Author: banglarmukh official

  • অনিয়মের শহরে নিয়ম মানতে ‘হুড়োহুড়ি’

    অনিয়মের শহরে নিয়ম মানতে ‘হুড়োহুড়ি’

    রাজধানীর যানজট আর গণপরিবহনের অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে শোরগোল হলেও বাদ পড়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো। যদিও বন্দরনগরীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা একেবারে নেই বললেই চলে। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সেই অনিয়মের শহরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    রাজধানীর মতো চট্টগ্রামেও সকাল থেকেই রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে। যেসব চালকের লাইসেন্স পাওয়া গেছে, তাদের ছেড়ে দিয়ে যাদের নেই তাদের জরিমানার ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীরা।

    Ctg-Student-protest

    এ সময় পুলিশ, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার গাড়িও তল্লাশির কবলে পড়ে। লাইসেন্স না থাকায় প্রাইভেট কারের চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাফ চাইতে বাধ্য করার দৃশ্যও দেখা গেছে। লাইসেন্স না পাওয়ায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তার গাড়িও আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি যেসব গাড়ির লাইসেন্স পাওয়া যায়নি সেগুলোর আয়নায় লেখা হয় ‘লাইসেন্স নেই’। এলোপাতাড়ি গাড়িগুলোকে বাধ্য করে সারিবদ্ধভাবে চলতে। সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের এমন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেখে উল্লাসিত হয়েছে নগরবাসী।

    বেলা ১২টায় নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকার আরাকান সড়কে দেখা যায়, বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বড় গাড়িগুলো এক লেনে এবং রিকশা আলাদা লেনে সারিবদ্ধভাবে চলতে বাধ্য করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় লেন মেনে চলার কারণে কিছুটা ধীর গাতি হলেও যাত্রীদের তা নিয়ে বিরক্তি নেই।

    Ctg-Student-protest

    শিক্ষার্থীদের এমন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দিনভর তটস্থ ছিল কাগজপত্র ন থাকা গাড়ির চালকরা।

    চট্টগ্রাম কলেজ এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ বিভাগের একটি গাড়ির (গাড়ি নম্বর-কক্সবাজার-ট-১৭) কাগজপত্র দেখতে চাইলে প্রথমে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে চায়নি চালক। পরে বাধ্য হয়ে যে লাইন্সেসটি তিনি দেখান সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ছয় বছর আগেই।

    Ctg-Student-protest

    অভিভাবকরাও রাজপথে 
    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে চট্টগ্রামের রাস্তায় দেখা গেছে অভিভাবকদেরও। দুপুরে নগরের বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার, পানি, স্যালাইন এবং বিস্কুট বিতরণ করতে দেখা গেছে তাদের।

    দুপরে নগরের ওয়াসার মোড়ে বিস্কুট আর খাবার পানি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা যায় গৃহিণী সুপ্রিয়া চাকমাকে। তিনি স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়েই এসেছিলেন আন্দোলনে।

    Ctg-Student-protest

    সুপ্রিয়া চাকমা  বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা রাস্তায় অবস্থান করছে। চেষ্টা করছি যতটুকু পারি তাদের পাশে দাঁড়াতে।’

    Ctg-Student-protest

    সুপ্রিয়া চাকমার মতই বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের ছোট ভাইবোনদের জন্য এনেছিলেন খাবারের প্যাকেট। অল্প কিছু খাবারকে সবাই মিলেমিশে ভাগ করে খেতে দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে নিজে পানি না খেয়ে পাশের জনকে খেতে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

  • মন্ত্রী-এমপিদেরও সংসদের ভেতরে বাইরে আটকে দেয়া হলো

    মন্ত্রী-এমপিদেরও সংসদের ভেতরে বাইরে আটকে দেয়া হলো

    প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া সংসদে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে ও বের হতে পারেননি এমপি-মন্ত্রীরাও। এক পৌর মেয়রকেও আটকে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির বিরুদ্ধে করা হয়েছে মামলা। অবস্থা বেগতিক দেখে সংসদ থেকে বের হয়ে আবারও তাড়াতাড়ি ঘুরিয়ে সংসদে প্রবেশ করেছে গাড়ি।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেলে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সংসদ ভবন, আসাদগেট, মানিক মিয়া এভিনিউ, মনিপুরী পাড়া সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। গাড়ির কাগজপত্র ছাড়া সংসদে ঢুকতে না পেরে বাতিল করা হয়েছে সংসদীয় কমিটির বৈঠকও।

    এদিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের ড্রাইভারের কাগজপত্র ছিল না। এজন্য আসাদগেটে তার গাড়ি আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে বাধ্য হয়ে মন্ত্রী গাড়ি রেখে হেঁটে সংসদে প্রবেশ করেন। এই কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন (লালমনিরহাট-১) এর গাড়ির সব কিছু ঠিক থাকায় তিনি সংসদে প্রবেশ করতে পারেন। তবে কমিটির ১০ জন সদস্যের মধ্যে আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন (পটুয়াখালী-৩) আর কেউ সংসদে প্রবেশ করতে পারেননি। ছিলেন না মন্ত্রণালয়ের হর্তাকর্তারাও। তাই কমিটির বৈঠক বাতিল করা হয়।

    জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, অনেকে বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি। তাই বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়েও আলোচনা হবে।

    MinisterGari-3

    এদিকে সংসদে এক মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসে ফেঁসে যান ঝিনাইদহের পৌর মেয়র সাইদুল কবির মিন্টু। তার গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-ঠ, ১৬-০০৭৭) ড্রাইভারের লাইসেন্স নেই, ছিল না প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। এজন্য তাকেও আটকে রাখা হয়। এমনকি সংসদের অনেক কর্মকর্তাও কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি নিয়ে সংসদে যাতায়াত করতে পারেননি।

    তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরার গাড়ির কাগজপত্র থাকায় ওই গাড়ি সংসদে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

    রেজাউল করিম হীরা পরে  বলেন, ‘বিষয়টি ভালো। তবে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না গেলেই হয়। অনেকের দেখলাম স্কুল কলেজের ইউনিফর্ম নেই। এরা আসলে কারা?’

    Minister-Gari

    সংসদ চত্বরে থাকা একাধিক গাড়ির ড্রাইভার  বলেন, ‘স্যার (এমপি) ভেতরে আছেন। সকালে আন্দোলন শুরুর আগে তারা ঢুকছেন। এখন বের হতে চাচ্ছেন না। পরিস্থিতি দেখে বের হবেন।’

    দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ঢাকা মেট্রো-চ ৫১-৬২৬৪ নম্বর গাড়িটি আটকে চালকের লাইসেন্স দেখতে চায় আদ-দ্বীন ও ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা। ড্রাইভার লাইসেন্স দেখাতে না পারায় গাড়িতে মার্কার দিয়ে ‘লাইসেন্স নাই, সরকারি গাড়িতে লাইসেন্স লাগে না’ লিখেছে শিক্ষার্থীরা।

    একই সময় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ঢাকা মেট্রো-চ ৫৩-৫১৯৬ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়ি আটকে চালকের লাইসেন্স না পেয়ে এতেও মার্কার দিয়ে ‘লাইসেন্স ছাড়া সরকারি গাড়ি রাস্তায়’ লিখে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় অর্ধশতাধিক গাড়ি আটকে দেয় তারা।

    Minister-Gari-1

    এছাড়াও উত্তরায় চালকের লাইসেন্স না থাকায় দু’টি বেসরকারি টেলিভিশনের তিনটি গাড়ির চাবি নিজেদের জিম্মায় নেয় শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি আইন সবার জন্য সমান। কে মন্ত্রী, কে এমপি আর কে বড় কর্মকর্তা তা আমরা দেখতে চাই না।

    এর আগে সোমবার বাংলামোটরে উল্টোপথে চলতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়ি। মন্ত্রীর সামনেই শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়- ‘আইন সবার জন্য সমান’।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হলো মিমের বাবার

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে কথা হলো মিমের বাবার

    সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রী দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর ফকির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তার মনের কথা খুলে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীও তার সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে শেখ হাসিনা সম্পর্কে তার ধারণা পাল্টে গেছে। মিমের বাবা অাগে জানতেন না শেখ হাসিনা এত সহজ, সরল, সাধারণ মানুষ, একেবারেই গ্রামের মানুষ, মাটির মানুষ।

