ঐক্যই করেনি, তাদের ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য ধানের শীষ মার্কায় নমিনেশনও দিয়েছে।’

    মেনন বলেন, দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের কেবল নির্বাচনেই নয়, দেশের সবকিছু থেকেই বয়কট করতে হবে। যেখানেই তারা ঐক্য করবে, সেখানেই তাদের প্রতিহত করতে হবে। তাদের যারা সমর্থন দেবে, একই সঙ্গে তাদেরও বয়কট করতে হবে।

    বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর সহধর্মিণী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কণক কান্তি বড়ুয়া, বিএমএর মহাসচিব ইহতেশাম আলমগীর, সাবেক সভাপতি সোহরাব আলী, বিএমএর সদস্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হোসেন, সদস্য মো. জাভেদ, পবিত্র দেবনাথ প্রমুখ।

  • প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারছেন, বাধা নেই

    প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারছেন, বাধা নেই

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা মনে করেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। সব প্রার্থী প্রচার চালাতে পারছেন, প্রচারে বাধা নেই।

    আজ শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি এ কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এসব কথা বলেন সিইসি।

    সংবাদ সম্মেলনে সিইসি জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটকক্ষের ভেতর থেকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। তবে ভোটকেন্দ্রের বারান্দা বা মাঠ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। তবে ভোটকক্ষের ভেতর থেকে ছবি তোলা যাবে ও চিত্র ধারণ করা যাবে।

    এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কে এম নুরুল হুদা আরও বলেন, দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য আলাদা নীতিমালা আছে। নীতিমালা অনুযায়ী তাঁরা বেশিক্ষণ ভোটকক্ষের ভেতরে অবস্থান করতে পারবেন না। কক্ষের ভেতরে ছবি তুলে সরাসরি সম্প্রচারও করতে পারবেন না তাঁরা। অবশ্য প্রয়োজনে কেন্দ্রের বাইরে ছবি তুলতে পারবেন। কেন্দ্রের ভেতরে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সাংবাদিকেরা মোবাইলে ছবি তুলে পারবেন। একই সঙ্গে শৃঙ্খলার স্বার্থে সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষকেরা যেন বড় বড় দলে ভোটকক্ষে প্রবেশ না করেন এবং বেশি সময় অবস্থান না করেন, সেই বিষয়ে আহ্বান জানান সিইসি।

    সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তিনি মনে করেন নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। সব প্রার্থী প্রচার চালাতে পারছেন, প্রচারে বাধা নেই। ড. কামালের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি তদন্ত করতে নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে পাঠানো হবে।

    বিনা ওয়ারেন্টে বা ফৌজদারি মামলা ছাড়া কাউকে যেন অহেতুক গ্রেপ্তার করা না হয়, সেই ব্যাপারে দু-এক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কে এম নুরুল হুদা। সারা দেশে হামলার খবরের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ করা এবং ইন্টারনেটের গতি কমানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন সিইসি।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

  • নোয়াখালীতে আ.লীগ বিএনপির সংঘর্ষে খোকন আহত

    নোয়াখালীতে আ.লীগ বিএনপির সংঘর্ষে খোকন আহত

    নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আহত ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকেল চারটার দিকে সোনাইমুড়ী বাজারে এ সংঘর্ষ হয়।

    আহত খোকনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ছাড়াও এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়, সোনাইমুড়ী বাইপাসের ১০টি পরিবহনের কাউন্টার ও চার-পাঁচটি দোকান, একটি কোম্পানির শো-রুম এবং চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানা-পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ছররা গুলিতে আহত বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল হোসেন (৩৫) ও বিএনপি কর্মী মো. সোহেলকে (৩০) ছররা গুলিতে আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি চিকিৎসক সৈয়দ কামরুল হোসাইন বলেন, বিএনপির প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। তাঁর পিঠে পাঁচটি ও থুতনিতে একটি গুলির আঘাত দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা শঙ্কামুক্ত। তিনি চাইলে কিছু সময় হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন আহত একজন। ছবি: প্রথম আলোপ্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় লোকজনের ভাষ্য, গতকাল দুপুরে সোনাইমুড়ী বাজারে নির্বাচনী শো ডাউন করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এইচ এম ইব্রাহিম। তিনি সোনাইমুড়ী কলেজ মাঠে পথসভা করেন। এরপর বিকেল চারটার দিকে বিএনপির প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন কয়েকশ নেতা-কর্মী নিয়ে সোনাইমুড়ী বাজারে নির্বাচনী মিছিল বের করেন।

