Category: শিক্ষাঙ্গন

  • বরিশালের ১০টি স্কুল সরকারি হলো

    বরিশালের ১০টি স্কুল সরকারি হলো

    সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে জাতীয়করণ (সরকারি) হলো বরিশালের আরও ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতিগত অনুমোদনে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করা হয়েছে।

    সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (সরকারি মাধ্যমিক) লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষক অন্যত্র বদলি হতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

    উজিরপুর ডব্লিউ বি ইউনিয়ন মডেল ইনিস্টিটিউশন, গৌরনদী পইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুলাদী মাহামুদজান মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আগৈলঝাড়ার গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরফ্যাশন টি ব্যারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মনপুরা হাজির হাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাউফল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

  • সমাজের বোঝা নয় প্রতিবন্ধীরা: রাশেদ খান মেনন

    সমাজের বোঝা নয় প্রতিবন্ধীরা: রাশেদ খান মেনন

    ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। তাদের শিক্ষা, পুনর্বাসন, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সমাজের উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তারা।

    রোববার দুপুরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

     রাশেদ খান মেনন বলেন, এই সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মায়ের মমতায় প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন।

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, পুনর্বাসন, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তানকে অবশ্যই সু-শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে, তাদেরকে বোঝা মনে করে অবহেলা করা যাবে না। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে।

    বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইকবাল আহম্মেদ আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান, কেন্দ্রীয় ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য আ. খালেক।

    এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত হাওলাদার, সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষাকার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহমুল হাসিব, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোতালেব হাওলাদার, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ ক ম মিজানুর রহমান ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি নজরুল হক নিলু প্রমুখ।

  • নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে লক্ষ্মীপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

    নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে লক্ষ্মীপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

    কাজী সাইফুলঃ

    বাকেরগঞ্জের পাতাবুনিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলিন হবার পথে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে এম পি ও ভূক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চৌদ্দজন শিক্ষক – শিক্ষিকা ও তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত।

    এক সময়ের বিশাল মাঠটি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ কালে তারা জানান ৩/৪ বছর ধরে নদী ভাঙ্গনে স্কুলের মাঠ, পার্শ্ববর্তী সরকারি মেডিকেল সহ অনেক স্থাপনা এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এ ব্যপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অনেকবার আবেদন জানালেও অদ্যাবধি কেউ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

    বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নেই কোন বরাদ্দ। বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়ন থেকে নলুয়া ইউনিয়নে প্রবেশের ফেরিঘাট সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এ বিদ্যালয়ের রয়েছে বহু ঐতিহ্য । দীর্ঘ দিন পরে বাকেরগঞ্জের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম স্কুলটি পরিদর্শনে এলে বিষয়টি তারও নজরে আসে। তিনি স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চালাবেন বলে জানান ।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোন মূহুর্তে বিলিন হয়ে যেতে পারে বিদ্যালয়ের মূল দ্বিতল ভবনটি। বন্ধ হয়ে যেতে পারে এলাকার একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিবাবকসহ এলাকাবাসী এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের পাশাপাশি নদী ভাংঙ্গন রোধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছেন।

  • ঢাবিতে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ শতাংশই ফেল

    ঢাবিতে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৯ শতাংশই ফেল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ৮৯ দশমিক ০২ শতাংশ শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। এ বছর পাশের হার মাত্র ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

    আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

    আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই ইউনিটে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    জানা যায়, চলতি বছর ‘গ’ ইউনিটে এক হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৯৬৩ জন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২৫ হাজার ৯৫৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন এক হাজার পাঁচ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন দুই হাজার ৮৫০ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৩ হাজার দুই জন।

    পাশকৃতদের মধ্যে এক থেকে ১২৭৫ মেধাক্রম পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত তারিখের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে দেওয়া বিস্তারিত ফরম ও বিষয়ের পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে বলা হয়েছে।

    পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (admission.eis.du.ac.bd) থেকে জানা যাবে। এছাড়া যে কোনো অপারেটরের মোবাইল ফোন থেকে DU GA roll no টাইপ করে ১৬৩২১ নম্বরে send করে ফিরতি SMS এ ফলাফল জানা যাবে।

  • ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ঢাবির লিভ টু আপিল

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে ঢাবির লিভ টু আপিল

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে রবিবার লিভ টু আপিলের আবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) দিতে হবে।

    প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন হওয়া কথা থাকলেও সর্বশেষ এ নির্বাচন হয়েছিল ২৮ বছর আগে, ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই। ২০১২ সালে ২৫ শিক্ষার্থীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামানসহ প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী ও কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

    হাই কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে পাঠানো আইনি নোটিশের যথাযথ জবাব না দেওয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

    নির্বাচন নিয়ে গতকাল বরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাবি উপাচার্য জানিয়েছিলেন আগামী মার্চে হবে ডাকসু নির্বাচন।

    বৈঠক শেষে কবে ডাকসু নির্বাচন দেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রভোস্ট কমিটি, শৃঙখলা পরিষদ ও সিন্ডিকেট থেকে একটি নির্দেশনা তো আগেই দেয়া আছে। ডাকসু নির্বাচনের জন্য কাজের যে লোড, যে কর্মপরিধি তা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এই কমিটিগুলো একটা নির্দেশনা ইতোমধ্যেই দিয়েছে, সেটা হলো মার্চ, ২০১৯। এই নিরিখে এখন পর্যন্ত আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। আশা করি অক্টোবরের মধ্যে খসড়া যে ভোটার তালিকা সেটি প্রণয়ন করবো। এই ভোটার তালিকা প্রণয়ন একটি জটিল কাজ। সেটি করতে পারলে অনেক এগিয়ে যাবো।

  • লোক প্রশাসন পাঠচক্রের উদ্বোধন এবং প্রথম পাঠক আড্ডা সম্পন্ন

    লোক প্রশাসন পাঠচক্রের উদ্বোধন এবং প্রথম পাঠক আড্ডা সম্পন্ন

    হুজাইফা রহমানঃ

    বই নিয়েছি হাতে যখন, জাগবে চেতন, বিজয় কেতন” স্লোগানকে সামনে রেখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে শুরু হয়েছে পাঠক সংগঠন ‘লোক প্রশাসন পাঠচক্র’।

    নির্ধারিত বই নিয়ে প্রতি মাসে দুটি পাঠচক্র পরিচালনা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ বিমুখতা দূর এবং আত্মিক বিকাশ সাধন করে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করবে এই সংঘটি। আজ দুপুর ২.৩০ এ লোক প্রশাসন বিভাগের শ্রেণীকক্ষে লোক প্রশাসন পাঠচক্রের শুভ সূচনা এবং প্রথম পাঠক আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বের শুরুতেই উপস্থিত শিক্ষক মন্ডলীদের “শিক্ষাগুরুর মর্যাদা” কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে পাঠচক্রের পক্ষ থেকে স্বাগতম জানায় মাহফুজা মিষ্টি। শুভেচ্ছা বক্তব্যে পাঠচক্রের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক অনুপ চক্রবর্তী, এই সংগঠনের উদ্দ্যেশ্য এবং কার্যপরিকল্পনা উপস্থাপনা করেন।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে জনাব তাসনিয়া সুমাইয়া, জনাব সিরাজিস সাদিক, জনাব হোসনে আরা ডালিয়া, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী প্রক্টর জনাব রিফাত মাহমুদ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা সবাই পাঠের গুরুত্ব এবং তার স্থায়ী সুফলের কথা সম্পর্কে সবাইকে জানান। এরপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব তাসনুভা হাবিব জিসান কেক কেটে এই পাঠচক্রের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

    পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয় আকবর আলি খানের ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ বই এর উপর লোক প্রশাসন পাঠচক্রের প্রথম পাঠচক্র। এতে বই নিয়ে আলোচনা করেন সজীব, নাভিদ নাসিফ, ফাহাদ, মারুফ, তৌফিক, মাধবী মন্ডলসহ অনেকে। পরে বিকাল চারটায় এ বিভাগের শিক্ষক জনাব তাসনিয়া সুমাইয়া শিক্ষার্থীদের আলোচনার উপর পর্যালোচনা করে প্রথম পাঠক আড্ডার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেহেরুন নেচ্ছা প্রাপ্তি।

  • ‘আমরা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই’

    ‘আমরা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই’

    শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ভুল বা ক্রুটি থাকলে বলবেন, আমরা তা স্বাগত জানাই। কেননা আমরা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই। আমরা এগিয়ে যেতে চাই, তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কৃতি শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা ও বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

    ডিআরইউর সদস্যদের মধ্যে যাদের সন্তান ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরকে প্রতি বছরের মতো এবারও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসজিডি) ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী শিক্ষার মানের প্রতি সরকারের মনোযোগ রয়েছে। বর্তমান এবং আগামী দিনের প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বিশেষ অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-সম্পাদক মঈন উদ্দিন, কল্যাণ সম্পাদক কাওছার আযম, ক্রীড়া সম্পাদক আরাফত দাড়িয়া প্রমুখ।

  • বরিশালে ভর্তি বিরম্বনায় মাষ্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা

    বরিশালে ভর্তি বিরম্বনায় মাষ্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা

    বরিশাল সহ সারাদেশে ভর্তি বিরম্বনায় ভুগছে ১৬-১৭ মাষ্টার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত তারিখ পরিবর্তন ও ওয়েব সাইট দূর্বল থাকার কারনে হতাশায় ভূগছে তারা। সম্প্রতি ডিগ্রি পার্স কোর্সের রেজাল্ট দিলে মাষ্টার্সে ভর্তি আবেদন পূরন করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ভর্তি আবেদন করতেই  তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে।

    কেননা জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট সমস্যার থাকার কারনে অনেকে আবেদন প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাছাড়া যারা আবেদন করতে পেরেছে তাদের আবার অনেকেই ভর্তি যুদ্ধে উত্তির্ন হতে পারেনি। কেননা কোটা কম থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। বরিশালে এর চিত্র কোন অংশে কম নয় । বরিশালে নাম মাত্র কয়েকটি কলেজে রয়েছে মাষ্টার্সে পড়ার সুযোগ। তার মধ্যে রয়েছে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ( বিএম), সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, সরকারি বরিশাল কলেজ , সরকারি মহিলা কলেজ এবং চাখার শেরেই বাংলা কলেজ।

    আর এসব কলেজে ছাত্রদের ভর্তি যুদ্ধে অনেকেই স্থান প্রাপ্তি থেকে পিছিয়ে রয়েছে। দেখা গেছে মেধাবী ছাত্ররাও অনেক ক্ষেত্রে বাদ পড়ছে। তার উপরে ওয়েব সাইটে সমস্যার কারনে অনেক শিক্ষার্থী প্রথম পর্যায়ে আবেদন করতে পারেনি। কিন্তু যারা প্রথম পর্যায়ে উত্তীর্ন হয়েছে তাদের ক্লাস ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যা কিছুটা বৈষম্য তৈরি করে চান্স না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে। তার উপরে বার বার তারিখ পরিবর্তনের ঝামেলা। বিএম কলেজে মাষ্টার্সে ভর্তি ইচ্ছুক এক শিক্ষার্থী  জানান, ডিগ্রি পাস কোর্সের রেজাল্ট দেওয়ার পরে ভর্তি জন্য কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে আবেদন পত্র পূরন করি। প্রায় ১৫ দিন পর সেই রেজাল্ট দেয়া হয়। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে উত্তির্ন হতে পারিনি। পরে রিলিজ সিলিপের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।

    সেখানে রিলিজ সিলিপের জন্য ৬ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত রিলিজ সিলিপের আবেদন সময় নির্ধারন করা হলেও আবার পরিবর্তন করা হয়েছে সে সময়। এতে রিতিমত আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। কেননা ভর্তি প্রায় দু-মাস হয়ে গেছে আর আমরা অনেক শিক্ষার্থী এখন আবেদন পূরন করতে পারিনি। তার উপরে এখন আবার রিলিজ সিলিপের আবেদন পক্রিয়া ২১ সেপ্টেম্বও থেকে ২৯ সেপ্টেম্বও করা হয়েছে। যা আরো ১০ দিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তার উপরে ওয়েব সাইট যে পরিমান সমস্যা থাকে তাতে মনে হচ্ছে এ বছর ভর্তি হতে পারবে না অনেক শিক্ষার্থী। এ ব্যপারে কম্পিউটার দোকানের অপারেটর অমল জানান, অনেক দিন ধরেই মাষ্টার্সে ভর্তি আবেদন পূরন করছি। অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বেশি ভাগ শিক্ষার্থী আবেদন পূরন করতে পারেনি। পরবর্তীতে পুনরায় আবেদনে জন্য বিজ্ঞপ্তী প্রকাশ হলেও সারবার বা ওয়েব সাইট সমস্যার কারনে এখনও অনেক শিক্ষার্থী আবদেন করতে পারেনি। তাছাড়া সেসব শিক্ষার্থী রিলিজ সিলিপের জন্য অপেক্ষা করেছিল তাদরে জন্য প্রায় দীর্ঘ ২ মাস পরে আবেদন পক্রিয়া চলমান করে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ২দিন ওয়েব সাইট খোলা রেখে আবার ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন পক্রিয়া বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এতে অনেক শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে না বলে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে বলে তিনি জানান।

    এদিকে শিক্ষার্থী মিতু আক্তার জানান, প্রায় আড়াই মাস হলো মাষ্টার্সে আবেদন করেছি এখন পর্যন্ত ভর্তি হতে পারিনি। আদো ভর্তি হতে পারবো কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এদিকে ২য় পর্যায়ে রিলিজ সিলিপের জন্য আবেদন পক্রিয়া সচল করলেও আবারও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পক্রিয়াটি। এখন রিতিমত আমরা ভোগান্তি শিকার হচ্ছি। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের এহেন কর্মকান্ডে আমরা অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা কিংবা ক্যারিয়ার গঠনে পিছিয়ে পড়ছি। তবে এ ব্যপারে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের একটাই ওয়েব সাইট।

    যেটার মাধ্যমে অনার্স, ডিগ্রি, মাষ্টার্স, এলএলবি সহ নানা পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম চালানো হয়। ফলে ওয়েব সাইটি দীর্ঘ সময় দূর্বল থাকে। তাই বর্তমানে অনার্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আপাতত মাষ্টার্স ২য় পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের পর সাইটটি পুনরায় মাষ্টার্সে ভর্তির রিলিজ সিলিপের জন্য খুলে দেয়া হবে। তবে এতে শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার জন্য তিনি আহব্বান জানান।

  • নতুন করে সরকারি হলো আরও ১৪ কলেজ

    নতুন করে সরকারি হলো আরও ১৪ কলেজ

    নতুন করে আরও ১৪টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি করা হয়েছে। আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সরকারিকৃত কলেজশিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮’ এর আলোকে কলেজগুলো সরকারি করা হয়েছে।

    সরকারি হওয়া কলেজগুলো হলো : ফরিদপুরের সালথা কলেজ, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ডিগ্রি কলেজ, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সৈকত ডিগ্রি কলেজ, রাঙামাটির রাজস্থলী কলেজ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদহ মহাবিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চৌহালী ডিগ্রি কলেজ, যশোরের বাঘারপাড়া শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন মহাবিদ্যালয়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার এম এ মজিদ ডিগ্রি কলেজ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আইডিয়াল কলেজ, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা মহিলা কলেজ এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ কলেজ।

  • যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ছাত্রীকে চাকরির আশ্বাস ববি রেজিস্ট্রারের

    যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ছাত্রীকে চাকরির আশ্বাস ববি রেজিস্ট্রারের

    শেখ সুমন:

    চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রীর কাছে ভিডিও কলে যৌন সম্পর্কের আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ছাত্রী বরিশালের একটি সরকারি কলেজের স্নাতকে অধ্যয়নরত। চাকরি পাইয়ে দিতে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে ওই ছাত্রীকে গভীর রাতে নির্জন বাসায় ডাকার অভিযোগ উঠেছে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে।

    শুধু তাই নয়, গভীর রাতে ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে ভিডিও কল দিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন যৌন হয়রানির অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বরিশালের সুশীল সমাজ। এদিকে একের পর এক নৈতিক স্খলনের ঘটনায় অভিযুক্ত রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্যের কাছে গিয়েছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

    তখন উপাচার্য তাদের লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। অন্যদিকে শুধু এই ছাত্রীকেই নয়, এর আগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানিসহ তাকে তার সাথে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আছে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ওই নারী শারীরিক শিক্ষা কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তখন তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিলো কর্তৃপক্ষ।

    কিন্তু তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চকর্তা উপাচার্যের বিরুদ্ধে। একজন নারী কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানির ঘটনা চেপে যাওয়ায় উপাচার্যের প্রশ্রয়ে দিন দিন রেজিস্ট্রার মনিরুল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ অনেকের। এছাড়াও রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে এলাকাপ্রীতিসহ লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। এক বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। মা অনেক কষ্ট করে তাকে গ্রামের স্কুল-কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাশ করিয়ে বরিশাল নগরীর একটি সরকারি কলেজে ভর্তি করিয়েছেন। মাকে একটু স্বস্তি দিতে স্নাতক অধ্যায়নের পাশাপাশি তিনি একটি মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানীর বিভিন্ন প্যাকেজ প্রকল্পে পার্টটাইম চাকরি করতেন। একই সাথে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির আবেদন করতে থাকেন তিনি।

    ইতোপূর্বে দুইবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির আবেদন করেন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তার চাকরি হয়নি। এরপর তৃতীয় দফায় গত মে মাসে আবারও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির আবেদন করেন তিনি। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার হলে এন্ড্রয়েড মুঠোফোন ব্যবহারসহ নানা সুবিধার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে চাকরি স্থায়ী করায় তার চাকরি হয়নি বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর।

    এই সময়ে ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের সাথে পরিচয় হয় তার। প্রথমদিকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে সালাম ও কুশল বিনিময় হতো মাত্র। সময় গড়ানোর সাথে সাথে নম্বর চেয়ে নিয়ে ওই ছাত্রীর মুঠোফোনে কল দিতে থাকেন মনিরুল। জানতে চান ছাত্রীর বিস্তারিত পরিচয়। ওই ছাত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার নিয়মকানুন জানতে চান। ওই ছাত্রীর দুর্বলতার সুযোগে রেজিস্ট্রার মনিরুল গত রমজানের শুরুর দিকে এক পর্যায়ে তাকে রাতে ভিডিও কল দিতে শুরু করেন। তিনি রূপাতলী হাউজিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা বাসায় একা থাকেন এবং সরকারি কলেজে চাকুরে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন বলে জানিয়ে নিজের একাকিত্ব প্রকাশ করেন।