    বাংলার মুখের সঙ্গে আলাপকালে মিমের বাবা জাহাঙ্গীর তার এই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০টি দাবি করেছি। বিশেষ করে ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজের সামনে ওভারব্রিজ অথবা অান্ডারপাস দেয়ার কথা বলেছি। ঢাকার ভেতরে এবং বাইরের কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য অালাদা বাস সার্ভিস, দ্বিতলবিশিষ্ট বাস সার্ভিস দাবি করেছি। এটা হলে অভিভাবকদের অার কোনো টেনশন থাকবে না।

    ‘প্রধানমন্ত্রী অামাকে বলেছেন, ড্রাইভার ও মালিককে অাটক করা হয়েছে। ওনাদের বিচার হবেই। ইতোমধ্যে গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করেছি।’

    ‘অামি প্রধানমন্ত্রীকে অারও বলেছি, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ড্রাইভার যেন গাড়ি না চালায়, ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে লেগুনা চালানো হয়, যাদের বডির ফিটনেস গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স কোনোটাই নেই। যতদিন স্কুল-কলেজের সামনে ফুটওভারব্রিজ না হবে ততদিন বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ শিক্ষার্থীদের পার করে দেবে। অামার মেয়ে দিয়া ও অপর শিক্ষার্থী করিম যে জায়গায় অ্যাকসিডেন্ট করেছে, সেখানে দ্রুত একটি ওভারব্রিজ করলে অার দুর্ঘটনা ঘটবে না। যে ১০টি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে করেছি তার প্রত্যেকটি দাবি মেনে নেবেন বলে অামাকে কথা দিয়েছেন তিনি’,- বলেন মিমের বাবা।

    pm

    এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, শেখ হাসিনা গ্রামের মানুষ, মাটির মানুষ, তার ব্যবহারে খুব খুশি হয়েছি। অাল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দীর্ঘায়ু দান করুক।

    অারেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অামি যে সন্তান হারিয়েছি তাকে তো অার ফেরত পাবো না। তবে অামার মেয়ের সহপাঠীরা যারা অান্দোলন করছে, তাদের বলবো বাবারা তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের অান্দোলনে কেউ ঢুকে অন্য কারও মায়ের কোল খালি হোক তা অামি চাই না। তোমাদের যে দাবি, অামি প্রধানমন্ত্রীকে সব বলেছি। প্রধানমন্ত্রী অামাকে অাশ্বাস দিয়েছেন। তোমরা ঘরে ফিরে গিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগ দাও। অার অামার মিম ও করিমের জন্য দোয়া কোরো। আল্লাহর রহমতে অামরা ভালো বিচার পাবো। অামি এক সন্তান হারিয়েছি। যারা অাছে তাদের যেন মানুষ করতে পারি এজন্য প্রধানমন্ত্রী অামাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অামাদের দুই পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনে দিয়েছেন। গুলশানের একটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছেন। ওখান থেকে প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা পাবো, যা দিয়ে অামার সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারবো। এ ছাড়া অামার বাকি সন্তানরা লেখাপড়া শেখার পর চাকরির অাশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    জাহাঙ্গীর বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, অামাকে এত সময় দেবেন ভাবতেই পারিনি। এছাড়া অামাদের জন্য দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। অামার এই দুঃসময়ে অামাদের দুটি পরিবারের পাশে উনি যেভাবে দাঁড়িয়েছেন তাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

  • শুরুতেই সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করবো: সাদিক

    শুরুতেই সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করবো: সাদিক

    শেখ ‍ সুমন:

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বরিশাল নগরীর সুবিধাবঞ্চিত যে সব নাগরিক আছে তাদের নিয়ে আমি প্রথমে কাজ করবো। ধাপে ধাপে নগরীর উন্নয়ন করা হবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করা হবে।’

