Author: banglarmukh official

  • ১০ বছর পর নিরপরাধ বাদলকে ভারত থেকে ফেরাতে চিঠি

    ১০ বছর পর নিরপরাধ বাদলকে ভারত থেকে ফেরাতে চিঠি

    ১০ বছর কারাবাসের পর বাদল ফরাজি নামের এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে ভারতের কারাগার থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনতে ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সরকার। বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ওই ব্যক্তিকে দ্রুত ফেরত আনতে বুধবার এ চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি খুনের মামলার আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকার কারণে ২০০৮ সালে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় বাদল ফরাজিকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পর্যটক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের বাগেরহাট থেকে তাজমহল দেখতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর ফেরেননি। পাসপোর্ট অনুযায়ী বাদলের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাট এবং বর্তমান ঠিকানা খুলনায়। বাগেরহাটের আবদুল খালেক ফরাজি ও সারাফালি বেগমের ছেলে তিনি।

    এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাদলকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। এ জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত বাদলকে ফিরিয়ে আনা হবে।’

    সরকারি নথিপত্রে অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৬ মে নয়াদিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধা খুনের মামলায় বাদল সিং নামে একজন আসামিকে ভারতের পুলিশ খুঁজছিল। ওই বছর ১৩ জুলাই বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফ ভুল করে বাদল ফারাজিকে গ্রেপ্তার করে। ইংরেজি বা হিন্দি জানা না থাকায় তিনি বিএসএফের সদস্যদের নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ঠিকমতো বলে বোঝাতে পারেননি তিনি ওই বাদল নন।

    ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নিম্ন আদালতের রায়ে খুনের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ নম্বর ধারায় ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করেন দিল্লির সাকেট আদালত। বাদলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টেও একই সাজা বহাল থাকে। বাদলের বিষয়ে জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুরক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখা এবং কারা অধিদপ্তর থেকে মতামত চাওয়া হয়।

    আইন মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের প্যানাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী খুনের সাজায় একই ধরনের বিধান রয়েছে এবং একই ধরনের জেল কোড ব্যবহার করা হয়। তাই বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ফিরে আসার পর একই রকম সাজার আওতায় কারাগারে থাকতে পারবেন। এরপর সুরক্ষা সেবা বিভাগ বাদলের বিষয়ে সমস্ত তথ্য–উপাত্ত যাচাই করে। গত ১৯ এপ্রিল পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, বাদল বা তাঁর পরিবারের বিষয়ে কোনো বিরূপ তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাদলের নির্দোষ হওয়ার বিষয়টি জানার পর গত ১৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক করে বাদলকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় বলা হয় বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত বাদলকে ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন নিরপরাধ ব্যক্তি এভাবে ভারতে কারাগারে থাকতে পারেন না। ওই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটি বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় বাদলকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের কর্তৃপক্ষকে আবেদনপত্র চূড়ান্ত করবে।

    ভারতে হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গত ১৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রসচিবকে এক ফ্যাক্স বার্তায় জানান, অনেক দিন ধরে বাদল ফরাজিকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি ঝুলে আছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরে গত ২২ এপ্রিল ভারতে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, ভাষাগত সমস্যার কারণে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। তাঁর আচার–ব্যবহারে কারা কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে সাজার মেয়াদ কমাতে কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করে। বাদল কারাগারে থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পাস করে কারাগার চত্বরের ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। স্নাতকের বাইরেও আটটি ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। এখন ইংরেজি ও হিন্দিতে অনর্গল কথা বলতে পারেন।

    বাদলের বোন তাসলিমা বেগম  বলেন, ‘আমরা অপেক্ষায় আছি ভাইয়ের দেশে ফেরার।’

  • ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার রাতে বিষয়টি জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। টানা ছয় বছর ধরে এক প্রকার গৃহবন্দীই হয়ে আছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় স্বাক্ষ্য দেন তিনি। এর জের ধরে আততায়ীর হাতে খুন হন তার ছোট ভাই মিরাজ। ছোট ভাই হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে নীরবে-নিভৃতে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। সঙ্গে আছেন একমাত্র ছেলে সামির আহমেদ।

    এরই মধ্যে তার হার্টে ৮টি ব্লক ধরা পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারি করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বুধবার ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। এতে তিনি লেখেন, ‘একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে আটটা ব্লক ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে কাউকে না জানিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে সিসিইউতে চার দিন ছিলাম। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য প্রস্তুত আছি।

