Author: banglarmukh official

  • মেসিকে সতর্ক করে দিলেন রিয়াল কোচ

    মেসিকে সতর্ক করে দিলেন রিয়াল কোচ

    শামীম ইসলাম:

    শেষ ৯টি বছর দু’জনের দ্বৈরথ দেখার জন্য উন্মুখ হয়েছিল পুরো ফুটবল বিশ্ব। শুধুমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা নয়, ফুটবল বিশ্ব শাসন করা এই দুই ফুটবলারের পরস্পর লড়াইতে মেতে থাকার জন্য প্রায় এক দশক সুযোগ পেয়েছে ভক্ত-সমর্থকরা। এবার সেই দ্বৈরথ ভেঙে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চলে গেলেন ইতালিতে। যোগ দিলেন জুভেন্টাসে।

    রোনালদো চলে যাওয়ার পর এই প্রথম এ নিয়ে কথা বললেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী, বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, ‘রোনালদো ছাড়া রিয়াল দুর্বল শক্তির দল।’

    কিন্তু মেসির এই কথা খুব সহজভাবে নিতে পারেননি রিয়ালের বর্তমান কোচ হুলেন লোপেতেগুই। তিনি মেসির প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে দিয়ে বলেছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ নিয়ে দুশ্চিন্তা মেসির না করলেও চলবে। আমি তো রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড় এবং স্কোয়াড নিয়ে এক সেকেন্ডও চিন্তিত নই।’ এল ট্রান্সিটরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মেসির প্রতি এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন লোপেতেগুই।

    রোনালদোর চলে যাওয়া নিয়ে এর আগে কোনো কথা বলেননি রিয়াল কোচ। কিংবা এ নিয়ে রোনালদোর সঙ্গেও কথা বলেননি। সেটাই তিনি জানিয়ে দিলেন সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেন, ‘আমি রোনালদোর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলিনি। আমি যখন রিয়ালে আসি, তখন এটা ছিল একটা অবস্থা। তখন সে রিয়াল ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিল। ক্লাবও তার এই ইচ্ছাটা গ্রহণ করেছিল তখন। সিদ্ধান্তটাকে আমি স্বাগত জানাই এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করি।’

    একই সঙ্গে হুলেন লোপেতেগুই এটাও জানিয়ে দেন যে, বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে স্পেন জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার কারণে নিজের মধ্যে কোনো দুঃখবোধ নেই তার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা নিয়ে নিজের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। ভবিষ্যতেও হয়তো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি।’

    বিশ্বকাপের পর লোপেতেগুইয়ের জায়গা নিয়োগ দেয়া হয়েছে বার্সেলোনার সাবেক কোচ লুইস এনরিকেকে। এ নিয়েও কোনো বক্তব্য নেই লোপেতেগুইর। তিনি বলেন, ‘স্পেন জাতীয় দল নিয়ে কোনো কিছু শুনলে তা আমার মর্মে আঘাত করে না। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে পেরে আমি খুবই খুশি। আমার সামনে এখন দারুণ এক চ্যালেঞ্জ। তবে আমি স্পেন জাতীয় দলের সব সময় ভালো কামনা করি। স্পেন দলের কোচ এনরিকে, প্রতিটি ফুটবলার- সবার প্রতিই রইলো আমার শুভেচ্ছা।’

  • ধীরে চল নীতি ‘ ইভিএম নিয়ে  ইসির

    ধীরে চল নীতি ‘ ইভিএম নিয়ে ইসির

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার ও কেনা নিয়ে ‘ধীরে চল নীতি’ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পরও ইভিএম প্রস্তুত রাখার জন্য আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে ইসি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পর ইসি এই নীতি অবলম্বন করেছে।

    মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তোড়জোড় করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। তবে স্বল্প পরিসরে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর নড়েচড়ে বসে ইসি। পরদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে উৎকণ্ঠা থাকা স্বাভাবিক। কারণ এটির ব্যবহার, উপকারিতা সম্পর্কে আমরা এখনও তাদের জানাতে পারিনি। পর্যায়ক্রমে তারা সব জানতে পারবেন। তবে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখব আমরা। আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কি-না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

