Author: banglarmukh official

  • বরিশালে নির্বাচনের নৌকা-ধানের শীষের জয় ‘নির্ধারণ করবে’ হাতপাখা

    বরিশালে নির্বাচনের নৌকা-ধানের শীষের জয় ‘নির্ধারণ করবে’ হাতপাখা

    বরিশাল সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই মূল লড়াই হলেও আলোচনায় উঠে আসছেন আরেকজন প্রার্থী। তিনি হলেন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান মাহবুব। তিনি কত ভোট পাবেন, তার ওপর নির্ভর করতে পারে জয় পরাজয়।

    বরিশালে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়টি ছিল ২০০৩ সালে। তখন প্রায় ২৫ হাজার ভোটে জিতে বিএনপি। ২০০৮ সালে বিএনপির তিন জন প্রার্থীর ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার পরও আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরন স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার শরফুদ্দীন সাণ্টুর সঙ্গে শ চারেক ভোটে জিতেন।

    ২০১৩ সালে এখানে বিএনপির আহসান হাবিব কামালের কাছে হিরন হারেন ১৬ হাজার ভোটে। আর ভোটে পরাজয় হলেও হিরন পাঁচ বছর আগের তুলনায় ২৩ হাজার ভেটি বেশি পান।

    মেয়র কামালের নিস্প্রভ পাঁচ বছরের কারণে এমনিতেই বিএনপি এবার কিছুটা চাপে ও ভোটারদের প্রশ্নের মুখে। আর ওপর হাতপাখা প্রতীকে যদি রংপুর, খুলনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পড়ে, তাহলে সেটা বিএনপির জন্য বিপত্তির কারণ হতে পারে।

    ধারণা করা হচ্ছে হাতপাখা প্রতীকের ভোটই নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে জয়ের ব্যবধান গড়ে দেবে।

    গত ডিসেম্বরে রংপুর, মে তে খুলনা আর জুনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের ভোট চমকে দিয়েছে রাজনীতিকে। গোপনে ধর্মভিত্তিক এই দলটি যে আলোচিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তুলনায় একটি অবস্থান করে নিতে পেরেছে সেটি স্পষ্ট।

    ইসলামী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র বরিশালেই অবস্থিত। সেটি অবশ্য মহানগরের বাইরে চরমোনাই উপজেলায়। তার পরেও বিভাগীয় শহরটিতে দলটির একটি প্রভাব থাকার দাবি করছেন নেতারা। ৩০ জুলাইয়ের ভোটে সেটির প্রমাণ দেয়ারও চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন তারা।

    বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস বলে, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির বরাবরই সুসম্পর্ক রয়েছে। আবার জন্মের পর মুসলিম লীগের একটি বড় অংশ বিএনপিতে বিলীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা এই মুসলিম লীগও দীর্ঘদিন ধর্মের বিষয়টি সামনে এনে রাজনীতি করেছে। ফলে এই বিশ্বাসীদের ভোট ভাগ হলে সেটি বিএনপিরই ক্ষতি হয়।

    ইসলামী আন্দোলন এই নির্বাচনে প্রার্থী না দিলে নিশ্চিতভাবেই বিএনপির বাক্সে বেশি ভোট পড়ত।

    ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী দিয়ে ইসলামী আন্দোলন প্রায় ৩০ হাজার ভোট পায় হাতপাখা প্রতীকে। আর ওই বছর বিজয়ী বিএনপি সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটের ব্যবধান ছিল সাড়ে চার হাজার। আর যখন ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেয়নি, তখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল আরও বেশি।

    ইসলামী আন্দোলন দাবি করছে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, যেটি সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দেখা যাচ্ছে। আর এবার তারা আরও বেশি ভোট পাওয়ার আশা করছেন।

    ইসলামী আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন ইসলামী কৃষক মজুর আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রংপুর, কুমিল্লা এবং নারায়াণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন কারচুপির অভিযোগ ওঠেনি। এই তিন জায়গাতেই তৃতীয় অবস্থান আমাদের। অন্য জায়গাগুলোতেও একই অবস্থান ধরে রেখেছি আমরা। আর বরিশাল তো আমাদের ঘাঁটি। পীরসাহেব চরমোনাইয়ের দরবার শরিফ এখানে। বরিশাল সিটিতে আমাদের কমপক্ষে ৫০ হাজার ভোট রয়েছে।’

    ‘এছাড়া হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্তত ৩০ হাজার ভোট আছে এখানে। ফলে আমাদের ৫০ হাজারের সঙ্গে এই ভোট যোগ হলে আমাদের জয়ের সম্ভাবনাও আছে।’

    ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি কে এম শরীয়তউল্লাহ বলেন, ‘বরিশাল সিটিতে ইসলামী আন্দোলন অর্থাৎ আমাদের কর্মী রয়েছে ৪১ হাজার। এই ভোট তো আমরা পাবই, সঙ্গে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও আমাদেরকে ভোট দেবে।’

    ইসলামী আন্দোলনের কারণে ক্ষতি হতে পারে, এটা স্বীকার করছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারও। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘হাতপাখা আমাদের কিছু ভোট নষ্ট করবে এটা ঠিক। তবে তাতে আমাদের জয়লাভে কোন বাধা সৃষ্টি হবে না। তাদের ভোট তাদের কাছে যাবে আর আমাদেরটা আমাদের কাছে। বরিশালের মানুষ বিএনপিকে পছন্দ করে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি এমনিতেই জয়লাভ করবে বরিশাল থেকে।’

    হেফাজত নেই বিএনপির পাশে

    ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে ব্যাপক উন্নয়ন করার পরও শওকত হোসেন হিরনকে যেসব কারণে হারতে হয়েছিল তার একটি ছিল ধর্মীয় আবেগ। ওই বছর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদেরকে উৎখাতে চালানো অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার গুজব ছড়িয়ে ভোটে আবেগী প্রচার আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে।

    তবে পরে প্রমাণ হয়, সেসব প্রচার কেবলই বানোয়াট প্রচার ছিল আর এবারের সিটি নির্বাচনে এই ঘটনাটি কোনো প্রভাবই ফেলছে না। তার ওপর ২০১৬ সালের শুরুতে ২০ দলীয় জোট থেকে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোট সরে দাঁড়ানোয় ভোটের ময়দানে এই শক্তির সমর্থনও পাচ্ছে না বিএনপি।

    এই ইসলামী ঐক্যজোটই মূলত হেফাজতে ইসলামীকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতের ভোট নিয়ে মাথাব্যাথা না থাকলেও এর ভেতরে রাজনৈতিক কর্মীদের একটি বড় অংশের সমর্থন বরিশালে পাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন।

    বরিশালে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুব হেফাজতে ইসলামীর বরিশাল বিভাগীয় সম্বয়য়কারী। আবার তিনি ধর্মভিত্তিক আরেক সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতেরও সভাপতি। ফলে কওমি বিশ্বাসীদের ভোটও ধানের শীষের বদলে হাতপাখায় পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

    বরিশালে ধর্মভিত্তিক আরেক আলোচিত দল স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামের তেমন প্রভাব নেই বললেই চলে। ফলে তাদের সমর্থন বিএনপির জন্য তেমন কোনো সুবিধা হওয়ার কারণ নেই।

    বরিশাল মহানগর এমনিতে বিএনপির শক্তি পরীক্ষিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যতগুলো নির্বাচনে তারা অংশ নিয়েছে তার মধ্যে ২০০৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই কেবল হারতে হয়েছে তাদের। তবে সে সময় হারের কারণ ছিল দলের একাধিক নেতার ভোটে লড়া।

    ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৯০ শতাংশ আসনে বিএনপির ভরাডুবি হলেও বরিশাল সদর আসন তারা ধরে রাখতে পারে। আর পাঁচ বছর মেয়র থাকাকালে শেখ শওকত হোসেন হীরন বরিশালে ব্যাপক উন্নয়ন করলেও ভোটে তার প্রভাব পড়েনি, জিতে যায় বিএনপি।

    তবে এবার গত পাঁচ বছরে বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামালের বলার মতো কিছু করে দেখাতে না পারা এমনিতেই বিএনপির জন্য নেতিবাচক প্রমাণ হওয়ার কারণ আছে। তার ওপর ইসলামী রাজনৈতিক বিশ্বাসীদের অনুসারীরা পাশে না থাকাটার প্রভাব সোমবার রাতে প্রকাশ হবে।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সাদিক, সরোয়ার ও তাপসের সহধর্মিণীরা

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সাদিক, সরোয়ার ও তাপসের সহধর্মিণীরা

    বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার (৩০ জুলাই)। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রচার-প্রচারণা। যেখানে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে প্রচার-প্রচারণার মাঠ পুরো সময়টা ধরেই ছিল সরগরম।

    প্রার্থী ছাড়াও প্রচারণার মাঠ দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী আর সমর্থকরা। তবে এর বাইরেও প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়রপ্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন তাদের সহধর্মিণীরা। পাশাপাশি অনেকের সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও নেমেছেন প্রচারণার মাঠে ভোট চাইতে প্রার্থীর পক্ষে।

    প্রচার-প্রচারণার শুরুর দিক থেকেই মাঠে ছিলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারের সহধর্মিণী নাছিমা সরওয়ার। তিনি তার স্বামীর পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়িয়েছেন গোটা নগরে। তার সঙ্গে ছাত্রদল ও মহিলাদলের নারীনেত্রীরা ছিলেন সহায়ক হিসেবে। আর এ ভোট চাইতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মীদের হুমকিও দিয়ে এসেছেন আলোচনায়। এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু মজিবর রহমান সরওয়ারের সহধর্মিণীই নয় তার ছেলে নাফিস সরওয়ারও ছিলেন প্রচার-প্রচারণার মাঠে, কখনো বাবার সঙ্গে আবার কখনো মায়ের সঙ্গে।

    এদিকে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহ শেষ সময়ে হলেও গত কয়েকদিন ধরে নগরের অলি-গলি চষে বেড়াচ্ছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে চাইছেন যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর জন্য ভোট, ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন আ’লীগের মেয়রপ্রার্থীর সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহ ও বিএনপির মেয়রপ্রার্থীর সহধর্মিণী নাছিমা সরওয়ার। অপরদিকে জাতীয়পার্টির (জাপা) মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের সহধর্মিণী ইসমাত আরা ইকবালও প্রথম থেকেই চষে বেড়াচ্ছেন নগরের বিভিন্ন এলাকা। বিশেষ করে বস্তি এলাকায় তার পদার্পণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি তার স্বামীকে সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ উল্লেখ করে নগরের উন্নয়নের জন্য লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চাইছেন।

    এর বাইরে থাকা কোনো মেয়রপ্রার্থীর সহধর্মিণীকেই ভোটারদের কাছে যেতে দেখা যায়নি। যদিও সাত মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে বাসদের মই প্রতীকের ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রথম নারী মেয়রপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বেশ খানিকটা আলোচনায়।

    এ বিষয়ে নগরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ভোটার আছিয়া আক্তার জানান, প্রচার-প্রচারণার মাঠে প্রার্থীদের সহধর্মিণীরা নেমেছেন এটা কয়েকবছর আগেও ভাবা যেতো না। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। সিটি নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীর পাশাপাশি তাদের পত্নীরাও যে নেমেছেন, এটা প্রার্থীর জন্য ভালো দিক। তেমনি প্রার্থী কতটা নারী সমাজের ওপর শ্রদ্ধা ও আস্থাশীল তা যেমন বোঝা যাচ্ছে। তেমনি নারী ভোটারদের অন্দরমহলে গিয়েও ভোট চাইতে পারছেন প্রার্থীর পক্ষে। যা প্রার্থীর পক্ষে সম্ভব ছিল না।

    ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিলকিস আক্তার জানান, সহধর্মিণীদের মাঠে নেমে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়বে। কারণ প্রার্থীর চেয়েও তাদের স্ত্রীরা বেশ কাছে যেতে পেরেছেন নারী ভোটারদের।

  • গণজোয়ারে ভাসছে সাদিকের নৌকা

    গণজোয়ারে ভাসছে সাদিকের নৌকা

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১ দিন। যদিও নগরীর ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন কাকে বসাবেন নগর পিতার আসনে। এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ঘুরে। বরিশালবাসীর কাছের মানুষ, তাদের ভরসার ঠিকানা সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী। তাকেই নগর পিতার আসনে বসাতে চায় তারা। যদিও একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যেও এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। ওই সংস্থাটি বলছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোটারদের আস্থার ও ভরসার অপর নাম সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অল্প সময়ে বরিশালের রাজনীতিতে একচ্ছত্র হয়ে উঠেছেন সাদিক আবদুল্লাহ। পিতা জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র ভাগনে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র পর এখন তিনিই বরিশালের আলোচিত নেতা। তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ। সাধারণ জনগণ তাকে মেয়র হিসেবে পেতে চায়। ২০১৪ সালের এপ্রিলে আকস্মিক মারা যান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন। এরপরই সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালের রাজনীতিতে জায়গা করে নেন নিজের যোগ্যতায়। তখন তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদে ছিলেন। এরপর তিনি তার নিজের যোগ্যতায় বরিশাল মহনগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। দিনরাত সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে ছুটে যাচ্ছেন এ নেতা। অবশ্য ইতোমধ্যে বরিশালের পাড়া-মহল্লা, নগর ছাড়িয়ে এখন দেশও সমধিক উচ্চারিত। স্বীয় প্রজ্ঞা আর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে বরিশালের গণমানুষের হৃদাসন জয় করেই আজ নামটির খ্যাতি বরিশালের গ-ী ছাড়িয়ে দেশের মাটিতেও সমানভাবে সমাদৃত সাদিক আবদুল্লাহ। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে বরিশালের রাজনীতিতে একটি দৃষ্টান্ত। বরিশাল সিটি করপোরেশনে আ’লীগের মেয়র প্রার্থী তিনি। নগরভবন ঠিকানা না হলেও বর্তমানে মহানগরীর মানুষ এখন তাকে ‘ভবিষৎ মেয়র’ বলেই সম্বোধন করতে শুরু করছে। নগরবাসী সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে ছুটে যায় তার কাছে। সাদিক-ও নিরাশ করেন না বিপদে পড়া তার প্রিয় নগরবাসীকে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, ‘সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র মাঝেই দেখা যায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’র প্রতিচ্ছবি, আর যার শরীরে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতার রক্ত তার চেয়ে কে ভালোবাসতে পারবেন নগরবাসীকে। যা আরো একবার প্রমাণ হলো বরিশালে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বরিশাল নয় বরিশালের অজপাড়াগাঁয় একটি নাম উচ্চারিত হচ্ছে তা হলো সাদিক আবদুল্লাহ। তাই বরিশাল সিটির নগরপিতা হিসেবে তাকেই দেখতে চায় তৃণমূলসহ নগরবাসী। তরুণ এই নেতা নগরীর সাধারণ ভোটারদের ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মন জয় করে নিয়েছেন। যার ফলে তরুণ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ যেভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন তাতে বলাই যায়, বরিশালের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। আর এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের কার্যক্রম দেখে নগর পিতার আসনে বসাতে সাদিক আবদুল্লাহ’র দিকে গণজোয়ার বইছে। সাদিক’র বিকল্প কোনো যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছেন না নগরীর সর্বস্তরের ভোটাররা। তাই তারা বলছেন, সাদিক’র বিকল্প সাদিক-ই। সাধারণ ভোটারদের অভিমত, প্রধানমন্ত্রী সাদিক আবদুল্লাহ’র ফুফু, আর তিনি যদি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হন তাহলে বরিশালবাসী উন্নয়নের জোয়ার দেখবে। আর উন্নয়নের জোয়ার দেখার জন্যই সাদিক আবদুল্লাহ-কে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নগর পিতার আসনে বসাতে চাচ্ছেন নগরবাসী।
  • মায়ের হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ : জয়