    সূত্র জানায়, বিএনপির মিছিলটি সোনাইমুড়ী বাইপাস হয়ে বাজারের দিকে ঢোকার পথে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঢিল ছুড়লে দুই পক্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে বিএনপি কর্মীদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দেয়।

    আহত বিএনপি নেতা এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তিনি তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বাজারে গণসংযোগ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাঁর মিছিলে হামলা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুল মজিদ বিএনপির কর্মীদের ধাওয়া ও তাঁদের লক্ষ করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে তিনিসহ দলের কমপক্ষে ১০ জন নেতা-কর্মী ছররা গুলিতে আহত হয়।

    অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের বিএনপির মিছিলে হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা দুপুরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে চলে যান। বিকেল চারটার দিকে বিএনপির প্রার্থী কয়েকশ লোক নিয়ে বাজারে ওঠে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলা, দলীয় একটি নির্বাচনী কার্যালয়সহ দোকানপাটে হামলা ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালান। এতে আওয়ামী লীগের চার-পাঁচজন কর্মী আহত হয়।

    সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ বিএনপির কর্মীদের লক্ষ করে গুলির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির কর্মীরা নিজেরা নিজেরা মারামারিতে লিপ্ত হয়ে বাজারে তাণ্ডব চালিয়েছে। পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে তাঁদের পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিএনপির কর্মীরা এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল, দোকানপাট ভাঙচুর। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন কি না তিনি জানেন না।

  • বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ নেতার পা ভাঙল নিজ দলের কর্মীরা

    বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ নেতার পা ভাঙল নিজ দলের কর্মীরা

    বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনের শরণখোলা উপজেলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহজাহান বাদল জমাদ্দারকে (৫৫) পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দিয়েছে নিজ দলের কর্মীরা। শুক্রবার রাতে উপজেলার চালরায়েন্দা-তাফালবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যুবলীগের একটি গ্রুপ এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

    গুরুতর আহত আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রথমে শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এদিকে, শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন আকনের বাসভবনে দলের পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দলের একটি গ্রুপ জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে আতাত করে নির্বাচন ভন্ডুল করতে এ হামলা চালিয়েছে। এমনকি ওই গ্রুপের ছত্রছায়ায় থেকে হামলাকারীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আকন, সহ-সভাপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, এম সাইফুল ইসলাম খোকন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মধুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি বাজারে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে নৌকার নির্বাচনী সভা চলছিল। ওই সভার সভাপতিত্ব করা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মত-বিরোধের সৃষ্টি হয়। এসময় যুবলীগের একটি গ্রুপ সভা থেকে বেরিয়ে এসে চালরায়েন্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকা রায়েন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শাহজাহান বাদল জমাদ্দারের ওপর হামলা চালায় ।

    হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এতে তার ডান পা ভেঙ্গে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায় চায়ের দোকানের কেটলির গরম পানি ঢেলে দেয়া হয় তার শরীরে। এসময় চা দোকানি শহিদুল হাওলাদার (৫০) ঠেকাতে গেলে তিনিও আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা বাদল জমাদ্দারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

    শরণখোলা থানার ওসি দিলীপ কুমার সরকার বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগ নেতা বাদল জমাদ্দারকে উদ্ধার করে হাপাতালে আনা হয়। এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ড. কামালের গাড়িবহরে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি

    ড. কামালের গাড়িবহরে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি

    ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। আজ শনিবার দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি জানায়।

    পরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় সব জায়গায় প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ হচ্ছে। তাঁরা এসব আক্রমণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

    সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে আরও বলেন, গতকাল সিরাজগঞ্জে বিএনপির নারী প্রার্থী রুমানা মাহমুদের প্রচার মিছিলে গুলি করা হয়েছে। এতে তিনিসহ ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দিতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। তাই তাঁরা সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

    মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে বের হওয়ার পথে গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলা হয়। তিনি অক্ষত ফিরলেও তাঁর এবং জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের গাড়িসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাত–আটটি গাড়ি ভাঙচুর হয়। আহত হন ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী-সমর্থক।

  • পিঠে আঘাত করতে দেবেন না মির্জা আব্বাস

    পিঠে আঘাত করতে দেবেন না মির্জা আব্বাস

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার এলাকায় তাঁর নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘সশস্ত্র’ হামলা করেছেন। তিনি বলেছেন, হামলা-মামলা হলেও তাঁরা নির্বাচন থেকে পালিয়ে যাবে না। আঘাত এলে বীরের মতো বুক পেতে নেবেন, পিঠে আঘাত করতে দেবেন না।

    আজ শনিবার বিকেলে শাহজাহানপুরে নিজ বাসভবনে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায় তাঁর কম–বেশি ৬০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহত নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী। সেই প্রচারণা মিছিল থেকেও সাতজনকে আটক করার অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস।

    হামলার বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন,‘আমি নেতা-কর্মীদের বাইরে রেখে বাজারে ঢুকি। একপর্যায়ে হঠাৎ দেখি একদল ছেলে হিংস্র মারমুখী মনোভাব নিয়ে আমার নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটাচ্ছে। আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাদের থামানোর চেষ্টা করে আহত হয়েছেন। এক কর্মীর হাত ভেঙে গেছে। তাঁরা না থাকলে হয়তো আপনাদের সামনে কথা বলতে আসতে পারতাম না।তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে তো কোনো অস্ত্র ছিল না। লিফলেটই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এর মধ্যে আমরা আঘাতের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। জানে তো বেঁচে গেছি। তবে এমন আঘাত এলে বীরের মতো বুক পেতে নেব, পিঠে আঘাত করতে দেব না। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের ওপর হামলা-মামলা হচ্ছে, এসব মোকাবিলা করেই আমরা নির্বাচনে আছি। আমরা পলায়নপর হব না।’

    নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘চেষ্টা করব আমার সব ভোটারের কাছে পৌঁছানোর জন্য। কিন্তু না পারলে তা হবে নেহাত অপারগতা। আমার বাসায় লিফলেট পড়ে আছে, ওদের (আওয়ামী লীগের) লিফলেটে তো ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে। সরকারের যে বিরূপ আচরণ, তাতে তো নির্বাচনের ফলাফল অনুমেয়। তবুও আমি ভবিষ্যৎ বলতে চাই না।

    পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শাহবাগ ও রমনা থানায় অভিযোগ করেছি। রমনা থানা অভিযোগ গ্রহণই করল না।’ এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলেন, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করছে। আমরা ভোট দিতে যাব এবং আশা করব ভোটের প্রতিফলন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে আসবে।

    আব্বাসের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
    আজ দুপুরে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের জনসংযোগে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় ছয় থেকে সাতজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই আসনে নৌকার প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আজ বেলা একটার দিকে সেগুনবাগিচা এলাকায় গণসংযোগ করার সময় মির্জা আব্বাসের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সামনে ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথমে নৌকার পক্ষে স্লোগান দিয়ে আব্বাসের কর্মীদের ধাওয়া দেওয়া হয়, পরে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা হয়। ঘটনার সময় মির্জা আব্বাস কমিশনারের কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন।