Category: রাজণীতি

  • থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা

    থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা

    সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটে’ সব ধরনের উদযাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৩০ তারিখ আমাদের নির্বাচন। পরদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ কারণে কোনো জনসমাগমস্থল, খোলা জায়গা বা ছাদে কাউকে কোনো ধরনের উদযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত থাকবে। কাজেই আমরা নিরুৎসাহিত করছি কোনো জায়গায় যেন থার্টি ফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান না হয়।’ থার্টি ফার্স্টে কোথাও কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেখানে ডিজে পার্টি করা, আতশবাজি কিংবা পটকা ফোটানো যাবে না বলেও জানান তিনি।

    আসাদুজ্জামান খান বলেন, উদযাপন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও বার ছাড়া সব বার-হোটেলে ৩১ ডিসেম্বর বিকেল থেকে ১ জানুয়ারি বিকেল পর্যন্ত বিয়ার-ওয়াইন এবং এ ধরনের পানীয় নিষিদ্ধ থাকবে। তিনি আরও জানান, এ দিনে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ থাকবে।

    খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উদযাপনে আতশবাজি ও পটকাবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই দিন দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার গির্জায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া ২৫ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর কূটনৈতিক পাড়া গুলশান-বনানী-বারিধারায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • আমি চাচ্ছি একটা নতুন বাংলাদেশ : রেজা কিবরিয়া

    আমি চাচ্ছি একটা নতুন বাংলাদেশ : রেজা কিবরিয়া

    শাহ এমএস কিবরিয়ার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের জন্য কিছু আনুগত্য থাকতে পারে। কিন্তু তার প্রথম লক্ষ্য হলো দেশের অগ্রগতি- উল্লেখ করে তার ছেলে রেজা কিবরিয়া বলেন, এটা থেকে আমি সরিনি, আমার বাবার আদর্শ থেকে সরতে চাই না। এ রূপে বাংলাদেশ আমি দেখতে চাই না, আমি চাচ্ছি একটা নতুন বাংলাদেশ। আমি যে বাংলাদেশ চাচ্ছি, আমার মনে হয় আর কারও সেই ভিশন, সেই স্কোপ যেটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল; দেশটার ওই স্বপ্ন ফেরত আনার মতো আর কেউ নাই ড. কামাল ছাড়া।

    আজ দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে আনুষ্ঠানিকভাবে গণফোরামে যোগদানের সময় একথা বলেন তিনি।

    সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া বলেছেন, আমি যে বাংলাদেশ চাচ্ছি, আমার মনে হয় আর কারও সেই ভিশন বা স্কোপ যেটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ফেরত আনার মতো ড. কামাল ছাড়া আর কেউ নেই।

    এ সময় তার এক পাশে ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও অন্যপাশে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

  • সাক্ষাৎকার কারা নেবেন সেটা বিএনপির নিজস্ব ব্যাপার: মির্জা ফখরুল

    সাক্ষাৎকার কারা নেবেন সেটা বিএনপির নিজস্ব ব্যাপার: মির্জা ফখরুল

    দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে কারা সাক্ষাৎকার নেবেন সেটা বিএনপির নিজেদের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটা নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার কারও নেই।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এর আগে, সকাল থেকে সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। এতে লন্ডন থেকে স্ক্যাইপির মাধ্যমে মনোনয়ন বোর্ডে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ মধ্যে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ নভেম্বর।

  • ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশি হিন্দুরা বাদ?

    ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশি হিন্দুরা বাদ?

    বিরোধীদের ক্ষোভ সামাল দিতে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে বাংলাদেশি হিন্দুদের বাদ দেওয়া হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) এমনই সুপারিশ করবে বলে অনুমান অসমিয়া গণমাধ্যমের।

    বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও শিখদের নাগরিকত্ব দিতে ভারতের পার্লামেন্টে একটি বিল আনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। বিলটি বর্তমানে রাজেন্দ্র আগরওয়ালের নেতৃত্বাধীন জেপিসির বিবেচনাধীন।

    বিলটিকে ঘিরে আসামের রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি চলছে উগ্রপন্থীদের হুংকার। এর মধ্যে পাঁচ বাঙালি হিন্দু খুনও হয়েছেন।

    এ অবস্থায় জেপিসির সদস্য ভুবনেশ্বর কলিতার সঙ্গে কথা বলে অসমিয়া সংবাদমাধ্যম টাইমএইট জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের বাদ দিয়ে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দুদেরই নাগরিকত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।

    ২০ নভেম্বর দিল্লিতে বসছে জেপিসির বৈঠক। জানা গেছে, বৈঠকের আগে সদস্যদের বক্তব্য লিখিতভাবে পেশ করতে বলা হয়েছে।

    নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে আসামের ৭০টি সংগঠন। এ মাসের শেষে তারা ‘হিন্দু বাংলাদেশি’দের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ‘সত্যাগ্রহ’ করবে বলে জানিয়েছে।

    অহম ছাত্র সংস্থার (আটাসু) সভাপতি বসন্ত গগৈ গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসামে বাংলাদেশিদের কোনো স্থান নেই।

    আরেক ধাপ এগিয়ে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা অখিল গগৈ বলেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের চেষ্টা হলে আসামের বিজেপি সরকারকে ব্রহ্মপুত্রের পানিতে নিক্ষেপ করা হবে।

    অখিলের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাস হলে অন্তত ১ কোটি ৯০ লাখ বাংলাদেশি হিন্দু আসামে চলে আসবে। এ কারণে অসমিয়ারা হারাবেন নিজেদের ভিটেমাটি।

    অখিলের এই তথ্য মানতে নারাজ বিজেপির বিধায়ক শিলাদিত্য দেব। তিনি হিন্দুদের ভারতে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিরোধিতা করেছেন মুসলিম অনুপ্রবেশের।

    বিজেপির বাইরের প্রায় প্রতিটি দলই নাগরিকত্বে জাতপাতের রাজনীতিকে গুরুত্ব না দেওয়ার পক্ষে। তারা ২৪ মার্চ ১৯৭৪-কে নাগরিকত্বের ভিত্তি বছর হিসেবে বহালের পক্ষে।

  • হয়রানি মূলক মামলা কিছুটা হলেও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে

    হয়রানি মূলক মামলা কিছুটা হলেও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে

    নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির মামলাসংক্রান্ত তালিকা তাঁরা এখনো দেখেননি। তালিকা দেখে যদি মনে হয় যে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, তাহলে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হবে যেন হয়রানিমূলক মামলা না দেওয়া হয়। হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হলে কিছুটা হলেও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে আজ রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তথ্যপ্রমাণসহ কেউ অভিযোগ করলে নির্বাচন কমিশন আইনে কী আছে, সেটি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নির্বাচনের আগাম প্রচারসামগ্রী বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগাম প্রচারসামগ্রী আজ দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে সরাতে হবে। আগাম নির্বাচনসামগ্রী কেউ না সরালে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

    বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘থ্যাংক ইউ পিএম’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এটি দেখেছেন। চ্যানেলগুলোর নিজস্ব নীতিমালা আছে, টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই, সে ইচ্ছাও নেই।

    তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনটিতে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্য কোনো দল এমন প্রচার করতে চাইলে সেটা করতে পারে। কেউ যদি এ বিষয়ে অভিযোগ করে, তাহলে এ বিষয়ে আইনে কী আছে, তা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এটি আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না।

    নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তা, কাউকে এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যদি অতি উৎসাহী কোনো পুলিশ এ ধরনের কাজ করে থাকে, কেউ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে আসা নাম, ঠিকানাগুলো যাচাই করা করা হবে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নির্বাচনী কর্মকর্তা কারা হবেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, কারা নির্বাচনী কর্মকর্তা হবেন, এ–সংক্রান্ত নীতিমালায় অনেকগুলো শর্ত আছে। যদি কেউ দণ্ডপ্রাপ্ত হন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, এটা যাচাই করার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। কাজটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কেউ করে দিতে হবে। এ রকম ক্ষেত্রে যাচাইয়ের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা পুলিশকে অনুরোধ করতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ধরনের নির্দেশ দেননি।

  • খালাস চেয়ে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল

    খালাস চেয়ে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল

    জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের সাজা ও অর্থদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি করেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী নওশাদ জমির।

    পরে নওশাদ জমির বলেন, আপিলে সাজার রায় বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়াকে খালাসের আরজি জানানো হয়েছে। এতে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করতে, অর্থদণ্ড স্থগিত ও খালেদার জিয়ার জামিনের আরজিও রয়েছে। শিগগিরই আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য হাইকোর্টে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

    গত ২৯ অক্টোবর ওই মামলায় রায় ঘোষণা করেন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে খালেদা জিয়া ছাড়া অপর তিন আসামিকেও সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেককে দশ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আজ আপিল করলেন খালেদা জিয়া।

    সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হত্যা, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, মানহানি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিসহ মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় রায় হয়েছে।

    ২৪টি যুক্তিতে আপিলটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী নওশাদ জমির। তিনি বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট একটি ট্রাস্ট, এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটি পরিচালিত হয় ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট আইন দিয়ে। তাই ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ওই ট্রাস্টে অর্থ দিয়েছেন বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মীরা। তাই এখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নেই, কেননা আইনের ৫(২) ধারা অনুসারে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই সাজা বাতিল চাওয়া হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন খালেদা জিয়া। এই আপিল মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছি।

    জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। অপর তিন আসামি হলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের ব্যক্তিগত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও বিএনপির নেতা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মনিরুল ইসলাম। এদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী পলাতক। অপর দুই আসামি জিয়াউল ও মনিরুল কারাগারে আছেন।

    এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হন খালেদা জিয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় রায় দেন বিচারিক আদালত। বিচারিক আদালতের রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন, যার ওপর শুনানি নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের দিন অর্থাৎ গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।

    বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে নির্দেশনা চেয়ে এর আগে খালেদা জিয়ার করা রিট গত ৪ অক্টোবর কিছু নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

    হাইকোর্টের আদেশের পর চিকিৎসার জন্য ৬ অক্টোবর তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর ৮ নভেম্বর বিএসএমএমইউ থেকে খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

  • পরিচ্ছন্ন নগরী,সুস্থ্য জীবন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: বিসিসি মেয়র

    পরিচ্ছন্ন নগরী,সুস্থ্য জীবন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: বিসিসি মেয়র

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

    সম্মানিত বরিশাল নগরবাসীর সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মাননীয় মেয়র মহোদয়ের উদ্যোগে চলমান রাতের বেলার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রাতের বেলার এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে, সম্মানিত নগরবাসীকে তাদের গৃহস্থালী ময়লা-আবর্জনা,কাচাবাজার ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহের আবর্জনা রাত ৮.০০ টা থেকে রাত ১০.০০ টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে জমা রাখার জন্য অনুরোধ করা গেল।

  • সংসদ নির্বাচনে আটটি আসন দাবি হিজড়াদের

    সংসদ নির্বাচনে আটটি আসন দাবি হিজড়াদের

    আগামী জাতীয় সংসদে তৃতীয় লিঙ্গের অন্তত আটজন প্রতিনিধি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হচ্ছে। সংরক্ষিত নারী কোটায় তাদের মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে বলে মত তাদের।

    আগামী সপ্তাহে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবে হিজড়া ও যৌন সংখ্যালঘুদের সংগঠন কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন সিবিও। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

    সিবিওর সভাপতি ও চট্টগ্রামের ‘সূর্যের আলো হিজড়া সংঘের’ সভাপতি ফাল্গুনী হিজড়া বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলছেন। তিনি নিজেও চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে আগ্রহী।

    খুলনা বিভাগ থেকে সংগঠনের তালিকায় শীর্ষে ‘ছিন্নমূল মানবকল্যাণ সোসাইটি’র সভাপতি পাখি হিজড়া।

    ময়মনসিংহের তালিকায় আছেন ‘সিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা’র সভাপতি ময়ূরী হিজড়া, সিলেটে ‘হিজড়া কল্যাণ সংস্থা’র সভাপতি সুন্দরী হিজড়া, রংপুরে ‘ন্যায় অধিকারের’ সভাপতি নাদিরা হিজড়া, রাজশাহীতে ‘দিনের আলো হিজড়া সংঘের’ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলি হিজড়া। এর বাইরে বরিশালে ‘লিংকআপ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র ও ঢাকার ‘সচেতন সমাজসেবা হিজড়া সংঘের’ সভাপতির কথা তালিকায় রয়েছে।

    কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন সিবিওর সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, ‘আটটি বিভাগে আমাদের এই সংগঠনের আটজনকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে নিতেই হবে। সংসদে আমাদের প্রতিনিধি থাকলে আমাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।

    সরক্ষিত নারী আসনের পদপ্রার্থী পাখি হিজড়া বলেন, ‘আমরা সমাজে নানাভাবে বঞ্চিত। মহান জাতীয় সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকলে এত বড় একটি সম্প্রদায়ের জন্য কথা বলার সুযোগ হবে। আমরা অন্য লিঙ্গের মানুষের মতো সুন্দর পরিবেশে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই।