    ’ ফেসবুকের এই পোস্টটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

    ওই স্ট্যাটাসে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আরও লিখেছেন, ‘আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশি পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়।’ গৃহবন্দী থাকার কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, সরকারের নির্দেশে ২০১২ সালে আমাকে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে আমি একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। কিন্তু এই সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই মিরাজকে হত্যা করা হবে, তা কখনো বিশ্বাস করতে পারিনি।

    সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি।’ চিকিৎসার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা চান না উল্লেখ করে প্রখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ লিখেছেন, ‘কোনো সরকারি সাহায্য কিংবা শিল্পী, বন্ধুবান্ধবের সাহায্য আমার দরকার নাই। আমি একাই যথেষ্ট। শুধু অপারেশনের আগে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা আর কোরআন শরিফ রাখতে চাই।’ ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লেখেন, ‘তোমরা আমার জন্যে শুধু দোয়া করবে। কোনো ভয় নাই

  • রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বিসিসির স্বাগত র্যালি অনুষ্ঠিত

    রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বিসিসির স্বাগত র্যালি অনুষ্ঠিত

    তানজীল ইসলাম শুভ ||

    বরিশালে পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি করেছে সিটি করপোরেশন। মাহে রমজানের প্রবিত্রতা রক্ষা ও দিনের বেলায় পানাহার বর্জনসহ হোটেল-রেস্তোরা এবং অন্যায়-অবিচার-অত্যাচর-ব্যভিচারসহ সকল ধরনের অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহবান জানিয়ে আজ দুপুর ২টায় বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগর ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়। বিসিসি মেয়র আহসান হাবিব কামালের নেতৃত্বে র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নগর ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

    র্যালিতে অন্যান্যের মধ্যে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কাউন্সিলর ফিরোজ আহমেদ, কাউন্সিলর আকতারুজ্জামান হীরু, কাউন্সিলর জাকির হোসেন জেলাল, কাউন্সিলর সালাউদ্দিন মাসুম, কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার সহ বিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্ত্বর থেকে বরিশাল মহানগর ইমাম সমিতির ব্যানারে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালির আগে মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি কাজী আ. মন্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা নুরুর রহমান বেগ, মাওলানা জামাল উদ্দিন ফারুকী, মাওলানা গোলাম মোস্তাফা, মাওলানা মামুনুর রশিদ প্রমুখ।

  • কেনো রোজা ভেঙে যায়?

    কেনো রোজা ভেঙে যায়?

    হুজাইফা রহমানঃ

    রোজা একটি ফারসি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে দিন। যেহেতু এই আমলটি দিনের শুরু থেকে শেষাংশ পর্যন্ত পালন করা হয় তাই একে রোজা বলা হয়। আর আরবিতে এর নাম সাওম বা সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। রোজার নিয়ত (নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।) অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরয করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

    রোজা ভঙের কারণ

    ১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে। ২. স্ত্রী সহবাস করলে। ৩. কুলি করার সময় হলকুমের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙবে না)। ৪. ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে। ৫. নস্যি গ্রহণ করলে, নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করালে। ৬. জবরদস্তি করে কেউ রোজা ভাঙালে। ৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ওষুধ পৌঁছালে। ৮. কংকর, পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে। ৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর সূর্যাস্ত হয়নি দেখা গেলে। ১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে। ১১. দাঁত থেকে মটর দানা পরিমান খাদ্যদ্রব্য বের করে গিলে ফেললে। ১২. ধূমপান, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করলে। ১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে। ১৪. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে। ১৫. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর জাগরিত হলে।

    রোজার মাকরুহ

    ১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চেটে দেখা। ২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা। ৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া। কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। ৪. ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গিলে খেলে। ৫. গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফ্যাসাদ করা। ৬. সাড়া দিন নাপাক অবস্থায় থাকা। ৭. অস্থিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা। ৮. কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।

    ইফতারের দোয়া

    (আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।) অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।

  • চাঁদ দেখা যায়নি, রোজা শুক্রবার

    সন্ধ্যায় দেশের কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস রমজান শুরু হচ্ছে শুক্রবার (১৮ মে)। আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

    রমজান শেষেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দেখা মিলবে। এবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।

    অন্যদিকে মঙ্গলবার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যেও বৃহস্পতিবার থেকে রমজান শুরু হচ্ছে।

    সভায় ধর্মমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কোথাও হিজরি ১৪৩৯ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

