Blog

  • নির্বাচনের আগে কেন ‘পর্নস্টার’কে কোটি টাকা দিয়েছিলেন ট্রাম্প?

    নির্বাচনের আগে কেন ‘পর্নস্টার’কে কোটি টাকা দিয়েছিলেন ট্রাম্প?

    বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেটা নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই। আর নির্বাচনের পরেও তো সেটা আরও বহু গুণ বেড়ে গেছে। এবার তার সঙ্গে সাবেক এক পর্নস্টারের যৌন সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ওই পর্নস্টারকে মোটা টাকা দিয়েছিলেন মার্কিন এই ধনকুবের, যাতে তাদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে ফাঁস করে না দেন। আমেরিকার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট।

    খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের তার এই সম্পর্কের বিষয়ে মুখ মুখ বন্ধ করতে ২০১৬ সালে অক্টোবরে স্ট্রোরমি ডানিয়েল নামের ওই পর্নস্টারকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের চেক দেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। কারণ ট্রাম্প চাননি এই সম্পকের কথা নির্বাচনের সময় ফাঁস হোক। নইলে বিরোধীরা তার সুবিধা নেবে। সেই ভয়ে ট্রাম্প ওই পর্নস্টারের সঙ্গে এই চুক্তি করেন।

    যদিও গোটা বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পের ওই আইনজীবী। একই দাবি সেই পর্নস্টারেরও। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে খবরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

  • স্কুলে আগুন, তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    স্কুলে আগুন, তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    ভারতের কাজকোটে স্কুল চত্বরে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে তিন শিক্ষার্থীর। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন।

    শুক্রবার গভীর রাতে প্রাণসলা গ্রামের রাষ্ট্র কথা শিবিরে এই আগুন লাগে। নিহতরা সকলেই মেয়ে।

    সংবাদসংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, স্কুল চত্বরে অনুষ্ঠানের জন্য তাবু লাগানো হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে সেই তাবুতে আগুন লাগে। ঘুমের ঘোরে তিনজন ওই আগুনে পুড়ে মারা গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ কিশোরী।

    কি থেকে আগুন লেগেছে তা পরিস্কার নয়। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারনা করছে ফায়ার সার্ভিস। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে’

    ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে’

    বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ভাষণে জাতি হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাৎক্ষণিক এ মন্তব্য করেন।

    এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, তার দেওয়া এ বক্তব্য দেশকে আরো একদফা সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

    প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

    আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৬ মিনিটের ভাষণে তার সরকারের সাফল্য, আগামীর করণীয়, বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিসহ সবকিছু তুলে ধরেন।

    প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ তুলে ধরা হলো।

    প্রিয় দেশবাসী,
    আসসালামু আলাইকুম।

    ২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ বছরপূর্তিতে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি। আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন।
    আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছেন একটি আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে। বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিলেন।  ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
    তাঁর সেই আকাক্ক্ষ পূরণ করাই আমার একমাত্র ব্রত। ‘‘বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়’’ – জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা আমার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ করব, স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলব।
    আমি আজকের দিনে শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় চার নেতার প্রতি; ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি জানাই আমার সালাম।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কময় দিন। মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা সময় পেয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য। একটা প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করে যুদ্ধবিধ্বস্ত-ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশটিকে যখন গড়ে তুলছিলেন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনই চরম আঘাত এলো।
    ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে আমি ও রেহানা হারালাম প্রাণপ্রিয় মা, বাবা, তিন ভাই, ভ্রাতৃবধুদের এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজনসহ ১৮জন সদস্যকে।
    বিদেশের মাটিতে ছিলাম বলে দুই বোন বেঁচে যাই, কিন্তু দেশে ফিরতে পারিনি আমরা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শাসক আমাদের দেশে আসতে দেয়নি। সর্বহারা নিঃস্ব রিক্ত হয়ে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ৬টি বছর বিদেশে কাটাতে হয়েছিল।
    ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন সকল বাধা অতিক্রম করে প্রিয় দেশবাসী আপনাদের সমর্থনে আমি দেশে ফিরতে সক্ষম হই। রিফিউজি হিসেবে আমাদের অমানবিক জীবনের অবসান ঘটে।
    দেশে ফিরে একদিকে যেমন দলকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করি, অপরদিকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে উদ্ধার করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা চালাই।
    চারণের বেশে সমগ্র বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছি। আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে কী কী কাজ করতে হবে তারও পরিকল্পনা তৈরি করি।
    স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে যখন আপনাদের কাছে গিয়েছি, পেয়েছি অপার স্নেহ, ভালবাসা, পেয়েছি আত্মবিশ্বাস। অনেক চড়াইউৎরাই পেরিয়ে, বন্ধুর পথ অতিক্রম করে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পাই।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর এই প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সুযোগ পেল। বাংলাদেশের মানুষ সরকারি সেবা পেল। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ ব্যাপক উন্নতির পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অপার সম্ভাবনা দৃশ্যমান হতে থাকল। বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের সেবাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন জনজীবনে আস্থা সৃষ্টি করেছিল।
    কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইজন সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজী, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়।

    ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের র‌্যালিতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মী হত্যা, ব্রিটিশ হাই কমিশনারের উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন।
    এমনি পরিস্থিতিতে জারি করা হল জরুরি অবস্থা। ৭ বছর দুঃসহ যাতনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশবাসী আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য।
    ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাত জোট সারাদেশে নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল। নির্বাচনের দিন ৫৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়। হত্যা করে প্রিসাইডিং অফিসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
    ২০১৩ থেকে ২০১৫ – এই তিন বছরে বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় ৫০০ নিরীহ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গাড়ি, ২৯টি রেলগাড়ি ও ৯টি লঞ্চ পোড়ানো হয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাংচুর এবং ৬টি ভূমি অফিসে আগুন দেওয়া হয়। মসজিদে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় পবিত্র কোরআন শরীফ। তাদের জিঘাংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি রাস্তার গাছ এবং নিরীহ গবাদিপশু।
    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর – এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।
    ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা।

    প্রিয় দেশবাসী,
    আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন।
    দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
    প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।
    প্রিয় দেশবাসী,
    ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।
    বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার  ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে     ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
    ১৯৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি আমলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ যখন দায়িত্ব ছাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি’র সময় মূল্যস্ফীতি আবার ৭ দশমিক এক-ছয় শতাংশে পৌঁছে। ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যষ্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার।  ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক চার-আট  বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক   চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
    ২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
    বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি।
    বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
    স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছি।
    ৩০ প্রকার ঔষধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।
    ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
    আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে   ৭২ বছর।
    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
    সরকারি কর্মচারিদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না।
    বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে।
    চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।
    গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে।
    গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে।
    আমরা সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ চলছে।
    বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে সারাদেশে ব্যাপকহারে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। আমরা বেশ কয়েকটি বন্ধ কারখানা চালু করেছি। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে সমুদ্র সম্পদ আহরণ, গবেষণা ও উন্নয়নে ব্লু ইকোনামি কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে।
    সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। হতদরিদ্র ৩৫ লাখ মানুষকে বয়স্কভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিধবা, স্বামী পরিতক্তা, দুস্থ্য নারী ভাতা উপকারভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার। ৮ লাখ ২৫ হাজার জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা ভাতা পাচ্ছে।
    সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার।
    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতির পিতার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে বিশ্বসভায়।
    সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে। যে বাংলাদেশকে একসময় করুণার চোখে দেখত, সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানোয় করুণার পাত্র মনে করত; আজ সে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বসভায় সম্মানিত।
    আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালা ১৯৭৪-এর আলোকে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছি। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
    নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্য নিরসনে আমাদের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। বাংলাদেশ জেন্ডার সংশ্লিষ্ট এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বে ৫ম স্থান অর্জন করেছে।
    জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করে চলেছে। অতি সম্প্রতি আমাদের মেয়েরা অনুর্ধ-১৫ সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এরআগে আমাদের মেয়েরা এএফসি অনুর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে।
    ‘‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশি দেশগুলিসহ সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
    অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
    প্রিয় দেশবাসী,
    সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবধিান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।
    মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে ২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
    আমি আশা করি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।
    কোন কোন মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ অশান্তি চান না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নিবেন না।
    প্রিয় দেশবাসী,
    আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?
    আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক!
    প্রিয় দেশবাসী,
    স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আমরা আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। এসব যদি আপনাদের চাওয়া হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আপনাদের পাশে আছি।
    কারণ, আমরাই লক্ষ্য স্থির করেছি যে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করব। শুধু লক্ষ্য স্থির করেই কিন্তু আমরা বসে নেই। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
    আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
    আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সকল বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
    আসুন, দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
    বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি।
    আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। ইনশাআল্লাহ।

  • ‘প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৭ সাল শুরু হলেও শেষের দিকে বাস্তবায়িত হয়নি’

    ‘প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৭ সাল শুরু হলেও শেষের দিকে বাস্তবায়িত হয়নি’

    সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৭ সাল শুরু হলেও শেষের দিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বাড়েনি। প্রবৃদ্ধি হলেও দারিদ্র্য বিমোচনের হার কমেছে। ফলে আয় ও সম্পদ বৈষম্য বেড়েছে।
    তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর নির্বাচনকে ঘিরে অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রক্ষণশীল নীতিতে চলার পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

    শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি-২০১৭-১৮ অর্থবছর- প্রথম অন্তবর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি।
    ব্যাংক খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যাংকের সামগ্রিক সূচক আরও খারাপ হয়েছে। অপরিশোধিত ঋণের পরিমান বেড়েছে, প্রভিশন কমেছে, ঋণের টাকা কয়েক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার জায়গা প্রশাসনিকভাবে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে।
    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তৃতা করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

  • এবার বাংলায় হবে বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত

    এবার বাংলায় হবে বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত

    এবার বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মোনাজাত হবে বাংলায়। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশি মাওলানা হাফেজ জোবায়ের। বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
    শুক্রবার রাতে তাবলীগ জামাতের মুরুব্বীদের নিয়ে এক বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
    আখেরি মোনাজাতের আগে হেদায়তি বয়ান হয় তা করবেন আরেক বাংলাদেশি মাওলানা আব্দুল মতিন।
    বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন আরো জানান, রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
    তবে তাবলীগ জামাতের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক শীর্ষ স্থানীয় মুরুব্বী বলেন, আখেরি মোনাজাত হবে আরবিতে কিংবা উর্দূতে।

  • শাহজালালে ১১ কেজি সোনাসহ জাপানি নাগরিক আটক

    শাহজালালে ১১ কেজি সোনাসহ জাপানি নাগরিক আটক

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১ কেজি সোনাসহ জাপানি নাগরিক কেনগো সিবাতাকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তাকে আটক করা হয়। জব্দকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে শাহজালালে অবতরণ করা একটি ফ্লাইটের যাত্রী জাপানি নাগরিক কেনগো সিবাতার কাছ থেকে এক কেজি ওজনের ১১টি স্বর্ণবার জব্দ করা হয়। গ্রিন চ্যানেলে আসার পর ওই যাত্রীকে সনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণ থাকার কথা অস্বীকার করেন। পরে স্ক্যান করে ও শরীরে তল্লাশি চালিয়ে ১১টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুল্ক আইন, ১৯৬৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • চীন শক্তিশালী হতে পারে, ভারত দুর্বল নয় : ভারতের সেনাপ্রধান

    চীন শক্তিশালী হতে পারে, ভারত দুর্বল নয় : ভারতের সেনাপ্রধান

    ভারত দুর্বল দেশ নয়। ভারত ভূখণ্ডে হানাদারি মেনে নেওয়া হবে না। চীনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, রাসায়নিক, জৈব, তেজস্ক্রিয় ও পরমাণু অস্ত্রের বিপদ সম্পর্কে আশঙ্কা ক্রমশ বাস্তব হচ্ছে। তার মতে, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদীদের থেকেই এই বিপদ আসতে পারে।

    শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেনারেল রাওয়াত পাকিস্তানের চেয়েও চীন বড় বিপদ বলে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমপ্রান্ত থেকে সরিয়ে এবার উত্তরের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। যে কোন বিদেশি আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে সামরিক বাহিনী প্রস্তুত। এই অঞ্চলে চীনের অগ্রগতি প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে বাহিনী।

    উল্লেখ্য, চীন সাম্প্রতিককালে ভারতের বিভিন্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে বিপুল আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধানের মন্তব্য, ভারত তা হতে দেবে না। তিনি বলেন, “চীন শক্তিশালী হতেই পারে। তাই বলে ভারত কোন অংশে দুর্বল নয়।”

  • ট্রাম্পের ‘শিটহোল’ শব্দ নিয়ে বিব্রত সাংবাদিকরা

    ট্রাম্পের ‘শিটহোল’ শব্দ নিয়ে বিব্রত সাংবাদিকরা

    “এসব ‘শিটহোল’ দেশের লোকজন সবাই কেন আমাদের দেশে আসছে”? হোয়াইট হাউজের এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বর্ণবাদী মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট দলীয় সেনেটরদের সঙ্গে এক বৈঠকে এভাবেই হেইতি,এল সালভাডর এবং আফ্রিকান দেশগুলোকে বর্ণনা করেছেন। এই বৈঠকে তিনি সিনেটরদের সঙ্গে অভিবাসন নিয়ে কথা বলছিলেন।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এই শব্দটি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তারপরও ঘটনাটি সাংবাদিকদের রিপোর্ট করতে হয়েছে। আর এই ‘শিটহোলে’র অনুবাদ করতে গিয়ে বিশ্বজুড়েই সাংবাদিকরা বেশ বিপাকেই পড়েছিলেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে ‘শিটহোল’ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করেনি অনেকে। সিএনন এবং এমএসএনবিসি তাদের স্ক্রীনে শব্দটি ব্যবহার করেছে, কিন্তু সংবাদ উপস্থাপক ওলফ ব্লিটজার পুরো শব্দটি না বলে এর চেয়ে কম আপত্তিকর ‘এস হোল’ বলেই ক্ষান্ত দিয়েছেন।

    কিন্তু বাকী দুনিয়ার সাংবাদিকরা কী করেছেন?
    বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কয়েক ডজন ভাষায় সংবাদ প্রচার করা হয়। সেই বিভিন্ন ভাষায় কিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচ্চারিত এই শব্দটি?

    কিছু কিছু ভাষা বিভাগ ‘শিটহোল কান্ট্রিজে’র একেবারে আক্ষরিক অনুবাদই করেছে। বিবিসি মুন্ডু, যারা মূলত স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষিণ আমেরিকার মানুষের জন্য রেডিও অনুষ্ঠান করে, তারা এটিকে অনুবাদ করেছে ‘পেইসেস ডে মিয়েরডা’ বা ‘মল বা বিষ্ঠার দেশ’ বলে।

    বিবিসি তুর্কী ভাষা বিভাগ ‘শিটহোলে’র অনুবাদ করেছে ‘বোক কাকারু’ বা ‘মল ভর্তি গর্ত’ বলে।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়া ভাষা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের ভাষায় ‘শিটহোল’ হচ্ছে, ‘লোবাং কোটেরান’, অর্থাৎ ‘মলত্যাগের গর্ত। তারা সংবাদটি পরিবেশনের সময় তাই বলেছে।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার লিস্টন সিরেগার বলেন, আমাদের শ্রোতাদের জন্য এটা সেরকম বড় কোন ব্যাপার নয়। এটা একটা অভদ্র এবং বাজে শব্দ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় কেউ যখন খুব রেগে যায়, তখন এরকম শব্দ ব্যবহার করে। তবে একজন রাজনীতিক বা প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এটা কেউ আশা করেন না।”

    তবে অন্য অনেক ভাষা বিভাগ সরাসরি এই শব্দের আক্ষরিক অনুবাদ ব্যবহার করতে চাননি এটি খুবই অরুচিকর শোনাবে বলে। উর্দূ ভাষা বিভাগ ব্যবহার করেছে ‘ঘাটিয়া’ বা টয়লেট শব্দটি। বিবিসির ফার্সি বিভাগের সাংবাদিকরা ব্যবহার করেন ‘টয়লেটের মলভান্ড’ শব্দটি।

