Category: রাজণীতি

  • হেভিওয়েট প্রার্থীরা নানা কারণে বাদ পড়তে পারেন: কাদের

    হেভিওয়েট প্রার্থীরা নানা কারণে বাদ পড়তে পারেন: কাদের

    হেভিওয়েট ব্যক্তি বা সাংসদ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দলের মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পড়তে পারেন, এ মুহূর্তে বলব না। চমক বলব না, নানা কারণে বাদ পড়তে পারেন।

    সচিবালয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সৌজন্যসাক্ষাৎ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাই জরিপে এগিয়ে থাকলেও কক্সবাজার-৪ আসনের (টেকনাফ-উখিয়া) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ আবদুর রহমান বদি এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা মনোনয়ন পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, উখিয়া-টেকনাফে আবদুর রহমান বদিকে বাদ দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, যদিও এখনো বিষয়টি ঘোষণা করা হয়নি। আরেকটি হচ্ছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের একটি হত্যার অভিযোগে আমানুর রহমান রানা জেলে আছেন। রানার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আতাউর রহমান খান ওই আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন।

    বদিকে বাদ দিয়ে তাঁর স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী কাদের বলেন, ‘ঘরে কি সবাই অপরাধী, আপনি অপরাধী হলে কি সবাই অপরাধী বা পরিবারের সব খারাপ লোক? বদি সম্পর্কে যে কন্ট্রোভার্সি আছে, তার কোনো প্রমাণ আছে? কন্ট্রোভার্সি থাকায় অলটারনেটিভ বেছে নিয়েছি।

    বর্তমান সাংসদ-মন্ত্রীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোন মন্ত্রী খারাপ, আমাকে বলুন। কীভাবে মেজার করব? বেইজটা (ভিত্তি) কী, অমুক খারাপ লোক?

    নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলীয় মনোনয়ন আপাতত শেষ হয়েছে। এখন জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালানো হচ্ছে। আসন ভাগাভাগির বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে। ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে, ২৪ বা ২৫ নভেম্বরের মধ্যে এসব প্রকাশ করা হবে।

    শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০ আসন দেওয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শরিকদের কাছে বিজয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী চাওয়া হয়েছে। যারা আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ, তাদের সঙ্গে সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ভাবার কারণ নেই। এ জন্য শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী দিতে হবে।

    জাতীয় পার্টির এইচ এম এরশাদের জোট ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে যাচ্ছি। কোনো ফাঁকফোকর নেই, এরশাদ সাহেবের অধিকার আছে, তিনি যদি অন্য কোথাও চলে যান, বাধা দিতে পারব না। মহাজোটের সমঝোতায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে বলে মনে করি না।’

    এ সময় স্কাইপে বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন যা বলেছে, সঠিক বলেছে। আকাশ সংস্কৃতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো মিজাইল নেই। এখানে তো অলরেডি হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার, এটি অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে, এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করা সাইবার ক্রাইম হিসেবেও হতে পারে।

    ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পে কিছু কিছু সমস্যা দূর করতে আলোচনা হয়েছে। বিআরটিসির গাড়ি নিয়ে মাথাব্যথা রয়েছে, এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রসঙ্গক্রমে নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। ভারত আশাবাদী, বাংলাদেশে একটি ভালো নির্বাচন হবে।

    দেশে স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার কথা ভারত বলেছে কি না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘স্থিতির জন্য এ সরকার কনটিনিউ করবে, এ কথা ইন্ডিয়া কেন বলবে? ভারত কি পারবে আমাদের জেতাতে? জনগণ যদি ভোট না দেয়, সেটা কি আমরা আশা করব? এটা তো আমাদের দেশ। এটা তো ইমপসিবল।

  • আবার শেখ হাসিনাকেই ক্ষমতায় দেখতে চায় ভারত

    আবার শেখ হাসিনাকেই ক্ষমতায় দেখতে চায় ভারত

    বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন নিয়ে ভারত আপাতদৃষ্টিতে বেশ নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। তবে নির্বাচনে তারা যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও বিজয়ী দেখতে চায়, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

