Author: banglarmukh official

  • উপেক্ষিত সুফিলই এখন অপরিহার্য

    উপেক্ষিত সুফিলই এখন অপরিহার্য

    শামীম ইসলাম:

    ০১৬ স্বাধীনতা কাপ। তিন তরুণ উঠে এলেন আলোচনায়। তৃতীয় বিভাগ থেকে সরাসরি প্রিমিয়ারের ক্লাবে নাম লিখিয়ে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালেও তুলে নেন দলকে। আরামবাগের সেই তিন তরুণ তুর্কি জাফর ইকবাল, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মাহবুবুর রহমান সুফিলের মধ্যে জাফর, আব্দুল্লাহ দুজনই এরপর ডাক পেয়ে গেলেন টম সেইন্টফিটের মালদ্বীপ ও ভুটানগামী দলে। যে ম্যাচ দুটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় লজ্জা। মালদ্বীপের মাঠে ৫-০ এবং ভুটানের কাছে প্রথমবারের মতো ৩-১ গোলের হার।

    ত্রয়ীর দুজনের জাতীয় দলে সুযোগ হয়ে যাওয়া, একা পড়ে যাওয়া সুফিলের মধ্যে কি জেদ তৈরি করেছিল কে জানে! পরের ইতিহাস এবং বর্তমানও সিলেটি এই ফুটবলারের সঙ্গী। ঝড়ে গেছেন জাফর, আব্দুল্লাহরা। কে জানত ভুটান ম্যাচের কলঙ্কিত সেই স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া সুফিলই দুই বছর বাদে সেই হারেরই শোধ নেবেন। জাফর, আব্দুল্লাহ ওই বছর বড় দলের হাতছানিতে ক্লাবও ছাড়েন, সুফিল থেকে যান আরামবাগেই। ক্লাব তাঁর মূল্য দেয়। পরের মৌসুমে মারুফুল হকের দলের অধিনায়ক হন তিনি। এই সময়েই অনূর্ধ্ব-১৬ সাফে জাফর-সুফিল আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েন জাতীয় দলে। উইঙ্গার থেকে তাঁর স্ট্রাইকার বনে যাওয়া এই আসরেই। ভারতের বিপক্ষে সেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জাফরের সঙ্গে তাঁরও দারুণ অবদান।

    স্ট্রাইকার সুফিল পারফরম্যান্সটা ধরে রাখেন পরের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়েও। সে আসরের চার ম্যাচে তাঁর তিন গোল। মূল জাতীয় দলে এরপর উপেক্ষা করা যায় না তাঁকে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে থাকা অ্যান্ড্রু ওর্ড তাঁর অভিষেকের সুযোগ করে দেন লাওসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। ভুটান লজ্জার দুই বছর পর হওয়া জাতীয় দলের সেই ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে একমাত্র গোলটি তাঁর। পরশু ভুটানের বিপক্ষে সিনিয়র জাতীয় দলে তাই মাত্রই দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল তাঁর। তাতেও গোল করে দুইয়ে দুই করে ফেললেন এই স্ট্রাইকার। হ্যাঁ, তাঁকে এখন স্ট্রাইকার বলাই যায়। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের তুমুল পারফরম্যান্সেও তাঁর অবদান অনেক। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে একমাত্র গোলটি তাঁর। জাকার্তা থেকে ফিরে পরশু একই ছন্দে খেললেন ভুটানের বিপক্ষে। জেমির চোখে ম্যাচের সেরা পারফরমার ছিলেন তিনি, ‘সুফিল খুবই ভালো খেলেছে এই ম্যাচে। আমাদের সেরা পারফরমার বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। গোলটা ছিল অসাধারণ। সত্যি বলতে তাকে নিয়ে আমার আশা এখন আরো বেড়ে গেছে।’

    জাতীয় দলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে আজ তিনে তিন করার হাতছানি এই স্ট্রাইকারের সামনে। কতটা মুখিয়ে আছেন তিনি। কাল টিম হোটেলে বিশ্রামের ফাঁকে জানালেন নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের খেলাটা আসল, ‘আমরা দল হিসেবে যদি ভালো খেলতে পারি তাহলে গোল আসবেই। সেটা আমি করতে পারি বা অন্য যে কেউ।’ জেমির দলের মূলমন্ত্রও এটাই। যে কারণে সুফিল দলের নাম্বার নাইন নয়, তাঁর মতো একই দায়িত্ব আছে সাদ উদ্দিনেরও, এশিয়াডে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যিনি বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি করেছেন। স্কোয়াডে প্রকৃত নাম্বার নাইন হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন রনি আছেন।

