
Author: banglarmukh official
-

বেদের মেয়ে জোছনা এখন ঢাকায়
‘বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে আসি আসি বলে জোছনা ফাঁকি দিয়েছে।’ আজও মানুষ ভুলতে পারেনি এমন জনপ্রিয় গানের কথা। এই ছবিতে অভিনয় করে সেসময় পুরো দেশ কাঁপিয়েছিলেন অঞ্জু ঘোষ।বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল এই ছবির নায়িকা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে নেই। ছবির জোছনাকে মনে থাকলেও হয়তো অনেকেই ভুলে গেছেন অঞ্জু ঘোষকে।এবার সেই নায়িকা ঢাকা সফর করছেন। ৫ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। চমক হিসেবে নতুন কোনও ছবিতে অভিনয়ের ঘোষণা আসতে পারে তার। এছাড়া ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রিতে সিনেমা প্রযোজনা করবেন বলেও শোনা যাচ্ছে।অঞ্জু ঘোষ চলচ্চিত্রে আসার আগে চট্টগ্রামে মঞ্চে বাণিজ্যিক নাটকের অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৮২ সালে এফ, কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এই ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল ছিল।১৯৮৭ সালে অঞ্জু সর্বাধিক ১৪টি সিনেমাতে অভিনয় করেন। মন্দার সময়ে যেগুলো ছিল সফল ছবি। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ব্যবসাসফল ছবি। চলচ্চিত্রটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক বাণিজ্যসফল সিনেমা।
১৯৮৯ সালে মুক্তি লাভ করে ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবিটি। চলচ্চিত্রটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পুননির্মাণ করে মুক্তি দেওয়া হয়। এর মূল ভূমিকায় অভিনয় করেন অঞ্জু ঘোষ এবং ইলিয়াস কাঞ্চন।১৯৯৬ সালে দেশ ছাড়েন অঞ্জু। তখন থেকেই কলকাতায় বসবাস করছেন এই নায়িকা। সেখানকার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে থাকেন। বর্তমানে তিনি ভারতে বিশ্বভারতী অপেরায় যাত্রাপালায় অভিনয় করছেন। -

নৌকাডুবিতে ভাই-বোন নিখোঁজ
শামীম ইসলাম:
রাজধানীর সদরঘাটে বুড়িগঙ্গায় নৌকা ডুবিতে ভাই-বোন নিখোঁজ হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজেরা হলেন সুমি বেগম (১৮) ও তাঁর ভাই রবিউল গাজী (৭)। তাঁদের বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলার সদরে। নৌকাডুবির সময় তাঁদের সঙ্গে মা ও আরেক বোনও ছিলেন। তবে তাঁরা তীরে উঠতে সক্ষম হয়।
নিখোঁজ দুজনের বাবা সমিত গাজি বলেন, বরগুনাগামী লঞ্চ শাহরুখ-১ যাওয়ার সময় প্রচণ্ড ঢেউয়ে ওই খেয়া নৌকা উল্টে যায়। তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী দুই মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চরকালীগঞ্জ তেলঘাট থেকে সদরঘাটের লালকুঠি এলাকায় যাচ্ছিল। কিন্তু সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে ওই লঞ্চের সৃষ্ট ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
সমিত গাজীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আর দুর্ঘটনা কবলিত নৌকায় তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানই যাত্রী ছিল। ঘটনার সময় সমিত গাজি ওই নৌকায় ছিলেন না।
সদরঘাট নৌথানার পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক বলেন, নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
-

ম্যাচ ধরে ধরে ভাবনা মাশরাফির
ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক কেলেঙ্কারির পর যেন আরেক কেলেঙ্কারির আশঙ্কামাখা অপেক্ষা। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটাঙ্গনের গেল কয়েক বছরের এটি নিয়মিত চিত্র। তাতে সিনিয়র ক্রিকেটারদের নাম জড়াতে শোনা যায়নি কখনো। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তো কাল পালন করলেন ১৩তম বিয়েবার্ষিকীই। ক্রিকেটজীবনের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নে তাই তাঁর মুখে খেলে যায় হাসি।
‘ক্রিকেটের সঙ্গে সংসার! আসলে যারা চাকরি করছে তারাও তো সংসার করছে। এখানে কঠিন কিছু নেই। পুরোটাই একজন আরেকজনের সঙ্গে বোঝাপড়ার বিষয়। আমার তো মনে হয়, চাকরিজীবীদের চেয়ে ক্রিকেটারদের সংসার করাটা আরো সহজ। আমাদের খেলার মধ্যে বিরতি থাকে, সুযোগ থাকে পরিবার নিয়ে সফর করার। এটা চাকরি বা অন্যান্য পেশায় থাকে না। এটা যুগলদের জন্য আরো ইন্টারেস্টিং, খেলাধুলার কেউ থাকলে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো শক্ত করে’—শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনের শেষ প্রশ্নে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের উত্তর।
সময়ের প্রয়োজনেই এমন প্রশ্ন। আগের প্রশ্নগুলো ক্রিকেট নিয়েই। তাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিক্তিতে মাপেননি মাশরাফি। তাঁর অনেক সতীর্থ যেমন গেল কয়েক দিনে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা জোরেশোরে বলে গেছেন, তিনি সে দলে নন, ‘অনেকে টুর্নামেন্ট জেতার কথা বলছে। আমি এই টাইপ না, এ ধরনের কথা বলতে চাই না। আমাদের চেয়ে ভালো দল আছে এ টুর্নামেন্টে। তবে বাকি দলের সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। সেই পার্থক্যটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে পূরণ করতে পারি।’ একেবারে শিরোপার স্বপ্ন না দেখে ধাপে ধাপে এগোনোই তাঁর লক্ষ্য, ‘অন্য দলগুলোর চেয়ে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। হয়তো ভারত অনেক ভালো দল। পাকিস্তান তাদের ঘরের মাঠে খেলবে। কিছুটা বাড়তি সুবিধা তারা পাবে।
তবু আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের হারানোর। আমরা শুরুটা কেমন করি আর পরের রাউন্ডে যেতে পারি কি না, সেটা দেখতে হবে।’ আগের তিন এশিয়া কাপের মধ্যে দুটিতে ফাইনাল খেলেছে বলেই প্রত্যাশার পারদ চূড়াতে। যদিও পেছনের এ ফলকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন মাশরাফি, ‘আগের দু-তিন এশিয়া কাপে খেলার গুরুত্ব এখানে তেমন নেই। এবার টুর্নামেন্টের ধরনও আলাদা, একটু অন্যভাবে সাজানো। আমাদের জন্য মূল কথা হচ্ছে, প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর ২০ তারিখ আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াই। গ্রুপের সেরা দুই দলের মধ্য থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ওপরই জোর অধিনায়কের।
প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান মানেই অবধারিতভাবে রশিদ খানের চলে আসা। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এই লেগস্পিনারের বিপক্ষে রীতিমতো খাবি খেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবে এবারের ফরম্যাট ওয়ানডে বলে মাশরাফি আরেকটু আশাবাদী, ‘রশিদ খান অবশ্যই বিশ্বমানের লেগস্পিনার। তবে টি-টিয়েন্টিতে তো শট খেলার চাপ থাকে, ওয়ানডেতে ব্যাটসম্যানরা দু-তিন ওভার সময় পাবে তাকে দেখে খেলার।’ তবে এ লেগস্পিনারকে নিয়ে ভাবনার আগে ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চান মাশরাফি, ‘রশিদ খানের আগে আমাদের শ্রীলঙ্কার স্পিন, পেস বোলিং সামলানো বেশি জরুরি। যদি প্রথম ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে যে আত্মবিশ্বাসটা পাব, তা দিয়ে রশিদ, মজিব, নবিদের খেলা সহজ হয়ে যাবে। আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খারাপ কিছু হলে ওদের সামলানো দ্বিগুণ কষ্টের হবে।’
দল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলবে প্রায় সিকি শতাব্দী পর। তবে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদ উল্লাহদের মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা আগে সেখানে পিএসএলে খেলার। তাঁদের অভিজ্ঞতার প্রতিফলনের পাশাপাশি তরুণদের দিকে চেয়ে থাকার কথাও জানান মাশরাফি, ‘দলে ওদের নিজেদেরও তো বড় দায়িত্ব আছে। তামিম, রিয়াদ, সাকিব, মুশফিক খেলেছে ওখানে। তামিম খেলেছে অনেক দিন এবং সে পারফরমও করেছে। তাদের ইনপুট থাকাটা জরুরি। আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের অনেকে তিন-চার-পাঁচ বছর ধরে খেলছে। ওদের তরুণ বলতে একটু বাধো বাধো লাগা উচিত। আমার বিশ্বাস যে তারাও পারফরম করবে।’
সেই তরুণদের প্রতিনিধি হয়ে সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেনরা সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে এসেছেন নেতিবাচক কারণে। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য মাঠের বাইরের নেতিবাচকতা দূরে থাক, দলের দুর্বলতা নিয়েও কথা বলতে নারাজ। আর সতীর্থরা ‘শিরোপা জয়ের’ কথা যতই বলুন না কেন, অধিনায়কের এশিয়া কাপ আপাতত ওই প্রথম ম্যাচ। ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বৈরথ।
এরপর টুর্নামেন্ট এগোতে থাকলে স্বপ্নের সীমানাও না হয় বাড়ানো যাবে।
-

বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণ রয়েছে।
তিনি আজ শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ ও প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তারা যদি চ্যালেঞ্জ করে আমরা পরিষ্কার বলতে পারবো, কি অভিযোগে তাদের ধরা হয়েছে। তাদের অপরাধের ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্ম যার-যার রাষ্ট্র সবার। এখানে সবাই মিলে মিশে থাকবে ও ধর্ম পালন করবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হককে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্তের আগে কোন মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
নির্মল কুমার চ্যাটার্জির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, হিউবোর্ট গোমেজ, অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।
-

চট্টগ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত-২
শামীম ইসলাম:
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ঊন সত্তর পাড়ায় গণপিটুনিতে মোক্তার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম নামে দুই চোর নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে গৌরীশংকর হাট এলাকার সিরাজ কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোক্তার পাহাড়তলী ইউনিয়নের খান পাড়ার কালু মিয়ার ছেলে ও সাইফুল একই এলাকার হামদু মিয়ার ছেলে। নিহতদের বয়স আনুমানিক ২০- ২৫ বছর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কেফায়েত উল্লাহ।
তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে সিরাজ কলোনির একটি বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিল দুই চোর। বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী ঘরের চারপাশ ঘিরে ফেলে।
এরই মধ্যে চোরেরা বাড়ির মালিককে অস্ত্র তাক করে বসে। বাইরে থেকে জনগণ বিষয়টি বুঝতে পেরে কৌশলে ঘরে ঢুকে দুই চোরকে ধরে ফেলে। পরে বাইরে বের করে তাদের গণপিটুনি দেয়া হয়। এতে তাদের মৃত্যু হয়।
-

২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালেদাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির দাবি
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারাবান্দি বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসাপাতালে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান তার চার আইনজীবী।
দেখা করে কারাগারের বাইরে এসে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, আজ সাক্ষাতে ম্যাডামকে যেভাবে দেখেছি তাতে তিনি কীভাবে আগের দিন আদালতে এসেছিলেন তা ভাবছি। তিনি বাম হাত নাড়াতে পারছেন না। বাম পাশ পুরো অবশ হয়ে গেছে। তার চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা। চোখের ভবিষ্যত কী, সেটা বলা যাচ্ছে না। আমরা মনে করি, তাকে চিকিৎসা না দেয়ায় এই অবস্থা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাই আমরা দাবি করছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হোক। ইউনাইটেড, অ্যাপোলো বা যে কোনো বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হোক। আগে চিকিৎসা তারপর বিচার। খালেদা জিয়ার সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আইনজীবীরা কারাগারে পৌঁছে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের অনুমতি চান। ৫টার কিছুক্ষণ আগে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষাত শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা বের হন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া অন্যদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রেজ্জাক খান।
-

আলোয় এল গোয়েন্দা নথির বঙ্গবন্ধু
শুক্রবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে ১৪ খণ্ডের এই সঙ্কলনের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।
১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করত পাকিস্তানের ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ(আইবি)।
দীর্ঘ ২৩ বছরের সেইসব গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৪ খণ্ডের এই সঙ্কলন প্রকাশ করছে হাক্কানী পাবলিশার্স।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।
তরুণ শেখ মুজিব নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে কেমন করে বাংলার অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হলেন- সেই পথচিত্র যেমন এই বইয়ে এসেছে, সেই সঙ্গে এসেছে বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে চলার মানচিত্র।
এসব কারণে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সঙ্কলনকে বিশেষজ্ঞরা বর্ণনা করছেন ‘অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে।

১৪ খণ্ডের সঙ্কলনে ভাষা আন্দোলন, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তকরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন, আওয়ামী লীগের জন্ম, শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠিপত্র, বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, বক্তব্য-বিবৃতি, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের বিষয়গুলো উঠে এসেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের বয়ানে।
ইংরেজি ভাষায় লেখা পুরনো এসব নথি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) রেকর্ড রুমেই পড়ে ছিল অযত্ন আর অবহেলায়।
বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে সেসব নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন এবং ৬০৬-৪৮ ফাইল নম্বর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে যেসব ক্লাসিফায়েড তথ্য সেখানে ছিল, সেগুলোর পাঠোদ্ধার ও সঙ্কলিত করার ব্যবস্থা করেন।
‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে।
৫৮২ পৃষ্ঠার প্রথম খণ্ডের দাম রাখা হয়েছে ৯০০ টাকা। একই নকশায় প্রতিটি খণ্ডের প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান, ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা।
বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, স্পিকার শিরীন শারিমন চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও ছিলেন অনুষ্ঠানে।
এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনার, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি অতিথি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নানা শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে।
-

শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতিসংঘ
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের উদারতার প্রশংসা করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া এক চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। খবর বাসসের।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশ্বসমর্থন আদায়ে আপনার ব্যক্তিগত নেতৃত্বের বিষয়টি ছিল উল্লেখ করার মত। চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই ঢাকা ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই যৌথ সফরের মধ্যদিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তা-সহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জসমূহ সম্পর্কে আরো সচেতন হয়েছেন।এ প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশ সরকারের সাথে নিবিড় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সংকটের মধ্যমেয়াদি প্রভাব মোকাবেলায় ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান ভিত্তিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।চিঠিতে তারা আরো বলেন, আমরা ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে আপনার এবং আপনার সরকারের সাথে জড়িত হওয়ার সুযোগেরও প্রশংসা করছি।জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট উভয়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের চমৎকার অগ্রগতির জন্যে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।তারা বলেন, অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে এবং ২০৩০ সালের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ উভয়ে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে অব্যাহত সহায়তার অঙ্গীকার করেছে। -

মেসির দেশে বিয়ে করছেন টাইটানিক অভিনেতা ডিক্যাপ্রিও!
শামীম ইসলাম:
ফুটবলে তার দেশের খুব একটা উন্নতি বা অর্জন না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে ফুটবলপ্রিয় অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। আবার অনেক ফুটবল তারকাদের কাছেও বেশ প্রিয় এই অভিনেতা। খবর সেটি নয়। খবর হলো ফুটবলের জন্য জনপ্রিয় লিওনের মেসির দেশ আর্জেন্টিনার মেয়েকে বিয়ে করতে চলেছেন তিনি।
গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, বিয়ে করতে চলেছেন ডিক্যাপ্রিও। কনের নাম কামিলা মোহনে। আর্জেন্টিনার এই মডেলের সঙ্গে ৮ মাসের প্রেম চলছে ডিক্যাপ্রিওর। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তার কাছের মানুষদের ভাষ্য, প্রেমের ব্যাপারে নাকি দুজনই খুব সিরিয়াস। তারা বিয়ে নিয়েও ভাবছেন।
জানা গেছে, এখন লিও-কামিলা ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাচ্ছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সী মডেল-অভিনেত্রী কামিলা বিয়েতে তার পরিবারের তরফ থেকেই নাকি সায় রয়েছে।
এর আগে ফুটবলে আরেক জনপ্রিয় দেশ ব্রাজিলের মডেল জিজালে বানচেনের সঙ্গেও প্রেম করেছেন লিওনার্দো। সেখানেও শোনা গিয়েছিলো বিয়ের গুঞ্জন। তবে সম্পর্ক খুব বেশিদিন টেকেনি। দেখা যাক, মেসির দেশের কন্যা লিওয়ের গলায় বিয়ের মালা পড়াতে পারেন কী না।
প্রসঙ্গত, ‘দ্য রেভেনান্ট’ মুভির জন্য ২০১৬ সালে অস্কার জেতেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। তবে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন ‘টাইটানিক’ সিনেমায় অভিনয় করে। এটিই ছিলো তার প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘টাইটানিক’।
ছবিতে জ্যাক চরিত্রে লিওনার্দোর অভিনয় লাখো তরুণীর হৃদয় কেড়ে নেয়। বিশেষ করে ছবির শেষে তার মৃত্যু আজো সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি সিনেমাপ্রেমী মানুষ।
-

ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি
দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করবে। বৃহস্পতিবার দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে এক বৈঠকে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
দুই দেশের প্রথম টু প্লাস টু বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিথারমন উপস্থিত ছিলেন। এসময় দু-দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির ব্যাপারে সম্মত হন তারা।
বৈঠকে তারা পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রস-বর্ডার সন্ত্রাসবাদ, এনএসজি এবং বিতর্কিত এইচ-১বি ভিসা প্রদান বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সুষমা স্বরাজ সংক্ষিপ্ত বৈঠকের বিস্তারিত বলতে গিয়ে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই চুক্তিকে যোগাযোগ, সামঞ্জস্য ও নিরাপত্তা চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি হবে দুই দেশের জন্য একটি মাইলফলক।
ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিথারমন বলেন, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রস্তুতি আরো বৃদ্ধি পাবে।
চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সুবিধা অর্জন পাবে ভারত; যার মাধ্যমে মার্কিন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।