Category: শিক্ষাঙ্গন

  • সংসদে বঙ্গমাতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

    সংসদে বঙ্গমাতা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

    জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা ও আধুনিক বিজ্ঞান চর্চা সম্প্রসারণে জামালপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। এ জন্য জাতীয় সংসদে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০১৭’ নামের একটি বিল পাস হয়েছে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমামসহ অন্যদের বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

    পাস হওয়া বিলে জামালপুর জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান পদ্ধতি, মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, গ্রন্থাগারিক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ এবং কর্মকর্তাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিধান রাখা হয়েছে।

    এ ছাড়া বিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল গঠন এবং কাউন্সিলের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, অনুষদ গঠন ও এর দায়িত্ব-কর্তব্য, ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, বিভাগ গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল, অর্থ কমিটি গঠন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে ভর্তি, পরীক্ষা, পরীক্ষা পদ্ধতি, চাকরির শর্তাবলী, সংবিধি প্রণয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় বিধি-প্রবিধি প্রণয়ন, বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • বরিশাল শেবামেক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    বরিশাল শেবামেক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের মুক্ত মঞ্চে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোড়ালো দাবি উচ্চারিত হয়।

     

    সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। পরে সাদা পায়রা এবং বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা এবং শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সরফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক ক্যাপ্টেন ডা. সিরাজুল ইসলাম, বিএমএ বরিশাল জেলার শাখার সভাপতি ডা. মো. ইশতিয়াক হোসেন ও সাধারন সম্পাদক ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন, জেলা স্বাচিপের সভাপতি ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা. এসএম সারওয়ার সহ মেডিকেল কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধনের পর মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামের সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আড্ডা এবং স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে কলেজের খেলার মাঠে ক্রীড়া বিনোদন এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলেজের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করার কথা রয়েছে।

    ১৯৬৮ সালের এই দিনে বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পথচলা শুরু হয়।

    ৬৮ সালের ২০ নভেম্বর শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রথম ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন রংপুরের লুৎফুর রহমান। গত ৪৯ বছরে এখানে এমবিবিএস কোর্সে ৪৯টি ব্যাচ ভর্তি হয়।

    আগামী বছর শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুবর্ন জয়ন্তি উৎসবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা।

  • প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে উত্তর লিখে দিলেন শিক্ষকরা!

    প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে উত্তর লিখে দিলেন শিক্ষকরা!

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রথম দিনে উপজেলার ৬৩ নং দক্ষিণ ঘোষের টিকিকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রে উত্তর লিখে দিয়েছেন শিক্ষকরা।

    বিয়ষটি নিয়ে কেন্দ্র পরিদর্শক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কেন্দ্রসচিব ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে টিক, ছক মিলানো, রিঅ্যারেঞ্জসহ অধিকাংশ উত্তর লিখে দেন।

    রোববার দেখা যায়, ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের ১২টি বিদ্যালয়ের ২২৯ জন শিক্ষার্থীর অধিকাংশের প্রশ্নে উত্তর লেখা দেখা যায়। এই কেন্দ্রের সচিব ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফজাল মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রশ্নপত্রে উত্তর লিখে নিয়েছে।

    কেন্দ্রর দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন প্রশ্নে লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বাসায় মিলানোর জন্য প্রশ্নপত্রে টিক দিয়েছে। এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১০২ নং গুলিসাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রসচিব ও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার মিত্রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, প্রশ্নপত্রে উত্তর লেখা বেআইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসির ফরম পূরণ!

    মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসির ফরম পূরণ!

