Blog

  • ‘বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’ চালু করতে চায় ভারত’

    ‘বাংলাদেশ সীমান্তে ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’ চালু করতে চায় ভারত’

    সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, নাশকতা রোধে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাঁচ রাজ্যে ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’ চালু করতে চলেছে ভারত সরকার।
    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাঁচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কলকাতায় এক বৈঠকের পর এই কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
    প্রধানত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ৪০৯৬ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত আরও সুরক্ষিত রাখতেই ফিজিক্যাল ও নন-ফিজিক্যাল বেরিয়ারের পাশাপাশি সীমান্তে এই ধরনের গ্রিড চালুর চিন্তাভাবনা নিয়েছে সরকার।
    রাজনাথ বলেন ‘বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৪০৯৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমানা। এর মধ্যে ৩০০৬ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। বাকী ১০৯০ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত। সেখানে টেকনোলজিক্যাল সলিউশন প্রয়োগ করা হবে। এই অঞ্চলটি দুর্গম হওয়ার কারণেই সেখানে ‘নন ফিজিক্যাল বেরিয়ার’ অর্থাৎ ডে-লাইট ক্যামেরা, সেন্সর, র‌্যাডার, লেসার’এর সহায়তার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। প্রথমে অাসামের ধুবড়ি সেক্টরে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান ‘সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে ফিজিক্যাল ও নন-ফিজিক্যাল বেরিয়ার ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের পুরোটাই ‘বর্ডার প্রোটেকশন গ্রিড’এর অধীনে নিয়ে আসা হবে। এই গ্রিডের অধীনে সীমান্তে নজরদারি চালু রাখতে সারভেলেন্স সিস্টেম, ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, রাজ্য পুলিশ, বিএসএফ, রাজ্য ও কেন্দ্রের কিছু নিরাপত্তা এজেন্সি থাকবে।

    প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি স্ট্যাডিং কমিটি এই গ্রিডের নজরদারিতে থাকবে’। এর ফলে সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘বাংলাদেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভাল। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেহেতু খুবই শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে পুরো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকার কারণে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। আমি মনে করি যে কোন ঘটনার মোকাবিলা করার জন্য তৈরি থাকা উচিত’।
    এদিনের আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। রাজনাথ জানান ‘সন্ত্রাসবাদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ সন্ত্রাসবাদীরা আমাদের প্রতিবেশি দেশ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে পারে। সেই কারণে আমাদের সবসময়ই সতর্ক থাকতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে আমরা অনেকটাই দমন করতে পেরেছি। কিন্তু কিছু সন্ত্রাসবাদী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে যদিও প্রতিবেশি এই দেশটির সহায়তায় ওই জঙ্গিদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে’।
    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে এদিন বিকাল তিনটায় শুরু হয় বৈঠক, তা চলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, অাসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থান হাওলা এবং মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তারা, ছিলেন বিএসএফ সহ নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির কর্মকর্তারাও।

  • নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল

    নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার, এটি কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে নাকে খত দিয়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নাকে খত দিয়ে নয়, সব দলকে নির্বাচনে আনতে সরকারকেই বাধ্য হতে হবে।

    কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি নাকে খত দিয়ে আগামী নির্বাচনে আসবে।’

    এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফখরুল এই মন্তব্য করেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘বরঞ্চ বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তাদেরকে বাধ্য হতে হবে সব রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনে আসে তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এটা শুধু বিএনপির কথা নয়, এটা সমগ্র দেশের জনগণের কথা।’

    প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই প্রশ্ন এসেছে যে এটা (নির্বাচন) সবচেয় বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সেটা নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করা- এই প্রশ্নটা জাতির সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

    তিনি বলেন, যে কথাটা আমরা বারবার বলেছি, আমরা সংঘাত চাই না, আমরা অস্থিতিশীলতা চাই না। আমরা এবারকার নির্বাচন যাতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জন্যে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়, গণতন্ত্রকে এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হয়, জনগণের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সেটাই আমরা চাচ্ছি, জনগণ সেটা চাচ্ছে।

    ‘যদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল নেত্রী হন, তাহলে অবশ্যই তাকে এদিকেই চিন্তা করতে হবে এবং জনগণের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষাটা বুঝতে হবে। সেভাবেই তাকে কাজ করতে হবে।’

    বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী- সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তার (প্রধানমন্ত্রী) দায়। আজকে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা যিনি সরকারের প্রধান তার দায়। নির্বাচন করবেন কি করবেন না, নির্বাচন হবে কি হবে না এটার দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।

    বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমা চাইতে হবে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে তিনি যেটা বলেছেন এটা জনগণের কাছে হাস্যকর মনে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালে বিনা নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে জনগণের ওপরে তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, করে চলেছে এবং সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ক্ষমা কাকে চাইতে হবে সেটা জনগণই বিচার করবে।’

    ‘সেজন্য দেশনেত্রী আগেই বলে দিয়েছেন যে, তার ওপরে, তার দলের ওপরে এবং দেশের মানুষের ওপরে যে নির্যাতন চলছে, তিনি তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন’ বলেন ফখরুল।

    জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, সরকার জিয়া পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করলেও তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’, প্রতিহিংসামূলক কিছুই তিনি করবেন না।

  • ঢাকাকে আন্ডারডগ ভাবছেন সুজন!

    ঢাকাকে আন্ডারডগ ভাবছেন সুজন!

    পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে কুমিল্লা; কিন্তু সর্বাধিক তারকার দল ঢাকা ডায়নামাইটস। এক ঝাঁক নামি-দামি ক্রিকেটারের ছড়াছড়ি। কুমারা সাঙ্গাকারা, এভিন লুইস, শহিদ আফ্রিদি, সুনিল নারিন, কাইরন পোলার্ড, কেভিন কুপার, মোহাম্মদ আমির ও জো ড্যানলি- কত নাম।

    মাঠের পারফরমেন্সে এখন পর্যন্ত কুমিল্লা সেরা; কিন্তু কাগজে-কলমে ঢাকা এখনো এক নম্বর দল। তবে তারকাভর্তি দল ঢাকা ডায়নামাইটস কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন কোয়ালিফায়ারের লড়াইয়ে কুমিল্লাকেই এগিয়ে রাখতে চান। খালেদ মাহমুদের চোখে, শুক্রবারের ম্যাচে ফেবারিট কুমিল্লা। আর ঢাকা হলো আন্ডারডগ।

    ঢাকা সন্দেহাতীতভাবেই সর্বাধিক তারকায় ঠাসা দল; এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে কোন দলের চেয়ে তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ অনেক বেশি সমৃদ্ব। কুমারা সাঙ্গাকারা, শহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির আর কেভিন কুপারের মত ক্রিকেটারও যে দলের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না। যাদের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মত টি টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সেই দলকে কোয়ালিফায়ার পর্বে আন্ডারডগ ভাবা হবে না কেন?

    এ নিয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন উঠছে। তার ব্যাখ্যাও অবশ্য দিয়েছেন ঢাকার কোচ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তাদের দু’বার হারিয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স করেছে। তাই ঢাকা ডায়নামাইটস কোচের মন্তব্য, ‘প্রথম কথা হচ্ছে কাল আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলব। কুমিল্লা আমাদের সাথে দুটি ম্যাচই জিতেছে। দারুণ খেলেছে তামিমের দল।’

    তবে কি ঢাকা ভাল খেলেনি? এ প্রশ্নের জবাবে খালেদ মাহমুদ সুজনের ব্যাখ্যা, ‘আমরাও ভাল খেলছি। তবে আমাদের ধারাবাহিকতার একটু অভাব ছিল। যদিও দুই ভেন্যুতে আমরা দুশো রানের উপরে করছি, আবার কিছু ম্যাচে দেড়শ রানের কমে থেমে গেছি। তো ওই জায়গায় একটু ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।’

    ঢাকা কোচের মূল্যায়ন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সঠিক সময় জ্বলে ওঠা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার কুমিল্লার সাথে ম্যাচে তার দলের ক্রিকেটাররা ওই সময় মত জ্বলে উঠবেন- এমনটাই আশা খালেদ মাহমুদের।

    Dhaka-comilla

    তাই তো মুখে এমন কথা, ‘এই ফরম্যাটে যেটা হয় যে, রাইট টাইমে মোমেন্টাম পিক করা। আমার মনে হয় সেই হিসাবে আমরা কালকে একটা দারুণ ম্যাচ (রংপুরের বিপক্ষে) জিতছি অল্প রান করেও। আমাদের বোলিং অসাধারণ ছিল, সাকিব ক্যাপ্টেনের ভূমিকা দারুণভাবে পালন করেছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের লোকাল স্টার যারা আছে তারাও ভাল টাইমে পিক করছে।’

    কোয়ালিফয়ার ম্যাচে খুব গুরুত্বপূর্ণ গেম অভিহিত করে ঢাকা কোচ বলেন, ‘খুব টাইট গেম হবে। মনে হয় দারুণ লড়াই হবে।’

    প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ফেবারিট মানলেও তাদের নিয়ে বেশি ভাবতে নারাজ ঢাকার কোচ। তার চিন্তা-ভাবনার বড় অংশ জুড়ে আছে নিজ দল। তার মূল্যায়ন, ‘প্রতিদ্ব›িদ্ব হচ্ছে প্রতিপক্ষ। যাকে আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। কেবল নিজেদেরটাই করতে পারবেন। যখন টপ অর্ডার পারফর্ম করে তখন বেশি কিছু লাগে না। মূল কথা হচ্ছে আমাদের টপ অর্ডার কেমন করছে সেটা। আমাদের টপ অর্ডারে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। যেমন লুইস, নারিন। এরা প্রমাণ করেছে তারা বড় ইনিংস খেলতে পারে। জো ড্যানলি শেষ ম্যাচ ছাড়া ভাল করেছে। টপ অর্ডারে রান পেলে আমার মনে হয় আমরা বড় স্কোর ছুঁড়ে দিতে পারব।’

    যেহেতু দুপুরে খেলা। তাই টসের তেমন কোন কার্যকর প্রভাব পড়বে না। খালেদ মাহমুৃদ সুজনেরও মনে হয় না টসের তেমন কোন গুরুত্ব আছে। তার কথা হলো, গেম প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রতিপক্ষকে, কতটা রিড করতে পারছেন সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগে কিংবা পরে ব্যাটিং নয়, মোমেন্টামটা গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা ভাল না হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়তে হয়। এ কারণে এখানে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। গতকালকের শুরুটা আমাদের ভাল ছিল না; কিন্তু পরের দিকে সাকিব ও মারুফ ভাল জুটি করেছে- এটা একটা ভাল উদাহরণ। তাতে অন্তত একটা পুঁজি দিতে পেরেছিলাম যাতে লড়াই করা যায়। আমাদের বোলিং শক্তিশালী ছিল। তারা তাদের ভূমিকা পালন করছে বলে ইজি ছিল। শুরটা খুব দরকারি, প্রথম ছয় ওভার খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

    ঢাকা কোচের শেষ বক্তব্য, ‘আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্ট জেতার যথেষ্ঠ সামর্থ আছে আমাদের।’ তাহলে সেই সামর্থ্যরে যথাযথ প্রয়োগ ঘটছে না কেন?

    এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে জানান, দলে উঁচু মানের বিদেশি ক্রিকেটার বেশি থাকাটা প্লাস পয়েন্টের পাশাপাশি ‘মধুর সমস্যা’ হয়েও দেখা দিয়েছে। কাকে রেখে কাকে খেলাবেন? চিন্তায় পড়ে গেছেন তিনি। তারচেয়ে বড় কথা, সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তারপরও বিদেশিদের কাছ থেকে দায়িত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের আশায় ঢাকা কোচ, ‘আমি চাই যে আমার বিদেশি খেলোয়াড়রা এমন দায়িত্ব নিয়ে খেলুক। আমি বলছি না যে আলাদা বাড়তি দায়িত্ব। আমি চাই তারা খেলা উপভোগ করুক। মাঠে রেজাল্ট কি হয় না হয় সেটা পরের ব্যাপার; কিন্তু উপভোগ করুক এটা চাই। লুইসের স্টাইল বদলাতে বলব না, পোলার্ডের স্টাইলও বদলাতে বলব না। চাইব তারা তাদের মতই খেলুক। দেখি কি হয়!’

  • উইকেট ভালো হলেই জমবে ফাইনালে ওঠার লড়াই

    উইকেট ভালো হলেই জমবে ফাইনালে ওঠার লড়াই

    সেরা চার দলের লড়াই; কিন্তু সেমিফাইনাল নয়। শুধু ক্রিকেটে নয়, যে কোন খেলায় সেমির যুদ্ধ মানেই কারো মতে নক আউট, নিশ্চিত বিদায়। আবার কারো মতে ‘সাডেন ডেথ’ বা নিশ্চিত মৃত্যু।

    কিন্তু বিপিএলে তেমনটা হবে না। আগামীকাল শুক্রবার শেরে বাংলায় যে চার দলের লড়াই হবে, সেটাকে তাই সেমিফাইনাল বলা হচ্ছে না। বলার সুযোগও নেই। সাধারনতঃ সেমিফাইনালের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে চলে যায়। আর পরাজিত দল ছিটকে পড়ে।

    কিন্তু বিপিএলে তা হবে না। এখানে সেরা চার দলের মধ্যে হবে তিনটি ম্যাচ। মানে একটি ম্যাচ বেশি হবে। তাই নামকরণ পাল্টে সেমিফাইনালের বদলে রাখা হয়েছে ‘কোয়ালিফায়ার’ ও ‘ইলিমিনেটর’। এর কোনটাই অঘোষিত সেমিফাইনাল নয়।

    তবে এর মধ্যে কোয়ালিফায়ার-১ ‘এ’ যারা খেলবে তাদের জন্য থাকছে ডাবল সুযোগ। জয়ী দল সোজা চলে যাবে ফাইনালে। আর পরাজিত দলের বিপিএল শেষ হয়ে যাবে না। তারা আরও একটি সুযোগ পাবে। সেই দল ১০ ডিসেম্বর খেলবে কাল ইলিমিনেটরে বিজয়ী দলের সাথে।

    শুক্রবার দুপুরে ইলিমিনেটর রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থান পাওয়া খুলনা টাইটান্স এবং চার নম্বর দল হিসেবে সেরা চারে জায়গা করে নেয়া রংপুর রাইডার্স। এই খেলার বিজয়ী দল টিকে থাকবে। যদিও কোয়ালিফায়ার-১ বিজয়ীর মত সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত হবে না দলটির। তাদের খেলতে হবে কোয়ালিফায়ার-২। কোয়ালিফায়ার-১ এ পরাজিত দলের বিপক্ষে। আর ইলিমিনেটরে পরাজিত দল বিদায় নেবে।

    কাজেই আগামীকাল কোয়ালিফায়ার পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দুই বন্ধু সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল। সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস আর তামিমের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর ইলিমিনেটর পর্বের প্রথম ম্যাচে লড়বে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্স ও মাশরাফি বিন মর্তুজার রংপুর রাইডার্স। সাত দলের আসরে চিটাগং ভাইকিংস, রাজশাহী কিংস এবং সিলেট সিক্সার্স আগেই বিদায় নিয়েছে। এবার ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে চার দলের লড়াই।

    অনেক আসর বা টুর্নামেন্টেই কাগজে-কলমের হিসেবের সাথে মাঠের হিসাব-নিকাশ মেলে না। তবে এবারের বিপিএলে কাগজে কলমের সাথে মাঠের চালচিত্রর অনেকটাই মিলে গেছে। মাঠের লড়াই শেষে সেরা চার দলই সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে।

    সবচেয়ে বড় কথা দেশের চার সেরা ও শীর্ষ তারকা মাশরাফি, তামিম, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর দলই শেষ চারে। এছাড়া দেশের যে দুই সময়ের সেরা কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের দলও সেরা চারে। আর যে দুই বিদেশি প্রশিক্ষক মাহেলা জয়বর্ধনে আর টম মুডি- তাদের দলও সেরা চারে।

    বলার অপেক্ষা রাখে না, কোচ সালাউদ্দীনের প্রশিক্ষণে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে ভাল খেলেছে। এবং সর্বাধিক ৯ ম্যাচেও জয়ী হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিদেশি ক্রিকেটার দলে থাকা যেমন প্লাস পয়েন্ট, আবার বেশি বিদেশি তারকা দলে থাকার অসুবিধাটাও ভোগ করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। তারপরও খালেদ মাহমুদ সুজনের প্রশিক্ষণে সাকিব আল হাসানেনর দল ঢাকা ডায়নামাইটস বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে।

