Author: banglarmukh official

  • কবি শফিক আমিনের অক্ষমতার গল্প

    কবি শফিক আমিনের অক্ষমতার গল্প

    কবিতাঃ  অক্ষমতার গল্প

    কবিঃ  শফিক আমিন

    না’পারার কষ্ট কি ‘তিনি’ বোঝেন ?

    ইদ এলেই আমার অসুখ বাড়ে

    বার বার পকেট উল্টে দেখি

    ব্যবহৃত ব্যাগের চেইন খুলি উল্টে-পাল্টে ;

    কোথাও একটা সুগন্ধি সাবানের টাকা জমে নেই !

    সিগারেটের শূন্য প্যাকেট ঝাকিয়ে দেখার মত নিজেকে ঝাকাই

    সবার অলক্ষে আলো জ্বালি, খুঁজি নোটবুক

    দেনার দীর্ঘ তালিকা বেড়িয়ে আসে !

    নিঃশব্দে বালিশের নিচে চাপা দেই ফনাতোলা সাপের হিসহিসানি ।

    ঘুমপিলে ব্যপক অভিনয়,

    শিশুরা দিনগুলো কাটায় অন্যের কেনা ইদ সামগ্রী দেখে ;

    প্রতিবেশীর উঠানে বাঁধা ষাড়ের গল্প করে,

    ওরা বাবার অক্ষমতাকে মৌনতায় ঢাকে ‘চুপ, বাবার খুব অসুখ’

    ওরা স্বপ্নেও দেখেনা, কোনোদিন নিজেদের আঙ্গিনায় বাঁধবে ষাড়

    নতুন পোষাকে ডেকে আনবে আনন্দ !

  • জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বিএনপি!

    জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বিএনপি!

    নানামুখী চাপের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ দলীয় জোটের দ্বিতীয় প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে জোটের নেতৃত্বদানকারী দল বিএনপি। সিলেটসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের রহস্যময় ভূমিকার কারণে দীর্ঘ দিনের এই সঙ্গীর প্রতি আকষর্ণ কমলেও ভোটের রাজনীতির কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নিয়ে নেতিবাচক ঘোষণা দিতে চাইছে না বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

    একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দলের ভেতরে-বাইরে এবং দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। জবাবে দলটি বলছিল এই মিত্রতা আদর্শিক নয় শুধুই নির্বাচনী জোট। তবে সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত প্রার্থীর ভরাডুবি এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাদের জোটে রাখার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন প্রবল আকার ধারণ করেছে।

    সম্প্রতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে। সেখানে জামায়াত ইস্যুও গুরুত্ব পায়। বিএনপিতে জামায়াত বিরোধীরা মনে করছেন- ভোটের মাঠে এখন আর জামায়াতের জনপ্রিয়তা নেই, সময় এসেছে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের।

    বিএনপিকে নিয়ে সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে ইতোমধ্যেই দলটির প্রতি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের শর্ত দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

    তবে বিএনপি সূত্র জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের ভোট ব্যাংকের বিষয়টি বিবেচনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির নেতারা মনে করছেন, নিবন্ধনহীনতার কারণে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে জামায়াতকে নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না। সার্বিক পরিস্থিতিতে জামায়াতকে নিয়ে কৌশলগত অবস্থানে থাকাটাই সুবিধাজনক মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

    পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি অতীতে সব সময় সুবিধাবাদী অবস্থানে রয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটি অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে কৌশলে ব্যবহার করে দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান করে নেয়।

    তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় জামায়াত। পরবর্তী সময়ে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও জামায়াত অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করায় জামায়াতের সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।

    সরকার গঠনের কিছুদিন পর জামায়াতের তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মূলা দেন। বিএনপি সেই ফর্মুলার বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তা সমর্থন করে। বিএনপি জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মূলা না মানায় বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয় জামায়াত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে জয়ী হলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির ভরাডুবি হয়। মাত্র ৩টি আসন পেয়ে পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গে আবারও জোট বাধে দলটি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই দৃশ্যমান।

    জামায়াতের সঙ্গ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, ‘জোটের রাজনীতি, জোটের নির্বাচন, জোটের আন্দোলন, জোটের আসন বন্টণ এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমার মনে হয় নতুন করে চিন্তা করবার সময় এসেছে। নতুন করে পথ চলবার সময় এসেছে।’

