Category: রাজণীতি

  • কী হবে খালেদা জিয়ার

    কী হবে খালেদা জিয়ার

    কী হবে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার? তিনি কি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন? তার শারীরিক অবস্থাই বা এখন কেমন? অসুস্থ থাকলে তার চিকিৎসা কোথায় হবে—দেশে না বিদেশে? এ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের। আগ্রহের শেষ নেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলেও।

    বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক ‘সুস্থতা’ নিয়ে পুরোটাই রহস্যে ঘেরা। এ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও বইছে। গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে নেওয়া হয়নি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি একই কারণে। কারাকর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, সুস্থ আছেন বেগম খালেদা জিয়া। তবে পারিবারিক সদস্যদের বাইরে দলীয় নেতাদের সাক্ষাতে বাধা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

    গত বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বাতিল করায় বিএনপিতে সন্দেহ আরও পাকাপোক্ত হয়েছে। দলটি দাবিই করে বসে, গোপনে বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল সরকার। তবে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেগম জিয়ার অসুস্থতার খবর নাকচ করে দিয়েছেন। সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার নতুন ভবন উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কোনো গুরুতর সমস্যার কথা আমরা শুনিনি, যার জন্য তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে। তিনি (খালেদা জিয়া) জানিয়েছিলেন অসুস্থ বোধ করছেন। তার অনুরোধে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ডাক্তার জানিয়েছেন, তিনি আগের রোগে ভুগছেন। নতুন কোনো রোগ তার মধ্যে পাওয়া যায়নি।’ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান শুভ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বার্ধক্যজনিত কয়েকটি সমস্যা ছাড়া বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্বাভাবিক। তিনি নিয়মমতো খাবার খাচ্ছেন।’ একই বক্তব্য কারাগারের দুজন পদস্থ কর্মকর্তার। তাদের দাবি, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বাইরে পাল্টাপাল্টি যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এ নিয়ে সরকার সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। এ কারণেই সন্দেহ আরও বেড়েছে। তা ছাড়া তাঁর অসুস্থতা যদি নাই থাকে, তাহলে বৃহস্পতিবার আদালতে কেন আনা হলো না। তখন তো অসুস্থতার কথাই বলা হয় আদালতকে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থাকা উচিত।’ গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ ছয়জন স্বজন তার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন। বাকিরা হলেন— নাতনি জাহিয়া রহমান, ভাই শামীম এস্কান্দার, ভাবী কানিজ ফাতেমা, শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার ও ভাগ্নে ডা. মো. মামুন। এই প্রথম কোকোর স্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে গেলেন। প্রায় ৩০ মিনিটকাল অবস্থানের সময় তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন ও কথা বলেন। পরিবারের এক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বেগম জিয়া শারীরিকভাবে মোটামুটি ভালোই আছেন। তবে হাঁটুতে একটু ব্যথা আছে। এটা আগেই ছিল। নাজিম উদ্দীন রোডের ১৭ একর জমির ওপর পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ৫২ দিন ধরে বন্দী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সেখানে কীভাবে সময় পার করছেন এই নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দেখভাল করার জন্য একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চাইলেই তাদের ডেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন। এর বাইরে নিয়মমতো খাবার গ্রহণসহ সবকিছুই স্বাভাবিক তার। সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কি না তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের আগে তার মুক্তি মিলবে কি না তাও পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না। বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, সরকার চাইছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখেই নির্বাচন। সেখানে তারা বিএনপির একটি অংশকেও চায়। এ জন্য তারা বিএনপির কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। একইভাবে বিএনপি জোটের নেতাদেরও খালেদা জিয়া বিহীন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে জোটের ছোট বড় দলের নেতাদের সঙ্গেও নানাভাবে কথাবার্তা চলছে। এ নিয়ে নানা প্রলোভনের পাশাপাশি ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে বলে জানান বিএনপি ও জোটের নেতারা।

    বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, সরকার যত চেষ্টাই করুক বিএনপি ভাঙবে না। এমনকি জোটও ভাঙবে না। এর আগেও সরকার একাধিকবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বিএনপির কেউই দল ত্যাগ করেনি। জোটও অটুট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে একটি অপপ্রচার। তা ছাড়া বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিএনপির সামনে এখন তিনটি এজেন্ডা রয়েছে। প্রথম এজেন্ডা হচ্ছে— বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সরকার যত কৌশল আর ষড়যন্ত্রই করুক না কেন—বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখতে পারবে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনেও যাবে না। দ্বিতীয়ত, একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হবে। তৃতীয়ত, দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায়।’

  • ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে জেতার স্বপ্ন দেখছে আ.লীগ’

    ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে জেতার স্বপ্ন দেখছে আ.লীগ’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসতে চায়। তাই এ সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনের যে স্বপ্ন দেখছে তাদের সেই স্বপ্ন বাংলার মানুষ কখনোই পুরন হতে দেবেনা।

    মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বিকেলে নগরকান্দার লস্করদিয়া শামা ওবায়েদ ডেইরি ফার্ম মাঠে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত নির্বাচনে কোন ভোটই হয়নি, হাসিনা তার শরীকদের নিয়ে আসন ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তিনশ’ আসনের মধ্যে অর্ধেকের বেশী আসন আগেই ভাগ করে নেয়া হয়েছে। যেখানে ভোট হয়েছে সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না। এই সরকার বিনা ভোটের সরকার। এই সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছে।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু তার বক্তব্যে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এক সাজানো মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে।

    নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলুর সভাপতিত্বে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিয়তপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন কালু, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহিনুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন সেলিম, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সালথা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তালুকদার, শওকত আলী শরীফ, ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

    এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ অতিথিরা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

  • জাতির জনকের জন্মদিন উপলক্ষে বানারীপাড়ায় শের-ই বাংলার দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু

    জাতির জনকের জন্মদিন উপলক্ষে বানারীপাড়ায় শের-ই বাংলার দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু

    জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৮ উপলক্ষে বানারীপাড়ায় শের-ই বাংলার দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু । উজিরপুর উপজেলার গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় আলোচনা সভা বিশেষ অথিতি হিসেবে যোগ দেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল ২ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার মো: ইউনুস।

    এসময় বানারীপাড়ায় এসে সব শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করলেন ফাইয়াজুল হক রাজু । ।১১ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী শের-ই- বাংলা একে ফজলুল হকের দৌহিত্র (নাতী) ফাইয়াজুল হক রাজু।

    সাদা মনের মানুষ ও উচ্চ শিক্ষিত এই নেতা সাধারণ মানুষের আস্থার নাম।তাকে  বানারীপাড়া ও উজিরপুরের মাটির সন্তান হিসাবে উক্ত এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় সাধারণ মানুষ।

    ফাইয়াজুল হক রাজু জানিয়েছেন সময়ের সল্পতার কারণে বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে মিলিত হয়ে খুবই ভালো লাগছে। এভাবে আমি সাধারন মানুষের মনের ভিতর থেকে বানারীপাড়ার জনগনের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

  • খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধি দিলেন ফখরুল

    খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধি দিলেন ফখরুল

    শেখ সুমন :

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে উপাধি দিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    শনিবার বিকালে খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ থেকে তাকে এ উপাধি দেয়া হয়।

    সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা।

    কেন্দ্র ঘোষিত এই সমাবেশ খুলনা হাদিস পার্কে আয়োজনের কথা ছিল। পরে সেখানে আওয়ামী মহিলা লীগ পাল্টা সমাবেশের ডাক দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ১৪৪ জারি করা হয়। পরে বিএনপি সার্কিট হাউজে করতে চাইলেও অনুমতি মেলেনি। সর্বশেষ দলীয় কার্যালয়ের সামনে করতে চাইলে সেখানেও বাধা দেয়া হয়।

  • বরিশাল ছাত্রদলের শুভেচ্ছায় শিক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান চুন্নু

    বরিশাল ছাত্রদলের শুভেচ্ছায় শিক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান চুন্নু

    শেখ সুমন :

    সদ্য কারাভোগ করা ছাত্রদল ডুয়েট শাখার সাবেক সভাপতি, এ্যাব এর যুগ্ম মহাসচিব ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব, আসাদুজ্জামান চুন্নুকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার তিনি বরিশালে আসলে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লঞ্চ ঘাট এলাকায় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন।

    এসময় তার সাথে জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
    উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা সময়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন আসাদুজ্জামান চুন্নু। দীর্ঘ দিন কারাভোগের পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

  • স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু ৭ দিনের রিমান্ডে

    স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু ৭ দিনের রিমান্ডে

    রাজধানীর শাহবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ ১২ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বুধবার রিমান্ড আবেদনের উপর শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অপর আসামিরা হলেন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রফিক দেওয়ান সুমন, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মামুন হোসেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান, দক্ষিণগাঁও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আজিজ হোসেন, দাউদকান্দি থানা ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক রকিবুল ইসলাম, গৌরিপুর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার রিমন আহমেদ, দাউদকান্দি থানা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি রুমন খন্দকার।

    আসামিদের মধ্যে শফিউল বারী বাবুকে ১০ দিন, অপর ১১ আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন শাহবাগ থানার এসআই অমল কৃষ্ণ দে।

    বিচারক শফিউল বারী বাবুর ৭ দিন ও অপর ১১ আসামির প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

  • ৫ সিটি কর্পোরেশনে জুনেই নির্বাচন করতে চায় সরকার

    ৫ সিটি কর্পোরেশনে জুনেই নির্বাচন করতে চায় সরকার

    দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করতে দু-এক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো শুরু করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তারা চায়, জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হোক। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জুলাইয়ে এই নির্বাচন করতে ইচ্ছুক।

    স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় ভোট গ্রহণ করতে হবে। সে অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক এই চিঠি দেওয়া হচ্ছে। পাঁচ সিটি করপোরেশনের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর, সিলেটের ৮ অক্টোবর ও বরিশালের ২৪ অক্টোবর।

    তবে ইসি বলছে, নির্বাচনের জন্য চিঠি পাঠানোর বাইরেও সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়সহ নানা জটিলতা নিরসন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানাতে হবে। কমিশন এবার সব জটিলতা শেষ করেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা জানায়, গাজীপুর নিয়ে এখনো সীমানা জটিলতা আছে। সেখানকার ছয়টি মৌজা ঢাকার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নভুক্ত। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম। হাইকোর্ট এটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও এ বিষয়ে এখনো ফয়সালা হয়নি। তবে বাকি সিটিগুলোয় মামলাজনিত কোনো সমস্যা নেই। এর মধ্যে সীমানা জটিলতায় থমকে গেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন।

    জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারসচিব আবদুল মালেক বলেন, ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর পূর্তি হবে। সে অনুযায়ী আমরা দু-এক দিনে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ করব। তবে আমি মনে করি, জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করা উচিত। কেননা ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন রয়েছে। আর সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ নানা কাজের ঝামেলা থাকে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশনই।’

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজে লাগানো হবে। তাই অন্তত ছয় মাস আগে নির্বাচন সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে কমিশনের। সে অনুযায়ী আগামী জুন-জুলাইয়ের যেকোনো সময় এক দিনে সব সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় মাস আগে ২০১৩ সালের জুন-জুলাইয়ে পাঁচ সিটিতে নির্বাচন হয়। পাঁচটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিএনপির প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন।

    নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পেলে কমিশন পাঁচজন কমিশনারকে নিয়ে বসে সবকিছু ঠিক করবে। একসঙ্গে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করে দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। তবে কমিশনের পরিকল্পনা হচ্ছে জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা।

    এদিকে ইসির আরেকটি সূত্র জানায়, এবার স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন করার জন্য চিঠি দিলেই হবে না; তাদের স্পষ্ট জানাতে হবে, কোনো সিটি করপোরেশনের সীমানা বেড়েছে কি না, নতুন ওয়ার্ড হয়েছে কি না বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে কি না। ঢাকার মতো এই পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় যাতে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়, তাই সবকিছু ঠিক করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে স্থানীয় সরকার বিভাগেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সব ধরনের জটিলতা এড়াতে আমরা এবার প্রস্তুতি নিয়েই তফসিল ঘোষণা করব, যাতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মতো কোনো জটিলতা না হয়। আমরা সাধারণত বৃষ্টি-বাদলের সময়, রমজানের সময় নির্বাচনের তারিখ দিতে চাই না। এ ছাড়া আমাদের কিছু পৌরসভা নির্বাচন, ইউনিয়ন নির্বাচন রয়েছে। সব মিলিয়ে কমিশন বসে আলোচনা করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করবে।’ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরপর হয় কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন।

  • জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের খবর থাকবে না

    জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের খবর থাকবে না

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশের মানুষ আর একবার ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের কোনো খবর থাকবে না। তারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাবে।

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার লেবার পার্টির আলোচনা সভায় এই কথা বলেন তিনি।

    খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না হতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, আপনারা সরকারি খরচে নৌকায় ভোট চাইবেন আর আমাদের নেত্রীকে কারাগারে রাখবেন তা হবে না। সভা সমাবেশে গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেবেন। নির্বাচন আইনে আছে তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দল ও নেতা কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না। তাই শেখ হাসিনা এখন জনসভা করে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেকটু সংযত হলে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়া যেত। দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা যেত। তার সামনে সুযোগ ছিল বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কপালে যে কালিমা লেপন হয়েছে তা মুছে ফেলার। কিন্তু তিনিও সেটা না করে করলেন উল্টোটা। তিনি চাইলে পারতেন মানুষের ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র সুসংহত করতে। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটা না করে করলেন একদলীয় শাসন কায়েম।

    মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে কোনো স্লোগান দরকার হবে না। খালেদা জিয়া আমাদের সাথে থাকবেন আর স্লোগান হবে ৭০ টাকা দরে চাল খাব না, নৌকায় ভোট দেব না। ১৫০ টাকায় পেঁয়াজ খাব না নৌকায় ভোট দেব না।

    লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মীর নাসির, বরকত উল্লাহ বুলু, বাবু নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ।

  • বিদেশি উপদেশের দিকে আওয়ামী লীগ তাকিয়ে নেই: কাদের

    বিদেশি উপদেশের দিকে আওয়ামী লীগ তাকিয়ে নেই: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশি কোনো উপদেশ খয়রাতের দিকে আওয়ামী লীগ তাকিয়ে নেই।

    ৭ মার্চ আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করতে আজ শনিবার সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠেয় আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলকে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটি ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা জনগণের চাপকে গুরুত্ব দিই। আমাদের দেশের গণতন্ত্র আমরাই পরিচালনা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, কেউ ধোয়া তুলসীপাতা নয়। যারা আমাদের উপদেশ দিচ্ছে, তাদের দেশের গণতন্ত্রের চেহারা, তাদের দেশের নির্বাচনের চেহারা, সেটা সারা দুনিয়া জানে, আমরাও জানি। কাজেই আমাদের উপদেশ দিতে হবে না।’

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কারও উপদেশ-খয়রাতের দিকে তাকিয়ে নেই। আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের দেশের গণতন্ত্র চলবে। আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের নির্বাচন চলবে। কাজেই এ নিয়ে বাইরে থেকে কে চাপ দিল, সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি।’

    সরকারি অর্থ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ভোট চাইছেন—এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের কাছে যাওয়ার অধিকার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর আছে। এখনো নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হয়নি। এই প্রশ্নটি হতে পারে তখন, যখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করবে। এই মুহূর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি যেসব উন্নয়ন করেছেন, সেসব নিয়ে জনগণকে অবহিত করার অধিকার তাঁর আছে।

    ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী; আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নৌকায় ভোট চাওয়ার অধিকার প্রধানমন্ত্রীর আছে। তাতে এখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।’ তিনি আরও বলেন, এবার ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ হবে। এ লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করছেন।

    বিএনপির আন্দোলনের কৌশল মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের অবস্থান বিষয়ে কাদের বলেন, ‘তাদের কৌশল সেটা তাদের ব্যাপার। এটা নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তারা কী কৌশল প্রয়োগ করবে, সেটা তাদের ব্যাপার।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি রাজনীতি দিয়ে মোকাবিলা করব, সহিংসতা মোকাবিলার জন্য আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে। তারা যখন যেটা দরকার সেটাই করবে।’