    টি-টোয়েন্টির দুই বিশ্ব সেরা ব্যাটিং পারফরমার ক্রিস গেইল এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দল রংপুর তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নৈপুন্য পায়নি; কিন্তু মধ্য তিরিশে পা রাখা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার গতিশীল ও উজ্জিবীত নেতৃত্বে রংপুর উঠল সেরা চারে।

    অন্যদিকে তেমন নামী ও দামি বিদেশি তারকা দলে না থাকলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তরুণ আরিফুলের ব্যাটিং এবং পেসার শফিউলের কার্যকর নৈপুন্যে খুলনাও ফাইনালের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে।

    চার দলের শক্তির ফারাক খুব বেশি নয়। ঢাকা-কুমিল্লা আর খুলনা-রংপুর কাছাকাছি শক্তির দল। কাজেই সবার ধারণা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে কোয়ালিফায়ার আর ইলিমিনেটর রাউন্ডে; কিন্তু তারপরও উইকেটের কারণে মাঠে যত ভাল ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট হবার কথা ছিল তা কিন্তু হচ্ছে না

    এখন শেষ পর্বে খেলা জমবে কি না, বিগ স্কোরিং গেম হবে কি না- সেটা একটা বড় প্রশ্ন। এসই নির্ভর করছে উইকেটের ওপর। উইকেট নিয়ে নানা কথা। রাজ্যের সমালোচনা। বাংলাদেশের মাশরাফি-তামিম থেকে শুরু করে বিদেশি তারকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও সুনিল নারিনও উইকেটের সমালোচনা করেছেন। উইকেট সত্যি ভাল নয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট উপযোগি নয়। সবাই বলছেন- শেরে বাংলায় যে সব পিচে বিপিএল হচ্ছে সেগুলো ঠিক টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ নয়।

    উইকেটের গতি ও বাউন্স ঠিক নয়। বল কখনো থেমে আসে। আবার কোন সময় ঠিক গতিতে ব্যাটে যাচ্ছে। তার চেয়েও বড় কথা, বেশিরভাগ সময় বল নিচে থাকছে। আবার কিছু কিছু ডেলিভারি লাফিয়ে উঠছে। এমনকি স্পিন ও স্লো মিডিয়াম পেসারদের বলও ব্যাটসম্যানের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেছে। যে কারণে ব্যাটসম্যানদের স্বচ্ছন্দে খেলা কঠিন হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা হাত খুলতে খেলতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়ছেন।

    হয় প্রত্যাশার চেয়ে দেরিতে বল এসে মিসটাইমড হচ্ছে। না হয় স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু কিংবা লাফিয়ে উঠে বিপদেও কারণ ঘটাচ্ছে। সে কারণেই ফ্রি স্ট্রোক প্লে বা চার ও ছক্কার ফুলঝুরিও ছিল তুলনামুলক কম। দর্শক বিনোদনের খোরাক গেছে কমে। বিগ স্কোরিং গেমও হচ্ছে না। দর্শক, সমর্থক ও ভক্ত সবার প্রত্যাশা- কোয়ালিফায়ার, ইলিমিনেটর ও ফাইনালে শেরে বাংলার উইকেটের চেহারা ও চরিত্র পাল্টাবে। না হয় মূল আয়োজনটাই ফিকে হয়ে যাবে।

  • অ্যাটর্নি জেনারেলকে হত্যার হুমকি

    অ্যাটর্নি জেনারেলকে হত্যার হুমকি

    রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে মেরে ফেলার হুমকিতে উড়ো চিঠি পাঠিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল এর নিজ কাযার্লয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজে  নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, হত্যার হুমকি পেয়ে শাহবাগ থানায় জানানো হয়েছে।

    এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

    gg

    শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) দেবরাজ চক্রবর্তী  জানান, এখনো জিডি এন্ট্রি করা হয়নি। তবে অ্যার্টনি জেনারেলের কার্যালয়ের লোকজন থানায় রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার মেয়ে শিশির কণাকে হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা।

  • প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি : সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন

    প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি : সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজহারভুক্ত ১১ আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিটি) ইউনিট।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিসিটির পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল আলম। আগামী ১১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করার দিন ধার্য রয়েছে।

    যাদের অব্যাহতির প্রদানের আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান।

    ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এর আগে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলীও।

    পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়েল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

    মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।

  • জেরুজালেমকে রাজধানী স্বীকৃতির প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ

    জেরুজালেমকে রাজধানী স্বীকৃতির প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ

    মুসলমানদের পবিত্র শহর আল কুদসকে (জেরুজালেম) ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, পবিত্র মসজিদুল আকসাকে ঘিরে গড়ে ওঠা জেরুজালেম নগরীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসেডিন্ট অন্যায়ভাবে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছে। তার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ব মুসলিম নেতারা ও জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    তারা বলেন, জেরুজালেম শুধু ফিলিস্তিনি মুসলমানদের নয়, গোটা মুসলিম উম্মাহর। ইসলামের প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের এ ভূমি মুসলমানদের রক্তের চাইতেও পবিত্র। এটা কখনও কোনো ইহুদি গোষ্ঠীর হতে পারে না।

    হেফাজত নেতৃদ্বয় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট একজন মস্তিষ্কবিকৃত লোক। তার একের পর এক নানা বিতর্কিত ও আগ্রাসনমূলক সিদ্ধান্তে বিশ্বশান্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    তারা বলেন, বিশ্ববাসীর কর্তব্য হলো শান্তি নিরাপত্তার স্বার্থে এ উগ্রবাদী প্রেসিডেন্টের লাগাম টেনে ধরতে সোচ্চার প্রতিবাদে শামিল হওয়া। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কূট রাজনীতি ও আগ্রাসী সমরনীতির কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে চরম অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরজ করছে।

    হেফাজত নেতৃদ্বয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক অধিকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হওয়ার জন্য হেফাজত নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতিকে দেখতে যান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ (এমপি )

    বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতিকে দেখতে যান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ (এমপি )

    বরিশাল- বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি এ্যডঃ ইমদাদুল হক খাঁন বেশ কিছু দিন যাবত  শারীরিক ভাবে অসুস্থ।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় শারীরিক অসুস্থতার কথা শুনে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ (এমপি) ছুটে যান ইমদাদুল হক খাঁনের রহমতপুরের বাড়িতে।

    আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দেখে আবেগে আপ্লুত ইমদাদুল হক খাঁনের চোখের পানি ঝরে পরে। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ মহান আল্লাহ্‌তালার কাছে তার শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রর্থনা করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিফাত জাহান তাপসী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মতিন রারি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম পিন্টু, ত্রান বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, রহমতপুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি জলিল হাওলাদার, উপজেলা যুবলীগ সদস্য আজাদ হোসেন মিন্টু , উপজেলা ছাত্রলীগ সদস্য  কাওসার মাহমুদ মুন্নাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • বরিশাল নগরীতে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবীতে মানববন্ধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    বরিশাল নগরীতে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবীতে মানববন্ধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    শিশুর হাসিতে উজ্জল দিন চাই, শিশুর শারীরিক মানসিক বিকাশে সহায়ক কর্মসূচির দাবী জানিয়ে বরিশাল নগরীর কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সচেতন বরিশাল বাসী। আজ সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়।

    বরিশাল জেলা মানবাধিকার জোট সভাপতি ডাঃ সৈয়দ হাবীবুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরিশাল সচেতন নাগরীক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ সভাপতি এ্যাড.এস এম ইকবাল, সাধারন সম্পাদক মিন্টু কুমার কর,উন্নয়ন সংগঠন সেন্ট বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গির কবীর, শিক্ষক নেতা দাশ গুপ্ত আশিষ কুমার, শুভংকর চক্রবর্তী,সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিপলুু,বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাংবাদিক শুশান্ত ঘোষ,সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি কাজল ঘোস,সচেতন নাগরীক কমিটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফিরোজ উদ্দিন,উন্নয়ন সংগঠন কর্মী সিরাজুল ইসলাম।

    বক্তরা বলেন অবিলম্বে এই নগরীতে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য ব্যাবসা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

  • কবি ও কথা সাহিত্যিক শফিক আমিন এর ধারাবাহিক উপন্যাস

    “ভাঙ্গন” (পর্ব -১)