    ময়ূরী হিজড়া বলেন, ‘আমাদের ফোরাম থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। আশা করছি, আমাদের দাবি মোতাবেক আটটি বিভাগে একজন করে প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি হবেন।

    চট্টগ্রামের ফাল্গুনী হিজড়া বলেন, ‘সরকার প্রধানের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আরও যার যার সঙ্গে দরকার কথা বলব।

    সিবিওর তথ্যমতে, সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ হিজড়া রয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজার।

  • জনবিচ্ছিন্ন হয়েও দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চয়তা দিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ

    জনবিচ্ছিন্ন হয়েও দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চয়তা দিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ

    বরিশাল জেলার মধ্যে সদর-৫ আসনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চলছে মনোনয়ন যুদ্ধ। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের একডজন নেতা মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে বর্তমান সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। যদিও স্থানীয় নেতা-কর্মী কিংবা জনগনের সাথে তার যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তার পরেও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছেন।
    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একডজন নেতা মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও ২ জনের বিষয়ে কেন্দ্রে সুপারিশ করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তবে কে মনোনয়ন পাবে তা নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর ।
    স্থানীয় আওয়ামী লীগ জানিয়েছে এ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহকারীরা হলেন বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন ভুলু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, মোরশেদা বেগম লিপি, কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম, আমিনুল হক তোতা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মশিউর রহমান খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মোঃ আরিফিন মোল¬া ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন রিপন।
    সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে কয়েকটি পত্রিকার পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারনা চালিয়ে নিজেকে আলোচনার পাত্র করে রেখেছেন আরিফিন মোল্লা। আর দরিদ্রদের জন্য কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন সালাউদ্দিন রিপন। তবে সুনজরে তাদের দু’জনের মধ্যে কেউ নেই।
    বরিশাল আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায় উভয় স্তরেই মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনার আলোচনায় রয়েছেন বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। রাজনৈতিক মাঠে জনবিচ্ছিন্ন এই সংসদ সদস্য কেন্দ্রে শক্ত অবস্থানে থাকায় মনোনয়ন পেতে পারেন বলে অনেকেই ধারনা করছেন। কিন্তু স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই। স্থানীয় অনেকেই তাকে জনবিচ্ছিন্ন সংসদ সদস্যও বলে থাকেন। সাবেক সংসদ সদস্য জনপ্রিয় মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সহধর্মিনী হওয়ায় সংসদীয় আসনে ভোটারদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারলেও হিরনের স্ত্রী হিসেবে বিশেষ করুনা পাবে বলে মতামত ভোটারদের।
    তবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে একটি বড় অবস্থান ধরে রেখেছেন বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। যে কারণে অনেকেই তাকে নিয়ে আলোচনায় মশগুল। দলের সব অবস্থায় সাথে থাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সফট্কর্নার রয়েছে।
    বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন ১২ জন মনোনয়ন ক্রয় করেছেন। তারা সবাই যোগ্য। তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে পারবো না। বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার কাছে সকল তথ্য আছে। তার সিদ্ধান্তই সর্বশ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত। আমি একচোখা আমার ভালো আমি বলবো। সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত আমার পক্ষে আসলে ভালো।
    নির্বাচন নিয়ে মনোনয়ন কেন্দ্রীক প্রাক্ককালীন এই রাজনীতির অবসান হবে দলীয় সভানেত্রীর হাত ধরে। সেই অপেক্ষায় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশি এই ১ডজন নেতা। ১ আসনে ১২জনের মনোনয়ন সংগ্রহ রাজনৈতিক কোন বিভাজন নয় বলে মনে করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। তিনি জানান আওয়ামীগের যিনি সমর্থক তিনি মনোনয়ন ক্রয় করতে পারেন। কিন্তু কে মনোনয়ন পাবে সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর। বরিশাল-৫ আসনে যতজন মনোনয়ন সংগ্রহ করুক আমি মনে করি না এদের মধ্যে কোন বিরোধ রয়েছে। দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা সবাই তার হয়ে কাজ করবো।
    বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ বলেন আমি শতভাগ নিশ্চিত মনোনয়ন পাবো। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

  • ‘এক কন্যার গল্প’

    ‘এক কন্যার গল্প’

    শেখ ‍সুমন:

