Author: banglarmukh official

  • ব্রাজিল বধের নায়ক কে এই গোলরক্ষক কুরতোয়া?

    ব্রাজিল বধের নায়ক কে এই গোলরক্ষক কুরতোয়া?

    রাশিয়া বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসছে পুরো ফুটবল জগত। প্রতিটি ম্যাচেই চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড। শেষ আটের এই লড়াইয়ে সর্বস্ব দিয়ে নিজেদের মেলে ধরছে দলগুলো। তারই জের ধরে গতকাল রাতে কাজান এরেনায় মুখোমুখি হয়েছিল চলতি আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল ও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলজিয়াম। উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারায় লুকাকুরা। তবে এই ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবাউ কুরতোয়া।

    বেলজিয়ান এই পেশাদার ফুটবলারের জন্ম ১৯৯২ সালের ১ মে বেলজিয়ামের ব্রি’তে। প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব চেলসিতে এবং বেলজিয়াম জাতীয় দলের জন্য গোলরক্ষক হিসেবে খেলছেন তিনি। ফুটবল জীবনে খুব অল্প বয়সেই প্রবেশ করেন কুরতোয়া। ১৮ বছর বয়সে বেলজিয়ান প্রো লিগ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০১১ সালের জুলাইয়ে তিনি ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে যোগদান করেন। পরে তাকে অবিলম্বে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ধার দেওয়া হয়। সেখানে তিনটি মৌসুমে ২০১২ সালে ইউরোপা লিগ, ২০১৩ সালে কোপা দেল রে এবং ২০১৪ সালে লা লিগা শিরোপা জিতেছিলেন এই গোলরক্ষক।

    কুরতোয়া লা লিগায় সেরা গোলরক্ষক রিকার্ডো জামোরা ট্রফিও জিতেছেন। এরপর ২০১৪ সালেন জুলাইয়ে কুরতোয়া চেলসিতে ফিরে আসেন এবং তার প্রথম মৌসুমে তিনি লিগ কাপ এবং প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন।

    বেলজিয়ামের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বকনিষ্ঠ গোলরক্ষক হয়ে ২০১১ সালের অলিম্পিকে কুরতোয়ার আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে। তিনি ৫০টির’ও বেশি ক্যাপ অর্জন করেছেন এবং ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ইউইএফএ ইউরো ২০১৩’তে উপস্থিত হয়েছেন।

    রাশিয়া বিশ্বকাপেও আলো ছড়াচ্ছেন এই গোলরক্ষক। গতকালের ম্যাচে ব্রাজিলের দুর্দান্ত সব শট ঠেকিয়ে বারবার তাদের হতাশ করেছেন কুরতোয়া। এদিন ৮ মিনিটেই সুযোগ পায় ব্রাজিল, তবে তা গোলে পরিণত করতে পারেনি থিয়াগা সিলভা। পরেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখলে ১৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কর্নার থেকে কেভিন ডি ব্রুইনার ক্রসে ফার্নান্দিনহোর আত্মঘাতী গোলে লিড পায় রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। পরে প্রতিপক্ষ শিবিরে একের পর এক আক্রমণ হানতে থাকে দলটি। কিন্তু এরইমধ্যে আরেকটি গোল হজম করে এর খেসারত দিতে হয় তিতের দলকে।

    ৩১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে লুকাকুর বাড়ানো বলে গোল করেন ডি ব্রুইনা। এতে স্কোরলাইন হয় বেলজিয়াম ২-০ ব্রাজিল। এরপরই মরিয়া হয়ে উঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় নেইমার-মার্সেলোরা। তবে তাদের আক্রমণগুলো প্রতিহত করে দেন কুরতোয়া। পরে ৭৬ মিনিটে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমান অগাস্টো রেনোতো। এতে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ব্রাজিল। তবে সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়ান বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কুরতোয়া।

     

  • ‘পাকের ঘরের জানালা দিয়ে যেন ময়লা ছোড়া না হয়’ :শেখ হাসিনা

    ‘পাকের ঘরের জানালা দিয়ে যেন ময়লা ছোড়া না হয়’ :শেখ হাসিনা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘর-বাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু গিন্নিদের দায়িত্ব নয়, পুরুষদেরও এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা ময়লা ব্যবস্থাপনা করছি। পাকের ঘরের জানালা দিয়ে যেন ময়লা না ছোঁড়া হয়।