    এক রাইতে দুইটা গ্রামের এক ফোটা মাটিও অবশিষ্ট রাহে নাই রাক্ষুসী মেঘনা । মেবুলার ঠিক মনে আছে, আষাঢ় মাসের চৌদ্দ শেষে পনের শুরুর রাইতে মুশলধারে বৃষ্টি । তখনও তাদের বাড়ি থেইকা নদী অনেক দূরের পথ । চৈত্র মাসে নদীত গোসল কইরা বাড়ি আইতে আইতে পরনে ভিজা কাপড় শুকাইয়া যাইত । হেই নদীডা কুমিরের লাহান অমন হা কইরা বইসা ছিল কে জানতো? রইস মেগবান গোসলের আগে নদীত জাল ঝাপাইয়া মাছ নিয়া বাড়িত আইত ।

    আগের দিনের তো কতাই নাই, সে সময় জাল নিয়া নদীত দু’তিনটা ঝাপ দিলেই বড় বড় বাইলা আর চিংড়ি মাছে খারই প্রায় উতরাইয়া যাইত । এহনকার দিনে অবশ্য সেইরাম মাছ নাই । আর থাকলেই বা কি হইবো মাছ ধরবার মানুষ কৈ ? গেদার বাহে তো হেই রাইতেই আইজ্জা গেছে ! তুফানে যহন গোয়াল ঘরডা লইয়া যাওন বাযাইছে তহন গেদার বাহে কাঁচি লইয়া বাইর অইছে গরুর গলাত তোন দড়ি কাইট্টা দিবার নাম কইরা, আর ফেরে নাই । হেই গোয়াল ঘর আছিল থাহোনের ঘর থেইকা একটু দূরে । গেদার বাহে দড়ি কাটতে পারছিল কিনা জানিনা, তয় হেই রাইতে নদী ভাঙ্গনের লগে পাল্লা দিয়া গেদারে লইয়া আমি যহন দৌড়াইতে ছিলম তহন দেখছি হালের বলদ দুইডা আমার আগে আগে দৌড়াইতে আছিল ।

    গলাপানি গ্রামে গিয়া যহন পৌঁছাইছি তহন রাইত প্রায় শ্যাষ অইয়া গেছিল । আমার পিছনে ফালাইয়া আছি মাইদাল গ্রাম । হেই গ্রামেই আমাগোর বাড়ি আছিল । তহন পিছন ফিরা দেহি তামাম গ্রামের কোতাও কোনও চিহ্ন নাই, খালি পানির মাতং । মনে হইতে ছিল পানিরা মাটি লুটের উৎসব করতেছে । কি ছোড গাছ আর কি বড় গাছ, কোনডা বারি, কোনডা ভিডা আর কোনডা ভূঁই হেইয়া দেহনের সময় নাই, খালি ঝাপ্পাত, ছপ্পাত আর ভজভজ কইরা শব্দ অইয়াই পানির লগে মিয়াইয়া যাইত । গেদার বাপেরে আমি কোনও সময় নাম ধইরা ডাহি নাই, হেদিন ডাকছি । কিন্তু কোনও রাও করে নাই ! সকাল অইছে কবিরাজ সুখলাল বাড়ৈর ঘরের ছাইছে খারাইয়া । গেদাডারে কোনও মতে ঘরের পিড়ার উপরে শোয়াইয়া রাখছি ।

    পোলাডার হে কি ঘুম ! শিতে যেনও তারে দেহে নাই, আমার যে কি অইছিল মনে নাই । কোনও শিত বা গরম কিছুই জ্ঞান করি নাই । আমার পিছনে হালের বলদ দুইডা । কবিরাজের খ্যাড়ের কিনারে খারাইয়া রইছে, খ্যাড় খায়না । বলদ দুইডার লগে দুইডা দুধের গরুও আছিল । দুইডা গাইয়ের লগে আবার দুইডা বাছুর, দেহার মতন রঙ আছিল বাছুর দুইডার । একটা লাল আর একটা সাদা । সাদাডা পুরুষ আর লালডা মাইয়া বাছুর আছিল । হেগো রঙ দেখলেই কওন যাইত কোনডা বেডা আর কোনডা মাতারি । (চলবে)