Author: banglarmukh official

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : ফলাফল বদলে দিতে পারেন যারা

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : ফলাফল বদলে দিতে পারেন যারা

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নতুন প্রায় ৩০ হাজার ভোটার। এই নতুন ভোটারেরা কাদেরকে ভোট দেন কিংবা দেবেন সে বিষয়ে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ। মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বস্তরের ভোটারদের কাছে আলোচনার অগ্রভাগে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তার এবার নির্বাচনী সেøাগান হচ্ছে ‘আমরাই গড়বো আগামীর বরিশাল’। এই সেøাগানের সমর্থনে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন অনেক তরুণ। নির্মিত হয়েছে একটি ভিজুয়াল ডকুমেন্টরি। এই ডকুমেন্টরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ক্যাবল টিভিতেও প্রচার করা হচ্ছে। সাদিক আবদুল্লাহর কর্মীরা ভোটারদের বোঝাচ্ছেন যে, তরুণ নেতা সাদিক আবদুল্লাহ বিজয়ী হলে তিনি তরুণদের নানামুখী কর্মসংস্থানের উদ্যোগে নেবেন।

    অপর দিকে একেবারেই ডিফারেন্ট ফরমেটে নির্বাচনে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন আরেক তরুণী বাসদের মেয়র প্রার্থী ডা: মণীষা চক্রবর্তী। তার সাথে কাজ করছেন নগরীর একেবারেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ’ শ’ মানুষ। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করায় শ্রমিক সেক্টরে তার আলাদা ইমেজ তৈরি হয়েছে। নগরবাসীর জন্য তার সার্বিক কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘ডকুমেন্টরি’ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফেসবুকে আপলোড করা তার নিজের কণ্ঠের ওই ডকুমেন্টরির যুক্তিসঙ্গত আহ্বান অনেকের মনে দাগ কেটেছে। মাটির ব্যাংকে জমানো জনগণের এক লাখ টাকার সাথে নেতাকর্মীদের দেয়া টাকায় নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় থাকা এই নারী মেয়র প্রার্থী অনেক তরুণ ভোটারের সহানুভূতি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এখন পর্যন্ত উপরি উক্ত দুই প্রার্থী তরুণদের বেশ কিছু ভোট পাবেন বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি স্পষ্ট হবে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর। ধানের শীষের প্রার্থী নগরীর তরুণ ভোটারদের জন্য কী রকম সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেন তার জন্য অপেক্ষা করছেন তরুণ ভোটারেরা।

    বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো: মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আমরা তরুণ ভোটারদের জন্য বাস্তবমুখী কিছু পদক্ষেপের বিষয় আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরব। আশা করি তাতে সন্তুষ্ট হয়ে তরুণ ভোটারেরা তাদের পছন্দের মার্কার তালিকায় ধানের শীষকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেবে। তা ছাড়া বরিশালে বিএনপির আমলে যে সাড়ে বারো শ’ কোটির টাকার উন্নয়ন হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ‘ভিজুয়াল ডকুমেন্টরি’ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, বরিশালে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকার কোনো কারণ নেই। ইনশ আল্লাহ বরিশালে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে নগরীতে কী উন্নয়ন হয়েছে তা সবাই জানে। তাই নগরীর উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে নগরবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত করবেন বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে তরুণ ভোটাররা আমাদের তরুণ প্রার্থীকেই বেছে নেবেন বলে মনে করছি।

    পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি ১০টি অভিযোগ দাখিল করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো: হেলাল উদ্দিন খান বলেন, এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ১০টির মতো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে বেশির ভাগেই একে অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। আবার মিছিল করা, হুমকি-ধমকি দেয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তবে যা হোক না কেন এর সত্যতা যাচাই করেই নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তারা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।

    জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ : জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস সোমবার সকাল থেকে থেমে থেমে আষাঢ়ের বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সরকারি দফতরে গণসংযোগ করেছেন। সকাল ১০টায় বরিশালের প্রধান ডাকঘর থেকে তিনি গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি জেলা প্রশাসক দফতর, বরিশাল আইনজীবী সমিতি, ফজলুল হক অভিনিউ সড়ক, বগুড়া রোডের সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন। এ সময় লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রাথী ইকবাল হোসেন তাপস গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নগরবাসী আমাকে তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করলে নগর ভবন নয় এটি হবে সেবক ভবন।

  • বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে : সরোয়ার

    বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে : সরোয়ার

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ধানের শীষের মনোনিত প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপি সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়fর তার নির্বাচনী প্রচারনাকালে গন মাধ্যমকে বলেন, সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
    তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনার প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনতে চায় তাহলে তারা কি কাজ করছেন।
    আমরা বরিশালে একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন দেখতে চাই। কিন্তু আমরা কি দেখছি বিএনপির ওয়ার্ডে ওয়ার্ডের মিছিলে বাধা প্রধান,অফিস ভাংচুর করার অভিযোগ করেন তিনি। এভাবে নির্বাচনে প্রতিটি প্রচার-প্রচারনায় বাধা সৃষ্ঠি করা হলে লেভেল-প্লেয়িংভাবে নির্বাচন হবে তা নিয়ে যতেষ্ঠ সন্দেহ কাজ করছে।
    বরিশালে ইসির বলে যাওয়া কথা প্রসঙ্গে মেয়র প্রার্থী সরোয়ার বলেন প্রার্থীদের উপস্থিতিতে যেকথা বলে গিয়েছে তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েও শঙ্কা কাজ করছে।
    আজ মঙ্গলবার সকালে ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীর খাদেম হোসেন ক্লিনিক মোড় থেকে গনসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন।
    এসময় তার সাথে ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড.বিলকিস জাহান শিরিন,কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক সংসদ আবুল হোসেন খান,জেলা বিএনপি সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন,বরিশাল মহানগর বিএনপি যুগ্ন  সম্পাদক আনায়রুল হক তারিন সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।
    বাংলাবাজার সড়ক, আলেকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় গনসংযোগ করেন।
    এছাড়া ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নগরীতে গনসংযোগ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান,যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সহ বিশ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।
    এছাড়া বিকালে নগরীর গ্রিজ্জামহল্লা চকবাজার এলাকায় গনসংযোগ করেন বরিশাল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্যা আব্বাস।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : ১২নং ওয়ার্ডে ইভিএম চান না আ.লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : ১২নং ওয়ার্ডে ইভিএম চান না আ.লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী

    ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি বাতিল চেয়েছেন বরিশাল সিটি নির্বাচনের ১২নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন ভুলু। তিনি ইতোমধ্যে বরিশাল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।

    তিনি তার দুই কেন্দ্র থেকে ইভিএম বাতিলের আবেদনে বলেছেন, আমার ওয়ার্ডের জনগণ ইভিএম-এ ভোট দিতে সমস্যার মুখোমুখি হবে। ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিগত রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনে বিভিন্ন ত্রুটি থাকার কারণে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে। তাই আমার ওয়ার্ডে ইভিএম বাতিল করে সাবেক পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের জন্য অনুরোধ রইল।

    কাউন্সিলর প্রার্থী জাকির হোসেন ভুলু বলেন, ইভিএম বাতিল চেয়ে গত ১৩ জুলাই আমি আবেদন করেছি।

  • নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিজ ওয়ার্ডে ইভিএম চালুর দাবী মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ’র

    নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিজ ওয়ার্ডে ইভিএম চালুর দাবী মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ’র

    আসন্ন ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে ইভিএম চালুর দাবী জানিয়ে আবেদন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনিত মেয়র প্রার্থী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তার নিজ ওয়ার্ড ১৯ নং এর দুটি কেন্দ্র জগদিস স্বরস্বতী গার্লস স্কুল ও সরকারী বরিশাল কলেজে ইভিএম চালুর দাবী জানান তিনি। বরিশাল নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার বরাবরে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে আদ্য বিকেল সাড়ে ৪ টায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পত্র জমা দেয়া হয়। আবেদনের ব্যাপারে সাদিক আবদুল্লাহ জানান আসন্ন বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেনা বলে মিথ্যাচার করে আসছেন।

    বিগত দিনে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী পদমর্যাদা, বরিশাল সিটি মেয়র ও হুইপ থাকা কালীন সময়ে সরোয়ারসহ বিএনপি সমর্থিত মেয়রদের কোন উল্লেখ যোগ্য উন্নয়ন বরিশালবাসীর চোখে না পরায় বর্তমানে তারা অনেকটা জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারনেই জনবিচ্ছিন্ন এ নেতা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেনা বলে জনগনকে ভুল ও মিথ্যাচার করে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন । কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী জনগনের রায়কেই সর্বোচ্চ বলে বিবেচনা করেন। বরিশালের মানুষের ভালবাসায় তাদের পাশে থেকে নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়াই আমার প্রধান কাজ। এ কারনেই বরিশাল সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি আমার বাসার কাছের নিজ ওয়ার্ডের দুটি ভোট কেন্দ্র ইভিএম এর আওতায় আনার দাবী জানিয়েছি। আমি জনগনের ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হয়ে বরিশালের মানুষের পাশে থেকে বরিশালকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

  • বরিশালে নির্বাচিত তিন মেয়রের বাজেট : এগিয়ে হিরন,পিছিয়ে সরোয়ার

    বরিশালে নির্বাচিত তিন মেয়রের বাজেট : এগিয়ে হিরন,পিছিয়ে সরোয়ার

    ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে সর্বমোট ১৫টি বাজেট ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে পৃথকভাবে চারটি করে আটটি বাজেট ঘোষণা করেন বিএনপি সমর্থিত নির্বাচিত দুই মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার ও আহসান হাবিব কামাল। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র শওকত হোসেন হিরন মাত্র চারটি বাজেট ঘোষণা করেন। বাকি তিনটির মধ্যে দুইটি বাজেট ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন দিলু ও একটি আলতাফ মাহমুদ সিকদার।
    এসব বাজেট পর্যলোচনা করে দেখা গেছে, বরিশাল সিটির নগর পিতা হিসেবে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার তার মেয়াদে সবমিলিয়ে বাজেটের শতকরা ২৪.২৬% বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরদিকে দ্বিতীয় মেয়র শওকত হোসেন হিরন তার মেয়াদে বাজেটের শতকরা ৪৩.০১%। তৃতীয় মেয়র আহসান হাবিব কামাল তার বাজেটের শতকরা ৩৭.৭১% বাস্তবায়ন করেছেন।
    সূত্রমতে, ভোটে নির্বাচিত এ সিটির প্রথম মেয়র বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার তার প্রথম (২০০৩-২০০৪) বাজেট পেশ করেন ২০০৩ সালের ৭ জুলাই। বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই বাজেটে ২শ’ ৩৩ কোটি ৩ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেটসহ ২০০২-০৩ অর্থবছরের সংশোধনী বাজেট আকারে মজিবর রহমান সরোয়ার প্রায় ২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। প্রথম বাজেটে তিনি (সরোয়ার) বলেন, নগরবাসীকে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বিশাল আকারের প্রস্তাবিত বাজেটের বছর শেষে বাস্তবায়ন করা হয় ২৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যার শতকরা হার ছিলো ১২.৫৮%। ২০০৪ সালের ১২ জুলাই দ্বিতীয় বারের মতো বাজেট নিয়ে হাজির হন বিএনপির মেয়র সরোয়ার। ওইবছর ২শ’ ২১ কোটি ৭৪ লাখ ১ হাজার ৫৭২ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। তিনবারের সংসদ ও একবার হুইপসহ বহুবার বিদেশ ভ্রমণকরা অভিজ্ঞ সরোয়ার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরের মধ্যে অনেকটা অস্বস্থিতে পরেন। প্রথম বাজেট বক্তব্যের শুরুতে অনেক সাহস ও আশার বাণী শুনালেও দ্বিতীয় বাজেটের শুরুতে সরোয়ার বলেন, সিটি কর্পোরেশনে প্রয়োজনের তুলনায় আয় অপ্রতুল, কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় দ্বারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও অফিস ব্যায় মিটানোর পর সু-বিশাল এলাকার উন্নয়ন কাজ করা খুবই কষ্টের।
    এছাড়া প্রথম বাজেটে দেয়া নানা প্রতিশ্রুতি বেমালুন ভুলে গিয়ে ফের নগরবাসীকে আশার বাণী শোনান সরোয়ার। বছর শেষে ঘোষিত বাজেটের বাস্তবায়িত হয় প্রায় ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মাত্র। বাস্তবায়নের হার শতকরা ১৬.৯৪%।
    তৃতীয় বারের মতো সিটি কর্পোরেশনে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার ৭২২ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন মজিবর রহমান সরোয়ার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করা হয় ২০০৫ সালের ২০ জুলাই। প্রথম ও দ্বিতীয় বাজেটের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে তৃতীয় মেয়াদে শুধুমাত্র বরিশাল অডিটিরিয়াম ভবন সংস্কার করা হয়। বাজেট বক্তৃতায় সরোয়ারের প্রথম ও দ্বিতীয় বাজেটের প্রতিশ্রুতিগুলো পুনরায় উল্লেখ করে বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়। এসব পরিকল্পনার পাশাপাশি লিখিত বক্তব্যের প্রায় ছয় পাতা জুড়ে নগরীর উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ ও আশ্বাসের কথা ফের উল্লেখ করেন সরোয়ার। এসব প্রকল্পের নামের শুরুতে লেখা হয়েছিলো-‘হাতে নেয়া হয়েছে, গৃহীত হয়েছে, খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে, কাজ চলছে, অচিরেই শুরু হবে, প্রকল্প নেয়া হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে’। বছর শেষে তার বাজেট বাস্তবায়িত হয় ৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকা মাত্র। বাস্তবায়নের হার ছিল ১১৪.৬০%। ২০০৬ সালের ৩১ জুলাই মেয়র হিসেবে চতুর্থ বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সরোয়ার। ২০০৬-০৭ অর্থবছরের ৩৩৩ কোটি ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৭৫ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হলেও তার শেষ বাজেট বক্তব্যে বিগতদিনে নানা প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেকে দায় মুক্তির চেষ্ঠা করেন মজিবর রহমান সরোয়ার। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় মাত্র ১৬৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা ৪৮.৯০%।
    মজিবর রহমান সরোয়ারের সবকটি বাজেটে নগরীর সড়ক-ড্রেন ব্যাবস্থাপনার উন্নয়নের কথা থাকলেও ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাজেট বক্তৃতাকালে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আওলাদ হোসেন দিলু’র মুখে উঠে আসে ওইসব সড়ক ও ড্রেনের বেহাল অবস্থার কথা। এরপর দিল দ্বিতীয়বারের মতো ২০০৮ সালের ১০ জুলাই বাজেট ঘোষণা করেন।
    পরে নির্বাচিত হয়ে আসেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র শওকত হেসেন হিরন। ২০০৯ সালের ১০ জুলাই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র শওকত হোসেন হিরন ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৭২ কোটি ৭৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭৯ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় প্রায় ১০১ কোটি ২১ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ৩৭.১০%। দ্বিতীয়বারের মত ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য ১৯৭ কোটি ৭২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৮৪ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন শওকত হোসেন হিরন। প্রথম বাজেটে প্রতিশ্রুতির মধ্যে হিরন ১৯টি প্রকল্পের অগ্রগতির সার্বিক বিষয় তুলে ধরে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ৫৩.৩৯%।
    তৃতীয়বারের মত ২০১১ সালের ১৪ জুলাই বাজেট নিয়ে হাজির হন শওকত হোসেন হিরন। ২০১১-১২ অর্থবছরেন জন্য ২৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৪১৮ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট বক্তব্যে উঠে আসে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত অডিটরিয়াম, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, পাইপলাইন নির্মান, হরিজনদের উন্নত বাসস্থান নির্মান, বিভিন্ন মার্কেট, বিবির পুকুরপাড় দখল মুক্ত করে সৌন্দর্য বর্ধন করে সেখানে ওয়াইফাই জোন নির্মান, নগরীরর বিভিন্নস্থানে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মান, শিশু পার্ক, সড়কে সৌন্দর্যবৃদ্ধিসহ নগরীতে বেশকিছু উল্লেযোগ্য উন্নয়ন কার্যক্রমের বড় ধরনের অগ্রগতির কথা। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় প্রায় ১১১ কোটি ৪৪ লাখ। বাস্তবায়নের শতকরা হার হিসেবে যা ছিল ৪৩.৮৮%। এখন পর্যন্ত এটাই বিসিসির তিন মেয়রের মধ্যে সেরা বাজেট বাস্তবায়ন।
    ২০১২ সালের ৩০ জুন চতুর্থ ও শেষ বাজেট ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরন। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ৩২২ কোটি ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯৯২ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট বক্তব্যে তিনি নগরীর বিভিন্নস্থানে আশানুরূপ উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া নগরীর রাস্তা-ঘাট উন্নতি, ড্রেনেজ ব্যাবস্থা, ফুটপাত নির্মান, মার্কেট নির্মান, খাল উদ্ধারে কার্যক্রমসহ একটি আধুনিক নগরী বাস্তবায়নে নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড শেষ ও চলামানের কথা উল্লেখ করে আরও বিশদ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলেন। বছর শেষে বাজেট বাস্তবায়িত হয় প্রায় ২২১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ছিল ৩৭.৬৬%। পশাপাশি তার বহুমুখী নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে একটি বাসযোগ্য আধুনিক মডেল শহর রূপান্তরে দ্বাড় প্রান্তে পৌছেন আওয়ামী লীগের মেয়র শওকত হোসেন হিরন।