    এ সময় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আশিক চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীর, বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত, নব-নির্বাচিত কাউন্সিলরগনসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিক্ষার্থীদের চলমান দাবি যৌক্তিক: বাণিজ্যমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের চলমান দাবি যৌক্তিক: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের চলমান দাবি যৌক্তিক। এ নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘রাজপথে নিরাপদ সড়কের’ দাবিতে যে আন্দোলন করছে সেই আন্দোলন যৌক্তিক বলেই মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    আজ ভোলা জেলার চরফ্যাশনে দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল উদ্বোধন শেষে টার্মিনালের মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনা সবার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে, আমি নিজেও কষ্ট পেয়েছি এবং কেঁদেছি। কিন্তু মানবিক এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপি শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে নোংরা পলিটিক্স করতে চায়। আমরা এ নিয়ে কোন পলিটিক্স করি না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে দু:খ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ডেকে গভীর সমবেধনা প্রকাশ করেছেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি কোন রাজনীতি পায় না। তাই তারা যেটা পায় সেটা নিয়েই কথা বলে।  সড়ক দুর্ঘটনা মানবিক ব্যাপার এখানে রাজনীতি টানা কারো উচিত নয়। যে চালক শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।  এই ব্যাপারে কোন আপোস নেই।

    বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় ভোলা-চরফ্যাশন-দক্ষিণ আইচা আঞ্চলিক মহাসড়ক শিঘ্রই চার লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
    পরিবেশ, বন ও জয়বায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নত দেশ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। আগামীতে আ. লীগ ক্ষমতায় আসলে ভোলা হবে একটি সৃমদ্ধ জেলা এবং চরফ্যাশন উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসাবে রুপান্তিত করার কথাও জানান।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন, ভোলা জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, পৌর মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম ভিপি, ভোলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: আকতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাাদক শফিকুল ইসলাম, চরফ্যাশন বাস মালিক সমিতির নেতা মনির উদ্দিন চাষীসহ দলীয় সহযোগী সংগঠনের নেতবৃন্দ।

  • ‘এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান!’

    ‘এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান!’

    ‘আর চুপ থাকতে পারছি না। শুটিং থেকে অনুমতি নিলাম, দুপুরে নামছি তোমাদের সঙ্গে উত্তরায়। আমার কোনো সহকর্মী ভাইবোনেরা নামতে চাইলে খুশি হব।’ কথাগুলো নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী তৌসিফ মাহবুবের। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এভাবেই নিজের একাত্মতার কথা বললেন তিনি। আজ বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

    রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে তিন দিন ধরেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সরাসরি মাঠে থাকতে না পারলেও চলচ্চিত্র, টিভি আর সংগীত জগতের অনেক তারকা সমর্থন দিয়েছেন। ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন।

    সংগীতশিল্পী মাকসুদ বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, এ নতুন কোনো বিষয় না। গত ঈদের ছুটিতে এক দিনেই ৫৫ জন লোক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল | আমরা প্রতিবাদ তো দূরের কথা, একটি শব্দও করিনি। তবে র‍্যাডিসন হোটেলের সামনে যা ঘটেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে যে ভয়াবহ অবস্থা আর তাণ্ডব চলছে এবং বেশ কিছুদিন চলবে, এর জন্য সরকারের কতিপয় মন্ত্রী আর হর্তাকর্তার নির্বুদ্ধিতা বেশি দায়ী।’

    মাকসুদ আরও বলেন, ‘বন্ধুদের অনুরোধ করছি, বাচ্চা বা পোলাপান—এ শব্দগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করুন। এই একুশ শতকে এসব এবিউসিভ শব্দ সোজা কথায় গালি। ওদের বয়স আমাদের চেয়ে কম হতে পারে। কিন্তু মেধা, মনন ও ব্যবহারে আমাদের চেয়ে ওরা অনেক উচ্চ মানুষিক মার্গে বসবাস করে, এ কথাটা ভুলবেন না। ওদের মনের ধারের কাছেও আমরা ভিড়তে পারব না। এমনকি স্বপ্নেও না। ওদের সম্মান পেতে হলে আগে আপনারা সম্মান দিতে শিখুন।’