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দল আলাদা করে করলে নির্বাচনের পর ওই সরকার গঠনে সমমনাদের নিয়ে জোট হতে পারে।’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জামায়াত নিজেদের যেভাবে মাপে, যত বড় করে মাপে, তত বড় নয়, আমাদের জন্য সুবিধা হলো পরবর্তী পর্যায়ে তাদের অযৌক্তিক আবদার নাকচ করার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবো।’

    সাধারণ মানুষ নিজের মতো করে ভোট দিতে পারলে বিএনপি একাই যথেষ্ট মনে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে জামায়াতের সঙ্গ নিয়ে এখনই নেতিবাচক ঘোষণা দিলে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘এটা দিলে তো নানা রকমের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা তো এটা এখন বলতে চাই না। কারণ আমরা এখনও একটা জোটের মধ্যে আছি। আমরা তো আলাদা চিন্তা করতে পারছি না এখনও।’

  • কলকাতায় বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ

    কলকাতায় বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ

    শিল্পী-কলাকুশলী ও প্রযোজকদের দ্বন্দ্বে টানা পাঁচ দিন বন্ধ রয়েছে কলকাতার মেগা সিরিয়ালের শুটিং। টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে বেশিরভাগ ধারাবাহিকেরই কোনো নতুন এপিসোড জমা পড়েনি।

    মূলত বেতন ও ওভারটাইমের দাবিতে শনিবার থেকে চলছে এ ধর্মঘট। আগে বিভিন্ন সিরিয়ালের যে পর্বগুলোর শুটিং করা ছিল, সেগুলো মাত্র দিন দুয়েক চালানো গেছে। ফলে এখন চলতে হচ্ছে পুরনো পর্ব দিয়েই।

    টানা পাঁচদিন শুটিং বন্ধ থাকায় থমকে গেছে ৩০টার মতো সিরিয়াল। রানি রাসমনি, জয় বাবা লোকনাথ, কুসুমদোলা, ফাগুন বউ, কৃষ্ণকলি, বকুল কথা, সীমারেখা, সাত ভাই চম্পার পুরনো পর্বই চলছে।

    সোমবার থেকেই চলছে রিপিট শো। ফলে দর্শকরা অধৈর্য হয়ে উঠছেন। তার চেয়েও বড় কথা, বাংলা সিরিয়ালের ওপরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখখানেক মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। প্রযোজকদের সঙ্গে ফিল্ম কলাকুশলীদের সংস্থা আর্টিস্টস ফোরামের একের পর এক বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।

    এদিকে টিভি সিরিয়াল নিয়ে অচলাবস্থার মোকাবিলায় এ বার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তিনি ডেকেছেন। অচলাবস্থা নিরসনে প্রয়োজনে সরকার কঠোর নির্দেশও জারি করতে পারে।

    গত ৭ জুলাই রাজ্যের মন্ত্রী টেলি অ্যাকাডেমির সভাপতি অরূপ বিশ্বাসের মধ্যস্থতায় প্রযোজকদের সংগঠন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন প্রোডিউসার (ডব্লিউএটিপি) এবং শিল্পীদের সংগঠন, পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার্স আর্টিস্টস ফোরামের (ডব্লিউবিএমপিএএফ) তরফে যৌথভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার মধ্যে শিল্পী-কলাকুশলীদের বকেয়া টাকা মেটানো এবং কাজের সময় ১০ ঘণ্টায় বেঁধে দেয়া ছিল অন্যতম। তারপরও ফের জল ঘোলা হওয়ায় শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে শুটিং।

    এ ক্ষেত্রে কাজ বন্ধ রাখার আন্দোলন করছেন প্রযোজকেরাও। যদিও শিল্পীদের দাবি, তাঁরা শুটিং করার জন্য প্রস্তুত। তবে সময়সীমা এবং বকেয়া মেটানোর দাবি মানতেই হবে।

    আবার সমস্যা না মিটলে ৩১ অগাস্টের পর থেকে বন্ধ হতে পারে ছবির শুটিং- এমন খবরও রয়েছে। ফলে আপাতত সব পক্ষকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে মমতার আজকের বৈঠকের দিকে।

