Category: রাজণীতি

  • সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন কারাগারে

    সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন কারাগারে

    সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার দুপুরে এহছানুল হক মিলনকে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সফিউল আজমের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে তিনটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আগামী রোববার এসব মামলার শুনানি হতে পারে বলে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর আইনজীবী জানিয়েছেন।

    এহছানুল হক মিলনের আইনজীবী কামরুল ইসলাম জানান, মিলনের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের কচুয়া থানা ও আদালতে হত্যা, চুরি, ছিনতাই, লুটপাট, ভাঙচুর, সন্ত্রাসী হামলাসহ ২৫টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

    ৪৪৯দিন জেল খাটার পর ২০১২ সালের ৫ জুন জামিন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান মিলন। এ মাসের মাঝামাঝি তিনি গোপনে দেশে ফিরে আত্মগোপনে ছিলেন।

    চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, মিলনের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলায় পরোয়ানা থাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। মিলনকে রাতে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম থেকে শুক্রবার সকালে আনা হয় চাঁদপুরে। জেলা ডিবি কার্যালয়ে ও কোর্ট পুলিশ কার্যালয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা রাখার পর বেলা পৌনে ১টায় আদালতে ওঠানো হয়। বেলা সোয়া ১টায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    প্রায় ৫ বছর বিদেশে পালিয়ে থাকা ১৭ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মিলনকে চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চটেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৩ নভেম্বর থেকে ওই বাসাতেই ছিলেন তিনি।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর মিলনকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

    জানা যায়, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে এ মাসের মাঝামাঝি বিদেশ থেকে দেশে আসেন মিলন। দেশে এসে মিলনের চাঁদপুরের আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও হাজির হননি তিনি।

    এক সপ্তাহ ধরে মিলনের সঙ্গে পুলিশের চোর-পুলিশ খেলা শুরু হয়। মিলনকে গ্রেপ্তারে ছয় দিন ধরে চাঁদপুরের আদালত চত্বরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গত বুধবার সকাল থেকেও চাঁদপুর সদর পুলিশ সুপার (সার্কেল) জাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের কয়েকটি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা জজ আদালতের প্রতিটি প্রবেশ মুখ ঘিরে রাখে। তাই গ্রেপ্তার-আতঙ্কে গত ছয় দিনেও আদালতে আসেননি মিলন।

    মিলনের আইনজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, এভাবে আদালতের চতুর্দিকে পুলিশ প্রহরা থাকলে মিলন কেন, কোনো আসামিই আদালতে ভয়ে ঢুকতে পারবেন না। এ ব্যাপারে জাহেদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা মিলনের জন্য কোনো নিরাপত্তাবলয় তৈরি করিনি। আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরকারি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    মিলনের স্ত্রী নাজমুননাহার বেবির ভাষ্য, ‘মিলনসহ কচুয়ার বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী আদালতে গ্রেপ্তারের ভয়ে হাজির হতে পারছিলেন না। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিতভাবে নির্বাচনের আগে এই হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলাম।কিন্তু কেউ সহযোগিতা করেননি বলে দাবি বেবির।

    বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে মিলন, তাঁর স্ত্রী নাজমুননাহার বেবিসহ কচুয়ার শত শত বিএনপি নেতা-কর্মীকে আওয়ামী লীগের সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীরের লোকজন ও নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন মামলা দিয়ে ও হামলা চালিয়ে কচুয়াছাড়া করে রেখেছেন। আদালতে মিলনের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ছিনতাই, লুটপাট ও ভাঙচুরের ২৫টি মামলা রয়েছে।

