Category: রাজণীতি

  • রায় শুনে ফাতেমা কাঁদলেন আর খালেদা জিয়া…

    রায় শুনে ফাতেমা কাঁদলেন আর খালেদা জিয়া…

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    এ রায়ের কথা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জানতে পেরেছেন কি-না তা নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ৬১২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন। এই কেবিনে ডিশ ক্যাবল সংযোগসহ টিভি থাকার কথা থাকলেও কয়েদী থাকার কারণে টিভি রাখা হয়নি। ফলে টিভি দেখে রায় জানার সুযোগ নেই খালেদা জিয়ার।

    মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, রায়ের সময় খালেদা জিয়া ঘুমে থাকলেও দুপুর ১২টার পর ঘুম থেকে উঠেন তিনি। ঘুম থেকে জেগেই কলিং বেলের মাধ্যমে তাঁর সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত ফাতেমাকে ডাকেন তিনি। কেবিনে ঢুকে ফাতেমা প্রথমে খালেদা জিয়াকে রায়ের বিষয়ে কিছুই বলেননি। তবে ফাতেমার চোখে পানি দেখে কিছুটা আঁচ করতে পারেন তিনি।

    কিছুক্ষন পর রায়ে কি হয়েছে তা জানতে চান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। জবাবে ফাতেমা বলেন, রায়ে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। এসময় ৬১২ নম্বর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন একজন নার্স। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমার কান্নায় কিছুটা আবগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় কেবিনে। তবে এ সময় খালেদা জিয়া ছিলেন একেবারেই নির্বিকার।

    এমনিতেই তিনি কথা কম বলেন আর আজকে রায় নিয়ে ফাতেমার প্রতিক্রিয়ায় তিনি একটি কথাও বলেননি।

  • এটুকুই চেয়েছিলেন তারেক’

    এটুকুই চেয়েছিলেন তারেক’

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক জিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া স্থানীয় সময় সকালে লন্ডনে তাঁর বাসভবনে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ যান।

    যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘আমরা এটুকুই চেয়েছিলাম। ভাইয়াও (তারেক) আমাদের বলেছিল, যেন শুধু মৃত্যুদণ্ড না হয়। তারেকের বাসায় যাওয়া অন্য একজন নেতা বলেছেন, ‘তারেক জিয়া জানতেন এই মামলায় আদালত তাঁকে দণ্ড দেবেই। কিন্তু তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিলে তাঁর রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়তো।

    এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে তারেক খুশিই।’ অবশ্য বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি আবদুল মালেক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘এই রায় ফরমায়েশি রায়। বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের আক্রোশের প্রতিফলন ঘটেছে এই রায়ে।’

  • শাশুড়িই প্রথমে সন্দেহ করেন

    শাশুড়িই প্রথমে সন্দেহ করেন

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তারেক জিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রথম সন্দেহ প্রকাশ করেন তার শাশুড়ি। তাঁর শাশুড়িই ২০০৪ সালের আগস্টে তারেক জিয়ার গতি বিধি এবং আচার আচরণ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন, তার নিকটাত্মীয়দের কাছে।

    তারেকের শ্বশুরবাড়ি ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর সড়কে। তার শ্বশুর প্রয়াত রিয়াল এডমিরাল মাহাবুব আলী খানের বাড়িটি এক বিঘা জমির উপর। স্বামীর মৃত্যুর পর তারেক জিয়ার শাশুড়িই ইকবালবান্দ বানুই সংসার দেখাশোনা করেন। ২০০৪ সালের আগস্টের শুরুতেই তারেক জিয়ার শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত বেড়ে যায়। উল্লেখ্য তারেকের শ্বশুর বাড়ির সামান্য দূরত্বেই ‘সুধাসদন’ আওয়ামী লীগ সভাপতির বাসভবন। তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাওয়া আসা করতে হতো, ৫ নম্বর সড়ক দিয়েই। তারেকের শ্বশুড়বাড়ির সামনে দিয়েই শেখ হাসিনা চলাফেরা করতেন।

    আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে তারেক শ্বশুরবাড়িতে থাকা শুরু করেন। এসময় একটি রুম নিয়ে সেখানে কম্পিউটার সহ নানা যন্ত্রপাতিও বসান। ইকবালবান্দ বানু, প্রথমে এটাকে স্বাভাবিক ভাবে নিলেও পরে সন্দেহ শুরু করেন। তারেকের শাশুড়ি জানান যে, বাসার সামনে তারেক সিসিটিভি বসায়। ঐ সিসিটিভির ফুটেজে শেখ হাসিনার যাতায়াতের ছবিগুলো বাছাই করে আলাদা করতে থাকেন। তারেকের শাশুড়ির এতে সন্দেহ হয়।

    তিনি বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে কথাও বলেন। ২১ আগস্টের ঘটনার পর তারেক শ্বশুরবাড়ি থেকে ক্যাম্প সরিয়ে ফেলেন। তারেকের শাশুড়িই প্রথম তারেক কে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘এই ঘটনা

  • তারেকের যাবজ্জীবন,বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

    তারেকের যাবজ্জীবন,বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১০ অক্টোবর) সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, আবদুস সালাম পিন্টু, মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও হানিফ।

    যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

    হত্যা মামলা

    মৃত্যদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লেখ করা হয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে নিহতগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলণ ষডযন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্তক্রমে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকরের আদেশ দেয়া হলো।

    যাবজ্জীবন দণ্ডের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিহতগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলণ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্তক্রমে যাবজ্জীবন কারদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো।

    এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম ১৯ জনের বিরুদ্ধে মোকদ্দমার জখমপ্রাপ্ত ভিকটিমগণকে অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগ দণ্ডবিধির ৩০৭/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

    এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিন্ন পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখমের অভিযোগে দণ্ডবিধি ৩০৭/১২০ খ/৩৪ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন দণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় রায়ে।

    বিস্ফোরক মামলা

    ১৯০৮ সালের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের দোষীসাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জারিমান এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়।

    যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে রায়ে বলা হয়, ১৯০৮ সালের বিস্ফোরদ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

    এছাড়া ১৯০৮ সালের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৪ ও ৬ ধারায় দোষীসাব্যস্ত সবাইকে (৩৮ জন) ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনই পলাতক। আদালতে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন।

    এদিন সকালে কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।

    ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।

    ২০০৮ সালের ১১ জুন মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আখন্দ।

    তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবি সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।

    ফলে এ মামলায় এখন আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জন। এর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন ৩১ জন।

    কারাগারে থাকা ৩১ আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আশরাফুল হুদা, পুলিশ কর্মকর্তা শহুদুল হক, খোদা বক্স চৌধুরী, বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ, জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্য আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মহিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ড. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।

    পলাতক ১৮ আসামি হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, হুজি সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দোলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহম্মদ বাবু।

  • স্বপ্ন পূরনে স্বপ্নের নায়ক সাদিক আব্দুল্লাহ : সাধারন জনগন।

    স্বপ্ন পূরনে স্বপ্নের নায়ক সাদিক আব্দুল্লাহ : সাধারন জনগন।

    শেখ সুমন :

    সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।আর এই ঘোষনা ও গেজেট প্রকাশের খবর প্রকাশের পর আনন্দের বাতাস বইছে সাধারন মানুষের মনে।

    এ যেন কষ্টের বাগানে ফোটা অনেক সাধনার একটি গোলাপ। বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম বরিশাল বিভাগ।এই বিভাগটিকে স্বপ্নের বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন মরহুম মেয়র শওকত হোসেন হিরন।

    সেই লক্ষ্য পূরনে কাজ করে গিয়েছিলেন শেষ দিনটি পর্যন্ত। যায়গা করে নিয়েছিলেন নগরীর প্রতিটি মানুষের মনে। বিরোধী দলের ও প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর স্বপ্নের নগরী গড়তে পারলেন না তিনি। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার পর ক্ষমতায় আসলেন বিএনপির আহসান হাবীব কামাল।তারপরতো সব স্মৃতি। কামাল ক্ষমতায় আসার পর রাস্তার মাঝে কয়েকটি স্মৃতি স্তম্ভ হয়েছে ঠিক। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলে তা হয়েছে টিক টিক করা রিদপিন্ডের মতো।

    সহরের রূপাতলি,নতুল্লাবাদ আর লঞ্চঘাটের রাস্তায় গেলেই বোঝা যায় উন্নয়ন। নগরী ঢেকে গিয়েছিল ময়লার চাদরে। ঐতিহ্যবাহী বিবির পুকুরের সৌন্দর্য হয়েছে এখন শতবর্ষে পা দেওয়া থুরথুরে বুড়ির মতো। যে কোন সময় ইহকাল ত্যাগ করবে। আর বস্তি এলাকার কথা না ই বল্লাম।

    প্রতিনিয়ত মানুষের মুখে একটাই কথা ছিল, ক্ষমতা কবে শেষ হবে কামালের ? বরিশালের যখন এই অবস্থা,তখন আশার প্রদীপ হয়ে এলেন সাদিক আব্দুল্লাহ।জনগনের মনে যায়গা করে নিলেন অতি দ্রুত। যার প্রমান সিটি নির্বাচন। বরিশালের ইতিহাসে বিপুল ভোটে জয়ী সাদিক আব্দুল্লাহ। এখন সাধারন মানুষ সাদিক আব্দুল্লাহর মাধ্যমে তাদের হারানো স্বপ্ন পূরন করতে চায়। নগরীর অপরূপ সৌন্দর্য আর গরীবের বিপদের বন্ধু হিসেবে দেখতে চান সাদিক আব্দুল্লাহকে। এবার স্বপ্ন পূরন হবে বরিশালের। আর স্বপ্নের নায়ক হবেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • মির্জা ফখরুলকে ‘তওবা’ করতে বললেন শামীম ওসমান

    মির্জা ফখরুলকে ‘তওবা’ করতে বললেন শামীম ওসমান

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ‘তওবা’ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

    তিনি বলেছেন, ফখরুল সাহেব তার নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দাবি করে বলেছেন খালেদাই নাকি সকলকে রক্ষা করার মালিক। যারা দিনের বেলায় বিপ্লবী হন আর রাতের বেলায় আপোষকারী হয়ে যান তাদের মতো মানুষের মুখেই এমন খোদাবিরোধী কথা সাজে।

    মঙ্গলবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ৩নং ওয়ার্ডের নয়াআটি মুক্তিনগর বটতলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী সভায় শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এ এমপি বলেন, পবিত্র আল কোরআনের সূরা তাওবা’র ১২৯ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য মা’বুদ নেই, আমি তার ওপরই ভরসা করি। অথচ মির্জা ফখরুল বলছেন খালেদাই সকলকে রক্ষা করার মালিক। এই বক্তব্য মোনফেকীর শামিল এবং জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে হবে মোনাফেকের অবস্থান। তাই মির্জা ফখরুল ইসলামকে বলবো আপনি আল্লাহর কাছে তওবা করে মাফ চান।

    শামীম ওসমান আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। কারণ, তিনি আল্লাহ ভীরু মানুষ। শেখ হাসিনা এক আল্লাহর ওপর ভরসা করেই চলেন। তিনি এবং বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করার মালিক একমাত্র আল্লাহ, আগুন নেত্রী খালেদা জিয়া না। যারা অবশ্য মঞ্চে গায়েবি চেয়ার রাখে তারা এমন মোনফেকি কথাবর্তা বলতেই পারে।

    ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, জেলা ছাত্রলীগে সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, নাসিক প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতি, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও নাসিক কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, নাসিক কাউন্সিলর ওমর ফারুক, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু, আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী প্রমুখ।

  • লালমোহন  যুবলীগের  আহবায়ক পদ থেকে  পিকলু কে বহিষ্কার।

    লালমোহন যুবলীগের আহবায়ক পদ থেকে পিকলু কে বহিষ্কার।

    শেখ সুমন :

    ৭ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় ৭ টায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ লালমোহন উপজেলা শাখার বিশেষ বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লালমোহন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের লিখিত যৌথ সাক্ষরে,যুবলীগ লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন (উত্তর) শাখার আহবায়ক এনায়েত কবির পিকলু কে, সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমানিত হওয়াই, লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন (উত্তর) শাখার আহবায়ক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তারেক মাস্টারমাইন্ড: কাদের, তারেক জড়িত না: ফখরুল

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তারেক মাস্টারমাইন্ড: কাদের, তারেক জড়িত না: ফখরুল