    তিন দিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘বাচ্চা’ বললেও বিষয়টি মানতে নারাজ এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘বাচ্চা মানে বাচ্চা না, ভাইবোনেরা আমার! বেশ কিছু ভিডিওতে আন্দোলনরত স্কুল-কলেজের ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা শুনে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। আমি সব সময়ই বিশ্বাস করেছি কাহলিল জিব্রানের কবিতা। যেখানে লেখা হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পূর্ববর্তী প্রজন্মের চেয়ে এগিয়েই থাকে। তোমরা এগিয়েই আছো ভাইবোনেরা! লাভ ইউ।’

    ফারুকী তাঁর দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে সরকারের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন। সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন দ্রুত একটা কমিটি করা হয়। যেখানে শুধু প্রবীণ নাগরিকেরা থাকবেন, তা না। তরুণ মেধাবী প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলীদেরও রাখতে হবে। সেই কমিটির কাজ হবে সবকিছু প্রযুক্তিনির্ভর করা। ফারুকী বলেন, ‘এখন একটাই অনুরোধ, সমষ্টির এই শক্তিকে একটা সুন্দর ফলাফলের দিকে নেওয়ার দাবি তোলো। জাবাল-ই-নূরের ঘটনায় অপরাধীর সাজা হতে হবে, শাজাহান খানকে ক্ষমতাশূন্য করতে হবে, এগুলো সবই দরকার। পাশাপাশি, দাবি তোলো সামগ্রিক সংস্কারের। লাইসেন্স, ফিটনেস থেকে শুরু করে, ড্যাশবোর্ড ক্যামেরা, আউটডোর ক্যামেরা, রুট বণ্টনবিষয়ক দুর্নীতি, আইন সংস্কার—মোট কথা রাস্তাঘাট নিরাপদ করার জন্য, অপরাধী শনাক্ত করার জন্য যা কিছু বিবেচনায় নেওয়া দরকার, সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে।’

    অভিনয়শিল্পী শাহনাজ খুশি দুই সন্তানের মা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যেভাবে নির্যাতন করছে, তাতে আতঙ্কিত এই অভিনয়শিল্পী। এসব দেখে তাঁর কণ্ঠ থেকে ঘৃণা আর ক্ষোভ ঝরেছে। তিনি বলেন, ‘দয়া করে বাচ্চাদের গায়ে হাত দেবেন না। তারা কোনো আসনের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য পথে নামে নাই, তাদের দাবি কেবল পথের নিরাপত্তা। এই দেশের পরবর্তী কর্ণধার এই বাচ্চারাই। এখনো অনেক বাচ্চা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বাচ্চাদের মাথায় লাঠির আঘাত নয়, ভরসার হাত রাখুন। মা-বাবাদের পথে নামতে বাধ্য করবেন না। ওরা আমাদের সন্তান। নাড়ি ছেঁড়া ধন!’

    মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘ওরা কিন্তু রাজনীতি বোঝে না, রাজনীতি করতে পথে নামেনি। কিন্তু রাজনীতির প্রতি, রাজনীতিবিদদের প্রতি কী পরিমাণ ঘৃণা জন্মে যাবে তাদের মনে, ভেবে দেখছেন! এই ছেলেরাই আগামী ২/১ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, হয়তো ছাত্র রাজনীতিও করবে। আজকের এই ঘৃণা ওদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে দেবে? প্রধানমন্ত্রী, তিনি তো কোমল হৃদয়ের মানুষ, সারা জীবন সেভাবেই দেখে এসেছি তাঁকে। আজ কেন তাঁর কোমলতা দেখাতে দেরি করছেন? তাঁর সম্বন্ধে এই বাচ্চাগুলোর ধারণা কোন দিকে যাচ্ছে!’

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড বলেছেন, ‘রাষ্ট্র প্লিজ থামুন। ওরা বাচ্চা। ওরা সবেমাত্র স্কুলছাত্র। ওরা আমাদের সন্তান। ওরা ধান্দাবাজ রাজনীতিক না। ওরা ব্যাংক লুটেরাদের বাঁচানোর পক্ষের কোনো শক্তি না। ওরা ধর্ষকের রক্ষক না। ওরা ক্ষমতা দখলের লোভে রাস্তায় না। ওরা শুধু ওদের বন্ধু-সহপাঠীর নির্মম মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি। ওরা বন্ধু হত্যার বিচার চায়। ওরা সড়কে জীবনের নিরাপত্তা চায়। এটা ওদের অপরাধ?’