  • জনগণ ভোটবিপ্লবের জন্য প্রস্তুত: মির্জা ফখরুল

    জনগণ ভোটবিপ্লবের জন্য প্রস্তুত: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটবিপ্লব হবে। নির্বাচনকে জনগণের রায়ে পরিণত করতে, জনগণ লড়াই করবে। কোনো কিছু করে আটকে রাখতে পারবে না। ভোটবিপ্লব হবে, জনগণ সেই ভোটবিপ্লবের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক সেমিনারে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন। ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা যখন নির্বাচনে যাচ্ছি, তখনো আমাদের অসংখ্য নেতা কারাগারে। আমাদের প্রার্থী হওয়ার উপযুক্ত যাঁরা, তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমনকি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় আসার পথে পথে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আবারও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য জোর করে সমস্ত অপকৌশলগুলো ব্যবহার করছে। জনগণের ওপর যখন কোনো আস্থা থাকে না, তখন এসব কৌশল নেওয়া হয়।’

    ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনকে একটি ‘আজ্ঞাবহ’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। আর ইসি নিজে থেকেই আজ্ঞাবহ হয়ে আছে। এ কারণে আজ জনগণের কোনো কথাই ইসির কানে যাচ্ছে না।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী, ২০–দলীয় জোটের অন্যতম নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ এ সময় বক্তব্য দেন।

  • নিপুণ রায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

    নিপুণ রায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

    বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নিপুণ ও আরিফাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। দুজনের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ নভেম্বর রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর আরিফা সুলতানাকে একই দিন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • সরকার ও ইসির বিরুদ্ধে মামলা হবে : রব

    সরকার ও ইসির বিরুদ্ধে মামলা হবে : রব

    সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেএসডির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আব্দুর রব।

    বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে আয়োজিত ‘ইভিএমকে না বলুন আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    রব বলেন, ‘আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ড. কামালের নেতৃত্বে ইসি ও সরকারের বিরুদ্ধে এ মামলা করব। সংবিধানের কোথাও ইভিএম ব্যবহারের কথা উল্লেখ নেই।

    সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ২(ক) তে বলা আছে, সংসদ গঠন হবে প্রত্যক্ষ ভোটে। সংবিধানে ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে ‘ডিরেক্ট’ শব্দটি উল্লেখ করা আছে, যার অর্থ প্রত্যক্ষ। ইভিএম প্রত্যক্ষ ভোটের আওতায় পড়ে না। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা সংবিধানবিরোধী। তাই সংবিধান সংশোধন ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

    তিনি বলেন, ‘ভোট দেয়া থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত সব নির্বাচনী প্রক্রিয়া জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকতে হবে। জনগণের কাছে এ মেশিনের স্বচ্ছতা নেই।

    নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডিবি, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলবো, আপনারা নিরপেক্ষ হোন। নির্বাচনের পর দেশে আপনারা থাকবেন, আমরাও থাকবো। আপনাদের ভূমিকার জন্য জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।

    এর আগে ইভিএমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানাভাবে ভোট জালিয়াতির কয়েকটি নমুনা দেখান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও দলের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দল।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মঈন খান, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আমীর খসরু মাহামুদ চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, ড. জাফরুল্লাহ, আন্দালিব রহমান পার্থ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

  • মাশরাফির বিপক্ষে লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির

    মাশরাফির বিপক্ষে লড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বিপক্ষে লড়তে নড়াইল-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

    বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন তিনি।

    মনির হোসেন সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে। তিনি শাহাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

    মনোনয়ন প্রত্যাশী মনির হোসেন বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমি কলস মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবো। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মনির হোসেনই এ আসনে প্রথম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিলেন।

  • কেন্দ্রে পাহারাদার নিয়োগের নামে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি: কাদের

    কেন্দ্রে পাহারাদার নিয়োগের নামে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি: কাদের

    ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারাদার নিয়োগের নামে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি, এটা সহ্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে তিনি বলেন, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ তো দূরের কথা, বাংলাদেশের কোথাও একটা রিপলও দেখলাম না। ফখরুল সাহেবরা স্বপ্ন দেখতেই পারেন। জনগণের ওপর যদি আস্থা থাকে তাহলে কীভাবে তারা অবিরাম অ্যাগ্রেসিভ মুডে কথা বলছে?

    বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা চালিয়ে গেলে তা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে বলে হুশিয়ার করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, আজকে এই ঐক্যফ্রন্টের চালিকাশক্তি হচ্ছে বিএনপি এবং এই ঐক্যফ্রন্টের সকল কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে লন্ডন থেকে। লন্ডন থেকে তারেক রহমান যে নির্দেশ দিচ্ছে তার অঙ্গুলি হেলানে আজকে ঐক্যফ্রন্ট চলছে, এটা হল বাস্তবতা।

  • ৯০ শীর্ষ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় ঐক্যফ্রন্ট

    ৯০ শীর্ষ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায় ঐক্যফ্রন্ট

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯০ জনেরও বেশি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছে সরকারবিরোধী জোটটি।

    আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের কাছে ওই কর্মকর্তাদের তালিকাসংবলিত চিঠি জমা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৩টি চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

    বিএনপির প্যাডে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে দেওয়া একটি তালিকায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ জনপ্রশাসনের কয়েকজন সচিব, জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন জেলা প্রশাসকের নাম রয়েছে। আরেক তালিকায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৭০ জন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তাঁদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

    চিঠি দেওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য পুলিশের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়া জন্য বলেছি। পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারের মতো পদধারী ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। যাঁরা সমতল মাঠকে অসমতল করার কাজে ব্যস্ত, তাঁদের নাম, পদবি, কর্মস্থলসহ সকল তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছি।

    মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সিইসি আজ নিরপেক্ষ থাকার জন্য পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছেন। আহ্বান জানানো মানে অনুরোধ করা। তিনি তো নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তাঁদের কাছে দালিলিক কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সে কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ তাঁদের কাছে তুলে ধরেছি এবং প্রতিকার চেয়েছি।

    ভবিষ্যতে যাতে এসব কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা যেগুলো আমাদের চোখে পড়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। ওনার পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বঙ্গভবনে এলাকার লোকজন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সেখানে তাঁদের রাষ্ট্রীয় খরচে আদর-আপ্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো প্রভাব বিস্তারের একটা অন্যতম উদাহরণ হিসেবে আমরা মনে করি।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এনটিএমসি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) বিতর্কিত দলকানা কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আছেন বলে মনে করেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিরা কিছুদিন আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারেক রহমানের স্কাইপ কথোপকথন বন্ধ করেছেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের আশপাশে ইন্টারনেট কার্যক্রম বন্ধ করেছেন, যেটাও আচরণবিধির লঙ্ঘন।

    বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার এখনো চলছে। গতকাল রাতেও বিভিন্ন জায়গায় গ্রেপ্তার হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও রয়েছেন। পোস্টার, বিলবোর্ডসহ প্রচারণাসামগ্রী সরানোর যে নির্দেশনা কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছিল, তা কাজে আসেনি। এখনো ঢাকা শহরের বহু জায়গায় নৌকা ও লাঙ্গলের পোস্টার রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। উপরন্তু, সিটি করপোরেশন ও আরও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারের উন্নয়নকাজের নামে নৌকার পক্ষে প্রচারকাজ অবিরাম চালানো হচ্ছে। এটা বন্ধ করার দাবি করা হয়েছে।

    আলাল বলেন, ‘আমরা ঢালাও অভিযোগ করি না। আজকে লিখিতভাবে সব তথ্যপ্রমাণসহ দিয়ে গেলাম। গণহারে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। এঁদের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দলবাজ কর্মকর্তাদেরও প্রত্যাহার চাওয়া হয়েছে।

    আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর। বাছাই ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দের সময় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

  • আ.লীগ ব্যবসা করে না, ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেয়

    আ.লীগ ব্যবসা করে না, ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেয়

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আধুনিক ট্যানারি ও স্বতন্ত্র চামড়াশিল্প অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। সরকার ইতিমধ্যে শিল্পাঞ্চলের উপযোগী স্থান নির্ধারণে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে নিজেরা ব্যবসা করে না। ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