    মায়ের হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ : জয়

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ৪৮তম জন্মদিন পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই অবরুদ্ধ ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির প্রথম সন্তান জয় জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু তার নাম রাখেন ‘জয়’। জন্মদিন উপলক্ষে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জয় লিখেছেন, মায়ের হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ।

    শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে জন্মদিনের অনুভূতি তুলে ধরে পোস্ট দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আইটি বিশেষজ্ঞ জয় লেখেন, ‘আমার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

    এখন আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। মা (শেখ হাসিনা) জিজ্ঞেস করছিল আমার জন্য কী রান্না করবেন। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে আমি খুঁতখুঁতে, মা’র হাতের সব রান্নাই আমার পছন্দ।’

    ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মা-বাবার সঙ্গে জয় জার্মানি হয়ে ভারতে যান। ভারতে তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে। ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন।

    পরবর্তী সময়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন জয়। সোফিয়া ওয়াজেদ নামে তাদের একটি মেয়ে আছে।

    এবারের জন্মদিনে দেশে পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন জয়। তবে তার জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না। তবে এদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জয়ের জন্মদিনের কেক কাটেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

  • বিএনপি মাঠ ছেড়ে যাবে না : সরোয়ার

    বিএনপি মাঠ ছেড়ে যাবে না : সরোয়ার

    যে ধরনের ঘটনাই ঘটুক না কেন, যত গ্রেফতারই হোক না কেন, বিএনপি মাঠ ছেড়ে যাবে না, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনের মাঠে থাকবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি সহ ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিশারী রোডের কারিকর বিড়ি ফ্যাক্টরি এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্যে এই হুশিয়ারি দেন সরোয়ার।

    এদিকে সরোয়ারের পক্ষে দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মীর্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, বরিশালে একটা ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। গত রাত (বুধবার) থেকে আওয়ামী লীগ বরিশালে ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছে। অহেতুক গ্রেফতার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মাটি কামড়ে হলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা যে কোন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে ঘোষণা দেন মীর্জা আব্বাস।
    সংবাদ সম্মেলনে মীর্জা আব্বাস ছাড়াও বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ২০ দলের শরীক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ, দলের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গত বুধবার বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছে বলে খবর ছড়ানোর পরও আজ দিনভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন জাপার মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস।

    দুপুরে নগরীর টিয়াখালী এলাকায় গণসংযোগকালে দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তাপস সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এইচএম এরশাদের কোন নির্দেশ পাননি। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার ক্ষমতাসীনদের সাথে জাতীয় সংসদের একটি আসন ভাগাভাগির জন্য তার নিজের স্বার্থে এই চক্রান্ত করেছেন বলে অভিযোগ তাপসের। তিনি নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে আজ দুপুর ২টার দিকে নগরীর কলাপট্টি এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ। গণসংযোগকালে সাদিক আবদুল্লাহ বিএনপি নেতা মীর্জা আব্বাসের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। বরং সাদিক বিএনপি’র বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনি ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব, কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট একে আজাদ এবং বাসদের ডা. মনিষা চক্রবর্তী আজ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন

  • চাকরির অদ্ভুত ইন্টারভিউ!

    চাকরির অদ্ভুত ইন্টারভিউ!

    চাকরির প্রত্যাশা তো সবারই। তাই তো ইন্টারভিউ দেওয়া। ইন্টারভিউতে কি কিছু খেতে দেওয়া হয়? দিতেও পারে। খাওয়া- না খাওয়া প্রার্থীর ব্যাপার। তবে খেতে বাধ্য করা হতো এক ইন্টারভিউতে। সেই খাবারের ওপর নির্ভর করতো প্রার্থীর চাকরির হওয়া- না হওয়া।

    শুনে অবাক হলেও ঘটনা কিন্তু সত্য। আসলে ঝাল-টক কোনো কিছু খাওয়ার সময় পাতে কাঁচা লবণ আলাদা করে ছিটিয়ে নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। আর এতেই সমস্যায় পড়তে হয় ইন্টারভিউ বোর্ডে! এমনকি প্রার্থীর চাকরি বাতিলও হয়ে যেতে পারে। শুধু লবণ নয়, একই কথা প্রযোজ্য মরিচের গুঁড়ার ক্ষেত্রেও।