    পরে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন। কারণ এ বছর বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামাল নির্বাচিত হলেও শপথ নিতে দেরি হয়েছিলো। তবে ওই বাজেট বাস্তবায়ন করেন বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৩৮১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হয় ১৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ৩৭.৩৩%।
    সূত্রমতে, বরিশাল সিটির নগর পিতা হিসেবে বিএনপি সমর্থিত তৃতীয় পরিষদের নির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে ১৮২ কোটি টাকার সর্বোচ্চ উন্নয়ন প্রকল্প কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন করেন। এরপরেও তার মেয়াদে বকেয়া-বেতনের দাবীতে দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশন অচল থাকাসহ নগরীর বেহাল সড়ক, জলাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত আলোসহ বেশিরভাগ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন নগরবাসী।
    ২০১৪ সালের ২২ জুলাই প্রথমবারের মত বাজেট নিয়ে আসেন বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামাল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ওই বাজেটে ৪০৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার ৯৭৫ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট বক্তব্যে নিজের কিছু উন্নয়ন কাজ করার কথা উল্লেখ করে আরও কিছু উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন কামাল। বছর শেষে ঘোষিত বাজেটের বাস্তবায়িত হয় ১৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ছিল ৩৬.১৫%।
    ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই ৪২৩ কোটি ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৬ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র কামাল। বছর শেষে বাজেটের বাস্তবায়িত অর্থ ব্যয় হয় ১৮২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ৪৩.১৮%।
    তৃতীয়বারের মত ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট বাজেটে বিএনপি দলীয় মেয়র আহসান হাবিব কামাল ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৪৪৪ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৫ টাকা। বাজেট বক্তব্যে উন্নয়নে গ্রীণ সিটি পার্ক নির্মনের কথা উল্লেখ করেন। তবে তা বছর ঘুরতেই অচল হয়ে পরে। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় ১৫১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ৩৪.১৭%।
    ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট চতুর্থবারের মত বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র কামাল। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ ওই বাজেটে ৪০৬ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ২৮ টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত বিএনপি দলীয় মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের মত তিনিও বেমালুন ভুলে যান প্রথমসহ পর পর কয়েকটি বাজেটে দেয়া নানা প্রতিশ্রুতির কথা। তবে পরবর্তী বাজেট ঘোষণা না দেয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়িত ও শতকরা হিসেব পাওয়া যায়নি।
    সাদিক আব্দুল্লাহর গণসংযোগ ॥ আষাঢ়ের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর কাঠফাঁটা রৌদ্র মাথায় উপেক্ষা করে বিরামহীনভাবে নগরীর বর্ধিত এলাকায় পানি পেরিয়ে ভোটারদের সাথে গণসংযোগ করেছেন বরিশালে প্রথমবারের মতো সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তরুণ নেতা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি তার প্রচারনায় বিগতদিনের নির্বাচনের প্রার্থীদের ছাড়িয়ে নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বরিশালের মানুষ উন্নয়নের বিশ্বাসী। অতীতে সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগের মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ন্যায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নগরবাসী ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।
    বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে কেন্দ্রীয় নেতা ॥ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সমর্থনে মঙ্গলবার লেবার পার্টির আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশন বরিশালে যা বলে গেছেন আমরা তাদেরকে বিশ্বাস করে বলছি, আমরাও চাই নির্বাচনে তাদের কথার বাস্তবায়ন হোক। বরিশালে সুষ্ট ভোট হলে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বিজয়ী হবেন। লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বরিশাল হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি। এখানে কোন ধরনের ডিজিটাল কারচুপির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষনিক তার প্রতিবাদ করা হবে। সভা শেষে নজরুল ইসলাম খান জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে মজিবর রহমান সরোয়ারের সমর্থনে নগরীতে গণসংযোগ করেন।
    বরিশালে কোন কেন্দ্র বন্ধ করতে চাইনা ॥ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, প্রার্থীদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের আশ্বস্ত করবেন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। ১৬ জুলাই বিকেলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের নাছিমুজ্জামান মেহেদী মিলানায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদেরও নির্বাচনী বিধিমালা মেনে চলতে হবে। যেকোন সমস্যা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন কিংবা প্রশাসনকে জানান। আর যে সকল অভিযোগ আপনারা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে আমাদের জানিয়েছেন তার প্রত্যেকটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং হবে। নির্বাচন কমিশনার বলেন, ব্যালট বাক্সের কাছে কোন অনুপ্রবেশকারীর যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্যালট পেপার ছিনতাই, জোর করে ব্যালটে সিল দেয়া এধরনের কোন কর্মকান্ড বরিশালে হতে দেয়া হবেনা। আমরা চাইনা বরিশালে কোন কেন্দ্র বন্ধ করতে। বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন খান, সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী সাতজন মেয়র প্রার্থীসহ ৩৫জন সংরক্ষিত ও ৯৪জন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।
    ২৭ জুলাই নগরী ছাড়তে হবে বহিরাগতদের ॥ আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২৭ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ভোটার ব্যতিত অন্যকোনো এলাকার বাসিন্দা কর্পোরেশনের সীমানার ভেতরে অবস্থান করতে পারবেন না। বহিরাগতদের ভোট এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা ইতোমধ্যে প্রচার করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
    রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বগিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলেও যারা কর্মজীবী তাদের এলাকায় অবস্থান করতে কোনো অসুবিধা হবেনা। তবে বাইরে চলাফেরার জন্য প্রয়োজন হলে তাদের কাজের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। একই সাথে জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা শিথিলযোগ্য হবে। ইসির নির্দেশনা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ বহিরাগতরা ১ আগস্ট থেকে আবার নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবেন। এছাড়া ভোটেরদিন ৩০ জুলাই (সোমবার) সাধারণ ছুটি থাকবে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘেœ এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে মোটরযান বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রচারের জন্যও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মটরসাইকেল চলাচল ২৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩১ জুলাই সকাল ছয়টা পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। অন্যান্য মটরযান বন্ধ থাকবে ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩০ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। সূত্রমতে, ইসি কর্তৃক নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ ছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শুরুর আধাঘণ্টা পূর্বে অবশ্যই প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টকে খালি ব্যালট বাক্স দেখিয়ে সিল করার পর ভোটগ্রহণ শুরু করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