  • হজ করতে গিয়ে ৬৯ জনের মৃত্যু

    হজ করতে গিয়ে ৬৯ জনের মৃত্যু

    পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে চলতি বছর সৌদি আরবে ৬৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী। মৃত ৬৯ জনের মধ্যে মক্কায় ৪৭ জন, মদিনায় ছয়জন, জেদ্দায় দুইজন, মিনায় আটজন ও আরাফাতে ছয়জন মারা যান।

    সর্বশেষ গতকাল বুধবার (২২ আগস্ট) মক্কায় শামসুল ইসলাম নামে এক হাজি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। পাসপোর্ট নম্বর বিকিউ (০৯৭৭০৭৭)।

    এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন হজ করতে গেছেন। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট ও শেষ ফিরতি ফ্লাইটটি দেশে পৌঁছাবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর।

  • ঈদের ছুটিতে ভারত যেতে উপচেপড়া ভিড়

    ঈদের ছুটিতে ভারত যেতে উপচেপড়া ভিড়

    পাঁচ দিনের ছুটিতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার দ্বিগুণ বেড়েছে। প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত, চিকিৎসা, ব্যবসা, কেনাকাটা ও বেড়ানোর উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঈদ প্যাকেজে অসংখ্য বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। ফলে ঈদের ছুটির সোম, মঙ্গল ও বুধবার-এই তিন দিনে প্রায় ১২ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গেছে।

    বুধবার সকালে চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের নো-ম্যানসল্যান্ড ও যাত্রী টার্মিনালের সামনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সারতে শুল্ক কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন পুলিশের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। লাইন ঠিক রাখতে বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

    এদিকে, প্রচণ্ড রোদে ও খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার নারী, শিশু ও পুরুষ। ধীর গতির কারণে দুই দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

    ঢাকায় চাকরি করেন অমিত কুমার সাহা। বুধবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ভবনে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি করি। তাই ঘুরে বেড়ানোর সময় পাই না। এবার ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়ায় ভারতে বেড়াতে যাচ্ছি। কয়েকজন আত্মীয় আছে। এ সুযোগে তাদের সঙ্গে দেখা হবে, বেড়ানোও হবে। কিন্তু ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি লাইনে। কখন পার হবো জানি না।

    যাত্রী টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা জামিল হোসেন বলেন, শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। ভারতে গিয়ে ভালো ডাক্তার দেখাব। কাজের ব্যস্ততার কারণে এতদিন সময় করে উঠেতে পারেনি। লম্বা ছুটিতে ব্যস্ততা কম থাকার সুযোগে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি। চিকিৎসা শেষে ভারতের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরব। ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের প্রচুর ভিড় থাকায় পাসপোর্টের কার্যাদি সম্পন্ন করতে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

    Benapole-Chackpost1

    ময়মনসিংহের প্রদীপ কুমার বলেন, পরিবার নিয়ে ভারত যাচ্ছি। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও সোনালী ব্যাংক বুথে জনবল কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে। যাত্রী যাতায়াত বাড়লেও এসব প্রতিষ্ঠানে জনবল বাড়ছে না। অথচ ভ্রমণকর বাবদ ৫০০ ও বন্দরের টার্মিনাল চার্জ বাদ ৪৫ টাকা করে আদায় করে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। অল্প সময়ে এবং কম খরচে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে কলকাতা হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে যাওয়া যায়।

    ফলে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার পাসপোর্ট যাত্রী এই পথে ভারত যান। তবে ঈদের ছুটিতে পাসপোর্ট যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। গত তিনদিনে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১২ হাজার যাত্রী বেনাপোল দিয়ে ভারতে গেছেন।

    বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ইমিগ্রেশনে কোনো সমস্যা নেই। পাসপোর্ট যাত্রীদের চাপ বাড়লেও দুর্ভোগের কথা মাথায় নিয়ে ১৬টি ডেস্কে দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে অফিসাররা। এবার ঈদে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভারত ভ্রমণের চাপ অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি। যাত্রীদের যাতে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সেজন্য ইমিগ্রেশন আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যাত্রী সেবা বাড়াতে ইমিগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা বলেন, যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন তার জন্য ঈদের ছুটির মধ্যেও জনবল বাড়িয়ে চেকপোস্ট শুল্ক তল্লাশি কেন্দ্রে কাজ চলছে।