    ধরুন, চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেছেন। সৌজন্যবশত আপনাকে এক বাটি স্যুপ দেওয়া হলো। আপনিও খুশি হয়ে তাতে লবণ-মরিচ ছিটিয়ে খেলেন। ভাবলেন, কর্তৃপক্ষ যখন একেবারে স্যুপের বাটিই সামনে দিয়েছে, তাহলে নিশ্চয়ই চাকরি হয়ে গেছে! অথবা ভাবলেন, আপনাকে দেখেই তারা অনেক খুশি।

    আসলে তা নয়! কারণ স্যুপে লবণ-মরিচ দিতে দেখেই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাটুকু হারিয়ে গেল। কিন্তু কেন? এবার বলি মূল ঘটনা, ওই ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রধান ছিলেন বাল্ব আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন। এডিসন তার কোম্পানিতে কাউকে চাকরি দেওয়ার আগে লবণ-মরিচের অদ্ভুত পদ্ধতি কাজে লাগাতেন।

    ইন্টারভিউ দিতে এলে তাকে স্যুপ খেতে দিতেন এডিসন। ওই ব্যক্তি যদি একবারও স্যুপ টেস্ট না করেই লবণ-মরিচ ছিটিয়ে দিতেন, তাহলে তাকে বাদ দেওয়া হতো! এডিসন মনে করতেন, যে একবার পরীক্ষা না করেই স্যুপের উপর লবণ-মরিচ ছিটিয়ে নেয়, তার নিজস্ব বিচার-বিবেচনা বোধ কম। তাকে চাকরি দেওয়া যায় না।

  • ৮২ বছর বয়সে কেটেছেন ১৪টি পুকুর

    ৮২ বছর বয়সে কেটেছেন ১৪টি পুকুর

    পানির অপর নাম জীবন। তবে তা অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে। তাই তো বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণের জন্য কাটা হয় পুকুর। গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি বাড়িতে একটি বা দুটি পুকুর থাকে। কিন্তু এক বৃদ্ধই পুকুর কেটেছেন ১৪টি। অবাক হলেও ঘটনা সত্য। আসুন জেনে নেই বিস্তারিত-

    বৃদ্ধের নাম কেরে কামেগৌড়া। বয়স ৮২ বছরের মতো হবে। বেঙ্গালুরুর মালাভাল্লি তালুকের দাসানডোড্ডি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার হাতে তৈরি হয়েছে ১৪টি পুকুর। পানি সংরক্ষণের জন্য তিনি তৈরি করেছেন পুকুরগুলো। ভারতের বেঙ্গালুরু-মালাভাল্লি-কোলেগাল সড়কে যাতায়াত করলে চোখে পড়বে পুকুরগুলো।

    তার দেখা মেলে নিজের ছোট্ট ঘরে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তবে মনের দিক থেকে এখনো তরুণ। প্রায় ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন। ৫০টি ভেড়া নিজে চড়ান, দেখভাল করেন। কখনো কখনো গাছের চারা রোপণ করেন। আবার মাটি খুঁড়ে পুকুর তৈরি করেন একাই।

    এভাবে তিনি গড়ে তুলেছেন ১৪টি পুকুর। ২০১৭ সালে ৬টি পুকুর তৈরি করেন। পরে ২০১৮ সালের মধ্যে তৈরি করেন আরও ৮টি পুকুর। এজন্য তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেরে’। যার বাংলা অর্থ ‘পুকুর’ বা ‘লেক’। এজন্য তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

    এ পুরস্কারের অর্থ নিজের কাজে লাগান না তিনি। সে টাকা দিয়ে কিনেছেন আধুনিক প্রযুক্তির মাটি খোঁড়ার যন্ত্র। ফলে একের পর এক গড়ে তুলেছেন হাতে গড়া পুকুর। এছাড়া এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে তৈরি করেছেন ছোট ছোট রাস্তা।

    সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- এলাকার মেষপালকদের পাহাড়ে চড়তে যাতে অসুবিধা না হয়, সে জন্য পাহাড়ের ঢাল বেয়ে তৈরি করেছেন রাস্তা। শুধু ১৭-১৮ সালই নয়, চল্লিশ বছর আগেও এই খনন কাজ শুরু করেন তিনি। স্থানীয় মানুষের কষ্ট দেখেই কাজ শুরু করেন তিনি।

  • উৎকণ্ঠায় আসামের দেড় কোটি বাসিন্দা খসড়া তালিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা

    উৎকণ্ঠায় আসামের দেড় কোটি বাসিন্দা খসড়া তালিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা

    বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ভারতের আসাম রাজ্যে অবৈধ বাসিন্দাদের চিহ্নিত করার অংশ হিসেবে ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি)’ দ্বিতীয় ও শেষ খসড়া তালিকা আগামী সোমবার প্রকাশ করার কথা রয়েছে। প্রথম তালিকায় বাদ পড়া প্রায় দেড় কোটি বাসিন্দা গভীর উত্কণ্ঠা নিয়ে ওই তালিকার অপেক্ষায় আছে। তালিকায় বাদ পড়া ব্যক্তিরা যদি নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে তা-ও স্পষ্ট নয়।

    এদিকে প্রকাশিতব্য খসড়া এনআরসি তালিকার ভিত্তিতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা পুলিশি ব্যবস্থা না নিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গতকাল বুধবার আসাম রাজ্য সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এক টুইট বার্তায় ওই নির্দেশনার কথা জানান। একই দিন তিনি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বলেছেন, ‘ফরেনার্স অ্যাক্টের’ আওতায় ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু বলেছেন, আগামী সোমবার আসাম থেকে ৫২ জন অবৈধ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

    আসামে এনআরসি প্রক্রিয়ার আওতায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ফলে বর্তমানে সেখানে বসবাসরত অনেকেরই নাগরিকত্ব হারানোর শঙ্কা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মহলের ধারণা, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে লোকজন সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। নাগরিকত্ব হারালে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আসতে হতে পারে—এমন শঙ্কাও রয়েছে।

    তবে বাংলাদেশের সরকারি সূত্রগুলো এমন শঙ্কা নাকচ করলেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার কথা জানিয়েছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গত সোমবার কলকাতায় সাংবাদিকদের বলেন, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে তোলেনি। তাই এ বিষয়ে বাংলাদেশেরও কোনো মন্তব্য নেই।

    গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে প্রকাশিত এনআরসির প্রথম খসড়ায় আসামের তিন কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে এক কোটি ৯০ লাখের নাম স্থান পায়। বাকি এক কোটি ৩৯ লাখ আবেদনকারীর আবেদন যাচাই-বাছাই করে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। তালিকায় স্থান পেতে আসামের বাসিন্দাদের প্রমাণ করতে হচ্ছে যে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম ১৯৫১ সালের এনআরসিতে বা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগের কোনো ভোটার তালিকায় ছিল।