    ৭ মার্চের সমাবেশ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সমাবেশে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন এবং এ সময়ের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মুখে আমাদের করণীয়, দেশবাসীর করণীয়, নির্বাচন সামনে রেখে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাবেন।’

  • ইতালী প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় নৈশভোজে আ.লীগের এমপি

    ইতালী প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় নৈশভোজে আ.লীগের এমপি

    ইতালী প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছেন টাঙ্গাইল-(৪) কালিহাতী আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী।

    এমপি সোহেল হাজারীর এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও তোলপাড় চলছে ইতালি প্রবাসীদের মাঝে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে গত (১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি) ইতালিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    এ সময় এমপি সোহেল হাজারী জার্মানি হয়ে ইতালিতে অবস্থান করেন। এমপি সোহেল হাজারী ইতালিতে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বর্তমানে ঢাকা মহানগর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সফিকুর রহমানের ছোট ভাই ইতালি প্রবাসী জামায়াত নেতা এমকে রহমান লিটনের বাসায় অবস্থান করেন। সেইসঙ্গে রাতে নৈশভোজে অংশ নেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ইতালি প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

    এমপি সোহেল হাজারীর এমন ঘটনায় ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে তোলপাড় চলছে। স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম, ফেসবুক, টুইটারে এমপি সোহেল হাজারীর সঙ্গে ইতালি প্রবাসী জামায়াত সমর্থক এমকে রহমান লিটনের ছবি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ ও মন্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে এমপি সোহেল হাজারী হাসিমুখে সংবর্ধনার ফুল গ্রহণ করছেন। এ রকম বহু ছবি ইতালি প্রবাসীসহ বাংলাদেশি আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এমপি সোহেল হাজারীর এমন কর্মকাণ্ডে বিক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন ইতালির রোমা নর্দ শাখা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালি যান। সেখানে কাউন্সিলের সভা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব অনুষ্ঠানে দেশের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের ইতালি প্রবাসীরা অংশ নেয়।

    ইতালির রোমা নর্দ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মিয়া জানান, টাঙ্গাইল-(৪) কালিহাতী আসনের এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারীকে ইতালির রোমা নর্দ শাখা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু এমপি সোহেল হাজারী আমাদের সংবর্ধনা না নিয়ে টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বর্তমানে ঢাকা মহানগর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সফিকুর রহমানের ছোট ভাই ইতালিতে বসবাসরত জামায়াত নেতা এমকে রহমান লিটনের বাসায় অবস্থান করেন। সেইসঙ্গে তাদের সংবর্ধনায় অংশ নেন। এমপি সোহেল হাজারীর এ ঘটনায় আমরা চরম বিক্ষুব্ধ।

    ইতালির রোমা নর্দ শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান করিম জানান, এমপি সোহেল হাজারীর এমন কর্মকাণ্ড আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হচ্ছে। আর কিভাবে এমপি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের নেতার বাসায় আতিথেয়তা ও সংবর্ধনায় অংশ নেন। এ ঘটনায় আমরা চরমভাবে লজ্জিত।

    ইতালির রোমা নর্দ শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমজান রানা জানান, এমপি সোহেল হাজারী আমাদের সংবর্ধনা না নিয়ে জামায়াত নেতা লিটনের বাসায় থাকেন এবং তাদের সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। বিষয়টি আমরা প্রবাসী আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

    এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-(৪) কালিহাতী আসনের এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী বলেন, লিটন আমাকে সংবর্ধনা দেবে কেন? টাঙ্গাইল জেলা সমিতি আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। লিটনকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। আমি জানি না তিনি কার ভাই বা কার ছেলে। আর সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমার সঙ্গে আরও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ছিলেন। তারা কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। আর আমি সেখানে রাত্রিযাপন করিনি। তারা আমাদের জন্য একটি ডিনারের (নৈশভোজ) আয়োজন করেছিল। আমরা ডিনার করে চলে এসেছি। জামায়াতের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম। জামায়াতের কাছে আমরা কেন যাব? আমরা সবসময় জামায়াতের ব্যাপারে সিরিয়াস।