বরিশালে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষকের যৌন নির্যাতন

অনলাইন ডেস্ক:

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের মামলায় ধামসর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তাল হোসেন হাওলাদারকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে উজিরপুর থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। এ সময় আদালত মুক্তাল হোসেন হাওলাদারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগার পাঠান। এর আগে সকালে উপজেলা চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, ২ মে স্কুল চলাকালীন প্রধান শিক্ষক মুক্তাল হোসেন চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শনিবার থানায় মামলা করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক মুক্তাল হোসেন হাওলাদার চতুর্থ শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞান ক্লাস নেয়ার সময় ওই ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেন। ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে স্কুল থেকে ছাত্রীর নাম কেটে দেয়ার হুমকি দেন প্রধান শিক্ষক মুক্তাল হোসেন। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রী ভয়ে চুপ থাকে। ৯ মে ওই ছাত্রীর মন খারাপ দেখে স্বজনরা কারণ জিজ্ঞেস করেন। একপর্যায়ে স্বজনদের কাছে যৌন নির্যাতনের কথা বলে দেয় ছাত্রী।

শিক্ষার্থীর বাাবা বিষয়টি জানতে পেরে ওই দিনই (৯ মে) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মে উভয়পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত করে জবানবন্দি নেয়া হয়। ওই দিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাজী ইসরাত জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা আক্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিভাবককে আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তাল হোসেন হাওলাদারের স্বজনরা পুরো বিষয়টিকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করে বলেছেন, স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। এর আগেও প্রধান শিক্ষক মুক্তাল হোসেন হাওলাদারকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যৌন নিপীড়নের মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *