Author: banglarmukh official

  • সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু আওয়ামী লীগ

    সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু আওয়ামী লীগ

    কিছু ভুলত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘুদের জন্য আওয়ামী লীগই সবচেয়ে ভালো বন্ধু বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার ঢাকায় পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এসময় কাদের বলেন, ‘আমাদের ভুলত্রুটি আছে। কিন্তু আমাদের চেয়ে বেটার বন্ধু মাইনরিটিদের এ দেশে আর কেউ নেই। শেখ হাসিনার চেয়ে বড় বন্ধু, আপনজন এই দেশে কি আপনাদের আর কেউ আছে? ছোটখাটো কিছু বিষয়ে মান-অভিমান করে গুটিয়ে থাকলে আপনাদের, আমাদের শত্রুরাই উপকৃত হবে।’

    এসময় তিনি দেশের হিন্দু ধর্মালম্বীদের সংখ্যালঘু না ভেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে আপনাদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে সেটা ওই সরকারের কেন্দ্রীয় পলিসির অংশ। আমাদের আমলে যে ছোট-খাটো ঘটনা ঘটেছে সেটা শেখ হাসিনা সরকারের পলিসির অংশ না। আওয়ামী লীগেও দুর্বৃত্ত আছে। কেউ কোনো অন্যায় করলে আমি তাদের দুর্বৃত্ত বলি। জমি, বাড়ি, সম্পত্তি দখল এ ব্যাপারে আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স। আপনাদের জন্য বিকল্প আমরাই। আমাদের বিকল্প পাকিস্তানের দোসররা। ভুল করে পাকিস্তানের দোসরদের আমাদের বিকল্প ভাববেন না। কেউ হুমকি দিলে শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন। বাড়ির সামনে এসে দুই-তিন জন হুমকি দিলে পালিয়ে চলে গেলে হবে না।

  • অভ্যুত্থান চেষ্টাকালে’ গুলিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সালমান নিহত

    অভ্যুত্থান চেষ্টাকালে’ গুলিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সালমান নিহত

    সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বেশ কিছুদিন ধরে জনসম্মুখে অনুপস্থিত ইরানের বেশ কিছু গণমাধ্যমকে বিস্মিত করেছে। তাদের ধারণা, গত মাসে এক অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় তিনি নিহত হন। খবর স্পুটনিক নিউজের।

    ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে এক হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলিতে সৌদি যুবরাজ সালমান নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে আরব রাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তার কাছে আসা গোপন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইরানের কাইহান পত্রিকা দাবি করছে, সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ সালমানের শরীরে দু’টি বুলেট আঘাত হানে। তিনি হয়তো মারা গেছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

    এদিকে, প্রেস টিভি বেশ কিছু বিষয়ের উপর নজর দিয়ে জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এপ্রিলের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি সফরে গেলে তখনও যুবরাজ সালমানকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি।

    প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে যুবরাজ সালমানকে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু রিয়াদে ওই গোলাগুলির পর গত ২৭ দিন ধরে তাকে আর গণমাধ্যম দেখা যাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ সময় যুবরাজ সালমানের এমন অনুপস্থিতি তার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

