Author: banglarmukh official

  • শোকের মিছিলে কারবালা স্মরণ

    শোকের মিছিলে কারবালা স্মরণ

    মুসলিম বিশ্বের কাছে মহররম মানেই বেদনা, মহররম মানেই কান্না। আরবি বর্ষপঞ্জি হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। হিজরি ৬১ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখে কারবালার প্রান্তরে বিয়োগান্তক এক ঘটনার অবতারণা হয়। এদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

    এ দিনটিকে স্মরণ করেই সারা বিশ্বের শিয়া মতাবলম্বী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করে থাকেন। এ মিছিল থেকে মূলত কারবালার ঘটনার শোকাবহ দৃশ্যায়ন করা হয়। মিছিলে বুক চাপড়ে, মাতম করে শোক প্রকাশ করেন শিয়া ধর্মাবলম্বীরা।

     শহীদ হোসেইন স্মরণে আয়োজিত মিছিলে থাকে ক্রন্দন। মুখে থাকে শোকের গান- ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকে বাদ’, ‘কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে’, ‘শির দেগা নেহি দেগা আমামা।’ শহীদের প্রতি সালাম জানিয়ে পড়া হয়, ইয়া শহীদ সালাম আলাইকা, ইয়া মশহুদ সালাম আলাইকা।

    শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসনি দালান থেকে বের হয় তাজিয়া মিছিল। একই সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হয়।

    তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয়া শিয়া ধর্মাবলম্বী মুসল্লিরা বলছেন, কারবালার প্রান্তরে ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরতে গিয়ে মহানবীর দৌহিত্র হযরত হোসাইন (রা.) জীবন দিয়েছেন। সেদিন তিনি শহীদ হলেও বিপদগামীদের কাছে মাথা নত করেননি। এটাই ইসলামের শিক্ষা। সেই কারবালার ইতিহাস ভুলে না গিয়ে মুসলমানদের উচিৎ শিক্ষা নেয়া।

    karbala-(2)

    হোসনি দালান থেকে বের হওয়া মিছিলে দেখা যায় কারবালার ঘটনার শোকাবহ দৃশ্যায়ন। মিছিলে বুক চাপড়ে, মাতম করে শোক প্রকাশ করেন শিয়া ধর্মাবলম্বী যুবকেরা। ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ স্লোগানে মাতম করতে দেখা যায় যুবকদের।

    নিজের বুকে সজোরে চাপড়াতে চাপড়াতে, মুখে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম তুলে পুরান ঢাকার সরু গলিটি ধরে বেরিয়ে আসেন হাজারো মুসল্লি। মিছিলে থাকা তরুণ-তরুণী সবারই খালি পা। পরণে কালো পোশাক। অনেকের হাতে বিশাল দণ্ড, মাথায় শোকের কালো পতাকা।

    গলির দু’ধারে দাঁড়িয়ে মিছিল এগিয়ে যাওয়া দেখতে বোরকা পরিহিত নারীদের ভিড়ও ছিল লক্ষ্যনীয়।

    মিছিলের পেছনে ‘দুলদুল’ নামে সুসজ্জিত ঘোড়াটিকে টেনে নিয়ে আসা হয় সামনে। মিছিলে ব্যবহৃত একটি ঘোড়াকে প্রতিকী রক্তে রাঙানো হয়েছে। অনেক যুবককে আবেগতাড়িত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘোড়ার পদচুম্বন করতেও দেখা যায়। কেউ আতর কেউ বা সুগন্ধি গোলাপ জল ছিটিয়ে শোকের আবহকে আরও বাড়িয়ে তোলেন। মিছিলে তাজিয়া এবারও তৈরি করা হয়েছে ইমাম হোসেইন (রা.)-এর সমাধির আদলে।

    মিছিল থেকে বেজে ওঠে গান, ‘ফোরাত নদীর বুকে জেগেছিল কত ঢেউ, তবু একফোঁটা পিপাসার জল মুখে তুলে দেয়নি কেউ। হায় হোসেইন! হায় হোসেইন! তুমি কেঁদেছিলে পিপাসায়।’

    তাজিয়া মিছিলের মূল দায়িত্ব পালন করে আসছে হোসেইনি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও মিছিলের সমন্বয়ক সাইয়েদ গোলাম মহসিন জাগো নিউজকে বলেন, কারবার শোককে শক্তিতে রুপ দিতেই আমরা প্রতি বছর এ দিনে মিছিল করে থাকি। কেউ যাতে ভুলে না যাই ইমাম হোসেইন নিজের জীবন দিয়ে ইসলামের পতাকা রক্ষা করে গেছেন।

    সাজিদুল ইসলাম নামে মিছিলে অংশগ্রহণকারী বলেন, ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১০ অক্টোবর কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং ইয়াজিদের ২২ হাজার সুসজ্জিত সৈন্যবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ইয়াজিদের সেনারা ইমামের বাহিনীকে ফোরাতের পানি থেকে বঞ্চিত করেছিল।

    পিপাসার্ত ইমাম হোসেইন (রা.)-এর পুত্র হযরত আজগর শত্রুর নিক্ষিপ্ত তীরে আঘাতপ্রাপ্ত হন। ইমাম হোসেইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, আত্মত্যাগের এক অপূর্ব মূর্ত প্রতীক উঠেছিলেন। চোখের সামনে ক্ষুধার্ত-পিপাসায় কাতর আপন পরিজনের মৃত্যু ম্লান মুখমণ্ডলি তাকে সংকল্পচ্যুত করতে পারেনি। এসব আমাদের সহিষ্ণুতা শিক্ষা দেয়।

    karbala-(3)

    নারী, পুরুষের পাশাপাশি শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে তাজিয়া মিছিল শেষ হয় পৌনে ১টার দিকে। রাজধানীর ঝিগাতলা সংলগ্ন লেকের পাশে এসে শেষ হয় তাজিয়া মিছিল। লেকের পাশে এসে নফল নামাজ আদায় ও দোয়া পাঠ করেন মিছিলে অংশগ্রহণকারী অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

    হোসনি দালানের সুপারিনটেনডেন্ট এম এম ফিরোজ হোসাইন জাগোনিউজকে বলেন, তাজিয়া মিছিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আশুরার পবিত্রতা রক্ষা, উদযাপনে শৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ সহযোগীতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর আশুরা উপলক্ষে হোসনি দালানের শোক মিছিলে গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় একজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে আশুরার তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় রাখতে চায়নি পুলিশ। আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে ডিএমপির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

    মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের আর্চওয়ে দিয়ে প্রবেশ করতে হয়েছে। এ ছাড়া মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশী করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়।

  • প্রভার পাগলামিতে জোভান

    প্রভার পাগলামিতে জোভান

    আসলাম ও ইরা নব দম্পতি। বিয়ের প্রথম দিনেই ইরার সাথে খারাপ ব্যবহার করে আসলাম। কারণ, আসলামের বাবা আসলামকে জোর করে ইরার সাথে বিয়ে দিয়েছেন। ইরা ওই দিন ইসলামকে কিছুই বলে না। পরেরদিন সকালে ইরা আসলামের বিছানায় পানি দিয়ে তার ঘুম ভাঙায়। আসলাম ইরাকে কিছু বলতে গেলে ইরা তার শ্বশুরের ভয় দেখায় আসলামকে। সে একেক সময় একেকটা বুদ্ধি প্রয়োগ করে। এভাবে চলে কয়েকদিন। আস্তে আস্তে ইরার প্রতি ভালোবাসা বাড়ে আসলামের। এগিয়ে চলে ইরার পাগলামীর গল্প।

    নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মুসাফির রনি। নাটকটিতে ইরার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সাদিয়া জাহান প্রভা আর আসলামের ভূমিকায় ফারহান আহমেদ জোভান।

    এছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন আহসানুল হক মিনু, তুলিয়া ইয়াসমিন পাপিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন বাবর, মাসুদ আহমেদ, জি এম মহসিন, নাজিম হামিদ প্রমুখ।আরটিভিতে এটি প্রচারিত হবে ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।

  • বরিশালে ডিবি’র হাতে হেরোইন ব্যবসায়ী আটক

    শামীম ইসলাম:

    বরিশাল নগরীর ২৯নং ওয়ার্ড দক্ষিন বাঘিয়া লুৎফর রহমান সড়ক এলাকার জনৈক মিঠুর বাসার ভাড়াটিয়া মোঃ কাজিমুদ্দিন মালিথা ওরফে বাদশা মালিথা (৪৫) কে ২১ (একুশ) পুরিয়া হেরোইন সহ আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

    এসআই মোঃ ইউনুস আলী ফরাজী ও তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স অভিযান চালিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর তাদেরকে আটক করে।

    আটক হেরোইন ব্যবসায়ী বাদশা কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার ৩নং ওয়ার্ডের মীরের পাড়া এলাকার মোঃ আজুবর -আজবর মালিথা এর পুত্র।
    পরে এ সংক্রান্তে এয়ারপোর্ট থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু হয়।

  • আমার স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ওসি

    আমার স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ওসি

    দীর্ঘ ৯ মাস ধরে আমার স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করছেন গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের ওসি একেএম এনামুল কবীর। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমাকে নির্যাতন করা হয়। ওসির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ইয়াছিন শেখ (৩৫) নামের এক যুবক।

    ইয়াছিন শেখ বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের ওসি একেএম এনামুল কবীর আমার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেম করে আসছেন। সবশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কাজে আমি ঢাকায় যাই। ঢাকা থেকে ওইদিন গভীর রাতে ফিরে আসি। ঘরে ঢুকে দেখি ওসি এনামুল কবীর আমার স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত। এ সময় আমি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে ওসি ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলে। সেই সঙ্গে পাগল আখ্যা দিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায় ওসি।

    ইয়াছিন আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে ওসি আমাকে হয়রানি করে চলছেন। আমাকে মাদক মামলার আসামি করার হুমকিও দিয়েছেন। ইতোমধ্যে আমাকে বাগেরহাট থানার একটি মাদক ও ব্যাংক চেক প্রতারণার মামলার আসামি করা হয়েছে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে ওসির পরকীয়া নিয়ে আমি গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। গোপালগঞ্জের এএসপি (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি তদন্ত করছেন। আমার সংসারের সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করছি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের ওসি একেএম এনামুল কবীর পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ইয়াছিন ও তার স্ত্রীকে চিনি না। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াছিনকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে এমন কাজ করাচ্ছে। আমি তাকে কখনো মামলা দেয়ার হুমকি দিইনি। আমার জানামতে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবে চাকরি দেয়ার কথা বলে ইয়াছিন বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে বলে শুনেছি।

    এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জের এএসপি (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, এ নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ইয়াছিন। পুলিশ সুপার আমাকে ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ইয়াছিন তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও গাজীপুরের এক হুজুরের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করছি আমি।

  • প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী চিত্রনায়ক ফেরদৌস-রিয়াজ, উচ্ছ্বসিত তারা

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী চিত্রনায়ক ফেরদৌস-রিয়াজ, উচ্ছ্বসিত তারা

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী হয়ে আমেরিকায় যাচ্ছেন ফেরদৌস ও রিয়াজ। অনুষ্ঠান শেষে করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন তারা।

    প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত চিত্রনায়ক ফেরদৌস বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আগামী সফরে আমাকে আর রিয়াজকে তাঁর সফর সঙ্গী করেছেন। এটা আমাদের জন্য বিরাট একটি পাওয়া। আমার মনে হয়, এই বিষয়টি শুধু আমাদের দুজনের জন্য না, পুরো চলচ্চিত্র পরিবারের জন্য বিরাট পাওয়া। এই প্রথম সম্ভবত চলচ্চিত্রের কেউ প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হতে যাচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হওয়াকে বড় প্রাপ্তি উল্লেখ করে ফেরদৌস বলেন, আমেরিকায় ইউনাইটেড নেশনের একটি অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হওয়া বিরাট প্রাপ্তির। আশা করছি অনেক কিছু শিখতে পারবো। আর এই সফরকে শিল্পী সংস্কৃতির মানুষের জন্য বিরাট একটি রিকগনেশান। প্রধানমন্ত্রী যে শিল্প সংস্কৃতির মানুষদের ভালোবাসেন এটা তার প্রমাণ। আমরা প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করবো। আর ফিরে এসে বাকিটা বলতে পারবো।

    তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রিয়াজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হওয়া আমার জন্য একটা অসাধারণ পাওয়া। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে চলচ্চিত্র বান্ধব একটি সরকারের প্রধান সেটি আবারও প্রমাণ হলো এবং তিনি শিল্পীদের যে মর্যাদা দিলেন এটা অভিভূত হওয়ার মতো। এরজন্য চলচ্চিত্র পরিবারের পক্ষ থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞ আমরা।

  • যানজট নিরসনে পরিকল্পনা হলেও বাস্তবায়ন নেই

    যানজট নিরসনে পরিকল্পনা হলেও বাস্তবায়ন নেই

    রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য, যানজটমুক্ত ও পরিবহনখাতকে সুশৃঙ্খল করার মেগা পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না।

    এর কারণ সরকারের কৌশল ও পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক বরাদ্দ না থাকা, বিভিন্ন সংস্থা, কর্তৃপক্ষ ও থার্ড পার্টির স্বার্থ। তবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্বল্পমেয়াদেই বাস্তবায়নের নজির রয়েছে খোদ রাজধানীর গুলশান ও হাতিরঝিলে। এখান থেকেই সরকার, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) শিক্ষা নিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনরা।

     বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে স্বল্প মেয়াদী কর্ম পরিকল্পনা-প্রেক্ষিত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা’ এবং ‘ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বহুমাধ্যম ভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব’ শীর্ষক অংশীজন সভায় এসব কথা বলেন আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ বিশিষ্টজনরা।

    ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার রাকিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন।

    প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে বিশিষ্ট কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, ‘ঢাকা শহরের সঙ্গে অন্য শহরের যদি যোগাযোগ উন্নয়ন না হয় তবে সরকারের সব উন্নয়ন পরিকল্পনাই ব্যর্থ। কী শিক্ষা আর প্রযুক্তি? অন্য সব খাতের তুলনায় এখনই সময় বরাদ্দ বাড়িয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করা।’

    তিনি বলেন, ‘কিছু করতে চাইলেই আমরা অন্য সব উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করি। এ তুলনায় বাংলাদেশের কোনো লাভ নেই। বরং দেশের সব মানুষের মানসিকতা, বাস্তবতা, মতামত, দেশের ভৌগলিক অবস্থা এবং মানুষের সংখ্যা উপলব্ধি করতে হবে। শুধু সড়কের কথা বললে হবে না, সড়কের সঙ্গে নৌ ও রেলের সমন্বয় জরুরি।’

    তিনি বলেন, ‘ডিটিসিএ রিভাইস স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি) তৈরি করেছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার মতামত নিয়ে খুব দ্রুত একটা শক্তিশালী কমিশন বা কমিটি গঠন করতে হবে। যা কাজ শুরুর রুট ম্যাপ করে দেবেন। ‘

    নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘মানুষ বেশি সড়ক কম। আগে আমাদের চিন্তা, আচরণের পরিবর্তন, নিয়ম মানার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ফুটওভার ব্রিজের চেয়ে রাজধানীতে বেশি সুবিধাজনক আন্ডারপাস সে ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।’

    তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এক রাজধানীতে সব আনতে হবে কেন? জীবিকার টানে কেনই বা সবাইকে ঢাকা আসবে হবে? এই কেন এর জবাব আমরা জানি। কিন্তু বাস্তবায়নের সদিচ্ছা নেই। ডিসেন্ট্রালাইজেশন না হওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না।’

    বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘শহরের পরিবহনকেন্দ্রিক চিন্তা বাড়াতে হবে, মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনাও হচ্ছে এখন অ্যাকশন জরুরি।’

    বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘রাজধানীর ভূখণ্ড ব্যবহার ও নতুন নতুন রাস্তা তৈরি করে থাকে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু তাদের কোনো গাইড লাইন নেই। একটা রাস্তা তৈরির আগে অনেক কিছুই বিবেচনায় আনতে হয়। সেগুলো শুরু করা উচিত।’

    বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ‘রাজধানীতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো গেলে যানজট এমনিতেই কমে আসবে। কিন্তু সেটা সরকার, কিংবা ডিটিসিএ পারেনি। তাহলে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যাই গ্রহণ করা হোক না কেন, সেটার বাস্তবায়ন জরুরি।’

    তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক দরদ ও সাহসিকতার সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে গুলশানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সেখানকার ফুটপাত এখন রাজধানীর জন্য আদর্শ। তেমনিভাবে রাজধানীর হাতিরঝিলও আদর্শ উদাহরণ। তাহলে আমরা পুরো রাজধানীতে পারছি না কেন?’

    তিনি বলেন, ‘খাম্বা মার্কা উন্নয়ন দেশের জন্য টেকসই নয় বরং এটা যে কত বড় ক্ষতি তা পরে টের পাওয়া যাবে। দেশে এতো এতো ফুটওভার ব্রিজ পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই। আবার সেই দেশে জোরপূর্বক ফুটওভার ব্রিজে উঠানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের সিগন্যাল বাতি জ্বলে না কেন? পুলিশ হাতের ইশারায় যা করছে সঠিক করছে। কিন্তু তা করা হচ্ছে বেআইনীভাবে। পুরো রাজধানীকে যদি ডিজিটালি সিগন্যালিং করা যায়, দক্ষ কয়েক শ’ ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা যায় তবে দ্রুতই শৃঙ্খলা ফিরবে।

  • আফগানদের ওপর সাকিবের দ্বিতীয় আঘাত

    আফগানদের ওপর সাকিবের দ্বিতীয় আঘাত

    ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আফগানিস্তানের ওপেনার ইহসানুল্লাহকে ফিরিয়ে দিয়ে দারুণ এক ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন অভিষিক্ত পেসার আবু হায়দার রনি। ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে এনেছিলেন দ্বিতীয় আঘাত। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আফগানদের আরেক ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান রহমত শাহকে। এ সময় তাদের রান ছিল ২৮।

    এরপরই তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ এবং চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা হাশমতউল্লাহ শহিদি। দু’জন মিলে ৫১ রানের দারুণ একটি জুটি গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের কোনো বোলারকেই যেন পাত্তা দিচ্ছিলেন না তারা দু’জন। ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন শাহজাদ এবং শহিদি।

    ইনিংসের ২০তম ওভারে বাধ্য হয়ে সাকিব আল হাসানকে বোলিংয়ে নিয়ে আসলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বোলিংয়ে এসে প্রথম বল থেকে সমীহ আদায় করতে পারলেও দ্বিতীয় বলে খেলেন বাউন্ডারি। তৃতীয় বলেও মোহাম্মদ শাহজাদ উড়িয়ে মারেন সাকিবকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আফগান ওপেনারের। বাউন্ডারি লাইনে লাফ দিয়ে উঠে ক্যাচটি তালুবন্দী করে নেন আবু হায়দার রনি।

    নিজের অভিষেকটাকে সব ধরনের রঙে রাঙিয়ে দেয়ার জন্যই যেন নেমেছেন রনি। শুরুতে দুই উইকেট নেয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধরলেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। বাউন্ডারি লাইনের ওপর লাফ দিয়ে অনেক ওপরে ওঠে বলটি তিনি তালুবন্দী না করলে আফগানদের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটিটিরও হয়তো সমাপ্তি ঘটতো না। ৪৭ বলে ৩৭ রান করে ফিরে যান মোহাম্মদ শাহজাদ।

    শাহজাদকে ফেরালেও হাশমতউল্লাহ শহিদির সঙ্গে ভালোই জুটি গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন আফগান অধিনায়ক আসগর আফগান। তবে তাদের গড়া ২২ রানের জুটিকে আর বাড়তে দিলেন না সাকিব। এবারও তিনি আঘাত হানলেন এবং ফিরিয়ে দিলেন আফগান অধিনায়ককে। ৮ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান আসগর। এ সময় আফগানদের রান ছিল ১০১।

    এ রিপোর্ট লেখার সময় আফগানদের রান ২৭.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১০ রান। ৪০ রান নিয়ে উইকেটে রয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহিদি এবং ৩ রান নিয়ে রয়েছেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি।

  • শেখ হাসিনা না থাকলে রাজাকার,আলবদর,মুক্তিযোদ্ধা বিরোধীদের বিচার হতোনা : শাহারিয়ার কবীর।

    শেখ হাসিনা না থাকলে রাজাকার,আলবদর,মুক্তিযোদ্ধা বিরোধীদের বিচার হতোনা : শাহারিয়ার কবীর।

    শেখ সুমন।

    জামায়াতের সকল সদস্যকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে বরিশাল জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহরিয়ার কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এড .মানবেন্দ্র বটব্যাল,মশিউর রহমান মিঠু, সভাপতি  ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বরিশাল মহানগর,মহিউদ্দিন মাণিক  বীর প্রতীক, বিচারপতি শামছুল হুদা ,উপদেষ্টা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।কাজি মুকুল , সম্পাদক ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি। সভাপতিত্ব করেন আক্কাস হোসেন।

    সভায় বক্তারা বলেন ,গত সিটিকর্পোরেশনের নির্বাচনের বিভিন্ন ক্যাম্পিং এ জামাত ইসলাম ও জামাত শিবিরের নেতাদের দেখা গেছে। এবার নির্বাচনে তাদের রোধ করতে হবে।জামায়াত কে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।স্বাধীনতার পর দু দু বার স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন ছারছীনার পির সাহেব । যিনি একজন ঘাতক ছিলেন।ছারছীনার পির একজন দুষ্কৃতীকারী ছিলেন। তার পদক ফিরিয়ে নেওয়া দাবি জানানো হয়।

    যে সমস্ত ঘাতক মারা গিয়েছে তাদেরকে মৃত্যু পরবর্তী সময়ে যেন আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো করা হয় সেই দাবি জানানো হয়।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পৃর্বে এবং নির্বাচন পরবর্তী কালীন সময়ে যেন সংখ্যা লঘুদের প্রতি নির্যাতন করা না হয় সেই দাবি জানানো হয় ।

    ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিশ্বাসীদের নমিনেশন দেওয়া না হয়। আগামী নির্বাচনে ভোটার প্রায় শোয়া দশ কোটি। তাদের ভিতর দুই তৃতীয়াংশ যুবক। আর যুবকেরাই পারে অপ-শক্তি রোধ করতে। তরুণদের একত্রিত করে কাজ করতে হবে।একাত্তরে যারা যুদ্ধে গিয়েছে তাদের অধিকাংশরাই তরুণ।

    বাংলাদেশের সংবিধান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সংবিধান । যা উপহার দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর সেই সংবিধান এখন মেনে চলা হয় না।বঙ্গবন্ধু ধর্মের নামে রাজনীতি নিশেধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছরের আড়াই হাজার ঘাতকদের বিচার করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সব পরিবর্তন করে দিলেন। যারা জেলে ছিলেন তাদের ছেড়ে দিলেন। জিয়াউর রহমান চেয়ে ছিলেন দেশটি আরেকবার ধ্বংস করতে।

    ক্ষমতায় এলেই ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়। দেশে ঘাতকদের ক্ষমতা এখন চরম মাত্রায় পৌছে গেছে।বাংলাদেশের সংবিধান ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান। তারপরেও এদেশে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়। নির্বাচনে ধর্ম নিয়ে চরম বাড়াবাড়ি করা হয়। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আন্দোলন করতে হবে।

    বাংলাদেশ কখনও পাকিস্তান হতে পারেনা। বাংলাদেশ কখনও ঘাতকদের হতে পারেনা , হরকাতুল জিহাদের হতে পারেনা।

    এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের প্রতি একটি আঘাত ও যেন না হয় সেই দাবি করা হয়। ভিকটিমদের আইনি সহযোগিতা দিতে হবে।সাম্প্রদায়িক সাম্প্রদায়িকতার সাথে যারা যুক্ত, যারা দুর্নীতি বাজারে তারা এবার নির্বাচন করতে পারবেন না। জামায়াতকে দল হিসেবে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হবে এবং এর সদস্যরাও যেন নির্বাচন করতে না পারে সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

     

  • অন্তর্জ্বালা থেকেই মনগড়া বই লিখেছেন সিনহা : কাদের

    অন্তর্জ্বালা থেকেই মনগড়া বই লিখেছেন সিনহা : কাদের

    সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা থেকেই মনগড়া বই লিখেছেন বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক-পূর্ব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন দাবি করেন।

    কাদের বলেন, তিনি সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা আছে। কী পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে? ক্ষমতা যখন থাকে না তখন অনেক অন্তর্জ্বালা গড়ে ওঠে।

     তিনি বলেন, এস কে সিনহা এখন বইতে যা লিখেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতি হিসেবে কেন তার ছিল না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরনো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। তিনি যদি সত্যই বলতেন, তাহলে যখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন তখন বললেন না কেন? সত্য কথা দেশের জনগণের মাঝে এসে বললেন না কেন? এখন বিদেশে বসে আপন মনে ভুতুড়ে কথা চাপছেন। এটা আমাদের ও দেশের মানুষের বিশ্বাস করতে হবে? এর যৌক্তিকতা নেই।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলে দলে জনে জনে যে ঐক্যের কথা আসছে, এতে করে কি জনমনে কোনো প্রভাব ফেলবে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কি জনপ্রিয়তা কমে যাবে? আমার বিশ্বাস দলের সংখ্যা বাড়িয়ে এদেশে একসময় ৭৬ পার্টির ঐক্য হয়েছিল। এটা কি জনমনে কোনো প্রভাব ফেলতে পেরেছে? আমাদের আস্থা আছে, বাংলাদেশের জনমত শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে।

    নেতায় নেতায় ঐক্য হলেও জনতার মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, এই মুহূর্তে জনমতে কোনো প্রতিফলন হবে না। নেতায় নেতায় ঐক্য, দলে দলে ঐক্য যতই হোক জনগণ প্রভাবিত হবে না। এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবও তাদের ডেকে ছিলেন। কিন্তু পরে জানা গেল, জাতিসংঘের মহাসচিব তাদের আমন্ত্রণ করেননি, এটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। তারা জাতিসংঘের প্রধান ফটকে গিয়ে বারবার অনুরোধ করে, একটা তৃতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিএনপি জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে যে মিথ্যাচার করেছে, প্রতারণা করেছে, তাতে দেশের জনগণকে অপমানিত করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে অসম্মান করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়, তারা ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়কের নামে যে পার্টিজান নির্বাচনকালীন সরকার করেছিল, সেই চিন্তা-ভাবনা আবার তারা করছে। আবার তারা নিজেদের ছক ও কূটকৌশল প্রয়োগ করে ২০০১ সালের মতো একটা নির্বাচন করতে চাচ্ছে। একটা নির্বাচন তারা চায়। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, ২০০১ আর ২০১৮ সাল- সময় বদলে গেছে।

    কাদের বলেন, আমার বিশ্বাস তাদের এই দলের সংখ্যা বাড়িয়ে, এই দেশে একসময় ৭৬ পার্টির ঐক্য হয়েছে। এটা কি জনমতে কোনো প্রভাব ফেলতে পরেছে? কাজেই বিএনপির এই সব হুমকি-ধামকির পরোয়া আমরা করি না। আমাদের আস্থা আছে বাংলাদেশের জনগণের ওপর। জনমত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক

  • রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮৩০০ করে বিল পাস

    রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮৩০০ করে বিল পাস

    রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মজুরি ১১ হাজার ২০০ টাকা করে সংসদে বিল পাস হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীর মতো শ্রমিকরাও নববর্ষ ভাতা পাবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৪ হাজার ১৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০০ টাকা পাচ্ছেন।

    ‘পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০১৮’ নামে প্রস্তাবিত আইনটি বৃহস্পতিবার পাস হয়।

    শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলটি যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হয়।

     নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, বিলটিতে সরকারি শ্রমিকদের বেতন শতভাগ বাড়ানো হয়েছে। শ্রমিকদের এই মজুরি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে এবং ভাতা ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর মতো শ্রমিকরাও নববর্ষ ভাতা পাবেন।

    সরকার গঠিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন রাষ্ট্রায়ত্ত শ্রমিকদের এই বেতন ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করে। ২০১৫ সালে সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানোর পর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান করে ‘জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫’ গঠন করা হয়।

    এই কমিশন গত বছরের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয়। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ৮ হাজার ৩০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬০০ টাকা মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল।

    এর আগে ‘জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন ২০১০’ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ মজুরি ৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল।

    বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন, বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন, বাংলাদেশ টেক্সাটাইল মিলস কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনে কর্মরত শ্রমিকরা এই আইনের আওতায় পড়বেন বলে প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের নিরিখে ২০১২ সালের মজুরি কাঠামো বর্তমানে শ্রমিকদের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয় বিধায় সরকার নতুন মজুরি কাঠামো প্রবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করে। এ উদ্দেশ্যে গঠিত ‘জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’