    নাট্যকার মাসুম রেজা বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করবেন না। দাবি মেনে নিয়ে ওদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরান।’

    অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেছেন, ‘আর ঘরে বসে থাকা যায় না, আমার মন উত্তাল তোমাদের সঙ্গে। আপনি আছেন তো?’

    মৌসুমী হামিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কী বলব আপনাদের? হাতে অস্ত্র, মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, পায়েও হাঁটু পর্যন্ত গার্ড পরে আছেন। তারপরও কলেজ ড্রেস পরা নিরস্ত্র একটা বাচ্চাকে লাথি মারার জন্য মাথা পর্যন্ত পা তুলছেন। লজ্জা করে না আপনাদের? আপনার এত সাজ-পোশাকে জঙ্গি দমন করতে আসছেন? এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান? পুলিশ মানে তো আপনারা না! তাহলে আপনারা কারা?’

    এ প্রজন্মের আরেক পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ বলেছেন, ‘আজ না হয় শহরের স্কুল-কলেজের ছাত্রগুলো রাস্তায় নেমেছে, এতেই এই অবস্থা! কাল যদি সারা বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নামে, তখন কেমন হবে!’

  • ‘পাদ্রী আমাদের নগ্ন সাঁতরাতে বাধ্য করেন, গায়ে হাত দেন’

    ‘পাদ্রী আমাদের নগ্ন সাঁতরাতে বাধ্য করেন, গায়ে হাত দেন’

    চিলির কর্তৃপক্ষ সেদেশের রোমান ক্যাথলিক গির্জার ৩০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে। বলা হচ্ছে, এই ধর্মীয় নেতারা হয় যৌন নির্যাতন করেছেন, না হয় অভিযোগ ধামা চাপা দিয়েছেন।

    ২০০০ সাল থেকে রোমান ক্যাথলিক গির্জার এসব নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন, যাদের ৬৭ শতাংশই শিশু, অভিযোগ করেছে তারা পাদ্রী, বিশপদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত শুরু করেছে।

    এমনকি চিলির ক্যাথলিক গির্জার প্রধান কার্ডিনাল রিকার্ডো এজ্জাতির ওপর কলঙ্কের দাগ পড়েছে। সম্প্রতি এক বিচার বিভাগীয় তদন্তে বলা হয়েছে, কার্ডিনাল যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

    এ বছরের গোঁড়ার দিকে চিলির ৩৪ জন বিশপকে রোমে ডেকে এনে পোপ ফ্রান্সিস নির্যাতন এবং ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা করেন। পাঁচজন বিশপ তখন পদত্যাগ করেন। বিবিসির কনস্তানজা ওলা গির্জা স্কুলের দু’জন প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছেন; যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন। যে পাঁচ বিশপ পদত্যাগ করেছেন তাদের অন্যতম গোনজালো দুয়ার্তের সাথেও কথা বলেন বিবিসির সংবাদদাতা।

    ১৯৯৩ সালে একটি ক্যাথলিক যুব দলের সদস্য ছিলেন মরসিও পালগার। চিলির মধ্যাঞ্চলের একটি ছোট শহরে এক প্রার্থণা সভার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। ফাদার এম (ছদ্মনাম) সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।

    ‘এক রাতে ওই পাদ্রী তাদের জামা কাপড় খুলে সুইমিং পুলে নামতে বলেন। আমি এবং আমার এক বন্ধু অস্বীকার করি, কিন্তু ফাদার এম আমাদের ওপর জবরদস্তি শুরু করেন, তিনি বলেন, আমরা নগ্ন হচ্ছি না। কারণ আমাদের যৌন রোগ আছে।’

    ‘এরপর ফাদার এম সুইমিং পুলে নেমে আমাদের গায়ে হাত দেয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সম্পর্কে আস্থা তৈরির জন্য, মর্যাদাবোধের জন্য এটা ভালো।’ দুমাস পর, পাদ্রি হওয়ার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন মরিসিও। তিনি বলেন, গির্জার সেই স্কুলেও তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

