Category: রাজণীতি

  • খালেদা-তারেকের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই

    খালেদা-তারেকের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই

    নিয়ন্ত্রিত বিচারব্যবস্থায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ভিন্নমতের কারোরই ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং নিম্ন আদালতের আরেক বিচারপতির দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বিচারকদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে রোববার সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিতারণ জাতিকে একটি সঙ্কটে ফেলেছে। যে দেশে প্রধান বিচারপতি বিচার পান না, সে দেশে খালেদা-তারেক আমরা কেউ বিচার পাব না। ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তিনটি স্তম্ভের একটি প্রশাসন, যেটা এখন পুলিশ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং রাষ্ট্রটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাকি দুটি স্তম্ভ (বিচার ও আইন) অসহায় হয়ে পড়েছে।’

    মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আজ জেলে যেতে হতো না এবং তারেক রহমানের ওপর এই ধরনের নির্যাতন হতো না। আমাদের লড়াই করতে হবে বিচারবিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের জন্য।

    ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি চার বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে গেলেন, তাদের শিখিয়ে দিলেন। তারা এসে রাষ্ট্রপতির কথামতো বললেন, তোমার সঙ্গে (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) আমরা বিচারে বসবো না। অভিযোগের মামলা দায়েরের আগেই বিচার হয়ে গেল। সাবেক বিচারপতিকে বের করে দেয়া হয়েছে আইনজীবীদের অনৈক্যের কারণে।

    গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে নিয়ন্ত্রিত বিচারব্যবস্থা চলছে। ১৬ কোটি মানুষ আজ অবরুদ্ধ। দেশের মানুষ আজ কারাগারে। এখন একদিনের জন্য একটা ভোটের মহড়া হয়। এই সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিল, এখন এই সরকার একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার।

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, ‘উচ্চআদালতের রায়ের মাধ্যমে তারেক রহমানের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।’

    গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে এখন কোনো ন্যায়বিচারের পরিবেশ নেই। বিচারকরাই যেখানে আতঙ্কিত সেখানে খালেদা-তারেক বা বিরোধী দলের কারোরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নেই।

    সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, প্রধান বিচারপতি এখন রিফিউজিতে পরিণত হয়েছেন। আরেক বিচারপতি যিনি তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিলেন তিনি মালয়েশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

    সেমিনারটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

  • জনগণের ঐক্যের সামনে কোনো স্বৈরাচার সরকার টিকবে না: ড. কামাল

    জনগণের ঐক্যের সামনে কোনো স্বৈরাচার সরকার টিকবে না: ড. কামাল

    সংবিধান প্রণেতা ও দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কোনো পরিবর্তন বৈধভাবে আনতে হলে অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

    নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয়, অবাধ না হয়, জনগণ তাদের মালিকানা থেকে বঞ্চিত হয়। এই নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে আমরা জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠার কাছে নিয়োজিত। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই আন্দোলন অবশ্যই সফল হবে। জনগণের বৃহত্তর ঐক্যের সামনে কোনো স্বৈরাচার সরকার টিকবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন ।

    রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রবিবার ‘ভোটের অধিকারের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব ঘোষণা করেন, আমাদের দাবি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন ও নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন।

    কামাল হোসেন আরো বলেন, আজকে ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে, এদেশ আমাদের সকলেরই, কোনো ব্যক্তির না, কোনো দলের না, কোনো পরিবারের না। অতীতে যেমন আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রত্যেকবার সফল হয়েছে এবারো ইনশাল্লাহ সফল হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরে আসবে। দেশের মূল্যবান কোনো দাবি আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ জনগণের শক্তিতে সেটা আদায় করা যায়। আমরা মনে করি, অলরেডি তো যে অনেকটা সফল এটা আপনারা লক্ষ্য করছেন।

    গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশ যদি জনগণের মালিকানায় না থাকে, তখন পাইকারী হাতে লুটপাট হয়, দেশের সম্পদ পাচার হয়। আপনারা পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন যে, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাট হচ্ছে। এগুলো যায় কোথায়? বিদেশে যায়। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ আরো বলেন, দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না, নতুন কল-কারখানা হচ্ছে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। অর্থাৎ স্বাধীনতার যে প্রতিশ্রুতি সেটা পালন হচ্ছে না। আজকে জনগণে এটা ভালোভাবে উপলব্ধি করছে বলে আমি দেখছি যে, যেখানে কর্মসূচি করি অসাধারণ একটা সাড়া পাচ্ছি।

    বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের আন্তরিক আহ্বান করি, জনএণর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করুন। নারী-পুরুষ মিলে হাজার কোটি নাগরিকদের ঐক্যের মধ্য দিয়ে সেই শক্তি আমরা পাবো যার সামনে কেউ বা কোনো স্বৈরাচার নাই যে, আমাদেরকে বঞ্চিত করতে পারবে, কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। এই ঐক্যের শক্তি নিয়েই আমারা জনগণের অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবো।

    দেশে গায়েবি মামলা দায়েরের কঠোর সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্টেও এই প্রবীণ আইনজীবী বলেন, হাজার হাজার গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমাদের দাবি ছিলো সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলা-মোকাদ্দমা দেয়া যাবে না। কাউকে তো মুক্তি দেয়া হয়নি বরং উল্টো নতুন নতুন মামলা হচ্ছে। দেশের মানুষ ‘অসহায় বোধ করছে’ বলে এ ব্যাপারে সকলকে এক হওয়ার আহ্বানও জানান গণফোরাম সভাপতি।

    সুলতান মুহাম্মদ মনসুর বলেন, দেশ চলছে ভোটহীন সংসদ ও সরকারের মাধ্যমে। দেশের মানুষ যখন কথা বলতে পারছে না, তখন তিনি উন্নয়নের বাঁশি বাজাচ্ছেন। ট্রয় যখন পুড়ছিল তখন নিরো এমনিভাবে বাঁশি বাজিয়েছিল।

    মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, স্বৈরশাসক আইয়ুব খান উন্নয়নের দশক ঘোষণা করেছিল। ছাত্র সমাজ তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। জনগণ উন্নয়নের আগে গণতন্ত্র চেয়েছে। তাই সত্তরের নির্বাচনে বাংলার জনগণ আইয়ুবের উন্নয়নের শ্লোগান বঙ্গপোসাগরে ছুড়ে ফেলেছিল।

    জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিকের পরিচালনায় মানববন্ধন সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন, গণফোরামের আহম শফিক উল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম প্রতীক, বিকল্পধারার শাহ আহমেদ বাদল, এনপিপি‘র মোস্তাফিজুর রহমান, লেবার পার্টির হামদুল্লাহ আল মেহেদি, ন্যাপ ভাসানীর গোলাম মোস্তফা আখন্দ, ভাসানী ফাউন্ডেশনের সিদ্দিকুল ইসলাম, গণদলের গোলাম মাওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দলের শামসুল আলম চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের শওকত আমীন প্রমুখ।

  • নৌকা মার্কায় কেন ভোট চাইতে হবে : শামীম ওসমান

    নৌকা মার্কায় কেন ভোট চাইতে হবে : শামীম ওসমান

    নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, নৌকা মার্কায় কেন ভোট চাইতে হবে? আমরা কি কাউকে ক্ষমতায় এসে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছি। বরং স্বাধীনতা বিরোধী ওই জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের সময় আমাদের দলের লোকদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা করেছে। তাদের যদি আপনারা ক্ষমতায় আনতে চান তাহলে আমার কোন কথা নাই।

    রাজনীতির নামে যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট না দেওয়ার আহবান জানিয়েন তিনি ভোটাদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন কাকে ভোট দিবেন। যারা আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায় তাদের, নাকি যারা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে তাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। দেশের উন্নয়নে কাজ করেন।

    নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৬ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি’র সভাপতিত্বে শনিবার বিকালে ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের এর এসওরোড এলাকায় এক নির্বাচনী কর্মী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় তিনি জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় ঘটানো সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকতে এতো লোক মারল কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে তাদের কোন লোককে মারি নাই। আমার নেত্রীকে মেরে ফেলার জন্য গ্রেনেড হামলা করা হল। আমার নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা মেরে ২২ জন লোক হত্যা করা হলো। কেন? আমাদের রক্ত কি রক্ত না? আমাদের রক্ত কি নর্দমার পানি? তাহলে কেন আজ ওই স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-বিএনপি নামক অপশক্তিকে ক্ষমতায় আসতে হবে।

    এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব হোসেন, নাসিক ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমি মোল্লা, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, যুবলীগ নেতা মহসিন ভুইয়া ও ট্যাংকলরি মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন প্রমূখ।

  • হতাশায় না থেকে এই নির্বাচনে আসুন

    হতাশায় না থেকে এই নির্বাচনে আসুন

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশে ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘হতাশায় না থেকে এই নির্বাচনে আসুন। আন্দোলন করে বা নির্বাচন করে আপনাদের নেত্রীকে মুক্ত করুন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি, আওয়ামী লীগ চিরকালই জনগণের ভালোবাসায় বন্দী আছে, চিরদিনই বন্দী থাকবে।’

    ধানমন্ডিতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আজ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ মন্তব্য করেন।

    ৯, ১০ ও ১১ অক্টোবর রাজশাহী, নাটোর ও খুলনায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশ কীভাবে সফল করা যায় এবং সমাবেশ ঘিরে নিজেদের প্রস্তুতির জন্য আজ বৈঠকে বসে ১৪ দল। এ ছাড়া বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াত আবারও যদি কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে, সেটি জোটবদ্ধভাবে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—সেসব বিষয়ও বৈঠকে আলোচনায় আসে। কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা মনে করছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত আবারও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্র ঠেকানোর জন্য তাঁরা নিজেরা প্রস্তুত এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই বার্তা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে ১৪ দল।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি একটি কথা খুব সিরিয়াসলি বলছি, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তাঁকে মুক্তি না দিলে আপনারাও মুক্ত থাকতে পারবেন না। তাঁকে মুক্তি না দিলে যে সংকট তৈরি হবে, তা আপনারা মোকাবিলা করতে পারবেন না।

    মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি দেউলিয়া হয়ে গেছে? দেউলিয়া কখন হয়? যখন কর্মী থাকে না, সংগঠন থাকে না, তখন দেউলিয়া হয়। আর বিএনপির অবস্থা কী? নেতাই এখন নেই, এখন নেতা ভাড়া করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি যখন দেউলিয়ার কথা বলে, এটি তামাশা ছাড়া কিছুই না। বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং হুমকি-ধমকি না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

    মন্ত্রী নাসিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোথায় বন্দী আছে? আওয়ামী লীগ একমাত্র জনগণের ভালোবাসার মধ্যে বন্দী আছে। এই ভালোবাসাকে আমরা ছোট করতে চাই না। কোনো দিন চিন্তাও করি না। তাঁরা একটি হতাশা থেকে এসব কথা বলেন। আপনার (মির্জা ফখরুল) নেত্রী আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাই আইনের পথ দেখেন। তাঁর ব্যারিস্টার সহকর্মীরা কী করছেন? এত দিনেও মুক্ত করতে পারলেন না?’

    এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে ইঙ্গিত করে নাসিম বলেন, ‘বিএনপির একজন ব্যারিস্টার নেতা আছেন। তিনি প্রতিনিয়ত দিন ঘোষণা করেন, মাস ঘোষণা করেন। একজন উকিল যখন মক্কেল ধরেন, তখন সব সময় বলে যান—তুমি বেঁচে যাবে। ওই ব্যারিস্টার নেতাও এখন এই কথা বলছেন। বিএনপিকে অক্সিজেন দিয়ে যাচ্ছেন। এই ধরনের ব্যারিস্টার ধরে লাভ হবে না।’

    ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র নাসিম প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপি প্রতিনিয়ত আন্দোলনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কিসের আন্দোলন? কার বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে? কার জন্য আন্দোলন হবে? আমরা এখনো বলছি, আপনারা নির্বাচনে আসুন, প্রস্তুতি নিন।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হোন। পানি ঘোলা করার চেষ্টা করবেন না। দয়া করে এটা করবেন না। এটা করে লাভও হবে না। কোনোভাবেই কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।’

    জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘দেশবাসী এখন দিন গুনছে কখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ তার ইচ্ছা অনুযায়ী মতামত ব্যক্ত করতে পারবে। প্রায় সব দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা রকম হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দেশ যখন নির্বাচনে প্রস্তুত হয়ে গেছে, যখন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, এটা মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। তখন কী কারণে বিএনপি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, আমরা বুঝতে পারি না।’

    সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, বাসদের রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • হাসপাতাল যেন রাজনীতির ময়দান না হয়

    হাসপাতাল যেন রাজনীতির ময়দান না হয়

    বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অঙ্গনটি যেন রাজনীতির ময়দান না হয়।

    শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর আওয়ামী লীগের গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ পূর্বে সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বলেন, হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের যেন অসুবিধা না হয়। আমরা আগেই বলেছি, এটি একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল।

    কাদের বলেন, আমরা বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য আগে বলেছিলাম, কিন্তু আসেননি। আদালতের কারণে অবশেষে বেগম জিয়া হাসপাতালে এলেন। বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন কোন হাসপাতালে? হাজার ঘাটের পানি ঘোলা করে রাজি হয়েছে। বিএনপি বেগম জিয়ার চিকিৎসাকে ইস্যু করে রাজনীতি করেছে। এটা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

    তিনি বলেন, নৌকার পক্ষের গণজোয়ার দেখেছি উত্তরবঙ্গে। লাখ লাখ মানুষের বাঁধ ভাঙা জোয়ার। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ফেনীতে গণজোয়ার। বিএনপির ঘাটি চকরিয়াতেও আওয়ামী লীগের গণজোয়ার দেখেছি। যেখানে যাচ্ছি, সেখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল। সকালে রাজধানীর চকবাজারেও নৌকা নৌকা স্লোগানে মুখরিত। আজকে মোহাম্মদপুরেও জনতার ঢল।

    নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। মানুষ ক্ষমতার দাপটকে দেখতে পারে না। বারোটার আগে ভোট শেষ এই ধরনের কথা বলবেন না। ভোট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকতে হবে। যতক্ষণ ভোট চলবে, ততক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। ৯১ কথা ভুলে যাবেন না।

    এক মাসের মধ্যে দেশের চেহারা বদলে যাবে। বিএনপির নেতা মওদুদ আহমেদের এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

    বলেন, মওদুদ সাহেব একজন বহুরূপী। কোন বাণী থেকে তিনি এটা পেয়েছেন? মওদুদ আহমেদের কি একমাস শেষ হয়নি? আপনার দেখেন একমাসে দেশের চেহারা নাকি বিএনপি চেহারা পরিবর্তন হয়।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

  • নির্বাচনের তফসিল ঠিক হয়নি, আরও পরে ঘোষণা হবে : সিইসি

    নির্বাচনের তফসিল ঠিক হয়নি, আরও পরে ঘোষণা হবে : সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল এখনও ঠিক হয়নি। এটা আরও পরে ঘোষণা হবে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে সরকরের জনৈক মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এমনটা আমরা বলি নাই। উনারা যদি বলেন এটা উনাদের  হিসাব মত বলেছেন।

    শনিবার বিকালে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় ইভিএম মেশিন প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে  তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা হবে, তবে সব কেন্দ্রে না, সীমিত আকারে শুরু করতে চাই। যেখানে নির্ভুল হবে সেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি পরীলক্ষিত হলে সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সিইসি আরও বলেন, যারা নির্বাচনে ইভিএম এর ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন তার এসে এর ব্যবহার দেখুক। আমার বিশ্বাস দেখার পর  তারা আশ্বস্ত হবেন।

    এর আগে উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কুস্তি খেলার উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশিনার। খেলায় গৌরারং ইউনিয়নেকে হারিয়ে বিজয়ী হয় সাচনাবাজার ইউনিয়ন কুস্তিদল। এ সময় প্রধান তথ্য কমিশনার মর্তুজা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজনীতি এখন গরিবের ভাবি : রাষ্ট্রপতি

