Author: banglarmukh official

  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আইটিসি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাদের এ অভিনন্দন জানায় মন্ত্রিসভা।

    এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন। খবর-বাসস’র।

    মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে জানান।

    সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং এর মাধ্যমে কক্ষপথে স্যাটেলাইটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৫৭তম সদস্য হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উত্থাপিত প্রস্তাব গ্রহণ করে মন্ত্রিসভা।

  • আইপিএলের প্লে-অফের জটিল সমীকরণ

    আইপিএলের প্লে-অফের জটিল সমীকরণ

    গত রাতে ওয়াংখেড়েতে মুম্বাইকে হারিয়ে অাবারও আইপিলের প্লে-অফের দৌড় জমিয়ে দিল রাজস্থান। আর এতে জটিল সমীকরণে পড়েছে পাঞ্জাব, মুম্বাই, ও কলকাতা নাইট রাইডার্স।

    লিগে বর্তমানে মুস্তাফিজুর রহমানের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১২ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট অর্জন করেছে। এক ম্যাচ কম খেলে পাঞ্জাবের পয়েন্ট ১২। আর ১২ ম্যাচ খেলে ১২ পয়েন্ট করে পেয়েছে রাজস্থান ও কলকাতা।

    আজ যদি বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে পাঞ্জাব জিতে যায় তাহলে প্লে-অফের দৌড়ে এগিয়ে যাবে প্রীতির দল। আর হেরে গেলে নতুন সম্ভাবনা জাগবে বেঙ্গালুরুর।

    ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে- চলতি আইপিএলে সবার ওপরে রয়েছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। তাদের পয়েন্ট ১৮। তার নিচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে মাহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। তাদের পর ১২ পয়েন্টে আছে পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রাজস্থান রয়েলস। আর ১০ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বাই, ৮ পয়েন্ট নিয়ে বেঙ্গালুরু এবং দিল্লির পয়েন্ট ৬।

    এদিকে মুম্বাইয়ের আর দুটি ম্যাচ বাকী আছে। এই দুই ম্যাচের দুটিতে জিতে গেলেই তারা চলে যাবে প্লে অফে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সোমবারের ম্যাচে পাঞ্জাবের হারতে হবে।

    প্লে-অফের দৌড়ে কলকাতা ও রাজস্থানের মধ্যে শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় কে প্লে অফে যাবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

    অার সোমবারের ম্যাচে যদি ব্যাঙ্গালুরু জয় পায় তাদের পাশপাশি বেঁচে থাকবে মুম্বাইয়ের আশাও। কিন্তু পাঞ্জাব জিতে গেলে সে আসা অনেকটাই ভেঙে যাবে।

  • উত্তর কোরিয়া পরমাণু প্রকল্প ত্যাগ করবে না

    উত্তর কোরিয়া পরমাণু প্রকল্প ত্যাগ করবে না

    পরমাণু বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় বহুদূর এগিয়ে গেছে উত্তর কোরিয়া। তাই মুখে বললেও, তারা গোপনে পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে যাবে৷ বিশ্বের বেশ কয়েকজন গবেষক এমনই মনে করেন৷

    পরমাণু পরীক্ষা ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়ে পিয়ংইয়ং৷ এরপর বিরোধ মেটাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অনেক বিশ্লেষকই বলছেন আলোচনা যাই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু প্রকল্প ত্যাগ করবে না।

    সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বেইজিং গিয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া জানায়, কিম-জিনপিং’র  সেই বৈঠক সফল হয়েছে৷ সামনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া বৈঠক৷ এই বৈঠককে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে৷ গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্তের কথা জানান৷

    উত্তর কোরিয়া বিরোধী বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনা যাই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়া কোনোমতেই পরমাণু বোমার প্রযুক্তি উন্নয়ন থামাবে না। এর কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়কে সামনে এনেছেন তারা।

    প্রথমত উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো আগ্রহ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে। তা সত্ত্বেও, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই পরমাণু অস্ত্রের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সময় ব্যয় করেছে। ফলে তারা এ থেকে পেছনে সরে আসবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • প্রতিদিন ৫ লাখ পিস ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    প্রতিদিন ৫ লাখ পিস ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    পলিথিনের বিকল্প হিসাবে পাট থেকে পচনশীল পলিব্যাগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোনালী ব্যাগ’। পাইলট প্রকল্পে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) এখন প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ পিস ব্যাগ উৎপাদন করছে। এই প্রকল্প সফল হওয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যাগটি বাজারজাত করতে প্রতিদিন ৫ লাখ পিস ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বারবার ব্যবহারযোগ্য এই ব্যাগের বাজার দর কমে দাঁড়াবে ৭-৮টাকা।

