Category: শিক্ষাঙ্গন

  • রাজপথে বোনদের জন্য ভাইদের মানবপ্রাচীর

    রাজপথে বোনদের জন্য ভাইদের মানবপ্রাচীর

    গণপরিবহন শূন্য ঢাকার রাজপথে সার বেঁধে হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোরের দল। দুই পাশে ছেলেরা হাত ধরে রয়েছে, মাঝখানে নিরাপদে নিশ্চিন্তে চলছে স্কুল-কলেজের মেয়েরা। আজ শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।

    গত ৬দিনের মতো আজ শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর রাজপথে নেমেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। শুধু কোনো গাড়ি পেলে লাইসেন্স চেক করছে। ঠিকঠাক থাকলে ছেড়ে দিচ্ছে, ঠিকঠাক না থাকলে আটকে রাখছে। এই আন্দোলনের মাঝে রাজধানীর মিরপুর এবং জিগাতলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

    সংঘর্ষের পরপরই অনলাইনে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আন্দোলনকারী চারজন স্কুল ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। যদিও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তারপরেও আন্দোলনের সহযোদ্ধা বোনদের নিরাপদে রাখতে রাজপথে মানবপ্রাচীর তৈরি করে ফেলে ছেলেরা। জিজ্ঞেস করলে বলছিল, ‘আমরা ওদের নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছি।’

  • শব্দ করায় ছাত্রকে এসিড ছুড়লেন শিক্ষক

    শব্দ করায় ছাত্রকে এসিড ছুড়লেন শিক্ষক

    হবিগঞ্জে এক ছাত্রের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছেন শিক্ষক। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রকে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টায় অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আহত মঈন উদ্দিন হবিগঞ্জ টেকনিকেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেমিস্ট শাখার নবম শ্রেণির ছাত্র। সে শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে।

    এদিকে এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে মঈন উদ্দিন ল্যাবে ক্লাস করতে যায়। এ সময় টেবিলে জোরে শব্দ করায় শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম তার শরীরে এসিড ছুড়ে মারেন। তাৎক্ষণিক অন্যান্য ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

    পরে ওই শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তারা প্রায় ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। দুপুর দেড়টায় শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুমকে পুলিশ আটক করলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

    এসিডে দগ্ধ মঈনুদ্দিন জানায়, টেবিলে হাত দিয়ে জোরে শব্দ করলে শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম রাগের মাথায় তার শরীরে এসিড ছুড়ে দেন।

    সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ দাশ জানান, পিঠের উপর থেকে বেশ কিছু অংশ এসিডে ঝলসে গেছে।

    হবিগঞ্জ টেকনিকেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কেমিস্ট ল্যাবে শনিবার প্র্যাক্টিকেল ক্লাস চলছিল। এ সময় ওই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বলছেন পানি মনে করে তিনি ছুড়ে মেরেছিলেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সেখানে এসিড ছিল। বিষয়টি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। আটক শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • ধানমন্ডিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    ধানমন্ডিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    রাজধানীর জিগাতলায় নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি হাতে একদল যুবকের হামলার ঘটনার পর থেকে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। শনিবার দুপুরের দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ সময় শিক্ষার্থী-সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

    এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (শনিবার বিকেল ৪টা) পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে একদল যুবককেও দেখা গেছে। ঘটনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদর দফতরের কাছে হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরাও।

    jagonews24

    শনিবার দুপুরের দিকে জিগাতলার বিজিবি গেটের সামনে হেলমেট পড়া যুবকরাই শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি হাতে হামলা চালায়। তখন থেকে জিগাতলা, সাইন্সল্যাব ও ধানমন্ডি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    এর আগে শনিবার সকাল থেকে জিগাতলা এলাকায় জড়ো হতে থাকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী। ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

    jagonews24

    উল্লেখ্য, গেল ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহত হন মিম ও করিম নামে দুই শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহতও হন। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন।

    jagonews24

    দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার তাদের আন্দোলনের সপ্তম দিনেও স্থবির হয়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে ঢাকা শহরের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা।

  • ‘এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান!’

    ‘এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান!’

    ‘আর চুপ থাকতে পারছি না। শুটিং থেকে অনুমতি নিলাম, দুপুরে নামছি তোমাদের সঙ্গে উত্তরায়। আমার কোনো সহকর্মী ভাইবোনেরা নামতে চাইলে খুশি হব।’ কথাগুলো নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী তৌসিফ মাহবুবের। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এভাবেই নিজের একাত্মতার কথা বললেন তিনি। আজ বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

    রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে তিন দিন ধরেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সরাসরি মাঠে থাকতে না পারলেও চলচ্চিত্র, টিভি আর সংগীত জগতের অনেক তারকা সমর্থন দিয়েছেন। ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন।

    সংগীতশিল্পী মাকসুদ বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, এ নতুন কোনো বিষয় না। গত ঈদের ছুটিতে এক দিনেই ৫৫ জন লোক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল | আমরা প্রতিবাদ তো দূরের কথা, একটি শব্দও করিনি। তবে র‍্যাডিসন হোটেলের সামনে যা ঘটেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে যে ভয়াবহ অবস্থা আর তাণ্ডব চলছে এবং বেশ কিছুদিন চলবে, এর জন্য সরকারের কতিপয় মন্ত্রী আর হর্তাকর্তার নির্বুদ্ধিতা বেশি দায়ী।’

    মাকসুদ আরও বলেন, ‘বন্ধুদের অনুরোধ করছি, বাচ্চা বা পোলাপান—এ শব্দগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করুন। এই একুশ শতকে এসব এবিউসিভ শব্দ সোজা কথায় গালি। ওদের বয়স আমাদের চেয়ে কম হতে পারে। কিন্তু মেধা, মনন ও ব্যবহারে আমাদের চেয়ে ওরা অনেক উচ্চ মানুষিক মার্গে বসবাস করে, এ কথাটা ভুলবেন না। ওদের মনের ধারের কাছেও আমরা ভিড়তে পারব না। এমনকি স্বপ্নেও না। ওদের সম্মান পেতে হলে আগে আপনারা সম্মান দিতে শিখুন।’

    তিন দিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘বাচ্চা’ বললেও বিষয়টি মানতে নারাজ এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘বাচ্চা মানে বাচ্চা না, ভাইবোনেরা আমার! বেশ কিছু ভিডিওতে আন্দোলনরত স্কুল-কলেজের ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা শুনে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। আমি সব সময়ই বিশ্বাস করেছি কাহলিল জিব্রানের কবিতা। যেখানে লেখা হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পূর্ববর্তী প্রজন্মের চেয়ে এগিয়েই থাকে। তোমরা এগিয়েই আছো ভাইবোনেরা! লাভ ইউ।’

    ফারুকী তাঁর দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে সরকারের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন। সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন দ্রুত একটা কমিটি করা হয়। যেখানে শুধু প্রবীণ নাগরিকেরা থাকবেন, তা না। তরুণ মেধাবী প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলীদেরও রাখতে হবে। সেই কমিটির কাজ হবে সবকিছু প্রযুক্তিনির্ভর করা। ফারুকী বলেন, ‘এখন একটাই অনুরোধ, সমষ্টির এই শক্তিকে একটা সুন্দর ফলাফলের দিকে নেওয়ার দাবি তোলো। জাবাল-ই-নূরের ঘটনায় অপরাধীর সাজা হতে হবে, শাজাহান খানকে ক্ষমতাশূন্য করতে হবে, এগুলো সবই দরকার। পাশাপাশি, দাবি তোলো সামগ্রিক সংস্কারের। লাইসেন্স, ফিটনেস থেকে শুরু করে, ড্যাশবোর্ড ক্যামেরা, আউটডোর ক্যামেরা, রুট বণ্টনবিষয়ক দুর্নীতি, আইন সংস্কার—মোট কথা রাস্তাঘাট নিরাপদ করার জন্য, অপরাধী শনাক্ত করার জন্য যা কিছু বিবেচনায় নেওয়া দরকার, সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে।’

    অভিনয়শিল্পী শাহনাজ খুশি দুই সন্তানের মা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যেভাবে নির্যাতন করছে, তাতে আতঙ্কিত এই অভিনয়শিল্পী। এসব দেখে তাঁর কণ্ঠ থেকে ঘৃণা আর ক্ষোভ ঝরেছে। তিনি বলেন, ‘দয়া করে বাচ্চাদের গায়ে হাত দেবেন না। তারা কোনো আসনের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য পথে নামে নাই, তাদের দাবি কেবল পথের নিরাপত্তা। এই দেশের পরবর্তী কর্ণধার এই বাচ্চারাই। এখনো অনেক বাচ্চা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বাচ্চাদের মাথায় লাঠির আঘাত নয়, ভরসার হাত রাখুন। মা-বাবাদের পথে নামতে বাধ্য করবেন না। ওরা আমাদের সন্তান। নাড়ি ছেঁড়া ধন!’

    মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘ওরা কিন্তু রাজনীতি বোঝে না, রাজনীতি করতে পথে নামেনি। কিন্তু রাজনীতির প্রতি, রাজনীতিবিদদের প্রতি কী পরিমাণ ঘৃণা জন্মে যাবে তাদের মনে, ভেবে দেখছেন! এই ছেলেরাই আগামী ২/১ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, হয়তো ছাত্র রাজনীতিও করবে। আজকের এই ঘৃণা ওদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে দেবে? প্রধানমন্ত্রী, তিনি তো কোমল হৃদয়ের মানুষ, সারা জীবন সেভাবেই দেখে এসেছি তাঁকে। আজ কেন তাঁর কোমলতা দেখাতে দেরি করছেন? তাঁর সম্বন্ধে এই বাচ্চাগুলোর ধারণা কোন দিকে যাচ্ছে!’

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড বলেছেন, ‘রাষ্ট্র প্লিজ থামুন। ওরা বাচ্চা। ওরা সবেমাত্র স্কুলছাত্র। ওরা আমাদের সন্তান। ওরা ধান্দাবাজ রাজনীতিক না। ওরা ব্যাংক লুটেরাদের বাঁচানোর পক্ষের কোনো শক্তি না। ওরা ধর্ষকের রক্ষক না। ওরা ক্ষমতা দখলের লোভে রাস্তায় না। ওরা শুধু ওদের বন্ধু-সহপাঠীর নির্মম মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি। ওরা বন্ধু হত্যার বিচার চায়। ওরা সড়কে জীবনের নিরাপত্তা চায়। এটা ওদের অপরাধ?’

    নাট্যকার মাসুম রেজা বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করবেন না। দাবি মেনে নিয়ে ওদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরান।’

    অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেছেন, ‘আর ঘরে বসে থাকা যায় না, আমার মন উত্তাল তোমাদের সঙ্গে। আপনি আছেন তো?’

    মৌসুমী হামিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কী বলব আপনাদের? হাতে অস্ত্র, মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, পায়েও হাঁটু পর্যন্ত গার্ড পরে আছেন। তারপরও কলেজ ড্রেস পরা নিরস্ত্র একটা বাচ্চাকে লাথি মারার জন্য মাথা পর্যন্ত পা তুলছেন। লজ্জা করে না আপনাদের? আপনার এত সাজ-পোশাকে জঙ্গি দমন করতে আসছেন? এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান? পুলিশ মানে তো আপনারা না! তাহলে আপনারা কারা?’

    এ প্রজন্মের আরেক পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ বলেছেন, ‘আজ না হয় শহরের স্কুল-কলেজের ছাত্রগুলো রাস্তায় নেমেছে, এতেই এই অবস্থা! কাল যদি সারা বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নামে, তখন কেমন হবে!’

  • শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

    শোকার্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শোক সংবরণ করে শান্ত থাকা ও ধৈর্য ধরারও আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও মর্মবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় সহপাঠীর মৃত্যুতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা পরিবারের আমরা সবাই শোকার্ত।’

    শিক্ষামন্ত্রী বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এক তাৎক্ষণিক সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। তিনি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহনকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে। শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যদের শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান।

    শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • বাড়ি ফেরার আগে রাস্তার কাচ পরিষ্কার করল শিক্ষার্থীরা

    বাড়ি ফেরার আগে রাস্তার কাচ পরিষ্কার করল শিক্ষার্থীরা

    রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডে বাসের ভাঙা কাচ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে দুই শিক্ষার্থীকে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
    রাস্তায় পড়ে থাকা কাচে যেন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে- তার জন্য বাড়ি ফেরার আগেই তা রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলে তারা। আর অনেকের মতে, এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
    রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আজ বুধবার তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।
    কাচ পরিষ্কারের এ ঘটনায় ফেসবুকে কুদ্দুস আফ্রাদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘তোমাদের হাতে সমাজের জঙ্গল পরিষ্কার হবে। তোমরা এগিয়ে যাও। জয় বাংলা।’
    আব্দুল হালিম নামের একজন লিখেছেন, ‘বিষয়টি সত্যিই অসাধারণ! তোমাদের হাতেই বাংলার জয় হবে।’
    জুবাইর চৌধুরী বলেন, দিনভর রাজপথ দখল করে আন্দোলন। বাড়ি ফেরার আগে রাস্তা ঝাড়ু! আন্দোলনের সংজ্ঞাই পাল্টে দিলে তোমরা! তোমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ব হচ্ছে। তোমাদের জন্য ভালোবাসা। জয় বাংলা! তোমাদের হাতে সমাজের জঙ্গলগুলোও পরিষ্কার হবে! এটাই বিশ্বাস।
    গত রবিবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর নিহত হয়। আজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটেছে।
  • শিক্ষার্থীদের বাধায় পড়ে ফিরে গেল বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি

    শিক্ষার্থীদের বাধায় পড়ে ফিরে গেল বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি

    রাজধানীর শাহবাগ এলাকা দিয়ে ‘উল্টোপথে’ যাওয়ার সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিএমডব্লিউ গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রোটোকলে থাকা গাড়িটি ওই পথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
    আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়িটিকে শিক্ষার্থীরা আটকে রাখে। আজ নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার একপাশে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়িটি উল্টো পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ মিনিট গাড়িটি সেখানে আটকে থাকে। তোফায়েল আহমেদ তখন গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।
    শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর কাছে সড়ক দুর্ঘটনার বিচার চায়। এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। এর আগে পুলিশ প্রোটোকলে থাকা কর্মকর্তা গাড়িটি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা ‘আইন সবার জন্য সমান’ বলেও স্লোগান দেন। পরে গাড়িটি যে পথে আসছিল সে পথে ফিরে যায়।
  • ৯ টাকায় ১ জিবি চাই না, নিরাপদ সড়ক চাই’

    ৯ টাকায় ১ জিবি চাই না, নিরাপদ সড়ক চাই’

    বিমানবন্দর সড়কের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল পুরো দেশ। বাদ পড়েনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও। এইরমধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের আগুন ও বিভিন্ন প্রতিবাদী ছবি। দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার এবং ফেস্টুন। যার একটিতে লেখা আছে, আমরা ৯ টাকায় ১ জিবি চাই না, “নিরাপদ সড়ক চাই।”

    এর আগে, রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে জাবালে নূর পরিবহনের দু’টি বাসের প্রতিযোগিতায় নির্মমভাবে প্রাণ হারান কলেজের দুই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। হতাহতের শিকার প্রত্যেকেই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। এরপরই কলেজের শিক্ষার্থীরা র‌্যাডিসন হোটেলের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আর ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে।

    অন্যদিকে, ‘বিক্ষোভ’ দেখা গেছে ফেসবুকেও। সেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করছেন, প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার এবং ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এমনই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ফেস্টুন হাতে একটি ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর এতে লেখা আছে- আমরা ৯ টাকায় ১ জিবি চাই না, “নিরাপদ সড়ক চাই”।

  • বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিচয় মিলেছে

    বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিচয় মিলেছে

    ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় পাওয়া গেছে। আবদুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসচাপায় মারা যান দুই শিক্ষার্থী। আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    এ ব্যাপারে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সগির মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত একজনের নাম আবদুল করিম, সে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। একই কলেজের আরেক শিক্ষার্থী দিয়া খানম ওরফে মিম। সে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    সগির মিয়া আরো জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আরও ১২ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।

  • প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী

    প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী

    বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রবর্তিত ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ পেয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ মেধাবী শিক্ষার্থী। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী স্বর্নপদক প্রাপ্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থীরা হলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন অর্থনীতি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীেেসামা রানী সরকার (প্রাপ্ত সিজিপিএ-৩.৯৬), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তন্বী দেবনাথ (প্রাপ্ত সিজিপিএ-৩.৯৪) এবং কলা ও মানবিক অনুষদের অধীন ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার সুমনা (প্রাপ্ত সিজিপিএ-৩.৬৩)।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করায় এই ৩ শিক্ষার্থী ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ এর জন্য মনোনীত হয়। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, ইউজিসি চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকসহ  অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি উপভোগ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ কৃতি শিক্ষার্থীর ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ অর্জন অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের। এই অর্জন শুধুমাত্র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নয়, সমগ্র বরিশালবাসীর। এই অর্জনকে ভবিষ্যতের প্রেরণা হিসেবে নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় অচিরেই একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

    এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে গনিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফৌজিয়া শারমিন নিরা ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৫-২০১৬’ গ্রহণ করেন।