Category: রাজণীতি

  • ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নেই বিকল্পধারা

    ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নেই বিকল্পধারা

    ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি বিকল্পধারার প্রধান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)। তিনি আজ সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গ ত্যাগ না করলে আজ থেকে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকে বসবে না বিকল্পধারা।

    রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাড়িতে আজ শনিবার সন্ধ্যার পর বি চৌধুরী এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী বলেন, বিকল্পধারা বিএনপিকে শর্ত দিয়েছিল, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করলে তারা জাতীয় ঐক্যে যোগ দেবে। কিন্তু বিএনপি সেই শর্ত মানেনি। সেই কারণেই তাঁরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি।

    সংবাদ সম্মেলনে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর মান্নানসহ বিকল্পধারার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ সন্ধ্যা ছয়টার পর সংবাদ সম্মেলন করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

    সূচনা বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই ঐক্য কোনো দলের স্বার্থে নয়। জাতীয় স্বার্থে এই ঐক্য করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

  • জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ

    বিএনপি, ঐক্য প্রক্রিয়া, নাগরিক ঐক্য ও জেএসডি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এর ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের ডাক কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, এটা জাতীয় স্বার্থে। কোটি কোটি জনগণের পক্ষ থেকে এই ডাক। এটা কোটি মানুষের উদ্যোগ। এই জোটে যুক্তফ্রন্টের দুই শরিক দলও আছে। আমি অন্যদেরও আশা করি এই ঐক্যে।

    ড. কামালের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর এই জোটের নামকরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য পাঠ করেন তিনি।

    সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব বিতর্কিত আইন বাতিল করা।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা :

    ১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

    ২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

    ৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

    ৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যম স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে।

    ৫. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত করতে হবে।

    ৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনা স্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের উপর কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

    ৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত ও কোনো ধরনের নতুন মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

    তাদের উল্লেখিত লক্ষ্যগুলো হচ্ছে :

    ১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতমালা প্রণয়ন ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

    ২. মহান মুক্তি সংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা অবসান করে সুশাসন ন্যায়ভিত্তিক, শোষণমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা।

    ৩. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।

    ৪. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ও দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।

    ৫. দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে কোটা সংস্কার করা।

    ৬. সব নাগরিকের জান-মালের নিয়াপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চয়তা বিধান করা। কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

    ৭. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবহিদিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন।

    ৮. রাষ্ট্রের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক সচ্ছলতা সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন মান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্যের সাথে সংগতিপূর্ণ বেতম-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

    ৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোন জঙ্গি গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া।

    ১০. ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

    ১১. বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার ও সংরামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনীতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমরসম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন,গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

    প্রসঙ্গত এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বা তার দল বিকল্পধারার কোনো নেতা জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন না। একই সময় বারিধারায় আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করেন বি চৌধুরী। ওই সংবাদ সম্মেলনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, মাহি বি চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের রাজনীতিতে বিএনপি একটা বিষফোঁড়া

    দেশের রাজনীতিতে বিএনপি একটা বিষফোঁড়া

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের (বিএনপি) কোনো নীতি নৈতিকতা নেই। তারা এখন বেসামাল হয়ে পড়েছে। দেশের রাজনীতিতে বিএনপি একটা বিষফোঁড়া।

    আজ শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সংযোগ সড়কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের মতো ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ঘটনায় হত্যায় জড়িতদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে বিএনপির নির্ধারিত একটি টিম।

    তিনি আরও বলেন, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দণ্ডিত হওয়ার পর তারা বেসামাল বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন।

    বেপরোয়া চালকের চেয়েও তারা আরও বেপরোয়া উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি এখন দিশেহারা জনবিচ্ছিন্ন দল। আর তাই তারা এখন তথাকথিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রলাপ বকছে।

  • আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করুন: যুক্তরাষ্ট্রকে দ. কোরিয়া

    আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করুন: যুক্তরাষ্ট্রকে দ. কোরিয়া

    কোরীয় উপদ্বীপে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে  যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন।

    তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই দাবি মেনে নিলে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের শত্রুতামূলক সম্পর্কের অবসান ঘটবে।

    উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সিউলের সঙ্গে যখন ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য বাড়ছে তখন মুন জায়ে-ইন এ আহ্বান জানালেন। ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা বিবিসি-কে শুক্রবার দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

    মুন জায়ে-ইন বলেন, উত্তর কোরিয়া তার সমস্ত পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করেছে। তাদের একমাত্র পরমাণু পরীক্ষার স্থাপনা নিষ্ক্রিয় করেছে এবং এখন ক্ষেপণাস্ত্র ইঞ্জিন পরীক্ষার স্থাপনা বন্ধ করছে। এছাড়া, ইয়নবিয়ন পরমাণু স্থাপনাও বন্ধ করবে যদি আমেরিকা অনুরূপ পদক্ষেপ নেয়।

    ইউরোপের চারটি দেশ সফরে বের হওয়ার আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এসব কথা বললেন।

    এর আগে, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাং কুয়াং-ওয়াহ বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা বিবেচনা করছে। এ বক্তব্যের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা এটা করতে পারে না; আমাদের অনুমতি ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।

  • বরিশালে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ

    বরিশালে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ

    শেখ সুমন:

    দুই দিন ব্যাপি সরকারি সফরে বরিশাল এসে আজ ব্যাস্ততম প্রথম দিন কাটালেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ( মন্ত্রী পদমর্যাদা ), এবং স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

    আজ বিকেল চারটায় বরিশাল বিমানবন্দরে এসে পৌছান হাসানাত আব্দুল্লাহ। সেখানে দলীয় নেতা কর্মীরা তাকে স্বাগত জানায়।

    সেখান থেকে তিনি গৌরনদী উপজেলা অডিটরিয়ামে শারদীয় দূর্গা উতসব উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মালম্বী ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে মতবিনীময় সভায় অংশগ্রহন করেন। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান গৌরনদী পূজাঁ উদযাপন পরিষদ।

  • রায়ের ভিত্তিতে তারেকের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না: ফখরুল

    রায়ের ভিত্তিতে তারেকের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না: ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি বলছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য। তাই এই রায়ের ভিত্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

    ফখরুল বলেন, ‘গতকাল প্রকাশিত দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে “রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা” বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে, তাতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন দেখে দেশের জনগণের মতো আমরাও বিস্মিত হয়েছি।

    ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, গণমাধ্যমের একাংশ এই রায় প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া কিছু তত্ত্ব ও তথ্য প্রকাশ করে তাঁর সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তাঁর পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের কাছে জনগণ প্রশ্ন করতে পারে যে, এত শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন?’

    গণমাধ্যমকে ‘অপপ্রচার’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়কে যখন আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য বলছি, তখন সেই রায়ের ভিত্তিতে আমাদের নেতা তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না।

    আমরা আশা করি, ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ক্ষমতাবান কারও তুষ্টির জন্য কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো থেকে দায়িত্বশীল মিডিয়া বিরত থাকবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি এ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে রোধ করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন চেষ্টা চালানো হয়।

    আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হুবহু এক। কিন্তু লক্ষণীয় হলো, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় চার জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃণ্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে, বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হলো কোন যুক্তিতে? তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বিএনপির জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট বা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো আদালতই বিএনপি কিংবা বিএনপির কোনো নেতাকে অভিযুক্ত, এমনকি সম্পৃক্তও করেনি।

    মির্জা ফখরুল প্রশ্ন করেন, তাহলে ২১ আগস্টের ঘটনার বিচারের পর্যবেক্ষণে আগের দুটি ঘটনার উল্লেখ কতটা প্রাসঙ্গিক? দল বিশেষের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ মিলে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই জনগণ মনে করে।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ বিষয় ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে-তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের আচরণের ঠিক বিপরীত। আমরা আশা করব সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে। তিনি বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আহসান উল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ থাকলেও বিচারকের বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি সরকারি দলের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে দেওয়া পর্যবেক্ষণে বর্তমান সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম, কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, ছাত্রনেতা জাকিরসহ গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কোনো কথা নেই কেন, জনগণ তা জানতে চাইতেই পারে।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে গত ১০ বছরে হাজারো গুম, খুন, গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করা, হাজার হাজার গায়েবি মামলা দিয়ে লাখ লাখ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বছরের পর বছর ঘরছাড়া করে রাখা, গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করার বিষয়ে কোনো কথা না থাকা রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পারে।