    জানা যায়, বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল আপত্তি করলেও ৩৮২৯ কোটি টাকার কেনার পরিকল্পনা করেছে। এ টাকায় দেড় লাখ ইউনিট ইভিএম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে প্রায় সব দলই ইভিএমের বিপক্ষে মত দেয়। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে নির্বাচনে এই পদ্ধতির প্রয়োগ হবে না বলে আশ্বস্ত করেছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছিলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ নেই। কিন্তু কতিপয় উৎসাহী কর্মকর্তার কারণে আবার ইভিএমের দিকে ইসি ঝুঁকছে বলে অভিযোগ ওঠে। এখন এই ইভিএম ব্যবহার করতে গণপ্রতিধিত্ব অধ্যাদেশে সংশোধনী আনারও উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। পাঁচ নির্বাচন কমিশনারের একজন মাহবুব তালুকদার এ বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও তা আমলে নেয়নি ইসি। আরপিও এর সংশোধনী এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। পরে এটি সংসদে তোলা হবে।

    তবে এখন ইসি বুঝে শুনে এ ব্যাপারে এগুবে বলে  জানান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেন, ইভিএম চাপিয়ে দেয়া হবে না। সবার মতামত নিয়েই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

    এ বিষয়ে সিইসি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আইনগত কাঠামো আমাদের রয়েছে। এজন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। জাতীয় সংসদে যদি আইন পাস হয় তখন আমাদের প্রশিক্ষিত লোক যারা রয়েছেন, তাদের সক্ষমতা অর্জন, ইভিএম যদি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়; কেবল তখনই যতখানি ব্যবহারযোগ্য ততখানি করা হবে।

    প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের পর বিভিন্ন সময় কেনা ১ হাজার ৮০টি ইভিএম কিনেছিল ইসি। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি এসব ইভিএম তৈরি পর রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি ক্রুটি সারানোর জন্য প্রায় সাত কোটি টাকা খরচ হয়। পরে অকোজো হয়ে গেলে সম্প্রতি এগুলো ধ্বংস বা পরিত্যক্তের ঘোষণা করেছে ইসি।

  • এক পিস্তলে ২ জনের প্রাণ নিলো কালা মনির

    এক পিস্তলে ২ জনের প্রাণ নিলো কালা মনির

    শামীম ইসলাম:

    কুমিল্লার তিতাসের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন এবং দাউদকান্দির ইসলাম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া মনির ওরফে কালা মনিরকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

    সোমবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কালা মনির তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মৃত কানু মোল্লার ছেলে। মঙ্গলবার বিকেলে দুটি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ জালাল উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মনির। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা ডিবি পুলিশের এসআই সহিদুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, ডিবির একটি টিম নিয়ে সোমবার রাতে দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে দুটি হত্যার মিশনে সরাসরি অংশ নেয়া ঘাতক কালা মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করার পর দুটি হত্যার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় পৃথক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

    গত ৩ মে গভীর রাতে দাউদকান্দির বাজরা গ্রামে মো. ইসলামকে সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে ঢামেকে নেয়ার পর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

    অপরদিকে, গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিতাসের ভাটিপাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির হোসেন বাড়ির পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বসে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীরা গুলি ও কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

    তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দির গৌরীপুর হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে তিতাস থানায় পরদিন হত্যা মামলা করেন।

    দুটি হত্যা মামলায় সরাসরি কালা মনির অংশ নেয়। বর্তমানে দুটি হত্যা মামলা তদন্ত করছেন ডিবি পুলিশের এসআই সহিদুল ইসলাম।

    এসআই সহিদুল ইসলাম বলেন, ঘাতক কালা মনির আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মনির ও ইসলাম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে পৃথক পৃথক জবানবন্দি দিয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডে একই পিস্তলের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে হাজী মনির হত্যা মামলায় তিতাস থেকে মোফাজ্জল ও সুমনকে গ্রেফতারের সময় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি পরীক্ষা করে এর প্রমান পাওয়া যায়। ঘাতক কালা মনিরের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি ও তিতাস থানায় হত্যা, অস্ত্রসহ ৮টি মামলা রয়েছে।

  • ২-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

    ২-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

    শামীম ইসলাম:

    প্রায় দুই বছর আগে থিম্পুতে ভুটানের কাছে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসিত হয়েছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাইয়ে ৩-১ গোলের ওই হার বাংলাদেশের ফুটবলকে দিয়েছিল বড় এক ঝাঁকুনি। ২৩ মাস পর ঘরের মাঠে সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিলো বাংলাদেশ।

    মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা ২-০ গোলে হারিয়েছে ভুটানকে। গোল করেছেন তপু বর্মন ও মাহবুবুর রহমান সুফিল।

    এক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে খেললেই যারা হালি-হালি গোল খেয়ে মাঠ ছাড়তো সেই ভুটান হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের কঠিন প্রতিপক্ষ। যদিও দক্ষিণ এশিয়ার এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে কখনো হারাতে পারেনি পাহাড়ী দেশটি। সে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সহজ জয়েই শুরু করলো সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন।

    এ ম্যাচ ঘিরে দেশের ফুটবলামোদীদের অন্যরকম আগ্রহ ছিল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ভাঙ্গাচোরা চেয়ারে বসেই দর্শকরা সমর্থন ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে ফুটবলারদের। তারা হতাশ হননি, ঘরে ফিরেছে জয়ের আনন্দ নিয়েই। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে বৃষ্টি আসায় কিছু দর্শক গ্যালারি ছেড়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যারা জামাল ভুইয়াদের উৎসাহ দিয়েছেন গাটের পয়সা খরচ করে তাদের টিকিটের টাকা বিফলে যেতে দেননি সুফিলরা।

    Football

    শুরু থেকেই প্রধান্য ছিল স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় মিনিটে পাওয়া ম্যাচের প্রথম কর্নারেই গোলের উৎস তৈরি হয়। ওয়ালি ফয়সালের কর্নার গোলমুখে পড়লে আতিকুর রহমান ফাহাদকে ফাউল করেন ভুটানের এক খেলোয়াড়। থাইল্যান্ডের রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে গোল করে গ্যালারিতে আনন্দের বন্যা বইয়ে দেন তপু বর্মন।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ভুটান চেষ্টা করেছিল ম্যাচে কর্তৃত্ব নেয়ার। কিন্তু মাঝমাঠে সুসংগঠিত বাংলাদেশ সেটা হতে দেয়নি। বরং আস্তে আস্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেন জামাল ভুইয়ারা।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে বিপুল আহমেদের ক্রস ধরে একটু সামনে এগিয়ে দুর্দান্ত ভলিতে ভুটানের জাল কাঁপিয়ে দেন সুফিল। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় দিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে আনার মিশন শুরু করে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশ একাদশ : শহিদুল আলম সোহেল, তপু বর্মন, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল হোসেন বাদশা, ওয়ালি ফয়সাল, মাসুক মিয়া জনি (ইমন বাবু), বিপলু আহমেদ, আতিকুল ইসলাম ফাহাদ, জামাল ভুইয়া, মাহবুবুর রহমান সুফিল ও সাদউদ্দিন (ফয়সাল মাহমুদ)(মামুনুল ইসলাম)।

    ভুটান একাদশ : শেরিন স্যামডাপ, চুফেল জিগমে (চকি ওয়াংচুক), গ্যালে জ্যাংপো, চেনচো, কারমা শেডরুপ, টেনজিন দর্জি, পুনসু জিগমে, কেনচো টবগে, নিমা ওয়াংডি, শেরিং দর্জি ও শেরিন ড্যানডুপ।

  • ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন : নাসিম

    ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন : নাসিম

    শামীম ইসলাম:

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হবে। কোন শক্তি এ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।

    তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো ফিরে আসবে না। সাহস থাকলে মাঠে আসুন, মাঠে হবে খেলা, মাঠ ছেড়ে পালাবেন না। না হলে খালি মাঠে গোল দেয়া হবে।

    আজ মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়েছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ নেই, সে সময় সারা বাংলাদেশে ক্যামেরা থাকবে, সাংবাদিক থাকবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে এবং আগামী নির্বাচনে জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষতায় আনবে।

    হুইপ মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মতিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান, জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি।

    পরে তিনি বড়লেখা উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আরেকটি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স-এর উদ্বোধন করেন।

  • শর্ত ছাড়াই ৯৪৭ কোটি টাকা পাবেন ডিএসইর সদস্যরা

    শর্ত ছাড়াই ৯৪৭ কোটি টাকা পাবেন ডিএসইর সদস্যরা

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়াম (জোট) ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে ৯৬২ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্য থেকে সরকারের কোষাগারে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ ১৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছে ডিএসই। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের শর্তহীনভাবে ভাগ করে দেয়া হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান। চীনা জোটের কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তি এবং ডিএসইর শেয়ার হস্তান্তর উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    মাজেদুর রহমান বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে দু’টি জোটের কাছ থেকে আমরা উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব পায়। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেতে শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়াম প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিএসইসি আমাদের প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন করে।