    কিন্তু সুফিল দলের দর্শন ও পরিকল্পনায় অনেক বেশি একাত্ম বলেই মূল একাদশে তিনিই ফেভারিট। আজ অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ তাঁর। পরশু নেপালের দারুণ আক্রমণভাগও খাবি খেয়েছে পাকিস্তানি ডিফেন্সের কাছে। জেমির চোখে, ‘উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা নয় শুধু ওদের ডিফেন্স অর্গানাইজেশনও খুব ভালো।’ সুফিল বলছেন, ‘এমন ডিফেন্সের বিপক্ষে আমাদের আরো বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে হবে। ওদের উচ্চতা আমার কাছে সমস্যা মনে হয় না, গতি ও কৌশলে তা হারানো যাবে।’ নিজের কথা বলতে গিয়ে পুরো দলকেই হয়তো বার্তা দিলেন ভুটান ম্যাচের সেরা পারফরমার। বাংলাদেশ কোচও মনে করছেন ভুটানের চেয়ে কঠিন হবে পাকিস্তানকে হারানো। তবে খেলার ধরন বদলানোর কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি।

    অর্থাৎ একই রকম গতিময় ফুটবল আশা তাঁর সাদ, সুফিল, বিপলুদের কাছ থেকে। আর সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যাপারে আরো একটু বেশি মনোযোগ। ওয়ান অন ওয়ানে সুফিলকে গোল মিস করতে দেখা কোচকে মেনে নিতে হয় অসাধারণ আরেকটি সুযোগ হয়তো ঠিকই কাজে লাগাবেন তাঁর শিষ্য। এখন পর্যন্ত সেই আস্থার অন্যথা হয়নি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষেও একই প্রত্যাশা কোচের, সবারও।

  • সরকার-বিএনপির বিপরীতমুখী বক্তব্য

    সরকার-বিএনপির বিপরীতমুখী বক্তব্য

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারা অভ্যন্তরে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা দিতে বেআইনিভাবে একটি অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। বিএনপির আইনজীবীদের এ বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছেন, আইন মেনেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন আজ বৃহস্পতিবার সমিতির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, এই আদালতটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। সরকার খালেদা জিয়াকে একতরফাভাবে যেনতেনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করে তাঁকে শাস্তি দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। সরকারকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে এই গেজেটটি (কারাগারে অস্থায়ী আদালত বসানো) প্রত্যাহার করে উন্মুক্ত আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। অন্যথায় দেশের আইনজীবীরা এ বিষয়ের ওপরে পরবর্তী বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

    দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেছেন, আইন মেনেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ওই মামলাটি করা হয়, বর্তমান সরকার মামলাটি করেনি। সাজা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার চেষ্টা করছে, এটি ঠিক নয়। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে এমন বক্তব্য আদালতের প্রতি অনাস্থা, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো মামলা বিচারের জন্য কোনো স্থানকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা নতুন নয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার বিচার যখন হয়, তখন পুরোনো কারাগারের একটি অংশকে আদালত ঘোষণ করা হয়েছিল। ওই মামলায় বিচার ক্যামেরা ট্রায়াল হবে বা কেউ উপস্থিত থাকতে পারবেন না সরকার বা আদালত এমন ঘোষণাও দেননি। কাজেই এ ব্যাপারে তাঁদের ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এসব বক্তব্য মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত করার জন্যই।

    এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাছে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা নাইকো ও বড়পুকুরিয়া ইত্যাদি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিচারকাজ ওই আদালতেই চলছে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ওই কোর্ট বা ওই সব বিচারকাজ তো কোনো জেলখানার অভ্যন্তরে স্থানান্তর কিংবা পরিচালনা করা হচ্ছে না। অথচ খালেদা জিয়াকে কারা অভ্যন্তরে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা প্রদানের লক্ষ্যে বেআইনিভাবে একটি অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে। যাতে সাধারণ জনগণ বিচারের নামে সরকারের বেআইনি কার্যক্রম দেখতে বা বুঝতে সক্ষম না হয়।

    লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের যে ৭ নম্বর কক্ষটিকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তা সংবিধানের ৩৫ (৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা অনুসারে উন্মুক্ত আদালত নয় বা হতে পারে না। সেখানে পাবলিক তো দূরের কথা খালেদা জিয়া ও অন্য আসামিদের নিয়োজিত আইনজীবী, আসামিদের আত্মীয়স্বজন কিংবা দলীয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার নেতা–কর্মীদের প্রবেশ এবং আদালতের কার্যক্রম দেখা বা শোনার কোনো সুযোগ নাই।’…কারা অভ্যন্তরে গঠিত আদালতটি মোটেই উন্মুক্ত আদালত না হওয়ায় সেখানে পাবলিক ট্রায়াল হওয়ার সুযোগ না থাকায় এমন আদালতে খালেদা জিয়ার মামলার বিচার কার্যক্রম চলার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এ সময় অন্যদের মধ্যে সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কার্যনির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • কোটার কারণে পেছন থেকে অনেকে চলে আসে

    কোটার কারণে পেছন থেকে অনেকে চলে আসে

    জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেছেন, কোটার কারণে জাতীয় মেধা তালিকার পেছন থেকে অনেকে চলে আসে। তবে মেধা তালিকার বাইরে থেকে আসার কোনো সুযোগ নেই।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘৩৬ তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনারদের পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিংয়ের’ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জনপ্রশাসন সচিব। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এতে ৬২ জন শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার অংশ নেন।

    নতুন সহকারী কমিশনারদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘তোমরা যারা বিসিএসে রিটেন (লিখিত) পাস করেছ, ভাইভা পাস করে এখানে এসেছ, তাঁরা কি অমেধাবী। নিঃসন্দেহে নয়। হ্যাঁ কোটার কারণে জাতীয় মেধা তালিকার পেছন থেকে অনেকে চলে আসে। তবে মেধা তালিকার বাইরে থেকে আসার কোনো সুযোগ নেই।’

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব বলেন, কোনো অবস্থাতেই ‘অমেধাবীদের’ বিসিএসে আসার সুযোগ নেই। গত ১০টি বিসিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোটা ১০ শতাংশের বেশি পূরণ হয়নি। নারী কোটাও পূরণ হয় না। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শূন্য আসনগুলো মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হয়। সরকার কোটা পর্যালোচনা করছে।

    কোটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘তোমরাও (শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার) বিদ্রোহী হয়ে থাকতে, যদি তোমাদের রেজাল্ট না আসত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমি জনপ্রশাসনের সচিব। এ জায়গা থেকে আমাকে কোটা নিয়ে অনেক কাজ করতে হয়েছে। দেশ-বিদেশের অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছি। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে কম করে হলেও কিছু কিছু কোটা আছে।’

    পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ। তাঁদের উদ্দেশে সচিব বলেন, পদের কারণে যেন নিজেদের মধ্যে অহংকারবোধ না আসে। নমনীয় হতে হবে। পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। দায়িত্ব পালন করতে হলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধারণা থাকতে হবে। বই-পত্রিকা পড়তে হবে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।

    চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।

  • মামুনুলকে নিয়ে শুরু করছে বাংলাদেশ

    মামুনুলকে নিয়ে শুরু করছে বাংলাদেশ

    ভুটানের বিপক্ষে বেশ কিছু ভুল করার পর গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল বেশ। শোনা গিয়েছিল আবাহনীল লিমিটেডের এ গোলরক্ষকের পরিবর্তে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ হতে পারে এশিয়াডে দুর্দান্ত খেলা আশরাফুল রানার।

    কিন্তু সোহেল থাকছেন দলে। আগের ম্যাচ থেকে পরিবর্তন এসেছে অন্য এক জায়গায়। মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।

