Author: banglarmukh official

  • মা দিবসে মাকে নিয়ে হুজাইফা রহমানের কবিতা

    মা দিবসে মাকে নিয়ে হুজাইফা রহমানের কবিতা

    কবিতাঃ ভালোবাসি মা মাগো,

     

    তুমি হাত পুড়িয়ে রান্না করতে

    তবু নিজেই না খেয়ে আমায় খাওয়াতে।

    আমি রোগে অসুস্থ হলে

    সারা রাত নিদ্রাহীন কাটিয়ে দিতে তুমি।

    মোনাজাতে কেউ আমার কথা না বললেও

    তুমি ঠিকই আমার কথা বলতে।

    মনে পড়ে যায় এখনো মাগো,

    তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর কথা।

    গল্প বলতে অনেক

    রূপকথা আর ভূতের গল্প।

    তুমি আদর করে আমায়

    খোকা বলে ডাকতে।

    সুখে দুখে কেউ না থাকুক

    তবু তুমি ছিলে আমার পাশে।

    ভেঙে পড়েছি যখন

    ভরসা দিয়েছো বুকে টেনে নিয়ে।

    মাগো, তোমার এঋণ শোধ হবে না

    ভালোবাসি তাই তোমাকেই মা।

  • মনের জোর বৃদ্ধি করুন ১৩ টি উপায়ে!

    মনের জোর বৃদ্ধি করুন ১৩ টি উপায়ে!

    অনেক সময় আমরা হারিয়ে ফেলি মনের জোর, মানসিক শক্তি, উদ্যম নেমে আসে শূন্যের কোঠায়। প্রাপ্তিগুলোকে ছাপিয়ে জীবনের অপ্রাপ্তিগুলো বড় বেশী যন্ত্রনাদায়ক হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই মানসিক হতাশা রূপ নিতে পারে আত্মহত্যায়ও! অথচ চাইলেই মানসিকভাবে হয়ে ওঠা সম্ভব অনেক শক্তিশালী আর আত্মবিশ্বাসী। জয় করা সম্ভব যত অপ্রাপ্তি। আপনাদের জন্যে রইলো কিছু টিপসঃ ১) খারাপ স্মৃতিগুলো ভুলে যানঃ মনের জোর হারিয়ে ফেলার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অতীতের কষ্টকর স্মৃতি বারবার মনে করা। যন্ত্রণাদায়ক অতীত স্মৃতি সবার জীবনেই থাকে। কিন্তু সে সময়টা যেহেতু আপনি পার করে এসেছেন, তাই অযথা মস্তিষ্কের গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলো এসব স্মৃতিকে দখল করে রাখতে দেবেন না। ২) ইতিবাচক চিন্তা করুনঃ ইতিবাচক চিন্তা করুন। নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী জীবন সাজাবার চেষ্টা করুন। একটা বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তা আপনাকে অনেকটাই এগিয়ে দেয় সফলতার পথে। ৩) সফল মানুষদের সাথে মিশুনঃ চেষ্টা করুন আশপাশের সফল মানুষদের সাথে মেশার। এরা আপনাকে জীবন নিয়ে বহুদূর এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে। খুঁজে পাবেন অণু অনুপ্রেরণা। ৫) নিজের অর্জনগুলো নিয়ে ভাবুনঃ নিজের অর্জনগুলো নিয়ে ভাবুন। প্রয়োজনে একটা ডায়েরীতে লিখে ফেলুন। দেখবেন, নিজের অর্জনের তালিকা দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন। আমরা প্রায়ই নিজের অর্জন গুলোকে অনুধাবন করতে পারি না। ৬) ভালো বই পড়ুনঃ ভালো বই পড়ুন। বই পড়ার অভ্যাস আপনার জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করবে এবং মানসিকভাবেও আপনাকে শক্তিশালী করবে। অনুপ্রেরণা মূলক বই আপনাকে সাহস যোগাবে। ৭) ধৈর্য ধরুনঃ জীবনে সমস্যা থাকবেই। হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরুন। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে খারাপ সময়টা কেটে যাবেই। নিজেকে বোঝান যে কষ্টের দিন কারো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ৮) কাছের মানুষগুলোর সাথে সময় কাটানঃ কাছের মানুষেরা আপনাকে সব চেয়ে বেশী অনুপ্রেরণা যোগাতে সক্ষম। তাই চেষ্টা করুন তাদের সাথে সময় কাটাবার। ভালো লাগার মানুষদের সংস্পর্শে মন ভালো হয়ে যায়, সময় ভালো কাটে, তাদের সামান্য প্রশংসাতেও অনেকটা অনুপ্রেরণা খুঁজে পাওয়া যায়। ৯) প্রকৃতির কাছাকাছি যানঃ একটু অবসর সময় পেলে চেষ্টা করুন প্রকৃতির কাছাকাছি যাবার। পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য আপনার মনকে সতেজ করবে। প্রকৃতির বিশালতায় হারিয়ে যাবে মনের যত ক্ষুদ্রতা, সংকীর্ণতা আর দুঃখবোধ। শুনতে খুব সহজ মনে হলেও, প্রকৃতির বিশালতার মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া মনের জোর বৃদ্ধি করার সেরা উপায়। ১০) নিজেকে নিয়ে পরিকল্পনা করুনঃ নিজেকে নিয়ে ভাবুন। পরিকল্পনা করুন। নতুন কিছু শিখুন, নিজের দক্ষতা বাড়ান। আগামী কয়েক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান সে ছক আঁকুন। সে অনুযায়ী কাজ করুন। স্বপ্ন দেখতে পারাই সফলতার সূচনা। ১১) নিয়ম মাফিক জীবনযাপন করুনঃ ব্যায়াম, খাওয়া আর ঘুমের রুটিনটা ঠিক রাখুন। শরীরের সুস্থতার সাথে মনের জোর সরাসরি সম্পৃক্ত। নিজেকে দেখতে সুন্দর ও সতেজ লাগলে মনের জোর বেড়ে যায় বহুগুণে। ১২) বন্ধু বাড়ানঃ নতুন নতুন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। এটা আপনাকে আপনার চেনা জগতটা বড় করতে সাহায্য করবে। বন্ধু মহলে মেলামেশা আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে আপনাকে। বাড়বে মনের জোর। ১৩) সমাজসেবাঃ মানুষের সেবা করে আপনি যেমন ভালো কাজ করার সুযোগ পাবেন তেমনি এই মা্নসিক তৃপ্তি আপনার মনের জোর, আত্মশ্রদ্ধাবোধ ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। টিপসগুলো অনুসরন করেই দেখুন না! জীবনে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেবার পালা অর্জনে আর আত্মবিশ্বাসে!

  • এরশাদের বিয়ে নিয়ে ‘মিথ্যা প্রচার’

    এরশাদের বিয়ে নিয়ে ‘মিথ্যা প্রচার’

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আবার বিয়ে করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানোর অভিযোগ করেছেন তার জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।

    তিনি জানান, ফেসবুকে কতিপয় লোকজন আছেন, যারা বিনা বিচারে ট্রল করে মানুষের চরিত্র হননের জন্য তৈরি হয়ে থাকেন। এই ছবি দুটি ছড়িয়ে দিয়ে অনেকেই মজা লুটছেন যে এরশাদ নাকি আবার বিয়ে করেছেন।

    তিনি আরও জানান, মূল ঘটনা হলো- এরশাদ একটি মেয়েকে ক্লাস ওয়ান থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়েছেন। গতকাল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সেই মেয়েটির বিয়েতে গিয়েছিলেন তিনি।

    জানা গেছে, রাজধানীর তাঁতী বাজারের নিম্ন বিত্ত পরিবারের মেয়ে নিপা কর্মকার। নিপার জন্মদাতা পিতার নাম নারায়ণ কর্মকার। নারায়ণ কর্মকারের সঙ্গে এরশাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সে সুবাদে নিপাকে ছোটবেলা থেকেই পিতৃস্নেহে বড় করেন এরশাদ। নিপাকে পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি। একজন পিতা হিসেবে মেয়ের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করা দরকার তার সব টুকুই করেছেন তিনি। সর্বশেষে গতকাল সোনা গয়না থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করে এরশাদ তার পালিত কন্যাকে স্বামীর ঘরে পাঠিয়ে দেন।