    তিনি বলেন, ২৫ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোট ইতোমধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ট ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছে। আজ সকালে বোর্ড সভার মাধ্যমে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার চীনা জোটের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোটের কাছ থেকে ৯৬২ কোটি টাকা এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি হিসেবে সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শেয়ার বিক্রির এই টাকা ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের। কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই এ টাকা ব্রোকারদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। ব্রোকাররা তাদের ইচ্ছা মতো টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে তারা যেহেতু শেয়ার ব্যবসা করেন, তাই আমরা আশা করব তারা এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন।

    তবে কবে নাগাদ শেয়ার বিক্রির টাকা সদস্যদের বুঝিয়ে দেয়া হবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন এক প্রশ্ন করা হলে তার কোনো উত্তর দেননি মাজেদুর রহমান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, রকিবুর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন, শরীফ আতাউর রহমান, চীনা জোটর প্রতিনিধি হিসেবে ডিএসইর নতুন পরিচালক নির্বাচিত হওয়া চি ওয়েন হাই প্রমুখ।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে চি ওয়েন হাই বলেন, চীনা জোট গভীর গবেষণা ও পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি আন্তরিক, সহযোগিতামূলক ও উভয়ের জন্য উপকারী কাজ করবে। দরপত্রে ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোহিতার ভিশন নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়েছে। ডিএসই ও চীনা কনসোর্টিয়াম উভয় দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে চীনের দুই শেয়ারবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম। এক্ষেত্রে লেনদেনে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, পণ্যের উন্নয়ন ও বাজারের বিভিন্ন বিষয়ের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

    এর আগে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম বলেন, শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিএসইর অংশীদার হয়েছে বিশ্বের নামকরা শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। এর মাধ্যমে ডিএসই আন্তর্জাতিকমানের স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর হয়েছে।

    উল্লেখ্য, চীনা জোটটিকে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চলতি বছরের ৩ মে অনুমোদন দেয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বিএসইসির অনুমোদনের পর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে গত ১৪ মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডিএসই। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনে নিয়েছে।

  • অনুমোদন পেল ডেলটা পরিকল্পনা

    অনুমোদন পেল ডেলটা পরিকল্পনা

    ব-দ্বীপ হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা পরিপূর্ণরূপে কাজে লাগাতে পরিকল্পনা নিলো সরকার। অনুমোদন পেল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা ‘ডেলটা প্লান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০।’ এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যা, নদী ভাঙন, নদী শাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ পরিকল্পনার অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভার বিস্তারিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১ দশকিক ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। এত লম্বা সময়ের পরিকল্পনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম- এমনকি বিদেশেও হয়নি।

    তিনি জানান, আজকের দিনটি আমাদের দেশের জন্য একটি ’রেড লেটার ডে’। ২১০০ সাল নাগাদ আমরা দেশকে পানি ব্যবস্থাপনায় কীভাবে দেখতে চাই, এটা তারই পরিকল্পনা।

    তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে থেকে ২০৪১ সাল নাগাদ আরেকাট পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। এর আলোকে আমরা উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাব।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডস এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৬ হাজার স্কয়ার কিলোমিটার নতুন ভূমি পেয়েছে। তাদের সহযোগিতাতেই এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। পানি আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই পানিকে আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে কৃষিতে আমরা পিছিয়ে থাকব না। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারব।

    ডেলটা পরিকল্পনায় যা আছে

    নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবছর জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রায় আড়াই শতাংশ অর্থের প্রয়োজন হবে। ২০৩১ সাল নাগাদ প্রতিবছর ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

    নেদারল্যান্ডস’র ডেলটা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা তৈরির কাজ তিন বছর আগে শুরু করে সরকার।

    পরিকল্পনার ধারণা অনুযায়ী, দেশজ আয়ের মোট চাহিদার আড়াই শতাংশের মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অর্থায়ন বেসরকারি খাত থেকে এবং ২ শতাংশ সরকারি খাত থেকে যোগান দিতে হবে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বেশিরভাগ সরকারি অর্থায়ন বন্যা থেকে রক্ষা, নদী ভাঙন, নিয়ন্ত্রণ, নদী শাসন, এবং নাব্যতা রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ নদী ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হবে।