    আজ পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাবে জামাল ভূঁইয়ারা।

    ৪-২-৩-১ ফরমেশনে বাংলাদেশের একাদশ:
    শহিদুল আলম (২২) ( গোলরক্ষক) ; ডিফেন্ডার : বিশ্বনাথ ঘোষ (১২) , তপু বর্মন (৪) , টুটুল হোসেন বাদশা (৫), ওয়ালি ফয়সাল(৩); মাঝমাঠ : জামাল ভুঁইয়া (৬), মামুনুল ইসলাম (৮) ও মাসুক মিয়া জনি (১৮) ; আক্রমণভাগ: মাহবুবুর রহমান সুফিল (১৬) , বিপলু আহমেদ (১৫) ও সাদউদ্দীন (৯)।

  • অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত হয়নি

    অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত হয়নি

    শামীম ইসলাম:

    অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে দুই দিনব্যাপী এফইএমবিওএসএ-ফেমবোসা সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে ভুল করেছেন। আমরা তাকে বলিনি। তার এভাবে বলা উচিত হয়নি।

    সিইসি বলেন, আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। মিডিয়ার সামনে বললাম, অর্থমন্ত্রী ভুল করেছেন। এটা তার কাজ নয়। এভাবে বলা তার ঠিক হয়নি।

    এর আগে গতকাল বুধবার নিজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। তবে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মডেল অনুযায়ী হবে। তাকে প্রধান করে স্বল্পসংখ্যক মন্ত্রী নিয়ে এ সরকার হবে।

    ভোটের তারিখ নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত করবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুনেছি নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৭ ডিসেম্বর দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।

  • পদ্মায় দূর্ঘটনার কবলে বরিশালগামী গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ : আহত ৫

    পদ্মায় দূর্ঘটনার কবলে বরিশালগামী গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ : আহত ৫

    নৌ-পথে ঢাকা থেকে বরিশাল আসার পথে পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পরে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ ৩। এতে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের সামনের গ্লাস ভেঙ্গে ভিতরে পানি ঢুকে পরে। এসময় ভাঙ্গা গ্লাসের আঘাতে ৫ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। গ্লাস ভেঙ্গে গ্রীন লাইনের ভিতরে পানি ঢুকে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হলে যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে দিকবেদিক ছোটাছুটি শুরু করে। যার ফলে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়। আজ বৃহস্পতাবার (৬ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    যাত্রীদের থেকে জানাগেছে, যথারীতি ঢাকা থেকে বরিশাল আসার পথে পদ্মা নদীর মোহনায় গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ -৩ পদ্মার বিশাল ঢেউয়ের কবরে পড়ে। একের পর এক বিশাল আকৃতির ঢেউ আঘাত করে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজটিকে। যার ফলে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ -৩এর সামনের গ্লাস ভেঙ্গে জাহজে থাকা যাত্রীদের আঘাত হানে।

    এতে ৫ যাত্রী গুরুতর আহত হয়। অন্যান্য যাত্রীরা আতংকিত হয়ে পরে। এ অবস্থাতেই পদ্মা থেকে বরিশালে আসে জাহাজটি। বরিশাল এসে জাহাজ কর্র্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার জন্য নগরীর ইসলামিয়া হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় আহত যাত্রী রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মিলন (৪৮)  জানান, পদ্মায় উত্তাল ঢেউয়ের কারনে জাহাজের গ্লাস ভেঙ্গে আমি এবং আমার মেয়ে লামিয়া (১৫) সহ বেশ কয়েকজন আহত হই। তাৎক্ষণিক জাহাজে বসে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা দেয়। পরে বরিশালে আসলে চিকিৎসার জন্য আমাদের হাসপালে নিয়ে আসে।

    এ ব্যাপারে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ -৩ এর ম্যানেজার লিপ্টন  জানান, পদ্মার ঢেউয়ের কারনে জাহাজের সামনের একটি গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এতে দুই যাত্রী সামান্য আহত হয়েছে। আহতদের জাহাজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ-৩ বিকেল ৩ টায় বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

    অভিযোগ রয়েছে, পদ্মার ঢেইয়ের আঘাতে জাহাজের গ্লাস ভেঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হলে তাদের পথিমধ্যে নামিয়ে দিয়ে আসে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ-৩ কর্তৃপক্ষ।