    নিজের একাকিত্বের কথা বলে ওই ছাত্রীর অনুগ্রহ পাওয়ার আশা করেন এবং তাকে রূপাতলী হাউজিংয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আমন্ত্রণ জানান। ফেসবুক মেসেঞ্জারে এবং ভিডিও কলে ওই ছাত্রী ভয়ে তার বাসায় যেতে চায়না বলে তার ভয় ভাঙানোর চেষ্টা করেন। শুধু রাতে ভিডিও কল দিয়েই নয়, রমজান মাসের শেষের দিকে দিনেও বিভিন্ন স্থানে দেখা করার জন্য ডাকতেন ওই ছাত্রীকে।

    কিন্তু ওই ছাত্রী নানা কারণ-অজুহাতে এড়িয়ে চলতেন। এতে বিমুখ হয়ে রেজিস্ট্রার মনিরুল ওই ছাত্রীকে মুঠোফোনে ভিডিও কলে বলেন, ‘তুমি আমার জন্য কিছুই করোনি, একা থাকি জেনে তুমি এড়িয়ে চলো’। এসব কথা বলতে বলতে রেজিস্ট্রার মনিরুল নিজের আবেগ সংবরণ করতে না পেরে নিজেই নিজের গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করেন বলে জানান ওই ছাত্রী। ওই ছাত্রী বলেন, রেজিস্ট্রার মনিরুল গোপনাঙ্গ দেখিয়ে সুযোগ পেলেই তাকে মাস্টাররোলে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন। কোন ধরনের উস্কানীমূলক কথাবার্তা ছাড়া ভিডিও কলে গোপনাঙ্গ দেখানোয় ওই ছাত্রী বিস্মিত এবং হতবাক হন। গোপনাঙ্গ দেখিয়ে বাসায় ডাকায় সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বাসায় যাননি ওই ছাত্রী। তবে মনিরুল তার ক্ষতি না করার জন্য অনুরোধ করেন ওই ছাত্রীকে।

    এর আগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টরকে বিভিন্ন সময় যৌন সঙ্গমের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে। ওই সময় সেলিনা বেগম এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ওই কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি অভিযুক্ত মনিরুলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

    সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি নারী নেত্রী অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী এক ছাত্রীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে মনিরুল ইসলামের অনৈতিক আচরণ দুঃখজনক। তিনি বলেন, গত বছর রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে এক নারী কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য কঠোর উপাচার্য কঠোর ব্যবস্থা নিলে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। এই ধরনের ঘটনার প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদ হওয়া উচিত। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের দায়ে রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা।

    টিআইবি’র আদলে গঠিত বরিশাল জেলা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রীকে ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন প্রস্তাব কিংবা গোপনাঙ্গ প্রদর্শন করে রেজিস্ট্রার মনিরুল আইসিটি এ্যাক্ট অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তিনি ফেসবুকে একজন নারীর সাথে যে আচরণ করেছে তা কোন শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে ওই ছাত্রী কিংবা তার পরিবারের মনিরুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রেজিস্ট্রারের এমন অনৈতিক কর্মকান্ড মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে  রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভার পর প্রমাণসহ উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানান আবু জাফর মিয়া।

    এদিকে রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত নৈতিক স্খলনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি কুচক্রি মহল সব সময় তার পেছনে লেগে আছে। তারা বিভিন্নভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। একটি মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটা এডিট করা ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম। ঢাকায় অবস্থানরত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক জানান, রেজিস্ট্রার সম্পর্কিত একটা আনসাইনড অভিযোগ এবং একটা সিডি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

    কিন্তু তার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। শিক্ষক সমিতির নেতারা এ বিষয়ে তার কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। গত বছর নারী কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রারের যৌন সঙ্গম প্রস্তাবের বিচার না হওয়া প্রসংগে উপাচার্য বলেন, তাদের (নারী কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রার) রেকর্ড করা ফোনালাপ বিশ্লেষণ দেখা দেখা গেছে ওই ঘটনায় দুইজনেরই দোষ ছিলো। শাস্তি দিলে দুইজনকেই দিতে হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির ব্যাপার। তাই দুইজনকেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল।