Category: রাজণীতি

  • আইসিটি লিডার অব দ্য ইয়ার পলক

    আইসিটি লিডার অব দ্য ইয়ার পলক

    তথ্যপ্রযুক্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য ওয়ার্ল্ড এইচআরডি কংগ্রেসের ‘আইসিটি লিডার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শনিবার বিকেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

    এর আগে গত বছর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে জুনাইদ আহমেদ পলককে যুব বিশ্ব নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। সংস্থাটি পলকসহ ৪০ বছরের কম বয়সী বিশ্বের অন্যান্য যুব বিশ্ব নেতাদের নামের একটি তালিকা করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে।

    পেশাদারী কর্ম সম্পাদন, সমাজের প্রতি অঙ্গীকার এবং আগামীর পৃথিবী রূপায়ণে সম্ভাব্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলককে ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার ২০১৬’ মনোনীত করা হয়।

    উল্লেখ্য, জুনাইদ আহমেদ পলক ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি নির্বাচিত সরকারের সংসদ সদস্য এবং ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • ‘সব হারিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেদনা বুঝি’ – শেখ হাসিনা

    ‘সব হারিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেদনা বুঝি’ – শেখ হাসিনা

    মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়ে সব হারিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব হারিয়ে যারা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের বেদনা বুঝি।

    আজ মঙ্গলবার বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা আমরা বুঝি। ’৭৫-এ বাবা-মা হারিয়ে আমাদেরও রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ’৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর এভাবেই অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। পাক হানাদার বাহিনী আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল, আমাদের দেশের মানুষকেও ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমাদের মানুষদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মানুষ উপায় না পেয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। তাই আমাদের যতটুকু সামর্থ আছে সাহায্য করছি। এ বিষয়ে আমরা কমিটিও করে দিয়েছি। ’

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আমি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের যা করার দরকার আমরা সেটি করবো। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তাতে কি তাদের বিবেককে নাড়া দেয় না? একজনের ভুলে এভাবে লাখ লাখ মানুষ ঘরহারা হচ্ছে। আমরা শান্তি চাই। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি। সেখানে আরও ৫/৭ লাখ মানুষকেও খেতে দিতে পারবো। ’

    এ সময় স্থানীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন যারা যুবক তারা হয়তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। কিন্তু আমরা দেখেছি। তাই রোহিঙ্গাদের যেন কোনও কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ’

    এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, কক্সবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম ও মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

    এর আগে বেলা সোয়া ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়ি বহরে কুতুপালংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান।

  • ‘আব্দুল জব্বারের গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে’

    ‘আব্দুল জব্বারের গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে’

    বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী এবং ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আব্দুল জব্বারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট এই শিল্পীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে গাওয়া গান ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে।

    jagonews24

    শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • আব্দুল জব্বারের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে : রাষ্ট্রপতি

    আব্দুল জব্বারের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে : রাষ্ট্রপতি

    স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠশিল্পী একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী আব্দুল জব্বারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

    বুধবার এক শোক বার্তায় প্রয়াত শিল্পীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

    শোক বার্তায় তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তার কণ্ঠে গান মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী দেশবাসীকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য শিল্পীকে হারালো। তার মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই বরেণ্য শিল্পীর অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

  • আব্দুল জব্বার কোটি কোটি প্রাণে চিরঞ্জীব থাকবেন : তথ্যমন্ত্রী

    আব্দুল জব্বার কোটি কোটি প্রাণে চিরঞ্জীব থাকবেন : তথ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশের গানের পাখি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অজেয় কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

    আজ (বুধবার) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ৭৯ বছর বয়সে তার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের খবরে মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। শিল্পীর মরদেহে শ্রদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গর্ব আব্দুল জব্বার তার হাজার হাজার হৃদয় ছোঁয়া গানের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে রয়েছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এ কিংবদন্তী শিল্পীর গাওয়া গান ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম প্রেরণা। বাংলা আধুনিক গানের জগতে তিনি অদ্বিতীয়। স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এ মহান শিল্পী যুগে যুগে এদেশের কোটি কোটি প্রাণে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।’

    তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ, বিএসএমএমইউ’র পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হারুন, শিল্পী আব্দুল জব্বারের পুত্র মিথুন জব্বারও এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

    আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৯টায় আগারগাঁওয়ে জাতীয় বেতার ভবনে, সকাল ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শিল্পী আব্দুল জব্বারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

  • খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

    খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এ কথা জানিয়েছেন।

    খবর- বাসস’র।

    আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক সেকেন্দার আলী মোল্লার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হাতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পৌঁছে দেন।

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

  • ‘ঈদের তিনদিন আগে ভারী যানবাহন রাস্তায় চলাচল করবে না’

    ‘ঈদের তিনদিন আগে ভারী যানবাহন রাস্তায় চলাচল করবে না’

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদের তিনদিন আগে ভারী যানবাহন রাস্তায় চলাচল করবে না। যদি চলাচল করে তবে পুলিশ এসব গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

    এখানে কোন ছাড় দেয়া হবে না, কারণ জনগনের স্বস্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে আমরা কাউকে রাস্তায় চলতে দিতে পারি না।

    তিনি আজ বুধবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

    মন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে টাইগার টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকে কেউ অন্য কোন ভিশন নিয়ে মেতে নেই। একটু কষ্ট হলেও ক্রিকেট জয়ের আনন্দ নিয়ে সবাই বাড়ি ফিরবে।

    এসময় মন্ত্রীর সাথে ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, হাইওয়ে ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান প্রধান বিচারপতি : প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান প্রধান বিচারপতি : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সমক্ষমতা কেড়ে নিতে চান বলে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই তারা (বিচারপতি) ওই পদে বসতে পেরেছেন। যে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন, সেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না বলেই তাদের এত রাগ ও গোস্বা।

    গতকাল বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া আলোচনা সভায় অধিকাংশ বক্তাই প্রধান বিচারপতির কড়া সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলা আদালতের কাজ না। প্রধান বিচারপতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়েও কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। আর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। তাই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কথা বলার আগে প্রধান বিচারপতির উচিত ছিল পদ থেকে সরে যাওয়া। বলতে পারতেন, যেহেতু সংরক্ষিত নারী সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন, তাই আমি এই পদে থাকব না। তিনি বলেন, সব কিছু সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা সহ্য করা যায় না। আর আমাকে হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। জীবন দেওয়ার মালিক আল্লাহ, জীবন বাঁচানোর মালিকও আল্লাহ। আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে সেজদা দেই, আর অন্য কারও কাছে মাথানত করি না। জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় আদালত, জনগণের শক্তিই বড় শক্তি, এটা সবাই মনে রাখবেন। ‘পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করেছেন, সেখানে কিছুই হয়নি’— প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের সমালোচনা করে দেশবাসীর ওপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি, লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগে পেয়েছি স্বাধীনতা, যে পাকিস্তান এখন ব্যর্থ রাষ্ট্র, সেই দেশটিকে নিয়ে তুলনা করায় বিচারের ভার দেশের জনগণের। কারণ জনগণের আদালতই হচ্ছে বড় আদালত। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ভালো, কিন্তু তা বালকের জন্য নয়। বালক সুলভ আচরণ ভালো নয়। রাজাকার-আলবদর কিংবা শান্তি কমিটির সদস্যরা ক্ষমতায় এলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় না। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা তা প্রমাণ করেছি। সুতরাং পাকিস্তানে কী হয়েছে না হয়েছে সে বিষয়ে আমাকে হুমকি দেবেন না। এটা সহ্য করা হবে না। আইয়ুব খান দেখেছি, ইয়াহিয়া খান দেখেছি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াকে দেখেছি। ওই হুমকি আমাকে দিয়ে লাভ নাই।

    প্রধানমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণের বেশকিছু অসঙ্গতি তুলে ধরে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে বিএনপির ফরমায়েশি রিপোর্ট দেওয়া বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দুর্নীতির তদন্ত দুদক যাতে না করতে পারে সেজন্য প্রধান বিচারপতি চিঠি লিখলেন। তদন্ত করা যাবে না কেন? দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া, দুর্নীতিবাজকে রক্ষা করা প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। এটা সংবিধানকে অবহেলা করা। সংবিধানকে লঙ্ঘন করা। তিনি বলেন, গণপরিষদের সদস্যদের করা আইন প্রধান বিচারপতির পছন্দ নয়। উনার পছন্দ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জারি করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই কি তার জুডিশিয়াল কাউন্সিল পছন্দ? রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া এ কোন ধরণের দাবি? তিনি বলেন, বিএনপি অনেক বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, ভুয়া সনদধারীদের বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে উচ্চ আদালতের পবিত্রতা নষ্ট করে গেছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল হলে তো কারোরই বিচার হবে না। তিনি আরও বলেন, আজ উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। পার্লামেন্ট সদস্যদের ক্রিমিনাল বলা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যবসা করা কি অপরাধ? ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্য হলে ক্রিমিনাল কেন বলা হবে?

