Author: banglarmukh official

  • মেসি-রোনালদো পেনাল্টি মিস করলেও শেখ হাসিনা করবেন না’

    মেসি-রোনালদো পেনাল্টি মিস করলেও শেখ হাসিনা করবেন না’

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত যে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেছে তা বন্ধ করতে হবে। দেশের মানুষ এখন সচেতন, তাদের সঙ্গে নিয়ে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলকে লাল কার্ড দেখানো হবে। বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো পেনাল্টি মিস করতে পারেন, শেখ হাসিনা পেনাল্টি মিস করবেন না।

    মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাহানারা ইমাম স্মৃতিপদক প্রদান, স্মারক বক্তৃতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আর কখনো ক্ষমতায় আসবে না। ঘাতকদের মূল উৎপাটন না করা পর্যন্ত ঘৃনিত এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই শেষ হবে না। এদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে আরও জোরালো ভূমিকা রেখে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের সময়ে জাহানারা ইমাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘাতকদের নির্মূলে প্রতীকী বিচারের ডাক দিয়েছিলেন। সেসময় অনেক বাধা প্রতিহত করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সারাদেশের মানুষ জমায়েত হয়েছিল। জাহানারা ইমাম এর মধ্য দিয়ে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া চেতনা ফিরিয়ে এনেছিলেন।

    একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক অজয় রায়ের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, কথাশিল্পী অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, রিসার্চ ইনিসিয়েটিভ বাংলাদেশে এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা এবং কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া।

    পরে কথাশিল্পী অধ্যাপক হাসান আজিজুল হককে জাহানারা ইমাম স্মৃতিপদক ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    শহীদ জননী জাহারারা ইমাম ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুবার্ষির্কী উপলক্ষে প্রতিবছর কেন্দ্রীয়ভাবে ‘জাহানারা ইমাম স্মারক বক্তৃতা’,আলোচনা সভা এবং ‘জাহানারা ইমাম স্মৃতিপদক’ প্রদানের আয়োজন করা হয়।

  • মেসির গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

    মেসির গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

    প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিদ্ধস্ত হয় আর্জেন্টিনা। প্রথম আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এক পয়েন্টই নাইজেরিয়াকে এনে দিতে পারবে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট। কিন্তু আর্জেন্টিনার সামনে জয় ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই। এমকি ড্র করলেও বিদায় নিতে হবে এবারের বিশ্বকাপ থেকে।

    এমন সমীকরণ মাথায় রেখে বাঁচা-মরার ম্যাচে নাইজেরিয়া বিপক্ষে মাঠে নেমেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর মাঠে নেমেই ম্যাচের শুরুতে মেসির গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

    বিস্তারিত আসছে…

  • আমরা সন্তুষ্ট : ইসি সচিব

    আমরা সন্তুষ্ট : ইসি সচিব

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।

    মঙ্গলবার (২৬ জুন) বিকেলে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    সচিব বলেন, ৪২৫ কেন্দ্রের মধ্যে অনিয়মের কারণে ৯ কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। বাকি ৪১৬টিতে সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে।

    ভোটে বিন্দুমাত্র অনিয়ম বরদাস্ত করেনি কমিশন। অনিয়মের কারণে কমিশনের নির্দেশেই ৯ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। বিন্দুমাত্র অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাই সে বিষয়ে কিছু জানা নেই।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখা যাচ্ছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশ্বাসযোগ্য নয়। ৯ কেন্দ্রের বাইরে কোনো অনিয়ম হয়নি?

    ৯ কেন্দ্রের বাইরে অনিয়মের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই বা কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। বিন্দুমাত্র অভিযোগ পেলে তা বন্ধ করা হয়েছে। কমিশন ভোটে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

  • এক লাখ ৩৩ হাজার ভোটে এগিয়ে জাহাঙ্গীর

    এক লাখ ৩৩ হাজার ভোটে এগিয়ে জাহাঙ্গীর

    গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২১৫টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী এক লাখ ৩৩ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

    এসব কেন্দ্রে তিনি নৌকা প্রতীকে দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন এক লাখ ৭ হাজার ৯৫২ ভোট।

    রাত পৌনে ১০টায় শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী ২১৫টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কারণে ৯টি কেন্দ্র স্থগিত রয়েছে। ২০১টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া বাকি রয়েছে।

    মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। ৮ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিভিন্ন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটলেও সম্পন্ন হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবেই।

    ভোট শুরু হওয়ার ২৪ মিনিট পর নিজ বাসভবন সংলগ্ন ৫৪নং ওয়ার্ডের আউচপাড়ায় বশির উদ্দিন উদয়ন একাডেমি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। অপরদিকে সকাল নয়টায় সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাজির হয়ে ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

    গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ৫৭টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে একজন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই ৫৭টির মধ্যে ৫৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন ও সংরক্ষিত ১৯ নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮৪ জন এবং মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে মোট ৩৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ জন পুরুষ এবং ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন নারী।

  • পরকিয়ার জেরে মৃত্যু, এখন কঙ্কাল নিয়েও টানাটানি

    পরকিয়ার জেরে মৃত্যু, এখন কঙ্কাল নিয়েও টানাটানি

    কুমিল্লায় দাফনের ৯ মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে এক ব্যবসায়ীর কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নের ধনুয়াইশ গ্রামের খলিলুর রহমানের কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়। খলিলুর রহমান একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, মৃত খলিলুর রহমান কুমিল্লা সদরের কালিরবাজারে একটি স্টুডিওসহ পাঁচটি দোকানের মালিক ছিলেন। ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আলমগীর হোসেনের পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গেও খলিলুর রহমানের সম্পর্ক তৈরি হয়।

    সম্পর্কের এক পর্যায়ে আলগীরের মেয়ে রুনা আক্তারের (১৯) সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন খলিল। খলিলের স্ত্রী ও ছেলে থাকা শর্তেও আলমগীর ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম চাপ দেন রুনা আক্তারকে বিয়ে করার জন্য। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে খলিলকে কালিরবাজারে নিপা স্টুডিও থেকে রুনা আক্তার ও তার মা শাহিদা বেগম পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার আমতলী খটকপুর গ্রামের নানার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খলিলকে বিয়ের জন্য জোর করলে খলিল অস্বীকার করায় তাকে কৌশলে হত্যা করে।

    পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সকালে খলিলের পরিবারকে জানানো হয় খলিল স্ট্রোক করেছে। তাকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। খলিলের পরিবার বিশ্বাস করে হাসপাতাল থেকে মরদেহ এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে।

    পরবর্তীতে খলিলের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, মেয়ের সঙ্গে পরকিয়ার সুবাদে আলমগীর হোসেন বিভিন্ন সময় খলিলের থেকে প্রচুর টাকা ধার দেয়। ধার নেয়া টাকা ফেরত চাওয়া ও মেয়েকে বিয়ে না করায় তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়।

    পরবর্তীতে ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের মা মাফিয়া বেগম বাদী হয়ে রুনা আক্তারকে প্রধান আসামি করে রুনার মা শাহিদা বেগম, বাবা আলমগীর হোসেন, মামা ও খালুসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে কুমিল্লা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    আদালত হত্যা মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে ময়নাতদন্তের জন্য রোববার আদালতের নির্দেশে মৃত খলিলুর রহমানের মরদেহের কঙ্কাল কবর থেকে উত্তোলন করে পিবিআই।

    এ সময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম ফয়সাল, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা শাখার ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন চৌধুরী, কুমিল্লা কালির বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সিকান্দার আলী উপস্থিত ছিলেন।

    পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লা শাখার ইন্সপেক্টর আলাউদ্দিন চৌধুরী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা দীর্ঘদিন তদন্ত করে বিভিন্ন ধরনের হত্যার ক্লু পেয়েছি। যেহেতু মৃত্যুর পর মরদেহটির কোনো ময়নাতদন্ত হয়নি সেহেতু মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের কাছে আবেদন করলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য মরদে উত্তলোন করা হয়েছে। কঙ্কালটির ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার পুণরায় দাফন করা হবে।

  • এবার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে বসছেন শেখ হাসিনা

    এবার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে বসছেন শেখ হাসিনা

    দলের বর্ধিত সভার পর এবার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামী ৭ ও ১৪ জুলাই দুই দফায় আট বিভাগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসার সম্ভাব্য তারিখও নির্ধারণ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রধান। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    নেতাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিয়ে বর্ধিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিতব্য বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাদের কথা শুনবেন শেখ হাসিনা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, নির্বাচনকে উপলক্ষ করেই তৃণমূল নেতাদের সুসংগঠিত এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেবেন বর্ধিত সভায়। পাশাপাশি সারাদেশের একেবারে তৃণমুল নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান শেখ হাসিনা। তাই বর্ধিত সভার আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনকে গতিশীল করা, দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার ব্যাপারে সরাসরি নির্দেশনা জানাতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের ঢাকায় ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

    নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন জেলা, থানা, মহানগর ও পৌরসভার নেতাদের ঢাকায় ডেকে বর্ধিত সভা করে নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ওই বর্ধিত সভায় রাজনৈতিক সুফল এসেছে। ফলে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরাও এই বর্ধিত সভায় থাকবেন। তৃণমূল নেতাদের কথা শোনার পাশাপাশি নির্দেশনা দেবেন আগামী নির্বাচনের।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, সংগঠনকে গতিশীল করতে এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে তৃণমূলের নেতাদের সে নির্দেশনা দিতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংগঠনকে গতিশীল ও তৃণমূল নেতাদের উদ্বুদ্ধ করতে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে।

  • এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা

    এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা

    গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার। নির্বাচন উপলক্ষে গাজীপুরে একদিকে যেমন উৎসব আমেজ বিরাজ করছে অপরদিকে রোববার রাত ১২টার পর থেকে সব ধরনের প্রচার প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক ধরনের সুনসান নীরবতা ভর করেছে সর্বত্র।

    এছাড়া গত ২৩ জুন রাত থেকে মহানগরীতে অবস্থানরত সকল বহিরাগতদের এলাকা ত্যাগ করার জন্য গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

    সোমবার সকাল থেকেই নির্বাচনী সামগ্রী বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠনো হচ্ছে। ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা নিজ নিজ কেন্দ্রের মালামাল বুঝে নিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর কড়া প্রহরায় ভোট কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন।

    নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বাংলার মুখ ২৪ কে জানান, জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান করবেন। তিনি গাজীপুর সিটিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হবে বলে আশা করেন। গাজীপুরের জনগণ উন্নয়নের জন্য নৌকায় ভোট দেবে এটাই তার প্রত্যাশা।

    তবে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে বিএনপির এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে। নেতাকর্মীরা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেনা। দলীয় কর্মী ও আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    এদিকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল।

    নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে ২৯ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, এবিবিএন, আনসারসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

    নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে ৫৭টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, সংরক্ষিত আসনে ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি এবং অতিরিক্ত একটিসহ মোট ৫৮টি টিম মোতায়েন থাকবে।

    প্রতি দুইটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে মোট ২৯ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এদের মধ্যে ৭ প্লাটুন কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর এলাকায়, ১০ প্লাটুন টঙ্গী এলাকায় এবং ১২ প্লাটুন জয়দেবপুর, বাসন চান্দনা চৌরাস্তা ও কাউলতিয়া এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।

    এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসার সমন্বয়ে ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৮টি মোবাইল ফোর্স, ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।

    নির্বাচনের আগে ও পরে চার দিন ৫৭টি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। আরো ১০ জন অতিরিক্ত হিসেবে সর্বমোট ৬৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে মোট ১৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। তারা ২৪ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত নগরীতে দায়িত্ব পালন করবেন।

