হামিদ-মোদী বৈঠক: রোহিঙ্গা সংকটের সুষ্ঠু সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ প্রতিশ্রতি দেন বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন জানান। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৩০ মে বৃহস্পতিবার দিল্লি যান রাষ্ট্রপতি হামিদ। গতকাল শুক্রবার দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমককে আলোচনার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ নিলে তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। আগামী বছর ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার তরফ থেকেও নরেন্দ্র মোদীকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। সেই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। প্রেস সচিব বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও এদিন আলোচনায় আসে। ভারতে কংগ্রেস আমল থেকে আটকে থাকা ওই চুক্তির জট ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরও খুলতে পারেননি মোদী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে বিষয়টি ঝুলে আছে।

প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির সমাধানের বিষয়ে গভীরভাবে আগ্রহী, সে কথা রাষ্ট্রপতি বৈঠকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তা বাংলাদেশের জনগণের লাইফ লাইন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই সমস্যার সমাধান হবে। প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, তিস্তাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিৎ বলে ভারত মনে করে। সেজন্য যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।”

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশর একার নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নিরাপত্তা হুমকি। এ সমস্যার সাধাধানে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে ভারত এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারতও মনে করে এটা বাংলাদেশের একার সমস্যা না। একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ভারত সব সময় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

আব্দুল হামিদ ও নরেন্দ্র মোদী উভয়েই দুই দেশের বাণিজ্য বিনোয়োগ সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জয়নাল আবেদিন জানান।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *