Category: রাজণীতি

  • এটাই শেষ নির্বাচন?

    এটাই শেষ নির্বাচন?

    আরেকটি নির্বাচনের পর অবসরে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘনিষ্ঠদের তিনি বলেছেন, ‘২০১৮ এর পর আর নির্বাচন করতে চান না।’ অবসর নিয়ে তিনি ঢাকায় নয় থাকতে চান টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে পৈতৃক ভিটায় বাড়িও বানিয়েছেন। ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ‘আল্লাহ যদি তৌফিক দেন আরেকবার দেশ পরিচালনা করার, তাহলেই শেষ।’ এর মধ্যে বাংলাদেশ একটা মর্যাদার জায়গায় যাবে বলেই বিশ্বাস কর্মঠ এই প্রধানমন্ত্রীর।

    ২০১৮ এর নির্বাচনে যে দল ক্ষমতায় আসবে তারাই ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে। একই দল ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি পালন করবে। শেখ হাসিনা এখন প্রতিটি ঘরোয়া আলোচনাতেই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কেন আগামী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কেন এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়টা জরুরি।

    ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় প্রবেশ করবে বলে আশাবাদ প্রধানমন্ত্রীর। ঘরোয়া আলোচনায় বলেছেন, ‘জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজটা প্রায় সমাপ্ত করতে পেরেছি। আমার দায়িত্ব শেষ। নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দিবো। গ্রামে গিয়ে অবসর কাটাবো।`২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর বয়স হবে ৭৬ বছর। ৭৬ এ বহুদেশে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন। একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেল না? ‘কোথায় তাড়াতাড়ি? ৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। ৩৬ বছর দলের সভাপতি আর কত?’ এভাবেই জবাব দেন।

    একটা কথা সবসময়ই বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ক্ষমতার লোভ আমার নেই। প্রধানমন্ত্রী হবার শখও আমার ছিল না। দেশ পরিচালনার দায়িত্বও নিয়েছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের জন্য। জাতির পিতা চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ সুখে থাকুক। দুবেলা পেট পুরে খাক। আমরা দেশটাকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার কাছাকাছি নিয়ে গেছি। বিশ্বে আজ মর্যাদার আসনে বাংলাদেশ।’ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন, বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করেছেন। এখন দারিদ্র মুক্তির দারপ্রান্তে বাংলাদেশ।

    প্রায়ই ঘনিষ্ঠদের বলেন, ‘আল্লাহ বোধ হয় এজন্যই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।’আগেও অবসরের কথা বলেছেন। প্রতিবার দলের কাউন্সিলে অবসরের ইচ্ছা জানান। কিন্ত কর্মীদের প্রবল আবেগের কাছে পরাস্ত হন। ‘কর্মীরাই আমার সব। এদেশের মানুষের ভালবাসায় সম্ভবত আমি বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি।’ এমন কথা বলতে বলতে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। এজন্যই কর্মীদের আবেদনের কাছে নিজের ইচ্ছার পরিবর্তন করেন। তবে, এবার আর না।

    সাধারণ মানুষের জীবনে ফিরে যেতে চান।মালয়েশিয়ার নেতা মাহাথির মোহাম্মদের মতো কি তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়েই তিনি ক্ষমতা ছেড়ে যেতে চান? এমন প্রশ্ন তাঁকে অনেকেই করে, কিন্ত তুলনায় ঘোর আপত্তি তাঁর। তিনি কারো মতো না। তিনি শেখ হাসিনা, অনন্য। মানুষের ভালবাসা উপেক্ষা করে সত্যি কি পারবেন তিনি অবসরে যেতে?

  • জামায়াত যা বলে খালেদা জিয়া তাই করে: দিলীপ বড়ুয়া

    জামায়াত যা বলে খালেদা জিয়া তাই করে: দিলীপ বড়ুয়া

    বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী কমরেড দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, ‘জামায়াত যা বলে খালেদা জিয়া তাই করে, শেখ হাসিনার বিকল্প খালেদা জিয়া নয়, খালেদা জিয়া এখন জামায়াতের হাতে বন্দী ও জামায়াত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসলে জামায়াতের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মুক্ত চিন্তার অধিকারী কমিউনিস্ট ও তোয়াহা’র অনুসারীদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে।

    উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশের কল্যাণে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে হবে। ’

    সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভাষা সৈনিক কমরেড মো. তোয়াহা’র ৩০তম স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তোয়াহা’র স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত স্মরণ সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন- কমলনগর উপজেলা ১৪ দলীয় জোটের সভাপতি অ্যাডাভোকেট আনোয়ারুল হক, পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড লুৎফর রহমান প্রমুখ।
    এর আগে দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রয়াত ভাষা সৈনিক কমরেড তোয়াহা’র স্মরণে শোক র‌্যালি ও সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন দিলীপ বড়ুয়া।