    রবিবার রাজধানীর আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ নিজেরাই করতে হবে। নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে লজ্জার কিছু নেই।

  • ২০২০-২১ পালন হবে মুজিব বর্ষ

    ২০২০-২১ পালন হবে মুজিব বর্ষ

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আগামী ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত এই মুজিব বর্ষ পালিত হবে। শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালন করতে চায়। সারা দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায় থেকেও কর্মসূচি পালন করতে চায়। সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মুজিব বর্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালন হবে।’ তিনি বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের মানুষ নিয়েই এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলেসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েও বহুমুখী কর্মসূচি করা হবে। খেলাধুলা নাটক, আর্টসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হবে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি পর্যন্ত বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২০২০-২১ সাল মুজিব বর্ষ হিসেবে পালিত হবে। এই সময় জাতীয় ও দলীয় অন্য দিবসগুলোও পৃথকভাবে পালন হবে।’

    স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের অবদানের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাঁরই দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল এ স্বাধীনতা। তাঁর রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশের মানুষ আজ সুখে-শান্তিতে বাস করছে। বাংলাদেশ আজ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে। আমরা আজ নির্যাতিত শোষিত মানুষের পাশে আছি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত—শাসিত ও শোষিত। আমি শোষিত মানুষের পক্ষে। শোষিত মানুষকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

    দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গৃহহীনদের ঘর করে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ হচ্ছে গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়নগুলো তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে আমরা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। অনেকেই বলেন—উন্নয়নশীল দেশ হওয়াটা ভালো না, দেশের মানুষের সর্বনাশ করা। কিভাবে মানুষের সর্বনাশ হয় সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমরা উন্নয়শীল দেশ না হয়ে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াব, অন্যের কৃপায় চলব, এটাও তো হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় চেয়েছি কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজেদের সম্পদ দিয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে এগিয়ে যাব। নিজেদের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। এ লক্ষ নিয়েই আমরা চলছি। মানুষের মধ্যে এই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান। স্যাটেলাইট মহাকাশে। আমরা আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে চায়। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়াটা অনেকের পছন্দ না। কাদের এটা পছন্দ না এটা বুঝতে হবে। যারা কঙ্কালসার মানুষ দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে উচ্চ হারে ঋণ দিয়ে সুদ খাবে, নিজেদের সম্পদশালী করবে, সেই পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজ সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। সেখানে সর্বনাশ কিভাবে হয় জানি না। সর্বনাশ সাধারণ মানুষের নয়, যারা জনগণের রক্ত চুষে খায় তাদের হতে পারে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে জাতির পিতার যে আজীবনের স্বপ্ন ছিল সেটা পূরণের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ব ইনশা আল্লাহ।’

    বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরো কয়েকটি বই প্রকাশ করার কাজ চলছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার ৪৭টা ফাইল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাতাকে ৯ হাজার পাতায় নামিয়ে নিয়ে এসে ১৪টি খণ্ডে তা প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে একটি ভলিউমের কাজ প্রায় শেষ, শিগগির ছাপানো হবে। এই রিপোর্টগুলো পড়লে বাংলাদেশের ইতিহাস জানার বাকি থাকবে না।’ এ ছাড়া আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধুর চীন সফর নিয়ে পৃথক দুটি বই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার যৌথ সভাটি শুরু হয়। এতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    ‘মুজিব বর্ষ’ পালনে দুটি কমিটি গঠন : বৈঠকের সূত্রগুলো জানায়, বছরব্যাপী এই কর্মসূচি পালনে জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। এতে সদস্যসচিব থাকছেন সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আর আওয়ামী লীগের বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে আরো বেশ কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে।

    সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি ও আয়োজনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব উঠলে শেখ হাসিনা সম্মতি দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ও অস্থায়ী জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়।

  • বরিশাল সিটিতে আ. লীগ প্রার্থীকে ছাড় দেবে না জাপা

    বরিশাল সিটিতে আ. লীগ প্রার্থীকে ছাড় দেবে না জাপা

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেছেন, সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে কোনো ছাড় দিবেন না।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে জাতীয়পার্টির প্রার্থী হয়েছি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। সরকার দলীয় প্রার্থীকে সহযোগিতা করতে ভোটে নামিনি। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস।

    শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব একথা বলেন।

    বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মিট দ্যা প্রেসে উপস্থিত ছিলেন সিটি নির্বাচনের জাতীয় পার্টির সমন্বয়ক ও জাতীয় পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহসিন-উল ইসলাম হাবুল, জাপা নেতা নজরুল ইসলাম, ফোরকান তালুকদার, হারুন আর রশিদ, নজরুল ইসলাম হেমায়েত, জাহাঙ্গীর হোসেন ফকির ও সফিউল্লাহ দিপু প্রমুখ।

  • জার্মানি, আর্জেন্টিনার পর ব্রাজিলকেও বিদায় করল ‘অভিশপ্ত কাজান’

    জার্মানি, আর্জেন্টিনার পর ব্রাজিলকেও বিদায় করল ‘অভিশপ্ত কাজান’

    কাজান এরেনাকে বিশ্বকাপের ফেবারিটরা ‘অভিশপ্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারে এবার। একের পর এক দর্শক নন্দিত এবং জায়ান্ট ফুটবল দলগুলোর বিদায় করার জন্য বিশ্বকাপের শুরু থেকে পণ করে নিয়েছে রাশিয়ার অন্যতম এই ভেন্যুটি। না হয়, এখানে এসেই কেন একের পর এক জায়ান্টরা হোঁচট খাবে?

    প্রথমে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, এরপর বিশ্বকাপে সবচেয়ে দর্শক নন্দিত এবং বিশ্ব সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং সর্বশেষ নেইমারের ব্রাজিলকে বিদায় করলো এই কাজান এরেনা।

    রাশিয়া বিশ্বকাপ ‘অঘটনে’র এটা শুরু থেকেই। বড় দলগুলো যেভাবে একের পর এক হোঁচট খেতে শুরু করেছিল, তাতে এই বিশ্বকাপের ভাগ্যে কী লেখা, সেটা কেউ বলতে পারছিল না। গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে কোনো না কোনোভাবে ফেবারিটরা উঠে আসছিল। যে কারণে, প্রথম ম্যাচ হারলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির আশা ছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে তারা।

    কিন্তু কাজান এরেনায় সব উল্টে গেলো। জার্মানি গোল বের করা তো দুরে থাক, দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে উল্টো দুটো গোল খেয়ে গেলো। ১৯৩৮ সালে সর্বশেষ প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। ৮০ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে দক্ষিণ কোরিয়ার মত দলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো জার্মানদের। অথচ, এই কোরিয়ার সঙ্গে ২০ ম্যাচ খেললে, ২০টিতেই জিতবে জার্মানি।

    ‘বলি’ দেয়ার জন্য কাজান এরেনার অপেক্ষা যেন আরও বেড়ে গেলো। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচটিই কাজান এরেনায়। মুখোমুখি আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স। দুটিই ফেবারিট দল। নিশ্চিতভাবেই একটি দলকে বিদায় নিতে হবে। দুটিকে তো আর বিদায় করা যায় না। যে কারণে সবচেয়ে ফেবারিট আর সমর্থকপুষ্ট দল আর্জেন্টিনাকে বেছে নিল কাজান। হারিয়ে দিলো ৪-৩ গোলের ব্যবধানে।

    কাজান এরেনার আশে-পাশে প্রতিটি বাড়ির দেয়ালে ম্যুরাল বা প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছিল বিখ্যাত ফুটবলারদের। সেখানে সবচেয়ে বেশি শোভা পাচ্ছিল জার্মানি আর আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ছবি। মেসি, ক্রুস, মুলারদের। সঙ্গে ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরও।

    রোনালদোর পর্তুগালের খেলা কাজান এরেনায় না থাকলেও, সেই ম্যুরালই যেন অভিশপ্ত হয়ে উঠলো। দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় করে দিলো রোনালদোকে। বিদায় নিলো পর্তুগাল। মেসির সঙ্গে বিদায় নিলেন রোনালদোও।

    বিশ্বসেরা তারকাদের মধ্যে মেসি-রোনালদো ব্যর্থ। বাকি ছিলেন নেইমার। তিনি ব্রাজিলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। জিতবেন শিরোপা। ব্রাজিলকে উপহার দেবেন হেক্সা। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য, কোয়ার্টার ফাইনালে নেইমারদের খেলা পড়লো অভিশপ্ত কাজানেই। যে ভেন্যুটি ফেবারিটের বিদায় ঘটাতেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।

    jagonews24ধারা অক্ষুণ্ন রাখলো কাজান এরেনা। ফেবারিটকে টিকতে দিলো না। বেলজিয়ামের কাছে ব্রাজিলকে হারিয়ে দিলো ২-১ গোলের ব্যবধানে। ব্রাজিল এতগুলো গোলের সুযোগ পেলো। তার অর্ধেক হলো, কমকরে ৫টা গোল হয়। শুরুতেই বল বারে লেগে ফিরে আসা, পওলিনহো ফাঁকা পোস্ট পেয়েও শট করতে না পারা, কৌতিনহো, ফিরমিনো, হেসুসরা ফাঁকা পেয়েও সঠিকভাবে শট নিতে না পারা, এগুলো সবই দুর্ভাগ্যের ফসল। হয়তো বা অভিশপ্ত কজান এরেনারও কোনো কারসাজি!

    শেষ পর্যন্ত জার্মানি, আর্জেন্টিনার মত ট্র্যাজেডির শিকার হয়েই হেক্সা মিশনের সমাপ্তি টেনে দিতে হলো তিতের ব্রাজিলকে। নেইমারকেও পথ ধরতে হলো মেসি-মুলার-আগুয়েরোদের মত। অভিশপ্ত কাজান এরেনায় এবারের বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ নেই। না হয়, এরপর কোন জায়ান্টকে বধ করতো, সেটাই ছিল দেখার।

  • আমরা দেশের উন্নয়ন চাই গনতন্ত্রকে ধ্বংশ করে নয়: সরোয়ার

    আমরা দেশের উন্নয়ন চাই গনতন্ত্রকে ধ্বংশ করে নয়: সরোয়ার

    বরিশাল আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড.মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন দেশের লাখো শহীদের রক্তের বিনিময় দেশ স্বাধীন ও গনতন্ত্র উদ্ধার হয়েছে।আমরা দেশের উন্নয়ন চাই গনতন্ত্রকে ধ্বংশ করে নয়।
    সরোয়ার আরো বলেন আগামী সিটি নির্বাচনের ভোট যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশের গনতন্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো।
    এখন থেকে তরুন প্রজন্ম ভোটারদের গনতন্ত্র উদ্ধার সহ কেন্দে এসে ভোট প্রদান করার উৎসাহ যোগাতে হবে স্বেচ্ছাসেবকদলকে।

    শুক্রবার বিকালে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসভবনে মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাবেকদলের সাথে এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি একথা বলেন।

    মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি মাহাবুবুর রহমান পিন্টুর সভাপতিত্বে সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি জে এম আমিনুল ইসলাম,মহানগর সাধারন সম্পাদক মসিউর রহমান মঞ্জু,যুগ্ম সম্পাদক খান মোঃ আনোয়ার,মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সমির,মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেদুজ্জামান রাসেদ,জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল যুগ্ম সম্পাদক মামুন ভূইয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আবদুল্লাহ সাদি।
    এসময় সাংগঠনিক মতবিনিময় মহানগর ও জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সম্পাদক সহ নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি ও সম্পাদক সহ সংগঠনের প্রতিটি কর্মীদের বলেন আগামী ১০ই জুলাই নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্ধের পর থেকে স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্য থেকে নির্বাচনী কাজগুলো ভাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।
    এছাড়া ৩০ই জুলাই সিটি নির্বাচনের দিন প্রতিটি ওয়ার্ডের সেচ্ছাসেবকদলের কর্মীদেরকে ভোটার এনে ভোট প্রদান করার কাজে সহযোগীতা করার কাজে লিপ্ত থাকতে হবে।
    সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শুধু মেয়র হওয়া বড় কথা নয় এ বিজয় হবে গনতন্ত্র উদ্ধারের বিজয়।
    আমরা বরিশালে গাজীপুর ও খুলনার মত নির্বাচন হতে দেব না।

    এছাড়া মেয়র প্রর্থী এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার রাতে একইস্থানে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও নগরীর ৬ নং ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
    এছাড়া তিনি শুক্রবার দুপুরে নগরীর পোর্টরোড জামে মসজিদে জুম্মা নামায আদায় করে মুসল্লিদের সাথে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।

  • ৫ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে: দাবি নগরবাসীর

    ৫ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে: দাবি নগরবাসীর

    সমস্যার অন্ত নেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে। নাগরিকদের অভিযোগ, মশা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর বিভিন্ন স্থানে সড়কের বেহাল দশায় তারা নাজেহাল। কিন্তু গত ৫ বছরে এসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে নামমাত্র। আবার উন্নয়ন কাজে অনিয়ম আর লুটপাটের অভিযোগও আছে।

    যদিও মেয়রের দাবি, তিনি যথেষ্ট উন্নয়ন কাজ করেছেন।

    একসময় পরিচ্ছন্ন আর গোছানো নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল। কিন্তু গত ৫ বছরে এখানের উন্নয়ন নিয়ে খুশি নন নাগরিকরা। গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কই সংস্কার হয়নি বছরের পর বছর। আবার একই সড়ক একাধিকবার সংস্কারের নামে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। তারা বলছেন, গত ৫ বছরে মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের কাউকে দেখা যায়নি। সেই সঙ্গে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর খালগুলো পরিষ্কার না করায়ও ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনে যারাই প্রার্থী হন, তারাই নগরীর উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটের পরে কাজে-কর্মে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।

    যদিও বর্তমান মেয়র, বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালের দাবি, নগরীর উন্নয়নে তিনি যথাসম্ভব চেষ্টা করেছেন।

    আগামী ৩০ জুলাইয়ের ভোটে যিনিই নির্বাচিত হবেন, তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোবেন, এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন: চলছে হাসানাত-সরোয়ারের বাকযুদ্ধ

    বরিশাল সিটি নির্বাচন: চলছে হাসানাত-সরোয়ারের বাকযুদ্ধ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মেয়র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে চলছে বাকযুদ্ধ। বিষয়টি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন সাধারণ ভোটাররা। আর এ ধরনের অশুভ রাজনীতি থেকে সবার বিরত থাকা উচিত বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

    গত ২ জুলাই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বরিশালের বাবুগঞ্জের রহমতপুরে কামিনি ফিলিং স্টেশন চত্বরে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা হলেও একপর্যায়ে ওই সভা সিটি নির্বাচনী সভায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। এ সময় তিনি তার বক্তব্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে সরাসরি খুনি বলেন। ১৯৭৮ সালে বরিশাল টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক নেতা সালাম ও ১৯৭৯ সালে কালীবাড়ি রোডের বরিশাল কলেজ মোড়ে কালাম এবং ২০০১ থেকে ২০০৭ সালে কামাল ওরফে পুলিশ কামাল ও শাজাহান গাজী ওরফে ট্যারা শাজাহান হত্যাকাণ্ড ছাড়াও হাবিল, দর্পণ ও মিল্টনকে পঙ্গু করে দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আবুল হাসানাত।

    বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ওই বক্তব্য শুনে ক্ষুব্ধ হন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। এর প্রেক্ষিতে সরোয়ার আওয়ামী লীগ নেতা হাসানাত আব্দুল্লাহর কাছে পাল্টা প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, এখন যদি বলি বড় ভাই (আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে ইঙ্গিত করে) বিএম কলেজের জাসদ ছাত্রলীগ নেতা নজরুল, ছদরুল ও সমরেশ হত্যাকাণ্ড আপনি ঘটিয়েছেন। তাহলে আপনি কি বলবেন।

    আওয়ামী লীগের ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, বিএম কলেজের জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সমরেশ, নজরুল ও ছদরুল গুম-খুন হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগের হাত রয়েছে বলে অনেকে সন্দেহ করলেও আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নামে কোনো মামলা হয়নি। সমরেশ, নজরুল, ছদরুল হত্যাকাণ্ড নিয়ে ৪৪ বছর পর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নাম জড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী সরোয়ার নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতেছেন।

