Author: banglarmukh official

  • ভুল না বোঝার আহ্বান সাকিবের

    ভুল না বোঝার আহ্বান সাকিবের

    ‘আমি এখন ফ্লোরিডায় আছি। আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমার তরুণ ফ্যানদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাই’- এভাবেই শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে সাকিব আল হাসান ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনেকগুলো কথা লেখেন। যেখানে তার লেখার শুরুটা ছিল এমন। এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, তারা যেন এবার পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। কারণ, তাদের দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এও বলেছেন, দাবি পূরণে ব্যত্যয় ঘটলে পরবর্তীতে তাকে পাশে পাবে শিক্ষার্থীরা।

    সাকিবের এই আহ্বান ফেসবুক থেকে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সাকিবের আহ্বানকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি আন্দোলনকারীরা। বিশেষ করে নেটিজেনরা। তারা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখা শুরু করে সাকিবের বক্তব্যকে। সবচেয়ে বড় কথা, সাকিবের এই বক্তব্যে রাজনীতি খুঁজে পেয়েছেন সমালোচনাকারীরা। যে কারণে, তার পোস্টের নিচে বিরোধীদের সমালোচনামূলক মন্তব্য ছাড়াও ছিল অশ্রাব্য গালি-গালাজ।

    তীব্র সমালোচনা এড়িয়ে যায়নি সাকিবের চোখ। যে কারণে পূনরায় ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড পেজে আরেকটি স্ট্যাটাস দিতে বাধ্য হন সাকিব আল হাসান। সেখানে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, ‘তাকে যেন ভুল বোঝা না হয়।’

    Shakib-1

    শুধু লেখাই নয়, ভিডিও বার্তায় কথা বলেন সাকিব নিজেই। ভুল না বোঝার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে সাকিব লিখেন, ‘আমার সকল ভক্তদের জানাচ্ছি যে, আপনারা হয়তো আমার ব্যক্ত করা কথায় আমাকে ভুল বুঝছেন। দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমারও আপনাদের সবার মতো পরিবার আছে, যাদের নিরাপত্তা আমার কাছেও অনেক বেশি মূল্যবান। আমি আপনাদেরই একজন, আমি সব সময় আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতেও থাকব। আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনাদের আন্দোলনকে একটি সঠিক ফলাফলে পৌছে দেয়ার জন্যে আমাদের সরকারকে সুযোগ দেয়া উচিত। যেন সরকার খুব দ্রুত আপনাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পারে।’

    শনিবার রাতে সাকিবের পোস্ট করা এই ভিডিও স্ট্যাটাসটি দেয়ার পর তাতে মন্তব্য করেছেন ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ। ১২ হাজার শেয়ার হয়েছে ইতিমধ্যে লাইক করেছেন ৭৮ হাজার মানুষ এবং ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার বারেরও বেশি।

    সেখানে মাহবুব আলি খানসুর নামে লন্ডন প্রবাসী এক বাংলাদেশি ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানার উদাহরণ দিয়ে লিখেছেন, রানাকে যেদিন একটি ট্রাক পিষে হত্যা করেছিল, সেদিন রানার সঙ্গে একই মোটরবাইকে থাকার কথা ছিল মাশরাফিরও। বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো মাশরাফি সেদিন রানার সঙ্গে যেতে পারেননি বলে বেঁচে গিয়েছিলেন। সাকিব আল হাসান, সড়ক দূর্ঘটনাতে স্বজন হারানোর,বন্ধু হারানোর ব্যথা কতখানি মাশরাফির কাছে জেনে নিয়েন!’

  • শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পুলিশের

    শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পুলিশের

    ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহিংসতা নয়, ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করতে হবে। তারা আমাদের সন্তান। এই অল্প বয়সে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে দেখে আমি মুগ্ধ হয়েই তাদেরকে এই লাল গোলাপ দিয়ে ভালোবাসা জানালাম। সেই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় পাশে থাকবে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ।’

    এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা।

    jagonews24

    রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদ এবং ৯ দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার সময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল তুলে দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

    শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের চৌরাস্তা মোড়ে শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেয় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। এ সময় সকলের হাতে লাল গোলাপ দেখা যায়।

    jagonews24

    মানববন্ধন স্থলে উপস্থিত হয়ে ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং সবসময় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। পরে মানববন্ধন শেষে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যায়।

  • শব্দ করায় ছাত্রকে এসিড ছুড়লেন শিক্ষক

    শব্দ করায় ছাত্রকে এসিড ছুড়লেন শিক্ষক

    হবিগঞ্জে এক ছাত্রের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছেন শিক্ষক। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রকে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টায় অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    আহত মঈন উদ্দিন হবিগঞ্জ টেকনিকেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেমিস্ট শাখার নবম শ্রেণির ছাত্র। সে শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে।

    এদিকে এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

    শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে মঈন উদ্দিন ল্যাবে ক্লাস করতে যায়। এ সময় টেবিলে জোরে শব্দ করায় শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম তার শরীরে এসিড ছুড়ে মারেন। তাৎক্ষণিক অন্যান্য ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

    পরে ওই শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তারা প্রায় ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। দুপুর দেড়টায় শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুমকে পুলিশ আটক করলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

    এসিডে দগ্ধ মঈনুদ্দিন জানায়, টেবিলে হাত দিয়ে জোরে শব্দ করলে শিক্ষক আব্দুল কাইয়ুম রাগের মাথায় তার শরীরে এসিড ছুড়ে দেন।

    সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ দাশ জানান, পিঠের উপর থেকে বেশ কিছু অংশ এসিডে ঝলসে গেছে।

    হবিগঞ্জ টেকনিকেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কেমিস্ট ল্যাবে শনিবার প্র্যাক্টিকেল ক্লাস চলছিল। এ সময় ওই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বলছেন পানি মনে করে তিনি ছুড়ে মেরেছিলেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সেখানে এসিড ছিল। বিষয়টি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। আটক শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের ফেরাতে রাজপথে ছাত্রলীগ

    শিক্ষার্থীদের ফেরাতে রাজপথে ছাত্রলীগ

    রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে থাকা শিক্ষার্থীদের ফেরাতে মাঠে নেমেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বাসায় পাঠানোর চেষ্টা করছেন তারা। অনেকেই তাদের অনুরোধে আন্দোলন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ফলে ক্রমানয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে রাজধানীর ফার্মগেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকা।

    ৯ দফা দাবি আদায়ে টানা সপ্তম দিনের মতো শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থান নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা। এতে করে রাজধানীতে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

    ফার্মগেট এলাকায় ঢাকা কলেজ ও বিজ্ঞান কলেজ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মাঠে নামে। বুঝিয়ে-সুজিয়ে আন্দোলনকারীদের রাজপথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন তারা।

    ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছে। তারা জাতিকে শিক্ষা দিয়েছে। তাদের আন্দোলন সফল, আমরা সকলে এ আন্দোলনকে সমর্থন করি। অনেক হয়েছে, এবার বাড়ি ফিরে যাও।

    তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী খলিকুর রহমান  বলেন, দলের নির্দেশে আমরা সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেয়া প্রধান সড়কগুলো মনিটরিং করছি। আমরা তাদের বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। সরকার তাদের আন্দোলন মেনে নিয়েছে- আমরা সেটি বুঝিয়ে বলছি। আমাদের কথা শুনে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, ফার্মগেট এলাকায় আমাদের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী রয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি। আমরা সকলে মিলে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি বাতিল করে তাদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলছি। কেউ বুঝতে না চাইলে তাকে ভালো করে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

    শিক্ষার্থীরা যাতে আর সড়ক অবরোধ করতে না পারে সেটিও তারা নজরদারি করবেন বলেও জানান ছাত্রলীগের এই নেতা।

  • ‘ওরা ইস্পাত কঠিন, ওরা মানবিক’

    ‘ওরা ইস্পাত কঠিন, ওরা মানবিক’

    শেখ সুমন :

    ‘ইমার্জেন্সি লাইন অন করো। রোগী আছে।’ প্রাইভেটকারের ভেতরে উঁকি দিয়ে ৭/৮ বছরের এক অসুস্থ শিশুকে মায়ের কোলে শুয়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠলো লিকলিকে দেহের এক তরুণ।

    রাজধানীর সোবহানবাগের রাস্তায় তখন প্রাইভেটকার, জিপগাড়ি, পিকআপভ্যান, মোটরসাইকেল ও রিকশার প্রচণ্ড যানজট লেগে আছে।

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ সময় গাড়ির ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখছিল। ফলে রাস্তায় এতটুকু জায়গাও ফাঁকা নেই।

    jagonews24

    কিন্তু ইমার্জেন্সি লাইন অন বলার সঙ্গে সঙ্গে রূপকথার আলাউদ্দিনের চেরাগ ঘষার মতোই মুহূর্তেই রাস্তার এক পাশ ফাঁকা করে দিয়ে অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রাইভেটকারকে সুযোগ করে দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাদের একজন আবার ড্রাইভারের পাশের সিটের জানালায় বসে জরুরি রোগী আছে বলতে থাকে। রাস্তা ফাঁকা করে দেয় শিক্ষার্থীরা।

    এ দৃশ্যপট আজ (শনিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে লালবাগের বাসিন্দা শিশুটির মা জাহানারা খাতুন বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একেক জন ইস্পাত কঠিন মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। ট্রাফিক আইন সঠিকভাবে মেনে কীভাবে চলতে হয়। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ কী কী কাগজ সঙ্গে নিয়ে বের হতে হয় তা শেখাচ্ছে।’

    jagonews24

    তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে তারা যতটা কঠিন, তেমনি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ির ক্ষেত্রে ততোটাই মানবিক। অন্যান্য সময় মৃত্যুপথযাত্রী রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটক থেকে হর্ন বাজালেও কেউ তাদের হাসপাতালে যাওয়ার জন্য একটু জায়গা করে দেয় না। অথচ আজ শিক্ষার্থীরা মুহূর্তেই তার শিশু মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পৃথক লেন করে দিলো।’

    সরেজমিনে ঢাকা কলেজ, আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি, জিগাতলা, সোবহানবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন শুক্রবার বন্ধের দিনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে না থাকলেও আজ (শনিবার) বিগত পাঁচদিনের তুলনায় অধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে।

    গত কয়েকদিন মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও আজ তাদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার নিয়ে স্লোগান দেয়।

    jagonews24

    রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। বিক্ষোভাকারী শিক্ষার্থীরা যেসব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই অথবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পায়নি সেসব গাড়িতে অমুছনীয় সাইনপেন দিয়ে ‘কাগজপত্র নেই’ অথবা ‘লাইসেন্স নেই’ লিখে দিচ্ছিল।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে গণপরিবহন না চলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। কর্মস্থলে বা প্রয়োজনীয় কাজ সারতে মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতে হচ্ছে।

  • ধানমন্ডিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    ধানমন্ডিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    রাজধানীর জিগাতলায় নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি হাতে একদল যুবকের হামলার ঘটনার পর থেকে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে। শনিবার দুপুরের দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ সময় শিক্ষার্থী-সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

    এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (শনিবার বিকেল ৪টা) পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে একদল যুবককেও দেখা গেছে। ঘটনা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদর দফতরের কাছে হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরাও।

    jagonews24

    শনিবার দুপুরের দিকে জিগাতলার বিজিবি গেটের সামনে হেলমেট পড়া যুবকরাই শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি হাতে হামলা চালায়। তখন থেকে জিগাতলা, সাইন্সল্যাব ও ধানমন্ডি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    এর আগে শনিবার সকাল থেকে জিগাতলা এলাকায় জড়ো হতে থাকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী। ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

    jagonews24

    উল্লেখ্য, গেল ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহত হন মিম ও করিম নামে দুই শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহতও হন। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন।

    jagonews24

    দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার তাদের আন্দোলনের সপ্তম দিনেও স্থবির হয়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে ঢাকা শহরের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিকরা।

