Category: রাজণীতি

  • ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর আজ

    ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর আজ

    আজ ৭ নভেম্বর, ঘটনাবহুল ও আলোচিত দিন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন পৃথক নামে দিনটি পালন করে। বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জাসদ পালন করে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। আর প্রগতিশীল দল ও সংগঠনগুলোর অনেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
    ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিভিন্ন দল ও সংগঠন পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে। এ উপলক্ষে ১১ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এর আগে ৮ নভেম্বর সেখানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

    নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন (সিপিএ) হচ্ছে। এতে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা ১১ নভেম্বর শনিবার সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি এখনো পাইনি। তবে আশাবাদী অনুমতি পাব।’

    বিএনপির সূত্র জানায়, সিপিএ সম্মেলনের কারণে এবার ৭ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো ও ফাতিহা পাঠের কর্মসূচি রাখা হয়নি। দলের মহাসচিবও যাচ্ছেন না। তবে এ ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে এ কর্মসূচি পরে পালন করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
    জাসদের একাংশ আজ বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভা করবে। এতে জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অংশ নেবেন। খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম স্মৃতি পরিষদ ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। একই সময়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ ও জয় বাংলা মঞ্চ নামের দুটি সংগঠন যৌথভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছে।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। এর আড়াই মাস পর ৩ নভেম্বর শুরু হয় সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা। এসব ঘটনার একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দী হন। ৭ নভেম্বর অপর এক অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হন।

  • বাংলাদেশের মানুষ জিয়া নামের মানুষটিকে চিনতো না’

    অনলাইন ডেস্ক

    বাংলাদেশের মানুষ জিয়া নামের মানুষটিকে চিনতো না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান নিজেকে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি। জিয়া মারা যাওয়ার পর তার দল যারা করছেন, তারা তাকে স্বাধীনতার ঘোষক বানাতে চাইছেন।

    বাংলাদেশের মানুষ জিয়া নামের মানুষটিকে চিনতো না। আজ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, আমাদের স্বাধীনতা ও বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিলেন। সুতরাং যারা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিলেন তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।

    আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

  • রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    শেখ সুমন.

    রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। আগামী ২১ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

     

    নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২৫ ও ২৬ নভেম্বর। প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৩ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হবে ৪ ডিসেম্বর।

  • বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত

    বরিশালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশের ১১তম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রথম জানাজা নামাজ বরিশালের সরকারী জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার বেলা ১১টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মরদেহ হেলিকপ্টার যোগে বরিশালে এসে পৌছায়।
    বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল জিলু স্কুল মাঠে তার প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন মরহুম সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ছোট ছেলে শিবলী বিশ্বাস। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের খতিব মাওঃ মির্জা নুরুল রহমান বেগ।

     

    জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচীব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি ্এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার, জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র কে এম শহিদুল্লাহ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক খান আলতাফ হোসেন ভুলু, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ এ কে এম জাহাঙ্গির, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান রিন্টু, জেলা দক্ষিন বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাড আবুল কালাম শাহীন,জেলা আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আনিসুর রহমান,মোঃ হোসেন চৌধুরী।

    জানাজা নামাজ শেষে বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তাকে বরিশাল নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোড এলাকার নিজ বাসায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্বাস ভবনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    পরে সেখান থেকে তার মর দেহ বরিশাল বিমান বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হেলিকপ্টারযোগে ১২টা৪০মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সাবেক রাস্ট্রপতি রহমান বিশ্বাষের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল বিমান বন্দরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের টএকটি হেলিকপ্টারে করে সাবেক রাস্ট্রপতি আঃ রহমান বিশ্বাষের মরদেহ নিয়ে অবতরন করেন।

    সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব এ্যাড.মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা নগরীর জিলা স্কুল মাঠে নিয়ে আসেন।

    এসময় তার মরদেহ যুগ্ন মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার,মহানগর আ,লীগ সভাপতি এ্যাড.গোলাম আব্বাস চৌধূরী দুলাল,সাধারন সম্পাদক এ্যাড.একে এম জাহাঙ্গির ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ কাদে করে জানাযা নামাযস্থলে নিয়ে আসেন।

     

    উল্লেখ শুক্রবার রাত আটটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

    পরে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মরদেহ ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। নয়াপল্টনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আবদুর রহমানের তৃতীয়, এরপর সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজায় চতুর্থ এবং গুলশান আজাদ মসজিদে সর্বশেষ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে দাফন করা হবে বলে জানাগেছে।

    আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
    আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়াশোন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। পেশা জীবনের শুরু হয়েছিল স্থানীয় সমবায় ব্যাংকে। পরে ১৯৫০ এর দশকে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে বরিশাল বার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    আইয়ুব খানের শাসনামলে মুসলিম লীগে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতিতে আসেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন তিনি।

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯৭৭ সালে বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বরিশাল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসেন জাতীয় সংসদে।

    ১৯৭৯-৮০ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ওই সময় দলে তার পদ ছিল ভাইস চেয়ারম্যান।

    এইচএম এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসে। আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রথমে স্পিকার ও পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান।

    রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদের শেষ দিকে ১৯৯৬ সালের মে মাসে অভুথ্যান চেষ্টার অভিযোগ তখনকার সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিমসহ তার অনুগত ১৫ সেনা কর্মকর্তার শাস্তির বিষয়টি ছিল দেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

  • বরিশালে জেলহত্যা দিবস পালিত

    বরিশালে জেলহত্যা দিবস পালিত

    বরিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জেল হত্যা দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা ও নগর আওয়ামী লীগ পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (০৩ নভেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    সকাল ৯টায় জেলা আওয়ামী লীগ তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের  নেতারা নগরীর সোহেল চত্বরে দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার  নেতার অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সময়ে মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ও প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন-  বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

    পরে  জেলা ও মহানগর যুবলীগ,  সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

    সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

    সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস (৯৩) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

    আজ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর বনানীর বাসভবন থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    সাবেক এই রাষ্ট্রপতির ছেলে মাহমুদ হাসান বিশ্বাসের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রথম আলোকে এ কথা জানান।

    ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে ওই সংসদ আবদুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে।

    বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে ১৯২৬ সালে ১ সেপ্টেম্বর আবদুর রহমান বিশ্বাসের জন্ম। বরিশাল শহরেই তিনি স্কুল ও কলেজজীবন শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৫০-এর দশকে আইন পেশায় যোগদান করেন। তিনি ১৯৬২ এবং ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
    সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের সংসদীয় সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের ২২তম অধিবেশনে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন। তাঁর আনুগত্য ছিল পাকিস্তান সরকারের প্রতি। তিনি ১৯৭৪ এবং ১৯৭৬ সালে দুবার বরিশাল বার সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

    ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী এবং ১৯৮১-৮২ সালে বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ৪ এপ্রিল ১৯৯১ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তাঁর মেয়াদ শেষ হয়।

  • ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন আজ

    ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন আজ

    মানবসভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময়, রক্তঝরা ও বেদনাবিধুর একটি দিন আজ। ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে। এরপর ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতাকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

    জাতীয় এই চার নেতা হলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান।

    ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।

    মুক্তিযুদ্ধে চার নেতার অবদান

    জাতীয় এ চার নেতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হাতে আটক বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও নেতৃত্ব দান করেন। বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে জাতির জনককে তার ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের মুজিবনগর সরকারের সমধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    চার নেতার হত্যাকাণ্ড

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই জাতীয় চার নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়।

    গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন, খন্দকার মোশতাক আহমেদ জেলহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোনো পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হবে, যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।

    বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সবচাইতে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্ররোচণায় এক শ্রেণির উচ্চাভিলাসী মধ্যম সারির জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায়। দেশের এই চার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর কারাগারে পাঠিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমে গুলি এবং পরে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানিকীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কুকীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার করা যাবে না – দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পঁচাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে।

    জেল হত্যার মামলা

    জেল হত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এ বিচার প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলায় রায় দেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে দেয়া রায়ে মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারফত আলী ও হাসেম মৃধাকে খালাস দেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করে সরকার।

    ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সরকারপক্ষের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদেশে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তবে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া দফাদার মারফত আলী শাহ এবং এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। আত্মসমর্পণ না করলে তাদের গ্রেফতার করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ওই আপিলের ওপর রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় বহিষ্কৃত দুই সেনা সদস্য দফাদার আবুল হাসেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাদের খালাস দেয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করেন।

    জেল হত্যা দিবসের কর্মসূচি

    জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবসটি।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা শহীদ জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

    একইভাবে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

  • সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতা হয় না : কাদের

    সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতা হয় না : কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হয় না। ফেনীর সাজানো হামলার ঘটনা সংঘাতের উসকানি।