    ক্ষমতাসীন বিজেপি ও সরকারের একাধিক নেতা-মন্ত্রী-নীতিনির্ধারক আলাপকালে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।বিজেপি তথা আরএসএসের (রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ) প্রভাবশালী এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, “গোটা দক্ষিণ এশিয়াতে শেখ হাসিনা হলেন আমাদের সবচেয়ে ‘টেস্টেড অ্যান্ড ট্রাস্টেড অ্যালাই’।

    এই বন্ধুত্ব পরীক্ষিত, আস্থার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। তাকে ছাড়া আমরা ঢাকার ক্ষমতায় অন্য কাউকে ভাবতেই পারি না। শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষ হাতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন বলেই এবার বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতকে একেবারেই মাথা ঘামাতে হচ্ছে না, এমনটাও মনে করছেন ওই বিজেপি নেতা।‘যেভাবে তিনি বিরোধী জোটকেও সংলাপে ডেকে তাদের আস্থায় নিয়েছেন, নিজে অনেক বেশি অ্যাকোমোডেটিভ হয়ে বিএনপিকেও নির্বাচনে আসতে বাধ্য করেছেন— তাতে বলাই বাহুল্য, এবারের নির্বাচন অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক হতে যাচ্ছে।

    এই কৃতিত্বও পুরোপুরি শেখ হাসিনার বলেই আমরা মনে করি’, বলছিলেন তিনি।বাংলাদেশে ২০১৪ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য চেহারা দিতে ভারতকে যেরকম সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল, এবারে তার কোনও প্রয়োজনই হচ্ছে না শেখ হাসিনার দক্ষ ও উদার রাজনীতির কারণে এমনটাই বিশ্বাস সাউথ ব্লকেরও।

    কিন্তু কেন নির্বাচনে শেখ হাসিনার কোনও বিকল্প দেখতে চায় না ভারত?নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার একজন সিনিয়র সদস্য বলেন, ‘অনেকগুলো কারণে। প্রথমত গত দশ বছরে শেখ হাসিনার শাসন আমলে দুদেশেরসম্পর্ক যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা একসময় কল্পনাও করা যেতো না। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলো যে আজ শান্ত, তারা দিল্লির সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসছে এর পেছনে শেখ হাসিনার অবদানও কম নয়।’তিনি বলেন, ‘কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও দুদেশের মধ্যে একটা নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটে গেছে।

    আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে বাস কলকাতায় আসছে, আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ ঢুকে পড়ছে আশুগঞ্জ বন্দরে, দুদেশের মধ্যে রোজ বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলছে, আমাদের কার্গো শিপ চট্টগ্রামে ভিড়তে যাচ্ছে— এটাই বা কে ভাবতে পেরেছিল?

    বিজেপির এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাপবিদ্যুৎ খাতে, রেল-সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ও আরও নানা শিল্পে বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন সংস্থার এখন শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে এই বিপুল লগ্নি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    সুতরাং আমরা খামোখা কেনই বা ঢাকার ক্ষমতায় পরিবর্তন দেখতে চাইবো?’কিন্তু শেখ হাসিনাকে বিজয়ী দেখতে চাইলেও ভারতের বিরুদ্ধে যাতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনও অভিযোগ না ওঠে, সে ব্যাপারেও দিল্লি এবার অতিরিক্ত সতর্কতা দেখাচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী যেমন বলছেন, ‘হস্তক্ষেপ বলতে যদি বোঝায় ভোটে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা, নির্বাচনি কারচুপি বা পেশিশক্তির সাহায্যে কোনও পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর চেষ্টা করা, তাহলে ভারত কোনোদিনই কোনও প্রতিবেশী দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি, করবেও না।

    তিনি বলেন,কিন্তু আমাদের কোনও প্রতিবেশী দেশে আমরা পছন্দের কোনও দলকে যদি জয়ী দেখতে চাই,তার মধ্যে কিন্তু কোনও অন্যায় নেই। বিশ্বের সব দেশই চায় তাদের প্রতিবেশী দেশে বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার আসুক, যাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে।

    এই চাওয়াটা শতকরা একশ’ শতাংশ সঙ্গত বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভারতের সেই ‘চাওয়া’টা বহাল থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত।

    বাংলাদেশের নির্বাচনে আর একটা যে বিষয়কে ভারত অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে সেটা হলো, এবারে ভারতবিরোধী কথাবার্তা প্রায় কোনও দলের মুখেই শোনা যাচ্ছে না।দিল্লির থিংকট্যাংক বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো শ্রীরাধা দত্তের কথায়, ‘একসময় বাংলাদেশে বিরাট স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু ছিল ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া।

    কিন্তু সেটা নিয়ে এখন আর কেউ মাথাই ঘামাচ্ছেন না। এমনকী না হওয়া তিস্তা চুক্তিও এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে বড় কোনও নির্বাচনি ইস্যু হয়ে ওঠেনি।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ থেকে ভারত বিরোধিতার এজেন্ডা যে ধীরে ধীরে অন্তর্হিত হয়েছে, এর পেছনেও ভারতের পর্যবেক্ষকরা প্রধান কৃতিত্ব দেন শেখ হাসিনাকেই।

    তারা বলছেন, অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ভারতের সঙ্গে নানা বন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিয়েছেন, এতে আসলে দুদেশেরই লাভ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতার এজেন্ডা জিইয়ে রাখা পুরোপুরি অর্থহীন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মিলার ঢাকায়

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মিলার ঢাকায়

    বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ঢাকায় পৌঁছেছেন। দায়িত্ব নিতে গতকাল রোববার তিনি ঢাকায় পৌঁছান। আজ সোমবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এসব কথা বলা হয়েছে।

    ২০১৪ সাল থেকে আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় মার্কিন মিশনের দায়িত্ব শেষে ঢাকায় এলেন আর্ল রবার্ট মিলার। তিনি রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।

    বার্নিকাট বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন সাড়ে তিন বছর ধরে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত জুলাই মাসে মিলারকে ওই পদের জন্য মনোনীত করেন। গত ১১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে।

    আর্ল রবার্ট মিলার ১৯৮৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নয়াদিল্লি, বাগদাদ ও জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

    মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনাইটেড স্টেটস মেরিন কপস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর মার্কিন মেরিন কোরে যোগ দেন আর্ল রবার্ট মিলার। এর মধ্যে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মেরিন কোরে এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত মেরিন কোর রিজার্ভে অফিসার পদে ছিলেন।

  • মনোনয়ন পেয়েছেন বলে নিউজ আসছে, সব ভুয়া: ওবায়দুল কাদের

    মনোনয়ন পেয়েছেন বলে নিউজ আসছে, সব ভুয়া: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কাউকে আমরা দলের পক্ষ থেকে এখনো মনোনয়ন দেইনি। জোটগতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। যারা দাবি করছেন বা মনোনয়ন পেয়েছেন বা বাদ পড়েছেন বলে নিউজ আসছে, সব ভুয়া। আজ বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

    ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে একটি দল নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে। সারাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছিল। শিডিউল ঘোষণার পর মনোনয়ন দেওয়ার পর্যায়ে তারা পরিকল্পিতভাবে মনোনয়ন সংগ্রহের নামে সারাদেশ থেকে তাদের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের জড়ো করে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী অপরাধী বলেও এসময় দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষকনেতারাও নির্বাচনী মাঠে

    শিক্ষকনেতারাও নির্বাচনী মাঠে

    আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন অন্তত ১৫ জন শিক্ষকনেতা।

    আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন অন্তত ১৫ জন শিক্ষকনেতা। দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর তাঁরা এখন প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছেন। নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান শিক্ষকনেতারা।

    আওয়ামী লীগের হয়ে যেসব শিক্ষকনেতা নির্বাচন করতে চান, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) সভাপতি আসাদুল হক। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে নির্বাচন করতে চান। এই আসনের বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির নেতা শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।

    রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, তাঁর এলাকায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হয়ে এখন এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে চান তিনি।

    আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে চান স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ-সরাইল) আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই আসনের বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শাহজাহান আলম বলেন,দেশে লাখ লাখ শিক্ষক থাকলেও সংসদে সেই অর্থে শিক্ষকদের প্রতিনিধি নেই। এ ছাড়া তাঁর আসনে ১৯৭৩ সালের পর আওয়ামী লীগ জিততে পারেনি। এ জন্য নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে দুঃখ–বেদনা আছে, সেটা তিনি ঘোচাতে চান।

    রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুর রশীদ জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। নির্বাচন করতে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় জনসংযোগ চালিয়ে আসছেন। আবদুর রশীদ বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সভাপতির পাশাপাশি তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগেরও সভাপতি। এই আসনের বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির মোহা. মামুনুর রশিদ।

    নেত্রকোনার সুসং কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।

    আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন (ভোলা-৪), আইন বিভাগের শিক্ষক ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সেলিম মাহমুদ (চাঁদপুর-১)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো.আবদুল্লাহ সাতক্ষীরা-৩ আসনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। কুমিল্লা–৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন অধ্যাপক মোস্তফা কামাল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য। এ ছাড়া বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির নীলফামারী জেলা কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবারও মনোনয়নের চেষ্টা করছেন। তিনি নীলফামারী-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ।

    খুলনা-৫ আসনের সাংসদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক। খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক এই সভাপতি এবারও মনোনয়ন চাইবেন।

    বিএনপি থেকে যাঁরা

    ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) এবং কুমিল্লা-৩ (হোমনা-তিতাস) আসনের যেকোনো একটিতে নির্বাচন করার জন্য চেষ্টা করছেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। রাজধানীর এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ দুটো আসনের জন্যই দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য তিনি সংসদে গিয়ে কথা বলতে চান। এ জন্যই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

    দিনাজপুর-২ (বোচাগঞ্জ-বিরল) আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে চান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি মনজুরুল ইসলাম। তিনি বিরলের মাইনুল হাসান কলেজের প্রভাষক। একই সঙ্গে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিরও সদস্য।

    শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের বরিশাল বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন পিরোজপুর–১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। তিনি স্থানীয় তেজদাসকাঠী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

    জয়পুরহাটের শহীদ জিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হক জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে শিক্ষক মোখলেছুর রহমান, মেহেরপুর-১ (সদর) আসনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব মো. জাকির হোসেন নির্বাচন করতে চান।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দলের আহ্বায়ক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তিনি বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকা অবস্থায় কীভাবে নির্বাচন করবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো বিষয়টি তিনি পরিষ্কার নন। তবে যত দূর শুনেছেন ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পদত্যাগ করেই নির্বাচন করতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক মামুন আহমেদের পক্ষে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি।

  • ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গণফোরামে,নির্বাচনও করবেন

    ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গণফোরামে,নির্বাচনও করবেন

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল গণফোরামে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। আজ সোমবার বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে গিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন।

    ড. কামালের চেম্বারে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগ দেন তাঁরা। এই সেনা কর্মকর্তারা হলেন: লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শেখ আকরাম আলী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. শহিদুল্লাহ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ ফ ম নুরুদ্দিন, মেজর (অব.) মাসুদুল হাসান, মেজর (অব.) মো. ইমরান, মেজর (অব.) বদরুল আলম সিদ্দিকী, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) ফোরকান আলম খান, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মো. হাবিব উল্লাহ, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মো. মাহমুদ।

    সুব্রত চৌধুরী সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর জাতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জের দিন। সেই দিনে দেশে আমরা শুভ পরিবর্তনের লক্ষ্যে নির্বাচনে যাচ্ছি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে। আজ যাঁরা যোগদান করলেন, তাঁরা এ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন।

    যোগদানকারী লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর বলেন, ‘সেনাবহিনীর কর্মকর্তা আমরা যাঁরা বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রমে ছিলাম, তাঁরা ভাবলাম এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের দায়িত্ব পালন করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেশ উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হবে, দেশে নিখুঁত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশকে একসঙ্গে তাঁরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

  • জেনে-শুনে-বুঝে মন্তব্য করুন

    জেনে-শুনে-বুঝে মন্তব্য করুন

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তাঁর বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে তাঁকে জেনে, শুনে, বুঝে মন্তব্য করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না, তারা ধোয়া তুলসীপাতা। আমরা বুক ফুলিয়ে স্বীকার করি আমাদের এখানে দুর্নীতি আছে। আমরা ব্যবস্থাও নিই। আমাদের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি গেছে। অনেকের বিভাগ পরিবর্তন হয়েছে। অনেককে অন্য কোথাও চাকরিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ৮ নভেম্বর আয়কর বিভাগে দুর্নীতির উৎস এবং তা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পাঠানো হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। তাতে দুর্নীতির ১৩টি উৎস এবং সার্বিক দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৩ দফা সুপারিশ ছিল। ওই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উষ্মা প্রকাশ করেন। ১১ নভেম্বর আয়কর মেলা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে দুদকেও নানা ধরনের দুর্নীতি বের হবে। তিনি বলেন, শুধু কর ও শুল্ক বিভাগকে লক্ষ্য করে কোনো কিছু করা হলে এবং এসব বিভাগে দুদকের অফিস করতে চাইলে, সেটা হতে দেওয়া হবে না।

    দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এনবিআরের দুর্নীতি দূর করা, কারণ বা উৎস অনুসন্ধান আমাদের কাজ নয়। কাউকে ধরে জেলে দেওয়াও আমাদের কাজ নয়। আমরা স্পাই (গোয়েন্দা) নই। এটা আপনার কাজ। আপনার দায়িত্ব। আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, “টেল আস” (আমাদের বলুন)।

    ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘সবকিছু স্বীকার করতে সাহস লাগে। ভিশন লাগে। আমরা চাই সবাই দুদকের দুর্নীতির উৎস খুঁজুক। আমরা সবার সমালোচনা ইতিবাচকভাবেই দেখি।’

    আয়কর বিভাগের দুর্নীতির কারণ চিহ্নিত করা ও সুপারিশ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের কাছে দেওয়া ওই অনুসন্ধান ও সুপারিশের বিষয়টি আমলে নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তিনি আরও বলেন, ‘এটা শতভাগ সঠিক না-ও হতে পারে। আমরা আমাদের প্রতিবেদনের কোথাও কি লিখেছি যে আমরা এনবিআরে আমাদের অফিস বসাতে চাই? এটা নিয়ে হঠাৎ করা তাঁর (এনবিআর চেয়ারম্যান) মন্তব্য হাস্যকর।

    সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে যাঁরা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাঁরা হলফনামায় সম্পদের সঠিক হিসাব দেবেন বলে তাঁর বিশ্বাস। কেউ সঠিক তথ্য না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে দুদক অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, কোনো দুর্নীতিবাজকে দেশের মানুষ নির্বাচিত করবে। যদি এমন কিছু হয়, তাহলে আমরা আমাদের আওতায় আনার চেষ্টা করব এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনকারীদের চরিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরব।’

    দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে ইসিতে দুদকের সুপারিশ থাকবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘না, সুপারিশ আমাদের থাকবে না। কারণ হচ্ছে, আরপিও অনুসারে যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন, তাতে আমাদের কিছু করার নেই। সেটার সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ইসিকে কিছু বলব না বা সুপারিশ করব না। এটা তাদের বিষয়। সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

  • উত্তরায় দুদকের অভিযান,মিলল তিতাস গ্যাস চুরির প্রমাণ

    উত্তরায় দুদকের অভিযান,মিলল তিতাস গ্যাস চুরির প্রমাণ

    রাজধানীর উত্তরায় তিতাস গ্যাস চুরির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গ্যাসের ওই অবৈধ সংযোগ-বাণিজ্য চলছিল। আজ সোমবার এই অভিযান চালানো হয়।

    দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রাজধানীতে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিয়ে বাণিজ্য চলছে। ‘বিচ্ছিন্ন করা অবৈধ সংযোগ আবারও চালু করে ব্যবহার হচ্ছে’, দুদকের হটলাইনে (১০৬) এমন অভিযোগ পেয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কে একটি আবাসিক হোটেলের গ্যাস-সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আবাসিক ভবনটিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হোটেল ও রেস্তোরাঁর ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। তবে বিল দেওয়া হতো আবাসিক হিসেবে। দুদক দলের উপস্থিতিতে তিতাসের কর্মকর্তারা হোটেলটিকে সিলগালা করাসহ ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। তিতাসের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এ দুর্নীতি ঘটছে বলে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ।

    দুদকের অভিযানে দেখা যায়, ওই এলাকায় আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ গ্যাস চুরি হচ্ছে। অভিযানে উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার-সংলগ্ন ক্যাফে ঝিল রেস্তোরাঁর ১০টি চুলার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক প্রতিষ্ঠানটিকে পৌনে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করে।

    দুদকের সহকারী পরিচালক সেলিনা আখতার মনির নেতৃত্বে উপসহকারী পরিচালক মো. সবুজ হাসান, পুলিশসহ আট সদস্যের একটি দল ওই অভিযান চালায়। এ সময় তিতাসের ভিজিল্যান্স-উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. শাহিদ হোসেন সোহাগ ও সহকারী প্রকৌশলী নুরুন্নবী মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচনের আগে বিকল্পধারার আদর্শ-চিন্তা বুঝতে চায় ভারত

    নির্বাচনের আগে বিকল্পধারার আদর্শ-চিন্তা বুঝতে চায় ভারত

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিকল্পধারার চিন্তাভাবনা কেমন, তা বুঝতে চায় ভারত। বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি চৌধুরী) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন।

    আজ সোমবার দুপুরে বি চৌধুরীর আমন্ত্রণে তাঁর বারিধারার বাসভবন যান ভারতীয় হাইকমিশনার। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনের রাজনৈতিক সচিব রাজেশ সাইকি।

    বৈঠক শেষে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্বাচনের আগে বিকল্পধারার আদর্শ ও চিন্তা কেমন, তা বুঝতে চেয়েছেন তিনি।

    ভারতীয় হাইকমিশনার চলে যাওয়ার পর বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দুদেশের সুসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনে বড় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সহায়তা প্রয়োজন—এ বিষয়টি নিয়েও কথা হয়েছে।

    বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ভারতের সঙ্গে নদীর পানিবণ্টনের বিষয় নিয়ে বিকল্পধারা তাদের মনোভাব জানিয়েছে।

    মহাজোটের সঙ্গে জোট বাঁধার বিষয়ে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেন, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে মহাজোটের সম্পর্ক হচ্ছে রাজনীতিতে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা। স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তির সঙ্গে ঐক্য করে রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয় নিয়েও ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রউফ মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক প্রমুখ।

  • তসলিমা নাসরিন হিরো আলমকে নিয়ে যা বললেন

    তসলিমা নাসরিন হিরো আলমকে নিয়ে যা বললেন

    বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো হিরো আলম নিয়ে পড়েছে। পাগলের মতো তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে সবাই। বাজারের জনপ্রিয় গানের সঙ্গে লিপ মিলিয়ে ভাড়া করা ‘অভিনেত্রী’র সঙ্গে তার যে নাচানাচির ভিডিও ইউটিউবে আছে, সেগুলো নিতান্তই কুরুচিপূর্ণ, হাস্যকর এবং বিরক্তিকর জিনিস।

    সেগুলোর দর্শক বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। মানুষের ‘ভালোবাসা’ পেয়ে হিরো আলম এখন ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। একসময় মন্ত্রী হবেন। হয়তো প্রধানমন্ত্রীও হবেন। আসলে হিরো আলম বাংলাদেশের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য উপযুক্ত লোক। দেশটাও হিরো আলমের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে এতদিনে।

    গরিব থেকে ধনী হলে, বা স্ট্রাগল করে বড় হলে বা সোজা সরল হলেই কি ভোটে দাঁড়ানোর যোগ্য হয় কেউ? লোকে বলে হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত আর কুটিল জটিল রাজনীতিক দেখতে দেখতে মানুষ এখন সাদাসিধে কাউকে দেখলেই তাকে দেশ শাসনের ভার দিতে চায়।

    সাদাসিধে আর সৎ হলেই যে ভালো রাজনীতিক হওয়া সম্ভব তা তো নয়।

    রাজনীতির জগতটাকে একটা সার্কাস বানিয়ে ফেলেছে দেশটা। বাংলাদেশের সংসদে তো কম ক্লাউন নেই। হিরো আলম নামে নতুন এক ক্লাউনের নিশ্চয়ই ওখানে জায়গা হবে।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)