Author: banglarmukh official

  • রাস্তা নয়, ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য যানজট হতে পারে: কাদের

    রাস্তা নয়, ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য যানজট হতে পারে: কাদের

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদের আগে-পরে রাস্তার জন্য দেশের কোথাও যানজট হবে না।

    আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার মাতুয়াইলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি তৈরির কারখানায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

    ফিটনেসবিহীন গাড়ি তৈরি নিয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কাদের।

    মন্ত্রী বলেন, রাস্তার জন্য এবার যানজট হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের কোথাও রাস্তার জন্য যানজট হবে না। কিন্তু এই ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো যানজট সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, রাস্তায় যদি গাড়ি বিকল হয়ে যায় রেকার এসে সরাতে সরাতে দীর্ঘ যানজট হয়ে যায়।

    ফিটনেসবিহীন গাড়ি তৈরির কারখানায় অভিযান চলবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এগুলোর দায়িত্ব ছিল বিআরটিএর। তাঁরা এ ব্যাপারে কেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে? প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশ ও বিআরটিএর প্রতি আহ্বান জানান।

    ঈদের আগে ঢাকার রাস্তাগুলোতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

  • মেডিকেলের ছাত্ররা ধূমপান করলে বহিষ্কার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মেডিকেলের ছাত্ররা ধূমপান করলে বহিষ্কার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মেডিকেল কলেজের কোনো ছাত্র ধূমপান করলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। ধূমপায়ীদের মেডিকেলে ভর্তি হতে দেওয়া হবে না। আর কোনো চিকিৎসক ধূমপান করলে তিনি মেডিকেল কলেজে পড়াতে পারবেন না। নিজে উপদেশ দেবেন আর নিজেই ধূমপান করবেন, তা হবে না।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ধূমপান মানেই বিষপান। এর কোনো সুফল নেই। সব গবেষণায় দেখা গেছে, যে কোনো ধরনের তামাক গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

    মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মাদকের ভয়াবহতা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক বিভিন্ন পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকব্যাধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    অনুষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখার জন্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অধ্যাপক ড. ফজলুল হক। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক। আর জেলা পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে জামালপুর জেলা টাস্কফোর্স।

    স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আবদুল মালিক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

     

  • তালিকায় ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ী

    তালিকায় ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ী

    দেশে যে কোনো ধরনের অপরাধের তুলনায় মাদকের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংশ্নিষ্টতা পাওয়া যায় নারীর। মোট মাদক কারবারির ২০ থেকে ৩০ শতাংশই নারী। তবে তাদের মধ্যে মাদক বাহকের সংখ্যাই বেশি। বাকিরা মাদকের নারী গডফাদার। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ইয়াবা কারবারে জড়িত ৩৯ জন নারী। তারা প্রত্যেকে ১৫ থেকে ২০ নারী-পুরুষ বাহকের মাধ্যমে ইয়াবার চালান পাঠিয়ে আসছিল বিভিন্ন জায়গায়। রাজধানীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এসব চক্র। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় উঠে এসেছে রাজধানীকেন্দ্রিক এ রকম ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম। তাদের মধ্যে ২২ জন পলাতক। বাকি তিনজন কারাগারে রয়েছে।

    পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা জানান, একসময় ইয়াবার সঙ্গে নিকিতার নাম শোনা যেত। এখন আর আলোচনায় নেই সে। তবে অনেক নারী অল্প সময়ে অনেক টাকা আয়ের সুযোগ হিসেবে শুরু করেছে ইয়াবা ব্যবসা। যারা এরই মধ্যে দখল করেছে নিকিতার জায়গা।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে নারী মাদক ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় নেওয়া হবে। তালিকা ছাড়াও যেসব নারী মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে তাদের ব্যাপারে।

    র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, অপরাধ কে করেছে, সেটা মুখ্য। এখানে কারও অন্য কোনো পরিচয় দেখার সুযোগ নেই। নারী মাদক ব্যবসায়ীদেরও কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের অন্তত ৩০ শতাংশই নারী। অনেকে আবার নারীকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে।

    পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের এডিসি মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, অল্প টাকার বিনিময়ে অনেকে মাদকের সঙ্গে নারীকে সম্পৃক্ত করছে। ইয়াবা আকারে ছোট। নারীকে দিয়ে বহন করালে ধরা পড়ার ভয় থাকে কম। আবার কোনো কোনো নারী নেপথ্যে থেকে নারীকে ব্যবহার করেই এ ব্যবসা চালাচ্ছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, গত তিন মাসে কক্সবাজার থেকে মাদক ঢাকায় আনতে গিয়ে তাদের হাতে অন্তত সাত নারী বাহক ধরা পড়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে মাদক বহন করছিল। কখনও এসব নারীর সঙ্গে ছোট্ট শিশুও আনা হয়, যাতে কেউ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের সন্দেহ না করে। উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে- এক নারী মাদক ব্যবসায়ী অন্তত ৬০টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। একেকটি নম্বর সে একেক দিন ব্যবহার করে। বারবার স্থান ত্যাগ করে গা-ঢাকা দিচ্ছে। অনেকে আবার স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। কোনো নারী গডফাদার আবার প্রতি মাসে টাকার বিনিময়ে নারীকে ব্যবহার করে ইয়াবার কারবার করছে। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে ইয়াবা বহনকারী নারীর পরিবারের মাসিক ব্যয়ভার বহন করছে ওই সব নারী গডফাদার। এমনকি মামলার খরচও বহন করে তারা। অনেক সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে অভিযানে গেলে নারী ইয়াবা বাহকরা ‘অশ্নীলতা’ প্রদর্শন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে গ্রেফতার এড়াতে। হাইওয়েসহ দেশের অধিকাংশ জায়গায় পুলিশ চেকপোস্টে পুরুষ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সন্দেহভাজন নারীদের তাই সব সময় চেক করা সম্ভব হয় না। তাই নারী মাদক পাচারকারীরা এ সুযোগও নিয়ে থাকে।

    মাদক চক্রের নারী সদস্য :খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে সবুজবাগের সুফিয়া আক্তার শোভা (৫০)। স্বামীর নাম আইয়ুব আলী। মাদক ব্যবসায় তার রাজত্ব সবুজবাগের ওহাব কলোনি ঘিরে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০টি মামলা রয়েছে।

    নারী মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে শামসুন্নাহার চম্পা। স্বামীর নাম মো. বাবুল ওরফে ফর্মা বাবুল। সবুজবাগ ঘিরে চম্পাও দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৬টি।

    ধনাঢ্য নারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে গেণ্ডারিয়ার রহিমা। রহিমা বেগমের জন্ম গেণ্ডারিয়ার ছোবাপট্টি বস্তিতে। মাদক ব্যবসা করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি বাড়ির মালিক হয়েছে সে। তার রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। ব্যাংকেও নামে-বেনামে অনেক অর্থ রয়েছে তার। রহিমার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে ছয়টি।

    সায়েদাবাদ ওয়াসা কলোনিতে মাদক ব্যবসার নারী গডফাদার হলো সুফিয়া আক্তার সুফি (৪৫)। স্বামীর নাম আক্তার হোসেন। সুফির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদরের খাকুরীতে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ছয়টি। সুফিয়া বর্তমানে কারাগারে।

    কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন বস্তি এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে জমিলা খাতুন। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাতটি।

