Author: banglarmukh official
-

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর ওপর পিক-আপ উঠিয়ে দিল চালক
লাইসেন্স দেখার গাড়ি থামানোর সংকেত দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পিক-আপ উঠিয়ে দিয়েছে চালক।বুধবার দুপুরে রাজধানীর শনির আখড়ায় এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের উপর পিকআপ উঠিয়ে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে।ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা একটি পিক-আপকে থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় পিক-আপটি আসতে আসতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। একি পর্যায়ে এক শিক্ষার্থীর উপর পিক-আপ উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই শিক্ষার্থী পিক-আপের দুই চাকার মাঝে পড়ে আহত হয়।এই ভিডিও প্রসঙ্গে একটি ফেসবুক আইডিতে লেখা হয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হচ্ছিল। প্রতিটি গাড়ির ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক করা হচ্ছিল। লাইসেন্স না থাকলে ড্রাইভারকে নামিয়ে ভাংচুর করা হচ্ছিল। একটি পিক-আপের ড্রাইভারকে থামিয়ে লাইসেন্স চেক করার চেষ্টা করা হলে একজন ছাত্রের গায়ের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিয়ে চলে যায়। -

বাড়ি ফেরার আগে রাস্তার কাচ পরিষ্কার করল শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডে বাসের ভাঙা কাচ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে দুই শিক্ষার্থীকে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইতিবাচক আলোচনা হয়।রাস্তায় পড়ে থাকা কাচে যেন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে- তার জন্য বাড়ি ফেরার আগেই তা রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলে তারা। আর অনেকের মতে, এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আজ বুধবার তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।কাচ পরিষ্কারের এ ঘটনায় ফেসবুকে কুদ্দুস আফ্রাদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘তোমাদের হাতে সমাজের জঙ্গল পরিষ্কার হবে। তোমরা এগিয়ে যাও। জয় বাংলা।’আব্দুল হালিম নামের একজন লিখেছেন, ‘বিষয়টি সত্যিই অসাধারণ! তোমাদের হাতেই বাংলার জয় হবে।’
জুবাইর চৌধুরী বলেন, দিনভর রাজপথ দখল করে আন্দোলন। বাড়ি ফেরার আগে রাস্তা ঝাড়ু! আন্দোলনের সংজ্ঞাই পাল্টে দিলে তোমরা! তোমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ব হচ্ছে। তোমাদের জন্য ভালোবাসা। জয় বাংলা! তোমাদের হাতে সমাজের জঙ্গলগুলোও পরিষ্কার হবে! এটাই বিশ্বাস।গত রবিবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর নিহত হয়। আজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ঘটেছে। -

শিক্ষার্থীদের বাধায় পড়ে ফিরে গেল বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়ি
রাজধানীর শাহবাগ এলাকা দিয়ে ‘উল্টোপথে’ যাওয়ার সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিএমডব্লিউ গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রোটোকলে থাকা গাড়িটি ওই পথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়িটিকে শিক্ষার্থীরা আটকে রাখে। আজ নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার একপাশে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে বাণিজ্যমন্ত্রীর গাড়িটি উল্টো পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ মিনিট গাড়িটি সেখানে আটকে থাকে। তোফায়েল আহমেদ তখন গাড়ি থেকে নেমে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর কাছে সড়ক দুর্ঘটনার বিচার চায়। এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। এর আগে পুলিশ প্রোটোকলে থাকা কর্মকর্তা গাড়িটি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা ‘আইন সবার জন্য সমান’ বলেও স্লোগান দেন। পরে গাড়িটি যে পথে আসছিল সে পথে ফিরে যায়। -

শোকের মাস আগস্ট শুরু
আবারও ফিরে এসেছে বাঙালির শোকের মাস আগস্ট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। শুধু বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে যান। সেই থেকে আগস্ট বাঙালির শোকের মাস।
এ উপলক্ষে বরাবরের মতো এবারও আগস্টের প্রথম প্রহরে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্বালন, আলোর মিছিল, শপথ গ্রহণ ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শোকের কর্মসূচি। আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে এর বিচারের পথ পর্যন্ত রুদ্ধ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর কলঙ্কিত সেই অধ্যাদেশ বাতিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করা হয়। নানা কূটকৌশলের জাল ছিন্ন করে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের চূড়ান্ত রায় এবং পরবর্তী সময়ে পাঁচ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হয়েছে। তবে পুরো জাতি এখনও প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে বঙ্গবন্ধুর বাকি ছয় পলাতক খুনির ফাঁসি কার্যকর করার জন্য।
এদিকে এই আগস্ট মাসেই ঘটেছিল জাতির ইতিহাসের আরও একটি বিয়োগান্তক ঘটনা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল গ্রেনেড হামলা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ওই গ্রেনেড হামলা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও ঝরে গিয়েছিল মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪ তাজা প্রাণ।
-

আসামে নাগরিকত্ব বাতিল : আরেকটি রোহিঙ্গা সংকটের সামনে বাংলাদেশ?
ভারতের আসামে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের বেশিরভাগই বাংলাভাষী মুসলমান; যারা আসামের রাজনীতিতে অনেক পুরনো ইস্যু। এদের তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশি বলে নিয়মিত উল্লেখ করে থাকেন স্থানীয় রাজনীতিবিদদের একটি অংশ।
অতীতে নানা সময়ে তথাকথিত এই অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলেও রাজনীতিবিদরা ঘোষণা দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করে? বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কি কোনো কারণ আছে?
ভারতের আসামে নাগরিকের তালিকা থেকে চল্লিশ লাখ মানুষ বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সরকার এখনো কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশ বরাবরই বলে এসেছে যে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুকসানা কিবরিয়া বলছেন, এটি বাংলাদেশের ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলছেন, সেইক্ষেত্র ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। আমাদের হাইকমিশনার বলছেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু এই চল্লিশ লাখ লোকের সবাই না হোক, কয়েক লাখ লোককেও যদি বাংলাদেশের ঢুকে যেতে বাধ্য করা হয়; তখন কী সেটি আর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকবে? সেটি বাংলাদেশের ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।
‘এখনও তা হয়নি, কিন্তু হলে আমরা কি করবো; তার একটা কনটিনজেন্সি প্ল্যান তো থাকতে হবে।’
কিন্তু ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য বলছেন, ভারত চাইলেই এতগুলো মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারবে না। কারণ এর লম্বা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের এখনই চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এত সহজে চল্লিশ লাখ মানুষকে পাঠিয়ে দেয়া যাবে না। এর প্রক্রিয়া অনেক লম্বা। প্রথমে এনিয়ে আপিল হবে। ব্যুরোক্র্যাটিক সমস্যার কারণেও অনেকের নাম কাটা পড়েছে। তাদের বিষয়টা দেখা হবে। তারপরে ফরেনার ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে। সুপ্রিম কোর্টসহ অনেক আইনি প্রক্রিয়া আছে। বিষয়টি এত সোজা নয়।
কিন্তু বাংলাদেশে এ নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে; এই যে চল্লিশ লাখ মানুষ বাদ পড়লেন তারা সবাই কি এই আইনি প্রক্রিয়ায় উতড়ে যেতে পারবেন?
না পারলে তারা আসলে কোথায় যাবেন? ২৫ মার্চ ১৯৭১ এর আগে যারা আসামে এসেছেন বলে কাগজপত্রে প্রমাণ করতে পারেননি, তাদের নাম জাতীয় নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিশেষ তারিখের উল্লেখই আসলে বাংলাদেশের জন্য একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আর ভারতের প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশেরই বরং প্রথম উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। যেমনটা বলছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির। তিনি বলছেন, যেহেতু আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র, যেহেতু যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে তারা বাংলা ভাষাভাষী এবং এদের অধিকাংশই মুসলমান, সেই ক্ষেত্রে আমরা একটু তো চিন্তিত হবোই।
‘কারণ এই লোকগুলো কোথায় যাবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে অন্যান্য অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বলতে পারি যে, এরা আমাদের এখানে আসার একটা চেষ্টা করতেই পারে। আসবেই এমন কথা বলছি না কিন্তু একটা উদ্যোগ নিতেই পারে। তাই এ বিষয়ে আমরা যাতে নেতিবাচকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হই সেবিষয়টি ভারতের সাথে তোলা যেতেই পারে।’
ভারতের আসামের বাংলাভাষী মুসলিম এই জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব সেখানকার রাজনীতিতে অনেক পুরনো ইস্যু। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের অনেকেই তাদের অবৈধ বাংলাদেশী বলে উল্লেখ করে। এমনকি ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারাও এই রাজ্য থেকে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
এর ফলে আরেকটি রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক এএনএম মুনিরুজ্জামান মনে করছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেভাবে কালক্ষেপণ করেছে – তা থেকে বাংলাদেশকে শিক্ষা নিতে হবে এবং এখনই বিষয়টি নিয়ে ভারতের সাথে কথা বলতে হবে।
তিনি বলছেন, দুটি কারণে আমাদের জন্য বিষয়টিতে বড় উদ্বেগের কারণ থাকবে। বাংলাদেশে যদি আবার একটা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেটার জন্য আমরা কোনভাবেই প্রস্তুত নই। আমাদের এখনই এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে। ভারত সরকারকে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য অনুরোধ করতে হবে।
‘রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে যে কালক্ষেপণ হয়েছে, আর আমরা ভবিষ্যতের পরিস্থিতি অনুধাবন করার ক্ষেত্রে আমরা যে দূরদৃষ্টি দেখাতে পারি নাই সেটা যাতে এই ক্ষেত্রে না হয় সে ব্যাপারে আমি সকলকে সতর্ক করছি।’
কিন্তু সেই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কতটা সতর্ক, আর তা সরাসরি ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীকে আদৌ কতটা স্পষ্ট করে বলতে পারবে, এখন সেই প্রশ্নই উঠছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এই প্রসঙ্গে চুপ করে থাকাই বরং বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী হবে বলে মনে করছেন এএনএম মুনিরুজ্জামান। বিবিসি বাংলা।
-

জয় পেয়েছেন সেই নাদিরা বেগম
ছেলে ভ্যান চালাত আর মা মাইকিং করে নিজের প্রচারণা করে ভোট চাইতেন। ভোটের মাঠে সবাই যখন দলবেঁধে ঘুরেছেন তখন ভিন্ন চিত্র ছিল নাদিরা বেগমের। পোস্টার টানিয়েছেন নিজ হাতে। ছেলেকে নিয়েই ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দরজায় দরজায় কড়া নেড়েছেন তিনি।
নাদিরা বেগম এবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৮নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে জয় পেয়েছেন তিনি। ওই ওয়ার্ডে ছয়জন প্রার্থীকে পেছনে রেখে জয় পেয়েছেন নাদিরা বেগম।
বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামীকে হারান নাদিরা। সেই থেকে একাই পথচলা তার। নাদিরা বেগম নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার মকবুল হোসেনের মেয়ে। তার একমাত্র ছেলে শাহারিয়ার আহমেদ স্বপ্নীল নগরীর ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র মডেল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মাত্র ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছিলেন নাদিরা। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা বোনের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন। নিজের রাজহাঁস বিক্রি করে বাকি টাকা জোগাড় করেছেন তিনি।
স্থাবর সম্পত্তি বলতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮ শতাংশ জমি রয়েছে তার। নগদ ৬০ হাজার টাকা ছাড়াও তার ফ্যান, মোবাইল এবং দুটি খাট রয়েছে অস্থাবর সম্পত্তির ঘরে। প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজার টাকা করে আয় করেন জীবন সংগ্রামী এই নারী।
জানা গেছে, গত তিন সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে অংশ নিয়েছিলেন নাদিরা বেগম। কিন্তু একবারও নির্বাচিত হতে পারেননি। প্রতিবারই অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এ ব্যবধান গড়ে দিয়েছিল টাকা।
নাদিরা বেগম বলেন, অর্থের অভাবে ভালোভাবে প্রচারণায় নামতে পারিনি। কিন্তু বরাবরই এলাকার মানুষের সমর্থন পেয়েছি। এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম।
-

ঢাকাজুড়ে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, লাইসেন্স যাচাই পুলিশের
বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর বাসের ধাক্কায় দুই সহপাঠী নিহতের ঘটনায় বুধবার চতুর্থ দিনেরমতো আন্দোলন করছে দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এদিক সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জড়ো হয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এবং জসীমউদ্দীন মোড়ে অবস্থান নিয়েছে থেকে উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, স্কলাস্টিকা, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এসময় বিমানবন্দর উত্তরা রোডে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে ফার্মগেট ওভারব্রিজের নিচে অবস্থান নিয়েছে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকালের মতো আজও ফার্মগেটের দুইপাশের সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। তেজগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
সকাল সোয়া ১১টার দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং শেখ বোরহান উদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থীরা পলাশীতে জড়ো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা আজিমপুর সড়কে অবস্থান করবে।
মতিঝিল শাপলা চত্বরে নটরডেম কলেজ, মতিঝিল মডেল ও আইডিয়ালের স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে অবরোধ করেছে।
অন্যদিকে সকাল ৯টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও রায়েরবাগে সড়ক অবরোধ করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকাল সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রায়েরবাগ স্ট্যান্ডে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শনির আখড়া ওভারপাসের নিচেও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। কোনো ধরণের গাড়ি যেতে দিচ্ছেন না তারা। তবে অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেয়া হচ্ছে। দনিয়া কলেজ, আরকে চৌধুরী কলেজ, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ আশেপাশের কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের অবরোধে অংশ নিতে দেখা গেছে।
দনিয়া কলেজের ফিন্যান্সের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শাহ পরান জয় বলেন, ৯ দফা দাবিতে আমাদের এই আন্দোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।
তিনি বলেন, ‘আজও এখানে এক ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা এর শেষ চাই।’

রাস্তা বন্ধ থাকায় কর্মস্থল ও বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে ভোগান্তিতে পড়ে বিশাল এলাকার মানুষ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে সড়ক খুলে দেয়ার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। বিপুল সংখ্যক মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
পুলিশের ডেমরা জোনের সহকারী কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ছাত্ররা ৯ দফা দাবির কথা বলছেন। তবে দাবিগুলোর অনেকগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া তো চলছে। আমরা আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলছি, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। কারণ ছাত্রদের অনেকেই ইউনিফর্ম পরেনি, তাই তাদের মধ্যে বহিরাগতরা ঢুকে বিশৃঙ্খলা করতে পারে। এ বিষয়ে তাদের বলেছি। আশা করি তারা বিষয়গুলো বুঝবে।’
শ্রমিক আন্দোলন :
গত ৩ দিনে প্রায় অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর এবং আগুন দেয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, চিটাগং রোড, মাতুয়াইলে সড়কে অবরোধ করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এসব সড়কে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কোনো দূরপাল্লার বাস ঢাকায় ঢুকতে দিচ্ছেন না তারা।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যানচলাচল চলাচল করছে না মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারসহ আশপাশের সড়কে। এসময় ফ্লাইওভার দিয়ে অনেককে পায়ে হেটে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে।
সড়কে সড়কে চালকদের লাইসেন্স যাচাই :
রাজধানীর গাবতলী, বাড্ডা, মহাখালী, বনানী কাকলীসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ট্রাফিক সার্জেন্টরা বাস থামিয়ে বাস ও লেগুনা চালকদের লাইসেন্স, রুট পারমিট ও গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে পুলিশ।
গত রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী।
চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।
ওই ঘটনায় জাবালে নূরের তিন গাড়ির দুই চালক ও দুই হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১। এর আগে নিহত মিমের বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
-

ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন সম্পাদক রাব্বানী
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম রাব্বানী দায়িত্ব পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর অর্পিত ক্ষমতা বলে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।
সভানেত্রীর পক্ষে কমিটি ঘোষণা করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সঞ্জিত চন্দ্র দাস। তার রানিং মেট হিসেবে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন সাদ্দাম হোসাইন।
অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মো. ইব্রাহিম; সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয় এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণে মেহেদী হাসান সভাপতি ও মো. জোবায়ের আহমেদ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। অপরদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী একই বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি মাদারীপুরে।
এদিকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ৩৭তম ব্যাচের। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। আর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম ৩৯ ব্যাচের। তার পঞ্চগড়ে।
-
বিমানবন্দরের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
জাবালে নূর বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দরের সামনের সড়কের বিপরীত পাশের ফুটপাতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
এর আগে, জাবালে নূর বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মৃত্যুর বিচার দাবিতে মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে উত্তরা ও সাইন্সল্যাবে বাস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের দাবি জানায়।
-

৯ টাকায় ১ জিবি চাই না, নিরাপদ সড়ক চাই’
বিমানবন্দর সড়কের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল পুরো দেশ। বাদ পড়েনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও। এইরমধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের আগুন ও বিভিন্ন প্রতিবাদী ছবি। দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার এবং ফেস্টুন। যার একটিতে লেখা আছে, আমরা ৯ টাকায় ১ জিবি চাই না, “নিরাপদ সড়ক চাই।”
এর আগে, রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের হোটেল র্যাডিসনের সামনে জাবালে নূর পরিবহনের দু’টি বাসের প্রতিযোগিতায় নির্মমভাবে প্রাণ হারান কলেজের দুই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। হতাহতের শিকার প্রত্যেকেই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। এরপরই কলেজের শিক্ষার্থীরা র্যাডিসন হোটেলের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আর ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজধানীতে।
অন্যদিকে, ‘বিক্ষোভ’ দেখা গেছে ফেসবুকেও। সেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করছেন, প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার এবং ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এমনই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ফেস্টুন হাতে একটি ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর এতে লেখা আছে- আমরা ৯ টাকায় ১ জিবি চাই না, “নিরাপদ সড়ক চাই”।