    ‘হাসিনা : এ ডটার’স টেল’। এই হাসিনা শুধুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নন। তিনি কখনো বঙ্গবন্ধুর কন্যা, কখনো বা কারো বোন, কখনো একজন নেতা, কখনো বা পুরো দেশ তথা ১৬ কোটি মানুষের ‘আপা’। আর এসব পরিচয় ছাড়িয়ে প্রতিফলিত হয় একজন সফল ও সংগ্রামী মানুষের ব্যক্তিসত্তা। ৭০ মিনিটের অসামান্য এই ডকুড্রামা তথা তথ্যচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই সাড়া ফেলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে ফিল্মটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার তিনটি ও চট্টগ্রামের একটি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে। ৭০ মিনিটের তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে শেখ হাসিনার সাধারণ জীবনের অসাধারণ কিছু মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসেছেন তথ্যচিত্রে।

    সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) পাঁচ বছরে নির্মাণ করেছে ‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’ ডকুফিল্ম। সিআরআইয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্সে সকাল ১১.৩০টা, দুপুর ১টা, বিকেল ৪.৫০টা, সন্ধ্যা ৬.৩০টা আর রাত ৮.১০টায় ফিল্মটি দেখানো হয়। আজ শনিবারও একই সময় সিনেমাটি দেখানো হবে। যমুনা ব্লকবাস্টারে রবিবার ক্লাব রয়ালে বিকেল ৩টায় কূটনীতিকদের জন্য একটি শো হবে। এখানে রাত ৮.০৫টায় দ্বিতীয় শো হবে সাধারণ দর্শকদের জন্য। এ ছাড়া অন্যান্য দিন বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭.১৫টায় ক্লাব রয়ালে দেখানো হবে এই শো। ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হলে শুক্রবার মোট চারটি শো দেখানো হয়। অন্যান্য দিন এখানে সকাল ১১টা, বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬.৪৫টায় তিনটি শো দেখানো হবে। চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে থিয়েটার প্লাটিনামে প্রতিদিন সকাল ১১টা আর থিয়েটার টাইটানিয়ামে মুভিটি প্রতিদিন রাত ৯টায় দেখা যাবে।

    অসামান্য এই তথ্যচিত্রে শেখ হাসিনা কখনো মেয়ে, কখনো মা, কখনো বোন, আবার কখনো আমজনতার নেত্রী। ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামী দিনগুলোতে ঢাকায় এসে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি দেখেছেন সংগ্রামে আর জেলে। নতুন দেশ গঠনের পর আশপাশের মানুষদের ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শহীদ হন বঙ্গবন্ধু। দৈবক্রমে বেঁচে যাওয়া তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা মুখোমুখি হন এক কঠিন বাস্তবতার। পিতা-মাতা কেউ বেঁচে নেই, তবু দুই কন্যা এগিয়ে যাচ্ছেন; ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে পিতার দেখানো পথে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করছেন।

    সব কিছু হারিয়ে এক সফল সংগ্রামের নায়ক, মানবিক ও স্বরূপে উঠে আসা শেখ হাসিনা তরুণ প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবেন এমন মন্তব্য দর্শকদের। দর্শকরা বলছে, একজন রাষ্ট্র পরিচালক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনের নানা অজানা তথ্যে পরিপূর্ণতা পেয়েছে ফিল্মের শেখ হাসিনা চরিত্রটি।

    পরিচালক পিপলু খান ৭০ মিনিট দীর্ঘ এই ফিল্মটি নির্মাণ করতে সময় নিয়েছেন পাঁচ বছর। সংগীতায়োজন করেন দেবজ্যোতি মিস্ত্র, সিমোটোগ্রাফিতে ছিলেন সাদিক আহমেদ ও সম্পাদনা করেন নবনিতা সেন। সিনেমাটির প্রযোজক সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ বিপু।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফিল্মটির প্রিমিয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্সে সমবেত হয়েছিলেন রাজনীতি, অর্থনীতি, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। পৌনে ৭টায় শীর্ষ দেশের গণ্যমান্য ও বিশিষ্টজনদের প্রথমে দেখানো হয় ফিল্মটি। এরপর রাত ৯টায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। গতকাল শুক্রবার বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার ও মতিঝিলের মধুমিতা ও চট্টগ্রামের সিলবার স্ক্রিনেও প্রদর্শিত হয়। প্রতিটি হলেই ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়।