    সংসদ ভবনে আজ অনুষ্ঠিত ‘বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সাবিনা আক্তার তুহিন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

    সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে পাটজাত পলিথিন ‘সোনালী ব্যাগ’ প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটি ইন্টেলেকুচ্যুয়াল প্রপারটি রাইটের অধীনে আন্তজার্তিকভাবে পাটজাত এই পলিথিন ব্যাগের মালিকানা স্বত্ব বাংলাদেশের অনুকূলে রাখার জন্য প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। একইসঙ্গে বাণিজিকভাবে পণ্যটি বাজারজাত করণের লক্ষ্যে একটি টাষ্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া দেশের পাট চাষীদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরীর করে পাট চাষীদের সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি স্টাডি রিপোর্ট তৈরী করার সুপারিশ করা হয়।

    বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেডিপিসি’র নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • দুই পা নেই, তবুও এভারেস্টের চূড়ায় শিয়া বোউ!

    দুই পা নেই, তবুও এভারেস্টের চূড়ায় শিয়া বোউ!

    শিয়া বোউ। চীনের নাগরিক। ৪৩ বছর আগে এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে গিয়ে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে হারাতে হয়েছিল দুটো পা। সেই অসুস্থতার জেরে পায়ে ক্যান্সার হওয়ায় ১৯৯৬ সালে হাঁটুর নীচ থেকে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।কিন্তু দুই পা হারিয়েও স্বপ্ন পূরণে পিছপা হননি এই ব্যক্তি।

    সোমবার সকালে ৬৯ বছরের এই চীনা ২৯,০২৯ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করে এভারেস্টর চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। রেকর্ড গড়েছেন তিনি, কারণ এর আগে দুই পা নেই এমন কেউ নেপালের দিক থেকে এভারেস্টর চূড়ায় উঠতে পারেনি।

    ২০০৬ সালে দুই পা হারানো আরেক পর্বতারোহী – নিউজিল্যান্ডের মার্ক ইঙ্গলিস- এভারেস্টে উঠেছিলেন তিব্বতের দিক থেকে- যেটাকে অপেক্ষাকৃত সহজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে শিয়া বোউ এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। গত বছর নেপালের সরকার যখন দুই-পা কাটা এবং অন্ধদের জন্য এভারেস্টে ওঠা নিষিদ্ধ করে দেয়, চরম হতাশায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।

    তবে এ বছর মার্চ মাসে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সরকারের ঐ নিষেধাজ্ঞা বেআইনি ঘোষণা করলে, এপ্রিল মাসে তিনি পঞ্চম বারের মত এভারেস্ট অভিযান শুরু করেন।

    অভিযান শুরুর আগে তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছিলেন, এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা আমার স্বপ্ন। আমাকে এই স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য এটা চ্যালেঞ্জ, আমার দুর্ভাগ্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে তিনি তার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হন।

    শিয়া বোউ ১৯৭৫ সালে তার প্রথম অভিযানে এভারেস্টর চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে ফ্রস্ট-বাইটে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তিনি আবার অভিযানের জন্য নেপালে আসেন, কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ অবহাওয়া এবং দুর্ঘটনার জন্য নেপাল সরকার দুবারই পর্বতারোহণ বন্ধ রেখেছিল।

    ২০১৬ সালেও মাত্র ২০০ মিটার ওঠার পর খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাকে ফিরে আসতে হয়েছিল। এক বছর বাদে আবার তিনি আসেন এবং এভারেস্ট জয় করেন।

  • প্রেমের বিচ্ছেদ চেয়ে ১০ কোটি টাকার বেড়াজালে চীনা যুবক!

    প্রেমের বিচ্ছেদ চেয়ে ১০ কোটি টাকার বেড়াজালে চীনা যুবক!