    প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা চামড়াশিল্পের নেতাদের বলেন, আমি নির্বাচিত হলে শিল্পাঞ্চল ও ট্যানারি নির্মাণ করব। অন্যথায় আপনারা নিশ্চিত করবেন যে নতুন সরকার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রত্যেকটিতে বিশেষ করে চামড়াশিল্পের জন্য একটি করে স্থান রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    দেশে বিভিন্ন চামড়াশিল্প গড়ে তোলায় ব্যবসায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে, যেগুলো তাঁরা তাঁদের দেশে নিয়ে গিয়ে ফিনিশিং দিয়ে মার্কেটে দিচ্ছেন। তিনি চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, এই কাজগুলো যেন আরও ভালোভাবে করা যায়, আপনারা তা খেয়াল রাখবেন। এ জন্য যা কিছু সহযোগিতা দরকার, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে, আমরা তা করব।

    সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই সেক্টরটিকে আমি মনে করি বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। সেই সম্ভাবনাটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। সেই দিকে দৃষ্টি দিয়েই আমাদের সব রকম ব্যবস্থা নিতে হবে।’ রপ্তানি বাস্কেট বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সব সময় আপনাদের মাথায় রাখতে হবে আরও কোন কোন দেশে আমরা রপ্তানি করতে পারি। কোন দেশের চাহিদা কী, কোথায় আমরা আমাদের রপ্তানিটা বাড়াতে পারি। তাহলে আমাদের উৎপাদনও যেমন বাড়বে, দেশের মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, ব্যবসায়ীদের ব্যবসা এবং রপ্তানি উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

    কূটনীতি ছিল পলিটিক্যাল, এখন ইকোনমিক্যাল
    শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিজেরা ব্যবসা করে না বরং ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই তাঁর সরকার সব দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারদের বাংলাদেশে ডেকে তাঁদের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘একসময় কূটনীতিটা ছিল পলিটিক্যাল আর এখন হয়ে গেছে ইকোনমিক্যাল। কী ধরনের বিনিয়োগ আমাদের দেশে আসতে পারে, সেটাকেই খুঁজে নিয়ে আসা এবং সেভাবেই কাজ করতে হবে।

    রাজধানীর হাজারীবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ছিটিয়ে থাকা ট্যানারি শিল্পসমূহকে একটি পরিবেশবান্ধব জায়গায় স্থানান্তরের জন্য ঢাকার সাভারে ধলেশ্বরী নদীর তীরে ২০০ একর জমিতে চামড়াশিল্প নগরী স্থাপনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে ১১৫টি ট্যানারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে। তবে এটাকে আরও আধুনিকায়ন করা দরকার। এ সময় চামড়া সংগ্রহে কসাইদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে সংগ্রহকালে একটি বড় অংশ যে নষ্ট হয়ে যায়, তা আর নষ্ট হতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আনা জার্মান ব্র্যান্ড পিকার্ডের তৈরি চামড়ার ভ্যানিটি ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, এটি বাংলাদেশে তৈরি এবং জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকেও তিনি এটা দেখিয়েছেন যে এসব পণ্যও বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। তিনি বিদেশে যেখানেই যান এসব বাংলাদেশি পণ্য সঙ্গে করে নিয়ে যান বলে উল্লেখ করেন।

    তাঁর সরকারের সময় দেশে একের পর এক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম ও ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে সময়ের প্রয়োজনটা জেনে নিয়ে সেভাবে আমাদের হালনাগাদ হওয়ার দরকার।

    বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশিষ বসু, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারাস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সভাপতি সফিউল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন।

  • নারায়ণগঞ্জ থেকেও মনোনয়নপত্র নিলেন এরশাদ

    নারায়ণগঞ্জ থেকেও মনোনয়নপত্র নিলেন এরশাদ

    ঢাকা ও রংপুরের দুটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার পর এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