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড (প্রধান পরিকল্পক) হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি হলফ করে বলতে পারেন এই হামলার সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত ছিলেন না।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই নেতা এ কথা বলেন।

    আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে একটি বেসরকারি কোম্পানির বাস সার্ভিস উদ্বোধনের পর ওবায়দুল কাদের বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগ। মামলার রায়কে ঘিরে বিএনপি কোনো নাশকতা-সহিংসতা করার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সবাই জানে এটার মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে হাওয়া ভবন এবং তারেক জিয়া। এখন সত্যকে আড়াল করে লাভ নেই। তারপরও রায়ের আগে আমরা এ ব্যাপারে ও রকম মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু ন্যায়বিচার যেন আমরা পাই, আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি আদালতের কাছে।

    তিনি বলেন, বিএনপি এটাকে নিয়ে যদি কোনো সমস্যা তৈরি করতে যায়, যদি সহিংসতা বা নাশকতা করতে চায়, তাহলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর অবস্থানে আছে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ২০১৪ সালের মতো আর কিছু করা সম্ভব হবে না। জনগণ তাদের সেই অপচেষ্টা রুখে দেবে।

    আজ দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম ২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে বলেন, ‘হলফ করে বলতে পারি, তারেক রহমান, আবদুস সালাম পিন্টুসহ বিএনপির কোনো নেতাই এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কারণ যেকোনো হত্যাকাণ্ডের একটি মোটিভ থাকে। সেই ঘটনায় বেনিফিশিয়ারি কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটিকে ইস্যু করে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে, বিএনপিকে ধ্বংস করছে।

    ২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সঠিক তদন্ত যদি করা হতো, দোষীদের বের করার চেষ্টা করা হতো, তাহলে আসল সত্য বেরিয়ে আসত। রাজনৈতিকভাবে তারেক রহমানকেসহ বিএনপি নেতাদের যুক্ত করে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের জড়িয়েছে। তিনি বলেন, এই ‘চক্রান্ত’ শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে। পরে ১/১১-এর পর থেকে আবার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে নির্মূল করে দিয়ে এবং তার ধারক-বাহক খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য। এখন শুরু হয়েছে শারীরিকভাবে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া।

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ খুব খারাপ জিনিস। এটি মগজের মধ্যে ঢুকে যায়। তখন দেখা যায় সরকার যা চায়, জনগণ একটা সময় তা-ই করছে। পৃথিবীতে এমন দেশ আছে যাদের নেতা হাসলে তারা হাসে, নেতা কাঁদলে তারা কাঁদে। আমাদের দেশে প্রায় একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নেতা হাসলে আমাদের লোকজন হাসতে থাকে, ওনার চোখে পানি আসলে সবাই কাঁদতে থাকে। এটা শুরু হয়েছে।

    ২১ আগস্ট মামলার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ১/১১-এর সরকারের সময়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই গোটা পরিস্থিতি বদলে গেছে। ৬১ জন সাক্ষী হওয়ার পর আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) পরিবর্তন করে নতুন করে তদন্ত করে আইও দেওয়া হলো অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে, যিনি চাকরি হারিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নমিনেশনও চেয়েছিলেন। তিনি এত বছর পর মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে তাঁর কাছ থেকে জবানবন্দি নিয়েছেন। ওই ঘটনায় প্রকৃত আসামিকে না ধরে আওয়ামী লীগ বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

    নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবাইকে রাজপথে আসতে হবে, এর বিকল্প নেই। কেউ আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না, এই সরকারকে সরিয়ে দেবে না। একমাত্র জনগণ সরকারকে সরাতে পারে। বিএনপির কাজ জনগণকে সংগঠিত করে উদ্বুদ্ধ করে রাজপথে নামা। কোনো শর্টকাট পদ্ধতি নেই। জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ জনগণের শক্তি ছাড়া শক্তিশালী কিছু নেই।

    আগামী নির্বাচনে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা করার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতেই এটি করা হচ্ছে। কারণ তাঁরা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় কেউ-ই সরকারের কথার বাইরে যেতে পারবেন না। তিনি বর্তমান সময়কে ‘গভীর সংকটকাল’ অভিহিত করে সবাইকে সরকারের আচরণের প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।

    বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • নির্বাচনের আগে প্রয়োজনে প্রতিদিন একনেক হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

    নির্বাচনের আগে প্রয়োজনে প্রতিদিন একনেক হবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

    পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনে প্রতিদিন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি তফসিল ঘোষণার পরও একনেক সভা হবে।

    আজ মঙ্গলবার একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। শেরেবাংলা নগরে এনইসির সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

    নির্বাচনের আগে কেন এত প্রকল্প পাস করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যদি প্রয়োজন হয় প্রতিদিন বৈঠক করব। আগামী বৃহস্পতিবারও আরেকটি একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় বেসরকারি খাত খুঁজে পাওয়া যাবে না, কম আসবে। তারা ভাবে, ২-৩ মাস দেখি। সেটা সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সোয়া ৮ শতাংশ হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    নির্বাচনকালীন সরকার শুধু নিয়মমাফিক কাজ করবে—এমন প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে মন্ত্রী বলেন, কোনটি রুটিন কাজ নয়। সংবিধানকে কী লেখা আছে, মঙ্গলবার ছাড়া একনেক সভা করা যাবে না। যখন বেসরকারি খাত পিছিয়ে যাবে, তখন সরকারি খাতই অর্থনীতির চালক আসনে বসে।

    এদিকে আজকের একনেক সভায় সব মিলিয়ে ২০টি প্রকল্প পাস হয়েছে। এসব প্রকল্পে খরচ হবে ৩২ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশজ উৎস থেকে দেওয়া হবে ১৫ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ১১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা এবং বিদেশি সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

    একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ১০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার; ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন; ১০৪ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা প্রকল্প-বিআরইবি অংশ (কক্সবাজারে আশ্রয় গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য বিদ্যুতায়ন); ৩ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার পল্লি যোগাযোগ উন্নয়ন; ২৯৭ কোটি টাকার বাংলাদেশ ইমারজেন্সি অ্যাসিসটেন্স; ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কিল্লা নির্মাণ; ৩০৫ কোটি টাকার কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলাধীন নির্মিতব্য মিঠামইন সেনা স্থাপনার ভূমি সমতল উঁচু করা, ঢেউ প্রতিরোধ ও তীর সংরক্ষণ; ৩৯৯ কোটি টাকার চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ অন্য খালের তীরের ভাঙন হতে রক্ষা; ১৬৯ কোটি টাকার রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া ও রংপুর সদর উপজেলায় তিস্তা নদীর ডান তীর ভাঙন থেকে রক্ষা; ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট; ৮৮৩ কোটি টাকার গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-বিরামপুর-ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মানে উন্নীত করা; ৪৫৮ কোটি টাকার কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক উন্নয়ন; ৬০৭ কোটি টাকার খুলনা সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন; ৪১৯ কোটি টাকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি উপজেলা সদরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন; ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন; ৮৮৩ কোটি টাকার সিরাজগঞ্জ জেলার শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন; ৪২৮ কোটি টাকার বিদ্যমান ১২টি ক্যাডেট কলেজের অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ; ৭৭০ কোটি টাকার পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন (কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলা); ৫৯১ কোটি টাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর গুদারাঘাটের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কদমরসুল সেতু নির্মাণ এবং ১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকার চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও বেড়িবাঁধ প্রতিরক্ষা এবং নিষ্কাশন প্রকল্প।

  • হয় রাস্তায় থাকতে হবে, নয়তো জেলখানায়: দুদু

    হয় রাস্তায় থাকতে হবে, নয়তো জেলখানায়: দুদু

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে হয় রাস্তায় থাকতে হবে নয়তো জেলখানায়। আর এই দুটির একটি ত্যাগ স্বীকার করে নিতে পারলেই আমাদের মুক্তি কেউ ঠেকাতে পারবে না।

    মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিগত দিনের ছাত্র আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাস্তায় না নেমে আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন ইতিহাস আমার জানা নাই। এদেশে যা কিছু হয়েছে এবং ভালো কিছু হয়েছে সবই ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হয়েছে।

    এখনো যদি ভালো কিছু করতে হয় ছাত্রদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সেজন্য তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে, তাদের সমস্যাগুলো দেখতে হবে, তাদেরকে যাতে ভূমিকায় আনা যায় সে চেষ্টা করতে হবে।