    প্রেমের সম্পর্কের শুরুটা মধুর হলেও, বিচ্ছেদে থাকে অনেক তিক্ততা। তাই বলে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করতে হলে টাকা দিয়ে খেসারত দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেল। তাও আবার সামান্য টাকা নয়। প্রেম ভাঙতে গেলে দিতে হবে কড়কড়ে ১০ কোটি টাকা। চীনের এমন একটি ঘটনাই অবাক করে দিয়েছে সকলকে।

    ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। চীনের হাংঝৌ শহরের একটি পানশালায় রাতের বেলায় একটি সুটকেস পড়ে থাকতে দেখেন কর্মীরা। কিন্তু অনেকক্ষণ পরে সেই সুটকেসের কোনও দাবিদার না থাকায় সন্দেহ হয় পানশালা কর্মীদের মধ্যে। পরে সুটকেসটি খুলতেই হতবাক হয়ে যান তারা।

    সুটকেসের মধ্যে থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। টাকা উদ্ধারের পরেই খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে সুটকেসের সূত্র ধরে পুলিশ সুটকেসের মালিককে ডেকে পাঠায়। সুটকেসের মালিক ২০ বছরের এসেই যুবক পুলিশকে জানান, গার্লফ্রেন্ডের কাছ থেকে তিনি সম্পর্কে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। কিন্তু সম্পর্কে বিচ্ছেদের জন্য সেই যুবকের কাছে মোটা টাকা চান তার গার্লফ্রেন্ড। সেই টাকা দিতেই ওই পানশালায় টাকাভর্তি সুটকেস নিয়ে যান ওই যুবক।

    কিন্তু সুটকেস তাহলে ওই অবস্থায় পড়েছিল কেন, সেই তদন্তে নেমে ওই যুবকের গার্লফ্রন্ডকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। সেই যুবতী তদন্তকারীদের জানান, তিনি সম্পর্ক ভাঙতে ১০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বয়ফ্রেন্ড ‘মাত্র’ ২ কোটি টাকা দেন। সেই রাগেই তিনি সুটকেসটি পানশালায় ফেলে রেখে চলে যান।

    শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ দু’পক্ষকেই সতর্ক করে দিয়েছে। এই অসাবধনতার জন্য তারা টাকা ফেরত নাও পেতেন পারতেন বলে জানায় পুলিশ।

  • গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার গুলি, ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত

    গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার গুলি, ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত

    ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অন্তত ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬০০ ফিলিস্তিনি। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের সরাসরি গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৪৮ জন। এছাড়া আরো আহত হয়েছেন প্রায় ১৬০০ জন।এদিকে টাইমস অফ ইসরায়েল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সীমান্তে বিক্ষোভ ডেকেছিল ফিলিস্তিনিরা। লাখো মানুষের সেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ও গোলা-বারুদের আগুন ছুড়েছে।

    এর আগে জেরুজালেমে মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে সোমবার ছোট পরিসরে অন্তর্বর্তীকালীন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই দূতাবাসের কার্যক্রম উদ্বোধন করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে জেরুজালেমে রয়েছেন।

    মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর ও ইসরায়েলের দখলদারির বিরুদ্ধে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। সীমান্ত বেড়া পেরিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছেন তারা।

    ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বছর এই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘বিপর্যয়’ বা ‘নাকাবা’ দিবস হিসেবে পালন করে। ওই বছর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজ ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত হয়।

    একই সঙ্গে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধেও সোমবার প্রতিবাদ করছেন ফিলিস্তিনিরা। গত ৬ ডিসেম্বরে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমানা বেড়া পেড়িয়ে ইসরায়েলে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে গাজায় লাখো ফিলিস্তিনি পৌঁছেছেন।

    তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ ও হেবরনেও বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনিরা। জেরুজালেম থেকে উত্তরাঞ্চলের রামাল্লাহকে বিভক্তকারী কালানদিয়া সামরিক তল্লাশি চৌকির কাছেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তারা।

    ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিক্ষোভ করে আসছে। ১৫ মে এই বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্ত্যুচুত হয়। ইসরায়েলি অবৈধ ভূমি দখলকে ফিলিস্তিনিরা বিপর্যয় হিসেবে মনে করে।

    ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজ ভূখণ্ড ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল বলছে, তাদের উচিত গাজা এবং পশ্চিম উপত্যকায় ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

    স্থানীয় সাংবাদিক মারাম হুমাইদ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, ‘বিক্ষোভে যতসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন তা নজিরবিহীন। গত সাত সপ্তাহের প্রতিবাদে এমন জনসমাবেশ দেখা যায়নি।’

    গাজা উপত্যকার ২০ লাখ মানুষের ৭০ শতাংশ উদ্বাস্তু হয়ে জীবন কাটাচ্ছে। গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছে আরো অন্তত সাড়ে ৮ হাজার।

  • মল ঢেলে মাদ্রাসা সুপারকে লাঞ্চিতের মামলায় গ্রেফতার-২

    মল ঢেলে মাদ্রাসা সুপারকে লাঞ্চিতের মামলায় গ্রেফতার-২

    বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদ্রাসার জমি ও কমিটি নিয়ে বিরোধের জ্বের ধরে সুপারকে প্রকাশ্যে মারধর ও মাথায় মল ঢেলে লাঞ্চিত করার ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। রোববার (১৩ মে) দিবাগত রাতে মিনজু ও বাদল নামে ওই ২ জনকে বাকেরগঞ্জ থেকেই গ্রেফতার করা হয়। বাকীদের গ্রেফতারে রাতভর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিনজু (৪৫) বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত মোঃ হাসেম মুসল্লীর ছেলে এবং দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামী।

    অপরদিকে বেল্লাল (২৫) বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদের ছেলে, তাকে ফেইজবুকে প্রকাশিত লাঞ্চিত করার ভিডিও ‍ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়। এরআগে শুক্রবার (১১ মে) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে কাঠালিয়া গ্রামের কাঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাৎ দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার মাওঃ মোঃ আবু হানিফকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করা হয় এবং লাঞ্চনার ভিডিও ধারন করা হয়। ঘটনার পর লাঞ্চনার শিকার মাদ্রাসার সুপার ও তার পরিবার লোকলজ্জায় বিষয়টি গোপন রাখতে চায়। তবে রোববার (১৩ মে) লাঞ্চনার ঘটনার একটি ভিডিও ধারনকারীদের মাধ্যমে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পরলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    এরপরপরই মাদ্রাসা সুপার মাওঃ মোঃ আবু হানিফ বাদী হয়ে নিজের ছোটভাই জাকারিয়া হোসেন জাকিরসহ ৮ জনের নাম ‍উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামী করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী বলেন, কাঠালিয়া গ্রামে দারুল উলুম দীনিয়া আরাবিয়া কমপ্লেক্স ও এতিমখানা নির্মানের জন্য ২০০৯ সালে জায়গা ক্রয় করা হয়। জামায়াতপন্থী (লাঞ্চিতকারী) কিছু ব্যক্তি ওই জায়গা দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পায়তারা করলে ২০১৪ সালে একটি মামলা হয়। অপরদিকে কাঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাৎ দাখিল মাদ্রাসায় কমিটির সভাপতি হিসেবে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেটি এইচএম মজিবুর রহমান নির্বাচিত হন।

    কিন্তু লাঞ্চনাকারীদের মধ্যে থাকা খন্দকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। মামলার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এসব কারনে লাঞ্চনাকারীরা জোটবদ্ধ হয়ে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। চাঁদা দিতে অসীকৃতি জানাতে তারা আমাকে নানান ধরনের হুমকি ও মাদ্রাসা থেকে বিতারিত করার চেষ্টা করে। বাদী বলেন, ঘটনার দিন ১১ মে সকাল ৭ টায় হাটতে বের হই। বাড়ির ৫ শত গজ দূরে হাটতে গেলে মামলার নামধারী আসামী ও অজ্ঞাতনামাসহ ১৪/১৫ জন আমার পথরোধ করে চাঁদার ৫ লাখ টাকা দাবী করে এবং দিতে অসীকৃতি জানালে মারধর করে। একপর্যায়ে মাটির হাড়ির ভেতরে থাকা মানুষের পরিত্যক্ত মাল মাথায় ও গায়ে ঢেলে দেয়। তিনি বলেন, মেল ঢেলে দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বারাবারি না করার জন্য হুমকি দিলে লজ্জায় কোনভাবে বাড়িতে চলে যাই।