  • যুবরত্ন সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহর নব নির্মিত ওয়ার্ড দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন ।

    যুবরত্ন সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহর নব নির্মিত ওয়ার্ড দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন ।

    শেখ সুমন: বরিশাল মহানগর এগারো নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নব নির্মিত দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যুবরত্ন সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ।

    এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম.হুমায়ুন কবীর মোতালেব ।মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল,দপ্তর সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবীর, উপ দপ্তর সম্পাদক কাজী মনিরউদ্দিন তারিক , বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ বরিশাল মহানগর সভাপতি মুহাঃ পলাশ চৌধুরি ,এগারো নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক সরদার, এগারো নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সিনিয়র সদস্য ও জেলা যুবলীগ নেতা মুহাঃ মিজান চৌধুরি সহ ছাত্র লীগ,যুবলীগ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।

    এসময় সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন,আমার নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ টাকা দাবি করে আর অন্যায় কাজ করে তাহলে সাথে সাথে তাকে জানাতে এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে বলেন।এসময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন,যেন সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহকে বরিশালের নগর পিতা হিসেবে দেখা যায় ।

  • মওদুদ-মজহারের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

    মওদুদ-মজহারের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

    নাম উল্লেখ না করে জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ফরহাদ মজহার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। এটা এমন একজন লোক বললেন তার (মওদুদ) চরিত্র কী? ছাত্রাবস্থায় অন্য একটি দল করতো। ব্যারিস্টারি করে দেশে ফেরার পর দেখলাম আমাদের বাড়ি থেকে নড়েন না। আঁঠার মতো পড়ে থাকেন। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, তার পিএ হিসেবেও এই লোকটা কিছুদিন কাজ করেছেন। তার ব্যাগ টেনেছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশে আরেকটি দল আছে (বিএনপি), তারা নির্বাচনে আসেনি। এখন রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। বলছে তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি (মওদুদ) বিএনপিতে গেলেন। এরপর গেলেন জাতীয় পার্টিতে। তিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল এরশাদ চলে যাওয়ার পর আবারও গেল বিএনপিতে। তিনি বনানীতে চিটিং করে অবৈধভাবে একটি বাড়ি দখল করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই বাড়িটি হারিয়েছেন। এখন সেই ব্যক্তিটিই ঘোষণা দেন সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। যিনি নিজেই মাটিতে পড়ে আছেন, তিনি কীভাবে টেনে নামাবেন?’

    গুম-খুন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-খুন নানাভাবেই হচ্ছে, আবার যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কী শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটির ওপরে জনগণ বাস করে। আমরা এতো মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কতো? উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরও তাদের দেশে এতো গুম হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তা খতিয়ে দেখছি। দেশে একজন স্বনামধন্য আঁতেল (ফরহাদ মজহার) আছেন তিনি নাকি গুম হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তিনি খুলনায় নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।’ তিনি বলেন, আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। শিক্ষার হার ৭২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর সেশনজট নেই।

    বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করে, যাদের দুর্নীতিতে আগাগোড়া মোড়া। যাদের এতো গুণ তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, যাদের বিবেক আছে তারা অন্তত ওদের (বিএনপি-জামায়াত) কোনোদিন ভোট দেবে না, ভোট দিতে পারে না। তাদের ভোট দিয়ে আর অশান্তি টেনে আনবে না। এই আপদকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই ওদের স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই, বড় বড় কথা বলেও লাভ নেই।’

  • স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই : প্রধানমন্ত্রী

    স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই : প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করে, যাদের দুর্নীতিতে আগাগোড়া মোড়া। যাদের এতো গুণ তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, যাদের বিবেক আছে তারা অন্তত ওদের (বিএনপি-জামায়াত) কোনোদিন ভোট দেবে না, ভোট দিতে পারে না। তাদের ভোট দিয়ে আর অশান্তি টেনে আনবে না। এই আপদকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই ওদের স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই, বড় বড় কথা বলেও লাভ নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ না করে তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। এটা এমন একজন লোক বললেন তার (মওদুদ) চরিত্র কী? ছাত্রাবস্থায় অন্য একটি দল করতো। ব্যারিস্টারি করে দেশে ফেরার পর দেখলাম আমাদের বাড়ি থেকে নড়েন না। আঁঠার মতো পড়ে থাকেন। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, তার পিএ হিসেবেও এই লোকটা কিছুদিন কাজ করেছেন। তার ব্যাগ টেনেছেন।’

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে আরেকটি দল আছে (বিএনপি), তারা নির্বাচনে আসেনি। এখন রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। বলছে তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি (মওদুদ) বিএনপিতে গেলেন। এরপর গেলেন জাতীয় পার্টিতে। তিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল এরশাদ চলে যাওয়ার পর আবারও গেল বিএনপিতে। তিনি বনানীতে চিটিং করে অবৈধভাবে একটি বাড়ি দখল করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই বাড়িটি হারিয়েছেন। এখন সেই ব্যক্তিটিই ঘোষণা দেন সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। যিনি নিজেই মাটিতে পড়ে আছেন, তিনি কীভাবে টেনে নামাবেন?’

