Category: রাজণীতি

  • বিচার বিভাগ সরকারের দখলে পরিণত হয়েছে: দুদু

    বিচার বিভাগ সরকারের দখলে পরিণত হয়েছে: দুদু

    এই দেশের মানুষের সর্বশেষ যে আশ্রয়স্থল ছিল বিচার বিভাগ সেটি নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সরকারের দখলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) আয়োজিত শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, এ দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শুধু মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় না, তাকে হেনস্তা করার জন্য এমন কোনো কাজ নাই যা করা হচ্ছে না। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুধু সাজাই দেওয়া হয় নাই এখনও তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং বিচার করা হচ্ছে।

    শামসুজ্জান দুদু বলেন, এ দেশে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে লুটপাট করে। একেবারে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে বিরোধী মতের ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন অবস্থান করতে পারে না। পেশাজীবীরা যে যেখানে আছে তারা যখনি সরকারের অন্যায় ফ্যাসিবাদী কার্যকালাপের বিরোধিতা করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।

    দেশে বেনামে বাকশালী শাসন ব্যবস্থা চলছে বলে মন্তব্য করে দুদু বলেন, এই বাকশাল ৭৫ সালের বাকশাল না। এই বাকশাল সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে শুধুমাত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখানে নির্বাচন ব্যবস্থা বলে কিছু নাই।

    এই দেশে এখন মুক্তচিন্তা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগঠন গড়ে তুললেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি অন্যায়কারীদের দখলে থাকে গণতন্ত্র এবং ন্যূনতম ভোটাধিকার না থাকে তাহলে স্বাধীনতার ৪৬ বছর আগে আমরা যে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম সেটি মিথ্যা হিসাবে চিহ্নিত যাবে।

  • বিচারকদের স্বাধীনতা আবারও প্রশাসনের হাতেই গেল: ফখরুল

    বিচারকদের স্বাধীনতা আবারও প্রশাসনের হাতেই গেল: ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিচারকদের স্বাধীনতা আবারও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বিচার বিভাগ আর স্বাধীন রাখা গেলো না।

    মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী পরিষদ আয়োজিত ঢাবি সিনেটের রেজিস্টার গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন ২০১৭ প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতিকে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে বিএনপির ওপর মামলার খড়গ নেমে আসে।

  • শরিকদের কাছে খালেদা চাইলেন প্রার্থী তালিকা

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর কাছে প্রার্থী তালিকা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সম্প্রতি জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর কাছে মৌখিকভাবে তালিকা চাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা। ছোট অন্য দলগুলোও প্রার্থী তালিকা তৈরি করে বিএনপির কাছে পাঠাচ্ছে বলেও জানা গেছে। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জোটের শরিকদের জন্য অর্ধশত আসন ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে তাদের জন্যও বেশ কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে বিকল্পধারা বাংলাদেশের  প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিএনপি।

    এ প্রসঙ্গে গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘বিএনপি জোটগতভাবেই নির্বাচনে যাবে। দলের দুঃসময়ে জোট ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনই গণমাধ্যমে বলার সময় আসেনি। ’

    বিএনপি ও জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে জামায়াতের কাছে তাদের প্রার্থী তালিকা চাওয়া হয়েছে।

    কিন্তু এখন পর্যন্ত জামায়াত কোনো তালিকা বিএনপিকে দেয়নি। তবে তারা তালিকা তৈরি করেছে। এর আগেও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকা অবস্থায় ঢাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের কাছে তাদের প্রার্থী তালিকা চাওয়া হয়। জবাবে কোন কোন আসন জামায়াতকে ছাড়তে চায়- এমন একটি তালিকা বিএনপির কাছে চাওয়া হয়। সূত্র মতে, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৮ আসন দিতে বাধ্য হয়েছিল বিএনপি। জামায়াতের এক নেতা বলেন, জামায়াত বিএনপির কাছে অর্ধশত আসন চাইবে। ইতিমধ্যে এসব আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছু আসনে দ্বন্দ্ব থাকায় এখনো তা সম্পন্ন করা যায়নি। বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, জামায়াত চাইলেই তো আর পাবে না। একদিকে তাদের নিজস্ব কোনো প্রতীক নেই। তারপরও দলটির প্রথম সারির নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির রায়সহ নানা মেয়াদে দণ্ড হয়েছে। অনেকের বিচারকার্যও চলছে। এই অবস্থায় তাদের প্রভাবশালী নেতাদের সংখ্যা খুবই কম। এ ছাড়া জামায়াত সাংগঠনিকভাবেও আগের মতো শক্তিশালী নয়। বিএনপিও আগের মতো জামায়াতকে কাছের বন্ধু মনে করে না। জামায়াতের বর্তমান নেতাদের নিয়েও সরকারের সঙ্গে নতুন বন্ধুত্বসহ নানা নেতিবাচক গুঞ্জন রয়েছে।

    বিএনপি সূত্র জানায়, ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে জামায়াতের সফলতা আশব্যঞ্জক নয়। প্রথমবার ২৯টি আসনে নির্বাচন করে মাত্র ১৭টি আসনে জয়লাভ করে। এর পরে ৩৩টি আসনে নির্বাচন করে জয়লাভ করে মাত্র ২টি আসনে। তাই এবার বিএনপির পক্ষ থেকে দলটিকে ১৫ থেকে বিশটি আসনে জোটগত মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও এক্ষেত্রে অনেকটা নমনীয়।

    এদিকে এলডিপি, বিজেপি, জাগপা, কল্যাণ পার্টি, লেবার পার্টিসহ অন্য দলগুলোও নিজেদের মতো করে প্রার্থী তালিকা তৈরি করছে। তাতে জোটের শরিকদেরই চাওয়া অন্তত দেড়শ আসন। যদিও এসব দল এক নেতা সর্বস্ব। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হলে জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। ৯ম ও ৮ম দুই নির্বাচনেই বিএনপি-জামায়াত জোটগতভাবে নির্বাচন করেছে। অতএব, এবারও যে দলের অবস্থান যে আসনে ভালো, সেখানে সেই দলের প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

  • রংপুর সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ফখরুলের

    রংপুর সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ফখরুলের

    আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার সকালে হাইকোর্ট মাজার প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত অসহায় দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের যে অভিযোগ এসেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। এর কোনো ভিত্তি নেই। সরকার পারলে অভিযোগ প্রমাণ করে দেখাক।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ মহানগরের নেতারা।

  • বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে পুলিশের বাধা

    কাজী   সাইফুল

    স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বের হওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। রোববার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশালে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ আয়োজনে নগরের সদর রোডের বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের করা হয়।

    মিছিলটি অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে সদররোডে উঠতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ফিরে গেলে মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। মিছিলের আগে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এ কে এম শহীদুল ইসলাম, মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন প্রমুখ। এসময় বক্তারা আব্দুল কাদের ভুঁইয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

     

  • বিবাহিত আর বয়ষ্কদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি

    বিবাহিত আর বয়ষ্কদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি

    ৬ ডিসেম্বর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ। এ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে ৩২ বছর বয়সী রাসেলকে।

    তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আল আমিনকে (সানু) যিনি বিবাহিত এবং ছাত্রদল নেতা। এছাড়া সহ-সভাপতি করা হয়েছে বেল্লাল হোসেনকে যার বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বিতর্কিত এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে রাজাপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন বড়ইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগ নেতা মো. শাওন ফরাজী।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। তারপরও উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে অবহিত না করে জেলা ছাত্রলীগ গোপনে এ কমিটি ঘোষণা করেছে। বিবাহিত, একাধিক সন্তানের জনক, অছাত্র ও বিএনপি ঘেষাদের নিয়ে গঠনতন্ত্রকে পাস কাটিয়ে কমিটি করা হয়েছে।

    এছাড়াও কমিটিতে নাম রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন বর্তমান কমিটি থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ও অগঠনতান্ত্রিক উল্লেখ করে তা বাতিল এবং অবিলম্বে এই কমিটি বিলুপ্ত করে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রনেতারা বলেন, যেখানে উপজেলা কমিটিতে হাইব্রিড (নব্য) স্থান পায়, সেখানে বড় ধরনের ঝামেলার জন্য এবং ৩টা গ্রুপিংয়ের কারণে প্রায় ২ বছরের অধিক সময় কমিটি স্থগিত থাকায় কিভাবে জেলা থেকে এমন কমিটি দেয় এটা তাদের বোধগম্য নয়।

    এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম নীতি মেনেই কমিটি ঘোষণা করেছি। তারপরও কমিটির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

  • নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল

    নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার, এটি কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে নাকে খত দিয়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নাকে খত দিয়ে নয়, সব দলকে নির্বাচনে আনতে সরকারকেই বাধ্য হতে হবে।

    কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি নাকে খত দিয়ে আগামী নির্বাচনে আসবে।’

    এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফখরুল এই মন্তব্য করেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘বরঞ্চ বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তাদেরকে বাধ্য হতে হবে সব রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনে আসে তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এটা শুধু বিএনপির কথা নয়, এটা সমগ্র দেশের জনগণের কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই প্রশ্ন এসেছে যে এটা (নির্বাচন) সবচেয় বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সেটা নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করা- এই প্রশ্নটা জাতির সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