    দুলাল আরো বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার তার হলফনামায় একাধিক খুন এবং অঙ্গহানি মামলার আসামি বলে উল্লেখ করেছেন। হলফনামার সূত্র ধরে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ওই সভায় তার বক্তব্যে বলেছেন, যার (সরোয়ার) রাজনীতি হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে, যিনি বহু মানুষকে চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছেন তাকে মানুষ ভোট দেবে কেন। সভায় খুনিকে ভোট না দিয়ে উন্নয়নের প্রতীক নৌকা মার্কার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বরিশালের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আবুল হাসানাত।

    আর বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, তিনি কারো বিরুদ্ধে বিষদোগার করতে চান না। একজন রাজনৈতিক নেতা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তখনই বিষদোগার করেন, যখন তিনি তার (হাসানাত আব্দুল্লাহর বড় ছেলে মেয়র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ) প্রতিদ্বন্দ্বিকে শক্তিশালী মনে করেন। সরোয়ার আরো বলেন, বরিশালবাসী সবার অতীত জানেন। কে কোথায় কি করেছে এটি সবার জানা আছে। মামলার বিষয়ে সরোয়ার বলেন, মামলা যে কারোর নামেই হতে পারে। মামলা হলেই কেউ দোষী হয় না। মিথ্যা মামলার কারণে তার জনসমর্থন বেড়েছে। এ কারণে বরিশাল সদর আসন থেকে চারবার এমপি এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।

    আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, যখন কোনো দলের শীর্ষ নেতা একটি বিষয় নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিষদোগার করেন, তখন তার প্রভাব পড়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও। গত ২৫-৩০ বছরেও বরিশালে এমন পাল্টা-পাল্টি বিষোদগার হয়নি। সিটি নির্বাচন ঘিরে দুই নেতার পাল্টা-পাল্টি বিষোদগারের প্রভাব আগামী ৩০ জুলাইয়ের ভোটেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

    এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, রাজনীতিতে এ ধরনের কাদা ছোড়াছুঁড়ি কোনো সুষ্ঠু রাজনীতির পরিচয় নয়। কারো কোনো অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা উচিত নয়। এটা রাজনীতির জন্য অশুভ লক্ষণ। এ ধরনের অশুভ রাজনীতি থেকে সবার বিরত থাকা উচিত।

    উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বড় ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থী হওয়ার পর থেকে সাদিককে যে কোনো ধরনের সাক্ষাৎকার থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ জন্য মুখপাত্র নিয়োগ করা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালকে।

  • ছোট দলগুলোর ঐক্যে বড় দুদলের সরোয়ার হারাতে পারেন হেফাজতের ভোট, সাদিক  হারাতে পারেন  ভূমিহীন ও কলোনিবাসীর ভোট

    ছোট দলগুলোর ঐক্যে বড় দুদলের সরোয়ার হারাতে পারেন হেফাজতের ভোট, সাদিক হারাতে পারেন ভূমিহীন ও কলোনিবাসীর ভোট

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ছোট দলগুলোর ঐক্যপ্রক্রিয়ায় ‘ঘুম হারাম’ হয়ে যাচ্ছে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়রপ্রার্থীর। ঐক্যপ্রক্রিয়ার কারণে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার হারাতে পারেন হেফাজতের ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ হারাতে পারেন নগরের ভূমিহীন ও কলোনিবাসীর ভোট।

    হেফাজতে ইসলামের বরিশালের আমির ওবায়দুর রহমান মাহাবুব এবার বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের হয়ে। হেফাজতের সমর্থন পাবেন কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। সম্প্রতি তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে হেফাজতে ইসলামের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে গত সোমবার তিনি বরিশালের আলেম সমাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হেফাজতের পাশাপাশি আলেম সমাজ ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থীর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    এদিকে সিটি নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ঐক্যে ফাটল

    ধরেছিল। কিন্তু প্রার্থিতা নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে দফায় দফায় বৈঠক চলছে দল দুটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। দুদলের মেয়রপ্রার্থীই আশা করছেন, দ্বন্দ্ব নিরসন করে তারা একক প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে সমঝোতার পথেই হাঁটছেন। তবে দুজনের মধ্যে কে প্রার্থী থাকছেন, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    ওবায়দুর রহমান মাহাবুব আলেম সমাজকে নিয়ে ভোটের মাঠে নামার ঘোষণায় কপাল পুড়তে পারে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের। কারণ হেফাজতে ইসলাম সমর্থকরাই বিএনপির ‘ভোটব্যাংক’। আর তাই বিএনপির পথের কাঁটা হতে পারেন হেফাজত তথা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহাবুব।

    ভোটের সমীকরণে বিপদে আছে আওয়ামী লীগও। কারণ বাম সংগঠন দুটির মেয়রপ্রার্থী নগরের ভূমিহীন ও কলোনিবাসীর কাছে জনপ্রিয়। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে ভোট হারাতে হতে পারে। কারণ বাম সংগঠনের অনুসারীরা সাধারণত তাদের প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে থাকেন।

    নগরীর বেলতলা জামেয়া ইসলামিয়া মাহামুদিয়া মাদ্রাসা এলাকায় গত সোমবার সকালে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহাবুব বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকের সঙ্গে সভা করেন। সেখানে শিক্ষকরা বলেন, আল্লামা শফীর প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তারা মাহাবুবের পক্ষে কাজ করবেন। এ ব্যাপারে ওবায়দুর রহমান মাহাবুব বলেন, শনিবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় আমার ওস্তাদ মাওলানা আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি নির্বাচন করার জন্য অনুমতির পাশাপাশি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই সব আলেম-উলামাকে নিয়ে সোমবার জামেয়া ইসলামিয়া মাহামুদিয়া মাদ্রাসায় বৈঠক করেছি। এ নির্বাচনে বরিশালের আলেম সমাজের মহাঐক্য হবে।

    এদিকে সিপিবির মেয়রপ্রার্থী দলটির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, সমঝোতার জন্য আলোচনা চলছে। তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমি মেয়রপ্রার্থী হওয়ার কথা বলেছি। মণীষার এখনো অনেক সময় রয়েছে। এ ছাড়া রংপুর আর সিলেটে আমাদের প্রার্থীরা বাসদের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। সে হিসেবে বরিশালে বাসদের ছাড় দেওয়া উচিত। তার পরও দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা চাচ্ছি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে।

    বাসদের মেয়রপ্রার্থী ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, ঐক্যের চেষ্টা চলছে। সিপিবিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সিটি নির্বাচনে বাসদের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে। প্রতিদান হিসেবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থীকে সমর্থন দেবে বাসদ। আশা করি, সিপিবি বিষয়টি মেনে নেবে।

    উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি নির্বাচনে আগামী ৯ জুলাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, ১০ জুলাই প্রতীক বরাদ্দ এবং ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • ক্ষমা চেয়ে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন আরিফ

    ক্ষমা চেয়ে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন আরিফ

    অতীতে আচার-আচরণে কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।
    তিনি বলেছেন, ‘ব্যক্তি আরিফ হিসেবে আমার দোষ-ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু দলের প্রার্থী হিসেবে আপনারা সকল ভেদাভেদ ভুলে আমার সাথে কাজ করুন। আমার আচার-আচরণে কোন ভুল হয়ে থাকলে আপানার ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, ততোদিন সিলেটের মানুষের পাশে থাকবো।’

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট শহরতলির খাদিমনগরস্থ একটি সেন্টারে মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মীসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আরিফ। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে এই কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।

    মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম প্রসঙ্গে আরিফ বলেন, ‘বদরুজ্জামান সেলিম সবসময় দলের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। তিনি খুবই কর্মঠ নেতা। বর্তমানে তিনি আবেগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আমি আশা করি, নির্বাচনে তিনি আমার পাশে এসে দাঁড়াবেন।’

    মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপত্বি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেকের পরিচালনায় কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    তিনি বলেন, ‘সিলেটে যদি ভোটের জরিপ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে শতকার ৮০ ভাগ ভোট আমাদের আয়ত্তে আছে। গাজীপুর, খুলনা নির্বাচনে যাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের জনগণ মেনে নেয়নি। ৩৬০ আউলিয়রা আত্মাধিক শহর সিলেটে এ ধরনের প্রহসন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’
    কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু, হুমায়ুন কবির শাহীন, আব্দুল ফাত্তাহ বকশী, যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, হুমায়ুন আহমদ মাসুক প্রমুখ।