    মাথা ন্যাড়া করার শর্তে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসির ফরম পূরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    চাঁদপুর আল আমিন একাডেমি স্কুলে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পুনরায় পরীক্ষা নিলেও ফল ঘোষণা না করে মাথা ন্যাড়া করার শর্তে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হচ্ছে। ন্যাড়া করার ব্যাপারে মুখ খুললে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয়েছে।
    অভিযুক্ত শিক্ষক পি এম এম জামাল হোসেন এমন নির্দেশের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজেরাই চুল কেটেছে।
    চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে আল আমিন একাডেমীতে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রায় চারশ শিক্ষার্থীর মধ্যে টেস্ট পরীক্ষায় ৯১ জন কৃতকার্য হয়। বাকি প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। পরে তাদের অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা নিলেও ফলাফল ঘোষণা করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলাফল ঘোষণা না করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করা হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ আবুল বাসার নামের এক অভিভাবকের। এমন প্রচুর অভিযোগ রয়েছে প্রাইভেট না পড়াতে অনেক শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এমনকি ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশলও বলছেন কেউ কেউ।
    অপরদিকে ইংরেজি শিক্ষক জামাল স্যারের নির্দেশে ১৯ জন শিক্ষার্থী মাথা ন্যাড়া করতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এমন শর্ত দেয়ায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু তিনি এ সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ও কার্যকর করার নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয় তাদের মাথা ন্যাড়া করতে। এমন ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
    সূত্র : মানবজমিন

  • প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ

    প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ

    আজ ১৯ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা শুরু হবে। দেশের সাত হাজার ২৬৭টি এবং বিদেশের ১২টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।

    সারা দেশে মোট প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।

    এবার দুই হাজার প্রাথমিকে ৯৫৩ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৩৭৯ জন ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন’ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে । এই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হবে।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে এবার থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করবে এবং এ সময় কোন পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

    সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে গত বছর থেকে দেশের ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্ন ছাপিয়ে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিচ্ছে সরকার। পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে।

    ইতোমধ্যে প্রশ্নপত্র ফাসরোধে বিশেষ নিরাপত্তায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং দুর্গম এলাকার ২০৪টি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরুর দিন বেলা ১১ টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

  • আত্মহত্যার আগে মর্মান্তিক স্ট্যাটাস

    ফেসবুকে হৃদয় বিদারক স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এক ছাত্র। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওই ছাত্রের নাম অর্ঘ বিশ্বাস (২০)।

    মঙ্গলবার গভীর রাতে তিনি খুলনা  কাকলীবাগ এলাকার তার ৫ তলার বাসার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে অর্ঘের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণে প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি তাকে। আর এই কষ্টেই তিনি আত্মহত্যা করেন। ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ সম্বোধনে স্ট্যাটাসের একটি অংশে অর্ঘ লেখেন, ‘তোমার মেরুদণ্ডহীন বিদ্বান সূর্য সন্তানেরা তোমার এত উন্নতি করছে সেখানে আমি তোমার কি উপকার করছি বল? তোমার টাকায় পড়ে, খেয়ে তোমার সিস্টেমের বিরোধিতা করছি, তোমার সঙ্গে বেইমানি করছি। দেখে নিও, আর করব না। সেদিন ভিসি স্যার এবং চেয়ারম্যান স্যারের কাছে মাফ চাইনি। আজ তোমার কাছে মাফ চাইছি। তোমার আর কোনো ক্ষতি করব না। আর তোমার বিরোধিতা করব না। সোজা হওয়া এই মেরুদণ্ড ভেঙে নোয়াতে পারব না। সেটা আমার দ্বারা হবে না। সেজন্য অন্য পথটা বেছে নিলাম। ’ নিজেকে ‘যুক্তিবাদী বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, ‘ভয় পেয় না। ধর্মান্ধতায় অন্ধ, ক্ষমতাবলে ভীত, অর্থ মোহে ঘুমন্ত এই বালির নিচে মাথা ঢুকিয়ে থাকা উটপাখি সদৃশ জাতি কোনো দিনও তোমার ভেঙে পড়ে থাকা মেরুদণ্ড সোজা করার চেষ্টা করে তোমাকে যন্ত্রণা দিবে না। আমার মতো যেসব “বেয়াদবেরা” তোমার সিস্টেম বাগের কারণে ভুল করে জন্মেছে তারাও আস্তে আস্তে তোমার সিস্টেমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। আশাকরি পৃথিবীতে তুমি তোমার উন্নতির ধারা বজায়ে রাখবে। ভালো থেক। ’

  • বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ- আহত ৪

    বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ- আহত ৪

    বরিশাল সরকারী ব্রজমোহন কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দু-গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় এক জনকে বরিশাল শেরইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পসিস্থিতি সান্ত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ কর্মী ও তার বান্ধবীকে জিম্মি করে চাঁদা দাবীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল সরকারী ব্রজমোহন কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। দু-গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা দাবীদার খায়রুল হাসান সৈকত, ছাত্রলীগ কর্মী নাফিদ, বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী শিপন হাওলাদার ও আব্দুল্লাহ আল নোমান। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় কলেজের শহীদ মিনার গেটের বটতলায় এই ঘটনা ঘটে। আহত সূত্রে জানা যায়, কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী নাফিদ তার বান্ধবীকে নিয়ে কলেজের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন বট গাছের নিচে আড্ডা দেয়ার সময় বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী শিপন তাদের কাছে চাঁদা দাবী করে। নাফিদ চঁদা দিতে না চাইলে তার বান্ধবীকে নিয়ে টানা হেঁচরা করলে বাঁধা দেয় নাফিদ। একপর্যায়ে নাফিদকে কুপিয়ে জখম করে শিপন ও তার সহযোগীরা। পরে নাফিদ বিষয়টি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা খায়রুল হাসান সৈকতকে জানালে সৈকত তার দলবল নিয়ে শহীদ মিনার গেটে আসলে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সৈকত গ্রুপ শিপনকে কুপিয়ে জখম করে। পাল্টা হামলায় আহত হয় সৈকত ও নোমান। এতে শিপন গুরুত্বর আহত হওয়ায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আহত আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, শিপন জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সাদ্দামের অনুসারী হওয়ায় নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী দাবী করে কলেজের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চাঁদা উত্তোলন করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার সত্যরঞ্জন খাসকেল বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। কলেজ কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে ১৬ স্তরে দুর্নীতি টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

    বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে ১৬ স্তরে দুর্নীতি টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

