Author: banglarmukh official

  • বিষ্ণু গ্যাং এর খুনের হিট লিস্টে সালমান খান

    বিষ্ণু গ্যাং এর খুনের হিট লিস্টে সালমান খান

    বলিউড তারকা সালমান খানকে হত্যার ছক কষেছিল কুখ্যাত ‘লরেন্স বিষ্ণু গ্যাং’। আর সালমানকে খুন করতে নিখুঁত শ্যুটার সম্পত নেহরাকে ভাড়া করে লরেন্স। এমনকি সালমানের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে বান্দ্রাতেও গিয়েছিল সম্পত। হরিয়ানা পুলিশের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে হরিয়ানা পুলিশ।

    সম্প্রতি হরিয়ানা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সম্পত নেহরাকে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে হরিয়ানায় গুরগাঁওয়ে আনা হয়। হায়দরাবাদ থেকে গুরগাঁওয়ে আসার পথে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্পত পুলিশকে জানায়, সালমান খানকে খুনের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল। রেইকি করতে সে দু-দিনের জন্য মুম্বাইয়ে যায়। সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের ছবি তোলার পাশাপাশি সল্লু মিয়ার গতিবিধি সম্পর্কেও সে নোট করে।

    হরিয়ানা এসটিএফের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল সতীশ বালান জানান, কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র লাগবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই রেইকি করা হয়। এই নেহরা একসময় ছিল ভারতের জাতীয় স্তরের ডিক্যাথলন অ্যাথলেট। তার বাবা ছত্তীশগড় পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর।

    খোঁজখবর নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, লরেন্স বিষ্ণোই ‘গ্যাং’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এই সম্পত নেহরা। একডজন খুন থেকে গুচ্ছের তোলাবাজি, ছিনতাই-সহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে এই দলটির বিরুদ্ধে। নেহরাকে এর আগেও একবার ২০১৬-য় গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। জেরা করে পুলিশ জানতে পারে পাতিয়ালা জেলেই লরেন্সের সঙ্গে আলাপ সম্পতের।

    বর্তমানে বিষ্ণোই-ও রাজস্থানের ভরতপুর জেলে বন্দি রয়েছে লরেন্স। গত জানুয়ারিতেই সে সালমান খানকে একবার খুনের হুমকি দিয়েছিল।

  • দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শামি, ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়

    দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শামি, ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়

    ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামি ও তার স্ত্রী হাসিন জাহানের বিবাদ যেন থামছেই না।  কয়েকদিন আগেই শামির বিরুদ্ধে হাসিন অভিযোগ করেন, শামি ফের বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন।  আর তাতেই আলোড়ন সৃষ্টি হয় পুরো ক্রিকেট বিশ্বে।

    অভিযোগে হাসিন বলেন, ‘‘ভাইয়ের শালিকে বিয়ে করতে চলেছে শামি।  ঈদের পাঁচদিন পরেই ওদের বিয়ে।  মুখ চুপ রাখার জন্য টাকা দিয়ে ডিভোর্স করতে চাইছে ও।’’

    এমন অভিযোগ আসার পরে এবার মুখ খুলতে বাধ্য হলেন শামি।  তিনি বলে দেন, ‘‘প্রথম বিয়ে করে ব্যক্তিগত অনেক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি।  আমি কি পাগল নাকি ফের একবার বিয়ের পিঁড়িতে বসব!’’ এর পর স্ত্রী হাসিনকে কটূক্তি করে শামি আরও বলেন, ‘‘শেষ কয়েক মাসে হাসিন আমার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে চলেছে।  এখন নতুন অভিযোগ করছে।  যদি দ্বিতীয়বার বিয়ে করি, তাহলে হাসিনকে নিমন্ত্রণ করব।’’

  • কিম নয়, ক্ষতি হবে ট্রাম্পের!

    কিম নয়, ক্ষতি হবে ট্রাম্পের!

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন আগামীকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে আলোচনায় বসছেন। এরইমধ্যে দুই নেতাই সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন। ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলন শেষে কানাডায় ঘোষণা দিয়েছেন কিমকে তিনি একবারই সুযোগ দেবেন। এ বৈঠক ব্যর্থ হলে কিমের ক্ষতি হবে। তবে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বৈঠক ব্যর্থ হলে ক্ষতি হবে ট্রাম্পেরই।

    দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের নেতৃত্বের সঙ্গে এরই মধ্যে দুবার করে বৈঠক করেছেন কিম জং উন। এ ছাড়া রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ উত্তর কোরিয়া ঘুরে গেছেন এবং উনকে রাশিয়া সফরের দাওয়াত দিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিন সীমানা প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে সীমান্ত অঞ্চলে জমি কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    ব্যস্ততা শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেই নয়, সরকারি পর্যায়েও শুরু হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার কায়েসংয়ে ও পরদিন শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে আলোচনায় বসেন দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।

    ট্রাম্প বলেছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ সৃষ্টি করার কথা আর বলতে চান না। কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক একাডেমির অধ্যাপক কিম হাইয়ুন উওক বলেন, ‘ট্রাম্পের (সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির) অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনীতির দ্বার উন্মুক্ত করার কারণে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির অভিযানে এরই মধ্যে ভাটা পড়েছে।’

    ট্রাম্প চাইলেও আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন না বলে মনে করেন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জোসেফ ইউন।  তিনি বলেন, যখন প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাবেন, তখন তাদের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখা বাস্তবে অসম্ভব। আপনারা একই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখতে পারবেন, আমার তেমনটা মনে হয় না।

    দক্ষিণ কোরিয়া উত্তরের সঙ্গে পুনর্মিলন চায় বহুদিন থেকেই। দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন সেই প্রত্যাশাকেই যতটা সম্ভব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চীন কোরিয়া যুদ্ধের সময় থেকেই উত্তরের পক্ষে। আর রাশিয়াও এরই মধ্যে আভাস দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বদলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে রাশিয়া তাতে যোগ দেবে না।

    উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী দানদং শহরের হ্যাট বিক্রেতা ইয়াং জানান, এ শহরে জমির দাম সম্প্রতি বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীরা যেভাবে বাণিজ্য বাড়ার সম্ভাবনার কথা ভাবছে, সেই ভাবনার প্রভাবেই এখানকার জমির দাম বাড়ছে।

  • ট্রাম্প-কিম বৈঠকে খরচ ১২৬ কোটি টাকা

    ট্রাম্প-কিম বৈঠকে খরচ ১২৬ কোটি টাকা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক বৈঠকে খরচ হবে প্রায় ২০ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ২৯২ টাকা।

    রবিবার সিঙ্গাপুরের এফওয়ান পিট বিল্ডিংয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শনের সময়
    দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। খবর স্টার টিভি ও স্ট্রেইট টাইমসের।

    তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সফল করতে সিঙ্গাপুর এই অর্থ ব্যয় করছে, যা ‘আমাদের সুগভীর আগ্রহের’ জায়গা। তবে মোট অর্থের অর্ধেকটা নিরাপত্তা খাতে ব্যয় হবে বলেও তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী।

    প্রসঙ্গত, আগামীকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সেন্টোসা দ্বীপের কাপেল্লা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার সেই ঐতিহাসিক বৈঠক। কয়েক মাস ধরে দু’জনের মধ্যে উত্তেজনাকর বাক্য বিনিময়ের পর এই বৈঠকে কি ফলাফল আসে সেদিকে তাকিয়ে বিশ্ববাসী।

  • বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পুত্র রুপন চেটেপুটে খাচ্ছেন শেষ সময়ে!

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পুত্র রুপন চেটেপুটে খাচ্ছেন শেষ সময়ে!

    শেষ সময় লুটেপুটে খাচ্ছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিদায়ী মেয়র আহসান হাবিব কামালের একমাত্র পুত্র কামরুল আহসান রূপন। নামে-বেনামে বিসিসি’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে বাকী পুরো টাকাই লাভ করছেন তিনি।

    রূপনের বিরুদ্ধে গত প্রায় ৫ বছরে নগরীর ফোরলেনের সৌন্দর্য বর্ধন, বিভিন্ন মোড়ে ইলেক্ট্রিক গাছ ও টাওয়ার স্থাপন, সড়ক সংস্কার ও মেরামত সহ বেনামে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ নিয়ে নামমাত্র কাজ করে বাকী টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওপেন সিক্রেট।

    সবশেষ নগরীর আমতলা পানির ট্যাংকি সংলগ্ন লেকে ৬টি প্যাডেল বোট সরবরাহের ১০ কাজও বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। কাজটি অনেক পুরনো হলেও সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর তরিঘরি করে ৬টি প্যাডেল বোট সরবরাহ করা হয় কিছুদিন আগে। যুবদল নেতা মোমেন সিকদারের মালিকানাধীন মেসার্স মিতুসী ট্রেডার্সের নামে ১০ লাখ টাকায় সরবরাহ করা ওই প্যাডেল বোট একেবারে নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন আমতলা লেকের তদারককারী মো. হীরা সরদার। তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে বোটগুলো আনা হয়েছে, এই নিম্নমানের বোট দিয়ে সেই উদ্দেশ্যে সাধিত হবেনা। প্লাস্টিকের তৈরী বোটগুলো পাকা লেকের ঘাটলায় থামানোর সময় ধাক্কা লেগে ভেঙ্গে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন তিনি।

    স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুদ্দিন নুরু জানান, সদা চোখে দেখলেই বোঝা যায় প্লাস্টিকের তৈরী বোটগুলো কতটা নাজুক এবং হালকা। এটি বুঝতে কোন বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নারী ও শিশুদের নিয়ে ওই বোটে উঠলে পুরো পরিবার সহ ডুবে মরতে হতে পারে বলে আশংকা করেন তিনি।

    আমতলা লেকে প্যাডেল বোটগুলো আনা হলেও এগুলো কোন পদ্ধতিতে চলবে, কারা পরিচালনা করবে সেসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ কারনে ৬টি বোট রশিতে বেঁধে ভাসিয়ে রাখা হয়েছে আমতলা লেকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেঁধে রাখা ৬টি বোটের দুটিতে ইতিমধ্যে পানি উঠে হেলে গেছে।

    মিতুসী ট্রেডাসের নামে ৬টি বোট সরবরাহের কাজটি আড়ালে থেকে করেছেন মেয়র পুত্র কামরুল আহসান রূপন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে রূপনের প্রধন সহযোগী বিএনপি কর্মী মো. রুবেলের নাম। ছদ্ম পরিচয়ে রুবেলের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি নন, তার এক মামা এই কাজ করছেন। তবে মামার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। আমতলা লেকে সরবরাহ করা বোটগুলো নারায়নগঞ্জ থেকে কেনা হয়েছে উল্লেখ করা হলেও কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। এখানে সরবরাহ করা একেকটি বোটের দাম ১ লাখ টাকার বেশী দাম পড়েছে দাবী তথাকথিত ঠিকাদার রুবেলের। এই বোটগুলোতে ২০ বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে বলে তার দাবী। এরচেয়ে কমে ৮০ হাজার টাকায়ও প্যাডেল বোট পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

    সিটি করপোরেশনের একজন প্রকৌশলী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এই ধরনের প্যাডেল বোট সাধারনত ফাইবারে তৈরী শক্ত এবং মজবুত হয়। কিন্তু আমতলা লেকে সরবরাহ করা বোটগুলো পুরোটাই প্লাস্টিকের তৈরী। ৬টি প্লাস্টিকের বোট কিনতে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার বেশী খরচ হয়নি বলে দাবী ওই প্রকৌশলীর। এই বোট চালু হলে আমতলা লেকের পানিতে ডুবে নারী ও শিশুদের প্রানহানীর আশংকা রয়েছে বলে জানান ওই প্রকৌশলী।