    জিইডি সূত্রে জানা যায়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ এর প্রাথমিক ধাপ বাস্তবায়ন হবে ২০৩০ সাল নাগাদ। এই পরিকল্পনা যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি ভৌত অবকাঠামো-সংক্রান্ত এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাবিষয়ক প্রকল্প রয়েছে।

    আর বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছয়টি স্থানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো- উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল এবং নগর এলাকা। অঞ্চলভেদে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য এবং এর সাধারণ ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

  • কারাগারে খালেদার বিচার কাজ পরিচালনার গেজেট প্রকাশ

    কারাগারে খালেদার বিচার কাজ পরিচালনার গেজেট প্রকাশ

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রমের জন্য কারাগারের ভেতরেই আদালত বসানো হবে। মঙ্গলবার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

    গেজেটে বলা হয়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসা ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এসব মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালীন এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের কক্ষটিকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে।

    বুধবারই (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের অফিসের একটি কক্ষ বিচার কাজ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

    গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার পর থেকে তিনি অন্য কোনো মামলায় আর হাজিরা দেননি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। এই পরিস্থিতিতে আদালতকেই কারাগারে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যে আদালত দণ্ড দিয়েছেন, সেখানে আরও একটি মামলা শেষ পর্যায়ে আছে।

    জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেন।

    এই মামলায় এখন কেবল খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি। কিন্তু সাত মাসেও তার এই যুক্তি উপস্থাপন হয়নি। ফলে এই মামলার শুনানি কবে শেষ হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    এর মধ্যে কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে খবর ছড়ায় এবং তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। বিএনপি নেত্রীকে একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। এরপর আরেক দফা তাকে সেখানে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও যাবেন না বলে জানান।

    বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির আরও চারটি মামলা চলছে এবং তার অনুপস্থিতির জন্য সবগুলো মামলারই কার্যক্রম আটকে আছে।

  • ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরো ১১ মামলা

    ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরো ১১ মামলা

    বকেয়া পরিশোধ না করায় ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা ও বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার শ্রম আদালতে তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করেন ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকমে বর্তমানে কর্মরত ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী। মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসানকেও আসামি করা হয়েছে।

    ১১টি মামলাসহ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৯০টি মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পল্লীফোন ছাড়াও নকিয়া ও হুয়াওয়ের সার্ভিস দিয়ে থাকে।

    প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফা হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এ মুনাফা কর্মীদের পরিশোধ করা হয়নি। গত দশকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ২১ হাজার কোটি টাকার ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ কোটি টাকা কর্মী ও সরকারকে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই অর্থের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের পরিশোধ, ১০ শতাংশ সরকার এবং ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ ফান্ডে জমা দেয়ার কথা।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ বিষয়টি  নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় আরো ৭৯টি মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০টি।

    দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  • মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ : বরিশালে সুবেদার পিতাসহ নারী কনস্টেবল জেলে

    মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ : বরিশালে সুবেদার পিতাসহ নারী কনস্টেবল জেলে

    মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ দিয়ে নারী কনস্টেবল পদে চাকুরি নেয়ার অভিযোগে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাসহ নারী কনস্টেবলকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।
    সোমবার বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহম্মেদ তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
    জেল হাজতে প্রেরণকৃতরা হলেন- বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার মৃত করিম গাজীর ছেলে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সুবেদার আব্দুল লতিফ গাজী এবং তার মেয়ে নারী কনস্টেবল মিল্কী আক্তার।
    মামলার বরাত দিয়ে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই খোকন জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে ২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী নারী কনস্টেবল মিল্কী আক্তার চাকুরি পায়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাছাইয়ে জানাযায় মিল্কীর আক্তারের পিতা সাবেক সুবেদার আব্দুল লতিফ গাজীর সনদটি জাল।
    এর আগে ৬ মাসের ট্রেনিং শেষ করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগদান করে নারী কনস্টেবল মিল্কী আক্তার।
    পরে পুলিশ হেডকোয়াটার্সের নির্দেশে রিজার্ভ পুলিশের এসআই কবির হোসেন ২০১৮ সালের ৩০ মে বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
    সোমবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে বিচারক উভয়কে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।