    তিনি বলেন, যে কথাটা আমরা বারবার বলেছি, আমরা সংঘাত চাই না, আমরা অস্থিতিশীলতা চাই না। আমরা এবারকার নির্বাচন যাতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জন্যে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়, গণতন্ত্রকে এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হয়, জনগণের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সেটাই আমরা চাচ্ছি, জনগণ সেটা চাচ্ছে।

    ‘যদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল নেত্রী হন, তাহলে অবশ্যই তাকে এদিকেই চিন্তা করতে হবে এবং জনগণের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষাটা বুঝতে হবে। সেভাবেই তাকে কাজ করতে হবে।’

    বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী- সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তার (প্রধানমন্ত্রী) দায়। আজকে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা যিনি সরকারের প্রধান তার দায়। নির্বাচন করবেন কি করবেন না, নির্বাচন হবে কি হবে না এটার দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।

    বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমা চাইতে হবে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে তিনি যেটা বলেছেন এটা জনগণের কাছে হাস্যকর মনে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালে বিনা নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে জনগণের ওপরে তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, করে চলেছে এবং সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ক্ষমা কাকে চাইতে হবে সেটা জনগণই বিচার করবে।’

    ‘সেজন্য দেশনেত্রী আগেই বলে দিয়েছেন যে, তার ওপরে, তার দলের ওপরে এবং দেশের মানুষের ওপরে যে নির্যাতন চলছে, তিনি তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন’ বলেন ফখরুল।

    জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, সরকার জিয়া পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করলেও তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’, প্রতিহিংসামূলক কিছুই তিনি করবেন না।

  • ১ জানুয়ারিতে নববর্ষের ভাষণে যে ঘোষণা দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    ১ জানুয়ারিতে নববর্ষের ভাষণে যে ঘোষণা দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    ডিসেম্বরের মধ্যেই আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায়। আগামী ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। ওই বক্তব্যে তিনি ২০১৮কে নির্বাচনের বছর হিসেবে আখ্যায়িত করবেন। জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মধ্যে দিয়েই নির্বাচনের পথে হাঁটবে দেশ।

    সোমবার দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের সঙ্গে আলাপ চারিতায় প্রধানমন্ত্রী এরকম ইঙ্গিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে নেমে যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। আর অপেক্ষা না করে, নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির দুর্নীতি লুটপাট এদেশের মানুষ ভুলতে বসেছে। এই সব দুর্নীতি মানুষকে আবার মনে করিয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

    পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদের তথ্য জনগণের মধ্যে প্রচার করতে বলেছেন। সৌদি আরব সরকার সম্প্রতি বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। সেই দেশে বেগম জিয়ার বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে সৌদি আরবে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান কতৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ সভাপতি, এসব তথ্য জনগণকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যেন জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে বলেছেন।

    আওয়ামী লীগ অন্তত ১০০টি আসনে তাঁদের প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দিয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, বাকি ২০০ আসনে ৩ জন করে প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত তালিকা এখন সভাপতির টেবিলে। অবিলম্বে এই আসনগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। কয়েকটি আসনে, কৌশলগত কারণে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে না। বিএনপি কীভাবে নির্বাচন করে এবং প্রার্থী কে হয়, তার ওপর নির্ভর করবে অন্তত ১০০টি আসনের প্রার্থী বাছাই। ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ১০০ আসনের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করে ফেলবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেছেন, কিছু আসনের প্রার্থী নির্ধারিত। আমরা জানি, তারাই প্রার্থী হবেন।

    এরকম আসনে নির্বাচনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ওই নেতা মনে করেন, সব আসনেই নির্বাচনের কাজ চলছে, তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় ওই সব আসনে সমস্যা হচ্ছে। এজন্যই আওয়ায়ী লীগ সভাপতি স্বল্পতম সময়ে অধিকাংশ আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবেন। বেগম জিয়ার মামলা নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। বিএনপির আন্দোলন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুভাবে প্রতিহত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • বর্তমান সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন চাই : ফখরুল

    বর্তমান সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন চাই : ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নির্বাচন চাই। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকবে না, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবে না। এ সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন চাই। সেটা কালকে দিলে কালকেই চাই।

    বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সিইসির দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ প্রমুখ।

    ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জোট তৈরি করা হচ্ছে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এ রকম ব্যক্তি-সংগঠনকেও এই জোটে আহ্বান জানাই এবং স্বাগত জানাচ্ছি। জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চারদলীয় জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘স্বৈরাচার পতন দিবসে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই কেন’-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, নাকি (স্বৈরাচার) নতুন করে জেগে উঠেছে?’’

  • খালেদার ফেরার পথে সংঘর্ষ, ফুটবলার আমিনুল আটক

    খালেদা জিয়া আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সচিবালয় ও বঙ্গবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তারা শাহবাগ থানায় অবস্থান করছেন।

    আমিনুল হকের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।