    এ বিষয়ে জেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ২০ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনের জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

    তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু জাহের কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘দলের সর্বোচ্চ নেতা চাইলে রূপগঞ্জে নির্বাচন করতে পারেন। সেখানে নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। প্রথমে এরশাদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ‘তাঁর (এরশাদ) সঙ্গে যোগাযোগ করেই মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এরশাদ নারায়ণগঞ্জ-১ ছাড়াও ঢাকা-১৭ এবং রংপুর-১ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে আগেই খবর বেরিয়েছে। কিছুদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে গুঞ্জন ছিল।

    বর্তমানে আসনটিতে শিল্পপতি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) আওয়ামী লীগের সাংসদ। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন দলের মোট ৯ জন প্রার্থী এই আসন থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এর আগে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মোট ৩৪ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান ভূঁইয়া প্রমুখ।

  • রংপুরের কোন এমপি বাদ পড়ছেন?

    রংপুরের কোন এমপি বাদ পড়ছেন?

    মনোনয়নের দর কষাকষিতে এবার ভাগ্য উল্টে যেতে পারে রংপুরের ছয়টি আসনের দু’একজন সংসদ সদস্যের। মনোনয়ন চূড়ান্তের শেষ মুহূর্তে ছয়টি আসনের মধ্যে ৩/৩ নাকি ৪/২ সমীকরণ সেটা নিয়ে এখন চলছে বিশ্লেষণ। যদিও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ.এম এরশাদ সম্প্রতি রংপুর সফরে এসে ঘোষণা দেন, ছয়টি আসনের একটিতেও ছাড় নয়। তবে শেষ পর্যন্ত জোটগতভাবে নির্বাচনে গেলে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ চারটি নাকি তিনটি আসন ছেড়ে দিচ্ছে এ নিয়ে স্থানীয় ভোটারসহ রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

    ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে চারজন এবং জাতীয় পার্টির দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরমধ্যে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, রংপুর-৩ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ.এম এরশাদ, রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্শি, রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ.এন আশিকুর রহমান এবং রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির এক প্রভাবশালী নেতা জানান, ৬টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ৩-৩ করে ভাগাভাগির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। তবে জাতীয় পার্টি থেকে আরো একটি আসন দাবি করা হয়েছে।

    সেক্ষেত্রে ৬টি আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টি চারটি এবং আওয়ামী লীগ দু’টি। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত বনিবনা হলে আওয়ামী লীগের বর্তমান চার সংসদ সদস্যের মধ্যে দুই জনকে বাদ পড়তে হচ্ছে। আর ৩-৩ করে সমঝোতা হলেও আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য এবার মনোনয়ন দৌড়ে টিকতে পারছেন না।

    সূত্রটি জানায়, রংপুর-৩ (সদর) আসনটি জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছে। জোটগত নির্বাচন হলে এবারও এরশাদ এই আসনে প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত।

    এছাড়া রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ির এলাকা। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে তিনিই নির্বাচিত হয়েছেন। পরে উপ-নির্বাচনে আসন ছেড়ে দিলে ২০০৮ সালে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ও ২০১৪ সালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    এবার প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার দু’জনই এই আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এই আসনে প্রধানমন্ত্রী অথবা স্পিকার নির্বাচন করবেন সেটা দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাকি রংপুর-১, ২, ৪ ও ৫ এ চারটি আসনের মধ্যে রংপুর-১ সহ আরো দু’টি আসন দাবি করেছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ তাদের দাবি মেনে নিলে ২, ৪ ও ৫ আসনের যেকোনো দুইজন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। তবে রংপুর-১ সহ আর একটি আসন ছেড়ে দিলে ওই তিনটি আসনের যেকোনো একজন সংসদ সদস্য বাদ পড়বেন।

    কার ভাগ্যে এবার নির্বাচনী টিকিট জুটছে না এ নিয়ে গোটা এলাকায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।