    ফিল্মটির শুরুতে আন্দোলন সংগ্রামের বাইরে পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সময় কাটানো ও জেলে থাকা পরিস্থিতির চিত্রায়ণ করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন চলার সময় তিন মাল্লার নৌকায় করে ঢাকায় আসে বঙ্গবন্ধুর পরিবার। স্বাধীনতা আনতে গিয়ে নানা সংগ্রামের মধ্যে পড়েন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। স্বামীর সঙ্গে বেলজিয়ামে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানাও। বিদেশে থাকার সুবাদেই বেঁচে যান দুই বোন। পিতাকে হত্যার পরই তাঁদের জীবনে নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা। বেলজিয়ামেও থাকার সুযোগ হয়নি। জার্মানিতে আশ্রয় হওয়ার কথা চললেও ভারতে আশ্রয় নেন দুই বোন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। ঘাত-প্রতিঘাতে এগিয়ে চলা সেই শেখ হাসিনা এখন একজন সফল রাষ্ট্রপ্রধান।

    ফিল্মটিতে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর বিরোধীদের ষড়যন্ত্র, বঙ্গবন্ধুর দেশে ফিরে আসা ও পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা, ’৭৫ সালে পরিবারের সবাইকে হত্যা, বেলজিয়ামে দুই বোনের নিঃস্বতা, ভারতে আশ্রয় ও নাম পরিবর্তন করে ঘরে অবস্থান, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, পিতা হত্যার বিচার চাওয়া, ’৯৬ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন করে পিতৃ হত্যার বিচারে অডিন্যান্স বাতিল ও মামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনার বেঁচে যাওয়ার অসাধারণ সব ঘটনা স্থান পেয়েছে ডকুড্রামায়। চলচ্চিত্রে দেখা যায়, পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের হারালেও দুই বোনের একজন শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জনগণের সেবা করছেন, আর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে থাকছেন ছোট বোন শেখ রেহানা। দুই বোনের বর্ণনায় উঠে এসেছে তাঁদের জীবনের বেদনাবিধুর কাহিনি। ধরা পড়েছে জন্মস্থানের প্রতি শেখ হাসিনার অসামান্য টানও। ফিল্মের এক স্থানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘টুঙ্গিপাড়া আসলে আমার খুবই ভালো লাগে। মনে হয় আমি আমার মায়ের কাছে, মাটির কাছে ফিরে এসেছি। আমার তো মনে হয়, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর জায়গা টুঙ্গিপাড়া।’

    গতকাল সকাল ১১টায় বসুন্ধরা সিটিতে দিনের প্রথম শো অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দর্শকরা হলে ঢোকে। এক ঘণ্টা ১০ মিনিট দীর্ঘ ফিল্ম। এর পরও দেখতে কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তি ছিল না। পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে দর্শকরা উপভোগ করেছে। বাঙালির ইতিহাসের অনেক বড় বড় ঘটনার দৃশ্যায়ন থাকায় অধীর আগ্রহে দেখেছে দর্শকরা।

    বৃহস্পতিবার ফিল্মটির প্রথম দর্শনের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত বলেন, ‘অসাধারণ একটি মুভি। কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নয়, একজন মানুষের জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৮৪ সাল থেকেই দেখছি। জানার তো শেষ নেই। নতুন অনেক কিছুই জানলাম।’ তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘প্রত্যেকের উচিত এটা দেখা, একজন মা কিভাবে ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

    প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে সংগ্রামী জীবনের অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে। এটার মাধ্যমে তাঁর সংগ্রামীজীবন, ব্যক্তিজীবনের নানা লড়াই উঠে এসেছে, যা আগামী প্রজন্মকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ এ চলচ্চিত্রটি। এতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিসত্তার সঙ্গে যেমন পরিচিত হয়েছি, তেমনি দেখেছি তাঁর অনুপ্রেরণা হিসেবে শেখ রেহানাকে। এর গল্প অত্যন্ত প্রাঞ্জল, অত্যন্ত সাবলীল।

    ত্বোয়াহা ফারুকী নামে এক দর্শক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডকো-ফিকশনধর্মী এই ফিল্মটিতে অনেকগুলো ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। যেগুলো নিয়ে একেকটা মুভি হওয়ার উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি ইতিহাসের অনেক বড় ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যেগুলো অনেকেরই অজানা। কাজেই দীর্ঘসময় হলেও কোনো বিরক্তি ছিল না। পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে সবাই উপভোগ করেছেন। শেখ হাসিনার জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও ভাঙা-গড়ার উদাহরণ রয়েছে। শেখ হাসিনার জীবনী নিয়ে একটা বড় সিনেমাও হতে পারে।’