  • প্রশ্নবোধক সিরিজ

    প্রশ্নবোধক সিরিজ

    সিরিজঃ প্রশ্নবোধক সিরিজ

    এপিসোডঃ দেশ

    নির্মাতাঃ শুভ্র শিশির ও নাহিদ হাসান

    প্রযোজনা প্রতিষ্ঠাঃ আমাদের সিনেমা

    ব্যাপ্তিঃ ৪.৩২ সেকেন্ড

    গণমাধ্যম এক অদ্ভুত প্রতিবাদী হাতিয়ার; এক প্রেরণাদায়ী মন্ত্র। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার’ এর ভূমিকা আমরা সবাই জানি। এই মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির যুগে বেতার এখন আমাদের কাছে অচেনা। টেলিভিশনকে ও ছাড়িয়ে আমাদের সামনে এখন বিশাল মুক্ত আকাশের মতন দাঁড়িয়ে ইউটিউব। নেতিবাচক অনেক দিক যে এর আছে সেগুলো অস্বীকার করার কোন যৌক্তিক কারণ আমার কাছে নেই। তবে ইতিবাচক দিক ও নেহাত কম নয়। ব্যবহার করতে জানতে হয়! আমাদের সিনেমা নিবেদিত শুভ্র শিশির ও নাহিদ হাসান এর ‘প্রশ্নবোধক সিরিজ’ এর প্রথম এপিসোড- ‘দেশ’ এই ইউটিউবের বদৌলতেই দেখা। নামেই বোঝা যাচ্ছে আরো এপিসোড হবে। লেখার শুরুতেই গণমাধ্যম এর যে বন্দনা শুরু করেছিলাম সেটাকে এখন অভিনয় শিল্পে নিয়ে এসে আরো অনেক কিছু বলা যাবে। একটি ভালো চলচ্চিত্রকে অসংখ্য আঙ্গিকে আলোচনা করা যায়। একেক জন এর কাছে এটা ধরা দেয় এক এক রকম করে। এটা এর এক ধরণের সফলতাও বলে আমার মনে হয়। আমার দর্শনপোলব্ধি হয়ত পরিচালকদ্বয়ের মূল প্রেরণার সাথে না ও মিলতে পারে কিন্তু মাত্র ৪.৩২ সেকেন্ড ব্যাপ্তির এই ছোট্ট চলচ্চিত্রের ভাষায় আমি দেখতে পেলাম এদেশের লাখো কর্মসন্ধানী তরুণের হাহাকার। এই ছোট্ট চলচ্চিত্রটির বার্তা দ্বারা আমি এতোটাই আন্দোলিত হয়েছি যে এর নির্মাণশৈলী নিয়ে আমি বলার অবকাশ পাচ্ছি না। গত ১৭ মার্চ জাতীসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক স্বীকৃতি দিয়েছে। তলাবিহীন ঝুঁড়ি’র ব্যঙ্গোক্তি পায়ে দলে ‘ভিশন-২০২১’ কে সামনে রেখে দুর্বার গতিতে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় স্বদেশ। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবার তিনটি পূর্ব শর্ত ই আমরা পূরণে সফল হয়েছি; অনেক এগিয়ে গিয়েছি মানব উন্নয়ন সূচকেও। কিন্তু এতো সবের মধ্যেও দীর্ঘসময় পরে শিক্ষাজীবন শেষ করা একজন যুবক কি জানে তার ভবিষ্যৎ? একজন দিন আনা দিন খাওয়া রিক্সাওয়ালা কি বিশ্বাস করে সে আদালতে গিয়ে সুবিচার পাবে? একজন মেধাবী-দক্ষ শিক্ষার্থী সব ধরণের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কি তার দিনমজুর বাবাকে এই নিশ্চয়তা দিতে পারে যে সে চাকরীটা পাচ্ছেই? একজন অপদস্থ-অত্যাচারের শিকার শিক্ষক কি মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে পুলিশ প্রশাসন তাকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেবে? মূল কাহিনীর হিসাবে মাত্র ২.৩২ সেকেন্ডে এরকম হাজারটা প্রশ্নের উদয় হলো মনে যদিও ৩.