    প্রধান বিচারপতিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তার নাকি সংবিধানের কিছু কিছু অনুচ্ছেদ পছন্দ না। তার মনে রাখতে হবে, এই সংবিধান বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া। তার যেগুলো পছন্দ সেগুলো জিয়ার শাসন আমলে প্রচলিত ছিল। তাকে মনে রাখতে হবে, আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন বলেই আজ ওই চেয়ারে বসতে পেরেছেন। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়েছিলেন বলেই আজ সবাই স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করছেন। তিনি বলেন, একটি আইন পাস করতে গেলে অনেক পর্যায় পার হতে হয়। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী পাস হয়। আর আদালতে এক খোঁচায় তা বাতিল করে দেন। এত সংসদ সদস্য, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা তাদের কারোরই কোনো জ্ঞান-বুদ্ধি নেই। জ্ঞান-বুদ্ধি আছে শুধু এক বা দুজনের? অন্য বিচাররকা স্বাধীনভাবে মতামত তুলে ধরতে পেরেছে কি না, এটা নিয়েও কথা আছে। ড. কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে যে ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, তা কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে না। তারা আদালতকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? ‘সংসদ কতদিন চলবে তা কেবিনেট সিদ্ধান্ত নেয়’, প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে এ দাবি অসত্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাবিনেটে সংসদ কতদিন চলবে তা নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় না। সংসদ সম্পর্কে এতটুকু ধারণা থাকলে এ কথা বলতে পারতেন না। স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংসদ কতদিন চলবে, কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে। এমন বহু অবান্তর কথা বলা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় ভালো করে পড়ছি এবং অসঙ্গতিগুলোর নোট নিচ্ছি। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সময় এলে নিশ্চয় সব কিছু জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এটা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা দায়বদ্ধ দেশের জনগণের কাছে। পাঁচ বছর পর পর আমাদেরকে জনগণের আদালতের সামনে দাঁড়াতে হয়। একটি রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে না আসে সেই দায়িত্ব কার? এটা তো ওই রাজনৈতিক দলেরই সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বিএনপি তো সবসময় উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু উত্তর পাড়া তাকে কোনো সাড়া দেয়নি। আর ড. কামাল হোসেন তো কোনোদিন সরাসরি ভোটে জিততে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আবার বড় বড় কথা বলেন কীভাবে? নির্বাচনী আইনেই রয়েছে কোনো আসনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিংবা প্রার্থী না দিলে সংসদের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না।

    ‘কয়েকটা ফ্লাইওভার বা রাস্তা হলেই উন্নয়ন হয় না’ এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা ফ্লাইওভার কিংবা রাস্তায় নয়, আমরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করেছি। দেশের মানুষ দু’বেলা খেতে পারছে, চিকিৎসা পাচ্ছে, গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, শতভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন কী চোখে পড়ে না আমাদের প্রধান বিচারপতির। তিনি বলেন, সারাবিশ্বে আমরা দেশের সম্মান নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতা দখল করলেই কি উন্নয়ন হবে? সেই অবস্থা আর নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে তার বিচার হবে। জনতার আদালত সবচেয়ে বড় আদালত, মনে রাখবেন।

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তার মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সে সময়কার গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলে অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একের পর এক ১৩টি গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়েছিল আমাদের জনসভায়। এরপর কারাগারেও একটি গ্রেনেড পাওয়া যায়। সেদিন কারাগারে আরও অনেক গ্রেনেড ঢুকানো হয়েছিল। কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে কিছু দুর্ধর্ষ কয়েদিকেও অ্যাম্বুলেন্সে করে বাইরে আনা হয়েছিল। তাদের ষড়যন্ত্র ছিল আমাকে হত্যা করার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাইরে বের করে আনা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধের ময়দান আর সেনাবাহিনীর ব্যবহূত গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। তখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায়। এর আগের আমার ওপর অনেকবার হামলা চালানো হয়। তার ঠিক আগে বিএনপি নেতারা আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, দেশে আরেকটা ১৫ আগস্ট হবে। আমাকে বঙ্গবন্ধুর পরিণতি বরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সংসদে আমার নাম ধরেই বলেছিলেন, আগামী ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারব না। সংসদে তারই দলের সংসদ সদস্যরা ওই হামলায় আমাদেরই ওপর দোষ দিতে থাকল। এমনও বলা হতে থাকল, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গেছি। পরে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি বলল, এটা নাকি প্রতিবেশী দেশ ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসতে ১০০ বছর লাগেনি। তার আগেই ক্ষমতায় এসেছি, দেশের উন্নয়ন করছি। আলোচনা সভায় অংশ নেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেমন, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল, কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

  • যে শোক চিরদিনের

    যে শোক চিরদিনের

    হৃদয়ের স্মৃতিপটে শোকের বিচরণে ভিন্নতা থাকে। স্বজন হারানোর শোক, আর্তনাদ থাকে সময় ধরেও। সময় গড়িয়ে শোকের ছায়ায় আলোরও দেখা মেলে। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়ে জাতি যে শোকে মুহ্যমান, তা যেন অনন্তকালের। পিতা হারানোর এ শোক চিরদিনের।

    আজ ১৫ আগস্ট। ইতিহাস এদিন থমকে দাঁড়ায়। নদী তার স্রোত হারায়। বনের পাখিরা নিস্তব্ধ হয়ে আরও নির্জনে চলে যায়। এদিন ভোরের সূর্য আরও রক্তিম হয়ে ওঠে। রাখালের বাঁশির সুরলহরি এদিন আরও করুণ হয়ে ওঠে।

    নানা ঘটনাপ্রবাহ আর ব্যথাতুর স্মৃতিতে বাঙালি জীবনে আগস্টের গোটা মাস ভারি হলেও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড বিশ্বমানবতাকে স্তম্ভিত করে দেয়। এদিন বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশের স্থপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করেন।

    বিশ্ব ইতিহাসের নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন আরও প্রাণ হরণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিলের।

    ঘাতক সেনাদের বুলেটে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খান।

    বর্বর ওই হত্যাকাণ্ডের দিন দেশে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। ওই সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানির কার্লসরুইয়ে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

    আগস্ট মানেই জাতির দীর্ঘশ্বাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ওই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতা পৃথিবীর যে কোনো হত্যাকাণ্ডকে হার মানায়। ঘটনার বর্ণনায় দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট খুনিও আঁতকে উঠবে। রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে পৈশাচিক পন্থায় হামলা চালান দিকভ্রান্ত সেনা কর্মকর্তারা। বুলেটের আঘাতে রক্তগঙ্গা বয়ে যায় পুরো বাড়ি। ঝাঁঝরা হয়ে যায় দরজা, জানালা, বাড়ি ও দেয়াল। রক্তসাগরে যুবে ছিল লাশগুলো।

    jagonews24

    নিজের সৃষ্ট দেশে কোনো বাঙালি তার জীবনের হুমকি হতে পারে, কখনও ভাবেননি বঙ্গবন্ধু। এ কারণে বাড়তি নিরাপত্তার ধার ধারেননি তিনি। সুরক্ষিত রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছেড়ে বসবাস করতেন প্রিয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে।

    ওই বাড়িতেই ঘাতকের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে পর্বতসম দেহ আর ইস্পাতসম মনোবল নিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তোরা কী চাস আমার কাছে? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

    ঘাতকরা তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়নি। বঙ্গবন্ধুকে তার প্রিয় বাড়িতেই বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা করে দেয়। নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশ যেন মেঘে ঢেকে যায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ যেন ‘খুনের বাংলায়’ পরিণত করে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে খুনিদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন দেন।

    তবে শেষ রক্ষা হয়নি খুনিদের। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি পাঁচ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা হয়। যদিও দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির সাজা এখনও কার্যকর করতে পারেনি সরকার।

  • প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কী কথা হলো কাদেরের

    প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কী কথা হলো কাদেরের

    নিজস্ব প্রতিবেদক।।

    গতকাল দিনভর আলোচনায় ছিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক প্রসঙ্গ। রাজনৈতিকসহ সর্বমহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কী কথা হলো প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের? নৈশভোজে কী খেলেন ওবায়দুল কাদের? তাদের আলোচনা কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ? নাকি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে তাদের মধ্যে আলাপচারিতা হয়েছে।

    ইতিমধ্যে গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, আমরা শঙ্কিত হয়ে গেছি পত্রিকার খবর দেখে। সরকার রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির ওপর ‘চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে’। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, আলোচনায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে যে অবজারভেশন ছিল তা নিয়ে পার্টির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনা আরও হবে, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ’ গত শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে নৈশভোজে অংশ নেন ওবায়দুল কাদের। নৈশভোজ ছাড়াও তাদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা একান্তে বৈঠক হয়।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছেন, এ রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। রায়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক বা বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান সরকার চায় না। তাই রায়ে থাকা অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগের দায়িত্ব আছে। প্রধান বিচারপতিকে এ দায়িত্ব নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরসন করতে অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের। তবে প্রধান বিচারপতি তাত্ক্ষণিকভাবে তার কোনো অবস্থান ওবায়দুল কাদেরকে জানাননি।

    জানা গেছে, সাক্ষাতের অগ্রগতি সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন ওবায়দুল কাদের। গতকাল সকালে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ওবায়দুল কাদের বলেন, একেক পত্রিকা একেক রকম খবর লিখেছে। কেউ লিখেছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে গণভবনে গিয়েছি। আবার কেউ লিখেছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে গণভবনে গিয়েছিলাম। আসলে আজ (গতকাল) দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করলাম। কী কথা হয়েছে? এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুজন নেতা জানান, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা আরও চলবে। আমরা মনে করি, আলোচনার মধ্য দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরসন হবে।