    রাজনীতি এখন গরিবের ভাবি : রাষ্ট্রপতি

    কোন নিয়ম ছাড়াই যে যার ইচ্ছে মত রাজনীতিতে প্রবেশ করছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, রাজনীতি এখন গরিবের ভাউজের (ভাবি) মতো হয়ে গেছে।

    যে কেউ এখানে ঢুকে যেতে পারে। কোনো নিয়মের বালাই নাই। আমার মতে সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা উচিত। তবে হ্যাঁ, কোনো বিষয়ে দক্ষ লোকদের উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতে প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পরীক্ষায় পাস করে চাকরিতে প্রবেশ না করে রাজনীতিতে আসেত হবে।

    শনিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ৫১তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় তিনি আরো বলেন, ছোট থেকে যারা ছাত্র রাজনীতি করে আসছে তাদেরই আসা উচিত। তবে বিশেষ বিশেষ দক্ষ লোকজন তাদের পেশাজীবন শেষ করে রাজনীতিতে আসে এজন্য রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশার আলো দেখা গেছে। তবে যখন তফসিল ঘোষণা করা হবে তখন এ বিষয়ে আরো জটিলতা তৈরি হবে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলবো নির্বাচনের প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে তৎপর থাকতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। ডাকসু নির্বাচন হলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পথে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আসতে হবে।

  • খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত রবিবার

    খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত রবিবার

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রয়েছেন।

    চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জন্য হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ছয়তলার ৬১১ ও ৬১২ নম্বর কেবিন ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবায় নতুন পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়েছে। তবে তার চিকিৎসা কোন পদ্ধতিতে হতে সে বিষয়ে রবিবার দুপুর দেড়টায় সিদ্ধান্ত নেবে ওই মেডিকেল বোর্ড।

    আজ শনিবার বিকেলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    এর আগে, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে আগের চিকিৎসা বোর্ড পরিবর্তন করে খালেদা জিয়ার জন্য ৫ সদস্যের নতুন চিকিৎসা বোর্ড প্রস্তুত করা হয়।

    বিএসএমএমইউ’র মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে এই ৫ সদস্যের বোর্ডে আরও রয়েছেন- ফিজিক্যাল মেডিসিন সহযোগী অধ্যাপক ডা.বদরুন্নেসা, ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, ডা. নকুল কুমার দত্ত।

    এদিকে, কারাবিধি অনুসারে খালেদা জিয়ার জন্য ডিলাক্স কেবিন নামে পরিচিত ৬১১ ও ৬১২ নম্বর কেবিন ইস্যু করা হয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) ৬১১ নম্বর কেবিনে থাকলে পাশের ৬১২ নম্বরে থাকবেন ডেপুটি জেলার।

    উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া এখন কারাগারে বন্দি। ৫ বছরের দণ্ড নিয়ে তিনি নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

  • ঐক্য প্রক্রিয়াকেও যুক্ত করতে চায় বিএনপি

    ঐক্য প্রক্রিয়াকেও যুক্ত করতে চায় বিএনপি

    তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাত দফা দাবিতে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি শেষ হয়েছে। দলটি নতুন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে। নতুন কর্মসূচিতে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদেরও যুক্ত করতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। এ জন্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    দলের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, নতুন কর্মসূচি গত রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে আবারও বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি দেওয়া হবে। এভাবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিএনপি মাঠে কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে গতরাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হলেও তা চূড়ান্ত করা হয়নি।

    বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের দিন ১০ অক্টোবর ধার্য আছে। আলোচিত এই মামলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্যতম আসামি। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এই মামলায় নেতিবাচক রায়ের আশঙ্কা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে, যাতে সরকার ২১ আগস্ট মামলার রায়ের সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে গুলিয়ে ফেলতে না পারে।

    গতরাতের স্থায়ী কমিটির বৈঠক–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করা এবং বিএনপির সংস্কারপন্থীদের দলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত অনেক নেতা দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁদের ব্যাপারে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

    স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত অনেকে আড়ালে–আবড়ালে দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের প্রকাশ্য হতে হবে। যাঁরা আসতে চান, তাঁদের জন্য বিএনপির দরজা খোলা।’

    বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এ সময় তিনি কমনওয়েলথের মহাসচিবের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, শিগগির এই চিঠির জবাব দেবেন তিনি।

    বিএনপির সূত্র আরও জানায়, গতরাতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দ্রুত একটা সিদ্ধান্তে আসার অভিমত আসে। ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরলে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এ বিষয়ে কথা বলবেন।

    ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, চিকিৎসা শেষে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ড. কামালের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

    বিএনপির নতুন কর্মসূচিতে ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নেতাদের যুক্ত করতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতরাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পক্ষে। আমাদের সবার দাবি যখন এক, তখন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হতে সমস্যা কী। ড. কামাল হোসেন দেশের বাইরে, অন্য যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, হবে।’

    দুই দিনের কর্মসূচি শেষ
    গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করাসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরে দুই দিনের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের কর্মসূচি শেষ হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার অনেক জেলায় সমাবেশ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। কোনো কোনো জেলায় পুলিশের লাঠিপেটায় কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

    গতকাল ঢাকায় বিভাগীয় কমিশনারকে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা পৃথক স্মারকলিপি দেয়। এ সময় পুলিশ ১৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

  • এবার ইসলামী আন্দোলনের ১০ দফা

    এবার ইসলামী আন্দোলনের ১০ দফা

    সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এবার ১০ দফা দাবি দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেছেন।

    আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের এক মহাসমাবেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। বর্তমান সংসদের কোনো নৈতিক বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোনো নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না।

    ‘দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে’ এই সমাবেশ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

    নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম। দাবিগুলো হলো: তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সব নিবন্ধিত দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা ​দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে, নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে গ্রেপ্তার করা শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

    এ সব দাবি আদয়ের লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ অক্টোবর সব জেলায় বিক্ষোভ, ১৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
    এর আগে পৃথক কর্মসূচিতে বিএনপি এবং ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে একই ধরনের দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া পাঁচ দফা, আর বিএনপি ৭ দফা দাবি জানিয়েছিল।

    মুফতি রেজাউল করিম বলেন, বিগত ১০ বছরে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। নির্লজ্জভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কেউই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। মানুষ আর তামাশার নির্বাচন দেখতে চায় না। আগামী নির্বাচনে অন্যায়-অবিচার, জুলুমকারীদের ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি।

    একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন নিজের অবস্থান জানান দিতে চেয়েছে। সমাবেশে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আনা হয়। তাদের অনেকের হাতে ছিল দলীয় প্রতীক হাতপাখা। জুমার নামাজের পর সমাবেশ শুরু হলেও সকালেই উদ্যান ভরে যায়। বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক বাইরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

    ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার হত্যা, টিপাইমুখে ভারতের বাঁধ নির্মাণ, ব্যাংক, শেয়ারবাজারে লুটপাট, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ​ কেন্দ্র করে সুন্দরবন ধ্বংস এবং ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামকে অভিযানের মুখে বিতাড়িত করার জন্য সরকারকে দায়ী করে এর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামকে, আমাদের ভাইদের গুলি করে হত্যা করেছে। রক্তের দাগ কখনো মোছা যাবে না। কওমি শিক্ষার সনদ দিয়ে এই রক্ত ঢাকা যাবে না।’

    নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম। তারা ব্যর্থ হয়েছে। আর এখন আওয়ামী লীগ নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে, বাকস্বাধীনতা হরণ করছে, গুম, খুন চলছে। এর মধ্যে আর থাকতে চাই না। সোনার বাংলা, ডিজিটাল বাংলাদেশের খেলা শেষ। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।’

    ইসলামী আন্দোলন কেন কোনো জোটে যাচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা দেন দলের মহাসচিব ইউনূছ আহমাদ। তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন এ দেশের মানুষের শেষ সম্বল। এটা শেষ করতে চাই না। এ জন্য কোনো দুর্নীতিবাজের সঙ্গে আমরা জোট করি না।’
    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হুদা ফয়েজী, আশরাফ আলী আকন, এ টি এম হেমায়েত উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান, খালেদ সাইফুল্লাহ, গাজী আতাউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, আতিকুর রহমান প্রমুখ।