    দেশের বারোটি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একমাত্র রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন। যদিও প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অন্য দুই দলের প্রার্থী চেয়ে অনেকে এগিয়ে।

    রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বাদে, দেশে অন্য কয়টি সিটি নির্বাচনের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মাঝেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এটা অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এবার বোধহয় পরিচিত এমন দৃশের অবতারণা অন্ততপক্ষে বরিশাল সিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বলা যাচ্ছে না। কারণ, ইতোমধ্যেই বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মূল লড়াইয়ে চলে এসেছেন। ফলে বরিশালের নগর পিতা হওয়ার লড়াইয়ে আছেন তিন প্রার্থী।

    আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য মেয়র ও কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে বেঁছে নেবেন।

    সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাদে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ (নৌকা), বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস (লাঙ্গল), বাসদের মনীষা চক্রবর্তী (মই) ও সিপিবির একে আজাদ (কাস্তে)।

    নির্বাচনে ছয় মেয়র প্রার্থী থাকলেও মূল আলোচনায় তিন জন। আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব।

    আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে আকস্মিক মারা যান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন (হিরন)। এরপরই সাদিক বরিশালের রাজনীতিতে জায়গা করে নেন। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

    মজিবর রহমান সরোয়ার। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। এ ছাড়া সাবেক হুইপ ও সংসদ সদস্য। বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর সভাপতি।

    ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বরিশালে বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম শওকত হোসেন হিরণকে হারিয়েছিলেন ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এর আগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মরহুম শওকত হোসেন হিরণ মেয়র নির্বাচিত হন তখন দল সমর্থিত এবং বিদ্রোহী মিলিয়ে বিএনপির প্রার্থী ছিল ৩ জন। তারপরও জয়ী হতে বেগ পেতে হয় হিরণকে। মাত্র ৪-৫শ’ ভোটের ব্যবধানে জেতেন তিনি। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে এখানে সবসময় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতে বিএনপি। সঙ্গত কারণেই বরিশালতে বিএনপির ঘাঁটি বলা হয়।

    উপরোক্ত সমীকরণে বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে বলে মনে করা হলেও এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বরিশালে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রার্থী দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিএনপির জন্য এটা চরম ঝুঁকি হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। তবে কিছুটা টেনশনে আওয়ামী লীগ শিবিরও। সব মিলিয়ে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে তা নিয়ে ভাবনায় বরিশালের জনগণ।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব প্রচার-প্রচারণায়ও বেশ এগিয়ে। বিগত ২-৩ বছরে দেশে যত নির্বাচন হয়েছে তার প্রায় সব ক’টিতেই অংশ নিয়েছে দলটি। তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাও ঈর্ষণীয়।

     

    এখন পর্যন্ত দেশে যত সিটি নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে রংপুর এবং নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে ধরা হয় মোটামুটি কলুষমুক্ত। এই দুটি সিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা ভোট পেয়েছে যথাক্রমে ২৪ হাজার ৬ এবং ১৩ হাজার ৯১৪ ভোট।

    এছাড়া ঢাকা উত্তরে ১৮ হাজার ৫০, দক্ষিণে ১৪ হাজার ৭৮৪, খুলনায় ১৪ হাজার ৩৬৩ এবং গাজীপুরে ২৬ হাজার ৩৮১ ভোট পায় দলটির প্রার্থীরা। এমনকি ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে প্রায় ২৯ হাজার ভোট পায় এই দলের প্রার্থী সৈয়দ মুফতি ফয়জুল করিম।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বরিশালে তাদের ৪০-৪৫ হাজার ভোট ব্যাংকের কথা বলছেন। তাদের দাবী মতে হাতপাখার প্রার্থী ওই পরিমাণ ভোট পেলে নির্বাচনে নতুন রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ মূল দুই দলের বাইরে চলে যাবে নগর পিতার চেয়ার। তাদের যুক্তি মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার। তন্মধ্যে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৫১ ভোট, আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণ পান ৬৬ হাজার ৭৪১ ভোট। এমতাবস্থায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ৪০-৪৫ হাজার ভোট পেলে সব হিসাব উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান ২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি বরিশালের সবচেয়ে বড় কওমি মাদরাসা জামিয়া মাহমুদিয়ার মহাপরিচালক। সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গিয়ে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। হেফাজত আমিরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।

    তাছাড়া বরিশাল পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নিজ এলাকা। চরমোনাইর পীর মুফতি রেজাউল করিম, মুফতি ফয়জুল করিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন তাদের প্রার্থীদের পক্ষে। আর এভাবে নানা প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মূল প্রতিযোগী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন।

    ফলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দু’দলের দ্বৈরথের বদলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রূপ নিয়েছে ত্রিমুখী লড়াইয়ে।

  • পুলিশ কমিশনারকে লাঞ্চিত করে ঢাকায় গেলেন আ’লীগ নেতা

    পুলিশ কমিশনারকে লাঞ্চিত করে ঢাকায় গেলেন আ’লীগ নেতা

    বরিশালে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় এসে ঘটনাচক্রে পুলিশ কমিশনারের ওপর চড়াও হলেন দক্ষিন ঢাকা আওয়ামী    লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ। একটি যাত্রীবাহি লঞ্চের কেবিনে এই নেতা প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার মর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ তিন পুলিশ সদস্যকে পেটালেন। এমনকি ওই সময় পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান ছুটে গেলে তাকেও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানাগেছে। মামলায় ১ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ থেকে ২৫ অজ্ঞাত আসামি করে ২৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    শনিবার সন্ধ্যারাতে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালের এই ঘটনায় বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি বরিশাল পুলিশের ইমেজের বিষয় হওয়ায় কেউ মুখ খুলছেন না। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশও রয়েছে নিরব-নিশ্চুপ। তবে বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করার বিষয়টি অনুমান করা গেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ওই লঞ্চের একাধিক যাত্রী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন- ঢাকা দক্ষিন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ সুন্দরবন ১১লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের সম্মুখে অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রায় একই সময় ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান লঞ্চঘাটে যান। সরকারী এই কর্মকর্তাদের প্রোটকল দিতে সেখানে গিয়েছিলেন ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান। কিন্তু ঘটনাচক্রে সচিবকে পিছু ফেলে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা চলে যান লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের লাউঞ্জে। সেখানেই গিয়ে দেখতে পান অর্ধশতাধিক লোকের মধ্যে বসেছিলেন আ’লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ। এই নেতার সাথে থাকা অপরাপর বেশ কয়েক ব্যক্তি পিস্তল হাতে নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে কমিশনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম ছুটে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করেন। এবং পিস্তলের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু আ’লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ ও তার সাথে থাকা লোকজন পুলিশকে কোন ধরনের ‘থোরাও কেয়ার’ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী ছুটে গিয়ে তাদের দ্রুত স্থান ত্যাগের অনুরোধ করেন। এই সময়ে তুমুল বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে শাহ আলম মুরাদের সাথে থাকা সৈকত ইমরানসহ ২০ থেকে ২৫জন একত্রিত হয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম ও দেহরক্ষী হাসিবকে এলোপাতারি পিটুনি দেয়। উদ্বুদ্ব পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনার চেয়েছিলেন সকলকে বের করে দিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার। কিন্তু ক্ষুব্ধ শাহ আলম ও তার বাহিনী পুলিশ কমিশনারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে শাহ আলম কমিশনারকে লাঞ্চিত করেন বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান। এমনকি কমিশনারকে এই সময়ে শারীরিক লাঞ্ছিত করেন তার সাথে থাকা ইমরান সৈকতসহ বেশ কয়েকজন বলেও জানান উপস্থিত লঞ্চ যাত্রীরা। এই চিত্র ক্যামেরায় ধারন করতে গেলে কমিশনারের সঙ্গি ওবায়েদকেও মারধর করে তারা। একপর্যায়ে তার সাথে থাকা ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে শাহ আলমের লোকজন। আ’লীগ নেতার পুরো সন্ত্রাসের চিত্র লঞ্চের অনেক যাত্রীকে হতাশ-বাকরুদ্ধ করেছে।

    পরিস্থিতি বেগতিক অনুমানে নিয়ে পুলিশ কমিশনার বিএমপি কন্ট্রোল রুমে দ্রুত ফোন করে ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ ডেকে নেয়। কিন্তু বরিশাল পুলিশ চাইছিল না সরকারের দুই জন সচিবের উপস্থিতিতে এই ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আসুক। যে কারণে ঘটনার পর সকলকে গ্রেফতারের প্রস্তুতি নিতে লঞ্চটি থামিয়ে রাখা হলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    তবে একটি সূত্র দাবি করছে- এই ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিক শাহ আলম মুরাদ কেন্দ্রীয় আ’লীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে মুঠোফোনে অবহিত করেন। এর পরেই কমিশনারের মোবাইল ফোনে কোন ব্যক্তি বিশেষ ফোন করে কথা বলেন। মূলত মুঠোফোনে আলাপচারিতার পরই বরিশাল পুলিশ গ্রেফতারের মতো কোন ঘটনার দিকে না গিয়ে লঞ্চটি ছেড়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা লঞ্চের যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এই লঞ্চে ঢাকার যাত্রা নিরাপদ নয় মনে করে টার্মিনালেই নেমে যান। যদিও লঞ্চটি ছেড়ে দেওয়ার আগেই পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান পুরো ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সিসিটিভি থেকে সংগ্রহ করে রাখেন বলে শোনা গেছে।

    এই বিষয়টি নিয়ে রোববার দিনভর বরিশাল পুলিশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইলেও দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা মুখ খোলেন নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানা পুলিশও বিষয়টি স্বীকার করছে না। তবে গভীর রাতে পুলিশের একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে- এই ঘটনায় শাহ আলম মুরাদের নাম উল্লেখ না করে সৈকত ইমরানের নাম উল্লেখ করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নাম্বার ৩৩/১৮। তারিখ ১৫ জুলাই। মামলায় তাদের ১৪২/১৪৩/১৮৬/৩৫৩/৩৩২/৩৩৩/৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার অনুঘটক শাহ আলম মুরাদকে কেন নামধারী আসামি করা হচ্ছে না সেই সম্পর্কে বরিশাল পুলিশের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য আসেনি। তাছাড়া অভিযুক্তদের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

    তবে এই ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা এক আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন- পুলিশ কমিশনার শাহ আলম মুরাদকে সঙ্গীদের নিয়ে বসে থাকতে দেখতে পান। ওই সময় তাকে দেখে কেন আ’লীগ নেতারা উঠে দাড়ালেন না এই বিষয়টিতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। মূলত এই কারণেই তর্কাতর্কির একপর্যায়ে এই উদ্বুদ্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুনের ভাষ্য হচ্ছে- তিনি ঘটনা সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন। তাছাড়া কেউ তাকে কিছু অবহিতও করেননি।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় সুন্দরবন-১১ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে। তবে তারা ভিআইপি লাউঞ্জে কিছু একটা হয়েছে বলে জানালেও কি হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবী করেছেন। তবে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি, ছোট খাট একটা ঘটনা হয়েছে।

    তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেছেন- ঢাকা থেকে আসা কতিপয় বাজে ছেলেপান তাদের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    উল্লেখ্য, দক্ষিন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ শনিবার সকালে অর্ধশত লোকজন নিয়ে বরিশালে এসে দলীয় মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা করেন।’’

    যদিও মামলায় উল্লেখ করা হয়, জন প্রশাসন মন্ত্রনায়লের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ ও প্রাধনমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে বিদায় জানানোর জন্য বরিশাল কেন্দ্রীয় লঞ্চঘাটে অস্থান রত সুন্দরবন ১১ লঞ্চে যায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম (বিপিএম পিপিএম) ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মহফুর রহমান। এসময় তারা লঞ্চের ভিআইপ লাউঞ্জে প্রবেশ করেই দেখতে পায় দাড়িওয়ালা মধ্য বয়সী এক ব্যাক্তি একটি বড় অস্ত্র হাতে নিয়ে সোফার উপরে বসে আছে। এসময় ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) তাদের নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভিআইপ লাউঞ্জে উপস্থি ভিআইপ যাত্রী ব্যতীত অতিরিক্ত লোকজনেক সংরক্ষিত এলাকাছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে এবং ভিআইপি লাউঞ্জে দুই সচিব আসার বিষয়ে অবহিত করেন।
    এসময় পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম নির্বাচন ও দুই সচিবের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অস্ত্রধারী ওই ব্যাক্তিকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেখানোর জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তি তার অস্ত্রের লাইসেন্স না দেখাতে চাইলে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী কনস্টেবল হাসিব ওই ব্যক্তিকে ভিআইপি লাউঞ্জথেকে বাহিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তির সাথে থাকা সৈকত ইমরান নামের এক ব্যাক্তি কমিশনারের দেহরক্ষীর সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়ায়। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে অস্ত্রধারী ব্যাক্তি ও সৈকত ইমরান উত্তেজিত হয়ে তাহাদের সাথে থাকা সঙ্গীদের নিয়ে পুলিশ কনস্টেবল হাসিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে পথরোধ করে এলোপাথারী মারপিট করে। এসময় পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম তাহাদের থামাতে চেষ্টা করলে কনস্টেবলসহ তার উপর এলোপাথারীভাবে মারপিট করতে থাকে। মারপিটে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা, ফুলা জখম কলে। এসময় তারা তাদের পরিচয় দিয়ে বলে, আমরা পুলিশে লোক, আমারা এখানে সরকারী নিরাপত্তার কাজে এসেছি। পরিচয় দেয়ার পরেও অস্ত্রধারী ব্যক্তি ও তাহার সাথে থাকা সৈকত ইমরানসহ আরো ২০থেকে ২৫ জনে মিলে তাদের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাহার অস্ত্র দিয়ে পুলিশ কমিশনারে স্টাফ অফিসার ও বডিগার্ড মোঃ হাসিবকে হত্যার উদ্ধেশ্যে গুলি করারচেষ্টা করে। পাশাপাশি পুলিশ কমিশনারের স্টাফ অফিসাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরন করারচেষ্টা করে। এসময় বিএমপি মিডিয়া বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল ওবায়েদ ঘটনার ছবি তুলতে চাইলে তাকে মারপিট করে ক্যামেরা ছিনিয়েনেয়ার চেষ্টা করে এবং তাকে কগুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
    এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কমিশনার বিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানালে মামলার বাদি এসআই রিয়াজসহ কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার দক্ষিন, কোতয়ালী মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার অতিরিক্তফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রন করে। এসময় উল্লেখিত দুই সচিব লঞ্চে অবস্থান করলেও ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকতে পারছিলোনা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা উভয় সচিবকে ভিআইপ লাউঞ্জে নিয়ে যায়।

  • কোন ভয় ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারবে ভোটারগণ-সাদিক আবদুল্লাহ

    কোন ভয় ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারবে ভোটারগণ-সাদিক আবদুল্লাহ

    আসন্ন ৩০ই জুলাই বরিশাল সিটি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের মনোনিত প্রার্থী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মেয়র প্রর্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ গণ সংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা কালে গণ মাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমরা উন্নয়নে বিশ্বাসী কারো হুমকি ধামকি দিয়ে ভোট নিতে চাইনা।

    নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটার কেন্দ্রে যার যার ভোট সে নিজেই দিতে পারবে এ নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে কোন সন্দেহ বা শংকা প্রকাশ করার কিছুই নেই। তিনি আরো বলেন আজ আমার সাথে সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তিনি এখানে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন সে বরিশালের জন্য কি করেছে সে বিচার এখানকার ভোটাররা বিবেচনা করবেন।

    আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাস করেন।
    তার উন্নয়ন মূলক কাজে দেশ একটি রোল মডেলে রুপ নিয়েছ। প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী ও তার দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা একটি রোগে পরিনত হয়েছে। আমী বা আমার দল কারো সমলোচনা করার মত কাজে বিশ্বাস করেনা বলেই আমি কারো বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করিনা।

    বরিশালের জনগণ উন্নয়নের বিবেচনা করেই নৌকায় ভোট দিয়ে সে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, মহানগর আওয়ামীলীলীগের সম্পাদক এড, একে এম জাহাঙ্গির, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম তোতা, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আঃ রাজ্জাক সহ স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে গণ সংযোগকালে মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণ করা সহ নগরবাসীর সাথে কুশল বিনিময় করেন।

    এসময় তিনি নগরীর ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডের কাউনিয়া, বিসিক, পিছনের স্কুল সহ ২৩নং ওয়ার্ডের নগরীর বর্ধিত এলাকায় পরিদর্শন করেন এবং সে এলাকায় গণ সংযোগ করেন। বিকালে ২৯ ও ৩ এবং ৬ নং ওয়ার্ডের নেতা-কর্মী সমর্থকদের সাথে নির্বাচনী উঠান বৈঠক করেন।

  • বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ও বকশীর ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ফাঁস!

    বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ও বকশীর ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ফাঁস!

    বরিশাল কোতয়ালি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মর্যাদার এক কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের একটি গোপন ভিডিওচিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার কনস্টেবল (বকশী) ওই ঘুষ বাণিজ্যের রফাদফার মধ্যস্তততা করেছেন।

    বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে- ওই মামলাটির চার্জশিট আদালতে জমা দেয়ার পরও অভিযুক্তদের কাছে ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। বুধবার (১১ জুলাই) বরিশাল শহরের একটি রেস্তোরাঁয় রফাদফার সেই ভিডিওচিত্র প্রকাশ পেলে শুরু হয় তোলপাড় (!) ওই ভিডিওচিত্রে প্রকাশ পেয়েছে- বকশি ১২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করছেন। যদিও দাবির ১২ হাজার টাকার ১০ হাজার টাকা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপায়ন হস্তগত করতে চেয়েছিল। অবশ্য এই বিষয়ে শহরের কোন এক জায়গা থেকে ফোন করে বকশীকে দিক নির্দেশনাও দিচ্ছিলেন দীপায়ন। কিন্তু আদালতে চার্জশিট দেয়ার পরে পুলিশ বদলাতে পারে কিনা বা সেখান আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার কোন ক্ষমতা রাখে কিনা এই সন্দেহে ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন অভিযুক্ত মাওলানা কামাল হোসেন।

    এই রফাদফার ভিডিও ছাড়াও মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপায়ন টাকা দাবি করার একটি অডিও প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিও অডিওর দুটি ক্লিপ এ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। অবশ্য এই ঘটনায় চার্জশিটে অভিযুক্ত মাওলানা কামাল হোসেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর এসআই ও বকশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে শাস্তি দাবি করেছেন।

    অভিযোগকারি বরিশাল শহরের সাগরদী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, একই এলাকার ইব্রাহিম মানিক ওঁঝা চলতি বছরের ২৮ মার্চ বরিশাল আদালতে তাকেসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। ৩৮৫/৩৮৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭ ও ১৪৩ সহ ৭টি ধারায় সংশ্লিষ্ট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কোতয়ালি পুলিশের ওসিকে এজাহারভুক্ত করার আদেশ দেন। পরবর্তীতে থানা থেকে এই মামলাটির তদন্তভার এসআই দীপায়নকে দেয়া হলে শুরু হয় নাটকীয়তা। এই কর্মকর্তা সাম্প্রতিকালে অভিযুক্ত কামামল হোসেনকে জানিয়ে দেন আদালতে তাদের অভিযুক্তকরে চার্জশিট দেয়ার বিষয়টি। কিন্তু তিনি এই বিষয়টিকে পুঁজি করে অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেয়ার সংকল্প নেন। যেখানে মধ্যস্তততাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ওই থানার বকশী সুশান্তকে।

    মূলত এসআই দীপায়নের দিকনির্দেশনা পেয়েই সুশান্ত গত বুধবার (১১ জুলাই) চার্জশিটে অভিযুক্ত কামাল হোসেনকে নিয়ে নগরীর পুলিশ লাইন এলাকার কুটুম বাড়ি রেস্তোরাঁয় সমঝোতায় বসেন। এই পুরো বিষয়টি বাইরে থেকে কোন ব্যক্তি বিশেষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- অভিযুক্তের সাথে আলাপচারিতার প্রাক্কালে বকশী সুশান্ত এসআই দীপায়নকে প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট জানিয়ে দিচ্ছেন। একপর্যায়ে মামলাটির ধারা কমিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বকশী জনপ্রতি নিজের জন্য ২ হাজার ও এসআই দীপায়নের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অর্থাৎ এই ঘটনায় ৬ অভিযুক্তের কাছ থেকে ৭২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। এমনকি বাকি ৫ অভিযুক্তকে এসআই দীপায়নের সাথে সরাসরি দেখা করার পরামর্শ দেন সুশান্ত।

    এই পুরো বিষয়টি বকশী স্বীকার করেছেন। তবে তার চাকুরি চলে যাওয়ার শঙ্কা জানিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার অনুরোধ রাখেন। কিন্তু পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই দীপায়ন বলছেন- অপরাধ করলে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দিবেন তা মেনে নিবেন।

    তবে এই বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছ থেকে অবগত হওয়ার পর কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ব্যক্তি পুলিশের দায় পুলিশ বিভাগ নিবে না।

    এমতাবস্থায় পুলিশের উচ্চমহল তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় সেটি এখন দেখার অপেক্ষা।’

  • মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর উঠান বৈঠক

    মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর উঠান বৈঠক

    ১১নং ওয়ার্ড এ বিসিসি মেয়র নির্বাচনে নৌকা,মার্কার সমর্থনে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সভায়,,,,,জন সাধারন এর উদ্দেশ্যে” বক্তৃতা প্রদান করেন বিসিসি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ  “নৌকা মার্কার”মেয়রপ্রার্থী বরিশালের সকল জনগনের ভালোবাসায় উজ্জীবিত মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক”যুবরত্ন”সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ এর তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক  আফজাল হোসেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃগোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ এ,কে এম জাহাঙ্গীর, উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাহাবুব উদ্দিন আহম্মদ,(বীর বিক্রম),  মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর  গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ বরিশাল মহানগর সভাপতি মুহা: পলাশ চৌধুরি সহ ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সকল নৌকার কর্মীরা।