    খসড়া এনআরসির দ্বিতীয় ও শেষ তালিকা প্রকাশের প্রাক্কালে গতকাল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসাম রাজ্য সরকার ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে। আসাম রাজ্য সরকারকে রাজ্যের ও কেন্দ্রের বিভিন্ন সংস্থা এবং এনআরসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করতে রাজ্যসচিবের সভাপতিত্বে রাজ্যপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে রাজ্যের রাজধানী ও জেলা সদরগুলোতে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করারও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    ওয়েবসাইট, ‘টোলফ্রি’ নম্বর, এসএমএসসহ সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে জনগণের কাছে খসড়া এনআরসির তথ্য তুলে ধরতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছে। এনআরসি প্রক্রিয়া, খসড়া তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের জন্য করণীয় বিষয়গুলো জনগণকে জানাতে ব্যাপক পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গত রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রত্যেকেই ন্যায়বিচার পাবে। সবার সঙ্গেই মানবিক আচরণ করা হবে। আইন অনুযায়ী, প্রত্যেকেই পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে। ভারত সরকার স্পষ্ট জানাচ্ছে, আগামী ৩০ জুলাই এনআরসির খসড়া প্রকাশের পরও অভিযোগ ও দাবি জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ থাকবে। সব অভিযোগ ও দাবি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, খসড়া এনআরসির তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আসাম সরকারের প্রশাসনিক বা পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া ঠিক হবে না। তালিকায় বাদ পড়া ব্যক্তিদের ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে’ পাঠানোরও কোনো প্রশ্ন নেই। কারণ চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশের আগে তারা অভিযোগ ও দাবি জানানোর অধিকার রাখে এবং তারা তা পাবে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, এনআরসির ভিত্তিতে কাউকে আটক করে ‘ডিটেনশন সেন্টারে’ পাঠানোরও সুযোগ নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব প্রশাসনিক ও পুলিশ শাখাকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে আসামের রাজ্য সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে।

    জানা গেছে, আসামের এনআরসির খসড়া নিয়ে প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্যগুলোতেও, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে শঙ্কা রয়েছে। প্রথম দফা তালিকা প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে আগুন নিয়ে না খেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এনআরসি হালনাগাদের নামে আসাম থেকে বাঙালিদের তাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

    নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আদালতের নির্দেশে আসামে এনআরসি তালিকা প্রকাশের কাজ চলছে। শেষ পর্যন্ত যারা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবে না, তাদের ব্যাপারেও আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

  • বরিশালে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি না করার নির্দেশ

    বরিশালে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি না করার নির্দেশ

    গ্রেফতার ও রিমান্ড সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রচারণাকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি না করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
    বরিশালে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি না করার নির্দেশ
    বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার এ রিট করেন। শুনানি করেন সগীর হোসেন লিয়ন।
    আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
  • সিটি নির্বাচনে তীক্ষ্ন নজর বিদেশিদের

    সিটি নির্বাচনে তীক্ষ্ন নজর বিদেশিদের

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ তিন সিটির নির্বাচনে তীক্ষ্ন নজর বিদেশিদের। সরেজমিনে এবার রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। এজন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ১৮ জনের নামে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড ইস্যুর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আজ বিকাল ৩টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করবেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। বিগত দু’টি ও আসন্ন তিন সিটি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
    ইসি সূত্রে জানা গেছে, তিন সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন দূতাবাস থেকে আবেদনসহ পাঁচজনের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রাজশাহীতে তিনজন, বরিশাল ও সিলেট সিটিতে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দূতাবাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন থেকে পাঁচজনের পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) ৯ জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে চারজন, সিলেটে তিনজন এবং বরিশালে দুইজন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন। ইউএসএইড নামের আরেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার চারজন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। বিশেষ করে গত ২৬ জুন গাজীপুর ও গত ১৫ মে খুলনা নির্বাচনের চেয়ে বরং রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বেশি দৃষ্টি রাখছে বিদেশিরা। এই তিনি সিটির মধ্যে রাজশাহীর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ বেশি। এই সিটিতে বেশি পর্যবেক্ষণ পাঠানো হচ্ছে।
    বিদেশিদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান আরজু  বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো দু’টি সংস্থার মোট ১৮ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে আবেদন করেছে। কমিশনও সংশ্লিষ্টদের আবেদন মঞ্জুর করেছে।
    এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে-যুক্তরাজ্যের তরফে দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনের রাজনৈতিক বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইলেকশন অবজারভার টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে যাচ্ছেন। বাকিরা ঢাকায় বসে প্রযুক্তি, মিডিয়া এবং নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে ভোটের মাঠের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে যুক্তরাজ্যের একটি টিম ২৪ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত বরিশালে থাকার কথা রয়েছে। এরপর ওই টিমটি সিলেট সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাওয়ার কথা। এ ছাড়া শুরু থেকে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচন গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। এ ছাড়াও জাপান, কানাডা, জার্মানির কূটনীতিকরাও নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।