    ভিকটিমের ছেলে মহিবুল্লাহ জানান, লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি যাতে কেউ না জানে সেজন্য স্থানীয় ২/১ জন গন্যমান্য ব্যক্তিতে জানিয়ে চুপ থাকি। কিন্তু যারা বাবাকে লাঞ্চিত করেছে তাদের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে সবাই তা দেখে ফোন দিতে থাকে। এরপরই মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেই আমরা। মামলা দায়েরের পর পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় মিনজু ও বাদল নামে ২ জনকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আঃ হক। তিনি জানান, মাদ্রাসার সুপারের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। জমি ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধের জ্বের ধরে শরীরে মল ঢেলে দেয়ার মতো কর্মকান্ড চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে। ফেইসবুকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ দেখে ও প্রাথমিক তদন্তে সুপারকে লাঞ্চনা করার প্রমান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি চাঁদাদাবী ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ঘটনার পর ২ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারমধ্যে একজন এজাহারনামীয় এবং অপরজনেক ফেইসবুকে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্দ রয়েছেন। খবর পেয়ে রোববার সারাদিন আলেম সমাজসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ সুপারের কাছে গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয়রাই দোষীদের ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহায়তা করছে। রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যারা এ কান্ড ঘটিয়েছে তাদের মধ্যে জামায়াতপন্থী লোকজন রয়েছে। যাদেরকে সবাই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। আমরা চাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।

  • ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে পদপিষ্টে নিহত ১১

    ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে পদপিষ্টে নিহত ১১

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিতরণ করা ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ১১ নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক।

    উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের গাতিয়াডাঙ্গায় একটি মাদ্রাসার মাঠে সোমবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কেএসআরএম ইস্পাত কারখানার মালিকপক্ষ প্রতিবছর রোজার আগে স্থানীয় দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ইফতারি তৈরির নানা সামগ্রী বিতরণ করে।

    এবারো আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নলুয়ার ওই মাদ্রাসার মাঠে ইফতার সমাগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা বরে কেএসআরএম। আর এসব সামগ্রী নিতে সকাল থেকে প্রায় অন্তত ২০ হাজার লোক জড়ো হয় সেখানে। এর একপর্যায়ে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আর গরমের মধ্যে চাপাচাপিতে ১১ নারী মারা যান।

    সাতকানিয়া উপজেলার অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, কেএসআরএমের পক্ষে সকাল আটটা থেকে গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছিল। বিতরণের এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পড়ে পদদলিত হয়ে ১১ নারী নিহত হন।

    কেএসআরএমের একজন কর্মকর্তা মো. রফিক বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে সকালে দুঃস্থ-গরিবদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছিল। সে সময় ভিড়ের মধ্যে পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।’

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি সূত্র ভিড়ের মধ্যে অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোকে তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

    উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে একই ঘটনায় পদদলিত হয়ে ৭ জন নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকে কয়েক বছর ইফতার সামগ্রী বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কার্ড সিস্টেম করে আবার গরিবদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার কার্ড সিস্টেম না করায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে পদদলনের এই ঘটনা ঘটল।

  • কথা সাহিত্যিক শফিক আমিন এর ধারাবাহিক উপন্যাস

    কথা সাহিত্যিক শফিক আমিন এর ধারাবাহিক উপন্যাস

    ভাঙ্গন (পর্ব – ৮)

    ঘরের পিছোন দিয়া আর এ্যাকটা ঘর আছে হেইয়া খেয়াল করি নাই । হেইহানে আরও তিন চাইরজোনে রান্দা-বারি করে । মনে অইল হেউডা পাহোলঘর । কিনারেই আর এ্যাকটা ঘরে গিয়া আমরা খারইছি । হেই ঘরের ছামনের দুয়ার দিয়া দ্যাকলাম মজিদ মিয়া বড় হাজিতে কইর্রা ভাত লইয়া যাইতে আছে । মোনডায় আনন্দ লাগজে, তাইলে মজিদ মিয়া না খাইয়া রয় নাই । ভালুই অইছে । এই সুম পেডোত দুগ্গা ভাত পরন লইয়া অইছে কতা । মাতাডা এ্যাকটু নিচে নামাইয়া দেহি উডানের মইদ্দে খা্রাইয়া সবাইরে কি জানি কইতে আছে মাদবর সাব । সবাই মাতা নিছা কইরা খাওনের লগে মোন দিয়া হোনতে আছে । কানডা এ্যাকটু খাড়া কইরা হোননের চেষ্টা করলাম । উডানডা ঘরের তোন এ্যাকটু দূরে অওনে ভালো হোনোন যায় না । তয় সবাইরে মোনের বল আরাইতে না কইতে আছে হেইডা বোজোন যায় । মাদবরের কতাবর্তা চেয়ারমেনের মিডা মিডা কতার মতন হুনা যায় । এ্যাকবার চেয়ারমেনের ভাষোণ হোনছালাম । গ্রামের মইদ্দে জোনোসবা করছে । চাইরোদিগে মাইক লাগাইয়া দেছেলে জানি দূরের গ্রামেও ছাউন যায় আর মানষে হোনতে পারে । হেই সোমায় হেই মাইকে চেয়ারমেন অনেক কতাই কইছে তয় ভোডের পর কতার মতন কাম কোনো সোমায়ই করে নায় । এইযে এ্যাত্তো বড় এ্যাকটা বিপদ হেইয়ার মইদ্দে চেয়ারমেনের মুকটাও কেউ দ্যাকছে কিনা সোন্দেহো আছে । হে মোনে অয় দ্যাশেই নাই । আইজগো মাদবারের কতাগুলানও হেই মতন লাগে । তয় মাদবারে য্যা করছে হেতে মানষে হ্যারে কোনও দিনও ভোলবে না । দুক্কের সোমায় যে আঙ্গুলের ইশারায়ও উপুকার করে হেরে মানষে ভোলতে পারে ? পরে না, আমিও ভুলি নাই । উডানের ব্যাডাগো খাওয়া শ্যাষ কিনা দেহি নায়, তয় ঘরে গোনে যে মোরে বলাইয়া আনছে হে মোরে এ্যাকটা ফিরি দিয়া বওয়াইয়া ছামনে এ্যাকথাল ভাত দেছে । ডাইল আর আলুভর্তা । আত ধুইয়া নুন লইয়া মাইক্কা খাওনের সোমায় নাই । ভাতের মইদ্দে ডালই পুডি ঢাইল্লা লইয়া হাপ্পুত-হুপ্পুত কইর্রা ভাত খাইলাম । সস্তোরেই তো কয় – দুননইতে কোনও জ্বালাই থাকতে না যতি আল্লায় মানষেরে না দেতে প্যাট্টা আর চ্যাট্টা ! হেই প্যাডের যে কি জ্বালা হ্যা এইবার বুজ্জি । দুহারের সোমায় মানুষ জোন কোম । ব্যানের খাওন খাইয়া সবাই নদীর কুলে গ্যাছে । কেউ কেউ গ্যাছে চেয়ারমেন বাড়ির দিগে । হগুলডির লগেই বৌ মাইয়া পোলা আছে । যেম্মে য্যা যাইক নতুন কইর্রা বাঁচোনের লইগ্গা হগুলডিই চিন্তা ভাবনা করে । মোনে হয় হেই সোমায় খালি মুইই এ্যাকজোন মানুষ যে দুননইতে কোনও চিন্তা ভাবনা করি নাই । কোলের পোলাডা হারাদিন কোলেই রাকছি । কিন্তু সন্দার সোমায় মাতাডা জানি ক্যামোন কইর্রা উইট্টা বোহের মইদ্দে খালি থরথরাইয়া ওটছে । মোনে অইতে লাগজে দুননইডা এ্যাক্কালে ফাক অইয়া গ্যাছে । এ্যাতো মানুষ জোনের মইদ্দেও মোনে অয় মউ এ্যাকলা । এ্যাকটা কষ্ট ক্যামোন জানি করতে লাগজে বুকটার মইদ্দে । ভাতের ঠাণ্ডা পানি হরা মুরা দিয়া জাল দেতে দেতে আছুক্কা জ্যামোন ভাত উলাইয়া হরা ঠ্যালে ঠিক হেইরোহোমের বোহের খ্যাঁচা ঠালতে লাগজে ! এ্যাক্কালে হোয়াস বন্দো অইয়া যাইবে মতন লাগদে আছে । কেউর ধারে কিছু না কইয়া ঘরের পিড়ার উপরে বইয়া পড়ছি । দুই চউক দ্যা দরদর রাইয়া পানি পড়ে । তয় মুই কিন্তু কান্দি না । হেইয়ার পরও মোর হেচকি উট্টা গ্যাছে । হেই সোমায়ও পোলাডা মোর কোলে । এ্যাইযে মোর কষ্ট অইতে আছে এ্যা কিন্তু কেউ খেয়াল করে নাই । কিন্তু এ্যাকজোনে খেয়াল করছে । হে আইয়া ছামনে খাড়াইছে । কোলে গোনে পোলাডা লইয়া কইছে – ভাবী, কাইন্দেন না, কানলে কোনও কাম অইবে না । আল্লা আল্লা করেন । কানবেন না, মুই আছি না ? (চলবে…)