৩০ সেকেন্ডের মাথায় পরিচালকদ্বয় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার আক্ষেপের একটি দীর্ঘশ্বাস জড়ানো প্রশ্নবোধকে শেষ করেছেন তাদের নির্মাণ। যে দেশে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ দেশের বাইরে চাকরী করেন সেই দেশটাতেই প্রায় ৮ লক্ষ বিদেশী চাকরী করতে এসে বছরে নিয়ে যায় প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা। প্রতি বছর প্রায় ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা এদেশ থেকে নিষিদ্ধ পথে পাচার হয়ে যায় বিদেশে। আর সেই দেশেই প্রতিবছর প্রায় ২২ লক্ষ কর্মক্ষম যুবক চাকরীর বাজারে প্রবেশ করছে। এই বিশাল সংখ্যার মাত্র ৭ শতাংশ চাকরী পাবে অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ বেকারের তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন। এরা কি করবেন? অথচ এই অপার সম্ভাবনাময় যুবশক্তিকে সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ তৈরী করে দিলে আমাদের দেশের এই অগ্রযাত্রা আরো ব্যাপকতায় আরো দ্রুত এগিয়ে যেত। অন্যদিকে ক্রমপ্রসারমাণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি এদেশে আইনের শাসনকে বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাইতো তো এদেশের মানুষ তাদের পুঁজি ব্যাংকে রাখার সাহস যেমন হারাচ্ছেন তেমনি যুবকরা সরকারী চাকরীর বলয়ে নিরাপদ জীবন পরিচালনার অদ্ভুত স্বপ্নে বিভোর হয়ে ভিন্ন ধারার কিছু করার প্রবণতা অস্বাভাবিক রকমে হারাচ্ছেন। কারণ একটা ব্যবসা বা নতুন উদ্যোগ নিয়ে তা সফলভাবে কোন বাধা ছাড়া পরিচালনা করার পরিবেশ কি সত্যিই এদেশে আছে ? আছে কি কি তথাকথিত নেতাদের চোখে চোখ রেখে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার প্রকৃত সুযোগ? এর উত্তর আমি দিলাম না। শুধু জানিয়ে রাখি এক জরিপে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলোর ৮২ শতাংশ যুবক ই দেশ ছেড়ে ইউরোপীয় এবং অন্যান্য উন্নত দেশে যাবার মানসিকতা পোষণ করেন। যুব সমাজের এরকম হাজারো বিতৃষ্ণা উঠে এসেছে প্রীতম চৌধুরীর মাত্র একটি কথায়, বিদেশে গিয়ে ঘটিবাটি মাজবো। তবুও এদেশে থাকব না। এ কথার উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়া অয়নের মত হাজার যুবক আকাশে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তবুও স্বপ্ন দেখেন। দেশটাকে আঁকড়ে রেখেই চান পরিবর্তন; চান স্বাধীনতা সনদের সর্বক্ষেত্রে প্রকৃত বাস্তবায়ন। অথচ এই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য, আমাদের একটি মুক্ত-স্বাধীন দেশ দেবার জন্য ৩০ লাখ শহীদ তাদের জীবন উৎস্বর্গ করে গেছেন। এখনো যেসকল বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাদের প্রেরণা হয়ে আমাদের মাঝে রয়েছেন তারা এসবে কতটা ক্ষত-বিক্ষত হন সেটা আমরা কেউ ই অনুধাবন করতে পারব না। তাইতো এসব দেখে শাহাবুদ্দিনের মতন বীর মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠে প্রবল আক্ষেপে উচ্চারিত হয় এক রক্তাক্ত প্রশ্নবোধক- দেশটাকে কি এই জন্যই স্বাধীন করছিলাম।

    লেখকঃ ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

    শিক্ষার্থী; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

  • অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাস পবিত্র মাহে রমযান

    অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাস পবিত্র মাহে রমযান

    হুজাইফা রহমানঃ

    চন্দ্র মাসের এক অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাস পবিত্র মাহে রমযান। এ মাসের ফযীলত অপরিসীম। নীচে ধারাবাহিকভাবে রমযান মাসের কিছু ফযীলত তুলে ধরা হল : ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি রুকন হল সিয়াম। আর এ সিয়াম পালন করা হয় এ মাসেই। আল্লাহ তা’আলা বলেন : {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} অর্থাৎ হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (বাকারাহ : ১৮৩) এ মাসের সিয়াম পালন জান্নাত লাভের একটি মাধ্যম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَبِرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وآتى الزَّكَاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, সলাত কায়েম করল, যাকাত আদায় করল, রমযান মাসে সিয়াম পালন করল তার জন্য আল্লাহর উপর সে বান্দার অধিকার হল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া। (বুখারী) রমযান হল কুরআন নাযিলের মাস {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ} অর্থাৎ “রমাযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।” (আল-বাকারা : ১৮৫) সিয়াম যেমন এ মাসে, কুরআনও নাযিল হয়েছে এ মাসেই। ইতিপূর্বেকার তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জীলসহ যাবতীয় সকল আসমানী কিতাব এ মাহে রমযানেই নাযিল হয়েছিল। (সহীহ আল জামে) এ মাসেই জিবরীল আলাইহিস সালাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুরআন শুনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে তিলাওয়াত শুন্‌তেন। আর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের শেষ রমযানে পূর্ণ কুরআন দু’বার খতম করেছেন। (মুসলিম) রমযান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। إِذَا جَاءَ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةَ وَأُغْلِقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِيْنَ (وَفِيْ لَفْظٍ سُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنَ) “যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় আর জাহ্‌ান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।” (মুসলিম) আর এজন্যই এ মাসে মানুষ ধর্ম-কর্ম ও নেক আমলের দিকে অধিক তৎপর হয় এবং মসজিদের মুসল্লীদের ভীড় অধিকতর হয়। এ রমযান মাসের লাইলাতুল কদরের এক রাতের ইবাদত অপরাপর এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশী অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশী সাওয়াব হয় এ মাসের ঐ এক রজনীর ইবাদতে। (ক) আল্লাহ তা’আলা বলেন : {لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ . تَنَزَّلُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ . سَلامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ} অর্থাৎ “কদরের একরাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ (জিরীল আঃ) তাদের রব্ব-এর অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে দুনিয়ায় অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- তা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত থাকে।” (সূরা ক্বদর : ৪-৫) (খ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : …..لله فِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حَرُمَ خَيْرُهَا فَقَدْ حَرُمَ “এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল সে মূলতঃ সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।” এ পুরো মাস জুড়ে দু’আ কবূল হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : لِكُلِّ مُسْلِمٍ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ يَدْعُوْ بِهَا فِيْ رَمَضَانَ (أحمد) অর্থাৎ “এ রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে যে দু’আই করে থাকে-তা মঞ্জুর হয়ে যায়।” এ মাসে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : إِنَّ للهَِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عُتَقَاء فِيْ كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ وَإِنَّهُ لِكُلِّ مُسْلِمٍ فِيْ كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ دَعْوَة مُسْتَجَابَة অর্থাৎ মাহে রমাযানে প্রতিরাত ও দিনের বেলায় বহু মানুষকে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দিয়ে থাকেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলিমের দু’আ- মুনাজাত কবূল করা হয়ে থাকে।

  • গাজীপুর নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নেবে বিএনপি

    গাজীপুর নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নেবে বিএনপি

    গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নিয়ে এগুবার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শাইরুল কবীর খান উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খুলনায় জনগণের সাথে হিপোক্রেসি করেছে তারা (সরকার)। সেখানকার জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অবশ্যই গাজীপুরের নির্বাচনে নতুন করে ভাববো, নতুন স্ট্র্যাটেজি নেব অথবা সিদ্ধান্ত নেব নতুন করে।’

    তিনি বলেন, ‘আলোচনা হবে আমাদের পার্টির সব লেভেলে। কারণ খুলনার নির্বাচনটা নিঃসন্দেহে আই ওপেনার। সব মিলিয়ে আমরা চিন্তা করব।’

    গাজীপুরের নির্বাচনে আপনারা যাচ্ছে না এটাই কি ধারণা করা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা গাজীপুরের নির্বাচনে যাব না- এটা আমরা বলছি নাই। আমরা বলছি যে, এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় ও এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না। এটা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।’

    তিনি বলেন, ‘যাব কি যাব না- বহু রাজনৈতিক কৌশল আছে, বহু রাজনৈতিক প্রশ্ন আছে। সেটা আমরা আলোচনা করে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