  • হজ করতে গিয়ে ৬৯ জনের মৃত্যু

    হজ করতে গিয়ে ৬৯ জনের মৃত্যু

    পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে চলতি বছর সৌদি আরবে ৬৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী। মৃত ৬৯ জনের মধ্যে মক্কায় ৪৭ জন, মদিনায় ছয়জন, জেদ্দায় দুইজন, মিনায় আটজন ও আরাফাতে ছয়জন মারা যান।

    সর্বশেষ গতকাল বুধবার (২২ আগস্ট) মক্কায় শামসুল ইসলাম নামে এক হাজি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। পাসপোর্ট নম্বর বিকিউ (০৯৭৭০৭৭)।

    এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন হজ করতে গেছেন। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট ও শেষ ফিরতি ফ্লাইটটি দেশে পৌঁছাবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর।

  • মর্যাদায় প্রত্যাবাসনের আকুতি নিয়ে কাঁদলেন রোহিঙ্গারা

    মর্যাদায় প্রত্যাবাসনের আকুতি নিয়ে কাঁদলেন রোহিঙ্গারা

    গত বছরের কোরবানির সময়টা প্রাণ বাঁচাতে কেটেছে বন-জঙ্গল, পাহাড়, ধানক্ষেত ও নদী সাঁতরিয়ে। কোনোমতে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসে জড়ো হয়ে করা হয় আশ্রয়ের আকুতি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্রতার মাঝেও লাখো বিপদাপন্নকে টেনে নেন বুকে। এর মাঝে কেটে গেছে একটি বছর।

    বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পালিত হলো মুসলমানদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ। নিজ দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো কোরবানির ঈদ কেটেছে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত ৩০ ক্যাম্পের প্রায় আট লাখ নতুন আসা রোহিঙ্গার। তাদের সাথে পুরনো সোয়া তিন লাখ রোহিঙ্গা মিলে ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছে।

    নিজ দেশে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার রোহিঙ্গারা বুধবার শরণার্থী শিবিরের এক হাজার ২৬৫ মসজিদ ও ৫৬০টি মক্তবে ঈদের নামাজ আদায়ের পর চোখের জলে হারানো স্বজনদের স্মরণ করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদের নামাজ আদায়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমাম ও মুসল্লিরা। মোনাজাতে অংশ নেয়া লাখো রোহিঙ্গা মর্যাদার সাথে নিরাপদ প্রত্যাবাসন কামনা করে স্রষ্টার দরবারে ফরিয়াদ করেন।

    গত বছর এই দিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপরে দেশটির সেনাবাহিনী বর্বর নির্যাতন চালায়। ফলে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা নিজেদের আবাসস্থল ছেড়ে পালাতে থাকেন। এভাবে পালাতে গিয়ে অনেকে হারিয়েছেন বাবা-মা ও কাছের স্বজন। অনেক নারী হয়েছেন ধর্ষণের শিকার। সর্বস্ব হারানো এসব রোহিঙ্গাদের ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলে।

    উখিয়ার মধুরছরা ক্যাম্পের ডাবল ‘ও’ ব্লকের মাঝি সালামত খান বলেন, মিয়ানমারে আমাদের গোয়ালভরা গরু ছিল। প্রতি বছর আমরা একটা গরু কোরবানি দিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করতাম। কিন্তু এবার নিজের বাপ-দাদার ভিটাতেই অবস্থান নেই। ভিনদেশে প্রাণটা নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। মিয়ানমারের আগ্রাসনে বাবা-মাসহ অনেককে হারিয়েছি, আজ তাদের বেশি মনে পড়ছে।

    পাশের আরেক ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের নামাজ আদায় করতে পারিনি। আজকের এই দিনে আমরা ছিলাম রাখাইনের একটি পাহাড়ি জঙ্গলে। এবার বাংলাদেশে অন্তত ভালো করে ঈদের নামাজটি আদায় করতে পেরেছি।

    উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি লাল মোহাম্মদ বলেন, আরাকানে আমরা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশত্যাগ করলেও স্বজনদের কবর ও বাপ-দাদার ভিটামাটির জন্য মন কান্দে। মর্যাদার সাথে নিরাপদ প্রত্যাবসন হলে আমরা ফিরে যেতে চাই। এটিই ঈদ জামাত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে বলেছি। এখানে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকলেও আশ্রিত জীবন আনন্দহীন।

    উখিয়ার রাজাপালং ইউপির কুতুপালং এলাকার সদস্য বখতিয়ার আহমদের ছেলে হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদের নামাজ শেষে ইমাম যখন আরাকানে মাটির নিচে ফেলে আসা স্বজনদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া শুরু করেন তখন মসজিদে উপস্থিত সববয়সী রোহিঙ্গা চোখের জলে বুক ভাসান। মোনাজাতে বিপদাপন্ন সময়ে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন কামনা করা হয়।

    r

    তিনি আরও জানান, বয়োবৃদ্ধরা মনোকষ্ট নিয়ে থাকলেও ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য বিগত বারের মতো আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়। নাগরদোলা, রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বৈশাখী মেলার আদলে আয়োজন করে স্থানীয় কিছু মানুষ। নতুন জামা পরে সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনন্দে মত্ত ছিল শিশু-কিশোররা।

    উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন। এদের সিংহভাগ উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। নতুন আসা প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার দেশের বাইরে এটাই প্রথম ঈদ। স্বাভাবিভাবে এ দিনে কোরবানির পশুর মাংস না পেলে সবার খারাপ লাগে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম রোহিঙ্গা সব পরিবারে অন্তত দুই কেজি করে মাংস দেব। এনজিও’রা কথা দিয়েও শেষতক তা রাখেনি। ফলে আমরা সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারিনি।

    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজারের ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত এক হাজার ২০টি মসজিদ ও ৫৪০টি নুরানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মক্তক) ও টেকনাফের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঁচটি, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪৫টি মসজিদ ও ২০টি নুরানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মক্তব) রয়েছে। এসব মসজিদ ও নুরানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের জামাত আদায় করেছেন শরণার্থী রোহিঙ্গারা।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে আসে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও প্রায় সোয়া তিন লাখ রোহিঙ্গা। এরাসহ এখন ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে বাংলাদেশে। যুগের পর যুগ বংশ পরম্পরায় তারা রাখাইনে বাস করলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।

    উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকেবাঁকে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের বীজ বপন করেছে, ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতায় ভোগে রোহিঙ্গারা। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনো নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরংয়ের পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। ধাপে ধাপে মিয়ে গেছে তাদের পরিচয়। এভাবে তারা রূপান্তরিত হয়েছে রাষ্ট্রহীন নাগরিকে। তাই মর্যাদার সাথে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আশায় রয়েছে এসব নিপীড়িত মানুষ।

  • ঈদের দিন বগুড়ায় ৫ জনের মৃত্যু

    ঈদের দিন বগুড়ায় ৫ জনের মৃত্যু

    বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুইজন। বুধবার শাজাহানপুর উপজেলার নাঝিরাবাজার এলাকার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন ও শেরপুরে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, জেলার কাজীপুর উপজেলার হাজরাহারি গ্রামের সোহরব হোসেনের ছেলে শামীম আকাশ (২৮) ও জয়নাল আবেদিন সোহেল রানা (২৭)। আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

    বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল আজিজ জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাঝিরাবাজার এলাকায় অটোরিকাশাটি শাজাহানপুর থেকে যাত্রী নিয়ে শেরপুর যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা রংপুরগামী আল হামরা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক আরও দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

    এদিকে শেরপুর উপজেলার শালপাড়া বোয়ালকান্দি এলাকায় বেলা ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন আকাশ ও রানা ।

    শেরপুর থানা পুলিশের ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, তারা উপজেলার কাজীপুর থেকে মোটরসাইকেলে করে শেরপুর যাচ্ছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

  • কোরবানির গরু রেখে কৃষককে জবাই দিলেন কসাই

    কোরবানির গরু রেখে কৃষককে জবাই দিলেন কসাই

    বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাটের পশ্চিম রতনপুর গ্রামে কোরবানির গরু জবাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অলি ঘরামি (৪৫) নামের এক কৃষকের গলা কেটে দিলেন কসাই।

    এ সময় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ৯টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত অলি ঘরামি পশ্চিম রতনপুর গ্রামের মৃত মজিদ ঘরামির ছেলে। আটকরা হলেন পশ্চিম রতনপুর গ্রামের শাহ আলম ও তার ভাইয়ের স্ত্রী শারমিন বেগম।

    কাজীরহাট থানা পুলিশের ওসি হারুন আর রশিদ বলেন, ঈদের নামাজ শেষে বাড়ির পাশের খালের ঘাটে গরু কোরবানি করতে যান শাহ আলম।

    সেখানে অলি ঘরামির স্ত্রীসহ কয়েকজন গোসল করছিলেন। এ সময় অলি ঘরামি খালের ঘাটে গরু কোরবানি না দিয়ে অন্য স্থানে করতে বলেন কসাই শাহ আলমকে।

    এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় গরু কোরাবানির ছুরি দিয়ে অলি ঘরামির গলা কেটে দেন শাহ আলম। সেই সঙ্গে অস্ত্রের আঘাতে ছয়জন আহত হন।

    আহতদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অলি ঘরামিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ওসি হারুন আর রশিদ বলেন, এ ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে শাহ আলম ও তার ভাবিকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে রাস্তায় নেমেছে ছাত্রলীগ

    কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে রাস্তায় নেমেছে ছাত্রলীগ

    কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছে কক্সবাজারের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে পৌরশহরের বিমানবন্দর সড়কের পাশে পড়ে থাকা বর্জ্য অপসারণ দিয়ে এ যাত্রা শুরু করেছেন তারা।

    বর্জ্য অপসারণে নেতৃত্ব দেয়া কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশব্যাপী চলছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ উদযাপন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পাড়া-মহল্লায় দেয়া হয়েছে অসংখ্য পশু কোরবানি। গ্রামে খোলা জায়গায় পশু জবাই হলেও শহরের সংকীর্ণ এলাকায় পশু জবাই হয়েছে রাস্তার ধারে, পথের উপর। কক্সবাজার পৌর শহরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কিন্তু অনেকে জবাই করা পশুর নিথর দেহটা উঠানে কিংবা বাসাবাড়ির বারান্দায় নিয়ে মাংস কাটাকাটি ও ভাগ বসানো নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু বর্জ্যগুলো তৎক্ষণাত অপসারণ হয়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ বাড়ায় দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু করে বর্জ্যগুলো।

    তিনি আরও জানান, পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা সিডিউলে উপসড়কগুলোতে কবে আসবেন তার সঠিক সময় নির্ধারণ নেই। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছি।

    মইন জানান, পশু জবাই করা স্থানগুলো পরিষ্কার করে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দুর্গন্ধ মুক্ত করার চেষ্টা করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিমানবন্দর সড়ক হিসেবে এটি ভিআইপি এলাকা। ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিমান থেকে নেমে এ সড়ক দিয়েই হোটেল ও গেস্ট হাউসে যাচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে পর্যটক এবং স্থানীয়রা নাকে রুমাল দিয়ে চলছে দেখে আমরা তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে মাঠে নেমেছি।

    Student-lig-1

    দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে বাসাবাড়ি থেকে পাইপ টেনে পানি দিয়ে রাস্তায় জমে থাকা রক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন। পশুর নাড়ি-ভুড়ি-হাড়-বর্জ্য একটা নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে পরে বালতি ভরে সেগুলো দূরবর্তী ডাস্টবিনে রেখে আসা হয়। মেয়রের এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে নেমেছে খবর পেয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও কাজে নেমেপড়ে বলে জানায় স্থানীয়রা।

    কক্সবাজার পৌর মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, পর্যটন নগরীর বাসিন্দা হিসেবে নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে পৌরসভার পাশাপাশি নিজেদেরও যে দায়িত্ব রয়েছে সেটাই তারা প্রমাণ করেছে। কক্সবাজার পৌর ও ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নেমে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে তা আগামীতে পরিচ্ছন্ন দেশ গঠনে তাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    পৌর মেয়র জানান, কক্সবাজার পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডের ৬১ স্পটে এবার কোরবানির পশু জবাই করার স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপরও কিছু কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে পশু জবাই হয়েছে। সেসব এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ক্রমে বর্জ্য অপসারণ করছে।

    উল্লেখ্য, কক্সবাজারের ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের পূর্বে সদর আসনের এমপি সাইমুম সরোয়ার কমল, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।