    প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের পান্ডুলিপি প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনা ও সরবরাহের ২০টি ধাপের মধ্যে ১৬টি ধাপেই অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি): পান্ডুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনা ব্যবস্থায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল টিআইবি’র ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
    গবেষণায় বলা হয়, আইনগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত হলেও এনসিটিবি’র কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। লেখক কমিটি, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে। এনসিটিবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারায় তারা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।
    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিদর্শন ও তদারকিতে ঘাটতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানসম্মত পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। পাঠ্যবই লেখার মতো বিশেষায়িত বিষয় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। পাঠ্যবইয়ে ক্ষমতাসীন দলের মতাদর্শী ধারার ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা এবং ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষজ্ঞ, জনবল ও কারিগরি দক্ষতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
    নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিটিবি’র দরপত্র কমিটির একাংশের বিরুদ্ধে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে আগেই দর জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এছাড়া দরপত্র আহ্বানের পর এনসিটিবি’র কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দরপত্রে অংশগ্রহণ ও কার্যাদেশ প্রাপ্তির অভিযোগ রয়েছে।
    গবেষণায় উঠে এসেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মুদ্রণ, বাঁধাই ও লেমিনেশনের কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর কাজের বেশিরভাগই অবৈধভাবে সাব-কন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়। এছাড়া অবৈধ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিএসটিআই সনদবিহীন কাগজের কারখানাকে এনসিটিবি কর্তৃক কাগজ সরবরাহের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
    এছাড়া মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সার্বক্ষণিক উপস্থিত না থেকেও উপস্থিতির প্রতিবেদন দেওয়া, মুদ্রণ কাজে নিম্নমানের কাগজ ও কালির ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সন্তোষজনক প্রতিবেদন প্রদানের তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, লেখক দল বই রচনা, পরিমার্জন বা পরিবর্ধন করার পর এনসিটিবির সম্পাদনা বিভাগে জমা দিয়ে থাকেন। একাধিক তথ্যদাতার তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পাদক নিজের মতো করে সম্পাদনা করেন। সম্পাদনার সময় লেখক-সম্পাদক একসাথে বসে লেখার উদ্দেশ্য ও বিষয় সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সম্পাদনা করার নিয়ম থাকলেও এই কাজটি না করার অভিযোগ রয়েছে। এনসিটিবি এ কাজটি সময় স্বল্পতার অজুহাতে করে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
    প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিটিবির অন্যতম কাজ হচ্ছে কারিকুলাম তৈরি হওয়ার পর একবছর পর রচিত পাঠ্যবইয়ের ওপর মাঠ পর্যায় থেকে মতামত নেওয়া। অভিযোগ রয়েছে পাঠ্যক্রম বিভাগ এই পদ্ধতিতে প্রাপ্ত মতামত যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে না। মাঠ পর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয় না।
    ্এছাড়া কারিকুলাম অনুসরণ না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেখা পরিবর্তন করা হয়। লেখকদের অজ্ঞাতে পাঠ্যবইয়ে লেখা সংযোজন-বিয়োজন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেখা পরিবর্তনে সম্পাদকদের বাধ্য করা হয়। এছাড়াও ২০১৩ শিক্ষাবর্ষে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে শিক্ষা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার কবিতা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
    সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাহিদার প্রেক্ষিতে এনসিটিবি কর্তৃক পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হয়েছে, যার অনেক কিছুই মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।
    অন্যদিকে, দীর্ঘদিনেও এনসিটিবি’র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি জারি না হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের দ্বারা আদিষ্ট হয়ে এনসিটিবি’কে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
    মোরশেদা আক্তার বলেন, দরপত্র নির্দেশিকা তৈরি, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, সিএস তৈরি, কার্যাদেশ প্রদান, প্রতি লটের কাগজের হিসাব, কাগজের বরাদ্দপত্র জারি, কার্যাদেশ অনুযায়ী উপজেলায় বই সরবরাহ বাবদ গত ৩ বছরে ৫১ লাখ টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে সম্মানী নিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান থেকে এমএলএস পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
    পাণ্ডুুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনা প্রক্রিয়ায় সুশাসন ও কার্যকর জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এনসিটিবি’র কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে টিআইবির সুপারিশে। এছাড়া অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এনসিটিবি’র বোর্ডে সদস্য হিসেবে নিয়োগ, এনসিটিবি’র কর্মীদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন এবং সকল তদন্ত প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে সুপারিশে।
  • এসএসসি পরীক্ষায় বসতে ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর

    এসএসসি পরীক্ষায় বসতে ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর

    মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৬ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন থেকে ন্যূনতম ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারবে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ন্যূনতম ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভায় সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি ফরমের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া এনসিটিবির (জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) বইয়ের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা যাবে না। শিক্ষার্থী যে শ্রেণীতে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দেবে তার আগের শ্রেণীর বই থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির ন্যূনতম বয়স ৬ বছর। এটা কড়াকড়িভাবে অনুসৃত হচ্ছে। এ হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর দশম শ্রেণীতে বয়স দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ১৬ বছর। তাই এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স হবে ষোলোর্ধ্ব।

    তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় ফরমের দামও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স সমন্বয়ের জন্য এখন শিক্ষা বোর্ডগুলোতে নির্দেশনা পাঠানো হবে। সভার একটি সূত্র জানায়, মাউশির কর্মকর্তারা বেসরকারি হাইস্কুলের ফরমের দাম ২০০ থেকে আরও ৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরপর উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে একজন যুগ্ম সচিব সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন হাইস্কুল পরিদর্শন করেন। তিনি দেখেন, অনেক স্কুলে ফরমের দাম ২০০ টাকার কম নেয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয় ফরমের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তথাকথিত নামকরা স্কুল শুধু বেশি অর্থ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। ওইসব স্কুলের দোসর হয়ে মাউশির দু-একজন কর্মকর্তা ফরমের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তবে এ জন্য কোনো ধরনের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা হয়নি।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সুপারিশে ভর্তি ফরমের দাম ১৫০ টাকার পরিবর্তে ১৭০ টাকা করা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির আয়োজন করা হবে। ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণীতে যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ভর্তি করতে হবে। অন্যসব ক্লাসে পরীক্ষা নেয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীতে তিনটি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে তিন বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাঠ্যপুস্তকের বাইরে থেকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী যে শ্রেণীতে লেখাপড়া করেছে, সেই ক্লাসের বই থেকে পরবর্তী ক্লাসের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে। এবারও ভর্তি পরীক্ষায় ক্যাসমেন্ট বা এলাকা কোটা থাকবে প্রতিটি স্কুলের ক্ষেত্রে। ঢাকার ৩৭টি সরকারি হাইস্কুল তিন ভাগে ভাগ করে পরীক্ষা নেয়া হবে। একজন শিক্ষার্থী একই ভাগের একাধিক স্কুলে আবেদন করতে পারবে না। তবে অন্য ভাগের স্কুলে আবেদন করতে পারবে। ভর্তিতে আগের মতো মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, এলাকা, শিক্ষা বিভাগের কোটা থাকবে। পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুলের ১০ শতাংশ আসন সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

    সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিভাবকের বদলির কারণে শিক্ষার্থীদের বদলি-ভর্তি ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবক বদলি হয়ে আসার ছয় মাস পর ভর্তির জন্য আবেদন করে তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এদিকে সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হলেও ফরম বিতরণ ও পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। মাউশিকে এটি চূড়ান্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সংস্থাটির উপপরিচালক (মাধ্যমিক) একেএম মোস্তফা কামাল জানান, সভার কার্যবিবরণী পাওয়ার পর ফের বৈঠক করে পরীক্ষা সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

     

  • কে এই পরীক্ষার্থী যার পরীক্ষা নিলেন ১৬ কর্মকর্তা!

    কে এই পরীক্ষার্থী যার পরীক্ষা নিলেন ১৬ কর্মকর্তা!

    বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয় জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শনিবার মাত্র একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। যদিও এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৭৮২। পরীক্ষার্থী নাজমুলের পরীক্ষা নিতে কেন্দ্র সচিব, সহকারী কেন্দ্র সচিব, হলসুপার, কক্ষ পরিদর্শকসহ ১৬ জনকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। কেন্দ্রের আশে পাশে যথারীতি বহাল ছিল ১৪৪ ধারা। একটিমাত্র উত্তরপত্র পুলিশ প্রটেকশনে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। জানা গেছে, ১১ নভেম্বর শনিবার জেএসসি’র কর্ম ও জীবনমুখি শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। চলিত বছর থেকে এ বিষয়ের স্কুলভিত্তিক মুল্যায়ন পদ্ধতি চালু করায় হলে বসে পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী নাজমুল হক গত বছর পরীক্ষা ড্রপ দেয়। কর্ম ও জীবনমুখি শিক্ষা বিষয় নাজমুলের ঐচ্ছিক ছিল। এবার সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় একাই তার পরীক্ষা নিতে হয়েছে। কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ জানান, কর্ম ও জীবনমুখি শিক্ষা বিষয়ের আর কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না। একমাত্র পরীক্ষার্থী হিসেবে নাজমুল হক শনিবার পরীক্ষা দিয়েছে। তার পরীক্ষা নিতে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট সকলকেই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।