  • শনিবার থেকে শুরু জেল খাল পুন:সংস্কারের কাজ

    শনিবার থেকে শুরু জেল খাল পুন:সংস্কারের কাজ

    আগামী শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেল খাল পুন:সংস্কারের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। শনিবার সকাল ১১ টার দিকে নগরীর নথুল্লাবাদ পয়েন্ট থেকে পুন:সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

    পুন:সংস্কার কাজের উদ্বোধন করবেন সদ্য যোগদানকারী বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, ঐতিহ্যবাহী জেল খাল উদ্ধারে সাবেক জেলা প্রশাসক কর্তৃক গৃহীত অসমাপ্ত পদক্ষেপ ও উদ্যোগসমূহ যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল তা সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এ ক্ষেত্রে বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা চান জেলা প্রশাসক।

  • বরিশাল নির্মিত ভৌতিক নাটক “দরজার আড়ালে”

    বরিশাল নির্মিত ভৌতিক নাটক “দরজার আড়ালে”

    বরিশালের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে সুটিং করা হয়েছে এবং বরিশাল এর প্রতিভাবান অভিনয় শিল্পীদের প্রচেস্টায় নির্মিত হয়েছে, ভৌতিক কাহিনী নির্ভর হরর নাটক “দরজার আড়ালে।

    মোহাঃদীন ইসলাম এর পরিচালনা এবং চিত্রনাট্য রিসাদ জাহান ও অভিনয় করেছেন বরিশাল এর মঞ্চ অভিনেত্রী মোর্শেদা জাহান ইসা,শম্পা, তৃনা,আরিফ সজিব ও মিরাজ সহ অন্যান্য কলাকুশলীগন। বরিশাল এর নাটক হরর মোমেন্ট “দরজার আড়ালে” খুব শিগ্রই মুক্তি পাচ্ছে ইউটিউব চ্যানেল এ।

    বরিশাল এর সকল দর্শকদের কে নাটক টি দেখার জন্য অনুরোধ করেছেন,নাটকটির চিত্রপরিচালক ও সম্পৃক্ত সকল তরুন তরুনীরা।

  • জোটের প্রশ্নে বিএনপির দিকে তাকিয়ে এরশাদ

    জোটের প্রশ্নে বিএনপির দিকে তাকিয়ে এরশাদ

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে জাতীয় পার্টি। তবে নির্বাচনী কোনো জোটে জাতীয় পার্টির যাওয়া না যাওয়া নির্ভর করছে বিএনপির নির্বাচনে আসা না আসার সিদ্ধান্তের ওপর।এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন খোদ চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

    বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের যে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়, তাতেই এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, আমরা কারো কাছে সিট চাইবো না, মন্ত্রী সংখ্যাই বা আমরা কেন চাইবো। আমরা বিরোধী দল বা সরকারের অংশীদার হওয়ার জন্য তো রাজনীতি করছি না। রাজনীতি করছি ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

    তিনি বলেন, এবার আমরা সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করবো। নির্বাচনী রাজনীতিতে জোট করা যায়। কিন্তু এবার আমরা কারো সাথে আগ বাড়িয়ে জোটে যাওয়ার কথা কেন বলবো? কেউ যদি ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়, তাহলে তারাই আমাদের সঙ্গে জোটে আসবে।

    জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদ বলেন, রওশনের বক্তব্যে আমি খুশি হয়েছি, উৎসাহিত হয়েছি। আমরা এবার নিজেরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো। প্রয়োজন হলে আরও বৃহৎ জোট করবো। তবে এটা নিশ্চিত, এবার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেই জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।

    এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে সভায়। ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে সভা থেকে। যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তাহলে জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের চেয়ারম্যান।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সংসদ সদস্য জানান, সভায় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। যদি কারও আগ্রহ থাকে আমাদের সঙ্গে জোট করার সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির স্বার্থ রক্ষা করেই সে জোটে যেতে হবে। ওই সংসদ সদস্য আরও জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

    এদিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি শুনীল শুভ রায় স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথসভার সিদ্ধান্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, এখন থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে ৩০০ আসনেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করুক বা না করুক সেদিকে জাতীয় পার্টি ফিরে তাকাবে না। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

    সভায় বলা হয়, জাতীয় পার্টি অন্য কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে আর ব্যবহৃত হবে না। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি নিজেরাই ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। তার জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় যেসব জেলায় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেখানে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্মেলন সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সভায় আরও বলা হয়, নির্বাচনের জন্য উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন বাদেও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটিও গঠন করতে হবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির বর্ধিত সভায় পার্টির কর্মসূচি অবহিত করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের এই যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য- ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নু, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা প্রমুখ।

  • নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার একমাত্র শেখ হাসিনার

    নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার একমাত্র শেখ হাসিনার

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানেন না। বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এমন বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সাইজ কী হবে, আকারে কতটা ছোট হবে, ক্যাবিনেটে কতজন থাকবেন?- তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, আমিও এখন পর্যন্ত জানি না।

    জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হলে আওয়ামী লীগ যাবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের ঐক্যে বিশ্বাসী। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে আমরা ডাক দেব। এখন আমরা জনগণের ঐক্য চাই।’

    তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা গণতন্ত্রের বিষয়। নির্বাচন মানেই হলো প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা- সেটা হবেই। আমরা এগুলোকে ওয়েলকাম করি। আমরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে যাচ্ছি এমন তো নয়। ঐক্যও হতে পারে। নির্বাচন আসলে জোট হবেই। আওয়ামী লীগও জোট করে, অন্যান্য দলও জোট করে। বিএনপিরও জোট আছে। আমাদের ১৪-দলীয় জোট আছে, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের জোট হয়েছে, সরকারে আমরা এক সঙ্গে আছি। সেই মহাজোটের সরকারই তো বর্তমানে-বাস্তবে দেশ চালাচ্ছে।’

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ বড় দলের সমর্থক ও ভোটারদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দল আছে। এ দলগুলোকে বাদ দিয়ে যেটা হবে তা হলো সাম্প্রদায়িক ঐক্য। জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় নাকি? ‘জাতীয় ঐক্য’- এ শব্দদয় ব্যবহার না করাই ভালো।’

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি একমাত্র বিএনপির পক্ষে শোভা পায়। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে অনিয়ম, জালিয়াতি নেই। নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় গেছে বিএনপি।’

    কাদের বলেন, ‘২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ- এটা নিশ্চিত হলেও তা বলার দায়িত্ব আমাদের না, এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ না। নির্বাচন কমিশনই বলবে কবে নির্বাচন হবে। এটা বলার দায়িত্ব সরকার কিংবা সরকারের কোনো মন্ত্রীর নয় কিংবা দলের কোনো নেতার না। তাই আমরা যার যার এরিয়ার মধ্যে সীমিত থেকে রেসপনসিবল (দায়িত্বশীল) ভূমিকায় থাকলে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য ভালো।’

    রাজশাহী নেতাদের ডাকার নিশ্চয় কোনো কারণ আছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতাটা অসুস্থতা ও  অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের ডাকতেই হবে। এখন সবার এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে।’

    তিনি বলেন, ‘রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন তাহলে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছা থাততেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়, অন্যরাইও চাইতে পারেন। আমাদের পার্টির ফান্ডও আছে। ২৫ হাজার করে টাকা দিতে হবে। এবার ভাবছি আরেকটু বাড়াব।’

    দলের মধ্যে আত্মঘাতী প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘চা দোকানে বসে গ্রুপ মিটিং করে দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রচারণা করে- যেটা হওয়ার কথা ছিলো বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী প্রচারণা আর কিছু হতে পারে না। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।’

    ‘শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনো কমিটিও করা যাবে না’-এমন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। বরগুনাতে একটা ঘটনা ঘটেছে এবং আরেকটা ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরে। আমরা তা মোটেও অ্যালাউ করব না। কারও অভিযোগ থাকলে সরাসরি লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় অফিসে অভিযোগ দেবেন। এটা দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা সমাধান করবেন। আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন। যদি আলোচনা যথেষ্ঠ না হয়, তাহলে দলের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেব। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে যারা সিদ্ধান্ত নেবেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। যারা করছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে, আর ভবিষ্যতে যারা করবেন তাদের শাস্তি পেতে হবে।’

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলনামা আছে, এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) আছে, ছয়মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই-বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয় দল তাকে মূল্যায়ন করবে।’

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ।