Author: banglarmukh official

  • মৃত্যু আর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই সেলফি!

    মৃত্যু আর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই সেলফি!

    যত্রতত্র সেলফি তোলাটা দিন দিন মানুষের কাছে একটা অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। যার কারণে মানুষ ক্রমেই দিন দিন মানবিকতা বোধ হারিয়ে ফেলছে। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে এক শ্রেণির নেটিজেনরা বলছেন, ‘মৃত মানুষের সাথে সেলফি তুলতে হবে এ কেমন কথা, শোকাতুর পরিবেশকে নিজের সাথে ফ্রেমবন্দী করতে হবে কেন?’

    এরকম দৃশ্য আজ ও  দেখা মিলল রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায়। দুপুর ১টার দিকে সেখানে এক চালক তার বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর তুলে দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ২ জন।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধরারা তখন সেখানে যে গাড়ি পেয়েছেন সেটিই ভাঙচুর করেছেন। ভাঙচুর করা গাড়িগুলো তখন দাঁড়িয়ে আছে ঘটনাস্থলে। রাস্তা ধ্বংসযজ্ঞের রূপ ধারণ করেছে। স্কুল শিক্ষার্থীর তাজা রক্ত তখনও সড়কে বইছে।

    এমন সময় এক তরুণকে দেখা গেলো সেখানকার দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরার ফ্রেমে এনে সেলফি তুলছেন! কেউ কেউ সেখানে দাঁড়িয়েই ফেসবুক লাইভে নিজেদের চেহারা দেখাচ্ছেন।

    বিষয়টি বেশ সমালোচিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

  • ‘কুল্লু খালাস’ বলে মাঠ ছেড়ে সেলিম কোথায়

    ‘কুল্লু খালাস’ বলে মাঠ ছেড়ে সেলিম কোথায়

    বদরুজ্জামান সেলিম। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে হয়েছিলেন মেয়র প্রার্থী। দল থেকে বহিষ্কার হয়ে এর খেসারত দেন তিনি। কিন্তু দমে যাননি সেলিম। তাঁর প্রতীকের পোস্টারে-ব্যানারে ছেয়ে গিয়েছিল নগরের অলিগলি। নগর বিএনপির একাংশ নিয়ে চষে বেরিয়েছেন পাড়া-মহল্লা, ভোট চেয়েছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। এতে নগর বিএনপির পাশাপাশি চিন্তিত হয়ে পড়েন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। শেষ পর্যন্ত দলের চাপে পিছু হটেন সেলিম। ১৯ জুলাই বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন; বলেন, ‘কুল্লু খালাস’। সেই দিন থেকেই নির্বাচনী মাঠ থেকে উধাও সেলিম। নেতাকর্মীরা মনে করেছিল, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুলের পক্ষে গণসংযোগসহ মিটিং-মিছিলে সেলিম অংশ নেবেন। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে নেতাকর্মীরা হতাশ। সেলিমের অবস্থান তাঁর পরিবার বা দল কেউই স্পষ্ট করে বলছে না।

    বিএনপির দাবি, প্রশাসনের গ্রেপ্তারের ভয়ে সেলিম আত্মগোপনে রয়েছেন, সুযোগ বুঝে মাঠে নামবেন। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনি একটু অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন, সুস্থ হলেই তিনি আমাদের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামবেন। কিন্তু কোন হাসপাতালে আছেন—জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অসুস্থতার কথা দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করলেও নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে গোপনে দেশ ছাড়ার কথাও কেউ কেউ বলছেন।

    মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, ‘তাঁকে তো দেখাই যাচ্ছে না। ঢাকায় অথবা অন্য কোথাও আত্মগোপনে আছেন। ভয়ে তিনি মাঠে নামছেন না বলেই মনে হচ্ছে।’ কিসের ভয়—এমন প্রশে²র জবাবে বলেন, ‘সেটা এখন বলে আমি বিপদে পড়ব নাকি?’ বদরুজ্জামান সেলিম মাঠে থাকলে দলের ভালো হতো বলেও তিনি মনে করেন। একই মত ব্যক্ত করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন।

    সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘বদরুজ্জামান সেলিম একজন পরীক্ষিত নেতা। জনপ্রিয় নেতা। তিনি অসুস্থতার কারণে মাঠে নেই। মাঠে থাকলে তাহলে আমাদের ভোটের মাঠ আরো শক্তিশালী হতো।’ তিনি কী আতঙ্কের কারণে মাঠে নামেননি—এমন প্রশে² কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই নেতা।

  • জাপা থেকে বহিষ্কারের পরও তাপস মাঠে

    জাপা থেকে বহিষ্কারের পরও তাপস মাঠে

    বহিষ্কারের পরেও বরিশালে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ইকবাল হোসেন তাপসের পাশে রয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাপসকে সঙ্গে নিয়ে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রাচার চালিয়েছে।

    স্থানীয় নেতাদের দাবি, দলের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশ ছাড়া তাপসের পাশ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই ভোট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্তই তাঁরা তাপসের পাশে থাকবেন।

    শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করার দায়ে ইকবাল হোসেন তাপসকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায়।

    জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে ইকবাল হোসেন তাপসকে সরে দাঁড়াতে বলেন দলের মহাসচিব। একই সঙ্গে তাঁকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বলা হয়। এ নির্দেশ পাওয়ার পরেও ইকবাল হোসেন তাপস নির্বাচন করার ঘোষণা দেন এবং তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালান। পাশাপাশি তিনি দলীয় প্রধানের কোনো লিখিত কিংবা মৌখিক নির্দেশ পাননি বলে জানান। এ নিয়ে তিনি শুক্রবাব বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা দলের বিরুদ্ধে গেছে বলে কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন। তাই শুক্রবার রাতেই দলের চেয়ারম্যানের ক্ষমতাবলে তাপসকে বহিষ্কার করা হয়।

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার ব্যাপারে অনড় থাকা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়াসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইকবাল হোসেন তাপসকে দলের সব পদ ও পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক গতকাল তাপসের বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেছেন এরশাদ। এরই মধ্যে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে বলে খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান।

    কিন্তু গতকাল তাপস নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিল জাতীয় পার্টির জেলা ও নগর শাখার নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের স্বরোডের সোনালি মোড় এলাকায় থেকে তাঁর প্রচারাভিযান শুরু হয়। এরপর একে একে আমানতগঞ্জ, বেলতলা, ভাটিখানা, চন্দ্রপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। বিকেলে তিনি অক্সফোর্ড মিশন রোডের নির্বাচনীয় প্রধান কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করেছেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাপস নগরীর সাগরদী, রূপাতলী, জাগুয়া এলাকায় পথসভা করেন। এ সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিল জাতীয় পার্টির জেলা শাখার সভাপতি মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ দলের জেলা ও মহানগর শাখার ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    তাপসের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল আর সংবাদপত্রের মাধ্যমে শুনেছি জাতীয় পার্টি ইকবাল হোসেন তাপসকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশাবলির কোনো চিঠি পাইনি। আর নির্বাচনী মাঠের যে অবস্থা এই মুহূর্তে মাঠ ছেড়ে উঠে যাওয়ার কোনো অবস্থা নেই। এটা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বুঝতে হবে।’

    বহিষ্কারের পরে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার মাধ্যমে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান কিংবা মহাসচিব মৌখিক অথবা লিখিত কিছু জানাননি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবির মুখে নির্বাচন চালিয়ে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি, ভোটের মাঠে আছি এবং থাকব। তাই শেষ সময়ে মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বরিশালে জাতীয় পার্টির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি উজ্জীবিত হয়েছে। নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ।’

  • ভরা জোয়ারে ভয় নৌকাডুবির, পোকা ধানের শীষে

    ভরা জোয়ারে ভয় নৌকাডুবির, পোকা ধানের শীষে

    শ্রাবণে কীর্তনখোলার এখন ভাসানকাল। জোয়ারের পানিতে ডুবুডুবু নগরীর নিচু এলাকা আর খাল-নালা-নর্দমা। ভোটের নগরে কীর্তনখোলার জোয়ার ছাপিয়ে যেন বয়ে যাচ্ছে ‘নৌকা’র জোয়ার। রিকশা-গাড়ি-মোটরসাইকেলে শুধুই নৌকার স্টিকার; শুধুই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ছবি। তবে পোস্টার-লিফলেট, প্রার্থীর গণসংযোগ কিংবা ছোটখাটো পথসভা ছাড়া তেমন উচ্ছ্বাস নেই ‘ধানের শীষে’। ভোটের ঠিক আগে নৌকার এ জোয়ার অতীত স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে অনেকের; যে স্মৃতিটি কূলে এসে তরি ডোবার। তাই কেউ কেউ এমন জোয়ারকে অতিজোয়ার হিসেবে দেখে আগের মতো ভরাডুবির শঙ্কায় তাগিদ দিয়েছে সতর্কতার। এমনকি সতর্কতামূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। বিএনপিও নির্বাচনের শেষ প্রান্তে এসে ‘ঘরের শত্রু’ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে। গতকালই কাউন্সিলর প্রার্থী ও জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আয়েশা তৌহিদা লুনা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগঘেঁষা বিএনপি প্রার্থী আরো আছেন বরিশালে।

    গতকাল শনিবার সকালে রিমঝিম বৃষ্টির মাঝেই নগরীর সদর রোডে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে দিয়ে চলাচল করা প্রায় সব মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, রিকশা, এমনকি দোকানপাটেও দেখা যায় নৌকার স্টিকার বা লিফলেট। ওই দৃশ্য দেখিয়ে এক নেতা বলেন, ‘এটা তো আমাদের নৌকার জোয়ার না, বলতে পারেন অতি জোয়ার! ১৯৯৮ সালে এখানে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও এমন অতি জোয়ারের উল্টো ফল পেয়েছিলাম আমরা। তাই ভোটের দিনে আমাদের এবার অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে। সবাই আসল নৌকা, নাকি ভুয়া নৌকাও জোয়ারে মিলে যাচ্ছে কোনো রাজনৈতিক কৌশলের আড়ালে, সেটা মাথায় রাখতে হবে!’

    ঠিক তখনই নৌকার স্টিকার লাগানো নাম্বার প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে স্টিকার লাগানোর কারণ জানতে চাওয়া হয়। মোবাশ্বের নামের ওই মোটরসাইকেল আরোহী হাসতে হাসতে বলেন, ‘এইটা থাকলে ট্রাফিকে ডিস্টার্ব করে না। আর বাসার কাছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের পোলাপাইনেও জ্বালায় না—তাই লাগাইছি। ভোট কারে দিব না দিব সেইটা কেন্দ্রে গিয়ে বুঝব।’

    পরে নিজের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ডা. নাসিম বিশ্বাসের মৃত্যুর পর উপনির্বাচন হয়। নৌকার প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ; আর তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপির ছিলেন মজিবর রহমান সরোয়ার (এবার তিনি বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী)। আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, সেবার প্রচারণা এমনকি ভোটের দিনেও নৌকার জোয়ার ছিল। কিন্তু দেখা গেল সরোয়ারের কাছে হেরে যান মহিউদ্দীন। আরেকটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়া শওকত হোসেন হিরন পাঁচ বছর নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেও ২০১৩ সালের ভোটে হেরে যান। ওই ভোটের দিনেও ছিল কেবলই নৌকার জোয়ার।

    তবে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল মনে করছেন, এবারের নৌকার জোয়ার সত্যিকারের জোয়ার। তবে এর পরও তাঁরা সতর্ক থাকবেন বলে জানান তিনি।

    তবে গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর শেষ নির্বাচনী পথসভায় প্রক্যাশেই হুঁশিয়ার করে দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফজালুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগের কোনো কোনো নির্বাচনে দেখা গেছে নৌকার টুপি, গেঞ্জি, ব্যাজ পরে বুথে ঢুকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। ফলে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে, এবার সেই সুযোগ থাকবে না। নৌকার ব্যাচ ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারে ভিন্ন কৌশল বা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

    সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে থেকে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী কাজে ভূমিকা রাখা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলরাম পোদ্দার বলেন, ‘আগের জোয়ার আর এবারের জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য আছে। এবার জোয়ার স্বতঃস্ফূর্ত। মানুষ সাদিককেই বিজয়ী করবে—এটা আমরা নিশ্চিত।’

    বিএনপিতে ‘গৃহদাহ’ : গতকাল এ রিপোর্ট লেখার মধ্যেই খবর আসে, নগরীর সংরক্ষিত ৪ এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী (এর আগেও দুই মেয়াদে কাউন্সিলর ছিলেন) ও জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আয়েশা তৌহিদা লুনা বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এমনকি গতকাল বিকেলে তিনি অনুসারী কর্মী-সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী  সেরনিয়াত সাদিক আবদুল্লাহর পথসভায় অংশ নিয়েছেন।

    ঘরের শত্রু বিভীষণ আরো আছে। বিএনপির মহানগর কমিটিতে আছেন এমন একজন কাউন্সিলর প্রার্থী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বিএনপি করি ঠিকই আছে। কিন্তু আমি যদি কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী না হই তবে দলে আমার গুরুত্ব থাকবে না। সে ক্ষেত্রে আমার দলের মেয়র বিজয়ী হলেও আমার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। তখন আমি হয়তো দলের জন্যও কোনো কাজ করতে পারব না। বরং এখন আমি যেকোনো কৌশলে যদি বিজয়ী হয়ে আসতে পারি তবে দলই লাভবান হবে। এ ছাড়া ধানের শীষের জন্য কাজ করতে গেলে এলাকায় থেকে নিজের জন্য কাজ করাও মুশকিল হবে। তখন দুটিই হারাতে হবে।’ এই কাউন্সিলর প্রার্থী আরো বলেন, ‘আগের নির্বাচন আর এবারকার নির্বাচনের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানেও খুলনা ও গাজীপুরের মতোই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাতে করে আমাদের ধানের শীষের প্রার্থীর মেয়র হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে হলেও আমরা যে কয়জন বিএনপির কাউন্সিলর জিতে আসতে পারব সেটা অন্ততপক্ষে দলকে স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী করবে।’

    জেলা বিএনপির কমিটিতে থাকা একজন সিনিয়র নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার অনেক নাটকীয়তার পর কেন্দ্র থেকে মজিবর রহমান সরোয়ারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলে সরোয়ারবিরোধী গ্রুপটি তা ভালোভাবে নেয়নি। এ ছাড়া গত পাঁচ বছর জেলা ও মহানগর বিএনপির অনেক নেতাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সখ্য রেখে চলেছেন; ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। এমনকি বিএনপির বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালের অনুসারী বেশ কিছু কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও দলের ভেতরে এমন অভিযোগ রয়েছে। কামাল বা তাঁর কোনো অনুসারী এবার এমনকি পরোক্ষভাবেও মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে কাজ করছেন না। বরং উল্টো আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে সখ্য বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কেন্দ্রে কেন্দ্রে মেয়রের জন্য এজেন্ট দিতেও সহযোগিতা করা হচ্ছে না দলীয় মেয়র প্রার্থীকে—যা এবার ধানের শীষের জন্য বড় এক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল  বলেন, ‘আমরা ভোটের শুরুর দিকেই কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাসের উপস্থিতিতে বরিশালে মেয়র প্রার্থী ও বিএনপিদলীয় সব কাউন্সিলর প্রার্থীকে নিয়ে বসেছিলাম। তখন সব কাউন্সিলর প্রার্থীই আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নিজের পাশাপাশি মেয়র প্রার্থীর জন্যও প্রকাশ্যে কাজ করার। পরে অনেকে সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেও আমাদের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ হচ্ছে না। অনেকে এখনো মেয়রের জন্য কাজ করছে না। তবে আমরা এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং আশা করছি তারা ভোটের দিনে ধানের শীষের জন্য কাজ করবে।’

    জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হয়রানির কারণে  এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। কোনো কোনো এলাকায় কাউন্সিলরাও তেমন একটা সহায়তা করছেন না। যারা এই নির্বাচনে মেয়রের জন্য সঠিকভাবে কাজ করবে না তাদের বিরুদ্ধে ভোটের পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা শাখার মহিলাবিষয়ক সম্পাদক কেন পদত্যাগ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না।’

    বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন  বলেন, ‘আমরা সবাইকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। প্রশাসন বা আওয়ামী লীগের ভয়ে অনেকে হয়তো কৌশলে কাজ করছে। আর যারা কাজ করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা আছে।’ অবশ্য এই বিএনপি নেত্রীকেও দলের ভেতরে-বাইরে সরোয়ারবিরোধী বলেই সবাই জানে। তবে এবার তাঁকে সরোয়ারের পাশে থেকেই সক্রিয় নির্বাচন করতে দেখা যায়।

    এ প্রসঙ্গে বিলকিস জাহান বলেন, ‘আমি আমার দলের জন্য কাজে নেমেছি। দলই আমার কাছে সবার আগে। তবে একসঙ্গে একই এলাকায় রাজনীতি করতে গিয়ে পদ-পদবি বা প্রার্থিতা নিয়ে মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে আমার কিছুটা দূরত্ব থাকতেই পারে।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : ‘কোনো পোলিং এজেন্টকে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই’

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : ‘কোনো পোলিং এজেন্টকে বাধা দেয়ার সুযোগ নেই’

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

    রবিবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা থেকে আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষক আসছেন। তারা সার্বিক পরিস্থিতি কিছুক্ষণ পর পর্যবেক্ষণ করবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, শনিবার পর্যন্ত যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে সেসবের কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কিছু পাওয়া যায়নি। যেগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো পোলিং এজেন্টকে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয় হচ্ছে অনেক প্রার্থী পোলিং এজেন্টই দেন না। সে বিষয়টাও আমরা খেয়াল করছি। এদিকে সকাল থেকেই বরিশাল নগরের এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি। এছাড়া নগরের পয়েন্ট থেকে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

  • ফেসবুকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ট্যাটাস    তিন সিটিতেই আওয়ামী প্রার্থী অনেক এগিয়ে: জরিপ

    ফেসবুকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ট্যাটাস তিন সিটিতেই আওয়ামী প্রার্থী অনেক এগিয়ে: জরিপ

    বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফল কেমন হবে তা নিয়ে জনমত জরিপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে চলতি জুলাই মাসব্যাপী এ জরিপটি করে রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি)।

    জরিপে দেখা গেছে, বরিশালে ৪৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫৮ শতাংশ ও সিলেটে ৩৩ শতাংশ মানুষ তিন সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে রয়েছেন। আজ বরিবার দুপুর ১২টায় সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত পোস্টটি দিয়েছেন।

    এতে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে বরিশালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে রয়েছে ৪৪ শতাংশ জনমত। ১৩.১ শতাংশ মানুষ রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ারের পক্ষে। অন্যান্য প্রার্থীরা ০.৮ শতাংশ জনসমর্থন পাচ্ছেন। ২৩ শতাংশ মানুষ বলছেন, ভোটের ব্যাপারে তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। আর ১৫.৯ শতাংশ ভোটার কোনো ধরনের মতামত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বরিশালে মোট ১ হাজার ২৪১ ভোটারের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

    রাজশাহীদের খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৫৮ শতাংশ ভোটার। বিএনপির মোসাদ্দেক হোসাইন বুলবুলের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৬.৪ শতাংশ। অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন আছে .৯ শতাংশ মানুষের। এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ১২.৩ শতাংশ। মত প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ৯.৬ শতাংশ। এতে ১২৯৪ ভোটারের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

    সিলেটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের প্রতি ৩৩ শতাংশ ভোটার নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ২৮.১ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকি প্রার্থীদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন ১.৩ শতাংশ ভোটার। এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ২৩ শতাংশ ভোটার। ১২.৬ শতাংশ ভোটার নির্বাচন নিয়ে মত প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ১২.৬ শতাংশ। সিলেটে মোট ১১৯৬ জন ভোটারের ওপর জরিপ করা হয়েছে।

    জরিপ সম্পর্কে সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট শহরের লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক ভোটার তালিকা থেকে সমন্বয় করে জরিপের ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটার আইডি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনকৃতদের মধ্য থেকে নমুনা নেয়া হয়েছে। সিটি করপোরশেনের ভোটার এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের নির্বাচিত করা হয়। এ জরিপে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা +/- ২.৫ শতাংশ।

    গত ৫ বছর ধরে আরডিসির সঙ্গে আমি জনমত জরিপ পরিচালনা করে আসছি। তাদের জরিপ পরিচালনা পদ্ধতি ও ফল সবচেয়ে নির্ভুল। অবশ্যই মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা পুরোদমে চলবে এবং ফলাফল জরিপের তুলনায় সামান্য এদিক-সেদিক হতে পারে। যাই হোক, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে চাই যে বরিশাল, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করবে। সিলেটে আমরা সামান্য এগিয়ে আছি।

    বিএনপি তাদের সেই পুরনো সব অভিযোগ এখনো অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু সত্যি কথাটা হলো তারা তাদের জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। উল্টোদিকে গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপির এখন আর মোটেও কোনো হুমকি নয়।

    যাই হোক আমি আমার দলের সদস্যদের, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করতে বিএনপির ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট চুরি চেষ্টা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে। আপনারা সবাই বিএনপি নেতাদের ফোনে রেকর্ড করা কথা শুনেছেন। তাদের প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় বুঝে গেছে তাদের জেতার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তাই তারা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপিয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে চলেছে।

  • জমজমাট প্রচারণা শেষে থমথমে তিন সিটি

    জমজমাট প্রচারণা শেষে থমথমে তিন সিটি

    তিন সিটিতে শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা। রোববার সকাল থেকেই এ তিন সিটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। টানা কদিনের জমজমাট প্রচারণা শেষে সবই যেন থমকে আছে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনের জন্য। তবে কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তিন সিটিতে মোট ১৭ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নগর পিতা নির্বাচিত করবেন।

    রাসিক

    এই নগরীর মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন পুরুষ এবং এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী। ১৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

    এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে নগরীতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আরও চার প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

    এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (সদর) ইফতেখায়ের আলম জানান, ভোটের নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। দায়িত্বপালন করছেন অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।

    তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে ও পরে তিন দিন পুরো নগরী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে নগরীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ঘিরেও থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ নিয়ে ভোটারদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওই নগর পুলিশ কর্মকর্তা।

    সিসিক

    সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।

    এবার নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৪ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ২৭টি টিম কাজ করছে। ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭ জন পুলিশ, ১২ জন আনসার সদস্য আগ্নেয়াস্ত্রসহ আনসার বাহিনীর একজন প্লাটুন কমান্ডার ও একজন এপিসি এবং একজন ব্যাটলিয়ান আনসার সদস্য থাকবেন।

    Election

    তবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সমূহে ২ জন করে অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন। এছাড়া ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ৯টি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।

    সিসিক নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৯৪৮ জন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

    বিসিসি

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

    নগরীতে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে বিরামহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে।

    বিসিসি নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি অধিক গুরুত্বপূর্ন (ঝুঁকিপূর্ণ) ও ৬২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১১টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা।

    অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, এপিবিএন এবং আনসার মিলিয়ে ১৪ জন সশস্ত্রসহ মোট ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে ১২ জন সশস্ত্র পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারসহ মোট ২২ জন সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন ছাড়ও পুলিশের একাধিক দলকে টহল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রিজার্ভ এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচারের জন্য ১০ জন নির্বাহী এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।

    এছাড়া ১৯ প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র্যাবের ৩৫টি টহল দল ও সাদা পোশাকধারীসহ প্রায় সাড়ে ৩শ সদস্য কেন্দ্রের বাইরে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

  • বরিশাল থেকে কলকাতাও যাবে বুলেট ট্রেন

    বরিশাল থেকে কলকাতাও যাবে বুলেট ট্রেন

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে সারা দেশে বুলেট ট্রেন চালু করব। যে ট্রেনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে এক ঘণ্টায় ঢাকা আসা যাবে। এভাবে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও দিনাজপুর থেকে যাতে দ্রুত মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। শুধু দেশের মধ্যে নয়, বরিশাল থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতাও বুলেট ট্রেন চালু করা হবে।

    শনিবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হাতিরঝিলে নর্থ ইউলুপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ইউলুপ উদ্বোধনের পর মোনাজাত শরিক হন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ইউলুপ পরিদর্শনে বের হন। পরিদর্শন শেষে আবার ইউলুপ উদ্বোধনস্থলে ফিরে আসেন। শেখ হাসিনা মঞ্চে ওঠার পর জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাতিরঝিল প্রকল্পের পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মোহাম্মদ মাসুদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

    ইউলুপটি উদ্বোধনের পর তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এই ইউলুপের ফলে হাতিরঝিল থেকে সহজেই রামপুরা-বনশ্রী হয়ে মালিবাগের দিকে যাওয়া যাবে। অন্যদিকে, এসব এলাকা থেকে বের হয়ে হাতিরঝিল হয়ে কারওয়ান বাজার এলাকায় যেতে পারবেন যাত্রীরা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কারণেই ঢাকায় লোকজনের চাপ খুব বেশি। এ চাপ যেন না থাকে সে কারণে ২০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। ঢাকা থেকে মানুষের চাপ কমানোর জন্য ঢাকার আশপাশে ছোট ছোট শহর গড়ে তোলা হবে। যে শহরগুলোতে থাকবে মাল্টি স্টোরেড বিল্ডিং। এসব শহর থেকে খুব সহজে যাতে মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করতে পারে। বাড়ি থেকে যেন ঢাকায় অফিস করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে।

    এছাড়া ঢাকার চারপাশে নদীপথ ও রেলপথ থাকবে। মোট কথা যানজট নিরসনে রাজধানী ঢাকা শহরকে ঘিরে একটি এলিভেটেড রিং রোড নির্মাণ করা হবে। এতে এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল সহজ হবে। সময়ও সাশ্রয় হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। এজন্য গাড়ি কেনার সামর্থ্যও বেড়েছে। যে কারণে রাস্তাঘাটে গাড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশেই যানজট হয়। ঢাকায়ও যানজট আছে। তাই যানজট মোকাবেলায় আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ২০১৯ সালে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হবে। বাকি অংশ চালু হবে পরের বছর, ২০২০ সালে।

    শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানীর যানজট কমানোর জন্য ভবিষ্যতে রাজধানীর যেসব খাল রোড হয়েছে সেগুলো উদ্ধার করে উপরে রোড এবং নিচে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকার সুয়ারেজ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশে খাল, বিল, পুকুর, ডোবা সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

    সমন্বিত হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ইউলুপ প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে। ২১৪ মিটার দীর্ঘ এবং ৭ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থ ইউলুপটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি টাকা। রামপুরা-বনশ্রী এলাকার যানজট নিরসনে ২০১৬ সালের শুরুতে এ ইউলুপ নির্মাণের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী।’

  • নগর পিতার আসনে বসছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ!

    নগর পিতার আসনে বসছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ!

    “প্রাচ্যের ভেনিস” খ্যাত বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে “স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব, শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক” নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে “নগর পিতার” আসন “অলংঙ্কৃত” করার পথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাজনীতির “যোগ্য উত্তরাধিকার” “যুবরত্ন” সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আগামী ৫ বছরের জন্য তিনিই যে নগরবাসীর অভিভাবকের আসনে বসছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশেষ করে গতকাল নগর ভবনের সামনে সাদিক আবদুল্লাহ’র নৌকা প্রতীকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত পথ সভায় মানুষের ঢল নামায় তার বিজয়ী হওয়ার আভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    ওই পথ সভায় ৩০ টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীসহ দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জড়ো হন। লোকে লোকারণ্য পথ সভাটি এক পর্যায়ে রূপ নেয় জনসভায়। এসময় সাদিক আবদুল্লাহ প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন’র স্বপ্নের নগরী বিনির্মাণে নৌকা প্রতীকে ভোট দাবি করেন নগরবাসীর কাছে। সাদিক বলেন, ‘‘বরিশালে বিএনপি অসংখ্যবার নির্বাচিত হয়েও ছিটে-ফোঁটা উন্নয়ন করেনি। কেবল জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে। শওকত হোসেন হিরন নির্বাচিত হয়ে বরিশাল নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার স্বপ্ন ছিলো এই নগরীকে দেশের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। তবে তিনি অকালেই চলে যাওয়ায় সেই উন্নয়ন স্তিমিত হয়ে পড়ে। আমি হিরন’র সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নগরবাসীর সমর্থন চাই।’’ এদিকে সাদিক আবদুল্লাহ’র বিজয়ের “দ্বারপ্রান্তে” থাকার বিষয়টি ভোটারদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

    প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয় ও অফিস পাড়ায় সর্বত্র আড্ডা-আলাপে সাদিক আবদুল্লাহ’র বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকার বিষয়টি সমধিক আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন- এখন শুধু সাদিক’র শপথ নেওয়ার দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রয়েছে নগরবাসী। নগরীর ৩০ টি ওয়ার্ডে ঘুরে দিনমজুর থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে গণরায় যে নৌকার পক্ষে যাচ্ছে তার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। নৌকার পক্ষে ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে বিরামহীনভাবে বৈচিত্র্যময় প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় “তারকা” নেতাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ভোটারদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে- নৌকা জিতলে নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়িত হবে। তাদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এ উন্নয়ন বার্তা পেয়ে উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর নগরবাসী উন্নয়নের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত দলমত নির্বিশেষে সবাই নৌকার পক্ষে ঝুঁকে পড়েছেন।

    একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি বেসরকারি এনজিওর রিপোর্টেও সাদিক’র বিজয়ী হওয়া সম্ভাবনার সরেজমিন তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি ওই এনজিও বরিশাল শহরে ভোটের পূর্ব মুহূর্তে তাৎক্ষণিক জনমত জরিপ করেছে। সেখানে ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ। এনজিওটির জনমত জরিপে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র প্রতীক নৌকার পক্ষে ৫৬% ভোটার মতামত দিয়েছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সারোয়ার সেখানে মাত্র ৩১% ভোটারের সমর্থন পাচ্ছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ৭% ভোটারের সমর্থন পাচ্ছেন। বাকি ৬% ভোটার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এনজিওটির ওই জরিপে।

    এনজিওটির জরিপের ফল নগরবাসীর কাছে প্রকাশ হলে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ফিরে আসে সাদিক আবদুল্লাহ’র পক্ষে প্রচার-প্রচারণায়। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এনজিওটির এমন জরিপে ২৫% পিছিয়ে পড়ায় মজিবর রহমান সারোয়ার’র নেতাকর্মীরা মনস্তাত্বিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিগত সিটি নির্বাচনে ভোটার ছিল ২ লাখ ১১ হাজার। এবার ২ লাখ ৪২ হাজার। নতুন ভোটার যোগ হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার। নতুন এই তরুণ ভোটারদের আশা আকাঙ্খার প্রতীক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সাদিক আবদুল্লাহ তারুণ্যের অহংকার। বরিশালে তরুণ প্রজন্মের আদর্শও তিনি। তরুণদের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। আর এই তরুণ প্রজন্মের ভোটই এবারের বরিশাল সিটি নির্বাচনের সমস্ত হিসাব নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে। যে কারণে অনেকেই বলছেন, সাদিক’র জয়ের পথ রচিত হবে তারুণ্যের হাত ধরে। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করে গত ৫ বছর যে খেসারত নগরবাসী দিয়েছেন, আগামীতে তারা আর সেই খেসারত দিতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

    অনেকেই মন্তব্য করেছেন, তারা অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের আর পুনরাবৃত্তি করতে চান না। গত ৫ বছর বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামাল উন্নয়ন কর্মকা-ে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে না পারায় শ্রী-বৃদ্ধি হারিয়ে বরিশাল শহর আবার পুরনো খানাখন্দের শহরের রূপে ফিরে গেছে। ফলে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিএনপির এ মেয়রের সীমাহীন ব্যর্থতায় শ্রী-হীন হয়ে পড়া বরিশাল শহরকে হিরন’র বরিশালের রূপে ফিরিয়ে আনতে নগরবাসী হিরন’র মতো একজন যোগ্য নগর অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে ফিরছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন ভোটের। অবশেষে ৩০ জুলাই কাঙ্খিত সেই সিটি ভোট। মাঠের বিরোধীদল বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হলে কোনো যে উন্নয়ন হয় না এবং ভবিষ্যতেও হবে না- জনমনে এই বাস্তব উপলব্ধি সৃষ্টি ও প্রমাণ করে দিয়েছেন সদ্য সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল। তার ব্যর্থতা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের পথকে কুসুমাস্তীর্ণ ও বিএনপির প্রার্থীর পথকে কণ্টকাকীর্ণ ও পিচ্ছিল করে দিয়েছে। সরকার দলের প্রার্থী বিজয়ী হলে বরিশালের ব্যাপক উন্নয়ন হবে- ভোটারদের মাঝে এ ধারণা ও উপলব্ধি সৃষ্টি হওয়ায় নির্বাচনী সকল হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণ পাল্টে গেছে। ভোটাররা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন- সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কর্মকা-ে তিনি নিজ যোগ্যতার পাশাপাশি বাড়তি সহায়তা ও সুবিধা পাবেন তার ফুফু প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা ও বাবা প্রভাবশালী মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির কাছ থেকে।

    যেহেতু স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে সিটির সিংহভাগ উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হয়, আর সেই মন্ত্রণালয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন সাদিক আবদুল্লাহ’র গর্বিত পিতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ; স্বাভাবিকভাবেই সেখান থেকে বরিশালের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে। পিতা ও পুত্র মিলে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ এনে বরিশালের উন্নয়নের অতীত সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে পারবেন বলে সচেতন মহল মনে করছে। এছাড়া বরিশালকে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বিশেষ নজর ও উদ্যোগ রয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও বেগবান করতে সাদিক’র মতো নিজ রক্তের বন্ধনের উত্তরসূরী খুঁজে পেতে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নে সাদিক’র ওপরই আস্থা ও ভরসা রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ফুফু, মন্ত্রী বাবা ও সাদিক নিজে মেয়র নির্বাচিত হলে এ তিন রক্তের বন্ধনের যৌথ উদ্যোগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বরিশাল শহর শুধু “প্রাচ্যের ভেনিস” নয়, “আধুনিক সিঙ্গাপুর” শহরে রূপ নেবে এমনটিই ধারণা অভিজ্ঞ সচেতন মহলের। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হলে “আলোকিত এক তিলোত্তমা” নগরীতে রূপান্তর করে অতীতের সব উন্নয়ন রেকর্ড ভেঙে দিয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারবেন বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। বংশ পরম্পরায় সাদিক’র ধমনীতে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র রক্ত প্রবাহিত।

    স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পাদ প্রদীপের আলোয় উঠে আসা এক “উদীয়মান সূর্য”। যার আলোয় “আলোকিত” বরিশালের আওয়ামী রাজনীতির অঙ্গন। দীর্ঘদিন ধরে বরিশালবাসীর পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের সারথী হয়ে অনেক আগেই সাদিক তাদের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়েছেন। অর্জন করেছেন “যুব রতেœর“ খ্যাতি। তরুণ ভোটাররা তাদের পচ্ছন্দের শীর্ষে রেখেছেন সাদিক আবদুল্লাহ-কে। তার জনপ্রিয়তা

    শুধু বরিশাল সিটি এলাকায়ই নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে রয়েছে। তার সব কিছুর মধ্যেই বংশের পূর্বসূরীদের সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শ খুঁজে পাওয়া যায়। এদিকে স্বাধীনতার পরে বরিশাল অঞ্চলে দৃশ্যমান যতো বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকা- হয়েছে তার শুরুটা করেছিলেন তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের সৎ রাজনীতির পথিকৃৎ ও প্রভাবশালী মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং ১৯৭৩ সালে বরিশাল পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অদ্যাবধি তা অব্যাহত রেখেছেন তার সুযোগ্য পুত্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

    দাদা ও বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্বাভাবিকভাবেই বাকী স্বপ্ন পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন ঐতিহ্য ও গৌরবের “যোগ্য উত্তরাধিকার” সাদিক আবদুল্লাহ। এদিকে মানুষের ঢল নামা গতকালের ওই পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য-গবেষণা সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না: আইনমন্ত্রী

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপি যদি কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না।

    তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না। তারা বিশ্বাস করে পাকিস্তানকে। তাদের জায়গা পাকিস্তান, তালেবান ও আইএসের দেশে। তাই আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষায় জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

    শুক্রবার দুপুরে আখাউড়া পৌর শহরের নাছরীন নবী গার্লস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়ার সময় নারীদের কোনো অধিকার দেয়া হতো না। তাদের ওপর এসিড ছোড়া হতো। তাদের কোনো পরিচয় ছিল না। এখন বাংলাদেশ নারীদের জন্য একটা স্বর্গ।

    আখাউড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন, জেলা পরিষদ সদস্য ও যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল কাশেম ভূইয়া, কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদুল কায়ছার জীবন প্রমুখ।

    কসবায় আইনমন্ত্রী : কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা সোনার বাংলা সিরাজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রীর বাবা প্রখ্যাত আইনজীবী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সিরাজুল হকের নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের মাঠে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় আইনমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার বানানো সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সেই মামলায় সাজা হয়েছে।

    বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুল হক ভূইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল কাউছার ভূইয়া, এমজি হাক্কানী, রুহুল আমিন ভূইয়া, কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন, কসবা প্রেস ক্লাব সভাপতি সোলেমান খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ইকবাল, কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন।

    বক্তব্য রাখেন বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-মামুন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান, বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কুদ্দুছ, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুন্নবী প্রমুখ।