    এরশাদের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দে, নিপার জন্মদাতা পিতা নারায়ণ কর্মকারসহ নিপার কয়েক শতাধিক আত্মীয় স্বজন।

  • আবারো তালা বরিশাল নগর ভবনের হিসাব শাখায়

    আবারো তালা বরিশাল নগর ভবনের হিসাব শাখায়

    প্রায় তিনমাস পর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে আবারো তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ছুটির দিন শুক্রবার রাতে গোপনে ঠিকাদারদের বিল প্রস্তুতির অভিযোগে হিসাব শাখায় তালা দিল বেতনবঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত হিসাব শাখার তালা না খোলার ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগর ভবনে ফের উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে কয়েকজন কাউন্সিলর ও ঠিকাদার শনিবার (১২ মে) সকালে নগর ভবনে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সেখানে পাল্টা অবস্থান নেন।

    আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেতা বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দিপক লাল মৃধা জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফের ৫ মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। গত বুধবার তারা মেয়র আহসান হাবিব কামালের সঙ্গে দেখা করে অন্তত দুইমাসের বেতন প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিসিসিতে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে। মেয়র কামাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন না দিয়ে বরাদ্দের টাকায় গোপনে ঠিকাদারদের বিল দেওয়ার জন্য রাতে হিসাব শাখায় কাজ করাচ্ছিলেন। সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খবর পেয়ে হিসাব শাখায় তালা দিয়েছে।

    বরিশাল সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দ বাবদ মন্ত্রাণালয় থেকে পাওয়া ৩ কোটি টাকার মধ্যে ৯০ লাখ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। অবশিষ্ঠ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ২৯৭ জন ঠিকদারের মধ্যে ভাগবন্টন করে দিয়েছেন।  রাতে হিসাব শাখায় কাজ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, নগর ভবনে একশ্রেনীর কর্মকর্তা-কর্মচারী রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে হিসাব শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনে কাজ করতে না পেরে রাতে কাজ করেন।

  • বাঁচা-মরার ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে মোস্তাফিজের মুম্বাই

    বাঁচা-মরার ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে মোস্তাফিজের মুম্বাই

    দুই দলের যেই জিতবে, তাদেরই বেঁচে থাকবে প্লে’অফের আশা। হারলেই শেষ হয়ে যাবে শেষ চারে খেলার স্বপ্ন। এমন সমীকরণ মাথায় রেখে মুম্বাইয়ের মাঠে টসে জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। টসে হেরে ঘরের মাঠে আগে ব্যাট করবে মোস্তাফিজহীন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

    সমান ১১টি করে ম্যাচ খেলে সমান ৫টি করে জয় পেয়েছে মুম্বাই এবং রাজস্থান। আজকের ম্যাচের জয়ী দল টিকে থাকবে প্লে’অফে খেলার লড়াইয়ে। অন্যদিকে এই ম্যাচের পরাজিতরা দ্বিতীয় দল হিসেবে বাদ পড়ে যাবে শেষ চারের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে।

    টানা ৩ জয় পাওয়া একাদশে কোন পরিবর্তন আনেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। যার ফলে টানা ষষ্ঠ ম্যাচে বেঞ্চেই বসে থাকছেন বাংলাদেশি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তবে নিজেদের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে রাজস্থান। একাদশে ফিরেছেন ডি’আরকি শর্ট, শ্রেয়াস গোপাল এবং ধাওয়াল কুলকার্নি।

    মুম্বাই একাদশঃ সুর্যকুমার যাদব, এভিন লুইস, রোহিত শর্মা, ইশান কিশান, হার্দিক পান্ডিয়া, বেন কাটিং, ক্রুনাল পান্ডিয়া, জেপি ডুমিনি, মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান, মায়াঙ্ক মারকান্দে এবং জাসপ্রিত বুমরাহ।