    রুশ ভাষা বিভাগের ফামিল ইসমাইলভ বলেন, আমাদের ভাষায় এরকম শব্দ আমরা ব্যবহার করতে পারি না, এটা ইংরেজীর চেয়েও অনেক বেশি আপত্তিকর শোনাবে।”তারা এটির অনুবাদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘দূর্গন্ধযুক্ত গর্ত’।

    ভিয়েতনামী বিভাগের সাংবাদিক থু ফ্যান বলেন, তারাও আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে টয়লেট শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তার মতে, যদি তারা আসল শব্দটি ব্যবহার করতেন, তাহলে হয়তো খবরটি ভাইরাল হয়ে যেতে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

    কিন্তু ইংরেজি ভাষাতেই বা ‘শিটহোলে’র আসল অর্থ কী?

    অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারী অনুযায়ী শিটহোলের এক নম্বর অর্থ আসলে ‘রেকটাম’ বা ‘অ্যানাস’, অর্থাৎ মানুষের মলদ্বার। এর তিন নম্বর অর্থ হিসেবে টয়লেটও আছে অবশ্য। তবে বিবিসির থাই সার্ভিস তাদের খবরে ‘শিটহোলের’ অনুবাদ হিসেবে ‘মলদ্বার’কেই বেছে নিয়েছে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • আ.লীগের সাংগঠনিক সফর শুরু ২৬ জানুয়ারী

    আ.লীগের সাংগঠনিক সফর শুরু ২৬ জানুয়ারী

    সংগঠনকে গতিশীল ও নির্বাচনমুখী করার প্রত্যয়ে ২৬ জানুয়ারি থেকে আওয়ামী লীগের ১৫টি টিম দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর শুরু করবে। দলের উপদেষ্টা ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা এসব টিমের নেতৃত্ব দেবেন। শুক্রবার দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরে যাবেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তারা অংশ নেবেন। গঠিত টিমগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সফরের দিনক্ষণ ও কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন। দেশব্যাপী এই সাংগঠনিক সফরকে সফল করার লক্ষে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    ১৫ টিমে যারা থাকবেন এবং যেখানে যাবে টিম- উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বাধীন অপর একটি টিম সফর করবে বরিশাল, বরিশাল মহানগর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম।

     

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে রংপুর, রংপুর মহানগর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায়। এ টিমের রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি.এম মোজাম্মেল হক, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্সী, কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রাজশাহী মহানগর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলায়। এই টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, প্রফেসর মেরিনা জাহান। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, নাটোর জেলায়। এই টিমে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মমতাজ উদ্দিন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শ্রী পীষুষ কান্তি ভট্টাচার্য্যর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে বাগেরহাট, খুলনা, খুলনা মহানগর, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এস, এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য এস. এম কামাল হোসেন, পারভীন জামান কল্পনা।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সফর করবে টাঙ্গাইল, শেরপুর, জামালপুর জেলায়। এ টিমে রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজবাহউদ্দিন সিরাজ, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা আজম, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ মহানগর, কিশোরগঞ্জ জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মো. মিজবাহউদ্দিন সিরাজ, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুছ ছাত্তার, নির্বাহী কমিটির সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং।

    দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে সিলেট, সিলেট মহানগর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. মেজবাউদ্দিন সিরাজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, অধ্যাপক রফিকুর রহমান, মো. গোলাম কবীর রাব্বানী চিনু।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মহানগর, কক্সবাজার জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (চট্টগ্রাম মহানগর), নির্বাহী কমিটির সদস্য দীপংকর তালুকদার, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

    সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে গঠিত অপর একটি টিম সফর করবে কুমিল্লা, কুমিল্লা মহানগর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, নির্বাহী কমিটির সদস্য র. আ. ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু।

    দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে গঠিত টিম সফর করবে ঢাকা, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, মানিকগঞ্জ জেলায়। এ টিমে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, মুকুল বোস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল মজিদ হুমায়ুন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আখতারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সিমিন হোসেন রিমি, অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার।