Author: banglarmukh official

  • বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী আজ

    বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী আজ

    হুজাইফা রহমানঃ

    আজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী। কবি’র স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লার ত্রিশালে জাতীয়ভাবে তিনদিনব্যাপী নজরুল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ্যাডঃ আবদুল হামিদ খান। বাংলাদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে নজরুল জন্মজয়ন্তী। এছাড়া কাজী নজরুলের জন্মভূমি ভারতের আসানসোলের চুরুলিয়ায় তিনদিনব্যাপী নজরুল মেলার আয়োজন করেছে। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। বাঙালি মনীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন নজরুল। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি । পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ।

    যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে – কাজেই “বিদ্রোহী কবি”, তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে। নজরুল এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মীয়। স্থানীয় এক মসজিদে সম্মানিত মুয়াযযিন হিসেবেও কাজ করেছিলেন। কৈশোরে বিভিন্ন থিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে যেয়ে তিনি কবিতা, নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এসময় তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। এসময় তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। প্রকাশ করেন বিদ্রোহী এবং ভাঙার গানের মতো কবিতা; ধূমকেতুর মতো সাময়িকী। জেলে বন্দী হলে পর লিখেন রাজবন্দীর জবানবন্দী , এই সব সাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল সুস্পষ্ট। ধার্মিক মুসলিম সমাজ এবং অবহেলিত ভারতীয় জনগণের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তার সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা, মুক্তি এবং বিদ্রোহ। ধর্মীয় লিঙ্গভেদের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন।

    ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত। বাংলা কাব্যে তিনি এক নতুন ধারার জন্ম দেন। এটি হল ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল , এর পাশাপাশি তিনি অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন। নজরুল প্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং অধিকাংশে সুরারোপ করেছেন যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা “নজরুল গীতি” নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয়। মধ্যবয়সে তিনি পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন। এসময় তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

  • নয় জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১

    নয় জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১

    দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে দেশের ৯ জেলায় পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ঢাকা, ঝিনাইদহ, শেরপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, গাইবান্ধা ও সাতক্ষীরায় এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে।

    ঢাকা
    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বিজি প্রেস হাইস্কুল মাঠ এলাকায় বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কামরুল ইসলামনামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

    র‌্যাবের দাবি, নিহত কামরুল তেজগাঁও রেল লাইন বস্তি এবং মহাখালী সাততলা বস্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন থানায় ১৫টির বেশি মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র মামলা রয়েছে।

    র‌্যাব আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া দুই পক্ষের গুলি বিনিময়কালে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

    তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার (এসআই) মো. মিজানুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামরুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত পৌনে ২টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কক্সবাজার 
    জেলার রামুতে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বেয়াই আকতার কামাল (৪১) নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও পুলিশের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।

    শুক্রবার ভোরে উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের দুই নম্বর ব্রিজ এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী সিকদার।

    নিহত কামাল এমপি বদির বড় বোন শামসুনাহারের দেবর এবং টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

    ওসি আরও জানান, ভোরে ইয়াবার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কামালের মরদেহ খুঁজে পায়। ঘটনাস্থল থেকে তিন হাজার পিস ইয়াবা, দেশীয় তৈরি এলজি ও চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    এদিকে, পুলিশ মহেশখালী থানা জানায়, জেলার মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে মোস্তাক আহামদ (৩৭) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। নিহত মোস্তাক আহামদ ওই ইউনিয়নের মুন্সিরড়েইল গ্রামের আনোয়ার পাশার ছেলে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড়মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গাপাড়া পাড়াতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপের গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী মোস্তাকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় চারটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, সাত রাউন্ড গুলি ও ৩০ রাউন্ড গুলি খোসার উদ্ধার করা হয়েছে।

    কুমিল্লা
    জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মহিষমারা এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে কামাল হোসেন প্রকাশ ফেন্সি কামাল (৫১) নামের একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত কামাল তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

    বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার দে জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ রাউন্ড কার্তুজসহ একটি পাইপগান ও ৫০ কেজি গাঁজা। নিহত ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বুড়িচং ও কোতয়ালী মডেল থানায় ১২টির অধিক মাদকের মামলা রয়েছে।

    ময়মনসিংহ
    সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রাজন নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থলে থেকে ৪শ’ পিস ইয়াবা, একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশের দাবি, নিহত রাজন এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় আট থেকে নয়টি মাদকদ্রব্য মামলা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর পুরোহিত পাড়া রেলওয়ে কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বন্দুকযুদ্ধে আহত ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান।

    সাতক্ষীরা
    জেলার কলারোয়া উপজেলায় বন্দুকযুদ্ধে ইউনুস আলী দালাল নামের একজন নিহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর-বড়ালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুস উপজেলার দক্ষিণ ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল্লাহ দালালের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর-বড়ালি সীমান্তে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে ইউনুস নিহত হয়। বাহিনীর দাবি, সে একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।

    ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শ্যুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি ও ৭০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে বলেও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    নেত্রকোনা 
    সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মনাং গ্রামে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত এবং তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

    এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. ফখরুজ্জামান জুয়েল জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে মনাং গ্রামে  মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

    অভিযানে আধা কেজি হেরোইন, ৩ হাজারের অধিক ইয়াবা ও দু’টি পাইপগান উদ্ধার করা হয়। তবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

    ঝিনাইদহ
    জেলার কালীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শামীম হোসেন নামের একজন মাদকব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় চার পুলিশ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জের সুগার মিল এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ৫০০ পিস ইয়াবা ও ১৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ীর নিহত হওয়ার কথা জানান।

    গাইবান্ধা
    জেলার ফুলছড়ি উপজেলার পুলবন্দি ফলিয়া ব্রিজ এলাকায় শুক্রবার ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জুয়েল মিয়া (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। জুয়েল মিয়া সদর উপজেলার ব্রিজ রোড মিস্ত্রি পাড়া এলাকার মৃত নছিম উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ জানান, জুয়েল মিয়া একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    শেরপুর
    শুক্রবার ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালু ডাকাত নামের একজন নিহত হয়েছেন। এসময় উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কালু ডাকাত মাদক ব্যবসার পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন।

  • পলাশপুরে ৩০ মাদক ব্যবসায়ি অপ্রতিরোধ্য

    পলাশপুরে ৩০ মাদক ব্যবসায়ি অপ্রতিরোধ্য

    ডেস্ক রিপোর্ট :

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানের মধ্যেও বরিশাল শহরের পলাশপুর এলাকায় চলছে বেপরোয়া মাদক বাণিজ্য। সংশ্লিষ্ট কাউনিয়া থানা পুলিশ ও র‌্যাবের ধারাবাহিক টহলের পরেও মাদক বিক্রেতারা দমছে না। বিশেষ করে মাদক নিয়ে স্বামী পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরে একই ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন স্ত্রী। তাছাড়া এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা দাবিদারও একাধিক ব্যক্তি বিশেষ রয়েছেন মাদক বিক্রিতে জড়িত। পাশপাশি তাদের পরিবার পরিজনও সক্রিয় আছে বলে শোনা যাচ্ছে।

    এক্ষেত্রে বলা চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমাম অভিযানের মধ্যে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়িরা বেশিমাত্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে- পলাশপুরের বৌ বাজার লাগোয়া ব্রিজের ঢালের বাসিন্দা ইশাদ মাদকের সাথে জড়িত।

    সাম্প্রতিকালে ইশাদ বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু জামিনে মুক্ত হয়ে ফের একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে কোন কোন পরিবারে স্বামী স্ত্রীসহ পলাশপুরে অন্তত ৩০ মাদক ব্যবসায়ি এখনও সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা গাঁজা কালাম সাম্প্রতিকালে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও এখন এই ব্যবসায় নেমেছেন তার স্ত্রী। মূলত স্বামী কারাগারে যাওয়ার পরেই তিনি মাদক বিক্রিতে সক্রিয় হন বলে শোনা গেছে।

    তাছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন- ৬ নম্বর গুচ্ছগ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে মুরাদ, একই এলাকার মিন্টু, বজলু মিয়ার ছেলে কালু, ৫ নম্বর গুচ্ছগ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে আসাদ, ফেন্সি আসলামের ছেলে আল আমিন, জাহাঙ্গীরের ছেলে সুমন, মাওলা ও তার স্ত্রী, খুর সুমন ও তার স্ত্রী রুমা বেগম, নুরু ও তার স্ত্রী তাহমিনা, বৌ বাজার এলাকার ইসমাইল মিয়ার ছেলে মনির, মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আলম মোল্লা, মানিক মোল্লা ও তার স্ত্রী, সেলিম মোল্লার ছেলে রানা মোল্লা, সালাম ওরফে মাদকের ডিলার সালামের ছেলে রাসেল, বাসু মিয়ার ছেলে রিপন, বালা গফফারের ছেলে সুমন, জয়ফুল বেগম, মো. হানিফ, ডিস স্যামল, আসলাম, উত্তরা হাউজিং এলাকার আল আমিন, রাসেল, গালপোড়া আবুল, কাজীর গোরস্তান এলাকার জাহিদ ও সাজু খার ছেলে ইমাম। এই ইমামও ওই এলাকায় মাদকের হোলসেলার হিসেবে সমাধিক পরিচিত। কিন্তু এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান সাড়াশি অভিযানেও তাদের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে।

    স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন- এই ৩০ ব্যবসায়িই এখনও সক্রিয় থেকে মাদক বিক্রি করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে তাদের নেতৃত্বে এলাকায় একধরনের হাট বসছে। সংশ্লিষ্ট কাউনিয়া থানা পুলিশ বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েও তাদের বাগে আনতে পারছে না। আবার কাউকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক বিক্রিতে জড়িয়ে পড়ছেন।

    এমতাবস্থায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র নাসির উদ্দিন মল্লিকের ভাষ্য হচ্ছে- ব্যবসায়িদের তালিকা তৈরি করে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। তারা যে দলের লোক, যত ক্ষমতাধর ব্যক্তি জড়িত হোক না কেন তাদের গ্রেপ্তার করে আইনে মুখোমুখি করা হবে।’

  • বরিশালে পুলিশের তালিকায় ২৬৭ মাদক ব্যবসায়ী:ক্রসফায়ার আতঙ্কে পলাতক অনেকেই

    বরিশালে পুলিশের তালিকায় ২৬৭ মাদক ব্যবসায়ী:ক্রসফায়ার আতঙ্কে পলাতক অনেকেই

    ডেস্ক রিপোর্ট :

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরুর পর অনেক মাদক ব্যবসায়ী এলাকা ছাড়ছে। বিশেষ করে নগরীর মাদক জোনখ্যাত রসূলপুর, কেডিসি বস্তি, আমানতগঞ্জ, গোড়াচাঁদ দাস রোড ও বগুড়া রোডের মুন্সির গ্যারেজ, মরকখোলার পুল, নতুনবাজার, বৈদ্যপাড়া, কাজীপাড়া, বিসিক, ভাটিখানা, সিএন্ডবি ১নং পুল, হিরণনগর, রুপাতলী, ফিসারি রোড, মথুরানাথ পাবলিক স্কুল সড়ক, সাগরদী বাজার, শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেন, ফকিরবাড়ি রোড ও নথুল্লাবাদের জিয়া সড়কের অনেককেই আগের মতো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে গোপনে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বরিশাল থেকে দূরের জেলাগুলোয়।

    পাঁচ দিনে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই পলাতক, দেখা মিলছে না। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের ঘরে এখন ‘ক্রসফায়ার আতঙ্ক’।

    স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে, শায়েস্তাবাদ এলাকায় ডাকাত সরদার আবুল কাশেম ওরফে ডাকাত কাশেম কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এলাকা ছাড়তে শুরু করে চিহ্নিতরা।

    একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীরা নগরীতে থাকলেও নিয়ন্ত্রিত গতিবিধিতে রয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রথম রমজান থেকে পরিকল্পিতভাবেই মাদক নির্মূলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে ৫ দিনে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, দেহজীবী ও খদ্দেরসহ গ্রেফতার হয়েছে ৬৫ জন।

    এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ১টি পাইপগান, ১টি চাপাতি, ১টি রামদা ও ৮ রাউন্ড খালি কার্তুজ। মঙ্গলবার রাতে নগরীর কেডিসি এবং ঈদগাহ বস্তিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালায় মেট্রোপলিটনের ৪ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। ঈদ উপলক্ষে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অপতৎপরতা রোধেও এ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

    মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মহানগরে মাদক ব্যবসা পরিচালনাকারী ২৬৭ জনের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালে খুচরা ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী মিলিয়ে এর সংখ্যা ৩৫০। এদের মধ্যে অনেকেই নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। যত অভিযানই হোক না কেন, তাদের পুলিশ বা র‌্যাব কেউই গ্রেফতার করে না।

    তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, মাদকের বিষয়ে কারও সঙ্গেই আপস নয়। বরিশাল নগরীতে ২৬৭ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা হয়েছে। তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীসহ মাদকে সম্পৃক্ত পুলিশ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক ও নৌরুটে বরিশালে মাদক প্রবেশ করে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকে নৌপথ। চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর হয়ে নৌরুটে আসে বরিশালের ব্যবসায়ীদের হাতে। প্রাথমিক অবস্থায় নৌপথের মাদক এসে রসূলপুর, কেডিসি বস্তি, নতুনবাজার বস্তি, হিরণনগর ও মোহাম্মদপুরে রাখা হয়। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন কৌশলে নগরীর খুচরা বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছানো হয়। এসব মাদকদ্রব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রয় হয়ে থাকে ইয়াবা।

    এছাড়াও বরিশালের আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও গৌরনদীতে নদীপথে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বরিশাল নগরীতে সুরক্ষা পথ দিয়ে চালান প্রবেশ করে। আর এই নগরীর চিহ্নিত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকেই পাইকারি বা খুচরা দরে এসব মাদক বিক্রি হয়ে থাকে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, কবে নাগাদ এই অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে তার নির্ধারিত তারিখ নেই। তবে বরিশাল নগরী থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের মূল উৎপাটন পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

    তিনি বলেন, নগরীতে মাদকের প্রবেশ রুট ও বিস্তার নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করেই একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সে অনুসারে এগোচ্ছি আমরা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, নগরীর পুরনো মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন কিছু ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সবকিছুই তারা নজরদারিতে রাখছেন।

  • শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ প্রিয়াঙ্কা

    শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ প্রিয়াঙ্কা

    রোহিঙ্গা শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার সুযোগ দেয়ায় জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংস্থাটির শুভেচ্ছা দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

    বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এ কৃতজ্ঞতা জানান প্রিয়াঙ্কা। এ সময় রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য সোচ্চার হতে জাতিসংঘের হয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি আবেদন রেখে প্রিয়াঙ্কা বলেন, বিশ্বের কোনো শিশুরই যেন রোহিঙ্গা শিশুদের মতো অবস্থা না হয়।

    Priyanka-PM-3

    কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে ফিরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের এ বার্তা দেন বলিউড অভিনেত্রী ও শিশু অধিকারে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান কর্মী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মানবেতর জীবনযাপনে বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ রোহিঙ্গা শিশুর জন্মের মতো জটিল সংকট নিরসনে বিশ্ববাসীর জোরালো অবস্থান প্রয়োজন।

    বাংলাদেশে ৪ দিনের সফর শেষে আজই ঢাকা ছাড়বেন প্রিয়াঙ্কা।

  • টেম্পোচালক থেকে ইয়াবায় কোটিপতি ফারুক

    টেম্পোচালক থেকে ইয়াবায় কোটিপতি ফারুক

    ডেস্ক রিপোর্ট :

    ২০০৮ সালে ওমান থেকে ফিরে চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাটে টেম্পো চালানো শুরু করেন ফারুক। ২০১৩ সালে হঠাৎ যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান তিনি। টেম্পোচালক থেকে রাতারাতি বনে যান কোটিপতি।

    গত মঙ্গলবার (২২ মে) রাতে ফেনীর দৌলতপুরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ফারুক।