    রাজস্থান একাদশঃ ডি’আরকি শর্ট, জশ বাটলার, আজিঙ্কা রাহানে, সাঞ্জু স্যামসন, বেন স্টোকস, স্টুয়ার্ট বিনি, জোফ্রা আর্চার, কৃষ্ণাপ্পা গোথাম, শ্রেয়াস গোপাল, জয়দেব উনাদকাত এবং ধাওয়াল কুলকার্নি।

  • সাকিবদের সহজেই হারিয়ে প্লে-অফে চেন্নাই

    সাকিবদের সহজেই হারিয়ে প্লে-অফে চেন্নাই

    প্লে-অফের টিকিট থেকে ১টি জয় দূরে ছিল চেন্নাই সুপার কিংস। ম্যাচে প্রতিপক্ষ এবারের আসরের সেরা দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ হওয়াতে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চয়তা ছিল না দুইবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের। তবে আম্বাতি রাইডুর সেঞ্চুরি এবং শেন ওয়াটসনের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে সহজেই সাকিব আল হাসানের হায়দরাবাদকে হারিয়েছে চেন্নাই। দ্বিতীয় দল হিসেবে তারা নিশ্চিত করেছে প্লে’অফের টিকিট।

    হায়দরাবাদের করা ১৭৯ রানের জবাবে খেলতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চেন্নাই। ১২ ম্যাচে এটি তাদের অষ্টম জয়। অন্যদিকে টানা ৬ ম্যাচ জেতার পর হারের মুখ দেখলেন সাকিবরা।

    রান তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৩৪ রান যোগ করেন রাইডু এবং ওয়াটসন। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিলো বিনা উইকেটেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে চেন্নাই। তবে ১৪তম ওভারে ব্যক্তিগত ৫৭ রানের মাথায় রানআউটে কাটা পড়েন ওয়াটসন। ৫ চার এবং ৩ ছক্কার মারে ৩৫ বল খেলে এই রান করেন তিনি।

    ওয়াটসন ফিরে গেলেও দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন রাইডু। চলতি আসরে দুর্দান্ত ব্যাট করতে থাকা রাইডু পেয়ে যান চলতি আসরের তৃতীয় এবং নিজের আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

    অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ঠিক ১০০ রান করেন রাইডু। ৬১ বলের ইনিংসে ৭টি করে চার-ছক্কা মারেন তিনি। ১৪ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

    হায়দরাবাদের পক্ষে ১টি উইকেট নেন সন্দ্বীপ শর্মা। সতীর্থদের মতোই বল হাতে ভালো করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪১ রান খরচায় উইকেটশূন্য থাকেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।

    এর আগে চেন্নাই সুপার কিংসের আমন্ত্রণে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে হায়দরাবাদ। ব্যর্থ হয় উদ্বোধনী জুটি। ৯ বল খেলে মাত্র ২ রান করে ফেরেন অ্যালেক্স হেলস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেই ইনিংসের গতিপথ পাল্টে দেন ধাওয়ান এবং উইলিয়ামসন। মাত্র ৭৫ বলে ১২৩ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

    ইনিংসের ১৬তম ওভারের শেষ বলে এবং ১৭তম ওভারের প্রথম বলে পরপর ফিরে যান ধাওয়ান এবং উইলিয়ামসন। চলতি আসরে ব্যক্তিগত ৭ম ফিফটিতে ৩৯ বলে বলে ৫১ রান করেন কিউই অধিনায়ক। ১০ চার এবং ৩ ছক্কার মারে ৪৯ বল খেলে ৭৯ রান করেন ধাওয়ান।

    এই দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর শেষের ২৩ বলে ৩৮ রান করে হায়দরাবাদ। মনিশ পান্ডে ৬ বলে ৫ রান করে আউট হন। দ্বীপক হুদা ১১ বলে ২১ এবং সাকিব ৬ বলে ১ চারের মারে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

    চেন্নাইয়ের পক্ষে ২টি উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর।

  • যুবাদের ফুটবলেও সেরা আবাহনী

    যুবাদের ফুটবলেও সেরা আবাহনী

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১০ আসরের ৬টিতেই চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। কিন্তু যুব ফুটবলের প্রথম দুই আসরে শিরোপাশূন্য ছিল ঘরোয়া ফুটবলে সাম্প্রতিক সবচেয়ে সফল ক্লাবটি। অবশেষে সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে যুবাদের ট্রফিও ঘরে তুললো আকাশি-হলুদরা।

    রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আবাহনী ১-০ গোলে ফরাশগঞ্জকে হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়েছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টেও।

    ফাইনালে আবাহনীর জয়ের নায়ক রিমন হোসেন। ৭ মিনিটে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় আবাহনী। আবু সিদ্দিকের লম্বা থ্রো ফরাশগঞ্জের গোলরক্ষকের হাত থেকে ছুটে গেলে রিমন হেডে গোল করেন। তবে এ গোল নিয়ে আপত্তি ছিল ফরাশগঞ্জের।

    চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ট্রফির পাশাপাশি পেয়েছে ৫ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার। রানার্সআপ ফরাশগঞ্জের পুরস্কার ৩ লাখ টাকা ও ট্রফি। সুশৃঙ্খল দলের পুরস্কার পেয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ।

    ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন আবাহনীর গোলদাতা রিমন হোসেন, টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ফরাশগঞ্জের জয় চন্দ্র বর্মন। ৩ টি করে গোল করা আবাহনীর আপন চন্দ্র, ব্রাদার্সের আবু রায়হান ও আরামবাগের শাকিল আহমেদ পেয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার।

  • ইমামের মাথায় মল-মূত্র ঢালার ঘটনায় গ্রেফতার ১

    ইমামের মাথায় মল-মূত্র ঢালার ঘটনায় গ্রেফতার ১

    বরিশালে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে হেরে ইমাম আবু হানিফার (৫০) মাথায় মল-মূত্র ঢেলে লাঞ্ছিতের ঘটনায় অভিযুক্ত পরাজিত প্রার্থীর সহযোগী মো. মিনজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে মিনজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ইমামের মাথায় মল-মূত্র ঢালার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

    বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের এ ঘটনায় লাঞ্ছিত নেছারবাগ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম আবু হানিফা রোববার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

    অভিযুক্তরা হলো- পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার, সহযোগী জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন। অভিযুক্ত সবার বাড়ি কাঠালিয়ায়।

    সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি ও মসজিদের ইমামকে অপমান-লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেসবুকে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

    ইমাম আবু হানিফা ও স্থানীয়রা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন এইচ এম মজিবর ও জাহাঙ্গীর খন্দকার।

    এই নির্বাচনে ইমাম আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে বিজয়ী হন এইচ এম মজিবর রহমান। পাশাপাশি সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার হেরে যায়। এ নিয়ে আবু হানিফার সঙ্গে জাহাঙ্গীর খন্দকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

    পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ইমাম আবু হানিফাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আবু হানিফা মসজিদ থেকে বের হলে তার পথরোধ করে পরাজিত প্রার্থী ও তার লোকজন।

    এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকারের এক সহযোগী ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফেলে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর খন্দকার ইমামকে ধরে রাখে। এ সময় তার আরেক সহযোগী হাঁড়িভর্তি মল-মূত্র এনে ইমাম আবু হানিফার মাথায় ঢেলে দেয়। এতে উল্লাসে ফেটে পড়া দৃশ্যটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা।

    এ বিষয়ে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং দেখেছি। যতই বিরোধিতা থাকুক সমাজের একজন সম্মানিত ইমামকে এভাবে কেউ অপমানিত করতে পারে ভাবতেও ঘৃণা লাগে। বিষয়টি দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

    বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল হক জানান, মাদরাসার সুপার আবু হানিফা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিনজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

  • গির্জায় হামলা চালায় একই পরিবারের বাবা-মা-মেয়ে-ছেলে

    গির্জায় হামলা চালায় একই পরিবারের বাবা-মা-মেয়ে-ছেলে

    ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহরে তিনটি গির্জায় চালানো আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছে। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। বালী দ্বীপে ২০০৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর ইন্দোনেশিয়াতে এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় হামলা। তবে এই হামলায় যে বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করছে তা হলো, মাত্র একটি পরিবারের সব সদস্য মিলে সমন্বিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

    দুই বাচ্চাকে নিয়ে মা একটি গির্জায় হামলা চালায়। আর বাবা এবং তিন ছেলে আরো দুটি হামলায় অংশ নেয়। পিতা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে যান পেন্টেকোস্টাল গির্জার কাছে। তারপর হামলাটি চালানো হয়।

    পুলিশ বলছে, মায়ের সঙ্গে ছিল তার দুই কন্যা। তাদের বয়স ৯ ও ১২। তারা তাদের শরীরে বোমা বেঁধে আরেকটি গির্জায় গিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়।

    ছেলেদের বয়স ১৬ এবং ১৮। তারা হামলা চালায় মোটরসাইকেলে করে। ইসলামিক স্টেট এসব হামলায় দায় স্বীকার করেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৯০ শতাংশ জনগণই মুসলিম । তবে সেদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ রয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলিম। তবে খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদেরও বসবাস রয়েছে দেশটিতে। ২০০৫ সালের পর দেশটিতে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা। ওই বছর বালি দ্বীপে তিনটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০ জনের প্রাণহানি ঘটে।

    স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সান্তা মারিয়া ক্যাথলিক চার্চে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শক মাচফুদ আরিফিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, ‘হামলায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে।’

    বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, দ্বিতীয় বোমা হামলার লক্ষ্য হয়েছে পেনটেকোস্টাল চার্চের গাড়ি পার্কিং এলাকা। ছবিদে দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে।

    এছাড়া তৃতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে অন্য একটি চার্চে। যেখানে বোরকা পরিহিত এক নারী শিশুসহ চার্চে প্রকাশের পর বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, অন্যান্য গির্জায় হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি হামলার ঘটনার সঙ্গে সর্বশেষ এই হামলার যোগসাজশ রয়েছে ধারণা করছেন তিনি। রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠে ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টিত কারাগারে ইসলামি জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রায় ৩৬ ঘণ্টার লড়াই হয়। এতে অন্তত ৫ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মারা যান।

    এদিকে, পুলিশ বলছে, পশ্চিম জাভার সায়ানজুর এলাকায় সন্দেহভাজন চার জেএডি জঙ্গিকে হত্যা করেছেন তারা।

  • ৮৬ বছরেও থেমে নেই ‘রিভলভার দাদি’

    ৮৬ বছরেও থেমে নেই ‘রিভলভার দাদি’

    ৮৬ বছর বয়সে এসেও পিস্তল হাতে নিয়ে সোজা দাঁড়াতে পারেন ‘চন্দ্র তোমার’। বৃদ্ধ এই বয়সেও তার লক্ষ্যভেদী দৃষ্টিশক্তির হেরফের ঘটেনি।

    সাদা শার্ট, নীল স্কার্ট পরিহিত চন্দ্র তোমারের মাথা স্কার্ফে ঢাকা। লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারেন প্রায় ১০ মিটার দূরে থেকে। একটু বিরতি নিয়ে টার্গেটের মাঝ বরাবর আঘাত হানেন তিনি।

    ভারতের উত্তরপ্রদেশে বসবাস করেন চন্দ্র তোমার। গত কয়েক বছর এই রাজ্যে বেশ কয়েকটি অনার কিলিংয়ের (পারিবারিক সম্মান রক্ষায় হত্যা) ঘটনা ঘটেছে। ভারতে নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক রাজ্যের তকমা ইতোমধ্যে জুড়ে গেছে উত্তরপ্রদেশের কপালে।

    চন্দ্র তোমারের বয়স যখন ৬৫ বছর, তখন হঠাৎ করেই শ্যুটিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। শ্যুটিংয়ের জন্য ইতোমধ্যে দেশটিতে ‘রিভলভার দাদি’র খেতাব পেয়েছেন তিনি।