    বৃহস্পতিবার (১৭ মে) শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। শুক্রবার থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার রাতে (এশার নামাজের পর) ২০ রাকাত বিশিষ্ট তারাবি নামাজ শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষ রাতে সেহরি খাবেন মুসলমানরা। ঢাকায় প্রথম দিন সেহরির শেষ সময় রাত ৩টা ৪৬ মিনিট। শুক্রবার প্রথম রোজার দিন ইফতারের সময় ৬টা ৩৯ মিনিট।

    ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফেরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা।

    এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন।

    সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন, ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর শেখ মো. আবদুল্লাহ, সিরাজউদদীন আহমেদ, মিসবাহুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমাদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা আবু রায়হান ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘আরজ আলী মাতুব্বর’ বহুরূপী এক যোদ্ধার নাম

    ‘আরজ আলী মাতুব্বর’ বহুরূপী এক যোদ্ধার নাম

    [ রাতের গল্প থেমে যাওয়ার পড়ে ঘুমঢুলু চোখে আরও উজ্জ্বল মনে হয় সুখ তারার রঙ। তেমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ‘আরজ আলী মাতুব্বর’। তার কর্মময় বর্ণালি জীবন পাঠে সকলকেই আকৃষ্ট করে। রত্নগর্ভা বরিশালের মাটি যে কেউ অহংকার করে বুক পকেটে চেপে রেখে যদি বলেন – আমি সাত রাজার ধন পকেটে ধারন করেছি তাতে মোটেই ভুল হবে না।]

    আরজ আলী মাতুব্বরকে নিয়ে কিছু লিখব ভাবতে গিয়ে মনে হল তার বিভিন্ন বিষয়ে অনেক আলোচক আলোচনা করেছেন। কেবল মাত্র জমি জরীপ বিষয়ে তেমন প্রবন্ধ বা আলোচনা দেখছি না। তাই মাতুব্বর সাহেবের সর্ব শেষ পেশাটা নিয়েই লিখতে বসলাম। যেহেতু আমিও একজন আমিন তাই এই বিষয়টি নিয়ে লেখা আমার জন্য সুবিধা হবে বলেই তার জরীপ বিষয়ক দক্ষতাকে তুলে আনার চেষ্টা করছি। কৌশল অবলম্বন করেই জরীপ করতে হয়। তার আগে জানতে হয় জ্যামিতিক নিয়ম।

    লেখাপড়া জানলেই দলিল পর্চা পড়া যায় কিন্তু লেখাপড়া জেনে জমি জরীপ করা যায় না। এমন কি জরীপ বিষয়ের ওপর পড়াশুনা করেও এই কাজটি করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না আপনি মাঠ পর্যায় বিজ্ঞ কোনো আমিনের সাথে দীক্ষা নেন। এ কাজে সব চেয়ে বেশী গুরুত্বের বিষয় ধৈর্য ও একাগ্রতা। যার সবটুকুই মাতুব্বর সাহেবের ছিল। এর সাথে আরও প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। যেমন ডিভাইডার, স্কেল ও শিকল। এরপরে সূত্র অনুসারে পরিমাপ করতে হয়। মাতুব্বর সাহেব ইতিপূর্বে ভূগোল বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করার সুবাদে কিছুটা আগানো ছিল। তিনি ভৌগলিক নিয়মে নক্সার উপরে অঙ্কিত স্কেল পর্যালোচনা করে তদরূপ একটা স্কেল তৈরী করলেন পীজ বোর্ড কাগজ দ্বারা। ডিভাইডার বা কাঁটা তৈরী করলেন টিন দিয়ে! ভাবা যায়! শুধু মাত্র ভূগোলের মানচিত্রে ১ ইঞ্চি সমান ৪০০, ৫০০ মাইল এবং ম্যাপ বা নক্সায় ১৬ ইঞ্চি সমান ১ মাইলকে মাথায় রেখে সরজমিন পরিমাপ করতে চেষ্টা করলেন। যদিও প্রথম চেষ্টা ব্যাহত হল কিন্তু তাতে তিনি বরাবরের ন্যয় অদৈম্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেন।

    পরক্ষণে প্রতিবেশী একজন সুদক্ষ আমিন এর কাছ থেকে যত সামান্য ধারনা নিলেন স্কেল সম্পর্কে। ভদ্রলোক তার অব্যবহারিত একটি বিঘা-কাঠার স্কেল দিয়ে দিলেন। সাথে করে পরিমাপের শিকল ধার এনে নিজ হাতে লোহার তার কেটে তাতে নিখুঁত ভাবে কড়ি ও আংটি বসিয়ে একটা অবিকল শিকল বা গান্টর চেইন তৈরী করলেন। এবার শিকল ও স্কেল পেয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে জরীপ কাজে মাঠে নেমে পড়েন। বিনা প্রশিক্ষণে স্থানীয় নিয়মে বাংলা ১৩৩৩ সালের শেষ দিকে সরজমিনে জরীপ কাজ শুরু করেন দৈনিক এক টাকা মজুরিতে। ১৩৮১ সালে অর্থাত কাজের শেষ সময় কালে দৈনিক মজুরি ছিল ৮১ টাকা।