    সবুজবাগ এলাকার মাদকের আরেক নারী গডফাদার হলো তানিয়া বেগম। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে সাতটি। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের নারী গডফাদার হলো ফারহানা আক্তার পাপিয়া। স্বামীর নাম জয়নাল আবেদীন পাচু। স্বামীর সঙ্গে মিলেমিশে দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্পে রমরমা ব্যবসা করছে সে। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে চারটি। ভাসানটেক বস্তিতে মাদকের ব্যবসা করছে মোর্শেদা। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৩টি। রূপনগরের দুয়ারীপাড়ায় মাদকের ব্যবসা করছে সালেহা বেগম। তার বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় মামলা রয়েছে ২২টি। কামরাঙ্গীরচরে মাদকের নারী গডফাদার শাহিনুর রহমান। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৫টি। কারওয়ান বাজার বস্তিতে মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে শিল্পী। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাতটি। সে বর্তমানে কারাবন্দি। কারওয়ান বাজারের আরেক নারী মাদক ব্যবসায়ী আকলিমা আক্তার। কাফরুলে মাদকের নারী গডফাদার জ্যোৎস্না বেগম। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির চন্দ্র সাগরদী গ্রামে। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। ভাসানটেকের ধামালকোট এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছে স্বপ্না। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে আটটি। স্বপ্না বর্তমানে জেলে আছে। কলাবাগান এলাকায় মাদকের গডফাদার শাহানাজ। তার বিরুদ্ধে মামলা সাতটি। ঢাকার আরেক আলোচিত নারী মাদক ব্যবসায়ী খুরশিদা বেগম ওরফে খুশি। স্বামীর নাম মিজান ওরফে গোল্ডেন মিজান। মিরপুরের কালাপানি, পল্লবী, নিউমার্কেট ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মাদক ব্যবসা করে সে। নিউমার্কেট এলাকার আরেক মাদক ব্যবসায়ী হাসি বেগম। হাজারীবাগের চিহ্নিত নারী মাদক গডফাদার হলো বীণা। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরায়। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১২টি। একই এলাকার আরেক নারী মাদক কারবারি হলো নূর নাহার নুন্নী। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে ১০টি। এ ছাড়া হাজারীবাগে মাদক ব্যবসা করছে জমিলা ওরফে জামেলা বেগম। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে পারুলী রানী। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে পাঁচটি। খিলক্ষেত এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মামলা ১৯টি। এ ছাড়া রাজধানীতে মাদকের নারী গডফাদার হলো ফারজানা ইসলাম স্বপ্না। উত্তর ধানমণ্ডিতে তার নিজের দামি ফ্ল্যাট রয়েছে। হাতিরপুলে টাইলসের ব্যবসার আড়ালে স্বপ্না দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার করে আসছে। আরও যারা নারী মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে- ঢাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইশতিয়াকের স্ত্রী পাখি বেগম, আসমা আহমেদ ডালিয়া, আনোয়ারা বেগম আনু, নার্গিস, পারভীন আক্তার, ইতি বেগম, মরিয়ম ওরফে কুট্টি, মিনা বেগম ও মাহমুদা খাতুন। এ ছাড়া কক্সবাজারের বাসিন্দা আয়েশা বেগম (৪২) বড় মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ‘বড় আম্মা’ বলে চেনে। তার সিন্ডিকেটের সদস্য হয়ে আরও যারা এ ব্যবসায় জড়িত তারা হলো- চট্টগ্রামের নূর আয়শা, বার্মার সুলতানা রাজিয়া, টেকনাফের মুন্নী তাহের ও মোহাম্মদ, নারায়ণগঞ্জের দেলোয়ার, টঙ্গীর আমিরুল, যাত্রাবাড়ীর বাবু, কুমিল্লার রবিন ও খোকন ও নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ার রিপন। নারী মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে কক্সবাজারের সানজিদা বেগম, তার বোন লায়লা বেগম, স্থানীয় বাবুল মেম্বারের স্ত্রী সালেহা বেগম, শামসুননাহার। তাদের ব্যবসাও মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক।

  • মাশরাফি-সাকিবের বিষয়ে এখনই মন্তব্য নয়: কাদের

    মাশরাফি-সাকিবের বিষয়ে এখনই মন্তব্য নয়: কাদের

    বাংলাদেশের দুই জাতীয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান রাজনীতি আসছেন কিনা বা জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা তা নিয়ে এ মুহূর্তে মন্তব্য করতে চান না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে কিছু চমক থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, ‘সাকিব আর মাশরাফি এদের ব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য এই মুহূর্তে করতে চাই না। সাকিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে নির্বাচন নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই।’

    সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে কিছু চমক থাকছে। তবে সেটা এখনও চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। অনেকের আবেদন আছে, আগ্রহ আছে। সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্র এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব— এমন ধরনের কিছু প্রার্থী থাকবেন। তবে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন, তাকে উইনেবল প্রার্থী হতে হবে।’

    ছাত্রলীগের নতুন কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের যাতে ভালো কমিটি হয়, এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেই খোঁজ-খবর করছেন। খুব শিগগিরই ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ করতে পারবো বলে আশা করছি। তবে দিনক্ষণ বলতে পারবো না। ছাত্রলীগের ভালো কমিটি আসবে। সবার প্রশংসা করার মতোই কমিটি আসবে।’

    গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের আচারণবিধি মেনেই আওয়ামী লীগ প্রচার-প্রচারণা চালাবে।

    রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ১৮ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়া হবে। আর ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় প্রার্থী বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বৈঠকের শুরুতে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু- স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে দলের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি প্রকাশিত ‘মহাকাশে বাংলাদেশ’ নামের পুস্তিকা ওবায়দুল কাদেরের হাতে তুলে দেন তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। এ সময় ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস এবং ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। এছাড়া আগামী ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

    ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. হাছান মাহমুদ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ড. শাম্মী আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

  • আ. লীগের মাঠ গরম, বিএনপি চুপ

    আ. লীগের মাঠ গরম, বিএনপি চুপ

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে পুরোনোদের সঙ্গে নতুনদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ছবিসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার বাসাবাড়ির দেয়ালসহ বিভিন্ন হাটবাজার, সড়কের দুই পাশে ও গাছে শোভা পাচ্ছে।

    প্রধান দুই দলের মধ্যে শুধু আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী ডজনখানেক। তাঁদের মধ্যে আবার নতুন মুখ চারজন। তবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলেরই প্রার্থী বাছাইয়ে চমক থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।

    নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণত এ আসনে যে দলের প্রতিনিধি জয়লাভ করেন, সেই দলই ক্ষমতায় বসেছে। তবে জিয়াউর রহমান এবং এইচ এম এরশাদের আমলে একবার করে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রয়াত জালাল উদ্দিন তালুকদার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।’ ৯৬ সালে তিনি আবারও জয়ী হন।’ ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে গোলাম রব্বানী, ’ ৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে আবদুল করিম আব্বাসী, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মোশতাক আহমেদ রুহী জয়ী হন।

    আওয়ামী লীগে অনেক প্রার্থী
    বর্তমান সাংসদ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছবি বিশ্বাস। তাঁকে অনেকে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই জানেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাঁর কিছু আত্মীয়স্বজন ও কয়েকজন অনুসারীর বিভিন্ন কাজ তাঁকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও নতুন করে কিছু গ্রামীণ সড়ক হলেও জেলার সঙ্গে একমাত্র কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা ২১ কিলোমিটার সড়কটি এখন রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। ছবি বিশ্বাস বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনকে আমি প্রশ্রয় দিই না। এলাকার বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ সরকারীকরণসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।’

    এ আসনে তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার ২০১২ সালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর গত দশম সংসদ নির্বাচনে তাঁর ছেলে শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুয়েল দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তিনি এবার মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।

    সাবেক সাংসদ ও আনন্দ মোহন কলেজের সাবেক ভিপি মোশতাক আহমেদও দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে তিনিও আশায় আছেন।

    এ ছাড়া প্রবীণদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য রেমন্ড আরেং, কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. ফকরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক তালুকদারও মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    আর নতুনদের মধ্যে সক্রিয় আছেন কলমাকান্দার কৈলাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সুলতান আহম্মদের ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা শিল্পপতি আতাউর রহমান। তিনি উঠোন বৈঠক থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশ করছেন।

    নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস ঝুমা তালুকদার। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই গণসংযোগে অংশ নিয়ে মাঠ গরম করে ফেলেছেন।

    বিএনপি নিষ্ক্রিয়
    দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে এ আসনে বিএনপি এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের পর থেকে নেতা-কর্মীদের নামে বিভিন্ন মামলা-হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দলীয় কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুরের পর বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলায় বিএনপির কার্যালয় নেই। কলমাকান্দারটিও বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর।

    এই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক সাংসদ গোলাম রব্বানী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মাজহারুল হক, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এজমল হোসেন। তাঁদের মধ্যে নতুন হিসেবে পরিচিত এজমল হোসেন।

    কায়সার কামাল বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আমার বিশ্বাস, দল থেকে আমাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

    জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিভিন্ন সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত, নির্যাতনসহ কারাভোগ করেছি। আশা করি, দলের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি দেখবেন।’

    অন্যান্য দল
    জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমদাদুল হক তালুকদারের ও কমিউনিস্ট পার্টি থেকে এবারও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দিবালোক সিংহের মনোনয়ন চাওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া এলডিপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বিএনপির সময়ের সাবেক হুইপ এম এ করিম আব্বাসীর মনোনয়ন চাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীকে ৭ জুলাই সংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ

    প্রধানমন্ত্রীকে ৭ জুলাই সংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ

    সম্প্রতি বিভিন্ন পুরস্কার এবং অর্জনের জন্য আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ। আগামী ৭ জুলাই দলের পক্ষ থেকে এই গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।

    ধানমন্ডিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি সংবর্ধনার বিষয়টি জানান।

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন অর্জন ও সাফল্যের জন্য দলের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। ৭ জুলাই এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণসহ বিভিন্ন অর্জনের কারণে এই গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হবে।

    আজকের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টি ঠিক করা হয়। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সামনে আরও চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকায় দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মহিবুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহম্মেদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • কী করবেন সোহেল তাজ, জানাবেন ঈদের পর

    কী করবেন সোহেল তাজ, জানাবেন ঈদের পর

    দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। তবে সোহেল তাজ দেশের বাইরে থাকলেও মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। কিছু কিছু স্ট্যাটাসে ছবিও জুড়ে দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া সোহেল তাজ। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে জানালেন ভবিষ্যতে তিনি কী করতে চান, তা আগামী ঈদুল ফিতরের পর জানাবেন। কী করতে চান তা প্রকাশ করবেন।

    বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে দেওয়া স্ট্যাটাসে সোহেল তাজ লিখেছেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরে ভাবছি আমার জন্মভূমি, মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু কী করা যায় এবং বিশেষ করে যুবসমাজের জন্য পজিটিভ কিছু করা যায় কি না। অনেক চিন্তাভাবনা করে একটি সমাধান পেয়েছি—ঈদের পর জানাব!’

    নিজের ভেরিফাইড পেজে সোহেল তাজ আরও বলেন, ‘অনেকেই কমেন্ট করছেন যে আমার দেশে আসা উচিত—আমি বেশির ভাগ সময়ই দেশে থাকি।’

    সোহেল তাজের এ স্ট্যাটাসে মুহূর্তেই হাজারো লাইক ও কমেন্ট পড়েছে। রাজনীতিবিমুখ এই মানুষটিকে রাজনীতিতে ফিরে আসতে অনুরোধ করেছেন অনেকে। তরুণ ও যুবকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় প্রয়াত চার নেতার একজন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের সন্তান সোহেল তাজ। ঈদের পর তিনি কী করেন তা জানতে ঈদ পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে।

  • ১৪ গোল খেয়েও শিরোপা জেতা যায়!

    ১৪ গোল খেয়েও শিরোপা জেতা যায়!

    বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই শিরোপা জয়ের লড়াই। এই লড়াইয়ে দেশকে আরাধ্য সাফল্য এনে দিতে সব খেলোয়াড়ই মরিয়া থাকেন। এতে রেফারিকেও বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। হাওয়ার্ড ওয়েব তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। স্পেন-নেদারল্যান্ডস ফাইনালে শশব্যস্ত সময় কেটেছে এই ইংলিশ রেফারির। তাঁকে স্রেফ কার্ডের পসরা সাজিয়ে বসতে হয়েছিল।

    স্পেনের খেলোয়াড়েরা দেখেছেন ৫টি হলুদ কার্ড। আর ডাচরা ৯টি—এর মধ্যে লাল কার্ড একটি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন ডাচ সেন্টার ব্যাক জন হেইটিঙ্গা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ফাইনালে সর্বোচ্চ ১৪টি কার্ড দেখার রেকর্ড গড়েছে ২০১০ ফাইনাল।

    ‘ডার বম্বার’কে মনে আছে? চিনতে না পারলে জার্ড মুলার নামটাই যথেষ্ট। তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির জার্সিতে তাঁর ক্যারিয়ার মাত্র ৮ বছরের। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই মুলার নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন জার্মানি তো বটেই, ফুটবল বিশ্বেরই অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে। সেটা বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য। ’৭০ মেক্সিকো টুর্নামেন্ট দিয়ে মুলারের অভিষেক বিশ্বকাপে। পশ্চিম জার্মানি জিততে না পারলেও মুলার জিতেছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতার (১০) পুরস্কার।

    ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হলেও মুলার আগের টুর্নামেন্টের মতো ভালো করতে পারেননি। ৪ গোল করেছিলেন। এতে একটি রেকর্ড হয়ে যায় মুলারের—বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো এই রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার তিন দশকেরও বেশি সময় টিকে ছিল মুলারের সেই ১৪ গোলের মাইলফলক।

    রোনালদোর সেই রেকর্ড ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানিতে ফিরিয়ে আনেন মিরোস্লাভ ক্লোসা। বিশ্বকাপে জার্মানির সাবেক এই স্ট্রাইকারের গোলসংখ্যা ১৬। ক্লোসার আরও একটি রেকর্ড এখনো কেউ ভাঙতে পারেনি। ২০০২ থেকে ২০১৪—এই চার বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডটাও ক্লোসার। ১৪ ম্যাচ।

    বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত মোট আটটি দেশ শিরোপা জিতেছে। তবে ব্রাজিলের মতো গোল পার্থক্য নিয়ে কোনো দলই শিরোপা জিততে পারেনি। ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ১১ গোল করেছিল ব্রাজিল। হজম করেছিল ৩ গোল অর্থাৎ ৮ গোল পার্থক্য। এরপর নকআউট পর্বে ৪ ম্যাচে ৭ গোল করার বিপরীতে হজম করেছে ১ গোল। অর্থাৎ নকআউট পর্বে ব্রাজিলের গোল–পার্থক্য ছিল ৬। সব মিলিয়ে ‍১৪ গোল পার্থক্য নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ‘বিগ ফিল’ লুই ফেলিপে স্কলারির দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো দলই এত বেশি গোল–পার্থক্য নিয়ে শিরোপা জিততে পারেনি।

    ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ফেরেঙ্ক পুসকাস-স্যান্ডর ককসিস-ন্যান্দর হিদেকুটিদের হাঙ্গেরিকে মনে রেখেছে সবাই। সেবার বিশ্বকাপের এক টুর্নামেন্টে রেকর্ড ২৭ গোল করেছিল হাঙ্গেরি। শিরোপা জয়ের আশায় ফাইনালে তাঁরা মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানির। কিন্তু হাঙ্গেরিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ‘মিরাকল অব বার্ন’-এর জন্ম দিয়েছিলেন ফ্রিৎজ ওয়াল্টার-ওটমার ওয়াল্টাররা।

    মজার ব্যাপার হলো, ফাইনালেও হারলেও পুসকাসদের সেই হাঙ্গেরিকে পশ্চিম জার্মানির তুলনায় সবাই বেশি মনে রেখেছ। তার অন্যতম কারণ বোধ হয় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড—বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে সর্বোচ্চ গোল হজমের রেকর্ডটা সেবারই গড়েছিল ফ্রিৎজ ওয়াল্টারদের পশ্চিম জার্মানি। তাঁরা হজম করেছিল ১৪ গোল। আবার এই পরিমাণ গোল করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ডও আছে। ১৯৬২ গারিঞ্চার ব্রাজিল কিংবা ১৯৮৬ ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা—এই দুই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে দুটি দলই ১৪ গোল করেছিল।

  • মেসি যেদিন মাতিয়েছিলেন ঢাকার মাঠ

    মেসি যেদিন মাতিয়েছিলেন ঢাকার মাঠ

    ঢাকায় পা রাখলেন লিওনেল মেসি। সে সময়কার হোটেল শেরাটনে ছিল আর্জেন্টাইন দলের আবাস। ফাইল ছবি

    যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। সেই অত্যাশ্চর্য গল্পের মতোই বাঁশির সুর বাজিয়ে সবাইকে নিজের দিকে টানেন লিওনেল মেসি। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি—এই পরিচয়টাই সবাইকে বশ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশের ফুটবল ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকলেও এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা গর্ব করতে পারেন একটি জায়গায়—বিশ্বসেরা মেসি যে খেলে গেছেন তাঁদের ঘরের আঙিনায়। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে অন্তত জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ভালোবাসে কতটা! দিনটি ছিল ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১! ক্যালেন্ডারের পাতায় মেসির বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার সেই দিনটি চিরস্মরণীয় লাখো-কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে।

    প্রায় সাত বছর হতে চলল। কিন্তু সে দিনটি হয়তো ভোলেননি অনেকেই। মেসির আর্জেন্টিনা ঢাকায় নামার পরদিনই, ৬ সেপ্টেম্বর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সেই প্রীতি ম্যাচটিতে দর্শক উপচে না পড়লেও গ্যালারি ছিল ভরা। টিকিটের চড়া মূল্যের কারণে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস ফুটবল ম্যাচটিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতির হার কম থাকলেও ঢাকায় এসেছেন মেসি, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলছেন—এই তৃপ্তিই উদ্বেলিত ও আনন্দিত করেছিল দেশের মানুষকে। টিকিটের চড়া মূল্য না ধরে আসলে উপায় ছিল না আয়োজক বাফুফের। বাংলাদেশের মানুষের কাছে মেসি যতটা প্রিয়, সে তুলনায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা যে সীমিত। মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার দর্শকের স্টেডিয়ামে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই যে টিকিটের চড়া মূল্য প্রয়োজন ছিল

    ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সে ম্যাচে মেসি। ফাইল ছবি

    মাঠে যাঁরা সেদিন এসেছিলেন, তাঁদের পয়সা উশুল হয়েছিল ভালোমতোই। মেসি প্রথম থেকেই খেলেছিলেন। দারুণ খেলেছিলেন। একপর্যায়ে তো নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গোলের খুব কাছাকাছিই চলে গিয়েছিলেন। নাইজেরিয়ান অধিনায়ক ওবি মিকেলের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুতগতিতে একে একে ছিটকে ফেলেছিলেন পাঁচজনকে। শেষ পর্যন্ত তাঁর বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটটি জালে জড়ালে তা হতে পারত তাঁর সেরা গোলগুলোর একটি। কিন্তু সেটি হয়নি। কেবল মেসির ওই দৌড় দেখেই মাঠের দর্শকেরা সেদিন ভুলে গিয়েছিলেন টিকিটের অগ্নিমূল্য!

    মেসি যেদিন ঢাকায় নামলেন, সে দিনটি ছিল অন্য রকম। গোটা ঢাকায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তার চাদর। কিন্তু মেসিরা বিমানবন্দর থেকে বের হতেই পরিচিত হলেন এ দেশের মানুষের ভালোবাসার প্রতি। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত তাঁর আসার পথে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে ছিল মানুষ—মেসিকে এক নজর দেখতেই। আর্জেন্টিনার সেই দলটিতে ছিলেন সার্জিও আগুয়েরো, অ্যাঙ্গলে ডি মারিয়া, সার্জিও রোমেরো ও গঞ্জালো হিগুয়েইন কিংবা হাভিয়ের মাচেরানোর মতো তারকারা। কিন্তু মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন ওই মেসিই। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা জনতার লক্ষ্যও ছিল তাই, যদি বাসের জানালায় টানানো পর্দার ফাঁক গলে একটিবারের মতো দেখা যায় স্বপ্নের তারকাকে।

    নাইজেরিয়াকে সে ম্যাচে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তিন গোলের দুটিতেই ছিল মেসির অবদান। গোল করেছিলেন হিগুয়েইন ও ডি মারিয়া। বাকি গোলটি অবশ্য ছিল আত্মঘাতী। নাইজেরিয়ার পক্ষে একমাত্র গোলটি ছিল চিনেদু ওবাসির। মেসি সেদিন পুরো ম্যাচ খেলেননি। দ্বিতীয়ার্ধের একটা পর্যায়ে তুলে নেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে তিনি মাতিয়েছিলেন আপন মহিমায়। সেদিন আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচটি পুরোপুরিই হয়ে উঠেছিল মেসিময়।

    বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে অতীতে অনেক তারকাই খেলেছেন, আলো ছড়িয়েছেন। কিন্তু ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ওই রাতে মেসি দর্শকদের নিয়ে গিয়েছিলেন স্বপ্নের জগতে, যে জগতের সঙ্গে ঢাকার দর্শকদের পরিচয় ছিল না তেমন একটা।