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ড এবং জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, যাজক, পুরোহিত, ব্লগারসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডের দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

    মুফতি হান্নানের জবানবন্দির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মুফতি হান্নানের বেআইনি দ্বিতীয় জবানবন্দি বাদ দিলে তারেক রহমান এবং অন্য অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিকেই এই মামলায় অভিযুক্ত করা যেত না। যৌক্তিক কারণেই এ কথা বলা যায় যে, প্রকাশ্য আদালতে মুফতি হান্নানকে দিয়ে জোর করে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে-এটা যেন বলতে না পারেন, সে জন্যই অন্য একটি মামলায় দ্রুততার সঙ্গে তার ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোনো উল্লেখ না থাকাও বিস্ময়কর এবং সন্দেহমূলক।’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • নিবন্ধন থাকার যোগ্যতা বিএনপির নেই: কাদের

    নিবন্ধন থাকার যোগ্যতা বিএনপির নেই: কাদের

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রকাশের পর বিএনপি এখন একটি সন্ত্রাসী দল। আন্তর্জাতিকভাবেও কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন থাকার যোগ্যতা বিএনপির নেই।

    আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পদ্মা সেতুর মাদারীপুর ও শরীয়তপুর অংশে জনসভাস্থলের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন ও চারটি প্রকল্প উদ্বোধন করার কথা।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, তা কি কাউকে বলে দিয়েছে? তারা তো সকালে একটা বলে, দুপুরে একটা বলে, সন্ধ্যার সময় আরেকটা বলে। বিএনপিকে কি আমরা দাওয়াত করে নির্বাচনে আনব? কোনো সরকার কি কোনো দলকে দাওয়াত করে নির্বাচনে আনে? নির্বাচনে আসা দলের অধিকার। তারা তাদের অধিকার প্রয়োগ করবে। কোনো দেশেই বিরোধী দলকে ডেকে ডেকে নির্বাচনে আনে না। গতবার তারা নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। তার মাশুল তারা দিচ্ছে। এবার নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি না, তা তাদের ব্যাপার।

    মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি আন্তর্জাতিক ভাবে কানাডার আদালতে সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃত। তারা নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। তাদের নিবন্ধন থাকা অবস্থায় নির্বাচনে আসতে পারে। কিন্তু এই দলটির নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন থাকার যোগ্যতাও নেই। তারা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।

    কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির মতো সন্ত্রাসী দলেকে আস্থায় নেবে, তা আমরা বিশ্বাস করি না। কাজেই তাদের নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তাভাবনা বা মাথাব্যথা থাকার কারণ নেই।

    ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে কাদের বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমরা উচ্চ আদালতে তারেক রহমানে ফাঁসি দাবি করব। আমরা অলরেডি সেই দাবি করেছি। তা ছাড়া খালেদা জিয়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তাঁরও বিচার হওয়া উচিত।

    প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির বিষয় নিয়ে ওয়াবদুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন ও চারটি প্রকল্প উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রীর আগামীকাল শনিবার শরীয়তপুর-মাদারীপুরে আসার কথা ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই কর্মসূচি এক দিন পিছিয়েছে।

  • প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটার প্রয়োজন আছে

    প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটার প্রয়োজন আছে

    বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটার প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন। বিশিষ্টজনেরা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগণকে সমাজের মূল ধারায় সংযুক্ত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

    আজ রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

    সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা প্রয়োজন আছে। তবে কোটা নির্ধারণ করার আগে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। কোটার সুবিধা নিতে হলে আগে শিক্ষিত হতে হবে। অথচ, দেশের মাত্র ৪ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার সুযোগ পায়। তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ করতে হবে। এর জন্য শুধু নীতিমালা করলে হবে না। বিনিয়োগ, শিক্ষক, অবকাঠামোর প্রয়োজন আছে।

    আকবর আলি খান বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। সামাজিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কোটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না। জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের প্রতিষ্ঠায় সরকারকে নিরন্তর উদ্যোগ নিতে হবে।

    প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) পাঁচটি অভীষ্টে প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়ে বলা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে যা করা হচ্ছে, তা যথেষ্ট না। ফলে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে।

    এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম। বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এই তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে।

    বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী। ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে’—এই বিষয়ের ওপরে ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় সরকারি দলে ছিলেন ইডেন মহিলা কলেজ এবং বিরোধী দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সবাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

  • ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্তে আবারও বৈঠকে ৫ দল

    ঐক্য প্রক্রিয়া চূড়ান্তে আবারও বৈঠকে ৫ দল

    জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ, জোটের নামসহ দাবি-দাওয়া ঠিক করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে বসেছেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্টের তিন দল ও গণফোরামের নেতারা।

    আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় নেতারা বৈঠকে বসেন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় এ বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

    আজকের বৈঠকে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মনসুর, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, শহীদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন।

    ৭ ও ৮ অক্টোবর এই দলগুলোর নেতারা আ স ম রব ও খন্দকার মোশাররফের বাসায় দুটি বৈঠক করেন। যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম ও বিএনপির দফা ও দাবি থেকে সমন্বিতভাবে ৭টি দফা ও ১১টি লক্ষ্য ধরে সামনের কর্মসূচি ও ঐক্যের রূপরেখা ঠিক করা ও নির্বাচনী জোট হলে তার নাম ঠিক করতে নেতারা বৈঠক করছেন।

  • বিএনপি সন্ত্রাসী লালনকারী রাজনৈতিক দল: নাসিম

    বিএনপি সন্ত্রাসী লালনকারী রাজনৈতিক দল: নাসিম

    বিএনপি একটি সন্ত্রাসী লালনকারী রাজনৈতিক দল—এটি স্বীকৃত, পরীক্ষিত ও প্রমাণিত বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওই মন্তব্য করা হয়।

    আজ শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিমসহ জোটের বেশ কয়েকজন নেতা কথা বলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমরা ধন্যবাদ জানাই আদালতকে। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন দেশের নেতৃত্বশূন্য করতে এই বর্বরোচিত হামলা করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দেশের ১৬ কোটি মানুষ একমত। কয়েকজন খুনি বিশ্বাস ঘাতকদের দোসর ছাড়া সমগ্র জাতি এ ব্যাপারে একমত।’ তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলার দুঃখ-বেদনা দীর্ঘ এক যুগ ধরে আমরা বহন করে আসছি। বিএনপি-জামায়াত সেদিন ক্ষমতায় ছিল। খালেদা জিয়া সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২১ আগস্টের হামলার বিচার তো দূরের কথা তদন্ত পর্যন্ত করা হয়নি। এটা এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি ১৫ আগস্ট হত্যাকারীদের আশ্রয় দিয়েছে, লালন করেছে। তাদের নেতা জিয়াউর রহমান এই খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে আত্মস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত বানিয়েছেন, এমপি-মন্ত্রী বানিয়ে পার্লামেন্টে বসিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা প্রতিটি হত্যাকাণ্ড বিএনপির আমলে হয়েছে। আর যা-ই হোক বিএনপির মুখে গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের কথা মানায় না।

    সংবাদ সম্মেলনে জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি-জামায়াত যেমন সাম্প্রদায়িক যুদ্ধাপরাধী দল, ঠিক সে রকম বিএনপি সব খুনিদের আশ্রয়দাতা ও রক্ষাকারী। বিএনপি খুন করায় এবং খুনিদের আশ্রয় দেয়। তিনি বলেন,‘জামায়াতের সঙ্গে যদি আমরা সকল লেনদেন বন্ধ করে দিয়ে থাকি, তাহলে গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের জন্য বিপজ্জনক, সন্ত্রাসী রাজনৈতিক খুনি চক্র বিএনপির সঙ্গেও সকল রাজনীতিক লেনদেন সবার বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপিকে শুধু ক্ষমতার বাইরে নয়, রাজনীতির বাইরে রাখাটাও একটি রাজনৈতিক কর্তব্য।’ তিনি বলেন, এই হামলার পর জজ মিয়া দ্বারা ফরমায়েশি মামলা সাজানো হয়েছিল। কিন্তু এই রায়ের মধ্য দিয়ে তার স্বরূপ উন্মোচন হয়েছে।

    বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে দুটি বিষয় পরিষ্কার হলো, একটি হলো, বিএনপি জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট দল। দ্বিতীয়টি হলো, বিএনপি এই ঘটনা ঘটানোর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করেছে।

    বৈঠকে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের একাংশের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।