    তারা পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরতো..বাঁধা দিলে রেগে যেত। চুম্বন করতে না দিলে তারা গালিগালাজ শুরু করতো। ফাদার ‘এইচ’ (ছদ্মনাম) নামে আরেক পাদ্রীর সাথে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলেন মরিসিওি। কাছের একটি শহরে ওই পাদ্রিকে কিছু কাজে সাহায্য করছিলেন।

    ‘তিনি আমাকে বলেন, কেন আমি সম্পর্ক করতে উদ্যোগী হচ্ছি না? আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না তিনি ঠিক কি বলছেন। তখন তিনি আমাকে বলেন, আমরা সবাই আসলে সমকামী এবং আমাদের সবকিছু উপভোগের চেষ্টা করা উচিৎ।’

    জুন মাসে পদত্যাগের আগে বিশপ দুয়ার্তে বিবিসিকে বলেন, তিনি শুনেছেন ফাদার ‘এইচের’ সমকামীতার সমস্যা রয়েছে, তবে সেসবে নাক গলানোর কর্তৃত্ব তার ছিল না।

    মরিসিও বলেন, ফাদার এইচ তাকে তার গির্জায় এক রাতে থাকতে বলেন, তিনি আমাকে কিছু পানীয় দিয়েছিলেন এবং তা খেয়ে আমি অসুস্থ বোধ করতে থাকি, তিনি তখন বলেন, আমার বিছানায় শুয়ে পড়ো।

    ‘আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। পরে ঘনঘন শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দে আমি জেগে উঠে দেখি তিনি আমাকে নির্যাতন করছেন। আমি হাত-পা ছুঁড়তে চেয়েও পারিনি। একসময় আমি একটি হাত ছাড়াতে পারি, কিন্তু তিনি তা ধরে ফেলেন এবং…’

    কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসে মরিসিওর। তিনি তখন টাকা ভর্তি একটি ড্রয়ার খোলেন এবং বলেন আমি এখন তার চক্রের অংশ। আমি তাকে বললাম, আমি তা হতে চাই না এবং এরপর আমি বেরিয়ে যাই।

    মরিসিও ওই স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন, তবে কেন ছেড়েছিলেন সে কথা বলতে তার ২০ বছর লেগে গিয়েছিল। ২০১৩ সালে তিনি গির্জা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

    বিশপ দুয়ার্তে বলেন, অবশ্যই তদন্ত হয়েছিল, তবে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সমকামিতা ‘পাপ’ কিন্তু দুজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক এতে যুক্ত হলে তা অপরাধ হয় না।

    বিবিসি বাংলা।

  • বন্ধের দিনে ইউনিফর্ম পরে সড়কে শিক্ষার্থীরা

    বন্ধের দিনে ইউনিফর্ম পরে সড়কে শিক্ষার্থীরা

    ক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের দাবি মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক নির্দেশনায় আজ (বৃহস্পতিবার) দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরেই বৃষ্টিতে ভিজে সকাল থেকে সড়কে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর উত্তরা জসিম উদ্দিন থেকে হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, স্কলাস্টিকা, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এতে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    এ সময় লাব্বাইকসহ বেশ কয়েকটি বাসের চালকদের লাইসেন্স যাচাই করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে পুলিশের দুজন কর্মকর্তাকেও বাস চালকের লাইসেন্স যাচাই করতে দেখা যায়।

    jagonews24

    রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তায় সড়ক অবরোধ করেছে আদ-দ্বীন ও ড. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় রমনা-ইস্কাটন, মগবাজার ওয়্যারলেস এবং মগবাজার রেলগেট এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল এবং সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ আশপাশের স্কুলের শিক্ষার্থীরাও সড়কে অবস্থান নিয়েছে। রাজধানীর সাইন্সল্যাব ওভারব্রিজের নীচে সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, ঢাকা কলেজ, গভ. ল্যাবরেটরি এবং ধানমন্ডি আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় অনেক অভিভাবককেও সড়কের পাশে বসে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    রাজধানীর অদূরে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে এনাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। যাত্রাবাড়ীতে দনিয়া কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স যাচাই করছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর ফার্মগেটেও একই অবস্থা। ফার্মগেটের সড়কে অবস্থান নিয়েছে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    সালমান নূর নামে উত্তরার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী বলেন, ইউনিফর্ম পড়ে আন্দোলনে আসায় আমাদের অনেক শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা আন্দোলন করবই। যদি বেঁচেই না থাকি তাহলে স্কুলের সার্টিফিকেট দিয়ে কী করব।

    সোয়েব নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের জন্য শুধু শিশুরা রাস্তায় কেন? তাদের অভিভাবকদের, বড়ভাইদের কি নিরাপত্তার ঘাটতি নেই? তাদের সহযোগিতার জন্য, তাদের অভিভাবক হিসেবে আমরা রাস্তায় নেমেছি।

    গত রোববার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন শিক্ষার্থী।

    jagonews24

    মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

    দুর্ঘটনার পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আজ (বৃহস্পতিবার) পঞ্চম দিনের মতো আবারও সড়কে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

  • ঢাবি বাসের ব্রেক ফেল, আহত ৩

    ঢাবি বাসের ব্রেক ফেল, আহত ৩

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের বহন করা একটি বাস ব্রেক ফেল করে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বাসটি ওই সময় বাম পাশে হেলে গিয়ে ফ্লাইওভারের পাশে লাগানো লোহার জালে ধাক্কা খায়। দরজা-জানালায় ঝুলে থাকা ছাত্রদের তিনজন এ সময় বাস থেকে ছিটকে পড়েন। এতে একজনের মাথা ফেটে গেছে, দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    আজ বুধবার সকালে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত তিন শিক্ষার্থী হলেন ফলিত রসায়ন বিভাগের মো. জাওয়াদ, তথ্য ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের আমিনুল ইসলাম ও ফলিত গণিত বিভাগের আজিজুর রহমান। তাঁদের মধ্যে জাওয়াদের মাথা ফেটে গেছে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ‘ইন্দ্রাকপুর’ নামের বাসটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুন্সিগঞ্জে যাতায়াত করে। ওই বাসে থাকা এক ছাত্রী  বলেন, অন্যদিনের তুলনায় আজ বাসে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ছিলেন। অনেকেই বাসের দরজায় ঝুলে ছিলেন, জানালার পাশে বসে ছিলেন। হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় একজন নামতে চাইলেও বাস দাঁড়াচ্ছিল না। বাসের চালক ‘ব্রেক ফেল’ হয়েছে বলতে থাকেন। এতে ঝুলে থাকা শিক্ষার্থীরা হুড়োহুড়ি করে ভেতরে ঢুকতে চান। এ সময় বাসটি বাম পাশে কাত হয়ে ফ্লাইওভারের দেয়ালে বসানো লোহার খাঁচার সঙ্গে ধাক্কা খায়। ফলে দরজা-জানালায় ঝুলতে থাকা তিন-চারজন নিচে পড়ে যান। এর পরপরই চালক বাসটি থামাতে সক্ষম হন।

    বাসের চালক রেজাউলের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থাপক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জ থেকে আসার পথে শনির আখড়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করা বিআরটিসির কয়েকটি বাস চলমান আন্দোলনে আটকে যায়। ফলে সামনে থাকা এই বাসটিতে প্রায় তিন গাড়ির যাত্রী ছিল। বাসের দরজা-জানালায় অনেকেই ঝুলে ছিল। একপর্যায়ে ব্রেক ফেল করায় বাসটি একদিকে হেলে যায় বলে চালক ও সহকারীর ভাষ্য। তারপরও প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা আবদুল হালিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ  বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা। আমরা আহতদের খোঁজ নিয়েছি। তাঁরা শঙ্কামুক্ত। তারপরও এখানে কারও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এর বাইরে বাসের সংখ্যা কম হওয়াটা আমাদের মূল সমস্যা। শিক্ষার্থীরা বাদুড়ঝোলা হয়ে যাতায়াত করে। সেগুলোর সমাধান কীভাবে করা যায় আমরা দেখছি।’

  • শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

    শোকার্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শোক সংবরণ করে শান্ত থাকা ও ধৈর্য ধরারও আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও মর্মবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় সহপাঠীর মৃত্যুতে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা পরিবারের আমরা সবাই শোকার্ত।’

    শিক্ষামন্ত্রী বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এক তাৎক্ষণিক সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। তিনি শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহনকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে। শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যদের শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান।

    শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।