    ছয় কেন্দ্রে ইভিএম

    গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ছয়টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো চাপুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ২৪৮০), চাপুলিয়া মফিজউদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয় (ভোটার ২৫৫২), পশ্চিম জয়দেবপুরের মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার ২৫৬২), মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার ২৮২৭), রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার-১৯২৭) এবং রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার-২০৭৭)।

    সিটি কর্পোরেশনের ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮৮টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, আনসার ভিডিপিসহ ২৪ (১২ জন অস্ত্রধারী) জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২২ (১০ জন অস্ত্রধারীসহ) জন সদস্য মোতায়েন থাকবে।

    ৫৭টি সাধারণ এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড বিশিষ্ট এ সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ জন পুরুষ এবং ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন নারী ভোটার। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমীন (কাস্তে), ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাত পাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমেদ (টেবিল ঘড়ি)সহ ৭ জন মেয়র প্রার্থী, ৮৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    ৩২৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। এবার এর দ্বিতীয় নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। ১৫ মে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়োর কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ এবং পরে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৮ জুন থেকে পুনরায় ২য় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয় এবং সে অনুযায়ী ২৬ জুন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • সংসদে পাত্তা পাচ্ছে না এমপিদের আনা আইন

    সংসদে পাত্তা পাচ্ছে না এমপিদের আনা আইন

    সংসদে তাদের মূল কাজ আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু জাতীয় সংসদে সরাসরি উপস্থাপিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) আইন বা বিলগুলো পাস হচ্ছে না। বর্তমান সংসদে তাদের আনা একটি আইনও পাস হয়নি। এমনকি সংসদ নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের আলাদা আলাদা ধারা পরিবর্তনের জন্য আনা বিলও গুরুত্ব পাচ্ছে না।

    অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের খসড়া বিলের পর সংসদে উত্থাপিত আইনগুলো পাস হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আইন প্রণয়নে এমপিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। গত চার অধিবেশনে কোনো বেসরকারি বিলই উত্থাপন হয়নি।

    প্রসঙ্গত, সংসদের কার্যপ্রণালীবিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী ছাড়াও অন্য এমপিরা বিল আনতে পারেন। এ জন্য ১৫ দিন আগে সংসদ সচিবের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে বিলের তিনটি অনুলিপি। সংসদে উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি মনে করলে বিলটি পাসের সুপারিশ করে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ কমিটি একটিও বৈঠক করেনি। তখন ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ার পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি হন তিনি। ওই কমিটির সভাপতি করা হয় জিল্লুল হাকিমকে (রাজবাড়ী-২)।

    ওই সময়ের সভাপতি আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘সরকারি বিলগুলোও কিন্তু এমপিদের মাধ্যমেই পাস হয়। আইন মন্ত্রণালয় বিলগুলোর খসড়া করলেও সংসদে উত্থাপনের পর তা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করেন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। তবে বেসরকারি বিলগুলো বেশি করে পাস হওয়া উচিত। পাস হয় না বলেই কমিটি বৈঠকও করে না।’

    স্বাধীনতার পর ২৭৩ বিল উত্থাপন, পাস মাত্র ৯টি
    সূত্র জানায়, বর্তমান সংসদে এমপিরা সরাসরি ১৫টি বিল (১৯ মার্চ পর্যন্ত) আনলেও পাস হয়নি একটিও। শুধু চলতি সংসদ নয়, বিগত ৯টি সংসদের এমপিদের বিলগুলো পাসের নজির খুবই কম। দশটি সংসদে এখন পর্যন্ত ২৭৩টি বিল আসলেও পাস হয়েছে মাত্র ৯টি। প্রথম সংসদে এ ধরনের কোনো বিল পাওয়া যায়নি। তবে পঞ্চম জাতীয় সংসদে সবচেয়ে বেশি বিল আনা হয়েছিল। এ সংসদে ৭৪টি বিল আনা হলেও পাস হয় মাত্র একটি। বিগত নবম সংসদে সবচেয়ে বেশি বিল পাস হয়। ওই সংসদে ২১টি বিল আনা হলেও পাস হয় মাত্র তিনটি।

    এছাড়া দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে ৪৭টি বিলের মধ্যে পাস হয় মাত্র দুটি। তৃতীয় সংসদে পাঁচটি বিলের মধ্যে পাস হয় একটি। চতুর্থ জাতীয় সংসদে ছয়টি বিল আনা হয়, পাস হয়নি একটিও। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে বেসরকারি কোনো বিলই পাওয়া যায়নি। সপ্তম জাতীয় সংসদে ৫১টি বিল আনা হলেও পাস হয় মাত্র একটি। অষ্টম সংসদে ৫৪টি বিলের মধ্যে একটি পাস হয়। নবম সংসদে ২১টি বিলের মধ্যে পাস হয় তিনটি আর চলতি দশম সংসদে ১৫টি বিল আনা হয়। আলোর মুখ দেখেনি একটিও। তবে স্বতন্ত্র সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর (পিরোজপুর-৩) আনা সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৭ এর আইডিয়া নিয়ে আরেকটি নতুন বিল আনে সরকার।

    আর কত ঝুলে থাকবে আইনগুলো
    গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক প্রার্থী সর্বোচ্চ তিন আসন থেকে নির্বাচন করতে পারবেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী, এক ব্যক্তি দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রার্থী হতে পারবেন। অর্থাৎ একই ব্যক্তি একই সময়ে ১০০ বা ২০০ যে কয়টি আসন থেকে ইচ্ছা নির্বাচন করতে পারবেন। এই বৈপরীত্য দূর করার জন্য পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মো. রুস্তম আলী ফরাজী বিগত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৭ (সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ সংশোধন) নামে একটি বিল আনেন। কিন্তু আজও তা পাস হয়নি। তবে গত মাসে বিলটি সংসদে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় কমিটি।

    এমপিদের উত্থাপিত বিলগুলো পাস হওয়া উচিত কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘অনেক বিল আছে যা পাস করলে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেগুলো পাস করা যেতে পারে।’

    সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে বৈপরীত্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “সংবিধানে এত বড় একটি ব্যত্যয় থাকতে পারে না। এটা নিয়ে সংসদে আমি ছাড়া আর কেউ মুখ খোলে না। এটা সংবিধানে কোনোভাবেই থাকতে পারে না। এটা আইনের চরম ব্যত্যয়। পৃথিবীর কোনো দেশের সংবিধানে এ ধরনের ‘ভুল’ নাই। এটা একটি মারাত্মক ব্যত্যয়।”

    ‘সংবিধানের আদি প্রণেতারা এটা হয়তো তখন বুঝতে পারেননি। কিন্তু এখন এটা আমি সংশোধনের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু এটা পাস করলে তাদের (সরকার) কী অসুবিধা হয় তা বুঝি না!’

    ‘এমপিদের উপস্থাপিত বিলগুলো পাস করলে সংসদ অর্থবহ, প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হবে; এই পার্লামেন্টকে মানুষ মূল্যায়ন করবে’- যোগ করেন তিনি।

    বেসরকারি বিল যারা এনেছেন
    দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত ১৫টি বিলের মধ্যে পাঁচটি এনেছেন মো. রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর-৩)। তিনি জেলা জজ আদালত মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ (এখতিয়ার) বিল, ২০১৫; সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৪ (সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের সংশোধন); ন্যায়পাল (সংশোধন) বিল, ২০১৭; সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল, ২০১৭; (সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের সংশোধন) এবং নামাজ কায়েম বিল, ২০১৭ আনেন সংসদে।

    এছাড়া মো. ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) ‘অসংগঠিত শ্রমিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা (অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত) বিল; সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯) ‘বাংলাদেশ পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকরণ বিল, ২০১৬’; এ কে এম ফজলুল হক (শেরপুর-৩) ‘বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের অধিকার বিল, ২০১৬’ এবং ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী-২) ‘বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার বিল, ২০১৬’ সংসদে আনেন।

    এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সংসদ বিষয়ক গবেষক নিজাম উদ্দিন  বলেন, ‘এখন সংসদে বিল নিয়ে কথা হয় না। কথা হয় অন্যকে হেয় করার জন্য। আর সংসদে বেশির ভাগ সময় স্তুতি হয়। তাই সরকারি বিলগুলো খুব কম সময়ে পাস হয়। বেসরকারি বিলগুলো তো পাত্তাই পায় না।’

  • বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী সরোয়ার

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী সরোয়ার

    বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকেই আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে।
    এছাড়া বরিশাল সিটিতে প্রার্থী বদলে মজিবর রহমান সরোয়ারকে নতুন করে প্রার্থী করেছে দলটি। আর সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নাম জানা যাবে সোমবার।

    রোববার (২৪ জুন) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ জুন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জুলাই।

    প্রসঙ্গত: বরিশালের মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি ।

  • কাউকে না জানিয়ে বরিশালে ফিরলেন সাদিক আব্দুল্লাহ

    কাউকে না জানিয়ে বরিশালে ফিরলেন সাদিক আব্দুল্লাহ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের দলীয় মেয়র প্রার্থী যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল এসেই নতুন চমক দিলেন। আজ ২৪ শে জুন দুপুর ১২ টার দিকে ঢাকা থেকে বিমান যোগে বরিশাল রহমতপুর থেকে বরিশাল কালিবাড়ী রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবনের নিজ বাস ভবনে পৌছেছেন তিনি।

    তার বরিশাল আসার খবরে হাজার হাজার নেতাকর্মি তার বাস ভবনে সাক্ষাৎ করতে ছুটে আসেন। অমরাই গড়বো আগামীর বরিশাল এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নগরবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় কাজ করতে আগামী ৩০ জুলাই বিসিসি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মনোনীত হয়ে বরিশালে এসেছেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হবার পরে উৎসবমুখর নেতাকর্মীরা যখন অধীর আগ্রহ নিয়ে সাদিক আবদুল্লাহর বরিশালে আগমন ও তাকে বরন করার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, ঠিক সেই মুহুর্তে নেতাকর্মীদের না জানিয়ে নিরবে বরিশালে ফিরে এসেছেন এই জনদরদী নেতা।

    কাউকে না জানিয়ে এইভাবে আসার কারন জানতে চাইলে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, গত ২২ তারিখ গনভবনে আমাকে আমার নিজ দলের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন ঘোষনার পর পরই দলীয় নেতা কর্মিরা আনন্দে নগরীজুরে মিষ্টি বিতরন, দোয়া মোনাজাত ও আনন্দ মিছিল করে উল্লাসে ফেটে পরে। তাই জানিয়ে আসলে উৎসবমুখর নেতাকর্মীদের আনন্দ-উল্লাসে নগরবাসীর দুর্ভোগ তৈরী হতো। জনগনের নেতা হিসেবে আমি সেটা উপলব্ধি করেছি। তাই মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মিদের জানিয়ে ফিরলে জানযটে শহর অচল হয়ে যেত। যেহেতু আমি জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি সেইজন্যই জনগনের যাতে বিগত দিনের মত কোন দূর্ভোগ না হয় সেই দিক বিবেচনা করেই আমি এভাবে এসেছি।

    তিনি আরও বলেন আমি দলীয় নেতাকর্মি ও বরিশাল বাসীর পাশে থেকে দীর্ঘ ৭-৮ বছর যাবৎ তাদের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের সুখে দুখে ছুটিয়ে বেড়িয়েছি নগরীর এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে পুরস্কার হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সামনের দিন গুলোতে নগরবাসীকে সাথে নিয়ে টেকসই উন্নয়নের কাজ করার ইচ্ছাই আমার কাজ। তিনি আশা করেন, আগামী ৩০ জুলাই ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে নগরবাসী তাকে বিজয়ী করবে। এবং সেই বিজয় হবে নগরবাসীর বিজয়। এরপর তার কাজ হবে নগরীকে সুন্দর নগরীতে পরিণত করা।