    ভারতের অন্যান্য দাদিদের মতো তিনি প্রত্যেক দিন পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না, গবাদি পশুর লালন-পালন, গাভীর দুধ সংগ্রহ ও গরুর গোবর দিয়ে জ্বালানি তৈরি করেন।

    প্রাত্যহিক এসব কাজ ছাড়াও এই দাদির ভারতে একটি পরিচয় আছে; সেটি হচ্ছে তিনি ভারতের সবচেয়ে বয়স্ক শ্যুটার। এমনকি তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক শ্যুটার হিসেবেও মাঝে মধ্যে বলা হয়; যিনি শত শত তরুণ-তরুণীকে তার প্রিয় শ্যুটিং প্রশিক্ষণ দেন।

    এমন বয়সে এসে মানুষ যখন নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিয়ে অবসরে যান; চন্দ্র তোমার সেই বয়সে পৌঁছে তার নতুন পথচলা শুরু করেন। তিনি বলেন, আমার প্রতিবেশি এবং স্বজনরা যখন আমাকে শ্যুটিং করতে দেখেন; তখন অনেকেই বিদ্রুপ করেন। অন্যদিকে আমার সফলতা তাদের নতুন চিন্তার উদ্রেক করে।

    শ্যুটিং রেঞ্জে যেদিন নাতনি শিফালি তোমারের সঙ্গে গিয়েছিলেন সেদিনের কথা এখনো স্মরণ করেন তিনি। জোহরি রাইফেল ক্লাবে শিফালি অনুশীলন করতো।

    চন্দ্র তোমার বলেন, ‘১৯৯৯ সালের কথা। আমার নাতনি রাইফেল ক্লাবে একা একা যেতে ভয় পাচ্ছিল। তখন আমাকে তার সঙ্গে যাওয়ার অনুরোধ করে। আমি তাকে শ্যুটিং শিখতে বলেছিলাম। যাতে আমরা গর্ব করত পারি। সে আগ্রহী ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে আমি একটি পিস্তল হাতে তুলে নিয়ে লক্ষ্যে গুলি করেছিলাম।’

    rivolver-dadi-1

    সেদিনই প্রথম পিস্তল হাতে নিয়ে প্রথমবারের মতো গুলি করেছিলেন তোমার এবং সেই গুলি গিয়ে লক্ষ্যে আঘাত হানে। ‘এটা দেখার পর আমার এই আবেগকে লালন করার অনুরোধ জানান কোচ।’

    এর পরের দিনগুলো ছিল অন্যরকম। প্রত্যেকদিন তিনি অপেক্ষা করতেন তার স্বামী এবং বাবার ঘুমিয়ে পড়ার জন্য। তারা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি বাড়ি থেকে সোজা চলে যেতেন ক্লাবে এবং সেখানে শ্যুটিংয়ের চর্চা করতেন।

    শরীরের ভারসাম্য রক্ষার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তিনি এক হাতে পিস্তল ও অন্যহাতে পানিভর্তি জগ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

    তার এই নতুন শখের ব্যাপারে জানতে পারলে পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হবেন এমন ভয়ে গোপনে গোপনে চালিয়ে যান শ্যুটিং। চন্দ্র তোমার বলেন, ‘যে গ্রামে মেয়েদের স্কুল অথবা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার অনুমতি নেই; সেই গ্রামের এক বয়স্ক নারী একটি পিস্তল হাতে তার আবেগকে লালন করছেন, এটা ছিল বেশ অদ্ভুত এবং হাস্যকর।

    একদিন বাড়িতে হকারের দিয়ে যাওয়া স্থানীয় একটি দৈনিক নিজের ছবি দেখে আশ্চর্য বনে যান চন্দ্র তোমার। পত্রিকা থেকে দ্রুত তার ছবিটা কেটে ফেলেন; যাতে তার স্বামী অথবা বাবা দেখতে না পান। কিন্তু বেশি দিন নিজের পরিচয় আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি তোমার।