    এ বিষয়ে মোমেন সিকদারের বক্তব্য জানার চেস্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে মোমেন সিকদারের ঘনিস্ট একটি সূত্র জানায়, মোমেন সিকদার তার দুটি লাইসেন্স সাধারনত কাউকে দেন না। একমাত্র মেয়র পুত্র রূপন মোমেন সিকদারের লাইসেন্সে গত ৫ বছরের বেনামে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। রূপনের বেশীরভাগ কাজ নিম্নমানের, ক্ষেত্র বিশেষ নামমাত্র হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে মোমেন সিকদারের লাইসেন্স বিতর্কে পড়েছে। সব শেষ আমতলা লেকে নিম্নমানের প্যাডেল বোট সরবরাহ করে ফের বিতর্কে মোমেন সিকদারের মিতুসী ট্রেডার্স। কিন্তু রূপন মেয়র পুত্র হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

    সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিচুজ্জামান জানান, প্যাডেল বোট সরবরাহের এই কাজটি অনেক আগের। তাকে ক্যাটালগ না দেখিয়ে, এ্যাপ্রুভ না করিয়েই ঠিকাদার হঠাৎ করে প্যাডেল বোট সরবরাহ করেছেন। তিনি এই বিষয়ে ঠিকাদারকে প্রশ্ন করলে ঠিকাদার উল্টো তাকে বলেন, মেয়র সাহেব ক্যাটালগ দেখেছেন। তিনিই স্যাম্পল এ্যাপ্রুভ করেছেন।

    সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, লেকের একপাশের রেলিং নির্মানের কাজ বাকী আছে। ওই কাজ সম্পন্ন হলেই লেকে প্যাডেল বোট চালু হবে। মেয়র বলেন, লেকে সরবরাহ করা প্যাডেল বোটগুলো খুবই ভালো। এর মাপ, থিকনেস এবং ফিটনেস সবই ভালো আছে। এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই বলে দাবী মেয়র কামালের।

  • চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা, রনির দাবি ‘যৌনকর্মী’

    চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা, রনির দাবি ‘যৌনকর্মী’

    রাজধানীর কলেজগেট সিগন্যালে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ১৫ ঘণ্টা পর ভুক্তভোগী তরুণী থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত মাহমুদুল হক রনিকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

    শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিকেলে দুই তরুণী থানায় আসেন, তাদের একজন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।’

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাতে তারা (বাদী ও তার বান্ধবী) কলেজগেট এলাকায় মাহমুদুল হকের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ ২৯-৫৪১৪) থামিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ করেন। কিছু দূর যাওয়ার পর এক তরুণীকে শিশুমেলা এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়। গাড়িতে থাকা আরেকজনকে ধর্ষণ করে রনি।

    এদিকে প্রাথমিক তদন্ত ও টেস্ট করার পর রনির শরীরে মদ পানের নমুনা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের জন্য ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ওসি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

    এদিকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে ওই দুই তরুণীকে ‘যৌনকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করেন রনি।

    এর আগে শনিবার রাতে গাড়ি থেকে নামিয়ে রনিকে মারধর করার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। গণপিটুনির পর রনিকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। তার ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ ২৯৫৪১৪ নম্বর গাড়িটি শেরেবাংলা নগর থানায় রয়েছে। তবে তার ড্রাইভার এখনো পলাতক রয়েছেন।

    অভিযুক্ত রনির বাবা মৃত ফজলুল হক। গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া। ঢাকায় ধানমন্ডি-১৫ নম্বরের মিতালী রোডের একটি বাড়িতে থাকেন। পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করেন তিনি। তার স্ত্রী ও দুইটি সন্তান রয়েছে।

  • ভিডিও দেখা নিয়ে ঝগড়া:অত:পর ফিল্মি স্টাইলে খুন

    ভিডিও দেখা নিয়ে ঝগড়া:অত:পর ফিল্মি স্টাইলে খুন

    পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে মুঠোফোনে ভিডিও দেখা নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে এক কিশোর আরেক কিশোরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অপর কিশোরকে আটক করেছে।
    নিহত কিশোরের নাম নয়ন মোল্লা (১৫)। সে পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় খান হোটেল নামের এক খাবার হোটেলের কর্মচারী ছিল।

    এ ঘটনায় কলাপাড়া থানার পুলিশ ওই হোটেলের আরেক কিশোর কর্মচারীকে (১২) আটক করেছে।

    নিহত নয়ন মোল্লার খালাতো ভাই আবদুল আলিম জানান, কলাপাড়া লঞ্চঘাট এলাকার খান হোটেলে নয়ন কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। তিনি (আবদুল আলিম) পাশের একটি মাছের আড়তে কাজ করেন।

    শনিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর নয়ন দৌড়ে তাঁর কাছেই আসে। এমন অবস্থা দেখে তিনি দ্রুত নয়নকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়নকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থা সংকটজনক হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়নকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রোববার সকাল আটটার সময় নয়ন মারা যায়।

    ঘটনার কারণ উল্লেখ করে আবদুল আলিম বলেন, নয়ন নিজের মুঠোফোনটি হোটেলের এক জায়গায় রেখে কাজ করছিল। অপর কিশোর কর্মচারী সে সময় নয়নের অগোচরে ফোনটি নিয়ে হোটেলের পেছনে গিয়ে ভিডিও দেখছিল। নয়ন এ ঘটনা দেখতে পেয়ে রাগান্বিত হয়। সে ওই কিশোরের কাছে জানতে চায়, কেন তার ফোন নিয়েছে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। ঘটনা ওখানেই শেষ হয়ে যায়।

    আবদুল আলিম আরও বলেন- ওই কিশোর যে সেই রাগ পুষে রেখেছিল, তা বোঝা যায়নি। রাতে হোটেল নয়ন ঘুমিয়ে গেলে ওই কিশোর তার গলায় ছুরি মারে। ছুরির আঘাতে নয়নের গলার বাঁ পাশ কেটে জখম হয়।

    কলাপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে- কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামে নয়নের বাড়ি। তাঁর বাবার নাম খোকন মোল্লা।

    আটক কিশোরের বাড়ি আমতলী উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের কলঙ্ক গ্রামে।

    কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে হোটেলের কিশোর কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।

  • বরিশাল বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু গ্রেফতার

    বরিশাল বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু গ্রেফতার

    বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরুকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

    গতকাল রোববার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দেলোয়ার হোসেন সহ একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। রাতেই তাকে কোতয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    এব্যাপারে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ আওলাদ জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের ব্যাপারে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

    উল্লেক্ষ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খসরু দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরেই দলীয় কোন কর্মকান্ডে তাকে মাঠে দেখা যায়নি।

  • রাজারা নেই রাজপ্রাসাদ খালি

    রাজারা নেই রাজপ্রাসাদ খালি

    সীমান্ত জনপদ টেকনাফের সেই রাজপ্রাসাদগুলো এখন ফাঁকা। ফটকে ঝুলছে তালা। আর রাজারা লাপাত্তা। একসময়ের কুলি, ঠেলাগাড়ি চালক আর পিঠা বিক্রেতা— যারা ইয়াবা ব্যবসা করে টেকনাফের রাজা হয়েছিলেন, বন্দুকযুদ্ধে এমপি বদির বেয়াই আকতার কামাল নিহত হওয়ার পরই এরা পালাতে শুরু করেন। পুলিশ এসব বাড়িতে তল্লাশি চালায়।

    উত্তর জালিয়াপাড়া গ্রামে ‘রাজপ্রাসাদের’ মতো বাড়ি বানিয়েছেন ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল বশর। এখন সেই বাড়িতে থাকেন না কেউ। হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা স্টেশনের পাশে নুরুল হুদার সুরম্য অট্টালিকাও এখন নীরব। তার স্ত্রী কামরুন নাহার দিনের বেলায় মাঝেমধ্যে এলেও বেশির ভাগ সময় তালা ঝোলে এ প্রাসাদে। মৌলভীপাড়া গ্রামে ঢুকতেই রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী আলী হোসেনের দৃষ্টিকাড়া কোটি টাকায় বানানো অট্টালিকা। কিন্তু সে বাড়িটিও সুনসান। বন্দুকযুদ্ধের ভয়ে তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী আলী হোসেনের ভাই মঞ্জুর আলমও তার বাড়ি ছেড়ে রাত কাটাচ্ছেন অন্যত্র।

    টেকনাফে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আতঙ্কিত হয়ে এখন ঘরছাড়া তালিকাভুক্ত ইয়াবার গডফাদাররা। এবার মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যাংক ব্যালান্সের তথ্যও সংগ্রহ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাই সুরম্য অট্টালিকার মালিকরাই আতঙ্কে আছেন সবচেয়ে বেশি। মাদকের টাকায় টেকনাফের দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, মৌলভীপাড়া, নীলা, ডেইলপাড়া, নেঙ্গরবিল, কুলালপাড়া ও লেদায় গড়ে উঠেছে এমন সুরম্য শতাধিক ভবন। এসব বাড়ি নিয়ে এখন বিপদে আছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। অভিযান এড়াতে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে এখন অন্যত্র বাস করছেন তারা। মাদকের টাকায় বানানো এসব সুরম্য ভবন পাহারা দিতে কেউ কেউ রেখে গেছেন গরিব কোনো নিকটাত্মীয়কে। জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই মুজিবুর রহমান, ফয়সাল ও শফিকের রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি রয়েছে টেকনাফের জালিয়াপাড়ায়। বদির আরেক ভাই আবদুস শুক্কুর বাড়ি বানিয়েছেন টেকনাফের অলিয়াবাদে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন ও পুরনো তালিকায় তাদের নাম রয়েছে।

    এ ছাড়া তালিকায় নাম রয়েছে, টেকনাফের নুরুল হুদা, মো. জোবাইয়ের, নুরুল বশর নুরশাদ, মো. সালমান, মো. হাসান আলী, বদির ফুফাতো ভাই কামরান হাসান রাসেল, নূর মোহাম্মদসহ অনেকের। ইয়াবা ব্যবসার কোটি কোটি টাকা দিয়ে বানানো তাদের বাড়িগুলো এখন শূন্য পড়ে আছে। জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিত্কুমার বড়ুয়া বলেন, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ায় তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদাররা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। ইয়াবার টাকায় যারা রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছেন, তাদের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যাংক ব্যালান্সের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে ঢুকতেই রয়েছে বিজিবির চেকপোস্ট। এর পাশেই বিশাল জায়গাজুড়ে নির্মাণাধীন পাঁচতলা আবাসিক কটেজ। তবে এখন কাজ বন্ধ। কারণ বাড়ির মালিক নূর মোহাম্মদ র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। আবাসিক এই কটেজ পেরিয়ে আলিখালী রাস্তার মাথায় গোলাপি ও টিয়া রঙের দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল বাড়ি। একাধিক নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি ডজনখানেক সিসিটিভি ক্যামেরাও আছে এ ভবনের চারপাশে। কিন্তু সুরম্য এ প্রাসাদেও এখন থাকে না কোনো ‘ইয়াবা রাজা’। প্রাসাদ ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বাড়ির মালিক নূরুল কবির।

    জানা গেছে, ইয়াবার টাকায় টেকনাফের লেদা, নেঙ্গরবিল, পৌরসভার চৌধুরীপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, ডেইলপাড়া, শিলবনিয়াপাড়ায় রাজপ্রাসাদের মতো গড়ে উঠেছে সারি সারি বাড়ি। তবে এসব বাড়ি এখন খালি পড়ে আছে, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাড়ির মালিক মাদক ব্যবসায়ীরা। অভিযান এড়াতে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অন্যত্র বাস করছেন তারা। মাদকের টাকায় বানানো এই রাজপ্রাসাদ পাহারা দিতে তারা বসিয়েছেন সিসি ক্যামরা। আবার কেউ বাড়িতে রেখে গেছেন গরিব কোনো নিকটাত্মীয়কে।

    সেই রাজারা কোথায় : টেকনাফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের রাজপ্রাসাদে অভিযান চালান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু প্রাসাদের ভিতরে এসব অভিযান ছিল নিষ্ফল। সূত্র জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দুবাই, মালয়েশিয়া, ভারত ও ওমরাহ পালনের নামে সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন। অনেকে ট্রলারযোগে সমুদ্রপথে মিয়ানমার গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন।

    নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে টেকনাফ সদরের মৌলভীপাড়া এলাকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী আবদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম প্রকাশ কালা ও জাফর আলমের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তবে মাদক ব্যবসায়ীরা বাড়িতে না থাকায় তাদের কাউকেই আটক করা যায়নি।

  • সেই ডাক্তার কেন অস্ত্রধারী

    সেই ডাক্তার কেন অস্ত্রধারী

    ছোটবেলা থেকেই জাহিদুল আলম কাদিরের অস্ত্রের প্রতি ঝোঁক। নতুন চকচকে অস্ত্র দেখলেই সংগ্রহে রাখতেন। অনেকটা শখের বশেই। একটা-দুটা করে রাখতে রাখতে একসময় অস্ত্রের ছোটখাটো ভাণ্ডারে পরিণত হয় তা। এরপর লেখাপড়ার পাশাপাশি অপরাধের নানা শাখায় তার অবাধ বিচরণ ঘটে। ঢুকে পড়েন আন্ডারওয়ার্ল্ডে। খুব অল্প সময়েই তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে অন্ধকার জগতে। অপরাধীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেন। উন্নত মানের চকচকে বিদেশি সব অস্ত্র আমদানি করাতেন বৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হয়েও প্রাণ নেওয়ার কারিগর হিসেবে দক্ষ হয়ে উঠছিলেন তিনি। হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল হিসেবে মাঝেমধ্যেই ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ করতেন। মিশন বাস্তবায়ন করাতেন পেশাদার কিলারদের মাধ্যমেও। জাহিদুল আলম কাদিরকে চিকিৎসক হিসেবে সবাই জানলেও আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার পরিচয় ‘ভয়ঙ্কর জাহিদ’। মেধাবী এই চিকিৎসক কেন অস্ত্রধারী হলেন এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন গোয়েন্দারা। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবনা এবং কুষ্টিয়ায় স্কুল ও কলেজ-জীবন শেষ করে ১৯৯২ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন মেধাবী ছাত্র জাহিদ। মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি। তবে ভালো ছাত্র হওয়ার পরও ছোটবেলা থেকেই অস্ত্রের প্রতি ঝোঁক ছিল তার। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়েছেন এমন একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিজের সংগ্রহে রাখতেন। জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে। মেডিকেল কলেজে তৎকালে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ ছিল। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, অন্য গ্রুপের প্রধান ডা. নারায়ণ চন্দ্র দত্ত নিতাই। জাহিদ থাকতেন মেইন হোস্টেলে। প্রথম বর্ষে ডা. উত্তম গ্রুপের সঙ্গে থাকলেও তৃতীয় বর্ষে ওঠার পরই তিনি দল ত্যাগ করেন। যোগ দেন ডা. নিতাই গ্রুপে। এ নিয়ে মেডিকেল কলেজে ডা. জাহিদ ‘পলিথিন জাহিদ’ হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে তিনি মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের মুরাদ-সাদী কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পান। অস্ত্রের সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়েন মাদকেও। ২০০২ সালে এমবিবিএস পাস করেন ডা. জাহিদ। তবে তিনি কখনো সরকারি চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করেননি। দেশের বিভিন্ন জেলায় বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চাকরি করেন। গ্রেফতারের চার দিন আগে ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘অ্যানেসথেসিয়া’ ডিপ্লোমা করেন জাহিদ। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক ভিপি ডা. বিলিয়ম অনিমেষ সাংমা বলেন, ‘ডা. জাহিদ সহজ-সরল ছিল। তবে থ্রিলিং লাইফ পছন্দ করত। অস্ত্রের প্রতি তার মারাত্মক ঝোঁক ছিল। অনেকটা শখের বশেই অস্ত্র সংগ্রহে রাখত সে। তবে সে কন্ট্রাক্ট কিলার হতে পারে তা আমরা কখনো বিশ্বাস করি না। এতে অন্য কোনো ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।’ ১৫ মে যাত্রাবাড়ী থেকে দুটি পিস্তল ও আট রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয় ডা. জাহিদকে। অস্ত্র আইনে মামলায় রিমান্ডে নিয়ে ৩ জুন গাবতলী থেকে তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল। ৭ জুন জাহিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ময়মনসিংহের বাগমারা এলাকা থেকে ১২টি অস্ত্র ও ১৬১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে রয়েছেন ডা. জাহিদ। আজ রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবেন তদন্ত কর্মকর্তা। ডা. জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদকারী এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজন সন্ত্রাসীর কথা বলেছেন জাহিদ। তাদের মধ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাসিন্দা পেশাদার কিলার তাজুল মাঝেমধ্যেই তার কাছ থেকে অস্ত্র ভাড়ায় নিতেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতেন তিনি। উদ্ধার করা ১৫টি অস্ত্রের মধ্যে মাত্র তিনটি ভারতীয়। বাকিগুলো তাওরাস, রোজার, এসট্রা, টিটাস। তিনি বলেন, র‌্যাবের সোর্সের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে এই তাজুল একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। ১৫টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ৬২২ রাউন্ড গুলির বেশির ভাগ তিনি ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড়ের খান আর্মসের কর্ণধার মো. শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে কিনেছেন। তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার শাহাবুদ্দিন ও ডা. জাহিদকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    জাহিদ জানিয়েছেন, তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকেই পাস করা চিকিৎসক। বাড়ি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকায়। ওই সংসারে তার এক ছেলে রয়েছে। তবে বিয়ের তিন বছর পরই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে চার বছর আগে মাসুমাকে বিয়ে করে ময়মনসিংহে বসবাস করছিলেন জাহিদ।

    এদিকে জাহিদের প্রথম স্ত্রী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘অপকর্ম থেকে জাহিদকে সরাতে অনেক চেষ্টা করেছি। তবে কোনো কাজ হয়নি। ডিভোর্স নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এ ব্যাপারে আমি আর কোনো কথা বলতে চাই না।’

    জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাত দিয়ে কাউন্টার টেররিজমের স্পেশাল অ্যাকশন টিমের উপকমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্রের কারবারে জড়িয়ে পড়েন জাহিদ। ১৯৯৩ সালে তিনি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন। অতি সম্প্রতি তাজুলকে দিয়ে সিলেটে জাপার একজন সংসদ সদস্যকে ‘ভাড়ায় খুন করার ছক’ আঁকেন তিনি।

    তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ত্র ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন খান বৈধ অস্ত্র ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা করতেন। বিদেশ থেকে অস্ত্র নিয়ে এসে জাহিদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

    আমাদের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ার পোড়াদহের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান জাহিদ। বাবা হাবিবুর রহমান রেলওয়ের বড় কর্মকর্তা ছিলেন। বড় ভাই প্রকৌশলী। বোনদের সবাই উচ্চশিক্ষিত। জাহিদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সন্ত্রাসী এবং তার অস্ত্রের ভাণ্ডার ছিল এটা মানতে পারছেন তার বাবা-মা। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করার সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    গতকাল জাহিদের বাবা হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১৫ মে জাহিদুলকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় এক মাস পর তাকে আটকের বিষয়টি জানানো হয়, এটি রহস্যজনক। এ ছাড়া তাকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আটকের কথা বললেও আসলে তাকে কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জ থেকে আটক করা হয়। জাহিদ ওই দিন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য কোম্পানীগঞ্জ গিয়েছিলেন। জাহিদের বাবা এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।