    গুম-খুন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-খুন নানাভাবেই হচ্ছে, আবার যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কী শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটির ওপরে জনগণ বাস করে। আমরা এতো মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কতো? উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরও তাদের দেশে এতো গুম হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তা খতিয়ে দেখছি। দেশে একজন স্বনামধন্য আঁতেল (ফরহাদ মজহার) আছেন তিনি নাকি গুম হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তিনি খুলনায় নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।’ তিনি বলেন, আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। শিক্ষার হার ৭২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর সেশনজট নেই।

    শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তখনই আইপিইউ ও সিপিইউ মতো সারাবিশ্বের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এই দুটি বৃহৎ সংস্থায় বাংলাদেশের দু’জন সংসদ সদস্যকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন, এটা একটা বিরল ঘটনা। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, সেটা বিশ্বের জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে দেখে গেছেন। অনেকে বলে নির্বাচন অবৈধ। এটা শুনে মনে হয়, যারা একথা বলে শুধু তাদেরই জ্ঞানের ভাণ্ডার আছে। আর বিশ্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যারা আমাদের দু’জনকে নির্বাচিত করলেন তাদের মনে হয় কোনো জ্ঞান নেই। তারা যেন না জেনেই বাংলাদেশকে ভোট দিয়ে গেলেন। দুটি সম্মেলনই অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি বাংলাদেশে কীভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। বিশ্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও তা দেখে গেছেন।

    রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার স্বীকার করেছে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে যৌক্তিক কারণে সমস্যার সমাধান করছি।

  • বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস:ওবায়দুল কাদের

    বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস:ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আলোর পথে রয়েছে। আর বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও অন্ধকারে পতিত হবে। বাংলার মানুষ আর বিএনপির অন্ধকারে আর যাবে না।
    বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর নুরজাহান ভবন চত্বরে বাংলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মযহারুল ইসলামের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিন এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ইতিহাস বাংলার মানুষ ভোলে নি। ২০১৩-১৪ সালের অগ্নি-সন্ত্রাসের কথাও ভুলে যায়নি। ক্ষমতায় থাকতে তারা সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, মঞ্জুরুল ইমাম, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীর রক্ত ঝরিয়েছে। রক্তের নদী আর কান্নার দরিয়ায় ভাসিয়েছে মানুষকে। এখন তারা আবার লোক দেখানো মায়াকান্না করছে।
    শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মহান আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য আর শেখ হাসিনাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিষ্ময়। সোয়া ৬ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে তিনি উদারতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের তা চোখে পড়ে না।
    খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ফটোসেশনের জন্য তিনি (খালেদা জিয়া) একবার বিশাল গাড়িবহর নিয়ে কক্সবাজার গিয়ে শো-ডাউন করেছেন। তার দলের মহাসচিবও একবার গিয়েছিলেন। অথচ আমি ২৫ দিন রোহিঙ্গাদের পাশে ছিলাম। কোনটা মন থেকে আর কোনটা লোক দেখানো তা মানুষ বোঝে।
    বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেত্রী লন্ডনে চলে গেলেন, আন্দোলন থাকলো তার ভ্যানিটি ব্যাগে। এই বছর না সেই বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর। পেট্টোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও গাছ ধ্বংস করার আন্দোলনের সঙ্গে বাংলার মানুষ আর নেই।
    দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকবে, সেটা যেন অসুস্থ না হয়। যারা উন্নয়ন করবেন আর সকলের সঙ্গে ভাল আচরণ করবেন আগামী নির্বাচনে তাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের কাছে টেনে নিন। দলে অনুপ্রবেশকারী আগাছাদের ঠাঁই দিবেন না। দল ক্ষমতায় না থাকলে ৫ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
  • সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবোনা : ফখরুল

    সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবোনা : ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবো বলে মনে হয় না। এদের বিদায় ঘটাতে হাতিয়ার লাগবে। রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ এরা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে বন্দুক, পিস্তল হাতে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাই সবাইকে জেগে উঠতে হবে। সরকারকে বিদায় করতে না পারলে আমরা সবাই ব্যর্থ হবো, সেই সঙ্গে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ।
    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, কামরুজ্জামান রতন, সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকু, আমিরুল ইসলাম আলীম, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, নাজমুল হাসান প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
    মির্জা ফখরুল বলেন, যে কোনো মূল্যে বর্তমান দখলদারী ক্ষমতাসীন সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কেন না দেশের মানুষ এদের কাছ থেকে মুক্তি পেতে চায়, চায় পরিবর্তন। শুধু ভাই ভাই বলে স্লোগান না দিয়ে অঙ্গীকার করতে হবে। আমরা যদি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারি এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলেই তারেক রহমান নির্বাসন থেকে দেশে আসবেন, অন্যথায় নয়।
    প্রধান আলোচক শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই ছাত্রদল বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। স্বৈরাচারের পতন ত্বরান্বিত করেছিল। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি গ্রহণ করছেন না। আগামী দিনে ছাত্রদল রাজপথেই মীমাংসা করবে স্বৈরাচার থাকবে না কি গণতান্ত্রিক সরকার থাকবে।
  • ‘সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজী’ থানায় সাধারন ডায়েরী সাদিক আব্দুল্লাহর

    ‘সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজী’ থানায় সাধারন ডায়েরী সাদিক আব্দুল্লাহর

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে চাঁদাবাজীর অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায় ছিল।

    দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য এমন মিশনে নামলেও শেষ পর্যন্ত সেই ফাঁদ থেকে বেড়িয়ে আসলেন সাদিক আব্দুল্লাহ। এবার চাঁদাবাজ ওই নেতাদের বিরুদ্ধে নিজেই আইনের আশ্রয় নিলেন সাদিক। ১৯ নভেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন তিনি। (ডায়েরী নং-১১৫৯)।

    সাদিক উল্লেখ করেন, অতিসম্প্রতি তার জনপ্রিতায় ইর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে বরিশালসহ দেশের বেশকিছু দলীয় নেতাকর্মী এমনকি সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারির  নিকট বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার দিয়ে ফোন করে ‘সাদিক আবদুল্লাহ’ পরিচয় দিয়ে টাকা দাবী করছে। যার ফলে আমার সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং ঐসব সম্মানিক ব্যক্তি বিভ্রান্তি এবং প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ।

    ঐসব অপরাধী এবং কুচক্রী মহলের মুখোশ উন্মোচন করতে আইনের আশ্রয় নিলেন।

  • খালেদার সাজায় কী করবে বিএনপি

    খালেদার সাজায় কী করবে বিএনপি

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক দুই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্যের পর সাফাই সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক।

    এরপরই রায়। এ মামলায় প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুই মামলায় ‘সাজা’ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তার দলের নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি বিশেষ আদালতে নিজের ‘সাজা’ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বেগম জিয়া। তার সাজা হলে বিএনপির পরিণতি কী হবে তা নিয়ে দলের পক্ষে প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি কেউ। তবে এ নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। খালেদা জিয়া জেলে গেলে ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান হাল ধরুক—এমনটাও চান দলের অনেক নেতা। আবার দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্ব চান বড় একটা অংশ। তবে সরকারের দুজন মন্ত্রী এ নিয়েও আগাম বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা হলে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। ’ এরও কয়েকদিন আগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি দুই-তিনভাগে বিভক্ত হবে। সব ভাগই পৃথক পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। ’ মন্ত্রীদের এ ধরনের কথাবার্তায় উদ্বিগ্ন  বিএনপি। মন্ত্রীদের এসব বক্তব্যে ‘অসৎ’ উদ্দেশ্য দেখছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। অবশ্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তাকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। মামলা আর জেলের ভয় পান না বিএনপি চেয়ারপারসনসহ দলের নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্রও কাজে আসবে না। ’ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, শুধু বেগম জিয়াকেই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন নেতাকেও ‘সাজা’ দিয়ে আগাম নির্বাচন দিতে পারে সরকার। বেগম জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাও করা হতে পারে। সেই সঙ্গে কয়েকজন সিনিয়র নেতাকেও সাজার জালে আটকানো হতে পারে। তখন বিএনপি কী করবে—তা নিয়েই ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলছেন বেগম খালেদা জিয়া। দলের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন খালেদা জিয়া। বিশেষ করে বেগম জিয়া জেলে গেলে দল কীভাবে কার নেতৃত্বে চলবে তা নিয়েও মা-ছেলে কথা হয়। আপদকালীন একটি সংক্ষিপ্ত কমিটি গঠনের চিন্তার কথাও জানান বেগম জিয়া। তবে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আপদকালীন বিশেষ করে বেগম জিয়া জেলে গেলে তারেক রহমানেরও দেশে আসার সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে দলের হাল ধরতে পারেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। দলে তারও ক্লিন ইমেজ রয়েছে। নেতা-কর্মীরাও তাকে বেশ পছন্দ করেন। বিএনপির হাইকমান্ড মনে করে, বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রক্রিয়া চলছে। মাঝখানে বন্ধ থাকলেও আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সেটা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। একটি বিশেষ মহল আবারও বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রীদের বক্তব্যেও তা কিছুটা আন্দাজ করছে বিএনপির হাইকমান্ড। ওই মহলটি শুধু বিএনপি নয়, জোটেও ভাঙন ধরাতে নানা তত্পরতা চালাচ্ছে। বিএনপি জোটকে খণ্ডবিখণ্ড করে দুর্বল অংশকে নিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপিও বেশ সতর্ক। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন এমন সব নেতাদের ব্যাপারেও সজাগ দৃষ্টি রাখছেন খালেদা জিয়া। লন্ডন বসে তারেক রহমানও মনিটরিং করছে। দেখা-সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে ইশারা ইঙ্গিতে বিএনপি প্রধান বুঝিয়েও দিচ্ছেন, ‘দল ভাঙার চেষ্টা করলে পরিণাম শুভ হবে না। ’ সিনিয়র নেতাদের একাধিক বৈঠকেও এ কথা বলেন তিনি। সর্বশেষ শনিবার রাতে ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি প্রধান বলেছেন, ‘দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পরিণাম ভালো হবে না’। বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব বলছে, ভবিষ্যতে ওয়ান-ইলেভেনের মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে একটি সুবিধাভোগী গ্রুপ দল থেকে বেরিয়ে যেতেও পারে। তাতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরাই খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবে। কেউ দল থেকে চলে গেলে তারই ক্ষতি হবে। দল সাময়িকভাবে কিছুটা অসুবিধায় পড়লেও এ বিপদ কাটিয়ে ওঠার মতো সক্ষমতা রয়েছে বিএনপির। ওয়ান-ইলেভেনে যারা বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তারা কোনোদিন দলের আস্থার জায়গায় থাকবে না। নেতা-কর্মীরা তাদের এখনো বিশ্বাস করছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছে। রায় ঘোষণার দিন খুব একটা দূরে নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খালেদা জিয়ারও ‘সাজা’ হতে পারে। ‘সাজা’ হলে খালেদা জিয়াকেও আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। পরে জামিন চেয়ে আপিল করতে হবে। সরকার হার্ডলাইনে থাকলে তাকেও জেলবাস করতে হবে। নির্বাচনে অযোগ্যও হতে পারেন বিএনপি প্রধান। তাদের মতে, জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা হলেও আইনি লড়াইয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন খালেদা জিয়া। এতে নির্দোষ পাওয়ার আশা করছেন বিএনপি প্রধানের আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘সাজা’ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন খোদ খালেদা জিয়া। সম্প্রতি বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আমাকে সরাতে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য ‘নীলনকশা’ প্রণয়ন করছে বর্তমান সরকার। তারই অংশ হিসেবে আমার বিরুদ্ধে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা হুমকি দিচ্ছে, আমাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে। মামলা শেষ হওয়ার আগেই বিচার নিয়ে কথা বলছেন, মুখে মুখে রায় দিয়ে দিচ্ছেন তারা। তারা বলছেন যে—এই মামলায় আমার সাজা হয়ে যাবে। আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে। এসব বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছে, আমি এ মামলায় আদৌ ন্যায়বিচার পাব না। ” এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার মামলার অন্যতম আইনজীবী বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলার কার্যক্রমের গতিপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে সরকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ’

  • আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না: সেতুমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না: সেতুমন্ত্রী

    “আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না। আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি।

    “আজ সোমবার বিকেলে ফেনীর মহিপালে নির্মাণাধীন ছয় লেন ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে খালেদা জিয়াকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে- বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ওনাকে খালাস দেওয়া বা শাস্তি দেওয়া আদালতের এখতিয়ার। এতে আমাদের কিছু বলার নেই। ” সৈয়দপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, তার সঙ্গে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে এবং কুশল বিনিময় হয়েছে। তার সঙ্গে  সংলাপ বা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো আলাপ হয়নি।

    ফেনীর মহিপালে নির্মাণাধীণ ফ্লাইওভার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “১৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হচ্ছে। আশা করি ডিসেম্বরে এটি চালু করা সম্ভব হবে। ” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ সময় পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।