  • শুরুতেই মেয়র সাদিকের চমক

    শুরুতেই মেয়র সাদিকের চমক

    শেখ সুমন:

    নবনির্বাচিত সিটি মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বেশ কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেন। জয়ী হয়েছেন কিন্তু তিনি আনন্দ মিছিল থেকে বিরত থেকেছেন। পাশাপাশি তিনি কোন ফুলের শুভেচ্ছাও গ্রহণ করছেন না। নির্বাচনের পর পর তার বাড়ির মুখে হাজার হাজার নেতাকর্মী ফুলের মালা নিয়ে হাজির হয়ে ফিরে যান। এই বিষয়টিকে নগরবাসী ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। এমনকি সাদিকের ভুমিকা নগরবাসীর কাছে প্রসংশিত হচ্ছে।
    উল্লেখ্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এক দিন পরেই শুরু হয় শোকের মাস। এই শোকের মাসে সাদিক আবদুল্লাহ অনন্দ উল্লাস থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি শোকাবহ আগস্টে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদেও আনন্দ উল¬াস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এই সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি শুক্রবার (০৩ আগস্ট) স্থানীয় পত্রিকার অফিসগুলোতে ইমেল বার্তায় প্রেরণ করেছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    এক্ষেত্রে নবনির্বাচিত মেয়রের ভাষ্য হচ্ছে- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দাদা শহিদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সহ পরিবারের অসংখ্য স্বজনদের হত্যা করা হয়েছিল। ফলে এই পুরো মাসটিকেই শোক হিসেবে গ্রহণ করেছে গোটা জাতি। যে কারণে ৩০ জুলাই নির্বাচিত হয়েও র‌্যালি বা আনন্দ মিছিল করেননি।

    তবে আগস্টের প্রথম দিনেই নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করেছেন। এদিকে শুরুতেই সাদিকের এই পথ চলাকে অনেকে কৌশল হিসেবে মনে করছেন। তবে দলীয় নেতাকর্মী বা নবনির্বাচিত কাউন্সিলররা এটিকে চমক হিসেবে দেখছেন। অবশ্য সাদিকের বিজয় আনার ক্ষেত্রে অগ্রভাগে থাকা বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালও এমন পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই মনে করছেন।

    এক্ষেত্রে এই নেতার ভাষ্য হচ্ছে- নির্বাচন পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালবাসীর কাছে ঋণি। সার্বিক দিক বিবেচনা করেই এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ বলে অনুমান করেন তিনি।

  • জামায়াত ছাড়তে বিএনপির হাইকমান্ডকে তৃণমূলের সবুজ সংকেত

    জামায়াত ছাড়তে বিএনপির হাইকমান্ডকে তৃণমূলের সবুজ সংকেত

    ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিতে বিএনপির হাইকমান্ডকে মত দিয়েছেন দলটির তৃণমূল নেতারা। শুক্রবার (৩ আগস্ট) বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তৃণমূল বিএনপি নেতারা জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

    দুদিনব্যাপী তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে দলটির হাইকমান্ড বৈঠকে বসেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিএনপির ১৯টি সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে বৈঠক করে দলের হাইকমান্ড। এই সেশনে ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে তৃণমূল নেতারা পরামর্শ দেন।

    বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, “সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী থাকার পরও বিএনপির মেয়র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত বিএনপির জন্য কোনও সমস্যা নয়। ফলে আগামী নির্বাচনের আগে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাক দেওয়া ‘জাতীয় ঐক্য’ করতে জোট থেকে জামায়তকে বাদ দেওয়া দরকার।”

    জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে দুলু বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন, একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ আরও অনেকে বিএনপির সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য করতে রাজি আছেন। ফলে এখন দলের নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে জামায়াতকে বাদ দিয়ে সরকারের বাইরে থাকা ডান-বাম সব দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য করা।’

    রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর এ বক্তব্যকে সমর্থন করেন রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে এখন জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে হবে।’

    ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে জেলার নেতারাও এই দুই সাংগঠনিক সম্পাদকের বক্তব্যকে সমর্থন দেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটি এক সদস্য বলেন, ‘তৃণমূল নেতারা জামায়াতকে বাদ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন। পরে আমরা স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠকে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’

    বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান  বলেন, ‘তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন প্রধান বিষয় ছিল।’

    কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

    সকালের সেশনের পর বেলা সাড়ে ৩টা থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ২২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি হাইকমান্ডের বৈঠক শুরু হয়।

  • ‘বরিশালের ১১ আওয়ামীলীগ নেতাকে কেন বহিস্কার করা হবে না’

    ‘বরিশালের ১১ আওয়ামীলীগ নেতাকে কেন বহিস্কার করা হবে না’

    বরিশাল মহানগর ওয়ার্ড আ.লীগের ৬ সভাপতি ও ৫ সাধারন সম্পাদককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীর এ নোটিশ প্রদান করেছেন।

    বরিশাল মহানগরের দপ্তর বরাবরে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব প্রেরণ করার জন্য বলা হয়েছে। বরিশাল মহানগর আ.লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক কাজী মুনির উদ্দিন তারিক স্বাক্ষরিত ৩ আগস্ট পত্রিকা অফিসে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    কারণ দর্শানো নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুদ্দিন আহমেদ বাবুল, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি আশ্রাব উদ্দিন আহমেদ এমরাজ, ১০ নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, ১১ নং ওয়ার্ড অ.লীগের সাধারন সম্পাদক মজিবুল হক স্বপন, ১৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ মাসুদ খন্দকার, ১৩ নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, ১৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি কাজী রোকন উদ্দিন, ১৮ নং ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক সৈয়দ বশির আহমেদ, ২৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি বিদ্যুৎ কর্মকার পিংকু , ২৭ নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আবদুল আলিম বাবুল, ৩০ নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা।

  • গান গেয়ে মন জয় করলেন পুলিশ কর্মকর্তা!

    গান গেয়ে মন জয় করলেন পুলিশ কর্মকর্তা!

    আসো, আমরা সবাই মিলে গানটা গাই।’ এ কথা বলেই দরাজ গলায়- ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান, মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, এ গান ধরলেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    পুলিশের এই কর্মকর্তার কোমড়ে পিস্তল, হাতে ওয়ারলেস, গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট। অন্য সময় হলে বিক্ষোভ দমনে হয়তো তার অঙ্গুলি হেলনই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন!

    বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে কৌশল হিসেবেই তিনি বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় গানটি ধরলেন। পুলিশ কর্মকর্তার এ কৌশলে টনিকের মতো কাজ হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ পুলিশ কর্মকর্তার সাথে বেশ আনন্দেই গানের সুরে সুর মেলায়।

    বিমানবন্দর সড়কে সম্প্রতি বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন যাবত রাজপথে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দাবি দাওয়া আদায়ে কর্মসূচি পালন করছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় নেমে সফলতা দেখাচ্ছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কোথাও কোথাও পুলিশ সদস্যেদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা পুলিশ সদস্যদের শান্ত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান।

    বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গত দু’দিন যাবত রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। মন্ত্রী, সচিব, পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবী কেউ বাদ যায়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ধানমন্ডি ইবনে সিনার সামনে জাতীয় পতাকাবাহী একটি দামি গাড়ি আটকায় শিক্ষার্থীরা। তারা গাড়ির ড্রাইভারের কাছে লাইসেন্স দেখতে চায়। ড্রাইভার কাচুমাচু হয়ে জানালো এটা মন্ত্রীর গাড়ি। গাড়ির কাঁচ নামিয়ে উঁকি দিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গাড়ি থেকে নেমে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা মন্ত্রী কেন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভারকে গাড়ি ড্রাইভ করতে দিয়েছেন তা জানতে চায়। এ সময় মন্ত্রীকে বিব্রত দেখা যায়। তবে তিনি নানা মিষ্টি কথায় শিক্ষার্থীদের ম্যানেজ করেন।

    পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছাতা নিয়ে মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আরেকটি গাড়িতে তুলে দেন।