    তার পরিমাপকৃত অনেক সিমানা পিলার এখনও বলবৎ আছে যা তিনি পরিমাপ করে পূঁতে দিয়ে ছিলেন প্রায় শত বছর আগে। আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে পরিমাপ করলেও তার পোঁতা কোন সিমানা পিলারকে ভুল প্রমান করতে পারিনি। যদিও তিনি পরবর্তী সময়ে আধুনিক পরিমাপ শিখে ছিলেন একজন সার্ভে সুপার ভাইজারে কাছে কিন্তু তাও মাঠ পর্যায় প্রায় বিশ বছর কাজ করার পর। তিনি নিজ হাতে দু’টি ইউনিয়নের নক্সা তৈরী করেছেন বলে তার লেখায় উল্লেখ রয়েছে। বাংলা ১৩৬৯ সালে চরমোনাই ইউনিয়ন অন্যটা ১৩৭৪ সালে চরবাড়ীয়া ইউনিয়ন।

    আরজ আলী মাতুব্বর মানুষ হিসেবে অত্যান্ত সরল ছিলেন যা আমরা জান্তে পারি তার রচনা সমগ্র থেকে এবং তার দু’একজন সহচর থেকে। তিনি জীবদ্দশায় সমস্ত বিষয় লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন বলেই খুব সহজে বেড়িয়ে আসে একটা জীবনের তরতাজা ইতিহাস। দীনতা পিষে কিভাবে সমাজ ও জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তা আরজ আলী মাতুব্বর পাঠে সরল হয়ে আসে।

    তথ্য : আরজ আলী মাতুব্বর সমগ্র-

    লেখক শফিক আমিন

  • চাদঁ দেখা যায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু বৃহস্পতিবার

    চাদঁ দেখা যায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু বৃহস্পতিবার

    সৌদি আরবের আকাশে মঙ্গলবার (১৫ মে) রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ মে) থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে রোজা শুরু হবে। মঙ্গলবার রাতে সৌদি বাদশার উপদেষ্টা তুর্কি আল শেইখ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

    এদিন, সৌদি আরবের আকাশের কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলো। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাসের তারিখ গণনা শুরু হবে।

    এদিকে, রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগি সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও নিরবিচ্ছিন্ন করতে মক্কার হারাম শরীফ, মদীনার মসজিদে নববীসহ অন্য মসজিদগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

    রোজাদারদের ইফতার করাতে মসজিদের পাশে ছোট-বড় তাবু টাঙানো হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে রোজাদারদের জন্য বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সিগনালগুলোতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইফতারির প্যাকেট বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    এদিকে, রমজান উপলক্ষ্যে সুপার মার্কেটগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রে মূল্য ছাড় দিয়েছে।

  • ইমামের মাথায় মল ঢেলে নির্যাতনের পর এবার প্রাণনাশের হুমকি

    ইমামের মাথায় মল ঢেলে নির্যাতনের পর এবার প্রাণনাশের হুমকি

    বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ও ইমাম মাওলানা মো. আবু হানিফার শরীরে মল ঢেলে দেয়ার ঘটনার রেশ না কাটতেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী মাওলানা আবু হানিফা ও তার ছেলে মো. মহিবুল্লাহ এমন অভিযোগ করেছেন।

    মহিবুল্লাহ বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি চেপে যেতে চাইলেও ঘটনার ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, এরপর রোববার ওই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিপক্ষের লোকজন তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

    ভুক্তভোগী ওই ইমামের ছেলে বলেন, সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়া জামায়াত নেতা (পদবি বলতে পারেননি) এজাহারভুক্ত আসামি এনামুল হাওলাদারের ভাই হাবীব মুন্সী বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকে ও আমার বাবাকে প্রাণে শেষ করে দেবেন বলে হুমকি দেন। এজন্য তিনি প্রয়োজনে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করবেন বলেও ঘোষণা দেন।

    নির্যাতনের শিকার মাওলানা আবু হানিফা বলেন, ‘জামায়াতের লোকগুলো সংঘবদ্ধ হয়ে আমার পথরোধ করে এভাবে ঘৃণ্য কায়দায় লাঞ্ছিত করেছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।’

    তিনি বলেন, এর আগেও জামায়াতের সাবেক আমির শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আলমগীর হোসেনের (বর্তমানে পটুয়ালী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক) নির্দেশে জামায়াতের এসব লোকজন আমাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তাদের সংগঠনের মতাদর্শ ও আকিদাগত দ্বন্দ্বের কারণে। এরাই আমাকে সমাজে হেয় করা জন্য এমন ঘৃণিত কাজটি করেছে।

    আবু হানিফা আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর মামলা করলে গ্রেফতার হওয়া জামায়াতের লোক (পদবি জানাতে পারেননি) মো. এনামুল হাওলাদারের ভাই হাবীব মুন্সী সোমবার সকালে বাড়িতে এসে হুমকি প্রদান করেন মামলা তুলে নেয়ার জন্য।’

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি তেমন গ্রামের বাড়িতে যাই না। আর এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। তবে ফেসবুকে দেখেছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন তিনি (আবু হানিফা)। আমি জামায়াতের সঙ্গে কোনো কালেই জড়িত ছিলাম না। আর যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারাও জামায়াতের সঙ্গে জড়িত না।’

    ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, ওই মাদ্রাসায় আমাদের এবং আবু হানিফাদের জমি রয়েছে। আবু হানিফার ওপর এমন ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।

    রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে জামায়াতের লোকজন মাওলানার ওপর এমন অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।

    এদিকে জামায়াতের লোকজনের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ আলেম সমাজ ও স্থানীয়রা। তারা বিচারের দাবিতে আগামী বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।

    রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কাঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসাটি। এই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. আবু হানিফা।

    গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়। আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে মজিবর রহমান বিজয়ী হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার আবু হানিফার উপর ক্ষুব্ধ হন।

    কমিটির সভাপতির পদে হেরে গিয়ে প্রতিপক্ষ জামায়াত-শিবিরের লোকজন শুক্রবার সকাল ৭টায় আবু হানিফার মাথায় ও শরীরে মল ঢেলে উল্লাস করে। এরপর ধারণ করা ভিডিও রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

    পরে মাওলানা আবু হানিফা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা করে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

    অভিযুক্তরা হলেন- জাহাঙ্গীর খন্দকার, আবু হানিফার ছোট ভাই জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন।

    বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবদুল হক জানান, মামলা দায়েরের পরপরই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • অল্পের জন্য হল না বাটলারের বিশ্বরেকর্ড!

    অল্পের জন্য হল না বাটলারের বিশ্বরেকর্ড!

    কত কাছে, তবু কত দূরে! কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৩৯ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরার সময় এই কথাটি একদম যথার্থ বলা যায় রাজস্থান রয়্যালসের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জশ বাটলারের জন্য। মাত্র ১১ রানের জন্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক বিশ্বরেকর্ড থেকে বঞ্চিত হলেন বাটলার।

    ইডেন গার্ডেনে কলকাতার বিপক্ষে ম্যাচে ন্যুনতম ৫০ রান করতে পারলেই বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা ৬ ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড করে ফেলতেন বাটলার। কিন্তু ইনিংসের ১০ম ওভারে কুলদ্বীপ যাদবের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে নিজের মৃত্যু নিজেই ডেকে আনেন এই ইংলিশ ক্রিকেটার।

    ইংলিশ এই উইকেটরক্ষকের করা রিভার্স সুইপটি চলে যায় সোজা থার্ডম্যানে দাঁড়ানো জ্যাভন সেয়ারলেসের হাতে। যার ফলে থেমে বাটলারের ২২ বলে ৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ৫ চার এবং ২ ছক্কার মারে এই রান করেন বাটলার। এর আগের ৫ ম্যাচেই পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

    আইপিএলের চলতি মৌসুমের শুরুতে রান খরায় ভুগছিলেন বাটলার। রাজস্থানের মেন্টর শেন ওয়ার্নের পরামর্শে ইনিংস সূচনার দায়িত্ব পান তিনি। আর এতেই বদলে যায় উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানের ব্যাটের ধার।

    দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে ৬৭ রানের ইনিংস দিয়ে শুরু, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস দিয়ে শেষ। মাঝে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৫১ এবং ৮২ ও চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে খেলেন অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংস।

    তবে একক ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়তে না পারলেও, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একটানা সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ডে শীর্ষেই রয়েছেন বাটলার। টানা পাঁচ ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ডে বাটলারের সাথে রয়েছেন ভারতের বিরেন্দর শেবাগ, পাকিস্তানের কামরান আকমল এবং জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।