    নিহত ফারুকের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামে। তার পিতা অলি আহমদ কালুরঘাট ব্রিজ এলাকায় একসময় ঠেলাগাড়ি চালাতেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছেন। ফারুক অলি আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ওমানে গিয়ে সেখানে মাত্র আট মাস থেকে দেশে ফিরে আসেন ফারুক। ২০০৮ সালের দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট রুটে টেম্পো চালানো শুরু করেন। এরপর কিছুদিন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি আজিয়াটায় (রবি) গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু ২০১৩ সালের দিকে হঠাৎ যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান তিনি। চাকরি ছেড়ে নিজেই গাড়ি কেনেন।

    নির্ভযোগ্য সূত্র জানায়, কালুরঘাট এলাকায় টেম্পো চালানোর সময় সামশু (ওরফে সামশু মামা) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরেই ২০১৩ সালে ফারুক মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে দ্রুত পরিবর্তন ঘুরতে থাকে ফরুকের ভাগ্যের চাকা। প্রথমে গাড়ি কেনেন। একই সময়ে সফিরচর নামক এলাকার ছায়েরা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। অল্প সময়ের মধ্যে বিয়ে দেন তার দুই বোনকেও। এক ভাই মারুফকে সৌদি আরব ও অপর ভাই জহিরকে ওমানে পাঠান।

    ফারুকের গ্রামের বাড়ির সূত্রে জানা গেছে, তিনি গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করে আসছিলেন। মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসলেও কারো সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক ছিল না। দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও নিজস্ব গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করা ছাড়াও বিলাসী জীবনযাপন করতেন তিনি।

    গ্রামে একটি টিনশেডের বাড়ি নির্মাণ ছাড়া কিছু না করলেও চট্টগ্রাম শহরে ফারুক বেশকিছু জায়গা-জমি কিনেছেন এমন তথ্য মিলেছে। বর্তমানে তিনি দুটি ট্রাক ও একটি প্রাইভেটকারের মালিক। সঙ্গে ব্যাংকে বিপুল অংকের টাকা। সম্প্রতি তিনি বাকলিয়া এলাকায় একটি জায়গাও ক্রয় করেন বলে জানা গেছে। ফারুক চট্টগ্রাম নগরীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

    র‌্যাবের সিনিয়র এএসপি মিমতানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফারুক মাঝারি মানের ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে।’

    তিনি জানান, গত ২২ মে রাতে ফেনীর দৌলতপুরে র‌্যাবের টহল দল চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকারকে থামার সঙ্কেত দেয়। তখন গাড়ি না থামিয়ে ভেতর থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে জানা যায় তার নাম মো. ফারুক।

    এসময় তার কাছে থাকা ২২ হাজার পিস ইয়াবা, একটি ওয়ান শুটারগান, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড কার্তুজের খোসা ও প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান এএসপি মিমতানুর।

  • বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন খালেকের স্ত্রী

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন খালেকের স্ত্রী

    ডেস্ক রিপোর্ট :

    খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ছেড়ে দেয়া বাগেরহাট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও মেয়রের স্ত্রী হাবিবুন নাহার।

    এই আসনে চিত্রনায়ক শাকিল খান স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা জমা না দেয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুন নাহারের আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলো না।

    বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রুহুল আনি মল্লিক জানান, বাগেরহাট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এদিন মেয়রের স্ত্রী হাবিবুন নাহার ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন তিনি।

    বাগেরহাট জেলা নির্বাচন অফিসের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফরিদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান তালুকদারের হাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুন নাহার বৃহস্পতিবার দুপুরে মনোয়নয়পত্র জমা দেন।

    khulna

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজ্জাম্মেল হোসেন এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু, মীর শওকাত আলী বাদশা এমপি, বাগেরহাট পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ নেত্রী তালুকদার রিনা সুলতানা ও জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল বাকী প্রমুখ।

    প্রসঙ্গত, এই আসনে তালুকদার আব্দুল খালেক সংসদ সদস্য ছিলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে তার সংসদ সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন।

    এরপর স্পিকার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলে ১০ এপ্রিল আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সেই শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয় তালুকদার আব্দুল খালেকের স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে।

    উপ-নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৪ মে) মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময়, ২৭ মে বাছাই এবং ৩ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। আর ভোট গ্রহণ হবে ২৬ জুন।

  • টেলিফোনে মাহমুদ আব্বাসের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    টেলিফোনে মাহমুদ আব্বাসের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে টেলিফোনে কথা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থ প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

  • ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করে আতঙ্কে কর্মীরা

    ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করে আতঙ্কে কর্মীরা

    ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করে চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন কর্মীরা। বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসানের বিরুদ্ধে গত বছর ৬৫টি মামলা করেন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মামলা করার পর থেকে তাদের চাকরিচ্যুতির হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    চাকরিচ্যুতির হুমকিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মামলা দায়ের করা কর্মীরা। তারা বাংলার মুখ ২৪ ডট কমকে বলেন, ‘এখন চাকরিচ্যুত হলে আমরা কীভাবে চলব, পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় যাব? শেষমেষ না খেয়ে মরা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় থাকবে না।’

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান মামলা দায়েরকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা ওয়ার্কার পার্টিসিপেটের টাকা চাও। এটা কোর্ট (আদালত) নির্ধারণ করবে; তোমরা পাবা কি পাবা না? এর পরের স্টেপটা কী? কোর্ট যদি বলে দিয়ে দিতে আমরা দিয়ে দেব। আর যদি না বলে, আমরা দেব না। আমার ধারণা তোমরা এতে জিতে যাবা। কারণ কোর্ট সবসময় ওয়ার্কারদের পক্ষে থাকে। কেসের (মামলা) ভেতরে গেলে একটা রায় হবে। রায় হওয়ার পরের দিন কী হবে? যারা কেস করেছে তাদের আমরা আর রাখব না। এটা পরিষ্কার সিদ্ধান্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘লোয়ার কোর্টের (নিম্ন আদালত) এসব ছোটখাট আদেশ দিয়ে লাফালাফি করার কিছু নাই। এটা উচ্চ আদালতে গিয়ে স্থগিত হয়ে যাবে। এই ঝামেলার মধ্যে না যাওয়ার জন্য তোমাদের আবারও অনুরোধ করছি। মামলার রায় পেলে তোমরা মনে করছ, এইটা সব চাইতে সিকিউরড (নিরাপদ)। কিন্তু এটা সব চাইতে আন-সিকিউরড (অনিরাপদ)। আমরা চাচ্ছি এটা দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। যারা কেস করবে তাদের নিশ্চিত বিদায় নিতে হবে। এটা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত।’

    ‘হুমকি’ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘যারা মামলা করেছেন তাদের তো কোনো হুমকি দেয়া হয়নি। তারা পাওনা টাকার জন্য মামলা করেছেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। আমরা তো আদালতের বাইরে নই। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা মাথা পেতে নেব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চার মাসের বেতন দিয়ে যে কাউকেই চাকরিচ্যুত করা যায়, আইনে এমন বিধান রয়েছে। এতে হুমকি দেয়ার কী আছে?’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মামলার এক বাদী  বলেন, বকেয়া টাকা পাওয়ার জন্য আমরা আদালতে মামলা করেছি। এটা তো আমাদের প্রাপ্য অধিকার। মামলা করে যদি চাকরি হারাতে হয়, তা হলে আমরা কার কাছে যাব? আদালত তো মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল।’

    তিনি বলেন, জীবনের মাঝপথে এসে চাকরি হারালে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, কীভাবে চালাব পরিবার? আমাদের তো না খেয়ে মরতে হবে!

    গ্রামীণ টেলিকমে কর্মরত অপর এক কর্মী বলেন, ‘বর্তমানে গ্রামীণ টেলিকমে স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১২০। এছাড়া ট্যালেন্ট সেন্ট্রিক নামক একটি থার্ড পার্টির ২৫ কর্মী এখানে কার্মরত আছেন। বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী পদে থার্ড পার্টি বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ দেয়া যায় না। কিন্তু সেটি মানা হচ্ছে না। এ কারণে আমরা আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত।’

    ‘যে কোনো সময় আমাদের সরিয়ে থার্ড পার্টি থেকে কর্মী এনে কার্যক্রম শুরু করবে গ্রামীণ টেলিকম’- শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ বলেন, ‘যারা মামলা করেছেন তাদের চাকরিচ্যুত করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    প্রসঙ্গত, বকেয়া পরিশোধ না করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ৬৫টি মামলা দায়ের করেন তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকমের বর্তমান কর্মীরা। গত বছরের মার্চে তারা ঢাকার শ্রম আদালতে মামলাগুলো করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ১৪ কর্মী আরও ১৪টি মামলা করেন পাওনা টাকার জন্য।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণ টেলিফোনে এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পল্লীফোন ছাড়াও নকিয়া ও হুয়াওয়ের সার্ভিস দিয়ে থাকে।

    প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফা হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এ মুনাফা কর্মীদের পরিশোধ করা হয়নি। গত দশকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ২১ হাজার কোটি টাকার পাঁচ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ কোটি টাকা কর্মী ও সরকারকে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই অর্থের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের পরিশোধ, ১০ শতাংশ সরকার এবং ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ ফান্ডে জমা দেয়ার কথা।

    মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিবাদী করা হয়েছে।

    দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  • ৩৬ বছরের যুবকের সাথে ৮ বছরের শিশুর বিয়ে, এলাকায় তোলপাড়

    ৩৬ বছরের যুবকের সাথে ৮ বছরের শিশুর বিয়ে, এলাকায় তোলপাড়

    সানজিদ আলম সিফাত :

    ঝিনাইদহে ৩৬ বছরের যুবকের সাথে ৮ বছরের শিশুর বিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই আজব বিয়ের ঘটনা ফাঁস হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিয়ের সাথে জড়িতরা। ইতিমধ্যে বাল্য বিয়েতে সহায়তার দায়ে ঝিনাইদহ নোটারি পাবলিকের আইনজীবী এড জাহাঙ্গীর কবির ও এড মীর আক্কাস আলীকে শোকজ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়।

    ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের মোশারফ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনির ছাত্রী মাসুরা খাতুনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে কোরাপাড়া গ্রামে জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে। শিশু মাসুরা খাতুন নতুন কোর্টপাড়ার ওমর আলীর মেয়ে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর হোসেন কোরাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। সে পেশায় বাসের হেলপার।

    এদিকে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীরের হস্তক্ষেপে ২য় শ্রেনির ছাত্রী মাছুরাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। মাছুরার মা শাপলা খাতুন জানান, তার মেয়ের জন্ম তারিখ ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এতে তার বয়স হচ্ছে ৮ বছর। তিনি আরও জানান মেয়ে লেখা পড়ায় ভালো না। তাই বিয়ের কাবিন করে রেখেছিলাম। ১৬ বছর পূর্ন হলে তখন জামাই বাড়ি উঠায়ে দেব। পাগলাকানাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের দেওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদেও মাছুরার বয়স সাড়ে ৮ বছর। তবে মেয়ের পিতা ওমর আলীর হলফনামায় মেয়ের বয়স ৮ বছরের কথা বলা হয়েছে। এদিকে মাছুরার পিতা ওমর আলী ৩ জন সাক্ষির উপস্থিতিতে এক হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, আইনসিদ্ধ না হওয়ায় তিনি এই বিয়ে বাতিল ও ছেলে পক্ষের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

    খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিয়ে হওয়ার পর বাসের হেলপারি শেষে নতুন বর জাহাঙ্গীর প্রতি রাতেই শ্বশুর বাড়ি এসে রাত যাপন করতো। এতে প্রতিবেশিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

    এদিকে বয়স গোপন করে নোটারী পাবলিক করায় জনমনে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সন্দেহ ও প্রশ্ন উঠেছে। কতিপয় আইনজীবী ও তাদের নিয়োজিত মহুরীরা এই অসৎ কাজের সাথে ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে পড়ছে। বড় অংকের টাকা নিয়ে তারা এধরনের জাল জোচ্চুরিতে লিপ্ত হচ্ছে। যার জলন্ত প্রমান হচ্ছে ৮ বছরের শিশু মাছুরার বিয়ে। এ ব্যাপারে মোশারফ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, তাদের ছাত্রী মাছুরার বিয়ে হয়ে গেছে বলে আমরাও জানতে পেরেছি। তবে এটা অন্যায় কাজ হয়েছে।