    খুলনা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ‘নতুন কৌশল’ নিয়ে ভোট করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুলনায় ক্ষমতাসীনরা যেভাবে নির্বাচন করছে- এটা নতুন কৌশল। কৌশলটা একেবারে নতুন। দৃশ্যত ভালো, সুন্দর, শান্ত। ভেতরে সবকিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে করেছে ভয়-ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে, আইনশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সেখানে একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে তারা।’

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষায় খুলনায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মনজু এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন।

  • শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

    শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পান।

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দিতে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপণ্ন করতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা শুরু করে নানামুখী ষড়যন্ত্র। বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন জীবন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

    সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের শহরে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। ঝড়-বৃষ্টি লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সারাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা।

    ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃহত্যার বদলা নেব’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

    বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় ৪ নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হৃত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।

    বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশে ফিরে আসার দিন থেকে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম জীবন শুরু হয়। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বারবার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন,পরিণত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে।

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের মানন্নোয়ন করে এক সময়ের মঙ্গা কবলিত, দুর্ভিক্ষ জর্জরিত বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।

    শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৩৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এ পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, ছিল কণ্ঠকাপূর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়। কিন্তু তিনি নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। বাঙালির ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

    জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে তৃতীয়বারের ন্যায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। ‘রূপকল্প ২০২১’ এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১৭ মে দুপুর ২টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি। এছাড়া আরও আলোচনা করবেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও জাতীয় নেতারা।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিবৃতিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে, গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অসামান্য অবদান রাখার জন্যে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী (ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) দোয়া, মিলাদ মাহফিল, বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ছাত্রলীগের ৩২৩ জন ডাক পাচ্ছেন গণভবনে

    ছাত্রলীগের ৩২৩ জন ডাক পাচ্ছেন গণভবনে

    ছাত্রলীগের নেতা হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা ৩২৩ প্রার্থী ডাক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে। আগামী রোববার ও সোমবার ডাকা হতে পারে এসব পদ প্রত্যাশীদের।

    দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বুধবার রাতে গণভবনে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পদ প্রত্যাশীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নেতা হিসাবে দায়িত্ব তুলে দেয়ার আগে তাদের রাজনৈতিক মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতার পরীক্ষা নিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা। ফলে চলতি সপ্তাহেও হচ্ছে না ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা।

    বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতা হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের সাক্ষাতকার নেয়া শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে ১১১ ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যে ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। চলতি মাসের ১১ও ১২ তারিখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নতুন নেতা নির্বাচন করা ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন।

    এর আগে তিন দফা ভোটর মাধ্যমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচিত হয়। সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তবে গত দুই বার ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হলেও তাদের নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। সর্বশেষ দুই বারের কমিটিতে সংগঠনটিতে অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে এসব নানা অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীকে হতাশ করেছে। এরই পরিপ্রক্ষিতে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়া বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান শেখ হাসিনা। তিনি সিলেকশনে নেতা বানানোর সিদ্ধান্ত জানান।

  • ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শিশুকে ধর্ষণ : ২০ হাজার টাকায় ‘মিটমাট’

    ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শিশুকে ধর্ষণ : ২০ হাজার টাকায় ‘মিটমাট’

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আশ্রায়ণ কেন্দ্রে দরিদ্র পরিবারের এক শিশুকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে এক লম্পট। ওই শিশু একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গুরুতর অবস্থায় তাকে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক উজ্জ্বল মিয়া পলাতক রয়েছে।

    জানা গেছে, শিশুটির পরিবার হত-দরিদ্র। চলতি বোরো মৌসুমে তারা হাওরে ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো গত ২ মে শিশুটিকে বাড়িতে একা রেখে বাবা-মা হাওরেযান। এ সুযোগে দুই সন্তানের জনক উজ্জ্বল মিয়া শিশুটির বাড়িতে গিয়ে চেতনানাশক মিশ্রিত জুস দেয়। শিশুটি জুস খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করে উজ্জ্বল। পরদিনে ফের একই কায়দায় শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে সে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন মা-বাবার কাছে সে বিষয়টি সম্পর্কে জানায়। এরই মাঝে বিষয়টি স্থানীয়রাও জেনে যান।

    এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৪ মে চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজল মিয়া সালিশের উদ্যোগ নেন। তিনি ধর্ষিতা শিশুটির পরিবারকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যা হয়েছে তা ভুলে যেতে বলেন।

    এ ব্যাপারে সালিশকারী চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজল মিয়া বলেন, ‘মেয়ের পরিবার দরিদ্র। মামলা দিয়ে তারা কোনও ফায়দা পাবে না বলেই ঘটনাটি সালিশে মিটমাট করি। উজ্জ্বল মিয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে তা শিশুটির চিকিৎসার জন্য তার বাবা-মাকে দেয়া হয়েছে।’

    চুনারুঘাট থানার ওসি কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভিকটিমের বাবা অভিযোগ করেছেন। আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • দলবল দেখে আদেশ দিই না, খালেদার আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি

    দলবল দেখে আদেশ দিই না, খালেদার আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বহালের রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়ে তাঁর আইনজীবীদের প্রার্থনা নাকচ করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ  বুধবার দুপুরের দিকে এই আদেশ দেন। শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা দলবল দেখে আদেশ দিই না।’

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে  রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, ‘জামিননামা দাখিল করতে চাই। তাই ঘোষিত রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি। আদালত রায় ঘোষণা করেছেন, যা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও থাকবে। রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি দিন।’

    মোহাম্মদ আলীর এমন প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, রায় ঘোষণার পর সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি দেওয়ার নজির নেই।

    মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রায়ের পর একমুহূর্তও কাউকে আটকে রাখা হলে, তা হবে বেআইনি আটক। এ জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি।’

    মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনি যা বলেছেন, তা আমাদের রুলসে নেই।’

    তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    আদালত বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় পাবেন।

    বেঞ্চের এক বিচারপতি বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার নজির নেই।

    মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নজির নেই। আপনারা নজির সৃষ্টি করতে পারেন।’

    আদালত বলেন, ‘আপনার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলো।’

    এ পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি।’

    মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দল দেখে কি আমরা আদেশ দেব? দলবল দেখে আদেশ দিই না।’

    মোহাম্মদ আলীকে উদ্দেশ করে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘আপনি এটা কী বললেন?’

    বেঞ্চের অপর এক বিচারপতি মোহাম্মদ আলীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটি আপত্তিজনক। আপনি কি আমাদের ফোর্স করতে পারেন? আপনি একজন আইনজীবী। কোনো দলীয় লোক নই।’

    মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে বেঞ্চর আরেক বিচারপতি বলেন, ‘আপনার প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তর্ক করছেন কেন?’

    তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা ঠিক হয়নি।

    বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ছয় থেকে সাত মিনিটের মতো এই শুনানি চলে।

    শুনানিকালে এ জে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নওশাদ জমির, কায়সার কামাল ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

  • পুলিশকে মানবিক হয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে: শেখ হাসিনা

    পুলিশকে মানবিক হয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে: শেখ হাসিনা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখতে চাই, আমাদের দেশের জনগণ পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে আমরা একটি চৌকস, পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশ সার্ভিস গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    শেখ হাসিনা আজ সকালে সারদায় ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন।’ বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরও তৎপর বিশেষ করে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী একাডেমির অতিথি ভবন অরুনিমায় পৌঁছালে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এবং একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. নাজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদকও বিতরণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী নতুন কর্মক্ষেত্রে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আপনারা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন।

    দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে উন্নয়নকে টেকসই করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, বাংলাদেশ পুলিশের নবীন কর্মকর্তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘রূপকল্প-২০২১’ এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ করা অর্থকে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করছে। শেখ হাসিনা জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।