    পাঁচ সন্তান ও ১৫ নাতি-নাতনি রয়েছে চন্দ্র তোমারের। অশীতিপর এই শ্যুটার বলেন, ‘গণমাধ্যম যখন আমাকে নিয়ে বার বার লিখেতে শুরু করলো এবং আমি পুরস্কার পেতে শুরু করলাম। তখন প্রত্যেকই আমার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে আসতো। এজন্য তারা খুশি এবং গর্ব অনুভব করতো।’

    তার এই সফলতায় অনুপ্রেরণা পেতে শুরু প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনরা। তার এই সাফল্যগাঁথা যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন অনেক তরুণ-তরুণীর অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি চন্দ্র তোমার। এই তরুণ-তরুণীদের শ্যুটিং প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন।

    ‘আমার গ্রামেই একটি শ্যুটিং রেঞ্জ চালু করি; যেখানে আমি বিনামূল্যে ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেই। শ্যুটিং শেখার জন্য পাশের গ্রাম থেকেও তরুণরা এখানে আসে।’

    তোমারের ননদও প্রভাবিত হয় তার এই কাজে। যার বয়স তার চেয়েও বেশি। উত্তরপ্রদেশে শত শত তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তার ভাতিজি সীমা ও নাতনি শিফিলা-সহ পরিবারের ৯ সদস্যকেও শিখিয়েছেন শ্যুটিং।

    এর মধ্যে সীমা ২০১০ সালে শটগান চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রথম নারী হিসেবে পদক জিতেছে। এছাড়া নাতনি শিফালি হাঙ্গেরি এবং জার্মানিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।

    তোমারের অনেক নারী শিক্ষার্থী ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছে। প্রবীণ এই শ্যুটার বলেন, তার লক্ষ্য হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তারা যাতে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন; সেই বোধ তৈরি করা।

    উত্তরপ্রদেশের মতো একটি জায়গা যেখানে নারীদের বিরুদ্ধে হরহামেশাই অপরাধ সংঘটন হয়। তোমার বলেন, আত্মরক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই দিনের কথা স্মরণ করে চন্দ্র তোমার বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের সমান সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করেন চন্দ্র তোমার।

    rivolver-dadi-2

    শ্যুটিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণ নেয়ার মাত্র দুই বছর পর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। হেরে যাওয়ার পর পুলিশের ওই কর্মকর্তা তোমারের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; লজ্জায়।

    সামনে তোমার নিজ গ্রামে একটি হোস্টেল করতে চান; যাতে অন্যান্য রাজ্য থেকে লোকজন তার ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিতে এসে সেখানে থাকতে পারে।

    ‘সম্প্রতি আমি রাজস্থান থেকে অজ্ঞাত একজনের ফোন কল পেয়েছিলাম। শ্যুটিংয়ের প্রশিক্ষণ নিতে আমাকে ফোন করেছিলেন এক নারী। কিন্তু আমি যখন তাকে বলেছি রাজস্থানে যেতে পারবো না; তখন সে হতাশ হয়ে পড়ে।’

    চন্দ্র তোমার বলেন, এখানে একটি হোস্টেল করতে পারলে ওই নারীর মতো অন্যান্যরাও এখানে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।

    ১০ মিটার পস্তিল শ্যুটিংয়ে ৩০টিরও বেশি পদক জিতেছেন অশীতিপর এই নারী। সম্প্রতি তার এই কীর্তি ঘটা করে উদযাপন করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

    মাঝে মাঝে তাকে এখন টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়। বলিউডের বিখ্যাত বেশ কয়েকজন তারকা ইতোমধ্যে চন্দ্র তোমারের সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা করেছেন। অসাধ্য সাধনের এক পরিবেশে যেখানে নারীদের ফাঁদে আটকে রাখা হয়; সেই সাংস্কৃতিক ধরাবাঁধা ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন চন্দ্র তোমারের নাম স্মরণ করা হয়। সম্ভবত এটাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

    যখন তার গ্রামের কোনো তরুণীর বিয়েতে যৌতুক দাবি করে বরপক্ষ; তখন নারীরা কী করতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তোমারের নাম বলা হয় এবং নিমিষেই বাতিল হয়ে যায় যৌতুকের দাবি।