    গতকাল দুপুরে রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা সংঘাত চাই না, সমঝোতা চাই’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি আয়োজিত ‘নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফা জনগণের প্রস্তাব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব! আপনাদের মুখে সংলাপের কথা ও মনের কথার দূরত্ব যোজন যোজন। আপনারা যখন সমঝোতার কথা বলেন, তখন আমাদের ভাবতে হয় এটা কি আপনাদের মনের কথা, নাকি মুখের কথা?’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে একটা কাজের সমঝোতা আমরা চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বেগম জিয়াকে ডেকেছিলেন। এর পরও আপনার ছেলের (আরাফাত রহমান কোকো) মৃত্যুর পর তাকে সমবেদনা জানাতে আপনার বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন আপনারা যে আচরণ করেছেন, যারা তা করেছেন তারা তো সমঝোতায় বিশ্বাস করেন না। এ দরজা কী করে খুলব, তা আপনারা ভাবুন। ’

    নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনো দলীয় বক্তব্য নিয়ে রাজনীতির চর্চা করে নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করুক, তা আমরা চাই না।

    কিন্তু বিএনপি এমন একটা নির্বাচন কমিশন চায় যার মাধ্যমে বিএনপি যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে। ’ বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার ‘আসল খবর বের হয়েছে’ দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘থলের বিড়াল অবশেষে মিউ ডেকেছে। গাড়ি পোড়ানো তো বিএনপির পুরনো অভ্যাস, এটা আওয়ামী লীগের ট্র্যাক রেকর্ডে নেই। পরিকল্পিতভাবে রংসাইডে বাস রাখা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক করা হয়েছে। পুলিশের রিপোর্টেই এটা এসেছে। ’ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার (অব.), অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মেজর জেনারেল আবদুর রশীদ (অব.), দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছারসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মঙ্গলবার থেকে নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদন

    মঙ্গলবার থেকে নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদন

    আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আবেদন নেবে নির্বাচন কমিশন। এজন্য আজ সোমবার বিকেলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন দলের নিবন্ধন দেবে ইসি। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলগুলোর আবেদন গ্রহণ করা হবে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাই করে মার্চে নতুন দলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা শুধু নতুন দলের নিবন্ধনের তথ্যই নেব না বর্তমানে যে ৪০ দল নিবন্ধিত আছে সেসব দলের কাছেও চিঠি পাঠানো হবে। এ কারণে মঙ্গলবার আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে ইসি। নিবন্ধিত যেসব দল আইন অনুযায়ী কার্যক্রম মানে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইসি’।

    ইসি সূত্র জানায়, এর আগে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ৪০টি দলকে নিবন্ধন দেয় কমিশন। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে অনেক দল কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের অফিস-কমিটি দিয়েছে। কিছু দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটি বহাল রয়েছে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এসব দল শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা তা তদারকি করবে ইসি।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কমিশনের তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়।

    শর্তগুলো হলো :

    ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটি যদি অন্তত একটি সংসদীয় আসন পায়।

    ২. যেকোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট আসনে পড়া মোট ভোটের ৫ শতাংশ পায়।

    ৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/ মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত দলিল থাকে।

  • ঢাকা সিটির জন্য বিশ্বমানের পরিকল্পনা হচ্ছে : সাঈদ খোকন

    ঢাকা সিটির জন্য বিশ্বমানের পরিকল্পনা হচ্ছে : সাঈদ খোকন

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘আমরা ঢাকা সিটির জন্য বিশ্বমানের পরিকল্পনা করছি। উন্নত বিশ্বের সিটিগুলোর অভিজ্ঞতা আমরা নিচ্ছি। গত জুলাইয়ে আমরা বিশ্বব্যাংককে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম সেখানে ঢাকার বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছিল। আমরা সেগুলো সমাধানে কাজ করছি। যেখানে বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সহায়তা করছে। বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, আমরাও বিশেষভাবে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়তে কাজ করছি।’

    শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মেয়রদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা আয়োজন করে বিশ্ব ব্যাংক। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিল্ডিং নলেজ নেটওয়ার্ক অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফর সাসটেইনেবল আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের প্রায় ৩২২ জন পৌর মেয়র অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতায় ছিল মিউনিসিপল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব সুইস এজেন্সি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমাও ফান, সুইডারল্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর রেন হলিন্সট্রিন মিউনিসিপল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুল বাতেন সভার বিভিন্ন সেশনে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে সিটি লিডারশিপ অ্যান্ড গুড গভরনেন্স বিষয়ক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ক্লেমশন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসন জেমস এইচ স্পেনসার।

    এই অধিবেশনে নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন, ঢাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নারায়াণগঞ্জ। ঢাকার কাছে হলেও উন্নয়ন তেমন হয়নি। এটা আলোর নিচেই অন্ধকার। উন্নয়ন কিছুই হয়নি তা নয়, কিছু কিছু উন্নয়ন হয়েছে, পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের এখানে স্থানীয় সরকারকে কীভাবে দুর্বল করে রাখা যায় এর চিন্তা করা হয়। কিন্তু উন্নত রাষ্ট্রে স্থানীয় সরকারকে কীভাবে শক্তিশালী করা তা ভাবা হয়। আইভী বলেন, দেশের প্রত্যেক পৌরসভা ও সিটিতে সমস্যার ধরণ ও চিত্র ভিন্ন। বাংলাদেশের সব মেয়র প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    স্থানীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন বিভিন্ন প্রকল্প জমা দিয়ে টাকা পাচ্ছে। সে তুলনায় পৌরসভা খুব কম টাকা পায়। তবে আগের চেয়ে অনেকটাই টাকা বাড়ানো হয়েছে।’ আইভী বলেন, ‘আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই। সড়ক, জনপদ, রেলসহ অন্যান্য খাস জমি আমাদের ব্যবহারের জন্য দেয়া হোক। আমরা এ জমিগুলো ভাড়া দিয়ে অর্থ পেতে পারি।’ এ সময় পৌরসভাগুলোতে সরকারের বাজেট বাড়ানোর অনুরোধ করেন আইভী। বক্তব্য শেষে উপস্থিত মেয়ররা আইভীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। জবাবে আইভী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী থাকলে আপনাদের এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন। আমি এ বিষয় কিছু বলতে চাই না। আপনারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

    দ্বিতীয় সেশনে ফিলিপাইনের মেয়র মেল সেনেন এস সারমিনতো বলেন, ‘মেয়রদের উচিত সুশাসন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ত্বরান্নিত করতে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।’ এ সময় তিনি ফিলিপাইনের অবস্থা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পক্ষে মত দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটির মেয়র রালফ বেকার বলেন, ‘বাংলাদেশের শাসনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শাসন আলাদা। আমরা বিকেন্দ্রীকরণ ক্ষমতার চর্চা করি। প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে অনেক লোক আসে অসংখ্য সমস্যা নিয়ে আসে। আমাদের কাজ হলো কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে এর প্রতিকার করা। আমার শহর কীভাবে গতিশীল করব সেই লক্ষ্যে কাজ করি। আমি মনে করি এটা বাংলাদেশেও প্রযোজ্য। আমরা শহরে সর্বত্রই যোগাযোগের আওতায় এনেছি। আমাদের শহরে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল, কর আদায় হচ্ছিল না তখন ব্যবসায়ীদের আন জানালে তারা এগিয়ে আসে উন্নয়নের জন্য।’

    এই সেশনে আরও বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু। তিনি তার পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, আমরা ৩০ হাজার টাকার বিলবোর্ড আয়কে কয়েক লাখে নিয়ে গেছি। আগে এ টাকাটা এককভাবে নিত বাড়িওয়ালারা, এখন সেটা পৌরসভাও পাচ্ছে। দিনের তৃতীয় সেশনে শহর পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামো বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে নগর পরিকল্পনা নেই। পৌরসভার নিজস্ব আয় কম। পৌরসভার মোট ব্যয়ের ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ তারা বহন করতে পারে। বাকি অর্থের জন্য সরকার ও দাতা সংস্থার দিকে চেয়ে থাকতে হয়।

    এ সেশনের সভাপতিত্ব করেন বিশ্বব্যাংকের ইভারজেলিন কিম কুইনসো। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স এর প্রফেসর ড. আখতার মাহমুদ, ক্যার্লিফোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রবার্ট কারবেরো।অনুষ্ঠানে আগত মেয়রদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার আবেদন জানানো হয়। তারা বলেন, স্থানীয় সরকারের বাজেট বাড়াতে হবে। পৌরসভাগুলোকে নিজস্ব আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি পৌরসভাকে ২০০ একর জমি বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান তারা। এ জমি ব্যবহার করে পৌরসভাগুলো সেখানে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করবে।

    শিল্পকারখানা গড়ে তুলবে। পৌরসভার আয়ের একটা পথ বের করবে। অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়। আগামীকাল শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন।